পোস্টগুলি

আপনি এখনো মায়ের পেটেই আছেন—সূরা নাহলের এক অবিশ্বাস্য চিত্রকল্প

   আপনি এখনো মায়ের পেটেই আছেন—সূরা নাহলের এক অবিশ্বাস্য চিত্রকল্প আসুন, আজ সূরা আন-নাহলের এমন কিছু আয়াত নিয়ে ভাবি, যেগুলো প্রথম দেখায় মনে হবে ছড়ানো-ছিটানো কিছু বিষয়ের তালিকা—মায়ের গর্ভ, পাখি, ঘরবাড়ি, তাবু, ছায়া, গুহা, পোশাক, বর্ম। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই দেখবেন, আয়াতগুলো একের পর এক গেঁথে তুলেছে এক অসাধারণ চিত্রকল্প—যা একবার বুঝে ফেললে পাখির দিকে তাকানোর দৃষ্টিও বদলে যাবে। অনুচ্ছেদটা শুরু হয়েছে এভাবে: وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا "আল্লাহ তোমাদের বের করে এনেছেন তোমাদের মায়েদের পেট থেকে, যখন তোমরা কিছুই জানতে না" وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ "আর তিনি তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয়—যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।" (১৬:৭৮) ক্রমটা লক্ষ্য করেছেন? প্রথমে শ্রবণ, তারপর দৃষ্টি, তারপর হৃদয়। এটা কোনো এলোমেলো তালিকা নয়। আপনি যখন কিছু শোনেন, তা বদলে দেয় আপনার দেখার দৃষ্টিভঙ্গি; আর নতুন দৃষ্টিতে যা দেখেন, তা স্পর্শ করে আপনার হৃদয়কে। আল্লাহর কালাম ...

পাঁচটি পানীয়, একটি রহস্য — কুরআন কেন মধুর মতো?

  পাঁচটি পানীয়, একটি রহস্য — কুরআন কেন মধুর মতো? আসুন, আজ কুরআনের সবচেয়ে মিষ্টি অনুচ্ছেদগুলোর একটি নিয়ে কথা বলি—সূরা আন-নাহলের ৬৪ থেকে ৬৯ নম্বর আয়াত। উস্তাদ নোমান আলী খানের ভাষায়, চিত্রকল্পের বিবেচনায় এটি কুরআনের অন্যতম অসাধারণ সূরা। আপাতদৃষ্টিতে আয়াতগুলো ছড়ানো-ছিটানো কিছু বিষয় নিয়ে: বৃষ্টি, দুধ, খেজুর-আঙ্গুর, মৌমাছি। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই দেখবেন, প্রতিটি আয়াত একটি সুতোয় গাঁথা। সুতোটা কী? প্রথমে মনে হবে—পানীয়। আকাশের পানি, দুধ, ফলের রস, মধু। কিন্তু আসল সুতোটা আরও গভীরে। লক্ষ্য করুন, অনুচ্ছেদটা কিন্তু শুরুই হয়েছে এমন একটি আয়াত দিয়ে, যার সাথে পানীয়ের কোনো সম্পর্কই নেই: "আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি... পথনির্দেশ ও রহমতস্বরূপ, সেই মানুষদের জন্য যারা ঈমান আনে।" অর্থাৎ, আলোচনার আসল বিষয় হলো ওহী। আর এরপরের প্রতিটি চিত্র আসলে ওহীকেই বোঝার এক-একটি জানালা। প্রথম চিত্র: বৃষ্টি। "আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, তারপর তা দিয়ে মৃত জমিনকে জীবিত করেন।" ওহীও ঠিক তা-ই করে—আকাশ থেকে নেমে আসে আর মৃত অন্তরগুলোকে জীবিত করে। কিন্তু এখানে একটা সূক্ষ্ম ইঙ্গি...

দুইবার "হে নবী" — মাঝখানে কী লুকিয়ে আছে?

