পোস্টগুলি

হজের মানসিক প্রস্তুতি যেভাবে নেবেন

  হজে যাওয়ার আগে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হজের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনা করা হলো— নিয়ত ও আত্মশুদ্ধি যে কোনো ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো খাঁটি নিয়ত। হজও এর ব্যতিক্রম নয়। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তারা তো এ ছাড়া অন্য কোনো নির্দেশ পায়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে একনিষ্ঠভাবে।’ (সুরা বাইয়িনাহ, আয়াত: ৫) তাই হজে যাওয়ার আগে নিজের অন্তরকে যাচাই করা আবশ্যক যে আমি কি সত্যিই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজে যাচ্ছি, নাকি সমাজে ‘হাজি’ উপাধি পাওয়ার জন্য। যদি নিয়তে গরমিল থাকে, তাহলে এখনই তা পরিশুদ্ধ করা জরুরি। একইসঙ্গে অহংকার, হিংসা, রিয়া (লোক দেখানো), বিদ্বেষ প্রভৃতি ধরনের অন্তরের ব্যাধি দূর করার চেষ্টা করতে হবে। হজ এমন একটি ইবাদত, যেখানে আল্লাহর দরবারে একান্তভাবে নিজেকে সমর্পণ করতে হয়। হজে যাওয়ার আগে নিজের অন্তরকে যাচাই করা আবশ্যক যে আমি কি সত্যিই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজে যাচ্ছি, নাকি সমাজে ‘হাজি’ উপাধি পাওয়ার জন্য। হালাল পাথেয়র ব্যবস্থা হজের ব্যয়ভার অবশ্যই হালাল উপার্জন থেকে হতে হবে। হারাম উপার্জন দ্বারা ইবাদত করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ন...

ব্যবসায় যে ১০ কাজ ইসলামে নিষেধ

  ব্যবসায়-বাণিজ্য মানবজীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে ব্যবসা পরিচালনা করলে একজন ব্যবসায়ী শুধু দুনিয়াতেই নয়, পরকালেও লাভবান হবেন। যারা সততা ও আমানতদারির সঙ্গে ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন, মহানবী (সা.) তাঁদের জন্য সুবিশাল পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। নবীজি (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা (আখেরাতে) নবী, সত্যবাদী ও শহীদদের সঙ্গে থাকবেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২০৯) ইসলামে ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ১০টি কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ১. কারও ক্ষতি করা যাবে না মানুষের ক্ষতি হয় এমন সব পন্থাকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। মানুষের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সওয়াও যাবে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৩৪১) রাসুল (সা.) বাজারে একজন খাদ্য বিক্রেতার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি খাদ্যের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দেখলেন ভেতরের খাবারগুলো ভেজা। বিক্রেতা জানালেন, বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল। ব্যবসায় গ্রাহকের কাছ থেকে আমরা শুধু লাভ করছি তা নয়; বরং তাঁদের সেবা প্রদান করছি। যদি আমরা যৌক্তিক ...

কোরআনে এসেছে নানা রূপের বৃষ্টির কথা

  বৃষ্টি মহান আল্লাহর এক অপার মহিমা ও জীবনের স্পন্দন। পবিত্র কোরআনে বৃষ্টি কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং এটি আল্লাহর কর্মকুশলতার এক অনন্য নিদর্শন। কোথাও বৃষ্টি এসেছে মৃত ভূমিকে পুনর্জীবিত করার রহমত হিসেবে, আবার কোথাও তা অবাধ্য জাতির ওপর নেমে এসেছে আজাব বা শাস্তি হয়ে। কোরআনের এই আয়াতগুলো নিয়ে গভীর চিন্তা করলে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও হিকমতের পরিচয় পাওয়া যায়। ‘মাতার’ ও ‘গাইস’: শব্দের পার্থক্য পবিত্র কোরআনে বৃষ্টির বর্ণনায় ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গভীর। মাতার:  এই শব্দটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তি বা আজাবের প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, “আমি তাদের ওপর পাথর বৃষ্টি বর্ষণ করলাম, অতঃপর সতর্ককৃতদের সেই বৃষ্টি কতই না মন্দ ছিল!” (সুরা শুয়ারা, আয়াত: ১৭৩) গাইস:  এই শব্দটি ব্যবহৃত হয় রহমত, সাহায্য এবং কঠিন খরা বা হতাশার পর নেমে আসা বৃষ্টির বর্ণনায়। যেমন, “তিনিই সেই সত্তা, যিনি মানুষের হতাশার পর ‘গাইস’ (বৃষ্টি) বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন।” (সুরা শুরা, আয়াত: ২৮) কোরআনে বৃষ্টির বিভিন্ন রূপ পবিত্র কোরআনে বৃষ্টির প্রায় ১১টি সরাসরি উল্লেখ ছাড়াও আল-ম...

