পোস্টগুলি

বদলে যাওয়ার প্রথম শর্ত : শক্ত প্রতিজ্ঞা

  বদলে যাওয়ার প্রথম শর্ত : শক্ত প্রতিজ্ঞা ------------------ * --------------* --------------- আপনি হয়তো এমন এক গোপন যুদ্ধ লড়ছেন, যার কথা কেউ জানে না। স্ক্রিনের ওই অন্ধকার জগৎটা বারবার আপনাকে টেনে নেয়, আর প্রতিবার ফিরে এসে আপনি নিজেকেই প্রশ্ন করেন—আমি কি আর কোনোদিন মুক্তি পাবো না? শুনুন। সবকিছুর শুরু অন্তর থেকে, নিয়্যত থেকে। এই দুনিয়া বা আখিরাতের প্রতিটি বিষয়ের সূচনা হতে হবে এক দৃঢ় সংকল্প দিয়ে। রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন—اِنَّمَا الۡاَعۡمَالُ بِالنِّیَّاتِ—"প্রতিটি আমল নির্ভর করে নিয়্যতের উপর।" অন্তরে সেই অটল প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে—আমি বদলাবোই। যদি সেই সংকল্প না থাকে, যদি অন্তরের গভীরে সেটার অস্তিত্বই না থাকে—যদি এটা হয় স্রেফ একটা ভাসা-ভাসা চিন্তা, "দেখি তো কাজ হয় কিনা"—তাহলে আপনি কোনোদিনও বদলাবেন না। আধা-মনের চেষ্টা দিয়ে এই শিকল ভাঙা যায় না। সেই সংকল্পকে শিকড় গাড়তে হবে অন্তরের গভীরতম প্রদেশে। দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে—আমি একজন ভালো মানুষ হবো, এবং আমি এটা পারবো। আর সবচেয়ে বড় কথা—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আপনাকে এমন কোনো পরীক্ষায় ফেলেননি, যা আপনার সা...

শেষ দশ সূরার গল্প — প্রতিদিন যা পড়ি, অথচ সুতোটা দেখি না

  শেষ দশ সূরার গল্প — প্রতিদিন যা পড়ি, অথচ সুতোটা দেখি না -------------------------------------------------------------------------------- সূরা ফীল থেকে সূরা নাস—কুরআনের শেষ দশটি সূরা আমাদের সবচেয়ে বেশি মুখস্থ। নামাজে ঘুরেফিরে এগুলোই পড়ি। কিন্তু কখনো কি খেয়াল করেছেন, এই দশটি সূরা আসলে একটাই গল্প বলছে—একটার পর একটা, নিখুঁত ধারাবাহিকতায়? আজ সেই সুতোটা ধরিয়ে দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, এরপর থেকে এই সূরাগুলো তিলাওয়াতের অভিজ্ঞতাই বদলে যাবে। পুরো গল্পটা বুঝতে আপনাকে শুধু একটা জিনিস মনে রাখতে হবে—ইবরাহীম (আ)-এর দুআ। কাবা নির্মাণের সময় তিনি মক্কার জন্য দুটি জিনিস চেয়েছিলেন: এই শহর যেন নিরাপদ থাকে, আর এর অধিবাসীরা যেন ফলমূলের রিজিক পায়। নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি। ব্যস, এবার গল্প শুরু। সূরা ফীল: আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতির প্রথম অংশ রক্ষা করলেন। হাতির বাহিনী নিয়ে আবরাহা এলো কাবা ধ্বংস করতে—আল্লাহ আবাবিল পাখি দিয়ে তাদের চিবানো ঘাসের মতো করে দিলেন। মক্কা রইলো নিরাপদ। সূরা কুরাইশ: প্রতিশ্রুতির দ্বিতীয় অংশ। رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ—শীত ও গ্রীষ্মের বাণিজ্য সফর। কুরাইশদের ব্যবসা চলে নির্ব...

