পোস্টগুলি

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার ৭ পুরস্কার

  ইস্তিগফার শব্দের অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা। পরিভাষায় ইস্তিগফার মানে নিজের পাপরাশি থেকে মুক্ত হতে আল্লাহ–তাআলার কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করা। ক্ষমা প্রার্থনা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দের একটি আমল। কোরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন প্রসঙ্গে তাঁর প্রিয় বান্দাদের ইস্তিগফারের বিমল পথে হাঁটার নির্দেশনা দিয়েছেন। ইসলামের আলোকে ইস্তিগফারের ৭টি মূল পুরস্কারের কথা আলোচনা করা হলো। ১. উত্তম জীবন উপভোগ করা আমরা সবাই পৃথিবীতে একটি সুন্দর ও উত্তম জীবন উপভোগ করতে চাই। এই উত্তম জীবন লাভের অনন্য মাধ্যম হচ্ছে ইস্তিগফার। কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ইস্তিগফার তথা পাপের ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও। তিনি তোমাদের এক নির্ধারিত কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন এবং যে কেউ বেশি আমল করবে তাকে নিজের পক্ষ থেকে বেশি প্রতিদান দেবেন। আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের জন্য এক মহা দিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি।” (সুরা হুদ, আয়াত: ৩) ২. জাগতিক আজাব থেকে মুক্তি সব ধরনের আজাব-গজব ও মহামারি থেকে বাঁচতে পারা মানবমাত্রেরই আজন্ম আকাঙ্ক্ষা। সেই আজাব থেকে বাঁ...

ইসলামে সুস্থতা, স্বাস্থ্যকর খাবার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ

  ইসলাম মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণকে ইবাদত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা মানুষের মৌলিক চাহিদা। শরীর ও মন সুস্থ থাকার নামই স্বাস্থ্য। পবিত্র কোরআনে প্রকৃতি ও চিকিৎসাবিদ্যা–সম্পর্কিত আয়াত রয়েছে প্রায় ৩৬০টি এবং শুধু চিকিৎসাবিষয়ক আয়াতের সংখ্যাই প্রায় ২৪১টি। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ধোঁকার মধ্যে রয়েছে—তা হলো সুস্থতা ও অবসর।’ (বুখারি: ৬৪১২; তিরমিজি: ২৩০৪; ইবনে মাজাহ: ৪১৭০; মিশকাত: ৫১৫৫) তিনি আরও বলেছেন: ‘তোমরা পাঁচটি বিষয়ের পূর্বে পাঁচটি বিষয়কে গনিমত মনে করবে—বার্ধক্য আসার পূর্বে যৌবনকে, পীড়িত হওয়ার পূর্বে সুস্থতাকে, দারিদ্র্যের পূর্বে সচ্ছলতাকে, ব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে এবং মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে।’ (বুখারি: ১০৭৭; মুসতাদরাকে হাকিম: ৭৮৪৬; মিশকাত: ৫১৭৪) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: ‘গোঁফ ছোট করো, বগলের পশম পরিষ্কার করো, নখ কাটো, গোপন স্থানের লোম পরিষ্কার করো এবং খতনা করো।’ (নাসায়ি: ৫২২৫; সহিহ আলবানি: ৩২৫০) আরও বলেছেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ।’ (...

