পোস্টগুলি

আপনজনের সম্পদ কি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যায়

  “ওর জিনিস ব্যবহার করতে আবার জিজ্ঞেস করা লাগবে নাকি!” পরিবার, বন্ধুমহল কিংবা কর্মক্ষেত্রে এমন কথা আমরা প্রায়ই শুনি। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অনেক সময় আমাদের মনে হয়, প্রিয়জনের জিনিস ব্যবহার করতে আবার আলাদা করে অনুমতি নেওয়ার কী প্রয়োজন। কখনো বিষয়টি এতটাই স্বাভাবিক হয়ে যায় যে, অনুমতি নেওয়ার কথাটিই আর মনে থাকে না। কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায়, সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা কখনো মানুষের অধিকার ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকে মুছে দেয় না। বরং আপনজনের হক রক্ষা করা, তার সম্পদ ও ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোই একজন মুমিনের উত্তম চরিত্রের পরিচয়। অন্যের সম্পদ ব্যবহারে অনুমতির গুরুত্ব  ইসলাম মানুষের সম্পদ, মালিকানা ও অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮) এই নির্দেশ শুধু চুরি, আত্মসাৎ কিংবা বড় ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়; বরং এতে অন্যের সম্পদের প্রতি সম্মান দেখানোর শিক্ষাও রয়েছে। কারও মোবাইল, বই, পোশাক, ব্যাগ কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত সামগ্রী মূল্য যত কমই হোক না কেন, মালিকানা যার, সেটি ব্যবহারের অধিকারও মূল...

‘আধ্যাত্মিক চুরি’ কেন বুদ্ধিবৃত্তিক চুরির চেয়েও ভয়াবহ

  আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ও জ্ঞানতত্ত্বের জগতে ‘প্লেজিয়ারিজম’ বা চৌর্যবৃত্তিকে অত্যন্ত ঘৃণ্য ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। বহু দেশে এটি আইন অনুযায়ী কারাদণ্ডযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। কারণ এটি অন্যের মেধা ও মেহনতের সরাসরি আত্মসাৎ। কিন্তু পার্থিব এই বুদ্ধিবৃত্তিক চুরির চেয়েও কোটি গুণ বেশি ভয়াবহ, সর্বগ্রাসী ও ধ্বংসাত্মক আরেকটি অপরাধ রয়েছে—যাকে বলা যায় ‘আধ্যাত্মিক চৌর্যবৃত্তি’। সমগ্র মহাবিশ্বের উপাদান, প্রাকৃতিক নিয়ম, মানুষের অস্তিত্ব, মস্তিষ্ক ও প্রতিভার যাবতীয় কাঁচামাল পরম স্রষ্টার অবারিত দান হওয়া সত্ত্বেও মানুষ যখন অহংকারের সঙ্গে এই নেয়ামতকে নিজের নিরঙ্কুশ একক কৃতিত্ব বলে প্রচার করে এবং স্রষ্টার অস্তিত্ব ও অবদানকে সমূলে অস্বীকার করে, তখনই ঘটে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মহাজাগতিক ডাকাতি। আধুনিক বিশ্ব চিকিৎসাবিজ্ঞান, মহাকাশ অভিযান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি দেখে অনেকে সদম্ভে ঘোষণা করছে, ‘মানুষ আজ প্রকৃতিকে জয় করেছে, এখানে স্রষ্টার আর কোনো ভূমিকা নেই!’ ‘আধ্যাত্মিক চৌর্যবৃত্তি’ কী আধ্যাত্মিক চৌর্যবৃত্তি হলো মহান আল্লাহর সৃষ্টি, অফুরন্ত অনুগ্রহ এবং তাঁর মহাজাগতিক ন...