  দুইবার "হে নবী" — মাঝখানে কী লুকিয়ে আছে? ------------------------------------------------------------- কুরআনের অনুচ্ছেদগুলো আয়নার মতো সাজানো থাকে—প্রথম অংশ মিলে যায় শেষ অংশের সাথে, আর কেন্দ্রে লুকিয়ে থাকে মূল বার্তা। আজ দেখবো একটি সম্পূর্ণ সূরা কীভাবে এই নিখুঁত বৃত্তাকার বিন্যাসে গাঁথা—সূরা আত-তাহরীম। খুব বড় সূরা নয়, মাত্র বারোটি আয়াত। কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ। সূরাটি শুরু হয়েছে "ইয়া আইয়্যুহান্নাবী"—হে নবী! সম্বোধন করে। আর জানেন কি, সূরাটির শেষ অনুচ্ছেদও শুরু হয়েছে ঠিক একই সম্বোধনে—"ইয়া আইয়্যুহান্নাবী"! কিন্তু দুই জায়গায় প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুরুতে আলোচনা নবীজী (স)-এর একান্ত ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে: "লিমা তুহাররিমু মা আহাল্লাল্লাহু লাক"—কেন আপনি তা নিজের জন্য নিষিদ্ধ করছেন, যা আল্লাহ আপনার জন্য হালাল করেছেন—আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টির জন্য? এক স্ত্রী মধুর গন্ধ অপছন্দ করেছিলেন বলে নবীজী (স) বলেছিলেন, আমি আর মধু খাবো না। আল্লাহ বললেন—না, এটা করবেন না। আর সূরার শেষে? "ইয়া আইয়্যুহান্নাবী, জাহিদিল কুফফারা ওয়া...

জীবন ও মৃত্যুর থিম — আয়াতুল কুরসি থেকে শুরু:

  আল্লাহর পথে ব্যয়: একটি বীজের উপমা —নোমান আলী খান ভূমিকা: ------ কুরআনের সূরা বাকারায় আল্লাহ একটি বিখ্যাত উপমা দিয়েছেন। মুসলিম সমাজে তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে এই আয়াতটি বারবার শোনা যায়, তাই অনেকেই এটির সাথে পরিচিত। আল্লাহ বলেছেন — "যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়, আর প্রতিটি শীষে একশটি দানা থাকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।" (২:২৬১) একটি থেকে সাতশো। তারপর আল্লাহ বলছেন, এর উপরেও তিনি যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বাড়িয়ে দেন — অর্থাৎ সাতশো সংখ্যাটিও কেবল একটি শুরু। কিন্তু এই উপমাটি বিচ্ছিন্ন কোনো বক্তব্য নয়। এটি একটি দীর্ঘ ধারাবাহিক আলোচনার অংশ, যার শিকড় কয়েক আয়াত আগে থেকেই শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপট না বুঝলে উপমাটির পূর্ণ শক্তি অনুভব করা সম্ভব নয়। জীবন ও মৃত্যুর থিম — আয়াতুল কুরসি থেকে শুরু: ----------------------------------------------------------------- এই উপমার কয়েক আয়াত আগেই রয়েছে আয়াতুল কুরসি। সেখানে আল্লাহর প্রথম পরিচয় দেওয়া হয়েছে এভাবে — আল্ল...

আল্লাহ কেন আমাদের সৃষ্টি করেছেন — অসীম রহমতের এক গল্প

আল্লাহ কেন আমাদের সৃষ্টি করেছেন — অসীম রহমতের এক গল্প ------------------------------------------------- একটি অপ্রত্যাশিত শুরু: কয়েক সপ্তাহ আগে একটি ডকুমেন্টারিতে ডাইনোসর এবং পৃথিবীর সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে আলোচনা দেখছিলাম। তখন মাথায় গভীর কিছু ভাবনা জেগে উঠল। এই পৃথিবীতে জুরাসিক যুগ, তার আগের ও পরের যুগগুলো— এই সবকিছু ঘটেছে প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগে। আর আমরা মানবজাতি? সম্ভবত মাত্র এক লক্ষ বছর ধরে এই পৃথিবীতে আছি। কিন্তু এই সংখ্যাগুলোর আড়ালে একটি গভীর বিষয় লুকিয়ে আছে। আল্লাহ বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে এই পৃথিবীকে প্রস্তুত করেছেন — নিখুঁত বায়ুমণ্ডল, ওজোন স্তর, মাটি, পানি, উপত্যকা — শুধুমাত্র আমাদের জন্য। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, "সমগ্র আকাশমণ্ডলী এবং পৃথিবীর সবকিছু আমি তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছি।" সেই বিলিয়ন বিলিয়ন বছরের প্রস্তুতি ছিল কেবল আমাদের আগমনের জন্য। তাহলে প্রশ্ন জাগে — কেন? কেন আল্লাহ এই নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করলেন? ফেরেশতাদের প্রশ্ন: ------------- ফেরেশতারা এই প্রশ্নটি আল্লাহকে সরাসরিই করেছিলেন। তাঁরা অবাক হয়েছিলেন — কারণ এই নতুন প্রজাতি উড়তে পারে না, ঘ...