আল্লাহর ভালোবাসা বাড়বে যে ১০ আয়াত পাঠে

  এই মহাবিশ্বের সব ভালোবাসার উৎস স্বয়ং আল্লাহ–তাআলা। মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি সেই প্রেম ও অনুরাগ বৃদ্ধি করতে এবং তাঁর প্রিয় বান্দা হতে পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর ভালোবাসা গভীর করতে সহায়ক এমন ১০টি আয়াত দেওয়া হলো: ১. মুমিনের প্রধান ভালোবাসা আল্লাহ ইমানের পূর্ণতা আসে যখন মানুষের কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে মহান আল্লাহর ভালোবাসাই শ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হয়। উচ্চারণ:  ওয়া মিনান নাসি মাই ইয়াত্তাখিযু মিন দুনিল্লাহি আনদাদাই ইউহিব্বুনাহুম কাহুব্বিল্লাহ, ওয়াল্লাযিনা আমানু আশাদ্দু হুব্বাল লিল্লাহ। অর্থ:  মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্যদের সমকক্ষ বানায় এবং তাদের আল্লাহর মতো ভালোবাসে। কিন্তু যারা ইমান এনেছে, তারা আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৬৫) ২. রাসুলের অনুসরণে মিলবে আল্লাহর প্রেম আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়ার সহজ পথ হলো তাঁর প্রেরিত রাসুলের (সা.) সুন্নাহ ও জীবনাদর্শ অনুসরণ করা। উচ্চারণ:  কুল ইন কুনতুম তুহিব্বুনাল্লাহা ফাত্তাবি'উনি ইউহবিবকুমুল্লাহু ওয়া ইয়াগফির লাকুম যুনুবাকুম। অর্থ:  বলো, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালো...

জিলকদ মাসে নবীজির আমল

  আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন যে, আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা থেকেই বছরের মাস সংখ্যা বারটি নির্ধারিত, যার মধ্যে চারটি মাস বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এই চারটি মাস হলো—জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। এই মাসগুলোকে ‘আশহুরে হুরুম’ বলা হয়, অর্থাৎ সম্মানিত ও পবিত্র মাস। এসব মাসে পাপ থেকে বেঁচে থাকা এবং নেক আমল বৃদ্ধি করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। (সুরা তাওবা, আয়াত : ৩৬) এই মাসগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো—এগুলোতে অন্যায়ের পাপ আরও গুরুতর হয়ে যায় এবং নেক আমলের সওয়াবও বৃদ্ধি পায়। তাই আল্লাহ–তাআলা বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন, “তোমরা এসব মাসে নিজেদের ওপর জুলুম করো না।” এখানে ‘জুলুম’ বলতে বোঝানো হয়েছে—আল্লাহর অবাধ্যতা করা এবং তাঁর নির্দেশ অমান্য করা। যদিও পাপ সব সময়ই নিষিদ্ধ, তবে এই সম্মানিত মাসগুলোতে তা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। জিলকদ মাস এই চারটি সম্মানিত মাসের প্রথমটি। এর ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বও অনেক গভীর।কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত মুসা (আ.) আল্লাহর নির্দেশে তুর পাহাড়ে চল্লিশ দিন অবস্থান করেছিলেন, যার প্রথম ত্রিশ দিন ছিল জিলকদ মাস এবং পরবর্তী দশ দিন ছিল জিলহজ মাসের প্রথম দশক। এই সময়েই তিনি আ...

হৃদয়ে প্রশান্তি দেবে যে ১০ আয়াত

  অনিশ্চয়তা, ভয় আর দুশ্চিন্তা আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যারিয়ার, পরিবার কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে এই অস্থিরতা আমাদের মানসিক প্রশান্তি কেড়ে নেয়। তবে পবিত্র কোরআনে এমন কিছু আয়াত রয়েছে, যা গভীর সংকটেও মনে প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। ভয় ও দুশ্চিন্তা দূর করতে সহায়ক এমন ১০টি আয়াত দেওয়া হলো: ১. প্রশান্তির একমাত্র উৎস আল্লাহর স্মরণ যখন চারপাশের পরিস্থিতি অস্থির করে তোলে, তখন স্রষ্টার স্মরণই হৃদয়ে পরম শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। উচ্চারণ:  আল্লাযিনা আমানু ওয়া তাতমাইন্নু কুলুবুহুম বিজিকরিল্লাহ, আলা বিজিকরিল্লাহি তাতমাইন্নুল কুলুব। অর্থ:  যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি পায়। (সুরা রা’দ, আয়াত: ২৮) ২. সংকটের পর স্বস্তির নিশ্চয়তা বর্তমানের কঠিন সময় চিরস্থায়ী নয়; স্রষ্টা দুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, কষ্টের পরেই সুখের দেখা মিলবে। উচ্চারণ:  ফা ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা, ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা। অর্থ:  নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে। অবশ্যই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে। (সুরা শারহ, আয়াত: ...

সম্পদের সঠিক ব্যবহার শেখায় কোরআনের ১০ আয়াত

  জীবনধারণের জন্য সম্পদ অপরিহার্য, তবে এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। পবিত্র কোরআনে সম্পদের উপার্জন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও বরকত অর্জনে সহায়ক এমন ১০টি আয়াতের বর্ণনা দেওয়া হলো: ১. মধ্যপন্থা অবলম্বনেই সার্থকতা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অতিভোজ বা কৃপণতা—কোনোটিই কাম্য নয়। ভারসাম্যপূর্ণ ব্যয়ই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। উচ্চারণ:  ওয়াল্লাযিনা ইযা আনফাকূ লাম ইউসরিফূ ওয়া লাম ইয়াকতুরূ ওয়া কানা বাইনা যালিকা কাওয়ামা। অর্থ:  আর যারা ব্যয় করার সময় অপচয় করে না এবং কৃপণতাও করে না; বরং তারা এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পন্থায় থাকে। (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৬৭) ২. অপচয়কারী আল্লাহর অপ্রিয় খাদ্য ও পানীয়র অপচয় কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধও বটে। উচ্চারণ:  ইয়াবানি আদামা খুযূ যিনাতাকুম ইনদা কুল্লি মাসজিদিন ওয়া কুলূ ওয়াশরাবূ ওয়ালা তুসরিফূ; ইন্নাহু লা ইউহিব্বুল মুসরিফীন। অর্থ:  হে আদম সন্তান, তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা গ্রহণ করো; খাও ও পান করো কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ...