পোস্টগুলি

ভাইয়ের অজান্তে মানিব্যাগ থেকে টাকা নেওয়া কি চুরি

  ‘আপন ভাইয়ের সম্পদই তো, পরের তো নয়’—এই ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেকেই নিজের ভাই কিংবা নিকটাত্মীয়ের মানিব্যাগ বা ড্রয়ার থেকে তাঁর অনুমতি ছাড়াই গোপনে টাকা নিয়ে নেন। অনেকে নিজের অপরাধবোধ হালকা করেন এই ভেবে যে ‘আমি তো চুরি করছি না, শুধু ধার নিচ্ছি এবং হিসাব রাখছি, পরে সুবিধাজনক সময়ে পরিশোধ করে দেব।’ ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান ও ইসলামি নীতিশাস্ত্রের মানদণ্ডে এই কাজটি কি আদৌ বৈধ? গোপনে নেওয়া এই টাকা কি চুরির পর্যায়ে পড়বে? ইসলামি ফিকহের আলোকে তা জানা জরুরি। ইসলামের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য হলো মানুষের ধনসম্পদের সুরক্ষা। কোনো অবস্থাতেই অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যের সম্পদের পবিত্রতা ইসলামের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য হলো মানুষের ধনসম্পদের সুরক্ষা (হিফজুল মাল)। কোনো অবস্থাতেই অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, “হে ইমানদারগণ, তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ কোরো না, তবে পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত হলে তা ভিন্ন।” (সুরা নিসা, আয়াত: ২৯) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে মুহাম্মদ (সা.) বলে...

তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নবীজির কালজয়ী ৭ পদক্ষেপ

  ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালেও দেখা যায়, ইসলামের প্রথম যুগের বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তরুণ সাহাবিরাই পালন করেছেন। আলী ইবনে আবি তালিব, মুসআব ইবনে উমাইর, ওসামা ইবনে জায়েদ, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর মতো তরুণেরা নবীজির হাতে গড়ে উঠেছিলেন। তাঁদের কেউ ছিলেন আলেম, কেউ প্রচারক, কেউ প্রশাসক, কেউ সেনাপতি। তাঁদের যোগ্যতা এক ছিল না। দায়িত্বও এক ছিল না। কিন্তু প্রত্যেকের মধ্যে রাসুল (সা.) এমন কিছু দেখেছিলেন, যা অন্যরা হয়তো তখনো দেখতে পায়নি। তরুণদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাই মহানবীর পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত বাস্তবমুখী। তিনি উপদেশ দিয়েছেন, আবার দায়িত্বও দিয়েছেন। ভুল শুধরে দিয়েছেন, আবার আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছেন। ইমান তৈরি করেছেন, আবার সেই ইমানের বাস্তব প্রয়োগের সুযোগও দিয়েছেন। ১. ভালোবাসার মাধ্যমে তরুণের হৃদয় জয় করা কোনো মানুষকে সংশোধন করতে হলে আগে তার হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হয়। রাসুল (সা.)  তরুণদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন, যাতে তারা নির্ভয়ে তাঁর কাছে নিজেদের কথা বলতে পারত। এর একটি অসাধারণ উদাহরণ সেই যুবক, যে নবীজির কাছে এসে ব্যভিচারের অনুমতি চেয়েছিল। সাহাবিরা তার কথায় ক্ষু...

