পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মহানবী (সা.)–এর চিঠিপত্রে যা আছে

  আল্লাহ–তাআলা নবীজিকে সমগ্র মানবজাতির জন্য রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। তাই পৃথিবীর সকল মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়া ছিল তাঁর দায়িত্ব। সে কারণেই আল্লাহর রাসুল (সা.) তৎকালীন আরব উপদ্বীপের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন রাজা ও শাসকদের উদ্দেশে পত্র প্রেরণ করেন। আল্লামা আহমদ ইবনে আলির প্রসিদ্ধ গ্রন্থ  সুবহুল আ‘শা ফি সানাআতিল ইনশা –এর আলোকে আল্লাহর রাসুলের এই পত্রাবলির বিভিন্ন ধরন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি লেখেন, এসব পত্র মূলত দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়— এক. মুসলিম শাসক ও গোত্রপ্রধানদের উদ্দেশে প্রেরিত পত্র দুই. অমুসলিম শাসক ও গোত্রপ্রধানদের উদ্দেশে প্রেরিত পত্র নবীজি (সা.) যেসব অমুসলিম রাজা ও গোত্রপ্রধানের কাছে পত্র প্রেরণ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— হাবশার রাজা আসহামা নাজ্জাশি, রোমের সম্রাট কায়সার হিরাক্লিয়াস, পারস্যের সম্রাট কিসরা খসরু পারভেজ, আলেকজান্দ্রিয়া ও মিসরের শাসক মুকাউকিস, বাহরাইনের শাসক মুনজির ইবনে সাওয়া, ইয়ামামার শাসক হাওজা ইবনে আলি, দামেস্কের শাসক হারিস গাসসানি, ওমানের শাসক জাইফার ও আব্দ, নাজরানের জনগণ, মুসাইলিমা কাজ্জাব, বনু জুযামা, বনু বকর ইবনে ওয়া...

আয়েশা (রা.)-এর ঘর ও সংসার

  নবীজির পারিবারিক জীবন, বিশেষ করে তাঁর ঘরসংসার ও আয়েশা (রা.)–এর সঙ্গে কাটানো দিনগুলো ছিল অতুলনীয় সরলতা, সংযম ও আত্মিক প্রাচুর্যে ভরপুর। বাহ্যিক জৌলুস বা আরাম-আয়েশ সেখানে কোনো গুরুত্ব পায়নি; বরং সেই ঘরগুলো হয়ে উঠেছিল তাওহিদ, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য পাঠশালা। এই জীবনের প্রতিটি দৃশ্য আমাদের সামনে নবীজির আদর্শ মানবিকতা ও আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভরতার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। নবিপত্নীদের জন্য কোনো আলিশান প্রাসাদ নির্মিত হয়নি। বনু নাজ্জার এলাকায়, মসজিদে নববির আশপাশে ছোট ছোট কয়েকটি কামরা ছিল তাঁদের বসবাসের স্থান। এসব কামরার একটি ছিল হজরত আয়েশার। ঘরটির আয়তন ছিল মাত্র ছয়–সাত হাত। দেয়াল মাটির তৈরি, ছাদ খেজুরগাছের ডাল দিয়ে বানানো, এতটাই নিচু যে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যেত। সেই ঘরটির দরজা খুললেই যেন মসজিদে নববি—মসজিদটাই হয়ে উঠেছিল ঘরের বারান্দার মতো। নবীজি (সা.) যখন মসজিদে ইতিকাফ করতেন, তখন অনেক সময় মাথা বাড়িয়ে দিলে আয়েশা (রা.) তা আঁচড়ে দিতেন। আবার মসজিদে অবস্থানকালে নবীজির কোনো প্রয়োজন হলে ঘর থেকেই তা পৌঁছে দেওয়া হতো। ঘর ও মসজিদের এই নিবিড় সংযোগ নবীজির জীবনে ইবাদত ও পারিবারিক জীবনের স...

আয়েশা আল-হুররা: স্পেনের দুঃসাহসী নৌযোদ্ধা

  তাঁর আসল নাম লাল্লা আয়েশা বিনতে আলী ইবনে রশিদ আল-আলমি। তাঁর বাবার নাম আলী ইবনে রশিদ এবং মায়ের নাম লাল্লা জোহরা ফার্নান্দেজ। ১৪৮৫ থেকে ১৪৯০ সালের মাঝামাঝি গ্রানাডায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৪৯২ সালে স্পেনের রাজ্য আরাগনের রাজা ফার্দিনান্দ ও কাস্তেইয়ের রানি ইসাবেলার হাতে গ্রানাডার পতন ঘটে। ফলে তাঁর পরিবার স্পেন থেকে মরক্কো চলে আসে। স্পেন ত্যাগ করার সময় আয়েশা ছিলেন নিতান্ত শিশু। আয়েশার বাবা আলী ইবনে রশিদ ছিলেন গ্রানাডার প্রভাবশালী রশিদ বংশের প্রধান পুরুষ। গোত্রপতিই বলা চলে। এ কারণে স্পেনে মুসলিম বিতাড়ন শুরু হলে তিনি পরিবার ও বংশীয় লোকজন নিয়ে গ্রানাডা থেকে মরক্কোর তানজিয়ারে চলে আসেন। তানজিয়ারের উপকূলবর্তী এলাকা শেফশাউনে নতুন করে গড়ে তোলেন গোত্রীয় আবাস। স্বামীর মৃত্যু আয়েশার জন্য সম্ভাবনার নতুন এক দুয়ার খুলে দেয়। যোগ্য কোনো উত্তরাধিকার না থাকায় তিনি নিজেকে তিতওয়ানের প্রশাসক ঘোষণা করেন। স্পেন থেকে আরও যেসব মুসলিম পালিয়ে আসতেন, তাঁদেরও জায়গা হতো আলী ইবনে রশিদের আশ্রয়কেন্দ্রে। এভাবে কিছুদিনের মধ্যে শেফশাউন পরিণত হয় নতুন এক শহরে। নতুন আবাস নতুন আবাসে বাবা আলী ইবনে রশিদ সন্তানদের শিক্ষাদীক্ষ...

প্রথম মুসলিম নৌ-যোদ্ধা নারী

  খ্যাতিমান সাহাবি আনাস ইবনে মালিকের (রা.) খালার নাম ছিল উম্মু হারাম বিনতে মিলহান (রা.)। তিনি দুধপানের দিক থেকে রাসুলের(সা.) ও খালা ছিলেন। তার স্বামী ছিলেন উবাদা ইবনে -সামিত (রা.)। মদিনায় হিজরতের সময় প্রায় দুই সপ্তাহ রাসুল (সা.) কুবায় অবস্থান করেন। সেই সময় তিনি সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, মসজিদে কুবা। এই মসজিদের পাশে ছিল উম্মু হারাম বিনতে মিলহানের বাড়ি। রাসুল (সা.) প্রতি শনিবার মসজিদুল কুবাতে যেতেন। কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো বাহনে চড়ে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১,১৯৩) কুবায় গেলে প্রায়ই উম্মু হারামের বাড়িতে তিনি বেড়াতে যেতেন এবং দুপুরে বিশ্রাম নিতেন। একদিন তেমন করেই তিনি সে-বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। উম্মু হারাম রাসুল(সা.)কে খাবার খাওয়ান। খাওয়ার পর তিনি বিশ্রাম নেন, উম্মু হারাম রাসুলের মাথার উকুন বাছতে থাকেন। এক সময় রাসুলুল্লাহ(সা.) ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ তিনি হাসতে হাসতে ঘুম থেকে ওঠেন। উম্মু হারাম বেশ অবাক হন, জানতে চান, ‘আল্লাহর রাসুল(সা.) , আপনার হাসির কারণ কী?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) জানালেন, তিনি স্বপ্ন দেখেছেন। বললেন, ‘আমার উম্মতের কিছু লোককে যুদ্ধরত অবস্থায় আমার সামনে পেশ করা হলো। তারা এ সমুদ্রের...

সাহসী সাহাবি হজরত যুবাইর (রা.)

  খন্দকের যুদ্ধের সময়ের কথা। মদিনার ইহুদি গোত্র বনু কুরাইজা মুসলমানদের  সঙ্গে সম্পাদিত মৈত্রী চুক্তি ভেঙে ফেলে। রাসুল (সা.) তাঁদের অবস্থা জানতে গুপ্তচর হিসেবে কাউকে পাঠাতে চাইলেন। সাহাবাদের উদ্দেশ্য করে তিনি তিনবার জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে তাদের সংবাদ নিয়ে আসতে পারবে? প্রত্যেকবারই যুবাইর (রা.) বললেন, আমি! ইয়া রাসুলুল্লাহ! রাসুল (সা.) যুবাইর (রা.)-এর উদ্দীপনায় সংকট হয়ে বলেছিলেন, প্রত্যেক নবীরই একজন ঘনিষ্ঠ অনুসারী থাকে। যুবাইর আমার অনুসারী। মক্কায় একবার এই গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে অবিশ্বাসীরা রাসুল (সা.)–কে বন্দী অথবা হত্যা করেছে। খবরটি শোনামাত্র একটি বালক ক্ষিপ্ত হয়ে তলোয়ার হাতে বেরিয়ে পড়ল। ঘটনাটির সত্য–অসত্য নিশ্চিত হওয়ার জন্য সে হাজির হলো রাসুল (সা.) এর দরবারে। রাসুল (সা.) তাঁকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে? সে উত্তর দিল, আমি শুনেছি আপনি বন্দী অথবা নিহত হয়েছেন। তাই আমি প্রতিশোধ ...

জানাজার নামাজের নিয়ম ও ফজিলত

  কোনো মুসলিম মারা গেলে মাগফিরাতের জন্য মরদেহ সামনে নিয়ে বিশেষ নিয়মে যে দোয়া করা হয়, তার নাম জানাজার নামাজ। ‘জানাজা’ শব্দের অর্থ মরদেহ। জানাজার নামাজ আদায় করা ফরজে কেফায়া। ফরজে কেফায়া হলো দু-একজন আদায় করলে মহল্লার সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। আর কেউ আদায় না করলে সবাই গুনাহগার হয়। জানাজার নামাজ শুধু পুরুষদের জন্য আবশ্যক। নারীদের জন্য এতে অংশগ্রহণ করার বিধান নেই। পবিত্রতা ছাড়া জানাজার নামাজ পড়া যায় না। জানাজার নামাজের নিয়ম প্রথম তাকবিরের পর সানা, দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ পড়া। তারপর তৃতীয় তাকবিরের পর দোয়া পড়বেন। এরপর চতুর্থ তাকবির দিয়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। সংক্ষেপে জানাজার নামাজের নিয়ম হলো মৃত ব্যক্তিকে সামনে রেখে তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য সবাই একত্র হয়ে দাঁড়াবেন। চারবার ‘আল্লাহু আকবার’ তাকবির বলবেন। জানাজার নামাজের নিয়ত মনে মনে এ নিয়ত করবেন, ‘আমি জানাজার ফরজে কেফায়া নামাজ চার তাকবিরসহ এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে আদায়ের নিয়ত করছি।’ এরপর কান পর্যন্ত হাত ওঠাবে এবং তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবর) বলতে হবে। এরপর সানা পড়তে হবে— উচ্চারণ: ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদ...

হারুত-মারুত কারা

  হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার নাম। নবী সোলায়মান (আ.)–এর সময়ে ওই দুই ফেরেশতা বাবেল শহরে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। হারুত–মারুত কিছু লোককে জাদু শিখিয়েছিলেন। শেখানোর শর্ত ছিল, সেই জাদু কারও ওপর প্রয়োগ করা যাবে না। জাদুবিদ্যা যে আসলে মন্দ, সবাইকে এটা শেখানোর জন্যই তাঁরা এসেছিলেন। নবীরা মুজিজা দেখান। মুজিজা জাদু নয়। কোরআনে সুরা বাকারায় আছে ‘আর সোলায়মানের রাজত্বে শয়তানেরা যা আওড়াত তারা (সাবাবাসীরা) তা মেনে চলত। সোলায়মান অবিশ্বাস করেনি, বরং শয়তানেরাই অবিশ্বাস করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত (সেই) জাদু যা বাবেল শহরের দুই ফেরেশতা হারুত ও মারুতের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল । তাই ‘আমরা তো (তোমাদের জন্য) ফিতনা (পরীক্ষাস্বরূপ)। তোমরা অবিশ্বাস কোরো না’—এই না বলে তারা কোনো মানুষকে শিক্ষা দিত না। এ-দুজনের কাছ থেকে তারা এখন বিষয় শিক্ষা করত, যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত, তবু আল্লাহর নির্দেশ ছড়া কারও কোনো ক্ষতি তারা করতে পারত না। তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, আর কোনো উপকারে আসত না। আর তারা ভালো করেই জানত যে যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোনো অংশ নেই । আর যদি তারা জানত, তারা যার বিনিম...

