পোস্টগুলি

প্রার্থনার সময় মানব মস্তিষ্কে কী পরিবর্তন ঘটে

  আধুনিক নিউরোসায়েন্স বা স্নায়ুবিজ্ঞান এক যুগান্তকারী সত্য উন্মোচন করেছে। ব্রেন স্ক্যানের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে প্রার্থনার সময় মানুষের মস্তিষ্কে যে গভীর রূপান্তর ঘটে, তা কোনো অলীক ভ্রম নয়; বরং এটি সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ ও শারীরিক বাস্তবতা। বিশেষ করে নামাজ বা প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকাকালে মানব মস্তিষ্ক কীভাবে স্রষ্টার সঙ্গে এক জীবন্ত সংলাপে যুক্ত হয়, তা আধুনিক গবেষণায় বিশদভাবে প্রমাণিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটি হসপিটালের স্নায়ুবিজ্ঞানী ডা. অ্যান্ড্রু নিউবার্গ দীর্ঘকাল ধরে ধর্মপ্রাণ মানুষ ও সংশয়বাদীদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি ক্ষতিকর প্রভাবহীন বিশেষ তেজস্ক্রিয় উপাদান প্রয়োগ করে ‘স্পেক্ট’ (এসপিইসিটি–সিঙ্গেল-ফোটন এমিশন কম্পিউটেড টমোগ্রাফি) স্ক্যান প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসলিম ইমাম, ক্যাথলিক নান, তিব্বতি সন্ন্যাসী এবং ঈশ্বরের অস্তিত্বে অবিশ্বাসী ধ্যানমগ্ন ব্যক্তিদের মস্তিষ্ক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এই গবেষণায় মস্তিষ্কের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ—‘ফ্রন্টাল লোব’ এবং ‘প্যারাইটাল লোব’-এ অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। যুক্তরাষ্...

প্রকৃতি থেকে মানবজীবনের ৩ শিক্ষা

  কোরআন প্রাণপ্রকৃতির উপমা দিয়ে মানুষকে শুধু আল্লাহর কুদরত চিনতে শেখায়নি; বরং নিজের জীবন নিয়েও ভাবতে শিখিয়েছে, আমাদের চারপাশের জগৎকে নতুন করে দেখতে শিখিয়েছে। ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি পাথরের ওপরে আলগা মাটি, উঁচু ভূমির বাগান, একই শ্রেণির গাছে ফলনের ভিন্নতা কিংবা বাতাসে উড়ে যাওয়া ছাইয়ের উপমা দিয়ে কোরআন কী গভীর বার্তা দিয়েছে। এখন আমরা দেখব, মৌমাছির জীবনব্যবস্থা, ফসলের বেড়ে ওঠা ও শুকিয়ে যাওয়া এবং খাদের কিনারার উপমার মধ্য দিয়ে কোরআন মানুষকে কী শিক্ষা দেয়। ৫. মৌমাছির জীবনব্যবস্থা থেকে শিক্ষা আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে আদেশ করলেন—তুমি পাহাড়ে, গাছে এবং মানুষ যে মাচান তৈরি করে তাতে ঘর বানাও। অতঃপর প্রত্যেক ফল থেকে আহার করো এবং তোমার প্রতিপালকের সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করো। এর পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় বের হয়। এতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল মানুষের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা নাহল, আয়াত ৬৮–৬৯) মৌমাছির জীবনব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে আল্লাহ–তাআলা আমাদের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইশারা দিয়েছেন। যেমন: প্রকৃতির ক্ষুদ্রতম প্রাণীর মধ্যেও আল্লাহ-তাআলা যে নিখুঁত ব্যবস...

