পোস্টগুলি

‘যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান নেই, তাতে ধৈর্য রাখবেন কীভাবে?‘

  পবিত্র কোরআনে নবী মুসা ও খিজিরের (আ.) ঐতিহাসিক সাক্ষাতের গল্পটি মানব ইতিহাসের এক পরম শিক্ষণীয় অধ্যায়। যখন নবী মুসাকে সতর্ক করে খিজির বলেছিলেন, “যে বিষয়ে আপনার কোনো পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে আপনি কীভাবে ধৈর্য ধারণ করবেন?” (সুরা কাহফ, আয়াত: ৬৮) এর জবাবে মুসা (আ.) বলেছিলেন, “আল্লাহ চান তো আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোনো আদেশের অবাধ্য হব না।” (সুরা কাহফ, আয়াত: ৬৯) এই ঘটনাটি আমাদের স্পষ্ট করে দেখায় যে জ্ঞানের ক্ষেত্রে নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা এবং অজানা বিষয়কে আল্লাহর প্রজ্ঞার ওপর সোপর্দ করাই প্রজ্ঞার মূল ভিত্তি। অনেকেই বুঝতে চান না, কোনটা কখন অগ্রাধিকার পাবে।  ইসলামি বিধানে কিছু বিষয় ধ্রুব ও অপরিবর্তনীয়, আর কিছু বিষয় পরিপার্শ্বিক অবস্থার আলোকে নমনীয়। একে ‘ফিকহুল আওলাবিয়্যাত’ বলে। জ্ঞানের সীমানায় বিনয় কোরআনের এই দূরদর্শী গল্পের মাধ্যমে আল্লাহ–তাআলা নবী মুসা-কে এটিই বুঝিয়েছিলেন যে, তাঁর জ্ঞানের বাইরেও একটি বিশ্ব রয়ে গেছে। একবার বনি ইসরাইলের এক জনসভায় নবীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কি কেউ আছে?” তাঁর উত্তরে আল্লাহ–তাআলা তাঁকে ওহি মারফত জানিয়ে ...

নিজের পরিবর্তন চান? আল্লাহ কখন পরিবর্তন ঘটান জেনে নিন

  পরিবর্তন আমরা সবাই চাই। অভাবী চায় সচ্ছলতা, পাপী চায় মুক্তি, অস্থির হৃদয় চায় প্রশান্তি। কিন্তু পরিবর্তন চাইলেও এর জন্য প্রথম পদক্ষেপটি নিতে আমরা প্রায়ই প্রস্তুত থাকি না। আমাদের ধারণা, সময় হলে আপনা-আপনি সব ঠিক হয়ে যাবে। এই অপেক্ষায় কেটে যায় জীবন, এমনকি কয়েক প্রজন্ম; কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আর আসে না। অথচ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা পরিবর্তনের এক চিরন্তন সূত্র জানিয়ে দিয়েছেন, যা আমাদের এই অপেক্ষার মানসিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবায়। আয়াতটির অর্থ, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।’ (সুরা রাদ, আয়াত: ১১) আয়াতটি ছোট, কিন্তু এর বার্তা গভীর। পরিবর্তনের প্রথম শর্ত নিজের সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব, ততটুকু বদলানো। বাকিটা আল্লাহর হাতে। চেষ্টা বান্দার দায়িত্ব, ফলাফল আল্লাহর দান। আগে নিজেকে বদলাতে হয় মুফাসসিরগণ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ কোনো জাতিকে দেওয়া নেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত ছিনিয়ে নেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরাই নিজেদের ভেতরের অবস্থা, মানে ইমান, আমল ও আনুগত্য নষ্ট করে ফেলে। (তাফসিরে ইবনে কাসির, সুর...

