‘তারাও তোমাদের মতো মানুষ’
এক. নবীজি মৃত্যুশয্যায়। বলতে গিয়েও থেমে থেমে আসছে তাঁর কথামালা—বাক্য পূর্ণতা পায় না! এর মধ্যে প্রবল শক্তি নিয়ে তিনি উচ্চারণ করে উঠলেন—‘আস-সলাত, আস-সলাত, ওয়া মা মালাকাত আইমানুকুম—‘নামাজ এবং তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসী’। জড়িয়ে আসে নবীজির জবান। শেষ সময়ে, যখন মৃত্যুযন্ত্রণায় কথা সরছে না তাঁর পবিত্র জবানে, তখন, সেই অন্তিম মুহূর্তে তিনি উচ্চারণ করে উঠলেন এক সতর্কবাণী—‘তোমরা নামাজ আদায়ে কোনো প্রকার অবহেলা করো না এবং সদাচার করো তোমাদের কর্তৃত্বাধীন দাস-দাসীর সঙ্গে। তাদের হক আদায়ে ত্রুটি রাখবে না সামান্য পরিমাণও।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬২৫) উম্মে সালামা উপস্থিত ছিলেন তখন নবীজির শিয়রে। তিনি জীবনভর নবীজির অন্য সকল উপদেশের মতো এই অন্তিম নির্দেশেরও বাস্তবায়ন করে দেখান সর্বাত্মকভাবে। দাসী-বাঁদির সঙ্গে তাঁর আচরণ প্রবাদে পরিণত হয়। তাদের হক আদায়ের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। অন্ন-বস্ত্র- বাসস্থান—একজন মানুষের মৌলিক অধিকার। উম্মে সালামা তাঁর দাসী-বাঁদির সকল মৌলিক অধিকার আদায়ে ছিলেন বিশেষ উদ্যোগী। সমাজের অত্যধিক ভালো মানুষ হিসেবে যাদের আমরা জানি, তাদের পরিচারক-পরিচারিকারাও অন্যান...