মদিনাকে কেন ‘তাইয়িবা’ বলা হয়

  ইতিহাসে মদিনার একাধিক মহিমান্বিত নাম পাওয়া যায়, যার মধ্যে অন্যতম সুপরিচিত ও প্রিয় নাম হলো ‘তাইয়িবা’। আরবি ভাষায় তাইয়িবা শব্দের অর্থ হলো পরম পবিত্র, কল্যাণময়, নিষ্কলুষ ও সুরভিত। নবীজির হিজরতের পূর্বে এই নগরীটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি নামে পরিচিত ছিল—তা হলো ‘ইয়াসরিব’। একটি জনপদের প্রাচীন নাম পরিবর্তন করে নবীজি (সা.) একে ‘তাইয়িবা’ বা ‘তাবাহ’ নামে অভিষিক্ত করেন। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা থেকে হিজরত করে এই শহরে পদার্পণ করেন তিনি। কোনো স্থান বা ব্যক্তির সুন্দর ও শুভার্থক নাম রাখার ব্যাপারে নবীজি সবসময় বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। সেই আলোকেই তিনি প্রাচীন অন্ধকারাচ্ছন্ন নাম মুছে দিয়ে এই পুণ্যভূমির নাম রাখেন ‘তাইয়িবা’। মদিনা ও তার আশপাশের পাহাড়ি উপত্যকায় (বিশেষ করে ওয়াদি আকিক অঞ্চলে) আবিষ্কৃত অষ্টম শতাব্দীর প্রাচীন পাথুরে শিলালিপিতে এই শহরকে স্পষ্টভাবে ‘তাইয়িবা’ নামের উল্লেখ করা হয়েছে। ‘ইয়াসরিব’ শব্দের নেতিবাচক অর্থ ইসলামপূর্ব যুগে এই জনপদটিকে ‘ইয়াসরিব’ বলা হতো। ভাষাতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘ইয়াসরিব’ শব্দটি এসেছে আরবি মূলধাতু ‘সারব’ বা ‘তাসরিব’ থেকে, যার অর্থ হলো ভর্ৎসনা করা, দোষারোপ করা...

সৌন্দর্য বাড়াতে প্লাস্টিক সার্জারি: ইসলাম কী বলে

  মানুষ স্বভাবগতভাবেই সৌন্দর্যপ্রিয়। ইসলাম মানবপ্রকৃতির এই সহজাত চাহিদাকে কখনোই অস্বীকার করেনি; বরং বৈধ পন্থায় নিজেকে শালীন, পরিপাটি ও সুন্দর রাখার পূর্ণ অনুমতি দিয়েছে। সমস্যা সৃষ্টি হয় তখন, যখন নিছক সৌন্দর্য প্রদর্শনের তাড়নায় সেই সীমা অতিক্রম করে মানুষের আল্লাহপ্রদত্ত স্বাভাবিক শারীরিক গঠনকে কৃত্রিম ও স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিক সার্জারি, কসমেটিক সার্জারি ও বিভিন্ন স্থায়ী বায়োমেডিক্যাল প্রক্রিয়ার প্রচলন বহুগুণ বেড়েছে। নাকের আকৃতি পরিবর্তন (রাইনোপ্লাস্টি), মুখের চোয়ালের গড়ন বদলানো, কৃত্রিমভাবে ঠোঁট স্ফীত করা কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিকের সাহায্যে ত্বকের স্বাভাবিক গায়ের রং বদলে ফেলার নানা পদ্ধতিকে সৌন্দর্যের আধুনিক উপায় হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে কোনটি ইসলামসম্মত ত্রুটি সংশোধন আর কোনটি নিষিদ্ধ কৃত্রিম বিকৃতি—তার সুস্পষ্ট সীমারেখা জানা জরুরি। নিজেকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা ইসলামে মোটেও নিন্দনীয় নয়। কিন্তু সেই সৌন্দর্য অর্জনের জন্য বান্দা কী পদ্ধতি অবলম্বন করছে—সেটিই হলো ইসলামের মূল বিবেচ্য বিষয়। সৌন্দর...

শালীনতা কেন জীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার

  সমাজের প্রকৃত প্রাণশক্তি নিহিত থাকে মানুষের উন্নত চরিত্র, মার্জিত আচরণ ও আত্মিক নৈতিকতার ভেতরে। আর এই নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের মূল চাবিকাঠি হলো শালীনতা। শালীনতা হলো মানুষের চিন্তা, পোশাক-পরিচ্ছদ, ভাষা ও সামগ্রিক জীবনাচারের সেই মার্জিত রূপ—যা সমাজকে কুরুচি, অবক্ষয় ও অরাজকতা থেকে সুরক্ষিত রাখে। ইসলাম মানুষকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিনম্র, মার্জিত, রুচিশীল ও শালীন হওয়ার জোর তাগিদ দেয়। কোরআনের নীতি পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মানবজাতিকে শিষ্টাচার ও শালীন জীবনাচরণের স্পষ্ট নীতিমালা শিক্ষা দিয়েছেন। লোকমান হাকিম তাঁর প্রিয় সন্তানকে চরিত্র গঠনের যেসব মৌলিক উপদেশ দিয়েছিলেন, আল্লাহ–তাআলা তা চিরন্তন উপদেশ হিসেবে কোরআনে সংরক্ষণ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা কোরো না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ কোরো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। আর তোমার পদচারণে মধ্যবর্তিতা অবলম্বন করো এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু রাখো...।’ (সুরা লোকমান, আয়াত: ১৮-১৯) শালীনতা মানুষের মধ্যকার হিংস্র পাশবিকতা ও বেপরোয়া কুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে। যখন সমাজে অশালীনতা, কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি কি...

