পোস্টগুলি

যেভাবে রচিত হয় হিজরতের পটভূমি

  পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন। আর সদয় হোন আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি।’ (সুরা শুআরা, আয়াত: ২১৪-২১৫) এক. নবুয়তপ্রাপ্তির পর দীর্ঘ তিনটি বছর কেটে গিয়েছিল। আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী নবীজি (সা.) এই তিন বছর গোপনে ইসলামের দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। সতর্কতার সঙ্গে তিনি এ আহ্বান কেবল তাঁর পরিচিত বন্ধুমহলেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল সব ধরনের বাহ্যিক প্রকাশ। আল্লাহ–তাআলার কোনো নির্দেশই যে প্রজ্ঞাশূন্য নয়, এর একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ ছিল ইসলামের প্রাথমিক দাওয়াতের এই স্তরবিন্যাস। মক্কার তৎকালীন কট্টর পৌত্তলিক সমাজে সূচনাতেই প্রকাশ্যে তাওহিদের দাওয়াত দেওয়াটা ইসলাম এবং নবীজি (সা.)—কারও জন্যই কল্যাণকর হতো না। অভিজাত, সম্ভ্রান্ত এবং সমাজের তথাকথিত নিচু শ্রেণি মিলিয়ে প্রথম তিন বছরে নবীজির আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন ৪০ জন মানুষ। মক্কার লোকেরা যে নবীজিকে সহজে রাসুল হিসেবে স্বীকার করে নেবে না, তা আল্লাহর কাছে অস্পষ্ট ছিল না। মানুষের মানসিক পরিচর্যা ও ক্ষেত্র প্রস্তুত করার আগেই যদি তাদের দীর্ঘদিনের পৌত্তলিকতা ছাড়ার আহ্বান জানানো হতো, তবে হিতে বিপরীত হ...

অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করার ১০ উপায়

  আল্লাহর ভয় একজন মুমিনের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এটি এমন একটি আধ্যাত্মিক শক্তি, যা মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল থাকতে সাহায্য করে। ইসলামে একে বলা হয় ‘তাকওয়া’। কোরআন ও হাদিসে বারবার তাকওয়া অর্জনের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। অন্তরে আল্লাহভীতি জাগ্রত করার জন্য ১০ উপায় বিশেষভাবে কার্যকর। ১. আল্লাহর পরিচয় জানা আল্লাহকে যত বেশি জানা যায়, তাঁর প্রতি ভয়, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তত বৃদ্ধি পায়। আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, জ্ঞান, ন্যায়বিচার ও রহমতের পরিচয় মানুষকে তাঁর সামনে বিনয়ী হতে সাহায্য করে। আল্লাহ-তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে তারাই তাঁকে বেশি ভয় করে, যারা জ্ঞানী। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, অতি ক্ষমাশীল।’ (সুরা ফাতির, আয়াত: ২৮) ২. কোরআন তেলাওয়াত পবিত্র কোরআন মানুষের অন্তরকে জাগ্রত করে এবং আখিরাতের ব্যাপারে সচেতন করে তোলে। এর উপদেশ ও সতর্কবাণী হৃদয়ে আল্লাহভীতি সঞ্চার করে। আল্লাহ-তাআলা বলেন, ‘প্রকৃত মুমিন তো তারাই, যাদের সামনে আল্লাহর নাম উচ্চারিত হলে তাদের হৃদয় ভয়ে ও শ্রদ্ধায় প্রকম্পিত হয়, আর যখন তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, ত...

মধ্যপন্থা: রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত বাজেটে কোরআনের মৌলিক দর্শন

  জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ ঘাটতি থাকার অন্যতম কারণ অনুৎপাদনশীল খাতে অতিরিক্ত ব্যয়, সরকারি ক্রয়ে অস্বচ্ছতা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অর্থের অপচয়। অর্থনীতির এই টানাপোড়েনের প্রভাব যখন ব্যক্তি জীবনে এসে পড়ে, তখন সাধারণ নাগরিককেও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত—উভয় পর্যায়ের বাজেট ব্যবস্থাপনায় অপচয়, বিলাসিতা রোধ এবং মিতব্যয়িতা অবলম্বনের ব্যাপারে ইসলামে নির্দেশনা রয়েছে। অপব্যয়ে কোরআনের সতর্কতা ইসলামি অর্থনীতিতে সম্পদকে স্রেফ ব্যক্তিমালিকানাধীন বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি মনে করা হয় না; বরং একে আল্লাহর দেওয়া একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই খরচের ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বাধীন নয়, বরং প্রতিটি পয়সা ব্যয়ে মিতব্যয়িতা ও যুক্তিসংগত কারণ থাকার বিধান দেওয়া হয়েছে। ইসলাম মনে করে, জনগণের করের টাকায় গঠিত রাষ্ট্রীয় তহবিল বা রাজকোষের একটি পয়সাও অহেতুক বিলাসিতায় খরচ করার অধিকার শাসকের নেই। ইসলামে সম্পদ অনর্থক নষ্ট করা বা সীমালঙ্ঘন করে খরচ করা অপরাধ। কোরআনে অপচয়কারীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, “তোমরা আহার করো ও পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদ...

ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বরকত লাভের ৫ উপায়

  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দৈনন্দিন জীবনকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে যে আমাদের আধ্যাত্মিক উৎপাদনশীলতা (স্পিরিচুয়াল প্রোডাক্টিভিটি) ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দিনের শুরুটা হচ্ছে লক্ষ্যহীন অভ্যাসের মধ্য দিয়ে। ডিজিটাল আসক্তি থেকে বাঁচতে অনেকে স্মার্টফোন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেন। তবে অন্য একটি দল মনে করেন, পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, যা আমাদের জীবনে বরকত বয়ে আনবে এবং এর নেতিবাচক ক্ষতি থেকে আমাদের রক্ষা করবে। সেক্ষেত্রে ৫টি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ দারুণ কার্যকর হতে পারে: আপনি নিজে যা ভালো কিছু শিখছেন, তা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন, যা আপনার জন্য ‘সদকায়ে জারিয়া’ হিসেবে গণ্য হবে। ১. মুঠোফোনকে জ্ঞানার্জনের মাধ্যম বানান একটা সময় ছিল যখন বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করা ছিল কঠিন; মানুষকে এক একটি হাদিস বা মাসআলা জানার জন্য মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হতো, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হতো। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন তা হাতের মুঠোয়। এই সুযোগকে আমাদের কাজে লাগানো উচিত। উদ্দেশ্যহীনভাবে সময় নষ্ট না করে ফোনটিকে আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়ার মাধ্যম হি...

ধনীর সম্পদে গরিবের কতটা অধিকার

  পবিত্র কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, ধনীদের সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতার এই ঐশী বিধানকে উপেক্ষা করে যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী চরম আত্মকেন্দ্রিকতা ও কায়েমি স্বার্থ চরিতার্থ করতে উদ্‌গ্রীব হয়, তখন তাদের ওপর অনিবার্যভাবে সামাজিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-কালামে তেমনই একটি ঐতিহাসিক ও শিক্ষণীয় বিবরণ পাওয়া যায়। আল্লাহর নবী হজরত ইসা (আ.)-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়ার কিছুদিন পর ইয়েমেনের সানা নগরীর পাশে ঘটে যাওয়া ‘বাগানওয়ালাদের’ এই ঘটনা প্রাচীন আরবদের মধ্যেও বেশ প্রসিদ্ধ ছিল। এমনকি ইসলাম আসার পর কোরআনের চিরন্তন বাণীর মাধ্যমে আজও এই ঘটনাটি বিশ্ববাসীর কাছে জীবন্ত হয়ে আছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এদের পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদের; যখন তারা কসম করেছিল যে অবশ্যই তারা ভোরবেলা বাগানের ফল আহরণ করবে। আর তারা ইনশা আল্লাহ বলেনি। অতঃপর তোমার রবের পক্ষ থেকে এক বিপর্যয় বাগানের ওপর দিয়ে বয়ে গেল, যখন তারা ঘুমন্ত ছিল। ফলে তা পুড়ে কালো ছাইয়ে পরিণত হলো।’ (সুরা আল-কালাম, আয়াত: ১৭-৩১) পিতার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলের...

কর ফাঁকি দেওয়া কি ইসলামে বৈধ

  ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন, এমন অনেকের মধ্যে একটি অস্পষ্ট ধারণা কাজ করে যে ইসলামে যেহেতু ‘জাকাত’ নামক একটি বাধ্যতামূলক আর্থিক ইবাদত রয়েছে, তাই রাষ্ট্রকে আলাদাভাবে কর বা ট্যাক্স দেওয়া জরুরি নয়, কিংবা তা ফাঁকি দিলে কোনো পাপ হবে না। এই অস্পষ্টতা দূর করা, রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক চুক্তির প্রতি ইসলামের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা জানা থাকা ভালো। নাগরিক চুক্তি ও ইসলামের ‘অঙ্গীকার রক্ষা’ রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনুযায়ী, একজন নাগরিক ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক মূলত একটি সামাজিক চুক্তি। নাগরিক রাষ্ট্রকে কর দেবে এবং রাষ্ট্র তার বিনিময়ে নাগরিকের জানমাল, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা দেবে। চুক্তি একটি অঙ্গীকার। ইসলাম এই অঙ্গীকার রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। আইনসম্মতভাবে ধার্যকৃত কর ফাঁকি দেওয়া প্রকারান্তরে সেই নাগরিক চুক্তি ভঙ্গ করার শামিল, যা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি বড় নৈতিক অপরাধ। ইসলামি আইনশাস্ত্রের (ফিকহ) দৃষ্টিতে, একজন নাগরিক যখন কোনো দেশের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা নাগরিক সুবিধা গ্রহণ করে স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করছেন, তখন তিনি পরোক্ষভাবে সেই দেশের প্রচলিত আইন ও করের ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন। প...

তওবার অনন্য ৫ সুফল

  মানুষের ভুলের পথ যতই দীর্ঘ হোক না কেন, তার জন্য ফিরে আসার দরজা সব সময় খোলা। আর সেই ফিরে আসার নামই তওবা। তওবা শুধু পাপ মাফের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের আত্মশুদ্ধি, চরিত্র গঠন এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য উপায়। তাই একজন মুমিনের উচিত ভুল বা পাপ হয়ে গেলে দ্রুত আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং আন্তরিকভাবে তওবা করা। ১. আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হয় মানুষের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো তার রবের ভালোবাসা অর্জন করা। আর তওবা সেই ভালোবাসা লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্রতা অর্জন করে তাদেরও ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২) পাপ মানুষের হৃদয়কে কলুষিত করে এবং তাকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। কিন্তু তওবা সেই কলুষতা দূর করার এক মহৌষধ। অনেকেই মনে করেন, পাপ মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে চিরতরে দূরে সরিয়ে দেয়। কিন্তু এই আয়াত আমাদের শেখায়, আন্তরিক অনুতাপ ও তওবার মাধ্যমে একজন পাপগারও আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হতে পারেন। এটি আল্লাহর অসীম দয়া ও করুণার এক অপূর্ব নিদর্শন ২. পরকালীন সফলতা ও বেহেশত লাভ দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখিরা...