পোস্টগুলি

পিতাকে যেভাবে ধর্মের পথে ডেকেছেন নবী ইব্রাহিম (আ.)

  সুরা মারইয়ামের ৪১ থেকে ৪৮ নম্বর আয়াতে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর মূর্তিপূজারী পিতা আজরের মধ্যকার কথোপকথন বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। পিত–পুত্রের এই সংলাপকে পারিবারিক বিতর্ক ভাবলে ভুল হবে, বরং এটি যুক্তি বনাম অযুক্তি, নম্রতা বনাম ঔদ্ধত্য এবং সত্য বনাম মিথ্যার চিরন্তন লড়াইয়ের এক জীবন্ত দলিল। নবী ইব্রাহিমেরএই দাওয়াতি পদ্ধতির বিশেষ ৫ দিক এখানে আলোচনা করা হলো। সত্য সবসময়ই যৌক্তিক এবং অসত্য সবসময়ই স্ববিরোধী। তিনি চাইছিলেন তাঁর পিতা যেন অন্ধ অনুকরণ ত্যাগ করে স্বাধীনভাবে নিজের বিবেককে ব্যবহার করেন। ১. যুক্তি ও বিচারবুদ্ধির প্রাধান্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন তাঁর পিতাকে ধর্মের পথে আহ্বান করেন, তখন তিনি অলৌকিক কোনো নিদর্শনের চেয়ে যুক্তি ও বিচারবুদ্ধির ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি জানতেন, তাঁর পিতা ওহী বা আসমানি কিতাবে বিশ্বাসী নন; তাই তাকে বোঝানোর প্রধান মাধ্যম হতে পারে বিবেক ও বুদ্ধিবৃত্তি। তিনি পিতাকে প্রশ্ন করলেন, যিনি কানে শোনেন না, চোখে দেখেন না এবং কোনো উপকার বা অপকার করতে পারেন না, তাঁর ইবাদত কেন করা হবে? (সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৪২) আসলে সত্য সবসময়ই যৌক্তিক এবং অসত্য সবসময়ই স্ববিরোধী। তিনি ...

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে ইসলাম যে ব্যবস্থার কথা বলে

  ঢাকার এক অভিজাত এলাকায় নতুন ফ্ল্যাট কিনেছেন এক ব্যবসায়ী। কাগজপত্র নিখুঁত, ব্যাংক লেনদেন স্বচ্ছ—স্টেটমেন্ট দেখে কারও বোঝার উপায় নেই যে এতে কোনো ফাঁকফোকর আছে। কিন্তু এর নেপথ্যের গল্পটি ঘুষ, কর ফাঁকি, সম্পদ পাচার আর অবৈধ চুক্তির এক অন্ধকার ইতিহাস। ব্যাংকের স্টেটমেন্ট স্বচ্ছ থাকলেই কি সম্পদ হালাল হয়ে যায়? এই প্রশ্নই আমাদের এক গভীর বাস্তবতার মুখোমুখি করে। মানিলন্ডারিং শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, এটি একটি নৈতিক প্রতারণা এবং পরকালে ভয়াবহ শাস্তির কারণ। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো হারাম সম্পদকে বৈধতার মুখোশ পরানো। মানিলন্ডারিং কী মানিলন্ডারিং (Money Laundering) শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ‘অর্থ ধোলাই’ বা ‘কালো টাকা সাদা করা’। সহজ কথায়, অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থকে বিভিন্ন হাতবদল বা লেনদেনের মাধ্যমে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে মনে হয় সেটি কোনো বৈধ উৎস থেকে এসেছে। ১৯২০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে মদ্যপান নিষিদ্ধ থাকাকালীন মাফিয়া ডন আল ক্যাপোন তাঁর অবৈধ ব্যবসার অর্থ বৈধ করতে শহরজুড়ে প্রচুর ‘লন্ড্রোম্যাট’ কিনেছিলেন। লন্ডারিং শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে লন্ড্রি (কাপড় কাচার জায়গা) থেকে। ময়লা কাপড় ধুয়ে যেমন পরিষ্কার...

