পোস্টগুলি

জীবিকার দুশ্চিন্তা ঘুচবে যে ১০ আয়াতে

  জীবনসংগ্রামের পথে আমাদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘রিজিক’। ভবিষ্যতে কী হবে, কীভাবে সংসার চলবে—এই ভয় অনেক সময় আমাদের অস্থির করে তোলে। তবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রিজিকের ব্যাপারে বারবার অভয় দিয়েছেন এবং ভরসা রাখার পথ দেখিয়েছেন। রিজিক নিয়ে ভয় দূর করতে সহায়ক এমন ১০টি আয়াত তুলে ধরা হলো: ১. প্রতিটি প্রাণের দায়িত্ব আল্লাহর পৃথিবীতে বিচরণশীল প্রতিটি জীবের জীবনোপকরণের দায়িত্ব স্বয়ং স্রষ্টার। উচ্চারণ:  ওয়া মা মিন দাব্বাতিন ফিল আরদ্বি ইল্লা আলাল্লাহি রিযকুহা। অর্থ:  ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো জীব নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। (সুরা হুদ, আয়াত: ৬) আপনার এবং আপনার পরিবারের অন্নসংস্থানের নিশ্চয়তা আল্লাহ দিয়েছেন। নিজের কাজটুকু সততার সঙ্গে করে যান, তিনি কাউকে অনাহারে রাখেন না। ২. তাকওয়ায় খোলে অভাবনীয় দুয়ার সততা ও আল্লাহভীতি মানুষের সামনে এমন সব পথ খুলে দেয়, যা আগে কখনো কল্পনাও করা যায়নি। উচ্চারণ:  ওয়া মান ইয়াত্তাকিল্লাহা ইয়াজ'আল লাহু মাখরাজা, ওয়া ইয়ারযুকহু মিন হাইছু লা ইয়াহতাসিব। অর্থ:  যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সংকট থেকে উত্তরণের) পথ করে দেন এবং তা...

সুফিসাধক নাসের খসরুর হজ সফর

  পারস্যের কবি ও সুফি সাধক নাসের খসরু ছিলেন একজন ইসমাইলীয় শিয়া যিনি দার্শনিক ও পর্যটক হিসেবেও সুখ্যাতি কুড়িয়েছিলেন। তাঁর  সফরনামা– কে পারস্যের ভ্রমণকাহিনি রচনার অন্যতম পথিকৃত বিবেচনা করা হয়। ধ্রুপদী ফারসি ভাষায় লেখা এই সফরনামা আজো পাঠককে চমৎকৃত করে। খসরু ৪২ বছর বয়সে ১০৪৫ সালে মক্কায় হজব্রত পালনের জন্য স্বদেশ থেকে রওনা হন। তাঁর আগে তিনি বেশ কিছুদিন মার্ভ ও বলখে সরকারি কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এক রাতে তিনি স্বপ্নে দেখেন যে কেউ তাঁকে জ্ঞানান্বেষণের জন্য নিজেকে নিয়োগ করতে নির্দেশনা দিচ্ছে। নির্দেশদাতার কাছে তিনি জানতে চান যে কোথায় গেলে তিনি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। তখন তাঁকে মক্কার দিকে ইশারা করে দেখিয়ে নির্দেশদাতা অদৃশ্য হয়ে যান। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর তিনি স্বপ্নে দেখা সবকিছুই মনে করতে পারলেন। তখন নিজেকে তিনি নিজেই প্রশ্ন করেন যে এই ৪২ বছরের জীবনে কী করেছেন। তাঁর উপলব্ধি হয়, নিজের জীবনযাপন ও কাজে পরিবর্তন না আনলে তিনি কখনোই সুখী হতে পারবেন না। পরের কাহিনি তাঁর ভাষাতেই শোনা যাক: “বৃহস্পতিবার..(ডিসেম্বর ১৯, ১০৪৫)...আমি মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো শরীর ভালভাবে ধৌত করে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হল...