রাখাল থেকে বণিক: তরুণ মুহাম্মদ (সা.)–এর শ্রম-সংস্থান

  হিলফুল ফুজুল চুক্তির (৫৯০ খ্রিষ্টাব্দ) পরের বছরগুলোতে তরুণ মুহাম্মদের জীবনে যে অধ্যায়টি শুরু হয়, তা রাজনীতির মতো সরব না হলেও সমাজ-অর্থনীতির বিচারে কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। প্রাচীন কোরাইশ সমাজে কায়িক শ্রম নিয়ে একধরনের অভিজাত অবজ্ঞা ছিল—গোত্রীয় সামন্তরা একে সাধারণত দাস বা দুর্বলদের কাজ মনে করত। কিন্তু চাচা আবু তালিবের পরিবারের ক্রমবর্ধমান আর্থিক টানাপোড়েনে পরনির্ভরশীল না থেকে মুহাম্মদ (সা.) বেছে নেন স্বোপার্জিত জীবিকার পথ। রাখালি জীবনের শুরু দাদা আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পর বনু হাশিমের অর্থনৈতিক ভিত অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। হাজিদের পানি পান করানো (সিকায়াহ) আর খাদ্য জোগান দেওয়া (রিফাদাহ)—কাবার সম্মানজনক এই দুই দায়িত্ব আবু তালিবের কাঁধে এলেও তাঁর আর্থিক সামর্থ্য ছিল সীমিত, ফলে একপর্যায়ে রিফাদাহর দায়িত্ব তাঁকে সচ্ছল ভাই আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের হাতে ছেড়ে দিতে হয়। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১১০, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮) এই টানাপোড়েন প্রত্যক্ষ করেই বিশ বছর বয়সী মুহাম্মদ (সা.) মক্কার চারণভূমিতে মেষ চরানোর কাজ বেছে নেন। এই পেশাগত অভিজ্ঞতার একটি সাক্ষ্য হাদিসশাস্ত্...

মুমিন চরিত্রের জন্য ক্ষতিকর ৭ স্বভাব

ভালো মানুষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমাদের সবারই আছে। তবে শুধু ভালো গুণ অর্জন করলেই একজন মানুষ সত্যিকার অর্থে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হয়ে যায় না। কিছু মন্দ স্বভাব আছে, যা ধীরে ধীরে মানুষের অন্তর ও চরিত্রকে কলুষিত করে এবং তাকে আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় করে তুলতে পারে। তাই একজন মুমিনের জন্য ভালো গুণ অর্জনের পাশাপাশি ক্ষতিকর ও নিন্দনীয় স্বভাবগুলো থেকেও নিজেকে দূরে রাখা জরুরি। ১. অধিক ঝগড়ায় অভ্যস্ত হওয়া সত্য উদ্‌ঘাটনের জন্য যুক্তি, প্রজ্ঞা ও উত্তম পদ্ধতিতে আলোচনা করা প্রশংসনীয়। কিন্তু আলোচনা যখন সত্য জানার উদ্দেশ্য হারিয়ে নিজের মত প্রতিষ্ঠা, জেতার চেষ্টা কিংবা প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তখন তা আর কল্যাণকর থাকে না। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় ব্যক্তি হলো সে, যে অধিক ঝগড়াটে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৫২৩) প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি সত্যকে গ্রহণ করেন, ভুল হলে তা স্বীকার করেন এবং মতভেদের ক্ষেত্রেও শালীনতা, ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখেন। সব আলোচনায় জয়ী হওয়া নয়, বরং সত্যের কাছে নত হওয়াই তার লক্ষ্য। ২. আত্মগর্ব ও অহংকার করা মানুষের যেমন শরীর অসুস্থ হতে পারে, তেমনি তার...

হালাল বিনিয়োগ: কেন, কোথায় ও কীভাবে করবেন

  ইসলামে বিনিয়োগ কোনো সংকীর্ণ আর্থিক হিসাব-নিকাশ নয়। এটি শুধু ধনী বা ঝানু ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধাও নয়; বরং সাধারণ প্রতিটি মানুষের জন্য নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এক মহৎ সামাজিক দায়। পবিত্র কোরআনে মানুষকে পৃথিবীর দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, “তিনিই তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেখানে তোমাদের বসতি স্থাপন ও তা আবাদ করার দায়িত্ব দিয়েছেন।” (সুরা হুদ, আয়াত: ৬১) ইসলামের নীতি মেনে যখন কোনো মানুষ নিজের উপার্জিত অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করে, কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং সমাজকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে, তখন সেই বিনিয়োগ আর শুধু ব্যবসা থাকে না; তা রূপ নেয় এক জীবন্ত ইবাদতে। কেন বিনিয়োগ করবেন শেয়ারবাজার, বন্ড কিংবা কোনো ব্যবসায় প্রথম টাকাটি খাটাতে যাওয়ার আগে একজন বিশ্বাসী মানুষের মনে এই স্পষ্ট উদ্দেশ্য থাকা দরকার যে সে আসলে কী অর্জন করতে চায়। কোরআনের দর্শন হলো জাগতিক সমৃদ্ধিকে পরকালের পাথেয় বানানো, “আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন তা দিয়ে পরকালের কল্যাণ অনুসন্ধান করো, তবে দুনিয়া থেকে তোমার ন্যায্য অংশটুকু নিতে ভুলো না; আর মানুষের প্রতি তেমন সুন্দর আচরণ করো যেমন ...

