পোস্টগুলি

কে নবীজির সবচেয়ে প্রিয়

  নবীজিকে ভালোবাসার প্রকৃত দাবি হলো প্রতিটি বিষয়ে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা। যেমন কোরআন তেলাওয়াত, হাদিস পাঠ, সুন্নাহর ওপর আমল, নবীজির সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভের আকাঙ্ক্ষা পোষণ এবং তাঁর সিরাতের আলোচনা করা। সাহাবিরা ছিলেন নবীজিকে ভালোবাসার সার্থক ও জীবন্ত নমুনা এবং তাঁর প্রত্যক্ষ সাক্ষী। তারা সেই অসম ভালোবাসার কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন। কা’ব ইবনে উজরা (রা.) বলেন, ‘মসজিদে নববিতে মিম্বরের সামনে আমরা বসা ছিলাম। মুহাজির, আনসার এবং বনু হাশিম (নবীবংশের) সাহাবিদের তিনটি পৃথক দল ছিল মজলিশে। কথা প্রসঙ্গে বিতর্ক সৃষ্টি হলো, আমাদের মধ্যে কারা নবীজির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও প্রিয়পাত্র।’ কা’ব বলেন, ‘আমরা বললাম, “আনসাররা। আমরা তাঁর প্রতি ইমান এনেছি, আনুগত্য করেছি, একসঙ্গে জিহাদ করেছি, শত্রুর মোকাবিলা করেছি। কাজেই আমরা নবীজির বেশি প্রিয় ও সর্বাপেক্ষা ঘনিষ্ঠ।” মুহাজির ভাইয়েরা বললেন, “আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করেছি, নিজ গোত্র ও স্ত্রী-সন্তান পরিত্যাগ করেছি। নবীজি যেখানে গিয়েছেন আমরাও গিয়েছি এবং তিনি যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, আমরাও করেছি। তাই আমরা তাঁর ঘনিষ্ঠ ও প্রিয়পাত্র।”বনু হাশিমের গর্বভরে বল...

তওবা কবুলের ৪ শর্ত

  পাপ মৌলিকভাবে দুই প্রকার। এক. আল্লাহর হক–সম্পর্কিত গুনাহ, যেমন নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি। দুই. বান্দার হক–সম্পর্কিত গুনাহ, যেমন কারও সম্পদ আত্মসাৎ করা, গিবত করা, অপবাদ দেওয়া ইত্যাদি। পাপ যদি আল্লাহর হক–সংক্রান্ত হয় এবং তাতে মানুষের হকের সম্পৃক্ততা না থাকে, তবে এ ক্ষেত্রে তওবা কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। এক. কাজটি ছেড়ে দেওয়া, দুই. তার জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং তিন. ভবিষ্যতে কখনো না করার দৃঢ় সংকল্প করা। এই তিন শর্তের কোনো একটি পূরণ না হলে তওবা সঠিক হয় না। আর বান্দার হক–সংক্রান্ত পাপ হলে তা থেকে তওবা করার জন্য চারটি শর্ত। ওপরের তিনটি আর চতুর্থ শর্ত হলো, যার হক নষ্ট করা হয়েছে তার পক্ষ থেকে দায়মুক্ত হওয়া। (ইমাম নববি, কিতাবুত তওবা, শরহে মুসলিম, ১৭/৫৯) ১. পাপের অভ্যাস ত্যাগ করা যে পাপ থেকে তওবা করা হবে, প্রথমে সে কাজটি ছাড়তে হবে। যেমন নামাজ না পড়ার পাপ থেকে তওবা করতে হলে প্রথমে নামাজ পড়া শুরু করে দিতে হবে। পাপ না ছেড়ে তওবা করলে সেই তওবার কোনো সার্থকতা নেই। পাপ করতে থাকলাম আবার তওবাও করলাম, এটা একটা তামাশা। বরং এটাও এক গুরুতর পাপ। কেননা তওবা করা মানে আল্লাহর দিকে ফিরে যাও...

জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য নবীজির দেখানো ১০ উপায়

  সাফল্যের অন্যতম প্রধান সোপান হলো ক্রমাগত শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন। জ্ঞানহীন মানুষ অন্ধের মতো, যে গন্তব্যে পৌঁছানোর সঠিক পথ খুঁজে পায় না। মহানবী (সা.)-এর কাছে আসা প্রথম ওহি ছিল—‘পড়ো’। তিনি শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই নয়, বরং জাগতিক জ্ঞান, ভাষা এবং কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে তাঁর বলা ১০টি উপায় তুলে ধরা হলো: ১. জ্ঞানার্জন বাধ্যতামূলক মনে করা সাফল্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক দায়িত্ব। রাসুল (সা.) বলেছেন, “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ (অবশ্যপালনীয়)।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৪) ২. আজীবন শিক্ষার মানসিকতা শেখার কোনো বয়স বা সীমা নেই। নবীজি (সা.) দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অন্বেষণের প্রেরণা দিয়েছেন এবং উপকারী জ্ঞানের জন্য সব সময় দোয়া করতেন। রাসুল (সা.) বলতেন, “হে আল্লাহ! আমাকে এমন জ্ঞান দিন, যা আমার উপকারে আসবে এবং আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৫১) ৩. ভাষার দক্ষতা অর্জন সাফল্যের একটি বড় মাধ্যম হলো যোগাযোগ। নবীজি (সা.) তাঁর সাহ...

যেমন ছিল আলী ও ফাতেমার সংসার

  নবুয়তপূর্ব সংকটকালে এবং ইসলামের শৈশবকালীন কঠিন দিনগুলোতে ফাতেমা (রা.) মক্কার পবিত্র পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলী (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন আমাদের জন্য উত্তম এক আদর্শ। অতি সামান্য আসবাব আর অভাব-অনটনের মধ্যেও তাঁরা আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছিলেন এবং নবীজির সান্নিধ্যে থেকে একটি আদর্শ পরিবার গঠন করেছিলেন। বিয়ে যেভাবে সম্পন্ন মদিনায় হিজরতের পর নবীকন্যা ফাতেমার জন্য প্রস্তাব আসতে থাকে। আবু বকর (রা.) প্রথমে প্রস্তাব দেন, এরপর ওমর (রা.)। নবীজি তাঁদের প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে নীরব থাকেন যে দেখা যাক আল্লাহর পক্ষ থেকে কী ফয়সালা আসে। (বায়হাকি, দালায়িলুন নুবুওয়াহ, ৩/১৬০) আলী (রা.) বলেছেন, ফাতেমার বিয়ের প্রস্তাব আসছে শুনে তিনি রাসুলের দরবারে গিয়ে লজ্জায় নতমুখে চুপচাপ বসে থাকেন। রাসুল (সা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আলী, ফাতেমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছ?’ তিনি সম্মতি জানালে নবীজি তাঁর কাছে দেনমোহর সম্পর্কে জানতে চান। আলীর কাছে একটি লৌহবর্ম আর একটি ঘোড়া ছিল। ঘোড়াটি যুদ্ধের জন্য আবশ্যক রেখে নবীজি লৌহবর্মটি মোহরের বিনিময়ে দিতে বলেন। (ইব্রাহিম আল-আলী, সহিহ আস-সিরাতুন নাবাব...

বিপদে মুমিনের প্রথম করণীয় কী

  মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা ও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির এক দীর্ঘ পথচলা। এই পথচলায় এমন অনেক মুহূর্ত আসে, যখন কষ্টে হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। কিছু দুঃখ আছে যা সবাইকে বলা যায় না; আবার কিছু ব্যথা এমন, যা ভাষায় প্রকাশ করাও কঠিন। এমন সময় মানুষ এমন একজনকে খোঁজে, যার কাছে নির্ভয়ে মনের সব কথা বলা যায়। ইসলাম শেখায়, সেই আশ্রয় প্রথমে মানুষের কাছে নয়; আল্লাহর কাছে খুঁজতে হবে। আল্লাহর কাছে দুঃখ নিবেদন পবিত্র কোরআনে ইয়াকুব (আ.)-এর জীবনে আমরা এর অনন্য উদাহরণ দেখি। প্রিয় সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার গভীর বেদনায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার দুঃখ ও বেদনার কথা শুধু আল্লাহর কাছেই পেশ করছি।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৬) এই আয়াত আমাদের শেখায়, বিপদ ও সংকটের সময় একজন মুমিনের প্রথম কাজ হওয়া উচিত আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। কারণ, মানুষের সহানুভূতি সীমিত হলেও আল্লাহর রহমত সীমাহীন। অভিযোগ নয়, প্রার্থনা দুঃখের সময় অনেক মানুষ অভিযোগে ডুবে যায়। কেউ ভাগ্যকে দোষারোপ করে, কেউ পরিস্থিতিকে, আবার কেউ মানুষকে। কিন্তু অভিযোগ হৃদয়ের ভার কমায় না; বরং হতাশাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ইসলাম অভিযোগের পরিবর্তে প্রার্থনার ...

