পোস্টগুলি

অমুসলিম দেশে উচ্চশিক্ষা ও নাগরিকত্ব গ্রহণ: ইসলাম কী বলে

  বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা, জীবিকানির্বাহসহ নানা প্রয়োজনে অমুসলিম দেশে গমন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রবণতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের মতো এ বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। ছোট-বড় সব কাজে ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলাই একজন খাঁটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য। একজন মুসলমানের ইমান, আমল, নৈতিকতা ও ধর্মীয় পরিচয় পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে মূল্যবান। কোনো মুসলমান যদি পড়াশোনা, জীবিকা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে সেখানে যেতে চান, তবে ইসলামি ফিকহ ও ফতোয়ার আলোকে নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে তা বৈধ বা জায়েজ। প্রয়োজন ও উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণে এর বিধানেও ভিন্নতা আসে। ছোট-বড় সব কাজে ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলাই একজন খাঁটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য। একজন মুসলমানের ইমান, আমল, নৈতিকতা ও ধর্মীয় পরিচয় পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে মূল্যবান। শিক্ষার উদ্দেশ্যে গমন শিক্ষার ব্যাপারে ইসলাম সর্বদাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কোরআনের প্রথম আয়াত নাজিল হয়েছে পড়ার আদেশ দিয়ে। অমুসলিমদের কাছ থেকে উপকারী জ্ঞান গ্রহণ করার দৃষ্টান্ত হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বদরের ...

আশুরার মিথ বনাম বিশুদ্ধ ইতিহাস

  মহররম মাসের ১০ তারিখ বা আশুরা মুসলিম উম্মাহর কাছে এক বিশেষ তাৎপর্যের দিন। কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে তৈরি হয়েছে অনেক ভিত্তিহীন কাহিনি, যা লোকমুখে ছড়াতে ছড়াতে ধর্মীয় বিশ্বাসের রূপ নিয়েছে। বিশুদ্ধ হাদিস ও ইসলামি ফিকহের আলোকে এই কাহিনিগুলো পরীক্ষা করে দেখা দরকার। প্রচলিত কাহিনি: কতটুকু প্রমাণিত গ্রামীণ জনপদে ও প্রচলিত কিছু বইয়ে আশুরাকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘ তালিকা পাওয়া যায়—এই দিনে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে, আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়েছে, নুহ (আ.)-এর কিশতি জুদি পাহাড়ে ভিড়েছে, ইব্রাহিম (আ.) অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি পেয়েছেন, এমনকি এই দিনেই কেয়ামত হবে। বিশুদ্ধ হাদিস ও প্রামাণিক ফিকহের কিতাবে এই তালিকার অধিকাংশ ঘটনার সপক্ষে গ্রহণযোগ্য সূত্র নেই। এগুলোর বেশির ভাগই হয় ‘ইসরাইলি রেওয়াত’—অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিষ্টান লোকগাথা থেকে আসা বিবরণ, অথবা পরবর্তীকালে তৈরি হওয়া অতিরঞ্জিত কাহিনি। (মোল্লা আলি কারি, আল-আসরারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মাওযুআ, ১/২৯৩, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১৯৮৬) পবিত্র কোরআন যেকোনো তথ্যের উৎস যাচাইয়ের নির্দেশ দেয় (সুরা আল-হুজ...

মহররমকে কেন ‘আল্লাহর মাস’ বলা হয়

  বাঙালি মুসলিম সমাজে এই মাস এলেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে কারবালার ঘটনা ও আশুরার শোক। কিন্তু এই আবেগের আড়ালে প্রায়ই ঢাকা পড়ে যায় মহররমের মূল ফিকহি ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। কারবালার ঘটনার বহু আগে থেকেই ইসলামে এই মাসকে ‘শাহরুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর মাস’ বলা হয়েছে। ১২টি মাসের মধ্যে শুধু এই মাসটিই এই মর্যাদা পেল কেন—সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই এই লেখার উদ্দেশ্য। সম্মানিত চার মাস মহররমের ফিকহি মর্যাদার ভিত্তি পবিত্র কোরআনে। মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, আসমান ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই ১২টি মাসের মধ্যে চারটি মাসকে তিনি সম্মানিত করেছেন। (সুরা তাওবাহ, আয়াত: ৩৬) মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণে এই চার মাসের পরিচয় দিয়েছেন: জিলকদ, জিলহজ ও মহররম—এই তিনটি পরপর; আর চতুর্থটি হলো রজব। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৬৬২) ইসলামি পরিভাষায় এগুলোকে ‘আশহুরুল হুরুম’ বলা হয়। প্রাক-ইসলামি আরবেও এই মাসগুলোতে যুদ্ধ বন্ধ রাখার রীতি ছিল; ইসলাম এই পবিত্রতাকে সুসংহত করেছে।ফিকহবিদদের মতে, এই মাসগুলোতে ইবাদতের সওয়াব যেমন বেশি, পাপের ভার তেমনি বেশি গুরুতর। (ইমাম ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ৪/১৪৮, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্য...