সুস্থ দেহের জন্য নবীজির প্রতিদিনের ৬ অভ্যাস

  মুহাম্মদ (সা.) নিজের প্রাত্যহিক আচরণে এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত জীবনপদ্ধতি বাস্তবায়ন করে গেছেন, যা মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গের সুস্থতা নিশ্চিত করে। তিনি স্বাস্থ্যকে ইমানের পর মানুষের সবচেয়ে বড় নেয়ামত হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সুস্বাস্থ্য (আফিয়াত) প্রার্থনা করো। কেননা, ইমানের পর সুস্বাস্থ্যের চেয়ে উত্তম কোনো বস্তু কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৫৮) রাসুলের জীবন থেকে ছয়টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আলোচনা করা হলো। নবীজির জীবনের রুটিন ছিল রাতের প্রথম প্রহরে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া এবং শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদ ও ফজরের জন্য জেগে ওঠা। তিনি কখনো ইশার নামাজের পর অপ্রয়োজনীয় আলাপ–আলোচনা পছন্দ করতেন না। ১. খুব সকালে জেগে ওঠা নবীজির জীবনের রুটিন ছিল রাতের প্রথম প্রহরে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া এবং শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদ ও ফজরের জন্য জেগে ওঠা। তিনি কখনো ইশার নামাজের পর অপ্রয়োজনীয় আলাপ–আলোচনা পছন্দ করতেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৮) উম্মতের জন্য ভোরের কল্যাণ কামনা করে রাসুল (সা.) দোয়া করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ, আমার উম্মতের সকালের প্রহরে (ভোরের সময়ে) বরকত দান করুন।’ ...

কঠোর হৃদয় কোমল করার ৭ উপায়

  মানবদেহের বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যত সুস্থ ও সবলই হোক না কেন, তার হৃদয় যদি অনুভূতিহীন ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, তবে সেই মানুষটির সমগ্র জীবনই পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে শেষ বিচারের দিনের চূড়ান্ত চিত্র তুলে ধরে সতর্ক করা হয়েছে, সেদিন কোনো ধনসম্পদ কিংবা সন্তানসন্ততি কারো কোনো উপকারে আসবে না, শুধু সে ব্যতীত যে আল্লাহর কাছে একটি ‘বিশুদ্ধ ও সুস্থ হৃদয়’ (কলবে সালিম) নিয়ে উপস্থিত হবে। (সুরা শুআরা, আয়াত: ৮৮–৮৯) পাপাচারের কারণে মরচে পড়া এই কঠিন হৃদয়কে কোমল ও আর্দ্র করার জন্য কোরআন ও হাদিস আমাদের আত্মিক চিকিৎসাপদ্ধতি বাতলে দিয়েছে। নবীজি (সা.) বলছেনে, “জেনে রেখো, মানবদেহের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে; যদি তা সুস্থ ও সংশোধিত থাকে, তবে সমগ্র দেহই সুস্থ থাকে। আর যদি তা নষ্ট হয়ে যায়, তবে সমগ্র দেহই নষ্ট হয়ে যায়। সাবধান, সেটিই হলো হৃদয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২) কঠোর হৃদয়কে নরম করার সাতটি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো। পাপাচারের কারণে মরচে পড়া এই কঠিন হৃদয়কে কোমল ও আর্দ্র করার জন্য কোরআন ও হাদিস আমাদের আত্মিক চিকিৎসাপদ্ধতি বাতলে দিয়েছে। ১. মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ পার্থিব মোহ ও বিলাসবহুল জীবনের অতিভোগই ...

মহানবী (সা.) যেভাবে ক্ষমা করতেন

  ক্ষমা মানুষের সর্বোচ্চ নৈতিক গুণ, যা অন্তরের সংকীর্ণতা ও প্রতিশোধপরায়ণতা দূর করে প্রশান্তি আনে। প্রতিশোধ নেওয়া মানবীয় স্বভাব হলেও তা জয় করে ক্ষমা করাই প্রকৃত মহত্ত্ব। রাসুল (সা.) শত্রুকেও নিঃশর্তভাবে ক্ষমা করা ও তার জন্য কল্যাণ কামনা করার যে অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তার তুলনা নেই। ক্ষমা শুধু তাঁর জীবনের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যই ছিল না, বরং কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণে তাঁর সমগ্র জীবনদর্শনের মূল ভিত্তি ছিল। কোরআনে ক্ষমার নির্দেশ আল্লাহ–তাআলা মহানবী (সা.)-কে ক্ষমার নীতি অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়ে পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, ‘আপনি ক্ষমার নীতি অবলম্বন করুন, সৎকাজের আদেশ করুন এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলুন।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৯৯) অন্যত্র নবীজির কোমল হৃদয় ও মার্জিত আচরণের প্রশংসা করে আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছিলেন; যদি আপনি কঠোর ও পাষাণ হৃদয় হতেন, তবে তারা আপনার নিকট থেকে সরে যেত। অতএব আপনি তাদের মার্জনা করুন এবং তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করুন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯) আপনি ক্ষমার নীতি অবলম্বন করুন, সৎকাজের আদেশ করুন এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলুন। স...

