পোস্টগুলি

হৃদয়ে প্রশান্তি দেবে যে ১০ আয়াত

  অনিশ্চয়তা, ভয় আর দুশ্চিন্তা আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যারিয়ার, পরিবার কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে এই অস্থিরতা আমাদের মানসিক প্রশান্তি কেড়ে নেয়। তবে পবিত্র কোরআনে এমন কিছু আয়াত রয়েছে, যা গভীর সংকটেও মনে প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। ভয় ও দুশ্চিন্তা দূর করতে সহায়ক এমন ১০টি আয়াত দেওয়া হলো: ১. প্রশান্তির একমাত্র উৎস আল্লাহর স্মরণ যখন চারপাশের পরিস্থিতি অস্থির করে তোলে, তখন স্রষ্টার স্মরণই হৃদয়ে পরম শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। উচ্চারণ:  আল্লাযিনা আমানু ওয়া তাতমাইন্নু কুলুবুহুম বিজিকরিল্লাহ, আলা বিজিকরিল্লাহি তাতমাইন্নুল কুলুব। অর্থ:  যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি পায়। (সুরা রা’দ, আয়াত: ২৮) ২. সংকটের পর স্বস্তির নিশ্চয়তা বর্তমানের কঠিন সময় চিরস্থায়ী নয়; স্রষ্টা দুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, কষ্টের পরেই সুখের দেখা মিলবে। উচ্চারণ:  ফা ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা, ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা। অর্থ:  নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে। অবশ্যই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে। (সুরা শারহ, আয়াত: ...

সম্পদের সঠিক ব্যবহার শেখায় কোরআনের ১০ আয়াত

  জীবনধারণের জন্য সম্পদ অপরিহার্য, তবে এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। পবিত্র কোরআনে সম্পদের উপার্জন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও বরকত অর্জনে সহায়ক এমন ১০টি আয়াতের বর্ণনা দেওয়া হলো: ১. মধ্যপন্থা অবলম্বনেই সার্থকতা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অতিভোজ বা কৃপণতা—কোনোটিই কাম্য নয়। ভারসাম্যপূর্ণ ব্যয়ই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। উচ্চারণ:  ওয়াল্লাযিনা ইযা আনফাকূ লাম ইউসরিফূ ওয়া লাম ইয়াকতুরূ ওয়া কানা বাইনা যালিকা কাওয়ামা। অর্থ:  আর যারা ব্যয় করার সময় অপচয় করে না এবং কৃপণতাও করে না; বরং তারা এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পন্থায় থাকে। (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৬৭) ২. অপচয়কারী আল্লাহর অপ্রিয় খাদ্য ও পানীয়র অপচয় কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধও বটে। উচ্চারণ:  ইয়াবানি আদামা খুযূ যিনাতাকুম ইনদা কুল্লি মাসজিদিন ওয়া কুলূ ওয়াশরাবূ ওয়ালা তুসরিফূ; ইন্নাহু লা ইউহিব্বুল মুসরিফীন। অর্থ:  হে আদম সন্তান, তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা গ্রহণ করো; খাও ও পান করো কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ...

পাপ থেকে ফিরে আসার ৬ উপায়

  মানুষ ভুল করে—এটাই তার স্বভাব। কখনো প্রবৃত্তির টানে, কখনো অসাবধানতায় সে এমন কাজ করে ফেলে, যা অন্তরকে ভারাক্রান্ত করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে দুর্বল করে দেয়। পাপের পর অনেকেই ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে, মনে করে তার জন্য আর ফিরে আসার সুযোগ নেই। অথচ ইসলামে সবচেয়ে আশার কথা হলো, আল্লাহর রহমত অসীম; তিনি সবসময় তওবার দরজা খোলা রাখেন। প্রয়োজন কেবল আন্তরিকতা ও সচেতন প্রয়াস। ১. আন্তরিক তওবা তওবা হলো ফিরে আসার প্রথম ধাপ। এটি কেবল মুখের উচ্চারণ নয়; বরং অন্তরের গভীর অনুশোচনা। আল্লাহ–তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা কর।” (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৮) সঠিক তওবার জন্য তিনটি বিষয় জরুরি— পাপের জন্য গভীর অনুশোচনা সঙ্গে সঙ্গে তা ছেড়ে দেওয়া ভবিষ্যতে আর না করার দৃঢ় সংকল্প এই তিনটি একসঙ্গে না থাকলে তওবা পূর্ণ হয় না। ২. আল্লাহর রহমতের প্রতি দৃঢ় আশা রাখা গুনাহের পর অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ে এবং ভাবে সে আর ক্ষমার যোগ্য নয়। অথচ দয়াময় প্রভু বারবার ঘোষণা করেন, “তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।” (সুরা জুমার: ৫৩) এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়, যত বড় গুনাহই হোক, আল্লাহ ক্ষমা করতে সক্ষম। এই বিশ্বাস মানুষক...

‘তোমরা দ্রুত হজ আদায় করো’

  আল্লাহ–তাআলা সামর্থ্যবান মানুষের ওপর হজ ফরজ করেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই ঘরের হজ করা তার ওপর অবশ্যকর্তব্য।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭) হজ কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং এটি একটি কষ্টসাধ্য সাধনা। এতে নিজ দেশ ও পরিবার ত্যাগ করতে হয়, অর্থ ব্যয় করতে হয় এবং শারীরিক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। তাই সামর্থ্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই ফরজ ইবাদতটি আদায়ের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। হজ কি পরে করলেও চলবে একজন সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর হজ কি তৎক্ষণাৎ ফরজ হয়, নাকি তিনি পরে করলেও চলবে—এ বিষয়ে ফকিহদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমদের মতে, হজের সামর্থ্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা আদায় করা ওয়াজিব। এটিই অধিকতর সঠিক ও শক্তিশালী মত। এর সপক্ষে মহানবীর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তোমরা দ্রুত হজ আদায় করো। কারণ তোমাদের কেউ জানে না তার সামনে কী বিপদ বা প্রতিবন্ধকতা হাজির হবে। মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২৮৬৭ তিনি বলেছেন, “তোমরা দ্রুত হজ আদায় করো। কারণ তোমাদের কেউ জানে না তার সামনে কী বিপদ বা প্রতিবন্ধকতা হাজির হবে।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২৮৬৭) এই হ...

জর্ডানের হজ পথের প্রত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষা

  ঐতিহাসিক হেজাজভূমি, যা বর্তমানে সৌদি আরবের দক্ষিণাংশ থেকে অনেকটা মাকড়সার জালের মতো বিভিন্ন দিকে পথ ছড়িয়ে পড়েছে পবিত্র নগরী মক্কার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য। এসব পথ ধরেই সারা দুনিয়া থেকে মুসলমানরা প্রতি বছর হজ করতে আসেন। সময়ের পরিক্রমায় এখন সড়ক ও সমুদ্র পথের চেয়ে আকাশপথে অনেক বেশি হজযাত্রীর আগমন ঘটে। অথচ ১০০ বছর আগেও হজ সফরের জন্য সড়ক  ও নৌপথের ওপরই নির্ভর করতে হতো। এসব পথের বা রুটের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল সিরিয়ার দামেস্ক হয়ে মক্কায় আসার পথ। মূলত মক্কা তথা হেজাজের সঙ্গে লেভান্টের বা পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবসাবাণিজ্যের প্রাচীন পথটিই কালক্রমে হজের পথে রূপান্তরিত হয়। ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের অন্তিমলগ্নে এই পথেই ইস্তাম্বুল থেকে মদিনা পর্যন্ত প্রায় ১৩২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হেজাজ রেলপথ নির্মিত হয়েছিল, যা ৪০ দিনের সফরকে মাত্র পাঁচদিনে নামিয়ে এনেছিল। তবে সামরিক উদ্দেশে নির্মিত এই রেলপথ মাত্র একযুগ সচল ছিল। তো এই পথের একটা অংশ ছিল আজকের জর্ডানের ওপর দিয়ে। জর্ডানের অংশের হজ পথটির উত্তরদিকে তৃণভূমি আর দক্ষিণদিকে উষর মরুভূমি। মাঝখানে নির্মিত হয়েছিল দুর্গ ও জলাধারসহ বিভিন্ন অ...

