পোস্টগুলি

প্রতিকূলতা জয় করতে নবীজির জীবন থেকে ১০ শিক্ষা

  সাফল্যের পথ কখনোই মসৃণ হয় না। প্রতিটি বড় অর্জনের পেছনে থাকে অসংখ্য বাধা, সমালোচনা আর প্রতিকূলতা। এই বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য যে অটুট মনোবল ও ধৈর্যের প্রয়োজন, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন। মক্কার তপ্ত বালু থেকে তায়েফের রক্তাক্ত প্রান্তর—সবখানেই তিনি ধৈর্য ও সংকল্পের মাধ্যমে জয়ী হয়েছেন। সফল হওয়ার জন্য তাঁর জীবনের ১০টি জীবনমুখী শিক্ষা তুলে ধরা হলো: ১. বিপদে অটল থাকা সাফল্যের প্রথম শর্ত হলো বিপদের শুরুতে ভেঙে না পড়া। নবীজি (সা.) শিখিয়েছেন, ধৈর্য মানে শুধু সহ্য করা নয়, বরং লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থাকা। তিনি বলেছেন, “প্রকৃত ধৈর্য হলো বিপদের প্রথম ধাক্কার সময় (ধৈর্য ধারণ করা)।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২৮৩) ২. অসম্ভবকে সম্ভব করার সংকল্প প্রতিকূল পরিবেশে অনেকে হাল ছেড়ে দেয়। কিন্তু নবীজি (সা.) তাঁর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। কোরাইশদের প্রলোভনের জবাবে তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তিটি আজও সংকল্পের প্রতীক। তিনি বলেছেন, “তারা যদি আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চাঁদ এনে দেয়, তবুও আমি আমার লক্ষ্য থেকে এক চুল পরিমাণও সরব না।” (আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ: আরযুন ওয়াকায়ে ও...

সংকটকালে নেতৃত্ব দিতে সুরা কাহাফের ৩ শিক্ষা

  আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিদ্যায় নেতৃত্বকে নির্দিষ্ট কিছু ছকে ভাগ করা হয়—যেমন মনোনীত নেতা, নির্বাচিত নেতা কিংবা পরিস্থিতির প্রয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আবির্ভূত হওয়া নেতা। তবে পবিত্র কোরআন মাজিদ নেতৃত্বকে শুধু পদের মোড়কে না দেখে সেই গভীর মানসিক স্তর ও চেতনার ওপর আলোকপাত করে, যা সাধারণ মানুষকে অসাধারণ করে তোলে। সুরা কাহাফের তিনটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট—আসহাবে কাহাফের তরুণ দল, নবী মুসার জ্ঞান অন্বেষণের সফর এবং জুলকারনাইনের বিশ্বাভিযান—আমাদের সামনে নেতৃত্বের তিনটি অনন্য মডেল পেশ করে। একদল তরুণ রাজকীয় বিলাসিতা ত্যাগ করে ইসলাম রক্ষার জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। চরম অস্থিরতার মুহূর্তে তাঁদের মধ্যে একজন ধীরস্থির কণ্ঠে প্রস্তাব দিলেন, “তোমরা গুহায় আশ্রয় নাও। ১. আসহাবে কাহাফের স্বতঃস্ফূর্ত নেতৃত্ব আসহাবে কাহাফের কাহিনীতে আমরা দেখি এমন এক নেতৃত্ব যা কোনো পদের লোভে নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে দলের ভেতর থেকেই তৈরি হয়। একদল তরুণ রাজকীয় বিলাসিতা ত্যাগ করে ইসলাম রক্ষার জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। চরম অস্থিরতার মুহূর্তে তাঁদের মধ্যে একজন ধীরস্থির কণ্ঠে প্রস্তাব দিলেন, “তোমরা গুহায় আশ্রয় নাও, তোমাদের প্রতিপালক ...

মিনায় শয়তানকে পাথর কেন নিক্ষেপ করা হয়

  হজের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো ‘রমি’ বা শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা। জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে হাজিরা মিনায় অবস্থান করে নির্ধারিত স্থানে ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ করেন। বাহ্যিকভাবে এটি একটি সাধারণ কাজ মনে হলেও এর অভ্যন্তরে রয়েছে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা। পাথর নিক্ষেপের ইতিহাস রমি বা পাথর নিক্ষেপের ইতিহাস জড়িয়ে আছে নবী ইব্রাহিমের মহান ত্যাগ ও পরীক্ষার সঙ্গে। বর্ণনায় এসেছে, মহান আল্লাহ যখন তাঁকে পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি করার নির্দেশ দিলেন, তখন শয়তান বিভিন্ন স্থানে এসে তাঁকে এই আদেশ পালন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। কখনো ইব্রাহিমকে, কখনো হাজেরাকে, আবার কখনো স্বয়ং ইসমাইলকে প্ররোচিত করতে থাকে। তখন ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করে তাড়িয়ে দেন। সেই স্মৃতিকে জীবন্ত রাখতেই আজও হাজিরা মিনার জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করেন। পাথর নিক্ষেপের উদ্দেশ্য তবে রমির মূল উদ্দেশ্য শয়তানকে বাস্তব অর্থে আঘাত করা নয়। কারণ সেখানে কোনো দৃশ্যমান শয়তান উপস্থিত থাকে না। এটি মানুষের অন্তরের শয়তানি প্রবৃত্তি, কুপ্রবৃত্তি ও পাপ-প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতীকী যুদ্ধ ঘো...

ভাগের কোরবানিতে গোশত বণ্টন করার নিয়ম কী

  কোরবানির গোশত আত্মীয়স্বজন, গরিব ও অসহায়দের হাতে তুলে দেওয়া অত্যন্ত সওয়াব ও ফজিলতের কাজ। সমাজে যে পদ্ধতিতে বণ্টন করলে প্রকৃত গরিব ও দুস্থ মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে, সেভাবেই সুষম বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। কোরবানির গোশত সম্পর্কে মহান আল্লাহ স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, ‘এরপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুস্থ-অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৮) আল্লাহ আরও বলেন, ‘এরপর তা থেকে তোমরা আহার করো এবং আহার করাও তাকে, যে অভাব থাকা সত্ত্বেও কারও কাছে হাত পাতে না এবং তাকেও, যে নিজের অভাবের কথা প্রকাশ করে হাত পাতে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৬)। রাসুল (সা.) কোরবানির গোশতের ব্যবহার সম্পর্কে উম্মতকে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে আহার করাও এবং সংরক্ষণ করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৫৬৯) গোশত বণ্টনের মুস্তাহাব পদ্ধতি শরিয়তে কোরবানিদাতার জন্য গোশত বণ্টনের মুস্তাহাব পন্থা হলো, পুরো গোশতকে সমান তিন ভাগে ভাগ করা। এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্য এবং বাকি এক ভাগ গরিব-মিসকিনদের জন্য রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে বাঞ্ছনীয়। (আল্লামা ইবনে আবেদিন শামি, রাদ্দুল মুহতা...