যে দুটি সূরাকে রাসূল (স) নিজেই জোড়া বেঁধে দিয়েছেন

  যে দুটি সূরাকে রাসূল (স) নিজেই জোড়া বেঁধে দিয়েছেন -------------------------------------------- কুরআনের কিছু সূরা জোড়ায় জোড়ায় চলে—এ শুধু গবেষকদের আবিষ্কার নয়। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (স) কিছু সূরাকে জোড়া-নাম দিয়েছেন। সূরা ফালাক ও সূরা নাসকে তিনি ডেকেছেন "মু'আওয়্যাযাতাইন"—যে দুটি দিয়ে আশ্রয় চাওয়া হয়। আর কুরআনের দুই বিশাল সূরা—বাকারা ও আলে ইমরানকে তিনি নাম দিয়েছেন: اَلزَّهْرَاوَيْنِ "আয-যাহরাওয়াইন"—দুই উজ্জ্বল, দ্যুতিময় জিনিস। এখন প্রশ্ন হলো, পাশাপাশি আছে বলেই কি এরা জোড়া? নাকি এই দুটি সূরা সত্যিই একে অপরের আয়না? চলুন, মিলিয়ে দেখি। প্রথমেই দুটির শুরুতে যান। সূরা বাকারা শুরু হয়েছে "আলিফ লাম মীম" দিয়ে। সূরা আলে ইমরানও শুরু হয়েছে "আলিফ লাম মীম" দিয়ে। এরপর দুটি সূরাই প্রথম নিঃশ্বাসে কথা বলছে একই বিষয়ে, এই কিতাব নিয়ে। ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ "এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই" (২:২) نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ "তিনি আপনার ওপর সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছেন" (৩:৩) এবার শ্রোতাদের দিকে...

হৃদয়ের তালা—বাইরে থেকে কেউ লাগায়নি, চাবিও বাইরের কারো হাতে নেই

  হৃদয়ের তালা—বাইরে থেকে কেউ লাগায়নি, চাবিও বাইরের কারো হাতে নেই আয়াতটা আমরা অনেকেই জানি। সূরা মুহাম্মাদে আল্লাহ প্রশ্ন করছেন—তারা কি কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করে না, নাকি হৃদয়ে তালা লেগে আছে? মোটামুটি এভাবেই আমরা আয়াতটা শুনে এসেছি। হৃদয়ে তালা। একটু দাঁড়ান। আয়াতটা আসলে এ কথা বলছেই না। أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا তারা কি কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করে না — নাকি হৃদয়গুলো আবদ্ধ হয়ে আছে তাদের নিজেদের তালায়? লক্ষ্য করুন। আল্লাহ বলেননি "হৃদয়ে তালা আছে"। বললে আরবিতে হতো "আকফাল"— তালা, ব্যস। কিন্তু তিনি বলেছেন "আকফালুহা" —হৃদয়ের নিজের তালা। ওই ছোট্ট সর্বনামটা পুরো ছবিটাই বদলে দেয়। তালাটা বাইরে থেকে কেউ এসে লাগিয়ে যায়নি। শয়তান লাগায়নি, শত্রু লাগায়নি, পরিস্থিতি লাগায়নি। তালাটা হৃদয় নিজেই বানিয়েছে। নিজের কারখানায়, নিজের উপকরণে। তাহলে উপকরণগুলো কী? সেগুলোও আল্লাহরই দেওয়া। ভেবে দেখুন—রাগ একটা সুস্থ অনুভূতি; কিন্তু সে আপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে, আপনাকে বন্দি করে ফেলতে পারে। ভয় একটা সুস্থ অনুভূতি; ...

