পোস্টগুলি

সফলতার পথ দেখাবে কোরআনের ১০ আয়াত

  সাফল্য কেবল পরিশ্রমের ফল নয়, বরং পরিশ্রমের সঙ্গে ধৈর্যের এক চমৎকার সমন্বয়। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত আমাদের থমকে দিতে চায়, কিন্তু পবিত্র কোরআন আমাদের শেখায় কীভাবে ধৈর্যের মাধ্যমে প্রতিকূলতা জয় করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। সাফল্যের এই দীর্ঘ পথ চলায় ১০টি আয়াত হতে পারে আমাদের আলোকবর্তিকা: ১. ধৈর্যশীলদের জন্য আল্লাহর সঙ্গ যেকোনো সংকটে যখন আমরা ধৈর্য ধরি, তখন স্বয়ং স্রষ্টা আমাদের পাশে থাকেন। এর চেয়ে বড় আশার বাণী আর হতে পারে না। উচ্চারণ:  ইন্নাল্লাহা মা'আস সাবিরীন। অর্থ:  নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩) ২. কঠিন পথেই আসে বিজয় সাফল্যের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। পরীক্ষা যত কঠিন হয়, তার পুরস্কারও তত বড় হয়। উচ্চারণ:  ফাসবির সাবরান জামীলা। অর্থ:  অতএব তুমি সুন্দর ধৈর্য ধারণ করো। (সুরা মাআরিজ, আয়াত: ৫) ৩. চেষ্টার মাধ্যমেই পরিবর্তন আসে কেবল ভাগ্যের দোহাই দিয়ে বসে থাকলে চলে না। নিজের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য আগে নিজেকেই উদ্যোগী হতে হয়। উচ্চারণ:  ইন্নাল্লাহা লা ইয়ুগাইয়্যিরু মা বি-কাওমিন হাত্তা ইয়ুগাইয়্যিরু মা বি-আনফুসিহিম। অর্থ:  নি...

সহিহ হাদিস চিনবেন কীভাবে

  ইসলামি জ্ঞানের অন্যতম প্রধান উৎস হলো হাদিস। কোরআনের নির্দেশনাকে বাস্তব জীবনে কীভাবে প্রয়োগ করতে হবে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায় হাদিসে। তবে সব হাদিস একই মানের নয়; কিছু সহিহ, কিছু হাসান (সহিহ’র চেয়ে নিম্নমানের হাদিস) আবার কিছু জয়িফ (দুর্বল)। তাই হাদিস যাচাইয়ের একটি সুসংগঠিত পদ্ধতি প্রাচীনকাল থেকেই হাদিস বিশারদগণ তৈরি করেছেন। এই আলোচনায় আমরা সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করব, সহিহ হাদিস কী এবং একটি হাদিসকে সহিহ গণ্য করার জন্য কী কী শর্ত অপরিহার্য। সহিহ হাদিস কী সহিহ হাদিস হলো এমন হাদিস, যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং যার মধ্যে কোনো গোপন ত্রুটি বা শক্তিশালী বর্ণনার বিরোধ নেই। অর্থাৎ, এটি এমন একটি বর্ণনা, যা রাসুল (সা.)-এর কথা, কাজ বা অনুমোদন হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। (মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ, ১৯-২০) একটি হাদিসকে সহিহ হিসেবে গণ্য করার জন্য মুহাদ্দিসগণ মৌলিক পাঁচটি শর্ত নির্ধারণ করেছেন। এই শর্তগুলো সহিহ হাদিসের উপরোক্ত সংজ্ঞা থেকেই স্পষ্ট হয়। সহিহ হাদিসের গুরুত্ব সহিহ হাদিস ইসলামি জীবনব্যবস্থার একটি মূল ভিত্তি। ইসলামের বিভিন্ন...

অন্যের উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই ব্যবহার কি বৈধ

  ইসলামে অন্যের সম্পদ ভোগ বা আত্মসাৎ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটি শুধু দৃশ্যমান সম্পদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং অদৃশ্য সম্পদ যেমন ইন্টারনেট, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বা ডিজিটাল সুবিধার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। কারও ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত থাকুক বা না থাকুক, মালিকের অনুমতি ব্যতীত সেটি ব্যবহার করা নৈতিক ও শরয়ি দৃষ্টিতে সংগত নয়। অনেক সময় কেউ প্রযুক্তিগত অজ্ঞতার কারণে তাঁর নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত করতে পারেন না—তাই বলে সেটি ব্যবহার করা বৈধ হয়ে যায় না। বরং তা হারাম অর্থাৎ নিষিদ্ধ।আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না এবং জেনেশুনে মানুষের সম্পদের কোনো অংশ পাপভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের কাছে পেশ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮) তবে কিছু ক্ষেত্রে যেমন বিমানবন্দর, উন্নত মানের হোটেল বা নির্দিষ্ট পাবলিক স্থানে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই সরবরাহ করা হয়। এসব ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যবহারকারীরা তা ব্যবহার করতে পারেন।আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না; তবে পরস্পরের সম্মতিক...

হজের মানসিক প্রস্তুতি যেভাবে নেবেন

  হজে যাওয়ার আগে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হজের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনা করা হলো— নিয়ত ও আত্মশুদ্ধি যে কোনো ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো খাঁটি নিয়ত। হজও এর ব্যতিক্রম নয়। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তারা তো এ ছাড়া অন্য কোনো নির্দেশ পায়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে একনিষ্ঠভাবে।’ (সুরা বাইয়িনাহ, আয়াত: ৫) তাই হজে যাওয়ার আগে নিজের অন্তরকে যাচাই করা আবশ্যক যে আমি কি সত্যিই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজে যাচ্ছি, নাকি সমাজে ‘হাজি’ উপাধি পাওয়ার জন্য। যদি নিয়তে গরমিল থাকে, তাহলে এখনই তা পরিশুদ্ধ করা জরুরি। একইসঙ্গে অহংকার, হিংসা, রিয়া (লোক দেখানো), বিদ্বেষ প্রভৃতি ধরনের অন্তরের ব্যাধি দূর করার চেষ্টা করতে হবে। হজ এমন একটি ইবাদত, যেখানে আল্লাহর দরবারে একান্তভাবে নিজেকে সমর্পণ করতে হয়। হজে যাওয়ার আগে নিজের অন্তরকে যাচাই করা আবশ্যক যে আমি কি সত্যিই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজে যাচ্ছি, নাকি সমাজে ‘হাজি’ উপাধি পাওয়ার জন্য। হালাল পাথেয়র ব্যবস্থা হজের ব্যয়ভার অবশ্যই হালাল উপার্জন থেকে হতে হবে। হারাম উপার্জন দ্বারা ইবাদত করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ন...

ব্যবসায় যে ১০ কাজ ইসলামে নিষেধ

  ব্যবসায়-বাণিজ্য মানবজীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে ব্যবসা পরিচালনা করলে একজন ব্যবসায়ী শুধু দুনিয়াতেই নয়, পরকালেও লাভবান হবেন। যারা সততা ও আমানতদারির সঙ্গে ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন, মহানবী (সা.) তাঁদের জন্য সুবিশাল পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। নবীজি (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা (আখেরাতে) নবী, সত্যবাদী ও শহীদদের সঙ্গে থাকবেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২০৯) ইসলামে ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ১০টি কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ১. কারও ক্ষতি করা যাবে না মানুষের ক্ষতি হয় এমন সব পন্থাকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। মানুষের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সওয়াও যাবে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৩৪১) রাসুল (সা.) বাজারে একজন খাদ্য বিক্রেতার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি খাদ্যের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দেখলেন ভেতরের খাবারগুলো ভেজা। বিক্রেতা জানালেন, বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল। ব্যবসায় গ্রাহকের কাছ থেকে আমরা শুধু লাভ করছি তা নয়; বরং তাঁদের সেবা প্রদান করছি। যদি আমরা যৌক্তিক ...

কোরআনে এসেছে নানা রূপের বৃষ্টির কথা

  বৃষ্টি মহান আল্লাহর এক অপার মহিমা ও জীবনের স্পন্দন। পবিত্র কোরআনে বৃষ্টি কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং এটি আল্লাহর কর্মকুশলতার এক অনন্য নিদর্শন। কোথাও বৃষ্টি এসেছে মৃত ভূমিকে পুনর্জীবিত করার রহমত হিসেবে, আবার কোথাও তা অবাধ্য জাতির ওপর নেমে এসেছে আজাব বা শাস্তি হয়ে। কোরআনের এই আয়াতগুলো নিয়ে গভীর চিন্তা করলে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও হিকমতের পরিচয় পাওয়া যায়। ‘মাতার’ ও ‘গাইস’: শব্দের পার্থক্য পবিত্র কোরআনে বৃষ্টির বর্ণনায় ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গভীর। মাতার:  এই শব্দটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তি বা আজাবের প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, “আমি তাদের ওপর পাথর বৃষ্টি বর্ষণ করলাম, অতঃপর সতর্ককৃতদের সেই বৃষ্টি কতই না মন্দ ছিল!” (সুরা শুয়ারা, আয়াত: ১৭৩) গাইস:  এই শব্দটি ব্যবহৃত হয় রহমত, সাহায্য এবং কঠিন খরা বা হতাশার পর নেমে আসা বৃষ্টির বর্ণনায়। যেমন, “তিনিই সেই সত্তা, যিনি মানুষের হতাশার পর ‘গাইস’ (বৃষ্টি) বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন।” (সুরা শুরা, আয়াত: ২৮) কোরআনে বৃষ্টির বিভিন্ন রূপ পবিত্র কোরআনে বৃষ্টির প্রায় ১১টি সরাসরি উল্লেখ ছাড়াও আল-ম...

আল্লাহর ভালোবাসা বাড়বে যে ১০ আয়াত পাঠে

  এই মহাবিশ্বের সব ভালোবাসার উৎস স্বয়ং আল্লাহ–তাআলা। মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি সেই প্রেম ও অনুরাগ বৃদ্ধি করতে এবং তাঁর প্রিয় বান্দা হতে পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর ভালোবাসা গভীর করতে সহায়ক এমন ১০টি আয়াত দেওয়া হলো: ১. মুমিনের প্রধান ভালোবাসা আল্লাহ ইমানের পূর্ণতা আসে যখন মানুষের কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে মহান আল্লাহর ভালোবাসাই শ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হয়। উচ্চারণ:  ওয়া মিনান নাসি মাই ইয়াত্তাখিযু মিন দুনিল্লাহি আনদাদাই ইউহিব্বুনাহুম কাহুব্বিল্লাহ, ওয়াল্লাযিনা আমানু আশাদ্দু হুব্বাল লিল্লাহ। অর্থ:  মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্যদের সমকক্ষ বানায় এবং তাদের আল্লাহর মতো ভালোবাসে। কিন্তু যারা ইমান এনেছে, তারা আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৬৫) ২. রাসুলের অনুসরণে মিলবে আল্লাহর প্রেম আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়ার সহজ পথ হলো তাঁর প্রেরিত রাসুলের (সা.) সুন্নাহ ও জীবনাদর্শ অনুসরণ করা। উচ্চারণ:  কুল ইন কুনতুম তুহিব্বুনাল্লাহা ফাত্তাবি'উনি ইউহবিবকুমুল্লাহু ওয়া ইয়াগফির লাকুম যুনুবাকুম। অর্থ:  বলো, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালো...