পোস্টগুলি

কোরআনের প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপি যেভাবে উদ্ধার করা হয়

  সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত প্রাচীন কোরআনের একটি পৃষ্ঠা আবিষ্কারকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক একাডেমিক জগতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিটি রেডিওকার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে বলা হচ্ছে, এটি সম্ভবত মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সমসাময়িক বা তাঁর ওফাতের পরপরই (৫৭০-৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) লিখিত কোনো অনুলিপির অংশ। ইতিহাসের ধূলিজমা পাতা উল্টালে দেখা যায়, কোরআনের প্রাচীনতম লিপির এই অনুসন্ধান শুধু আধুনিককালের আবিষ্কার নয়; বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি বিশ্বসভ্যতার এক অমূল্য রত্ন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আদি আরবি প্রত্নলিপি বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপির আবিষ্কার ও কালক্রম নির্ধারণ নিয়ে আধুনিক প্রাচ্যবিদ ও পাণ্ডুলিপিশাস্ত্রীদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্য রয়েছে। গবেষক মনির ইউসুফ তাহা উল্লেখ করেছেন যে বার্মিংহামের এই দুই পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপিটি হিজরি প্রথম শতক বা মহানবীর জীবদ্দশার খুব কাছাকাছি সময়ের বার্তা বহন করে, যা ইসলামের একদম শুরুর দিকের লিখিত কোরআনিক পাঠের ঐতিহাসিক সত্যতাকে আরও সুদৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে। (মনীর ইউসুফ তাহা, আনাফ সাময়িকী , ...

গোপন পাপের প্রকাশ: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আত্মার নীরব বিপর্যয়

  একসময় মানুষ নিজের পাপকে লুকিয়ে রাখতে চাইত। ভুল করলে লজ্জায় মাথা নত হতো, একান্তে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন এমন এক যুগে আমরা বাস করছি, যেখানে অনেকেই নিজের ব্যক্তিগত জীবন, ভুল, এমনকি পাপও জনসমক্ষে তুলে ধরতে দ্বিধা করে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন এমন এক মঞ্চ, যেখানে মানুষ নিজের জীবনকে প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই প্রতিযোগিতায় কখন যে লজ্জাবোধ, আত্মসম্মান ও তাকওয়া হারিয়ে যায়, তা টেরই পাওয়া যায় না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা সতর্ক করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা এটা পছন্দ করে যে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা নুর: ১৯) এই আয়াত কেবল অশ্লীলতার প্রচারকারীদের জন্য নয়; বরং এমন একটি মানসিকতার বিরুদ্ধেও সতর্ক করে, যা মানুষের পাপকে সমাজে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে। ধরা যাক, আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করছেন। হঠাৎ বহুদিনের এক বন্ধুর ছবি চোখে পড়ল। সেখানে দেখা গেল, সে মদের গ্লাস হাতে হাসিমুখে ছবি তুলেছে। হয়তো সে এটিকে আধুনিকতা কিংবা স্বাধীনতার প্রতীক মনে করেছে। কিন্...

পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণে ইসলামি নির্দেশনা

  মানবজীবনের টিকে থাকা ও বিকাশের সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। মহান আল্লাহ-তাআলা মানুষ ও প্রাণিকুলের জন্য যে পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, তা এক সুষম ও পরিমিত ব্যবস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। উদ্ভিদ, গাছপালা, পশুপাখি, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত ও সাগর—সবকিছু মিলেই গড়ে উঠেছে এই বিস্তৃত প্রতিবেশ। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন। অতঃপর তা মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে। অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা তা পৌঁছান, তখন তারা আনন্দিত হয়।’ (সুরা-৩০ রুম, আয়াত: ৪৮) আল্লাহ–তাআলার অগণিত নিয়ামতের মধ্যে বৃক্ষরাজি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো শুধু খাদ্যের উৎস নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার প্রধান উপাদান। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা কি লক্ষ করে না, আমি ঊষর ভূমিতে পানি প্রবাহিত করে তার সাহায্যে উদ্‌গত করি শস্য, যা থেকে তাদের গবাদিপশু এবং তারা নিজেরা আহার করে। তারা কি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হবে না?’ (সুরা-৩২ সাজদা, আয়াত: ২৭) পরিবেশ সংরক্ষণ ইসলামে...

