পোস্টগুলি

ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়ায় ইসলামের অভিজ্ঞতা কী

  কারও ভালো কাজের আন্তরিক প্রশংসা করা কিংবা একটি সুন্দর উৎসাহব্যঞ্জক বাক্য বলাকে পার্থিব দৃষ্টিতে মামুলি বিষয় মনে হতে পারে, কিন্তু মানব মনস্তত্ত্বে এটি এক অফুরন্ত শক্তির উৎস।  অনুপ্রেরণাদায়ী ছোট ছোট ইতিবাচক শব্দ একজন মানুষের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলে, আত্মবিশ্বাসকে শাণিত করে এবং কঠিন সংকটেও ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। বিপরীতে, নিরুৎসাহিত করা ও নেতিবাচক মন্তব্য মানুষের ভেতরের অমিত সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেয়। ইসলাম মানবীয় অনুভূতির এক অনন্য পাঠশালা। ইসলামি তারবিয়ত ও সংস্কৃতির পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে মানুষকে ইতিবাচকভাবে অনুপ্রাণিত করা, ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রতিভাকে পরিচর্যা করার উজ্জ্বল সব দৃষ্টান্ত। রণক্ষেত্রে সাহসিকতার স্বীকৃতি ইসলামের ইতিহাসে ভালো কাজের জনসমক্ষে প্রশংসা ও মূল্যায়ন করার চমৎকার নজির স্থাপন করেছেন রাসুল (সা.) নিজেই। ‘জি কারাদ’ যুদ্ধের (লাহাব অভিযান) দিনে সাহাবি আবু কাতাদাহ (রা.) এবং সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.) মুশরিকদের বিরুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করেন। যুদ্ধ শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সামনে তাঁদের বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে ঘোষণা করেন, ‘আ...

ইসলামের ইতিহাসে প্রতিবন্ধীদের বিস্ময়কর অবস্থান

  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো শারীরিক, ইন্দ্রিয়গত বা মানসিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের কথা জোরেশোরে বলা হচ্ছে। ইসলাম অবশ্য সূচনালগ্ন থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে মানুষের অক্ষমতা হিসেবে দেখেনি; বরং একে এক স্বাভাবিক মানবিক বৈচিত্র্য এবং সমাজের অংশীদারত্বের জায়গা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মানুষের শারীরিক গঠন, মেধা কিংবা সক্ষমতার পার্থক্যকে কোরআন কোনো অপূর্ণতা হিসেবে দেখে না; বরং একে আল্লাহর গভীর প্রজ্ঞাময় সৃষ্টির বৈচিত্র্য হিসেবে বর্ণনা করে। সৃষ্টিজগতের এই বৈচিত্র্য কোনো বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয় না, বরং সমাজে পারস্পরিক নির্ভরতা ও শ্রদ্ধার পরিবেশ তৈরি করে। ইসলামি আইনের প্রধান একটি দর্শন হলো ‘সাধ্যের বাইরে কারও ওপর বোঝা না চাপানো’। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য নামাজ, রোজা কিংবা অজুর ক্ষেত্রে বহু সহজ নিয়ম রাখা হয়েছে। ইসলামের সহজ বিধান ইসলামের শারীরিক দুর্বলতা কোনো অপরাধ বা সামাজিক অসম্মানের কারণ নয়। কোরআনে বলা হয়েছে, “অন্ধের কোনো অপরাধ ...