চোখের পাপ থেকে বাঁচার ৫ আমল

  মানবজীবনে চোখ আল্লাহ-তাআলার এক মহান নিয়ামত। এই চোখ দিয়েই মানুষ পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখে, জ্ঞান অর্জন করে এবং সত্য-মিথ্যা উপলব্ধি করে। তবে চোখ যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তবে তা বহু পাপের পথ খুলে দিতে পারে। তাই ইসলাম দৃষ্টির হেফাজতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা ধরনের অনিয়ন্ত্রিত কনটেন্টের কারণে চোখের পাপ থেকে বাঁচা আরও কঠিন হয়ে গেছে। তাই একজন মুমিনের জন্য দৃষ্টি ও অন্তর সংযত রাখা অত্যন্ত জরুরি। অনিচ্ছাকৃতভাবে হারাম কোনো কিছুর দিকে দৃষ্টি পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই দৃষ্টি যদি বারবার ফিরে যায় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত হয়, তখন তা পাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১. দৃষ্টি নত রাখা চোখের পাপ থেকে বাঁচার প্রথম ও প্রধান উপায় হলো দৃষ্টি নত রাখা। এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। আল্লাহ-তাআলা বলেন, (হে নবী,) আপনি মুমিন পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে।…এবং আর মুমিন নারীদেরও বলে দিন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখে।” (সুরা নুর, আয়াত: ৩০-৩১) তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে হারাম কোনো কিছুর দিকে দৃষ্টি পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।...

ইসলামে ‘ইনসাফ’ বলতে কী বোঝায়

  ইনসাফ বা ন্যায়বিচার বোঝাতে ইসলামি পরিভাষায় ‘আদল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ইসলামি জীবনদর্শনে ‘আদল’ শুধু একটি নৈতিক গুণ নয়, বরং এটি একটি সুদৃঢ় ধর্মীয় কর্তব্য। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা, এমনকি ভাষা ও প্রকৃতির বিন্যাসেও ইসলাম ইনসাফ কায়েমের নির্দেশ দেয়। মহান আল্লাহ বলা করেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে; আর যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচারের সঙ্গে বিচার করবে...।” (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৮) নিচে ইসলামে ন্যায়বিচারের বিভিন্ন ক্ষেত্র আলোচনা করা হলো: ১. বিচারিক ও প্রশাসনিক ইনসাফ ইসলামি শাসনব্যবস্থায় বিচারক বা শাসককে পূর্ণ নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা আত্মীয়তার কোনো স্থান নেই। কোরআন নির্দেশ দেয়, “যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ইনসাফ করবে, যদিও সে তোমার আত্মীয় হয়।” (সুরা আনআম, আয়াত: ১৫২) কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ইনসাফ না করার দিকে প্ররোচিত না করে; তোমরা ইনসাফ করো, এটাই তাকওয়ার নিকটতর। কোরআন, সুরা মায়িদা, আয়াত: ৮ একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক কেয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া প...

কতটা ধৈর্য ধরেন হজরত আইয়ুব (আ.)

  মানবজাতির ইতিহাসে ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীক হলেন আইয়ুব (আ.)। পবিত্র কোরআনে তাঁর জীবনকে ধৈর্যশীলতার উপমা হিসেবে পেশ করা হয়েছে। চরম দুর্যোগে কীভাবে ইমানের ওপর অবিচল থাকতে হয়, তার এক বাস্তব পাঠ দিয়ে গেছেন তিনি পৃথিবীকে। ইবনে ইসহাকের বর্ণনা মতে, তিনি ছিলেন নবী ইব্রাহিমের বংশধর এবং নবী ইসহাকের পৌত্র। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১/২২০, দারু হিজর, কায়রো, ১৯৯৭) হজরত আইয়ুব (আ.) বর্তমান সিরিয়ার বাসান অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যেমন ছিলেন পরম ধার্মিক, তেমনি আল্লাহ তাঁকে দান করেছিলেন অগাধ ধন-সম্পদ, বিশাল গবাদি পশুর খামার এবং বহু সন্তান-সন্ততি।  কিন্তু এই প্রাচুর্য তাঁকে কখনো অহংকারী করেনি; বরং তিনি সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। তাঁর এই ঐকান্তিক আনুগত্য শয়তান ইবলিশের হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন। অসুস্থতার কারণে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী সবাই তাঁকে ত্যাগ করে চলে যায়। এমনকি তাঁকে জনবসতি থেকে দূরে এক নির্জন স্থানে ফেলে আসা হয়। পরীক্ষার শুরু: সম্পদ ও সন্তান বিয়োগ নবী আইয়ুবের পরীক্ষা শুরু হয় তাঁর ধন-সম্...