যেভাবে সম্পন্ন করবেন পবিত্র তাওয়াফ

  পবিত্র মসজিদুল হারামে প্রবেশ করা মাত্রই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই আজন্ম লালিত স্বপ্নের কাবাঘর। এটি এক অন্যরকম আবেগঘন মুহূর্ত। বিশ্বাসীদের জন্য কাবার প্রথম দর্শন চোখের জল ধরে রাখা কঠিন। প্রথমবার কাবা দেখার পর মনে যে দোয়া আসে, তা-ই করা উত্তম। তাওয়াফ কী ও কীভাবে শুরু করবেন কাবা শরিফকে সাতবার প্রদক্ষিণ করাকে বলা হয় ‘তাওয়াফ’। হাজরে আসওয়াদ (জান্নাতি পাথর) থেকে এই প্রদক্ষিণ শুরু করতে হয়। কাবার চারটি কোণ রয়েছে: হাজরে আসওয়াদ, রুকনে ইরাকি, রুকনে শামি ও রুকনে ইয়ামেনি। হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে ঘুরে পুনরায় এই পাথর বরাবর এলে একটি চক্কর পূর্ণ হয়। পুরুষের জন্য ‘ইজতিবা’ ও ‘রমল’ তাওয়াফ শুরুর আগে পুরুষদের ইহরামের পোশাকে বিশেষ পরিবর্তন আনতে হয়। ইহরামের ওপরের অংশ বা চাদরটি (রিদা) ডান বগলের নিচ দিয়ে এনে বাঁ কাঁধের ওপর রাখতে হয়। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ইজতিবা’। এছাড়া তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে পুরুষদের বীরদর্পে একটু জোরে হাঁটতে হয়, যাকে বলা হয় ‘রমল’। বাকি চার চক্কর স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতে হয়। নারীদের জন্য রমল বা ইজতিবা নেই। তাওয়াফ শুরু যেভাবে করবেন মসজিদে প্রবেশের সময় এই দোয়াটি পাঠ করতে হয়— ‘আল্লাহুম্মাফতাহ...

নামাজে মনোযোগ বাড়াবে কোরআনের ১০ আয়াত

  ব্যস্ত জীবনে নামাজের সময়টুকুতে মনকে স্থির রাখা অনেকের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। অথচ নামাজের মূল সৌন্দর্যই হলো একাগ্রতা। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ–তাআলা নামাজে বিনীত ও মনোযোগী হওয়ার গুরুত্ব এবং এর সুফল বর্ণনা করেছেন। নামাজে একাগ্রতা বাড়াতে সহায়ক এমন ১০টি আয়াতের বর্ণনা দেওয়া হলো: ১. সফলতার মূল চাবিকাঠি বিনয় প্রকৃত সাফল্য কেবল সম্পদ বা ক্ষমতায় নয়, বরং আল্লাহর সামনে বিনম্রভাবে দাঁড়ানোর মধ্যে নিহিত। উচ্চারণ:  কাদ আফলাহাল মুমিনুন, আল্লাযিনা হুম ফি সালাতিহিম খাশিউন। অর্থ:  নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে, যারা তাদের নামাজে বিনম্র। (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ১-২) ২. কঠিন সময়ে ধৈর্য ও নামাজ যেকোনো সংকটে অস্থির না হয়ে নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য। উচ্চারণ:  ওয়াস্তা'ঈনু বিসসাবরি ওয়াসসালাহ, ওয়া ইন্নাহা লাকাবিরাতুন ইল্লা আলাল খাশি'ঈন। অর্থ:  তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই এটি কঠিন, তবে বিনীতদের জন্য নয়। (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৫) ৩. অন্যায় থেকে মুক্তির ঢাল নামাজ কেবল একটি ইবাদত নয়, এটি মানুষকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রেখে পরিশুদ্ধ কর...

মহানবী (সা.)–এর জীবনী পাঠের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী

  নবী-রাসুলগণ কেবল বার্তাবাহক ছিলেন না; বরং তাঁরা ছিলেন সেই বার্তার জীবন্ত বাস্তব রূপ। তারা যে শিক্ষা নিয়ে এসেছেন, নিজেদের জীবনেই তার পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন। তারা মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিজেরাই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী। তারা উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন এবং নিজেরাই ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। বান্দার হক আদায়ের শিক্ষা দিয়েছেন এবং নিজেদের জীবনে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এইভাবে তাঁদের জীবনই হয়ে উঠেছে আল্লাহর বিধানের বাস্তব নমুনা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর সিরাত মানবজীবনের জন্য সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক। তাঁর জীবন ছিল কোরআনের বাস্তব প্রতিফলন। তিনি কেবল কোরআনের বাণী প্রচার করেননি; বরং নিজের জীবন দিয়ে সেই বাণীর ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর চরিত্র, আচরণ, দয়া, ন্যায়পরায়ণতা, ধৈর্য, সাহস, নম্রতা—সবকিছুই মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। তবে এই আদর্শ থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। কোরআনের আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই আদর্শ তাদের জন্য, যারা আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে এবং পরকালের জবাবদিহিতার বিষয়ে সচেতন থাকে। অর্থাৎ, রাসুলের...