জীবিকার দুশ্চিন্তা ঘুচবে যে ১০ আয়াতে

  জীবনসংগ্রামের পথে আমাদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘রিজিক’। ভবিষ্যতে কী হবে, কীভাবে সংসার চলবে—এই ভয় অনেক সময় আমাদের অস্থির করে তোলে। তবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রিজিকের ব্যাপারে বারবার অভয় দিয়েছেন এবং ভরসা রাখার পথ দেখিয়েছেন। রিজিক নিয়ে ভয় দূর করতে সহায়ক এমন ১০টি আয়াত তুলে ধরা হলো: ১. প্রতিটি প্রাণের দায়িত্ব আল্লাহর পৃথিবীতে বিচরণশীল প্রতিটি জীবের জীবনোপকরণের দায়িত্ব স্বয়ং স্রষ্টার। উচ্চারণ:  ওয়া মা মিন দাব্বাতিন ফিল আরদ্বি ইল্লা আলাল্লাহি রিযকুহা। অর্থ:  ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো জীব নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। (সুরা হুদ, আয়াত: ৬) আপনার এবং আপনার পরিবারের অন্নসংস্থানের নিশ্চয়তা আল্লাহ দিয়েছেন। নিজের কাজটুকু সততার সঙ্গে করে যান, তিনি কাউকে অনাহারে রাখেন না। ২. তাকওয়ায় খোলে অভাবনীয় দুয়ার সততা ও আল্লাহভীতি মানুষের সামনে এমন সব পথ খুলে দেয়, যা আগে কখনো কল্পনাও করা যায়নি। উচ্চারণ:  ওয়া মান ইয়াত্তাকিল্লাহা ইয়াজ'আল লাহু মাখরাজা, ওয়া ইয়ারযুকহু মিন হাইছু লা ইয়াহতাসিব। অর্থ:  যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সংকট থেকে উত্তরণের) পথ করে দেন এবং তা...

সুফিসাধক নাসের খসরুর হজ সফর

  পারস্যের কবি ও সুফি সাধক নাসের খসরু ছিলেন একজন ইসমাইলীয় শিয়া যিনি দার্শনিক ও পর্যটক হিসেবেও সুখ্যাতি কুড়িয়েছিলেন। তাঁর  সফরনামা– কে পারস্যের ভ্রমণকাহিনি রচনার অন্যতম পথিকৃত বিবেচনা করা হয়। ধ্রুপদী ফারসি ভাষায় লেখা এই সফরনামা আজো পাঠককে চমৎকৃত করে। খসরু ৪২ বছর বয়সে ১০৪৫ সালে মক্কায় হজব্রত পালনের জন্য স্বদেশ থেকে রওনা হন। তাঁর আগে তিনি বেশ কিছুদিন মার্ভ ও বলখে সরকারি কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এক রাতে তিনি স্বপ্নে দেখেন যে কেউ তাঁকে জ্ঞানান্বেষণের জন্য নিজেকে নিয়োগ করতে নির্দেশনা দিচ্ছে। নির্দেশদাতার কাছে তিনি জানতে চান যে কোথায় গেলে তিনি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। তখন তাঁকে মক্কার দিকে ইশারা করে দেখিয়ে নির্দেশদাতা অদৃশ্য হয়ে যান। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর তিনি স্বপ্নে দেখা সবকিছুই মনে করতে পারলেন। তখন নিজেকে তিনি নিজেই প্রশ্ন করেন যে এই ৪২ বছরের জীবনে কী করেছেন। তাঁর উপলব্ধি হয়, নিজের জীবনযাপন ও কাজে পরিবর্তন না আনলে তিনি কখনোই সুখী হতে পারবেন না। পরের কাহিনি তাঁর ভাষাতেই শোনা যাক: “বৃহস্পতিবার..(ডিসেম্বর ১৯, ১০৪৫)...আমি মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো শরীর ভালভাবে ধৌত করে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হল...