যেভাবে সালাম এল

  সালাম কোথা থেকে এল? প্রথম সালাম কে দিয়েছিলেন? বুখারির ৩,৩২৬ নম্বর হাদিস থেকে এর উত্তর জানা যায়। আবু হুরায়রা (রা.)–র বরাতে হাদিসটি পাওয়া যায়। নবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ আদম (আ.)-কে বানালেন। এরপর বললেন, ‘যাও, ওই ফেরেশতাদের সালাম দাও। তারপর তারা তোমাকে যে অভিবাদন করে তা ভালো করে শোনো। এটিই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের অভিবাদন। তারপর আদম (আ.) বললেন, আসসালামু আলাইকুম। উত্তরে ফিরিশতারা বললেন, আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ। ফেরেশতারা অতিরিক্ত করে বললেন, ওয়া রাহমাতুল্লাহ (আর আল্লাহ তোমাদের দয়াও করুন) বাড়িয়ে দিলেন।আমরা সালাম দিয়ে থাকি। সালামে বলা হয়, আসসালামু আলাইকুম। এর মানে, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এর উত্তরে বলা হয়, ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এর মানে, আপনার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক। সালামের মাধ্যমে পরস্পরের শান্তি চাওয়া হয়।

আবু আইয়ুব (রা.) ছিলেন কোরআনের হাফেজ

  একদিন দুপুরের প্রচণ্ড গরমে আবু বকর (রা.) মসজিদে নববিতে এলেন। উমর (রা.) তাঁকে দেখে বললেন, ‘এই প্রচণ্ড গরমে আপনি বাইরে এলেন কেন?’ আবু বকর (রা.) বললেন, ‘খুব খিদা পেয়েছে, তাই বাইরে বের হয়ে এসেছি।’ উমর (রা.) বললেন, ‘আমিও একই কারণে বাইরে বের হয়েছি।’ রাসুল (সা.)–ও বললেন, ‘আমিও ঠিক একই কারণে বাইরে বের হয়ে এসেছি।’ রাসুল (সা.) তাঁদের দুজনকে নিয়ে আবু আইয়ুব (রা.)–এর বাড়ির দিকে রওনা দিলেন। আবু আইয়ুব (রা.) প্রতিদিন রাসুল (সা.)–এর জন্য কিছু খাবার রেখে দিতেন। রাসুল (সা.) নির্দিষ্ট সময়ে না এলে তাঁর পরিবারের লোকেরা তা ভাগ করে খেয়ে ফেলতেন। রাসুল (সা.) আর তাঁর সঙ্গীরা দরজায় পৌঁছালে তাঁদের স্বাগত জানালেন আবু আইয়ুব (রা.)–এর স্ত্রী উম্মে আইয়ুব। রাসুল (সা.) জানতে চাইলেন, ‘আবু আইয়ুব কোথায়?’আবু আইয়ুব (রা.) বাড়ির কাছেই তাঁর খেজুরবাগানে কাজ করছিলেন। রাসুল (সা.)–এর কণ্ঠ শুনে তিনি ছুটে এসে বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ, আপনি তো সাধারণত এ সময় আসেন না!’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘ঠিকই বলেছ!’ আবু আইয়ুব (রা.) দৌড়ে বাগানে গিয়ে এক কাঁদি খেজুর কেটে নিয়ে এলেন। তাতে শুকনো, কাঁচা ও পাকা খেজুর ছিল। রাসুল (সা.) বললেন, ...