‘শূন্য অনৈতিকতা’: ইসলামে জগত ব্যবস্থাপনার মহাসূত্র

  পবিত্র কোরআনে সুরা কলমের ৩ ও ৪ নম্বর আয়াতে মহানবী (সা.)-কে লক্ষ করে আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আর নিশ্চয়ই আপনার জন্য রয়েছে অশেষ পুরস্কার। আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ এই দুই আয়াতের সমন্বিত মর্মার্থ হলো নবী-রাসুলদের মতো মহান ও নিষ্কলুষ চরিত্র অর্জনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে পরকালের অশেষ পুরস্কার। নবী-রাসুলদের এই উত্তম চরিত্র অর্জনের মূল কর্মনীতি ও কর্মকৌশল কেমন ছিল, সে বিষয়ে কোরআন বলে, ‘আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসুল পাঠাইনি যার প্রতি আমি এই ওহি নাজিল করিনি যে, ‘আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। সুতরাং আমারই ইবাদত করুন’।” (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ২৫) এই আয়াতে স্বয়ং আল্লাহ বলছেন, ‘আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই’, যা মূলত ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এরই সমার্থক। একই আয়াতে তিনি আরও বলেছেন, ‘আমারই ইবাদত করুন।’ ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য, অন্য কারও জন্য নয়। এই চিরন্তন মহাসূত্র অনুসরণ করেই নবী-রাসুলেরা চরিত্রের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তাওহিদের বনিয়াদি কথাটি স্পষ্ট হয়ে যায়। তা হলো ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য, অন্য কারও জন্য নয়। এই চিরন্তন মহাসূত্র অনুসরণ করেই নবী-রাসুলেরা চরিত্রের সর্বোচ্চ শি...

কোরআন যেভাবে সমাজসেবার কথা বলে

  পবিত্র কোরআনের সামগ্রিক নির্দেশনার কেন্দ্রবিন্দুতে দুটি বিষয় রয়েছে, আল্লাহর হক (হুকুকুল্লাহ) ও বান্দার হক (হুকুকুল ইবাদ)। এর মধ্যে ‘আল্লাহর হক’ হলো সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য ও তাঁর সব ধরনের আদেশ-নিষেধ মান্য করা। আর ‘বান্দার হক’ হলো প্রাণপ্রকৃতির প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা, সামাজিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও জনকল্যাণমূলক কাজ করা। কোরআনের সমাজচিন্তায় মানবসেবা বা পরার্থপরতা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়। অর্থাৎ জাকাত ছাড়া অন্যান্য সেবামূলক কাজগুলো ‘করলে সওয়াব হবে, আর না করলে ক্ষতি নেই’—এই ধরনের নয়। বরং বিভিন্ন আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে সেবামূলক কাজ ইমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ, অন্তরে লালিত বিশ্বাসের সামাজিক বহিঃপ্রকাশ। বিশেষত মক্কায় নাজিল হওয়া সুরাগুলোতে সামাজিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও জনকল্যাণমূলক কাজকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই আল্লাহর হক ও বান্দার হক রক্ষার বিষয়টি অবিচ্ছেদ্যভাবে মুসলমানদের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে। কোরআনে দুটি বিষয়কে আলাদা করা হয়নি। এ কারণে মুসলমানদের একটি দল যখন মক্কা থেকে বর্তমান ইথিওপিয়ায় হিজরত করেছিলেন, তখন সেখানকার শাসক নাজ...

মুসা আল হাফিজের নিবন্ধ :ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যার অস্তিত্বতত্ত্ব

  অস্তিত্বের স্বরূপ কী? সেটা কি একরৈখিক, সমজাতীয় ও সমতল (ফ্লাট রিয়ালিটি), নাকি স্তরবিন্যস্ত, সম্পর্কনির্ভর ও অর্থ-সংগঠিত বাস্তবতা? আধুনিক বস্তুবাদী বিশ্বদর্শনের একটি মৌলিক অনুমান হলো, সমস্ত বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত একই ধরনের পদার্থগত সত্তায় রূপান্তরযোগ্য। পদার্থ, শক্তি, তথ্য কিংবা জটিলতার বিভিন্ন মাত্রা থাকলেও সেগুলো মূলত একই সমতলের ভিন্ন বিন্যাসমাত্র। এই ফিকিরে অস্তিত্বের কোনো গুণগত স্তরবিন্যাস নেই। মানুষ ও নক্ষত্র, চেতনা ও পদার্থ একই ভৌত বাস্তবতার ভিন্ন সংগঠন। ফারাকটা কেবল জটিলতার। অস্তিত্বগত প্রকৃতির নয়, মর্যাদার নয়। ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যার দৃষ্টিতে এই সমতল অন্টোলজির মৌলিক সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। সে ‘কী আছে’—এই প্রশ্নের আংশিক উত্তর দেয়, কিন্তু ‘কেন আছে’, ‘কোন উৎস থেকে আছে’ এবং ‘কী উদ্দেশ্যে আছে’—এই অস্তিত্বগত প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারে না। এখানে কোনো সত্তার অস্তিত্ব (ওজুদ) এবং তার প্রকৃতি (মাহিয়্যাহ) এক বিষয় নয়। কোনো বস্তুর বৈজ্ঞানিক বর্ণনা তার গঠন, ধর্ম ও কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করতে পারে; কিন্তু তার অস্তিত্বগত তাৎপর্য, উদ্দেশ্য ও সৃষ্টিগত অবস্থানকে সম্পূর্ণ তফসির করতে পারে না।...

মহাবিশ্বে মানুষের অবস্থান: ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যার দৃষ্টিকোণ

  ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যা এমন একটি পরিবেশ দর্শন, যা মানুষ, প্রকৃতি এবং সমগ্র সৃষ্টিজগৎকে আল্লাহপ্রদত্ত ফিতরাহ বা স্বাভাবিক বিধানের আলোকে পাঠ করে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকৃতি কেবল পদার্থগত উপাদানের সমষ্টি নয়, আর মানুষও কেবল একটি উন্নত জৈবিক প্রাণী নয়। বরং উভয়েই একটি বৃহত্তর নৈতিক ও অস্তিত্বগত ব্যবস্থার অংশ, যার ভিত্তি তাওহিদ, আমানত এবং ভারসাম্য। এই দৃষ্টিকোণ মানুষকে নতুনভাবে পুনর্নির্ধারণ করতে চায়। আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় মানুষকে প্রায়ই একটি জটিল জৈব-স্নায়বিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়। সেখানে মানুষের চিন্তা, সিদ্ধান্ত এবং আচরণকে ব্যাখ্যা করা হয় স্নায়ুকোষীয় সংযোগজাল (Neural Network), জৈব-রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া (Biochemical Reaction) এবং পরিবেশগত প্রভাবসমূহের (Environmental Inputs) সমন্বিত নতিজা হিসেবে। এই ব্যাখ্যা মানুষের জৈবিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক খোলাসা করে। কিন্তু মানুষের সমগ্র পরিচয়কে ধারণ করে না। সে শুধু তথ্য গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ করে না; বরং তথ্যের অর্থ, মূল্য, দায় এবং পরিণতি সম্পর্কেও বিচার করতে সক্ষম। মানুষের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নৈতিক মূল্যায়ন এবং জবাবদিহির ক্ষমতা নিহি...

বস্তু থেকে আয়াত: প্রকৃতি-পাঠের এক তাওহিদি রূপান্তর

  ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যা আধুনিক পরিবেশচিন্তার একটি মৌলিক সওয়ালকে সামনে আনে। সেটা হলো, আমরা প্রকৃতিকে কী হিসেবে দেখি—বস্তু হিসেবে, নাকি অর্থবাহী বাস্তবতা হিসেবে? আধুনিক যুগে প্রকৃতির প্রধান পাঠ গড়ে উঠেছে পর্যবেক্ষণ, পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণের আন্দাজকে কেন্দ্র করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি বিজ্ঞানের বহু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির রাহা উন্মুক্ত করেছে, প্রকৃতির কার্যকারণ, গঠন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানবজাতিকে গভীর জ্ঞান দিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এই পাঠের একটি সীমাও রয়েছে। যখন প্রকৃতিকে প্রধানত একটি সম্পদব্যবস্থা বা উপযোগমূলক কাঠামো হিসেবে দেখা হয়, তখন তার মূল্য ক্রমশ তার ব্যবহারিক কার্যকারিতার সরহদে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। বন তখন কাঠের উৎস, নদী পানিসম্পদের বাহক, পাহাড় খনিজের ভান্ডার এবং জীববৈচিত্র্য অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার উপাদানে পরিণত হয়। নদীর উদাহরণ এ ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আধুনিক হাইড্রোলজি নদীকে জলপ্রবাহ, অববাহিকা, ক্ষয় ও সঞ্চয়ের একটি জটিল ভৌত ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করে। ফলে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অংশীদারত্বে থাকে না, প্রভুত্বের দিকে চলে যায়। ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যা এই সীমাবদ্ধতার বিপরীতে একটি বিকল্প পা...