‘লাইক-শেয়ারের’ ভিড়ে কোরবানির নিয়ত নষ্ট হচ্ছে না তো

  পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়। তবে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জোয়ারে আমাদের এই পবিত্র ইবাদতের মূল সুরটি এক নতুন মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে জবাই—সবকিছুর ছবি ও ভিডিও এখন ফেসবুক, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করার এক তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। পশুর দাম, জাত, কিংবা ওজনের বড়াই করে ভিউ বা ‘লাইক-শেয়ার’ পাওয়ার এই মানসিকতা আমাদের নিয়তকে কতটুকু কলুষিত করছে, তা ভাবার সময় এসেছে। ইসলামে লোকদেখানো মনোভাব বা ‘রিয়া’ ইবাদত ধ্বংসের অন্যতম কারণ। পশু কেনার সময় মনে যদি এই সুপ্ত বাসনা থাকে যে লোকে আমাকে ধনী বলবে, পশুর দাম শুনে বাহবা দেবে, তবে সেই কোরবানি আল্লাহর দরবারে পণ্ডশ্রমে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিয়তের একনিষ্ঠতা ইবাদতের মূল ইসলামে যেকোনো আমল কবুল হওয়ার প্রধানতম শর্ত হলো নিয়তের বিশুদ্ধতা, যা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে। কোরবানি কোনো সামাজিক উৎসব বা আভিজাত্য প্রদর্শনের মাধ্যম নয়। রাসুল (সা.) এই বিষয়ে উম্মতকে কঠোরভাবে সতর্ক করে গেছেন। তিনি বলেছেন, “নিশ্চয...

ভাগের কোরবানিতে গোশত বণ্টন করার নিয়ম কী

  কোরবানির গোশত আত্মীয়স্বজন, গরিব ও অসহায়দের হাতে তুলে দেওয়া অত্যন্ত সওয়াব ও ফজিলতের কাজ। সমাজে যে পদ্ধতিতে বণ্টন করলে প্রকৃত গরিব ও দুস্থ মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে, সেভাবেই সুষম বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। কোরবানির গোশত সম্পর্কে মহান আল্লাহ স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, ‘এরপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুস্থ-অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৮) আল্লাহ আরও বলেন, ‘এরপর তা থেকে তোমরা আহার করো এবং আহার করাও তাকে, যে অভাব থাকা সত্ত্বেও কারও কাছে হাত পাতে না এবং তাকেও, যে নিজের অভাবের কথা প্রকাশ করে হাত পাতে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৬)। রাসুল (সা.) কোরবানির গোশতের ব্যবহার সম্পর্কে উম্মতকে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে আহার করাও এবং সংরক্ষণ করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৫৬৯) গোশত বণ্টনের মুস্তাহাব পদ্ধতি শরিয়তে কোরবানিদাতার জন্য গোশত বণ্টনের মুস্তাহাব পন্থা হলো, পুরো গোশতকে সমান তিন ভাগে ভাগ করা। এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্য এবং বাকি এক ভাগ গরিব-মিসকিনদের জন্য রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে বাঞ্ছনীয়। (আল্লামা ইবনে আবেদিন শামি, রাদ্দুল মুহতা...

বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে মহানবী (সা.)-এর ঘোষিত ১০ নীতি

  ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়েও বড় সাফল্য হলো একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা। যেখানে মানুষের পরিচয় তার বংশ বা বর্ণে নয়, বরং তার কর্ম ও তাকওয়া বা চারিত্রিক শুদ্ধতায় নির্ধারিত হয়। আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে বিদায় হজে মানবাধিকারের যে সনদ মহানবী (সা.) ঘোষণা করেছিলেন, তা আধুনিক সময়ের যে-কোনো মতবাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর। একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ার ১০টি বৈপ্লবিক নির্দেশনা তুলে ধরা হলো: ১. বর্ণবাদ ও বংশীয় আভিজাত্যের অবসান সাফল্যের মানদণ্ড রক্ত বা বর্ণ নয়, বরং মানুষের আমল ও চরিত্র। বিদায় হজের ভাষণে নবীজি (সা.) বর্ণবাদের মূলে কুঠারাঘাত করেছিলেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, “কোনো আরবের ওপর কোনো অনারবের এবং কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্ব শুধু তাকওয়ার (খোদাভীতি) ভিত্তিতে।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২৯৭৮) ২. আইনের শাসনে আপসহীনতা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ধনী-দরিদ্র বা আপন-পর ভেদাভেদ করা সাফল্যের অন্তরায়। নবীজি (সা.) তাঁর নিজের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও আইনের সমান প্রয়োগের কথা বলতেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আম...