স্পেন: আমাদের হারানো আন্দালুসিয়ার গল্প

  ইতিহাসের পাতায় স্পেনের মুসলিম শাসনের অধ্যায় মানবসভ্যতার অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। প্রায় আট শতাব্দী (৯২ হি.–৮৯৭ হি./৭১১–১৪৯২ খ্রি.) ধরে মুসলিমরা আইবেরীয় উপদ্বীপে এমন এক সভ্যতা গড়ে তুলেছিল, যা শুধু ইউরোপ নয়, সমগ্র বিশ্বের জ্ঞান, বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। মুসলিমশাসিত স্পেন, যা উন্দুলুস বা আন্দালুসিয়া নামে পরিচিত ছিল, মধ্যযুগের অন্ধকার ইউরোপে জ্ঞান ও আলোর এক উজ্জ্বল প্রদীপে পরিণত হয়েছিল। মুসলিমদের স্পেনে আগমন ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সেনাপতি তারিক ইবনে জিয়াদ প্রায় সাত হাজার সেনা নিয়ে জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করেন। পরবর্তী সময়ে এই স্থানটি তাঁর নামানুসারে জাবালুত তারিক (Gibraltar) নামে পরিচিত হয়। সে সময় স্পেনে ভিসিগোথ রাজাদের শাসন চলছিল। রাজা রডরিকের অত্যাচারে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। গুয়াদালেতের যুদ্ধে তারিক ইবনে জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী রডরিককে পরাজিত করে। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কর্দোবা, টলেডো, সেভিল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর মুসলিমদের অধীনে চলে আসে। উমাইয়া শাসনের প্রতিষ্ঠা ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দ...

যেভাবে আল্লাহকে ডাকলে মনে প্রশান্তি আসে

  সবই আছে, নেই শুধু মনের প্রশান্তি। কোরআন আমাদের বলে দিয়েছে কোথায় প্রশান্তি পাওয়া যাবে। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮) তিনি নবীজিকে বলেন, ‘ধৈর্যের সঙ্গে আপনি তাদের সংসর্গে থাকুন, যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে ডাকে, তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে।’ (সুরা কাহফ, আয়াত: ২৮)জিকির জিকির মানে স্মরণ করা জিকির শব্দের বাংলা হলো স্মরণ করা। আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে অদৃশ্য সম্পর্ক তৈরি করে। তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম হয় এবং মানুষ সরল ও সঠিক পথে অবিচল থাকার শক্তি অর্জন করতে পারে। আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে অদৃশ্য সম্পর্ক তৈরি করে। তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম হয় এবং মানুষ সরল ও সঠিক পথে অবিচল থাকার শক্তি অর্জন করতে পারে। এ কারণে আল্লাহ–তাআলা বান্দাকে দিনে-রাতে গোপনে-প্রকাশ্যে—সব সময় জিকির করার আদেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মুমিনগণ তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো। এবং সকাল–বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো।’ (সুরা আহযাব, আয়াত: ৪১, ৪২) ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘জিকিরের ফজিলত শুধু তাসবিহ, তাহলিল, ...

আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার বিরল ঘটনা

  পবিত্র কোরআনে বহু জাতির উত্থান-পতনের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। তবে এসব ঘটনার মধ্যে একটি ব্যতিক্রমী ইতিহাসও রয়েছে, সেটি হলো নবী ইউনুসের সম্প্রদায়ের ঘটনা। তারা প্রথমে আল্লাহর নবীর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু আজাবের লক্ষণ নিজ চোখে দেখার পর সম্মিলিতভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। তাদের অনুতাপ ছিল অন্তরের গভীর থেকে উৎসারিত, তওবাও ছিল পরিপূর্ণ আন্তরিক। ফলে আল্লাহ তাদের ওপর থেকে পার্থিব শাস্তি প্রত্যাহার করে নেন। নবী ইউনুস ও নিনেভার জনগণ ইউনুস (আ.) ছিলেন বনি ইসরাইলের একজন সম্মানিত নবী। আল্লাহ তাঁকে ইরাকের ঐতিহাসিক নগরী নিনেভার অধিবাসীদের কাছে প্রেরণ করেছিলেন। সে সময় নিনেভা ছিল সমৃদ্ধ জনপদ, কিন্তু তাদের জীবন ছিল শিরক ও নৈতিক অবক্ষয়ে পরিপূর্ণ। তারা মূর্তিপূজার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। আকাশের রং অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে, চারদিকে ভয়ের আবহ সৃষ্টি হয় এবং এমন কিছু আলামত প্রকাশ পায়, যা দেখে সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে নবীর সতর্কবাণী সত্য ছিল। নবী তাদের দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহ্বান করেন। তিনি বুঝিয়ে বলেন, মানুষের সৃষ্টি, জীবন, মৃত্যু ও রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। ...

নামাজ কেন জামাতে আদায় করতে হয়

  ইবাদতকে সামাজিকভাবে আদায়ের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে ইসলামে। নামাজ ইসলামের প্রধান খুঁটি। জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়লে এর আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়। কোরআনে জামাতে নামাজের কথা মহান আল্লাহ কোরআনে বারবার নামাজের গুরুত্ব ও জামাতের সঙ্গে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ–তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নামাজের হেফাজত করো, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজের এবং আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দাঁড়াও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৩৮) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৩) এই আয়াতের শেষাংশে ‘রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো’ নির্দেশটি জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের আবশ্যিকতা বা গুরুত্বের সুস্পষ্ট দলিল। যুদ্ধের ময়দানেও জামাত যুদ্ধের মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহ জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে সাধারণ সময়ে জামাত কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যখন আপনি তাদের মধ্যে থাকেন এবং তাদের নিয়ে নামাজ কায়েম করেন, তখন যেন তাদের একটি দল আপনার সঙ্গে অস্ত্রসহ দাঁড়ায়। তারা যখন সিজদা সম্পন্ন করবে, তখন যেন তারা সরে ...