কোনো মুসলমানকে কি জাহান্নামি বলা যাবে

  কোনো নির্দিষ্ট মুসলমানকে নিশ্চিতভাবে ‘জাহান্নামি’ বলে ঘোষণা করা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ভয়াবহ বিষয়। অন্যায়কে অন্যায় বলা যাবে, গুনাহ থেকে সতর্ক করা যাবে, তবে ওহির দলিল ছাড়া নির্দিষ্ট ব্যক্তির চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া অনুচিত। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে জান্নাত ও জাহান্নামের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে। তিনিই মানুষের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।  কোরআনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয় তোমার রবই সবচেয়ে ভালো জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং কে সৎপথপ্রাপ্ত।” (সুরা আনআম, আয়াত: ১১৭)  হেদায়েত ও গোমরাহির শেষ অধ্যায় কখন কোথায় লেখা হবে, তা মানুষের অজানা। আজকের গুনাহগার হয়তো আগামীকাল এমন তওবা করবে, যা তার সমগ্র অতীতকে ধুয়েমুছে সাফ করে দেবে। আবার বাহ্যত নেককার বলে পরিচিত কেউ জীবনের শেষ মুহূর্তে বিপথে চলে যেতে পারে। এ কারণেই নিজের পরিণতি নিয়ে সবার উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। অন্যের আখিরাতের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা উচিত নয়। পাপী মুসলমান কি নিশ্চিত জাহান্নামি: কোনো মুসলমান মহাপাপ ( (কবিরা গুনাহ) লিপ্ত হলেই তাকে নিশ্চিতভাবে জাহান্নামি বলে চূড়...

সম্পদ পুঞ্জিভূত হওয়া ঠেকাতে ইসলামের রূপরেখা কী

  একদিকে সম্পদের পাহাড়, অন্যদিকে ঋণ, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া বিপুল জনগোষ্ঠী। এ বৈষম্যমূলক দৃশ্য আধুনিক বিশ্বের জন্যও অপরিচিত নয়। সম্পদবৈষম্যের এই প্রশ্নে ইসলামের একটি মৌলিক বক্তব্য রয়েছে। কোরআন বলছে, ‘যাতে সম্পদ তোমাদের মধ্যে শুধু ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।’ (সুরা হাশর, আয়াত: ৭) আয়াতটি মূলত রাষ্ট্রীয় সম্পদ বণ্টনের একটি নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে নাজিল হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে ইসলামি অর্থনীতির একটি মৌলিক নীতিও প্রকাশ পেয়েছে। সেটি হলো, সম্পদের প্রবাহ এমনভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়া উচিত নয়, যাতে তা ধনী শ্রেণির মধ্যেই ঘুরতে থাকে। অর্থাৎ ইসলাম এমন সমাজ চায় না, যেখানে অর্থনীতির দরজা সবার জন্য খোলা থাকলেও সম্পদের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত একই ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কাছেই ফিরে যায়। ইসলাম কি সম্পদের বিরুদ্ধে এ প্রশ্নে প্রথমেই একটি ভুল ধারণা দূর করা প্রয়োজন। ইসলাম ধনী হওয়ার বিরুদ্ধে নয়। কোরআন ব্যবসা-বাণিজ্যকে বৈধ করেছে, ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার স্বীকার করেছে এবং মানুষকে পৃথিবীতে জীবিকা অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে। ইসলাম সম্পদ উপার্জন নিয়ে আপত্তি করে না। আপত্তি করে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করা,...