যে ৬ অভ্যাস মানুষকে আল্লাহমুখী করে

  জীবনপথে চলতে গিয়ে মানুষমাত্রই ভুলভ্রান্তির মুখোমুখি হয়। কখনো না বুঝে, কখনো অসচেতনতায়, আবার কখনো মনস্তাত্ত্বিক প্ররোচনায় আমরা এমন কিছু করে ফেলি, যার জন্য পরবর্তী সময় গভীর অনুশোচনা জাগে। মানবসত্তা স্বভাবগতভাবেই দুর্বল, কিন্তু ভুলের পর হতাশায় নিমজ্জিত না হয়ে স্রষ্টার রহমতের দিকে তওবা করে ফিরে আসাই প্রাজ্ঞ মানুষের প্রধান লক্ষণ। আল্লাহ–তাআলা অপার করুণা প্রকাশ করে বলেন, ‘বলুন, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩) ১. অন্তরের সৎচিন্তা ও তওবা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের প্রথম ধাপ হলো নিজের ভুল উপলব্ধি করা। মুখে ক্ষমা চাওয়া আর নেপথ্যে পাপের অভ্যাস চালিয়ে যাওয়ার নাম তওবা নয়; বরং কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তা ছেড়ে দেওয়ার সংকল্প করাই খাঁটি তওবা। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনেরা! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা (তওবাতুন নাসুহা) করো।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৮) ২. ইবাদতে নিয়মিত হওয়া নামাজ ও জিকির–আসকার মানুষের আত্মাকে মার্জিত করে এবং অন্যায়ের আকর্ষণ থেকে দূরে...

ইসলামি বিচারব্যবস্থায় দণ্ড মওকুফের নীতিমালা

  কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা শাসকের পক্ষ থেকে অন্যের জান, মাল ও সম্মানের ওপর আঘাত হানা ইসলামে বড় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। তবে যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া যেমন ন্যায়বিচারের দাবি, তেমনি কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সেই শাস্তি শিথিল করা, স্থগিত রাখা কিংবা মওকুফ করার সুস্পষ্ট নীতিমালাও ইসলামি বিচারব্যবস্থায় বিদ্যমান। আইনি সাজা ও বিচারবহির্ভূত নিপীড়ন অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে ইসলামি আইনে বিচারিক প্রক্রিয়া এবং বিচারবহির্ভূত কার্যকলাপের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রেখা রয়েছে। আদালত বা বিচার বিভাগ থেকে যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সঠিক আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারিক দণ্ড দেওয়া হয়, তবে তা কার্যকরকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো দায় থাকে না। কিন্তু যদি কোনো রায় সুস্পষ্ট জুলুমের ওপর ভিত্তি করে হয়, কিংবা কোনো ধরনের আইনি বিচার ছাড়াই শুধু সন্দেহের বশে কাউকে নির্যাতন বা সাজা দেওয়া হয়—তবে ইসলামে তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে অন্যায়ভাবে কাউকে কষ্ট দেওয়ার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, “যারা কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ...

ছোট পাপও যখন ভয়াবহ রূপ নেয়

  মানুষ প্রায়ই বড় পাপ থেকে বাঁচার চেষ্টা করলেও ছোট পাপকে তুচ্ছ ভেবে অবহেলা করে। মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কোনো কথা, অন্যায় দৃষ্টি, কিংবা মনে মনে চর্চা করা সামান্য গিবত। মনে হয়, এসব তো কবিরা গুনাহ নয়, তাহলে ক্ষতি কী? অথচ শরিয়তের দৃষ্টিতে ছোট পাপকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আর যে অণু পরিমাণও মন্দ কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে।’ (সুরা জিলজাল, আয়াত: ৮) মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কোনো কথা, অন্যায় দৃষ্টি, কিংবা মনে মনে চর্চা করা সামান্য গিবত। মনে হয়, এসব তো কবিরা গুনাহ নয়, তাহলে ক্ষতি কী? ছোট পাপ যখন ধ্বংসের কারণ আমরা প্রায়ই বড় পাপ নিয়ে সতর্ক থাকি, কিন্তু ছোট পাপকে তুচ্ছ মনে করে উপেক্ষা করি। অথচ রাসুল (সা.) এ বিষয়ে সতর্ক করে গেছেন যে ছোট পাপ জমতে জমতে মানুষের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, ‘তোমরা ছোট ছোট পাপ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, এগুলো মানুষের মধ্যে একত্র হতে থাকে, শেষ পর্যন্ত তাকে ধ্বংস করে দেয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৩৮১৮) রিজিক থেকে বঞ্চিত হওয়া পাপের প্রভাব শুধু আখিরাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তা দুনিয়ার জীবনেও বান্দার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এম...