বিপদের দিনে শক্তি জোগাবে কোরআনের ১০ আয়াত

  জীবন মানেই চড়াই-উতরাই। কখনো সাফল্য আমাদের আনন্দিত করে, আবার কখনো ব্যর্থতা বা বিপদ আমাদের চারপাশ অন্ধকার করে দেয়। এই কঠিন সময়ে মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে, তখন পবিত্র কোরআনের বাণী হতে পারে পরম নির্ভরতা ও মানসিক শক্তির উৎস। বিপদের দিনে মনকে শক্ত রাখতে সহায়ক এমন ১০টি আয়াতের কথা বলা হলো: ১. সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা তিনি দেন না আপনার ওপর যে পরীক্ষা এসেছে, তা সইবার ক্ষমতা আপনার আছে বলেই আল্লাহ তা নির্ধারণ করেছেন। উচ্চারণ:  লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উস'আহা। অর্থ:  আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না। (সুরা বাকারা আয়াত: ২৮৬) ২. কষ্টের পরেই আসে স্বস্তি বিপদ স্থায়ী নয়; স্রষ্টা দুবার অভয় দিয়ে বলেছেন যে, অন্ধকারের পরেই আলোর দেখা মিলবে। উচ্চারণ:  ফা ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা, ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা। অর্থ:  নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে। (সুরা শারহ, আয়াত: ৫-৬) ৩. মুমিনের নেই পরাজয় সাময়িক ব্যর্থতায় হীনম্মন্য হওয়া সাজে না; বিশ্বাসে অটল থাকাই বিজয়ের প্রথম শর্ত। উচ্চারণ:  ওয়ালা তাহিনু ওয়ালা তাহযানু ওয়া আনতুমুল আ'লাউনা ইন কু...

রাগ নিয়ন্ত্রণে কোরআনের সমাধান

  প্রকৃত শক্তিশালী কে—যে জিমে ১০০ কেজি ওজন তুলতে পারে, নাকি যে রেগে গিয়েও নিজেকে সামলাতে পারে? কোরআনে এর সুন্দর সমাধান আছে। আর সেই সমাধান আজকের বিজ্ঞানও স্বীকার করছে। ঘটনাটা খুব চেনা। অফিস থেকে সন্ধ্যায় ফিরছেন। সারা দিন ক্লান্ত, রাস্তায় জ্যাম। হঠাৎ পাশ থেকে একটি রিকশা আপনার গায়ে ধাক্কা দিল। ব্যথা পেলেন। এক সেকেন্ড—শুধু এক সেকেন্ডের মধ্যে ভেতরে রক্ত গরম হয়ে গেল, গলা শুকিয়ে এল। মাথায় একটাই চিন্তা—এখনই নেমে প্রচণ্ড শক্তি দিয়ে রিকশাওয়ালার গালে একটা চড় বসাবেন। অথবা ধরুন বাসায় ছোট ভাই আপনার ফোনটা মেঝেতে ফেলে দিল। আপনার শখের যে গ্লাসটি দিয়ে পানি পান করতে পছন্দ করেন, তিন বছর বয়সী মেয়েটি সেটি ভেঙে ফেলল। কিংবা অফিসে বস সবার সামনে আপনাকে বকা দিলেন। রেগে গেলে মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ে। শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেলালিন হরমোন নিঃসরণ হয়। যৌক্তিক চিন্তা বা রেশনাল থিংকিং বন্ধ হয়ে যায়। অথবা কোনো কারণ ছাড়াই কেউ আপনার সঙ্গে বেয়াদবি করল। আপনি রাগে ফুঁসছেন বা এর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালেন। এমন অবস্থায় রাগ হওয়া স্বাভাবিক। রাগ একটি মানবিক আবেগ। কিন্তু সমস্যা হয় তখন—যখন রা...