পোস্টগুলি

ইসলামে ‘প্রজ্ঞা’ অর্জনের ৩টি সহজ ধাপ

  অনেকেই ভবিষ্যত নিয়ে সবসময় অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় ভোগেন। অর্থনৈতিক টানাটানি রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। ভালো কাজ করতে গেলে অলসতা ধরে আর মন্দ কাজের দিকে মন টানে। এসবই সংকেত দেয় যে আমাদের চিন্তার জগতকে শয়তান কুয়াশাচ্ছন্ন করে রেখেছে। ক্যারিয়ারের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, সম্পর্কের টানাপোড়েন সামলানো কিংবা প্রলোভনের মুখে সঠিক পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই ভুল করে বসি। জীবনদর্শনের ভাষায় ‘প্রজ্ঞা’ (উইজডম/হিকমা) হলো জীবনের সঠিক ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত বেছে নেওয়ার অসাধারণ সক্ষমতা। প্রজ্ঞা লাভের প্রথম শর্তই হলো হৃদয়কে পাপাচারের ময়লা থেকে মুক্ত করা। মানুষ যখন কোনো অপরাধ বা পাপে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার অন্তরে এক ধরনের কালচে দাগ পড়ে যায়। প্রজ্ঞা হারিয়ে ফেলা মানুষের বিবেককে শয়তান সহজেই ভুল সিদ্ধান্তের দিকে ধাবিত করে। শয়তান মানুষের খারাপ ও ক্ষতিকর সিদ্ধান্তগুলো তার সামনে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করে। (সুরা নাহল, আয়াত: ৬৩) এই শয়তানি বিভ্রান্তি কাটিয়ে নিজের মন ও বুদ্ধির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার এবং ঐশ্বরিক প্রজ্ঞা অর্জনের ৩টি কার্যকর ধাপ নিয়ে এই আলোচনা। প্রথম ধাপ: তওবায় মন পরিষ্কার করা প্রজ্ঞা লাভ...

নবী মুসার জননী যেভাবে আল্লাহর ওপর আস্থা রেখেছেন

  মিসরের অত্যাচারী শাসক ফেরাউন একটি ভবিষ্যৎবাণী শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল—তার সিংহাসন নাকি বনি ইসরাইলের এক পুত্রসন্তানের হাতে ধ্বংস হবে। এই আশঙ্কায় সে রাজকীয় বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিল যেন বনি ইসরাইল পরিবারে জন্ম নেওয়া প্রতিটি সদ্যজাত ছেলেকে হত্যা করা হয়। এমন এক আতঙ্কজনক পরিবেশে মুসা (আ.) জন্মগ্রহণ করলেন। তাঁর মা নবজাতককে নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন। চতুর্দিকে যখন মৃত্যুর পদধ্বনি, রক্ষা পাওয়ার আপাত কোনো উপায়ই চোখ পড়ে না, ঠিক তখনই করুণাময় আল্লাহ তাঁর অসহায় মায়ের পাশে এসে দাঁড়ালেন। আল্লাহ তাঁকে দুটি পরম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—প্রথমত, শিশুটিকে তাঁর মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে; দ্বিতীয়ত, সে একদিন আল্লাহর মহান রাসুল হবে। পরম প্রতিশ্রুতি আল্লাহ–তাআলা তাঁর মাকে এক অদ্ভুত ও অকল্পনীয় নির্দেশ দিলেন, মানববুদ্ধি দিয়ে যা চিন্তা করাও কঠিন। কোরআনে আল্লাহ সেই ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, “আমি মুসার মায়ের হৃদয়ে নির্দেশ পাঠালাম যে তুমি তাকে দুধ পান করাও; অতঃপর যখন তুমি তার নিরাপত্তার ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করবে, তখন তাকে নদীতে (নীলনদে) ভাসিয়ে দাও। তুমি ভয় পেয়ো না এবং শোকাচ্ছন্নও হয়ো না; নিশ্চয়ই আমি তাকে তোমার কাছে ...