যে ৫ ধরনের প্রকল্পে জাকাতের অর্থ ব্যবহার বৈধ নয়

  বর্তমান সময়ে জাকাতকে এক ধরনের সাধারণ ‘সমাজকল্যাণ তহবিল’ হিসেবে গণ্য করার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, যেকোনো ভালো সামাজিক কাজ, অবকাঠামো উন্নয়ন বা দাতব্য প্রকল্পেই বুঝি জাকাতের টাকা ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু ইসলামে জাকাতের ব্যয়ের খাত সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্ট ও নির্ধারিত। পবিত্র কোরআনে জাকাত ব্যয়ের আটটি প্রধান খাত স্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। (সুরা তওবা, আয়াত: ৬০) জাকাত কোনো সাধারণ কর বা স্বেচ্ছা-দান নয় যে তা দিয়ে যেকোনো সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা করা যাবে। সাহাবি মুআজ ইবনে জাবালকে ইয়ামেনে পাঠানোর সময় মহানবী (সা.) জাকাতের মূল লক্ষ্য স্পষ্ট করে নির্দেশ দিয়েছিলেন, “তুমি তাদের জানিয়ে দাও যে আল্লাহ তাদের ওপর জাকাত ফরজ করেছেন; যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৯৫) অতএব, জাকাতের অর্থের প্রথম ও মূল স্বত্বাধিকারী হলেন দরিদ্র ও নিঃস্ব মানুষ। যেসকল প্রকল্পে দরিদ্রদের সরাসরি অর্থনৈতিক অধিকার, মালিকানা বা মৌলিক প্রয়োজন অর্জিত হয় না, সেসব ক্ষেত্রে জাকাতের অর্থ ব্যবহার করা ইসলামি আইনশা...

বিনয়ী মুমিন হওয়ার কার্যকর ৬ উপায়

  মানুষের আসল সৌন্দর্য শুধু তার চেহারা, সম্পদ বা জ্ঞান নয়; বরং তার চরিত্রে। আর উত্তম চরিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ হলো বিনয়। বিনয় মানুষকে ছোট করে না; বরং আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান ও মানুষের কাছেও প্রিয় করে তোলে। বিনয়ী চরিত্র গঠনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। ১. নেয়ামতকে আল্লাহর অনুগ্রহ ভাবা অহংকারের অন্যতম কারণ হলো নিজের অর্জনকে কেবল নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের ফল মনে করা। অথচ মানুষের জ্ঞান, সম্পদ, সৌন্দর্য, ক্ষমতা, সম্মান—সবই মহান আল্লাহর দান। তিনি চাইলে মুহূর্তেই এসব ফিরিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কাছে যে নেয়ামত আছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৫৩) এই বিশ্বাস যত গভীর হবে, মানুষ তত বেশি কৃতজ্ঞ হবে। আর কৃতজ্ঞ হৃদয় অহংকার নয়, বিনয়ই স্থান পায়। ২. অপরের সেবা করা বিনয় শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেও প্রকাশ পায়। রাসুল (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। তবু তিনি নিজ হাতে ঘরের কাজ করতেন, অসুস্থদের খোঁজ নিতেন, দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে আহার করতেন।তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে মর্যাদায় উন্...