ইসলামে ধনসম্পদকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়

  ইসলামের দৃষ্টিতে ধনসম্পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো প্রশংসনীয় জিনিস নয়, আবার তা সহজাতভাবে কোনো নিন্দনীয় বস্তুও নয়। সম্পদ মূলত একটি নিরপেক্ষ মাধ্যম বা উসিলা। এর নিজস্ব কোনো নৈতিক বা চারিত্রিক গুণ নেই; বরং এর ভালো–মন্দ বা গুণ ও দোষ নির্ভর করে সম্পূর্ণভাবে এর ব্যবহারকারী ও ব্যবহারের উদ্দেশ্যের ওপর। বিষয়টি একটি ধারালো তরবারির সঙ্গে তুলনা করা যায়। একটি তলোয়ার নিজের সত্তায় ভালোও নয়, আবার মন্দও নয়। এটিকে যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ন্যায়ের পক্ষে বা আত্মরক্ষার্থে ব্যবহার করা হয়, তখন তা প্রশংসনীয়। আবার এই একই তলোয়ার যখন কোনো নিরপরাধ মানুষের ওপর জুলুম করার জন্য ব্যবহৃত হয়, তখন তা চরম নিন্দনীয়। যে ব্যক্তি তার বৈধ মালিকানাধীন সম্পদকে এভাবে সঠিক খাতে ব্যবহার করে, সে মূলত একজন সৎ মানুষ বা সালেহ ব্যক্তি সৎ মানুষের জন্য সৎ সম্পদ সম্পদের এই নিরপেক্ষতা একটি হাদিসে চমৎকারভাবে এসেছে। আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, ‘নবীজি আমার কাছে একজন দূত পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন আমি আমার পোশাক ও অস্ত্র পরিধান করে তাঁর কাছে উপস্থিত হই। আমি নির্দেশ মোতাবেক তাঁর দরবারে গেলাম। তখন তিনি অজু করছিলেন। তিনি আমার দিকে দৃষ্টি তুললেন, তা...

সভ্যতা রক্ষা ও বিপর্যয় রোধে কোরআনের অনন্য দর্শন

  প্রাক-ইসলামি আমলে এমন অনেক জাতি ছিল, যারা শক্তি, প্রাচুর্য ও অহমিকায় মত্ত ছিল। তারা দিগ্বিদিকে বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে, রাজত্বের সীমানা বিস্তার করেছে এবং অন্য জাতির ঐশ্বর্য-সম্পদ কেড়ে নিয়েছে। তাদের অনুসৃত পদ্ধতি ছিল বর্বর ও পাশবিক। কোনো ন্যায়নীতির তোয়াক্কা তারা করত না। বিভিন্ন শহর দখল করার সময় তারা নাগরিক স্থাপত্য ও সভ্যতা অবলীলায় ধ্বংস করে দিত। মানুষের ঘরবাড়ি লুণ্ঠন করত এবং স্থানীয়দের দাসে পরিণত করত। বিজয়ের পর তারা এমন প্রশাসক নিযুক্ত করত, যারা সাধারণ মানুষের ওপর অমানবিক অত্যাচার চালিয়ে যেত। ইতিহাসজুড়ে বিজয়ী শক্তিগুলোর চরিত্র ছিল এমনই। প্রাচীন শেবা নগরের রানি বিলকিস এই বাস্তবতাই ফুটিয়ে তুলেছিলেন, যখন তাঁর কাছে সোলাইমান (আ.)-এর চিঠি পৌঁছেছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘রাজা-বাদশাহরা যখন কোনো জনপদে প্রবেশ করে, তখন তা বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অপদস্থ করে।’ (সুরা নামল, আয়াত: ৩৪) ইসলাম কঠোরভাবে দুর্নীতি ও বিপর্যয় সৃষ্টির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। ইসলাম তার অনুসারীদের অন্তর থেকে এই ঘৃণ্য ব্যাধি আমূলে উপড়ে ফেলেছে। প্রতি যুগেই বিভিন্ন জাতির হাতে সংঘটিত এমন নৃশংসতা ও বর্বরতার গল...