জাহেলি যুগে আরবদের মানবিক মূল্যবোধ

  জাহেলি যুগের অন্ধকারের মাঝেও আরবদের সংস্কৃতিতে এমন কিছু উন্নত মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বেঁচে ছিল, যা ইতিহাসে খুব একটা আলোচিত হয় না। আরবদের মাঝে ভালো চরিত্রের যেসব বীজ আগেই বিদ্যমান ছিল, ইসলাম সেগুলো ধ্বংস করেনি; বরং সেগুলো পরিমার্জিত ও পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছে। এ–কারণেই মহানবী (সা.) নিজের আগমনের মূল উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, “আমি তো শধু উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৮৯৫২) বিশেষ করে হিজরতের সময়কাল এবং তার পূর্ববর্তী চরম সংঘাতময় দিনগুলোতে মক্কার পৌত্তলিকদের আচরণের দিকে তাকালে শত্রুতার ভেতরেও রক্ষা করা সেই অনন্য মানবিক মূল্যবোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বয়কট চলাকালীন তিনি রাতের আঁধারে উটের পিঠে খাদ্য ও বস্ত্র চাপিয়ে উপত্যকার মুখে ছেড়ে দিতেন, যাতে অবরুদ্ধ মানুষগুলো খাবারের সন্ধান পায়। বয়কটের সময় মানবিক সাহসিকতা ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম করুণ অধ্যায় ছিল ‘শিআবে আবি তালিব’ নামের গিরিসংকটে মুসলিমদের তিন বছর অবরুদ্ধ করে রাখা। কোরাইশরা তখন মুসলিমদের পাশাপাশি হাশিম ও মুত্তালিবের বংশধরদেরও সামাজিক ও অর্থনৈতিক লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন ক...

‘সেখানেই নবী জাকারিয়া আল্লাহকে ডাকলেন’

  নবী জাকারিয়া (আ.) ছিলেন মারইয়ামের অভিভাবক। তিনি যখনই মারইয়ামের নির্জন ইবাদতকক্ষে (মিহরাব) প্রবেশ করতেন, তখনই সেখানে অসময়ের রিজিক দেখতে পেতেন। একদিন কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে মারইয়াম, এসব তুমি কোথা থেকে পেলে?” মারইয়াম জবাব দিলেন, “এসব আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিজিক দান করেন।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩৭) কোরআনের আয়াতে শুধু ‘রিজিক’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে; কোন ধরনের রিজিক তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে ইবনে কাসিরসহ একাধিক তাফসিরে উল্লেখ আছে, তা ছিল ঋতুবহির্ভূত ফলমূল। অর্থাৎ শীতকালে গ্রীষ্মের ফল বা গ্রীষ্মে শীতের ফল। মারইয়ামের এই জবাব নবী জাকারিয়ার হৃদয়কে গভীরভাবে আলোড়িত করল। ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানেই তিনি তাঁর প্রতিপালককে ডাকলেন। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩৮) ‘হুনালিকা’: অর্থ ও প্রয়োগ ‘সেখানেই’ শব্দকে কোরআনের ভাষায় ‘হুনালিকা’ বলা হয়েছে। তবে শব্দটি কেবল একটি নির্দিষ্ট স্থানকে বোঝায় না; এটি ইঙ্গিত করে এমন এক মুহূর্তকে, যখন মানুষের মনোজগতে আধ্যাত্মিক সচেতনতা তৈরি হয়। সাধারণ মানবিক প্রবণতা হলো, অন্যের জীবনে কোনো বিশেষ নেয়ামত বা সাফল্য দেখলে মা...

যেভাবে দরুদ পড়লে জীবনে দুশ্চিন্তা কমে আসে

  দরুদ শরিফ; যার সহজ অর্থ হলো আল্লাহর কাছে মহানবী (সা.)–এর প্রতি রহমত বর্ষণের দোয়া করা। দরুদ পাঠ করা আল্লাহর খুবই প্রিয় একটি আমল। এর মাধ্যমে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ করা আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠান। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠাও এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬) নবীজি নিজেও উম্মতকে দরুদের তাগিদ দিয়েছেন। বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিন আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করবে। কেননা তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়, ফেরেশতারা পৌঁছে দেন। যে কেউ দরুদ পড়ুক, ক্ষান্ত না হওয়া পর্যন্ত তা আমার নিকট পৌঁছাতে থাকে।’ এই হাদিস বর্ণনাকারী জানতে চাইলেন, আপনার ইন্তেকালের পরেও? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, ইন্তেকালের পরেও। আল্লাহ–তাআলা নবীদের দেহ গ্রাস করা জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। আল্লাহর নবী কবরে জীবিত এবং তাঁকে রিজিক দেওয়া হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬৩৭) দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনের জন্য দরুদ পাঠ দরুদ পাঠকারীর ওপর আল্লাহ–তাআলা সরাসরি রহমত বর্ষণ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) ব...