যে বাগান নিজেই পুড়ে যায়:

  যে বাগান নিজেই পুড়ে যায়: সূরা বাকারার ২৬৬ নম্বর আয়াতের আলোকে সাদাকাহর সঠিক নিয়ত ও পদ্ধতি —নোমান আলী খান সূরা বাকারার ২৬৪ থেকে ২৬৬ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দুটি অনন্য উপমার মাধ্যমে আমাদের সামনে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক সত্য উন্মোচন করেছেন। আলোচনার মূল বিষয়—সাদাকাহ বা আল্লাহর পথে দান। তবে এই আলোচনা কেবল ‘দান করা বা না করা’র সরল সমীকরণ নয়; বরং এর ভেতরের দর্শনটি আরও সূক্ষ্ম, আরও মনস্তাত্ত্বিক। আল্লাহ এখানে স্পষ্ট করেছেন: দানের পরিমাণ কত, তা মুখ্য নয়; বরং কোন নিয়তে এবং কোন পদ্ধতিতে দান করা হচ্ছে—সেটাই আসল ব্যবধান গড়ে দেয়। সঠিক নিয়তে করা দান একটি ক্ষুদ্র বীজের মতো, যা থেকে অঙ্কুরিত বৃক্ষ সাতশত গুণ পর্যন্ত ফল দেয়। পক্ষান্তরে, ভুল নিয়তে করা দান—তা অবয়বে যতই বিশাল হোক না কেন—এমন এক বাগানের মতো, যার ভেতরে হঠাৎ আগুন প্রবেশ করে সবকিছু ছাই করে দেয়। বিশেষ করে ২৬৬ নম্বর আয়াতটি হলো সেই চূড়ান্ত রূপক, যেখানে আল্লাহ এই পুরো বিষয়টিকে আমাদের একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। "তোমাদের কেউ কি চাইবে না?" — স্বপ্নের বাগান ---------------------...

ভয়ানক এক ব্যাধি: যার উপস্থিতি সম্পর্কেও আমরা সচেতন নই

  তোমরা তো এতিমদের সম্মান করো না ------------------------------- ---------------- আল্লাহ তায়ালা সূরা আল-ফাজরে ইরশাদ করেছেন: كَلَّا بَل لَّا تُكْرِمُونَ الْيَتِيمَ -- “কখনোই নয়, বরং তোমরা এতিমকে সম্মান করো না।” এখানে একটু গভীরভাবে লক্ষ করুন—আল্লাহ কিন্তু এতিমকে সাহায্য না করার জন্য তিরস্কার করেননি; তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, তোমরা এতিমকে সম্মান করো না। সবার আগে জেনে নেই, আগেকার দিনে আরবরা এতিম বলতে কাদের বুঝত? সে যুগের সমাজে এতিম মানে শুধু বাবা-মা হারা কোনো শিশু ছিল না। এতিম মানে ছিল এমন এক অসহায় মানুষ—যার কোনো সহায় নেই, কোনো আশ্রয় নেই। যার পাশে এসে দাঁড়ানোর মতো কোনো পরিবার নেই, অসুস্থ হলে কপালে হাত দিয়ে খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই, সে আজ খেয়েছে কিনা—তা জিজ্ঞেস করারও কেউ নেই। সমাজে যার কোনো অবলম্বন নেই, এককথায় সেই ছিল এতিম। ভয়ানক এক ব্যাধি: যার উপস্থিতি সম্পর্কেও আমরা সচেতন নই --------------------------------------------------- ----------------------------- দেখুন, সমাজে যারা আমাদের চেয়ে সামাজিক বা অর্থনৈতিক অবস্থানে ওপরে আছেন, তাদের সম্মান করা বেশ সহজ। আমরা খুব সহজেই আমাদের বস, শিক্ষক,...