তোমরা তো এতিমদের সম্মান করো না

  তোমরা তো এতিমদের সম্মান করো না ------------------------------- ---------------- আল্লাহ তায়ালা সূরা আল-ফাজরে ইরশাদ করেছেন: كَلَّا بَل لَّا تُكْرِمُونَ الْيَتِيمَ -- “কখনোই নয়, বরং তোমরা এতিমকে সম্মান করো না।” এখানে একটু গভীরভাবে লক্ষ করুন—আল্লাহ কিন্তু এতিমকে সাহায্য না করার জন্য তিরস্কার করেননি; তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, তোমরা এতিমকে সম্মান করো না। সবার আগে জেনে নেই, আগেকার দিনে আরবরা এতিম বলতে কাদের বুঝত? সে যুগের সমাজে এতিম মানে শুধু বাবা-মা হারা কোনো শিশু ছিল না। এতিম মানে ছিল এমন এক অসহায় মানুষ—যার কোনো সহায় নেই, কোনো আশ্রয় নেই। যার পাশে এসে দাঁড়ানোর মতো কোনো পরিবার নেই, অসুস্থ হলে কপালে হাত দিয়ে খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই, সে আজ খেয়েছে কিনা—তা জিজ্ঞেস করারও কেউ নেই। সমাজে যার কোনো অবলম্বন নেই, এককথায় সেই ছিল এতিম। ভয়ানক এক ব্যাধি: যার উপস্থিতি সম্পর্কেও আমরা সচেতন নই --------------------------------------------------- ----------------------------- দেখুন, সমাজে যারা আমাদের চেয়ে সামাজিক বা অর্থনৈতিক অবস্থানে ওপরে আছেন, তাদের সম্মান করা বেশ সহজ। আমরা খুব সহজেই আমাদের বস, শিক্ষক,...

অর্থনৈতিক উন্নয়নে নবীজির কার্যকর ১০ পদক্ষেপ

  অর্থনীতি একটি জাতির উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি। রাসুল (সা.) এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করত। বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বৈষম্য ও আর্থিক সংকটের পটভূমিতে তাঁর প্রদর্শিত নীতিমালা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। অর্থনৈতিক উন্নয়নে নবীজির গ্রহণ করা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো— ১. পরনির্ভরশীলতা পরিহার অর্থনৈতিক উন্নয়নে নবীজি (সা.) কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। মদিনায় হিজরতের পর মুহাজির সাহাবিদের একটি বড় অংশ নিঃস্ব অবস্থায় নতুন জীবনের মুখোমুখি হন। তাঁদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসন ছিল নবীজির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে তিনি মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে বাসস্থান, সম্পদ ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯৩৭) নবীজি ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করে মানুষকে নিজ প্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের শিক্ষা দিয়েছেন। অভাবগ্রস্ত এক সাহাবিকে তিনি কুঠার কিনে দিয়ে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ ও বিক্রির মাধ্যমে উপার্জনের পথ দেখিয়েছিলেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৬৪...

সাইবার পাপ থেকে বেঁচে থাকার ৭ উপায়

ছবি
  আজকাল এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়, ফেসবুকের একটা শেয়ার বা কমেন্ট কি দোজখে নিতে পারে? বা না জেনে কোনো তথ্য বা খবর ইন্টারনেটে শেয়ার করার ব্যাপারে পবিত্র কোরআনের বিধান কী? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করা, না জেনে শেয়ার দেওয়া কিংবা কাউকে সাইবার বুলিং করার মতো বিষয়গুলোকে আমরা খুব সাধারণ মনে করলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসলামের নীতিগুলো মেনে না চললে আমাদের অজান্তেই আমলনামা শূন্য হয়ে যেতে পারে। চলুন জেনে নিই ডিজিটাল এই যুগে সাইবার পাপ থেকে বেঁচে থাকার ৭টি কার্যকর উপায়। ১. তথ্যের সত্যতা যাচাই করা ইন্টারনেটে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিউজফিডে কোনো খবর দেখেই তা সত্য বলে বিশ্বাস করা বা শেয়ার দেওয়া ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সমাজে কোনো অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর আগে যেকোনো তথ্যের উৎস ও সত্যতা নিখুঁতভাবে যাচাই করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। (কুরতুবি, আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, ১৬/৩১১, দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ, কায়রো, ১৯৬৪) পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্ত...

কোরআনের বর্ণনায় মুমিনের ১০ গুণ

  পরকালের চিরস্থায়ী জীবনে মুমিনরাই হবে একমাত্র সফল, যাদের আল্লাহ–তাআলা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অতএব, ইহকাল ও পরকালে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করতে হলে মানুষকে অবশ্যই আদর্শ মুমিনের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। কোরআনের বিভিন্ন সুরায় ইমানদারদের এমন কিছু গুণের আলোচনা করা হয়েছে, যা মানবজীবনকে এক বরকতপূর্ণ জিন্দেগিতে রূপান্তর করে। ১. নামাজে বিনয় ও একাগ্রতা মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তারা যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন তাদের অন্তরে বিনয়, নম্রতা ও একাগ্রতা জাগ্রত হয়। আল্লাহ–তাআলা বলেন, “মুমিনরা সফল হয়েছে; যারা নিজেদের নামাজে বিনয়-নম্রতা অবলম্বন করে।” (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ১-২) নামাজে দাঁড়িয়ে নিজের ক্ষুদ্রতা ও আল্লাহর মহানুভবতা উপলব্ধি করাই খুশুর মূল কথা। মহানবী (সা.) বলেছেন, “কোনো মুসলিম যখন ফরজ নামাজের সময় উত্তমরূপে অজু করে বিনয় ও মনোযোগের সঙ্গে রুকু-সিজদা সম্পন্ন করে, তখন তা তার পূর্ববর্তী পাপের কাফফারা হয়ে যায়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৮; সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৪৫) ২. অনর্থক কথা ও কর্ম পরিহার ইমানদার ব্যক্তিরা অযথা-অনর্থক কথাবার্তা ও সময় নষ্টকারী কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের সর্বদা দূ...