পোস্টগুলি

সফল উদ্যোক্তার জন্য মহানবী (সা.)–এর ১০ উপদেশ

  সাফল্যের একটি বড় অংশজুড়ে থাকে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও স্বনির্ভরতা। আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে মুনাফার জন্য অনৈতিক পথ অবলম্বন করাকে অনেকে ‘স্মার্টনেস’ মনে করেন। কিন্তু নবীজি (সা.) শিখিয়েছেন সততা ও বিশ্বস্ততাই হলো ব্যবসার আসল মূলধন। একজন সফল উদ্যোক্তা বা কর্মজীবী হওয়ার জন্য তাঁর জীবন থেকে ১০টি বৈপ্লবিক সূত্র তুলে ধরা হলো: ১. সততাই শ্রেষ্ঠ মূলধন ব্যবসার সাফল্যের জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া সাময়িক লাভ দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ধ্বংস ডেকে আনে। নবীজি (সা.) সত্যবাদী ব্যবসায়ীদের পরকালে উচ্চ মর্যাদার সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “সত্যবাদী ও আমানতদার (বিশ্বস্ত) ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবীগণ, সত্যবাদীগণ এবং শহীদদের সঙ্গী হবেন।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২০৯) ২. ভেজাল ও প্রতারণা বর্জন পণ্যের ত্রুটি গোপন করা বা ওজনে কম দেওয়া শুধু নৈতিক অপরাধ নয়, বরং এটি ব্যবসায়িক বরকত নষ্ট করে দেয়। একবার রাসুল (সা.) এক খাদ্য বিক্রেতার শস্যের স্তূপে হাত ঢুকিয়ে দেখলেন ভেতরে ভেজা। তিনি বললেন, “যে প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০২) ৩. সহজলভ্যতা ও সহমর্মিতা বেচাকেনার ক্ষেত্রে কঠোর হওয়া বা গ্রাহককে ঠকানো ন...

নারীর হজ, অনিশ্চয়তা মেনে নেওয়াই হজ

  হজ শুধু একটি ফরজ ইবাদত নয়; এটি এক দীর্ঘ আত্মিক যাত্রা। এই যাত্রায় মানুষ নিজের ভেতরের স্তরগুলো একে একে উন্মোচন করতে শেখে। একজন নারীর জন্য এই সফর আরও গভীর ও বহুমাত্রিক। এখানে শরীর, মন, বিশ্বাস আর ধৈর্যের এক কঠিন পরীক্ষা হয়। অনেকেই হজকে শুধু রীতিনীতির একটি তালিকা মনে করেন—কখন ইহরাম বাঁধতে হবে, কখন তাওয়াফ বা সাঈ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে হজে গিয়ে বোঝা যায়, এসবই কেবল বাহ্যিক কাঠামো। অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ছাড়া এই সফর পূর্ণতা পায় না। আর সেই প্রস্তুতির জায়গাটিই অনেক সময় অবহেলিত থেকে যায়। আমাদের দেশের নারীদের দৈনন্দিন জীবনে দীর্ঘপথ হাঁটা বা কায়িক পরিশ্রমের অভ্যাস কম থাকে। ফলে হঠাৎ এই ধকল সইতে শরীর বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। নিজের সীমাবদ্ধতা চেনা হজে গিয়ে প্রথম যে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, তা হলো শরীর। প্রচণ্ড গরম, দীর্ঘ পথ হাঁটা, ভিড় আর ঘুমের অনিয়ম শরীরকে চরম ক্লান্ত করে দেয়। বিশেষ করে আমাদের দেশের নারীদের দৈনন্দিন জীবনে দীর্ঘপথ হাঁটা বা কায়িক পরিশ্রমের অভ্যাস কম থাকে। ফলে হঠাৎ এই ধকল সইতে শরীর বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। তাই হজে যাওয়ার আগে থেকেই নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত পানি পান ও ঘুমের রুটিন ঠি...

