ইমাম ইবনে কাসির: শতাব্দী পেরিয়েও কেন প্রাসঙ্গিক
ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়া মনীষীদের কলম কেবল শব্দ বা বাক্য রচনা করে না; বরং যুগের সামষ্টিক আকিদা, মনস্তত্ত্ব ও জীবনদর্শনকে নির্মাণ করে। জ্ঞানচর্চার দীর্ঘ পথপরিক্রমায় মুসলিম উম্মাহ এমন কিছু ক্ষণজন্মা গবেষকের দেখা পেয়েছে, যাঁদের কাজ শতাব্দী পেরিয়েও সমভাবে প্রাসঙ্গিক। অষ্টম হিজরির প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, মুহাদ্দিস ও ফকিহ হাফেজ ইবনে কাসির (রহ.) ছিলেন তেমনই এক মহান ব্যক্তিত্ব। আজ এত বছর পরও ইসলামি চিন্তাজগতে তাঁর প্রতিটি কাজ নির্ভরযোগ্যতা, বুদ্ধিবৃত্তিক সততা ও অনন্য ভারসাম্যের এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে মূল্যায়িত হয়। সংগ্রামমুখর শৈশব হিজরি ৭০১ সনে সিরিয়ার ঐতিহাসিক বসরা নগরীতে ইবনে কাসির জন্মগ্রহণ করেন, যা ছিল সেকালের ইলমি চর্চার এক অনন্য কেন্দ্র। শৈশবের প্রারম্ভেই তিনি পিতৃস্নেহ হারান। ফলে এক কঠিন সামাজিক ও আর্থিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন শুরু হয়। পিতার মৃত্যুর পর পরিবারের সঙ্গে তিনি দামেস্কে চলে আসেন। এই স্থান পরিবর্তন তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অমর কীর্তি হলো ‘তাফসিরে ইবনে কাসির’। এর মূল শক্তি হলো—কোরআনের আয়াত দ্বারা কোরআনের ব্যাখ্যা এবং সহিহ হাদিসের যথাযথ প্রয়োগ। ...