‘তাকওয়া’ কী এবং ‘মুত্তাকি’ অর্থ কী

  মানুষের জীবনে পাপ-পুণ্য ও ভুল-শুদ্ধ এক অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা। কেউ সম্পূর্ণ নিষ্পাপ নয়, আবার কেউ শুধু পাপের মধ্যেই ডুবে থাকে না। অধিকাংশ মানুষের জীবনই এই দুটির মিশ্রণে গঠিত। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে কোরআন মাজিদ মানুষকে ‘তাকওয়া’ এবং ‘মুত্তাকি’ হওয়ার প্রকৃত অর্থ শিক্ষা দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, মুত্তাকি মানেই এমন ব্যক্তি যার কখনো কোনো গুনাহ হয় না; অথচ কোরআনের শিক্ষা হলো, মুত্তাকি মানেই নিষ্পাপ মানুষ নয়, বরং সেই ব্যক্তি যার অন্তরে আল্লাহভীতি আছে এবং যে ভুল করলেও দ্রুত আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। তাকওয়ার প্রাথমিক স্তর হলো, গুনাহের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আল্লাহকে স্মরণ করে নিজেকে বিরত রাখা। মুত্তাকির সচেতনতা আল্লাহ-তাআলা মুত্তাকিদের মৌলিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলেছেন, যখন শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা বা প্ররোচনা মুত্তাকিদের স্পর্শ করে, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাদের চোখ খুলে যায়। (সুরা আরাফ, আয়াত: ২০১-২০২) তারা বুঝতে পারে কোন পথ সঠিক এবং কোন পথ ভুল। অন্যদিকে যারা শয়তানের অনুসারী, তারা গোমরাহির পথেই আরও গভীরে ডুবে যেতে থাকে । (সুরা আরাফ, আয়াত: ২০২) তাকওয়ার প্রাথমিক স্তর: গুনা...

বৃষ্টির সময় দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না

  মহান আল্লাহ পৃথিবীতে যেসমস্ত নেয়ামত দান করেছেন, সেগুলোর মধ্যে বৃষ্টি অন্যতম। এটি যেমন মৃত জমিনকে জীবন্ত করে তোলে, তেমনি মানুষের অন্তরেও প্রশান্তি এনে দেয়। বৃষ্টি মাটিকে উর্বর করে সেখান থেকে সৃষ্টিজীবের জন্য রিজিকের ব্যবস্থা হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘(ভয় করো সেই প্রতিপালককে) যিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ বানিয়েছেন। আর আকাশ থেকে পানি (বৃষ্টি) বর্ষণ করে জীবিকাস্বরূপ তোমাদের জন্য ফলফলাদি উৎপন্ন করেছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি বাড়িয়ে দেবেন।’ (সুরা নুহ, আয়াত: ১১-১২) বৃষ্টি নামলেই অনেক মানুষ বিরক্ত হয়। কেউ যানজটের কথা ভাবে, কেউ কাদা-পানির ঝামেলায় অসন্তুষ্ট হয়। অথচ একজন সচেতন মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত ভিন্ন। বৃষ্টি আল্লাহর রহমত বৃষ্টি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা না, এটি আল্লাহর কুদরতের একটি মহান নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে বৃষ্টিকে রহমত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ নিরাশ হয়ে যাওয়ার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং (পৃথিবীতে) তার ...