যে ৫ আমলে মিলবে হজের সওয়াব

  হজ মহান আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। যারা আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম, তাদের ওপর হজ ফরজ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বাইতুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই গৃহের হজ করা তাদের ওপর আবশ্যক।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭) হজের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে অনেক বর্ণনা এসেছে। এত মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও সামর্থ্য না থাকায় সবার পক্ষে হজ পালন করা সম্ভব হয় না। তবে আল্লাহর রহমত অপরিসীম। তিনি এমন কিছু আমল দিয়েছেন, যা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে হজের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়। ১. মাতা-পিতার খেদমত করা আন্তরিকভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মাতা-পিতার খেদমত করলে হজ ও ওমরাহ পালনের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। হাদিসে আছে, এক ব্যক্তি নবীজির কাছে এসে বলল, ‘আমি জিহাদে অংশ নিতে চাই, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নেই।’ নবীজি (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার মাতা-পিতার কেউ কি জীবিত আছেন?’ সে বলল, ‘আমার মা জীবিত আছেন।’ নবীজি বললেন, ‘তাহলে মায়ের খেদমতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে তোমার ওজর পেশ করো। যদি তা করতে পারো, তবে তুমি হজ, ওমরাহ ও জিহাদের সওয়াব লাভ করবে।...

কোরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত ‘আলেম’ কে

  পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে ইলম বা জ্ঞানের মর্যাদা এবং আলেমদের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ আয়াত হলো, “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শুধু আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।” (সুরা ফাতির, আয়াত: ২৮) লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই আয়াতটি প্রাকৃতিক বিজ্ঞান (যেমন: বিভিন্ন রং, পাহাড়ের গঠন ও সৃষ্টিবৈচিত্র্য) সংক্রান্ত আলোচনার সমাপ্তিতে এসেছে। এটি নির্দেশ করে যে, মহাবিশ্বের সৃষ্টিশৈলী ও কুদরত যারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তারাই আল্লাহর মহিমা ও একত্ববাদ বুঝতে সক্ষম হন এবং তাদের মনেই প্রকৃত ‘খশিয়ত’ বা ভয় জাগ্রত হয়। যার অন্তরে খোদাভীতি নেই, কোরআনের পরিভাষায় সে প্রকৃত আলেম নয়। (ওয়াহবাহ আল-জুহাইলি, আত-তাফসিরুল মুনির, ২২/২৬২, দারুল ফিকর, দামেস্ক, ১৯৯১) যে আল্লাহকে যত বেশি জানবে, তার মনে আল্লাহর ভয় তত প্রবল হবে। আলেমগণ আল্লাহর গুণাবলি ও ক্ষমতা সম্পর্কে সম্যক অবগত বলেই তাঁদের ভীতি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। খোদাভীতি কি আলেমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ এই আয়াতে ‘ইন্‌নামা’ শব্দটির মাধ্যমে আল্লাহর ভয়কে শুধু আলেমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, সাধারণ মানুষের মনে আল্লাহর ভয় থাকতে পারে না। বরং এর ম...

জিলহজের প্রথম দশকে বিশেষ ৫ আমল

  আরবি বর্ষপঞ্জির সর্বশেষ মাস জিলহজ। সময়ের আবর্তে পুণ্যময় এই মাসটি আবারও আমাদের দুয়ারে। জিলহজ মাস বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম ‘হজ’ এই জিলহজ মাসেই সম্পাদন করতে হয়। পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ত্যাগের অনন্য নিদর্শন কোরবানিও এই মাসের প্রথমার্ধে পালন করা হয়। হজ ও কোরবানি ছাড়াও জিলহজের প্রথম দশকের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে জিলহজের প্রথম ১০ রাতের কসম করে এই দশকের গুরুত্ব মহিমান্বিত করেছেন, ‘কসম প্রভাতের এবং ১০ রাতের’ (সুরা ফজর, আয়াত: ১-২)। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-সহ একাধিক তাফসিরকারকের মতে, এখানে জিলহজের প্রথম ১০ রাতকেই বোঝানো হয়েছে। (ইমাম ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ৮/৩৯০, দারুত তাইয়িবাহ, রিয়াদ, ১৯৯৯) রাসুল (সা.) জিলহজের প্রথম দশকের ইবাদত আল্লাহর কাছে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি প্রিয় বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই, যে দিনগুলোর নেক আমল আল্লাহর কাছে এই ১০ দিনের (জিলহজের প্রথম দশক) আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয়; তবে সেই ...