আল্লাহর ভালোবাসা লাভের ৬ পথ

  মানবজীবনের চূড়ান্ত সার্থকতা ও পরম পাওয়া হলো বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জন করা। প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ের সুপ্ত আকুলতা থাকে—কীভাবে তিনি তাঁর রবের প্রিয়পাত্র হবেন, কীভাবে লাভ করবেন তাঁর অসীম রহমত ও সান্নিধ্য। পবিত্র কোরআন কেবল নির্দেশনার কিতাব নয়; বরং এটি এমন এক জীবন্ত আলোকবর্তিকা, যেখানে আল্লাহ নিজেই সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন বান্দার কোন কোন গুণ ও আচরণ তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। পবিত্র কোরআনের আলোকে আল্লাহর খাঁটি ভালোবাসা ও নৈকট্য লাভের ছয়টি মৌলিক গুণ ও আমল আলোচনা করা হলো। যেখানে পাপকর্মে লিপ্ত হওয়ার সব সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শুধু আল্লাহর ভয়ে নিজেকে সংযত রাখা এবং প্রবৃত্তির চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়াই হলো খাঁটি মুত্তাকির বৈশিষ্ট্য। ১. সার্বক্ষণিক খোদাভীতি অর্জন আল্লাহর ভালোবাসা লাভের প্রধানতম সোপান হলো অন্তরে আল্লাহভীতি জাগ্রত রাখা। তাকওয়া কেবল নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের নাম নয়; বরং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি ও নজরদারির অনুভূতি নিয়ে চলাই হলো প্রকৃত তাকওয়া। আল্লাহ–তাআলা ঘোষণা করেন, ‘হ্যাঁ, যে ব্যক্তি তার অঙ্গী...

হেদায়েতের পথে অবিচল থাকার ৩ উপায়

  হেদায়েত আল্লাহ–তাআলার এক বিশেষ দান, যা অর্জনের জন্য মানুষকে আত্মিক ও বাস্তব প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। যে অন্তর সততা, খোদাভীতি ও বিনয় নিয়ে কোরআনের মুখোমুখি হয়, শুধু সে অন্তরই কোরআনের আলোয় উদ্ভাসিত হতে পারে। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘হে মানবকুল, তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরের রোগব্যাধির নিরাময়, আর মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫৭) হেদায়েত লাভের সহায়ক বিষয় কোরআনের আলোয় জীবন আলোকিত করতে হলে হৃদয়ের জমিনকে উপযুক্ত ও উর্বর করতে হবে। হেদায়েতের এই মহাসমুদ্র থেকে শুধু তারাই উপকৃত হতে পারে, যাদের নিরহংকার অন্তর আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে ব্যাকুল থাকে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার আছে অনুভাবুক অন্তর কিংবা যে শ্রবণ করে পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে।’ (সুরা ক্বাফ, আয়াত: ৩৭) হেদায়েত লাভের সহায়ক অনেক বিষয় রয়েছে। ১. খোদাভীতি: কোরআনের হেদায়েত লাভের প্রধান ও প্রথম শর্ত হলো তাকওয়া বা অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত রাখা। তাকওয়া মানুষের হেদায়েত গ্রহণের মানসিক সক্ষমতা তৈরি করে। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তার জন্য হেদায়েতের দরজা উন্মুক্ত হয়ে...

মহানবী (সা.) যেভাবে সুসংবাদ দিতেন

  চরম সংকটের মুহূর্তে এক ফোঁটা শীতল পানির মতো যদি কেউ এসে গভীর মমতায় বলে, ‘হতাশ হোয়ো না, সুসংবাদ গ্রহণ করো’—তবে ভেঙে পড়া হৃদয়ও নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস পায়। আরবিতে এই আশ্বাসবাণীকে বলা হয় ‘আবশির’ বা ‘সুসংবাদ নাও’। নবীজি এসেছিলেন মানুষের জন্য বুকভরা আশা ও সুসংবাদের বার্তা নিয়ে। আল্লাহ–তাআলা তাই তাঁর পরিচয় তুলে ধরে বলেছেন, “হে নবী, আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে; আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে। আর আপনি বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দিন যে তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে বিশাল অনুগ্রহ।” (সুরা আহজাব, আয়াত: ৪৫–৪৭) ইসলামের শুরুর দিনগুলোতে মক্কায় যখন একদল নিরীহ মানুষ বিশ্বাস ধরে রাখার অপরাধে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন, তখন রাসুল (সা.) তাদের তাদের এমন এক সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, যা তখনকার বাস্তবতায় ছিল অকল্পনীয়। সূচনালগ্নে আশার বাণী ইসলামের শুরুর দিনগুলোতে মক্কায় যখন একদল নিরীহ মানুষ বিশ্বাস ধরে রাখার অপরাধে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন, তখন রাসুল (সা.) তাদের তাদের এমন এক সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, যা তখন...