মা-বাবাকে খুশি রাখতে ইসলামের ৬ রূপরেখা

  পৃথিবীতে সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কার? বিপদের মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়ই–বা কারা? নিঃসন্দেহে তাঁরা আমাদের মা-বাবা। শৈশবে তাঁরাই আমাদের পথ চলতে শিখিয়েছেন। আমাদের ক্ষুধায় তাঁরা ব্যাকুল হয়েছেন এবং অসুস্থতায় কাটিয়েছেন অসংখ্য নির্ঘুম রাত। আমাদের মুখের একটুখানি হাসির জন্য তাঁরা নিজেদের কত আনন্দ, স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রয়োজন ত্যাগ করেছেন, তার হিসাব হয়তো কোনো দিনই করা সম্ভব নয়। তাই মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ স্রেফ নৈতিক কর্তব্যই নয়; একজন সন্তানের জন্য এটি মহৎ আমানতও বটে। তাঁদের প্রতি আমাদের দায়িত্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো। পৃথিবীতে সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কার? বিপদের মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়ই–বা কারা? নিঃসন্দেহে তাঁরা আমাদের মা-বাবা। ১. নম্রভাবে কথা বলা মা-বাবার কৃতজ্ঞতা আদায়ের প্রথম ধাপ হলো তাঁদের সঙ্গে সুন্দর, কোমল ও সম্মানজনক ভাষায় কথা বলা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা অনেক বিষয়ে ধীর হয়ে যেতে পারেন, একই কথা বারবার বলতে পারেন কিংবা সন্তানের মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। এসব কারণে বিরক্ত হয়ে কণ্ঠস্বর উঁচু করা, ধমক দেওয়া বা কঠিন কথা ...

যে ৫ কাজ আল্লাহর অসন্তোষ থেকে বাঁচায়

  মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি, আর সবচেয়ে বড় বিপর্যয় তাঁর অসন্তুষ্টি। তাই মুমিনের জীবনের অন্যতম প্রধান সাধনা হওয়া উচিত আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করা। হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা এসেছে, যেগুলো আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকতে সহায়তা করে। এমন ৫টি আমল হলো— ১. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা মানুষের ভেতরের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রবৃত্তিগুলোর একটি হলো ক্রোধ। এ সময় মানুষ এমন সব কথা বলে ফেলে, যা পরে হাজারবার অনুতপ্ত হয়েও ফিরিয়ে নিতে পারে না। তাই নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করা আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার গুরুত্বপূর্ণ উপায়। রাগ মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। ইসলাম রাগের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেনি। বরং রাগের লাগাম নিজের হাতে রাখার শিক্ষা দিয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) একদিন নবীজিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোন জিনিস আমাকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে রক্ষা করবে?’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘তুমি রাগ কোরো না।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ২৯৬) রাগ নিয়ন্ত্রণ জান্নাতের পথকে সহজ করে দেয়। আবুদ্দারদা (রা.) নবীজিকে বললেন, ‘আমাকে এমন একটি আমলের পথ দেখান, যা আমাকে জান্নাতে...

বৃষ্টি: ব্যবহারিক উপকারিতা ও নবীজির সুন্নাহ

  ছোটবেলায় বৃষ্টি নামলেই বড়রা সতর্ক করতেন, ‘খবরদার, ভিজিস না; ঠান্ডা লাগবে, জ্বর হবে।’ অথচ কাজের প্রয়োজনে সেই মুরব্বিদেরই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ছুটতে হতো। গ্রামীণ জীবনের কিষান-কিষানিরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজেই জীবন কাটিয়েছেন। প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকায় কেবল বৃষ্টিতে ভিজে তাঁরা বারবার অসুস্থ হচ্ছেন—এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যেত না। শৈশবের সেই দিনগুলোয় মায়েদের বৃষ্টির পানি ধরে রাখার এক অদ্ভুত তাগিদ দেখা যেত। টিনের চালার নিচে হাঁড়ি, পাতিল, গামলা পেতে পানি জমিয়ে রাখা হতো রান্নাবান্নার জন্য। তখন হয়তো এর পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি জানা ছিল না, তবে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানে সবাই বুঝতেন, বৃষ্টির পানির নিজস্ব একটি বিশুদ্ধতা ও বিশেষ গুণ রয়েছে। বর্তমান শিল্পায়িত ও জনবহুল নগরে বাতাসে ধুলাবালি, ধোঁয়া ও রাসায়নিক দূষণ অনেক বেশি। ফলে আকাশ থেকে নামার সময় বৃষ্টির ফোঁটা সেই দূষিত উপাদানগুলোর কিছু অংশ সঙ্গে নিয়ে আসে। বৃষ্টির পানি কি সম্পূর্ণ নিরাপদ? বিজ্ঞানীদের মতে, বৃষ্টির পানি প্রাকৃতিকভাবে বিশুদ্ধ (সফ্‌ট ওয়াটার)। এতে মাটির নিচের পানির মতো অতিরিক্ত ক্ষতিকর খনিজ, অতিরিক্ত আয়রন কিংবা ক্লোরিন থাকে না। তবে বর...

যিনি ছিলেন ৫ শহীদ সাহাবির স্ত্রী

  আতিকা বিনতে জায়েদ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের এক অনন্য ও বিদুষী সাহাবি। রূপ-সৌন্দর্য, ধার্মিকতা, প্রজ্ঞা, সাহিত্যবোধ ও বুদ্ধিমত্তার এমন সমন্বয় তৎকালীন সমাজে খুব কমই দেখা যেত। তৎকালীন আরবে প্রাঞ্জলভাষী ‘কবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল। পাশাপাশি একজন একনিষ্ঠ ‘মসজিদপ্রেমী’ নারী হিসেবেও তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। আনুমানিক ৬০০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কোরাইশ বংশের বনু আদি গোত্রে তাঁর জন্ম। (ইবনে সাদ, আত–তাবাকাত আল–কুবরা, ৮/২৩০, দার ছাদের, বৈরুত) তিনি ইসলামের প্রারম্ভিক যুগেই ইমান আনেন এবং মদিনায় হিজরতের গৌরব অর্জন করেন। ইসলামি সমাজে বিধবা নারীদের পুনর্বাসন ও সম্মানজনক পুনর্বিবাহের যে সহজ ও কুসংস্কারমুক্ত আবহ ছিল, আতিকার জীবন তার এক উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত। পারিবারিক ঐতিহ্য ও বংশমর্যাদা আতিকার পিতা জায়েদ ইবনে আমর এবং মাতা উম্মে কুরজ সাফিয়া বিনতে আল-হাদরামি। তাঁর পিতা জাহেলি যুগেই পৌত্তলিকতা বর্জন করে একত্ববাদী (হানিফ) ছিলেন এবং নবী ইব্রাহিমের বিশুদ্ধ তাওহিদের ওপর অবিচল ছিলেন। কোরাইশদের উদ্দেশ্য করে তিনি প্রকাশ্যে বলতেন, ‘আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্যে একমাত্র আমিই ইব্রাহিমের সত্য ধর্মে প্রত...

বন্ধুত্ব: ইহকালে, পরকালে

  প্রযুক্তি এখন আমাদের যোগাযোগকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু সব সম্পর্ককে গভীর করতে পারেনি। ভার্চ্যুয়াল ফ্রেন্ডশিপ বেড়েছে, অথচ অনেকের জীবনেই কমে গেছে সত্যিকারের বন্ধুত্বের মায়া আর উষ্ণতা। একজন সত্যিকারের বন্ধুর সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো, সে আমাদের ভালো চায়। শুধু দুনিয়ার সাফল্য নয়, সে আমাদের আখেরাতের সফলতাও কামনা করে। আমাদের ভুল দেখলে নীরব থাকে না। ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে। এমন বন্ধু নিঃসন্দেহে আল্লাহর দেওয়া এক অমূল্য নেয়ামত। বন্ধুই যখন পরিচয় একজন বন্ধু শুধু আমাদের অবসর সময়ের সঙ্গী নয়; সে আমাদের চিন্তা, চরিত্র, অভ্যাস, সিদ্ধান্ত এবং ইমানের ওপরও গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না, আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসগুলো কীভাবে বদলে যাচ্ছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ করে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৩৩) প্রখ্যাত তাবেয়ি আলকামা (রহ.) বলেছেন, ‘এমন ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন, যার সাহচর্যে আপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়; আপনি ভুল করলে সে সংশোধন করে এবং বিপদের দিনে আপনার পাশে দাঁড়ায়।’বন্ধুত...