প্রথম দেখায় পবিত্র কাবা

  কাবা শরিফ প্রথম দেখার অনুভূতি কেমন—তা বুঝতে হলে নিজেকে একজন শিশু হিসেবে কল্পনা করুন। যে শিশুটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছে এবং হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখল তার ঘর বাহারি খেলনায় ঠাসা। আমার অবস্থাও ঠিক তেমনই হলো—বাকরুদ্ধ, অনুভূতিহীন। মাথার ভেতরটা যেন ফাঁকা হয়ে গেল। শুধু মনে হলো, ‘আমি পাইলাম, আমি তাহাকে পাইলাম।’ ভেতরের আবেগ চেপে আমি ও আমার স্ত্রী তাওয়াফ শুরু করলাম। তাওয়াফ শুরু করতে হয় কাবাঘরের হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) সংলগ্ন কোণ থেকে। কাবাঘরকে সাতবার প্রদক্ষিণ করে আবার এখানে এসেই শেষ করতে হয়। আমাদের সফরসঙ্গী ফয়জুল্লাহ ভাই এর আগে কয়েকবার ওমরাহ করেছেন, তিনি আমাদের নিয়মগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। আমরা তাওয়াফ করছি। হাজিদের খুব বেশি ভিড় নেই। সবার পায়ের সঙ্গে পা মিলিয়ে ঐকতানে চক্রাকারে ঘুরছি। কেউ কেউ উচ্চস্বরে বা মনে মনে দোয়া পড়ছেন। মালয়েশীয় বা ইন্দোনেশীয়রা দল বেঁধে আসে, তাদের একজন আগে আগে দোয়া বলে দিচ্ছেন আর বাকিরা সমবেত কণ্ঠে তার পুনরাবৃত্তি করছেন।যদিও তাওয়াফের সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই, আরবিতেই দোয়া করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। আমি কখনো আরবিতে, কখনো বাংলায় নিজের মনের একান্ত আকুতিগুল...

হজের সফরে কখন কোন দোয়া পড়বেন

  হজের সফরের প্রতিটি মোড়ে, ইহরাম থেকে শুরু করে আরাফাতের ময়দান পর্যন্ত, রাসুল (সা.) আমাদের নির্দিষ্ট কিছু দোয়া ও জিকির শিখিয়েছেন। যদিও হজের সফরে নিজের ভাষায় যেকোনো বৈধ দোয়া করা যায়, তবুও নবীজি তাঁর সাহাবিদের থেকে বর্ণিত হাদিসসমর্থিত দোয়াগুলোর ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে হজের সফরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক ও প্রয়োজনীয় দোয়াগুলোর উচ্চারণ ও অর্থ তুলে ধরা হলো: ১. হজযাত্রীকে বিদায় দেওয়ার দোয়া হজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় যারা বাড়িতে অবস্থান করছেন (পরিবার-পরিজন বা প্রতিবেশী), তাদের উদ্দেশে আল্লাহর রাসুল (সা.) এই দোয়াটি পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন: উচ্চারণ: আসতাওদিউকুমুল্লা হাল্লাজি লা তাদিউ ওয়াদাইউহু। অর্থ: আমি আপনাদের আল্লাহর হেফাজতে সঁপে যাচ্ছি, যাঁর আমানত বা হেফাজতকৃত জিনিস কখনো নষ্ট হয় না। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৮২৫) ২. যানবাহনে আরোহণের পর যখন হজযাত্রী গাড়ি, বিমান বা অন্য কোনো যানবাহনে চড়বেন, তখন তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলে এই দীর্ঘ দোয়াটি পড়বেন: উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাজা ওমা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন। আল্লাহুম্মা ইন্না না...