প্রকাশ্যে প্রথম কোরআন তিলাওয়াত করেন তিনি

  হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)–র আবেগময় কোরআন তিলাওয়াতের প্রশংসা করে রাসুল (সা.) বলেছেন, কোরআর যেভাবে নাজিল হয়েছে, কেউ যদি সে অনুসারে সুন্দরভাবে তা তিলাওয়াত করে আনন্দ পেতে চায়, তাহলে সে যেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর মতো করে কোরআন তিলাওয়াত করে। মহানবী (সা.) হিজরতের আগে মক্কায় মুসলমানদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের অসম্ভব কঠিন এক পরিস্থিতি। তাকে উপেক্ষা করে মক্কার বায়তুল্লাহ প্রাঙ্গণে মহানবী (সা.)–এর সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) প্রকাশ্যে কোরআন তিলাওয়াত করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি কাবা শরিফে মাকামে ইবরাহিমের কাছে দাঁড়িয়ে উচচরবে সুরা আর রহমানের কিছু অংশ তিলাওয়াত করেন। কুরাইশ নেতারা তা শুনে হতবাক হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তারা তাঁর দিকে ছুটে গিয়ে নির্দয়ভাবে তাঁর মুখে আঘাত করতে থাকে। নির্যাতনের পরও তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর শত্রুরা আমার কাছে খুবই তুচ্ছ। আমি আবারও গিয়ে তাদের সামনে কোরআন তিলাওয়াত করব। তিনিই প্রথম মুসলমান যিনি প্রকাশ্যে কোরআন তিলাওয়াত করেছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)–র জন্ম মক্কায়। খুব অল্প বয়সে ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করেন তিনি। ইসলাম গ্রহণের তা...

তাহাজ্জুদের সওয়াব মেলে যে আমলে

  মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ আমল হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক মুসলিমের পক্ষে শেষ রাতে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা সম্ভব হয় না। তাদের জন্য চমৎকার একটি সমাধান রয়েছে, এমন সাতটি আমল রয়েছে, যেগুলো আদায় করলে বা বাস্তবায়ন করলে শেষ রাতে জেগে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় না করেও তাহাজ্জুদ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করা সম্ভব তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার সময় হলো শেষ রাত; রাতের চতুর্থ প্রহর। রাতের চারটি প্রহর সম্পর্কে কবি লিখেছেন, ‘প্রথম প্রহরে সবাই জাগে, দ্বিতীয় প্রহরে ভোগী। তৃতীয় প্রহরে তস্কর (চোর) জাগে, চতুর্থ প্রহরে যোগী (সাধক)।’ আবু হুরায়রা (রা.)–র বর্ণনায় আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ–তাআলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন, কে আছে এমন—যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছে এমন—যে আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দেব। কে আছে এমন—আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (বুখারি, হাদিস: ১,১৪৫)রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনায় আছে যে তিনি বলেন, হে আবদুল্ল...

যে আমলে রিজিক বৃদ্ধি পায়

  আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা যেসব কাজ বা আমলে রিজিকে প্রবৃদ্ধি ঘটে; তার মধ্যে তাকওয়া-পরহেজগারি অবলম্বন করা এবং তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা অন্যতম। আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আর যে আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করবে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেবেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন, যার কল্পনাও সে করতে পারবে না ।’ (সুরা সাদ, আয়াত: ৩৫) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি যথার্থভাবে ভরসা রাখো। তিনি তোমাদের সেভাবে রিজিক দান করবেন, যেভাবে তিনি পাখিদের দান করে থাকেন। পাখিরা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় (খালি পেটে) বাসা থেকে বের হয় এবং সন্ধ্যায় উদর পূর্ণ করে বাসায় ফেরে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২,৩৪৪; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪,১৬৪) তওবা-ইস্তিগফার করা তওবা-ইস্তিগফার করার মাধ্যমে বান্দার রিজিক বাড়ে। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তাদের বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে উন্নতি দান করবেন এবং তোমাদের বাগবাগিচা এবং নদীনালা দান...