বিপদে সুরক্ষা পেতে নবীজির শেখানো ৫ দোয়া

 বিপদ ও সংকটের অন্ধকার রাতে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আল্লাহর প্রত্যক্ষ সাহায্য লাভে মহানবী (সা.) উম্মতকে যে শক্তিশালী দোয়া ও আত্মিক সুরক্ষাকবচ শিখিয়ে গেছেন, তা মানবজীবনের এক অমূল্য পাথেয়। ইবনুল কাইয়ুম আল-জাওযিয়্যাহ (রহ.) উল্লেখ করেছেন, “দোয়া হলো যাবতীয় বালা-মুসিবত দূর করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। এটি বিপদের আগমনকে প্রতিহত করে, চলমান বিপদকে হালকা বা দূর করে এবং বিপদ নেমে এলে তা প্রশমিত করে।” (আল-জাওয়াবুল কাফি লিমান সাআলা আনিদ দাওয়ায়িশ শাফি, দারু ইবনে কাসির, বৈরুত, পৃষ্ঠা: ২২–২৫) ১. আশাহীনতার মুখে চিরন্তন আশ্রয় জীবনের সমস্ত বাহ্যিক দরজা যখন বন্ধ হয়ে যায় এবং শত্রু বা প্রতিকূলতা যখন চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে, তখন বিশ্বাসীর অন্তরে এক অলৌকিক সাহস জোগায় এই কোরআনিক দোয়াটি: উচ্চারণ: “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।” অর্থ: “আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম অভিভাবক ও কর্মবিধায়ক।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭৩) নবী ইব্রাহিম (আ.)-কে যখন নমরুদের প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তাঁর মুখনিঃসৃত শেষ বাক্য ছিল এটি। আর ওহুদের যুদ্ধের কঠিনতম বিপর্যয়ের পর যখন মক্কার মুশরিকরা মুস...

নবীজির শিক্ষক কে ছিলেন

  যে মানুষ চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো শিক্ষায়তনের সান্নিধ্যে যাননি এবং যাঁর প্রাতিষ্ঠানিক অক্ষরজ্ঞানের কোনো প্রমাণ নেই, হঠাৎ করেই তাঁর মুখনিঃসৃত বাণী গোটা বিশ্বের সাহিত্য, আইন, দর্শন ও আধ্যাত্মিক ধারাকে আমূল বদলে দিল। আধুনিক পশ্চিমা প্রাচ্যবিদেরা এই অলৌকিকত্বকে ধামাচাপা দিতে এক চিরাচরিত অপবাদ দিয়ে এসেছে যে মুহাম্মদ (সা.) স্বশিক্ষিত কিংবা তিনি কোনো ইহুদি-খ্রিষ্টান পাদ্রির কাছ থেকে পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থ শিখে নিয়ে কোরআন রচনা করেছেন। কিন্তু ঐতিহাসিক সাক্ষ্যপ্রমাণ, কোরআনের অতুলনীয় ভাষাশৈলী এবং এতে বর্ণিত নির্ভুল ভবিষ্যৎবাণীসমূহের নির্মোহ বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে কোরআনের রচয়িতা কোনো মানুষ হতে পারেন না; এর একক শিক্ষক হলেন বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ-তাআলা। নিরক্ষর নবী ও মক্কার সামাজিক বাস্তবতা কোরআন যে মানুষের রচনা নয়, তার সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষ ঐতিহাসিক প্রমাণ হলো নবীজির নিরক্ষরতা। তিনি কোনো গ্রন্থ পাঠ করতে পারতেন না এবং কোনো কিছু নিজ হাতে লিখতেন না। কোরআনে আল্লাহ-তাআলা নিজেই ঘোষণা করেন, “এর পূর্বে আপনি কোনো কিতাব পাঠ করেননি এবং নিজ হাতে কোনো কিতাব লিখেনওনি; যদি তা হতো, তবে এই বাতিলপন্থীরা স...