এক তাওরাতের পণ্ডিত যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন

  নবুয়তের চতুর্দশ বর্ষ। মক্কার কোরাইশদের দীর্ঘ ১৩ বছরের অমানুষিক জুলুম ও নির্যাতন পেরিয়ে রাসুল (সা.) মাত্র পদার্পণ করেছেন মদিনার মাটিতে। চারদিকে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ, বাতাসে আনন্দের গুঞ্জন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত তাশরিফ এনেছেন এই জনপদে। মদিনার প্রতিটি অলিগলি থেকে মানুষ ছুটে আসছে একনজর দেখার জন্য—কে সেই অনন্য ব্যক্তিত্ব, যাঁর আহ্বানে কেঁপে উঠেছে গোটা আরব জাহানের জাহেলিয়াত। তাওরাতের পণ্ডিত মদিনায় নবীজির আগমনের এই বার্তা পৌঁছে গেল তৎকালীন বনু কাইনুকা গোত্রের প্রধান ইহুদি ধর্মীয় পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালামের কাছে। তিনি ছিলেন তাওরাত ও হিব্রুধর্মীয় সাহিত্যে গভীর জ্ঞানের অধিকারী। তাওরাত গ্রন্থে আখেরি জামানার নবীর যে অনন্য বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির বিশদ বর্ণনা রয়েছে, মক্কা থেকে আসা এই নবীর মধ্যে তা বিদ্যমান আছে কি না—তা যাচাইয়ের এক তীব্র ব্যাকুলতা অনুভব করলেন তিনি। সত্য অনুসন্ধানের অদম্য টানে তিনি কালবিলম্ব না করে সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মজলিসে হাজির হলেন। প্রথম দর্শনে হৃদয়ের অকাট্য সাক্ষ্য নবীজি (সা.) তখন সমবেত জনতার উদ্দেশে নসিহত করছিলেন। ভিড় ঠেলে সামন...

নামাজের সেজদায় কি ভিন্ন ভাষায় দোয়া করা যায়

  নামাজের প্রতিটি মুহূর্তই বান্দার জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ। তবে সেজদার মুহূর্তটির মর্যাদা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ সময় বান্দা নিজের সর্বোচ্চ বিনয় প্রকাশ করে মহান রবের সামনে নত হয়। এটি আল্লাহর কাছে দোয়া করার সর্বোত্তম সময়। রাসুল (সা.) সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বান্দা সেজদারত অবস্থায় তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। অতএব, তোমরা সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮২) অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, “আর সেজদার সময় তোমরা বেশি বেশি দোয়া করার চেষ্টা করো, কারণ এ সময় তোমাদের দোয়া কবুল হওয়ার অধিক সম্ভাবনা রয়েছে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৭৯) নবীজি যে দোয়া করতেন সেজদারত অবস্থায় রাসুলের দোয়ার বহু বর্ণনা হাদিসের গ্রন্থগুলোতে রয়েছে। তিনি সেজদায় দোয়া করতেন, “আল্লাহুম্মাগফির লি জামবি কুল্লাহু, দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু।” অর্থ: “হে আল্লাহ! আমার ছোট-বড়, প্রথম ও শেষ সব গুনাহ ক্ষমা করে দিন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮৩) লক্ষণীয় বিষয় হলো, নবীজির এই দোয়াগুলো সবই আরবি ভাষায় বর্ণিত এবং নির্দিষ্ট কাঠামোয় গঠিত।...