তাওবা করো এবং নিজেকে ঠিক করো

  আমি চাই না কেউ অনুশোচনায় দগ্ধ এক জীবন যাপন করুক। আল্লাহ আমাদেরকে এ ধর্ম এ জন্য দান করেননি যে, আমরা অতীতের ভুল নিয়েই পড়ে থাকবো। কুরআনের অন্যতম মহান একটি লক্ষ্য হলো...আল্লাহ বলেন— اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَذِکۡرٰی لِمَنۡ کَانَ لَهٗ قَلۡبٌ اَوۡ اَلۡقَی السَّمۡعَ وَ هُوَ شَهِیۡدٌ - নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার রয়েছে অন্তর অথবা যে নিবিষ্টচিত্তে শ্রবণ করে। (৫০:৩৭) তাই হৃদয় সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়, সবচেয়ে বিস্তীর্ণ উত্তর, আপনার হৃদয়ের অনুভূতি কেমন হওয়া উচিত—তা কুরআনে আছে। কুরআনের মতে—কেউ যদি সমগ্র জীবন পাপ-পঙ্কিলতায় কাটিয়ে দেয়, বিস্মৃতিতে কাটিয়ে দেয়, ভুল-ত্রুটিতে কাটিয়ে দেয়, উপেক্ষায় কাটিয়ে দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি...আল্লাহ কি বলেছেন যে, এখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাকি জীবনটা তোমাকে অতীত জীবনের অনুশোচনায় জ্বলে পুড়ে কাটাতে হবে? কুরআন কি কখনো এমনটি বলেছে? আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির অন্তঃকরণের সুরক্ষায় বেশি সংরক্ষণশীল সৃষ্টির নিজের চেয়েও। আমি নিজের অন্তরের প্রতি যতটা যত্নশীল আল্লাহ আমার অন্তরের প্রতি তার চেয়েও বেশি যত্নশীল। এটা তো বুঝেন, তাই না? এখন, আল্লাহ যদি আমার অতীতের কেয়ারলেস আচরণ এবং ভুলগুল...

অসুস্থতার নিয়ামত ও প্রজ্ঞা

  অসুস্থতার নিয়ামত ও প্রজ্ঞা শাইখ ইয়াসির কাদির জুমার খুতবা থেকে সবকিছুই আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ী ঘটে। তাকদীরের কিছু অংশ আমাদের আনন্দিত করে, কিছু অংশ ব্যথিত করে। রসুল (স) বলেছেন, "আমরা কদরে বিশ্বাস করি—এর ভালো ও মন্দে, এর মিষ্টতা ও তিক্ততায়।" আর তাকদীরের কঠিনতম দিকগুলোর একটি হলো রোগ-ব্যাধি। ধনী-দরিদ্র, তরুণ-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ—অসুস্থতা থেকে কেউই নিরাপদ নয়। কেউ অসুস্থ হয় সাময়িকভাবে, কারো রোগ চলে বছরের পর বছর, আবার কেউ পরীক্ষিত হয় মরণঘাতী ব্যাধি দিয়ে। কিন্তু কুরআন বলছে, "হতে পারে তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করো, অথচ তা-ই তোমাদের জন্য উত্তম।" একজন ইমানদার দুনিয়াকে এই দৃষ্টিতেই দেখে। এর মূলে রয়েছে আল্লাহর প্রতি হুসনুয যন—আল্লাহ সম্পর্কে সর্বোত্তম ধারণা পোষণ করা। সুখের দিনে এই সুধারণা সহজ। কিন্তু ইমানের আসল পরীক্ষা হয় তখন, যখন আমি নিজে অসুস্থ, কিংবা আমার সন্তান অসুস্থ। তখনই প্রশ্ন জাগে—সত্যিই কি আমি তাকদীরে বিশ্বাস করি? এই খুতবায় শাইখ তুলে ধরেছেন অসুস্থতার পাঁচটি নিয়ামত। ১. গুনাহ মোচন রসুল (স) অসুস্থ উম্মে সায়িবকে দেখতে গিয়ে শুনলেন, তিনি জ্বরকে অভিশাপ দিচ্ছেন। ...