পোস্টগুলি

মানুষ কেন গিবত করে

  সামাজিক জীবনে যে পাপগুলো সবচেয়ে সহজে ও নিঃশব্দে বাসা বাঁধে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘গিবত’ বা পরনিন্দা। বন্ধুদের আড্ডা, চায়ের টেবিল কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় হাসির ছলে আমরা প্রায়ই অন্যের অনুপস্থিতিতে তার দোষত্রুটি আলোচনা করি। এই আলোচনা সমাজে এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে যে একে পাপ মনে করার মানসিকতাই যেন আমরা হারিয়ে ফেলছি। আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ বিনোদন মনে করলেও ইসলামি জীবনদর্শনে একে একটি জঘন্য অপরাধ ও আত্মিক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে গিবত বা পরনিন্দাকে নিজের মৃত ভাইয়ের কাঁচা গোশত খাওয়ার মতো বীভৎস অপরাধের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২) মহানবী (সা.) বলেছেন, হে ওই সকল লোক, যারা শুধু মুখেই ইমান এনেছো কিন্তু অন্তর পর্যন্ত বিশ্বাস পৌঁছায়নি, তোমরা মুসলমানদের গিবত কোরো না এবং তাদের গোপন দোষ খুঁজে বের কোরো না; কারণ যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দোষ খোঁজে, আল্লাহ তার দোষ খুঁজে বের করেন, আর আল্লাহ যার দোষ খোঁজেন, তাকে তার ঘরের ভেতরেও অপমানিত করে ছাড়েন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৮০) ইসলামি চিন্তাবিদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসির গবেষণার আলোকে গিবতের রূপ, এর নেপথ্য কারণ, ইসল...

কাউকে উপদেশ দেওয়ার আগে ৮টি কথা মনে রাখুন

  মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং সমাজকে সুন্দর করার অন্যতম সেরা উপায় হলো গঠনমূলক উপদেশ বা ‘নসিহত’ করা। কিন্তু পরামর্শ দেওয়ার কৌশল না জানা থাকলে সেই শুভাকাঙ্ক্ষাই অনেক সময় সম্পর্কে ফাটল ধরায়। উপদেশ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো অপর মানুষকে ভালো হতে সাহায্য করা, তাকে হেয় করা বা অপমান করা নয়। ইসলামে উপদেশ দেওয়া শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি নবীদের সুন্নত এবং একটি বিশেষ শিল্প। পবিত্র কোরআনে ‘নসিহত’ বা উপদেশ দেওয়ার বিষয়টি অন্তত ১৩টি স্থানে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। নবী হুদ (আ.) তাঁর জাতিকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, “আমি আমার প্রতিপালকের বার্তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি এবং আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত উপদেশদাতা।” (সুরা আরাফ, আয়াত: ৬৮) যে ব্যক্তি তার ভাইকে গোপনে সংশোধন করে, সে তাকে উপদেশ দিল; আর যে প্রকাশ্যে সংশোধন করতে যায়, সে তাকে মূলত লজ্জিত ও হেয় করল। ইমাম শাফেয়ি (রহ.) নিজের ভুলত্রুটি মানুষ নিজে সহজে দেখতে পায় না। তাই বিশ্বাসীরা পরস্পরের জন্য আয়নার মতো কাজ করে। মহানবী (সা.) বলেছেন, “এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য আয়নাস্বরূপ।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯১৮) কিন্তু কীভাবে উপদেশ দি...

সুষম খাদ্যাভ্যাস ও ইসলামে পুষ্টিভাবনা

  খাবার শুধু ক্ষণিকের জন্য পেট ভরানোর মাধ্যম নয়; বরং এটি আমাদের শরীর, মনের শক্তি, কাজের সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এমনকি আমাদের আত্মিক একাগ্রতা, ঘুম, মনস্তাত্ত্বিক রূপ ও দৈনন্দিন আচরণের ওপরও খাবারের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ইসলাম খাবারকে সব সময় এক সুষম ভারসাম্যের মধ্যে রেখেছে। অন্যদিকে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও ঠিক এই ভারসাম্য ও বৈচিত্র্যের ওপর জোর দেয়। খাবারের প্লেটকে রঙিন ও বৈচিত্র্যময় করে তোলা সুস্থ থাকার একটি সহজ কৌশল। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের শাকসবজি ও ফলমূল রাখা উচিত—যেমন সবুজ শাক, লাল টমেটো, হলুদ মিষ্টিকুমড়া, কমলা গাজর বা বেগুন। ১. শুধু ‘হালাল’ নয়, খাবার হতে হবে ‘তায়্যিব’ আমরা খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘হালাল’ কি না—তা নিয়ে কমবেশি সচেতন। কিন্তু ইসলাম শুধু হালালেই সীমাবদ্ধ থাকতে বলেনি; বরং খাবারকে হতে বলেছে ‘তায়্যিব’। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘হে মানুষ, পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও তায়্যিব, তা থেকে তোমরা আহার করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৬৮) ‘তায়্যিব’ শব্দটির ভেতরে খাবারের বিশুদ্ধতা, গুণগত মান, তাজা ভাব এবং পুষ্টিগুণের বিষয়টি নিহিত রয়েছে। (ইবনে কাসির, তাফস...

কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক থাকতে নবীজির জীবন থেকে ৫ শিক্ষা

  অফিসের কাজের চাপ, সহকর্মীদের আচরণ কিংবা বসের কঠিন সমালোচনার মুখে মেজাজ ঠিক রাখা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রতিদিন আট থেকে দশ ঘণ্টা ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতা, ভিন্ন মেজাজ ও বিচিত্র সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। কারো সঙ্গে মতের অমিল থেকে অনেক সময় মনের ভেতর ক্ষোভ তৈরি হয়। মনে হতে পারে যেকোনো মুহূর্তে মেজাজ হারিয়ে ফেলব। এমন হলে স্মরণ করা উচিত, আল্লাহ আমাদের কাছে কেমন আচরণ আশা করেন। কোরআনে আল্লাহ নবীজিকে লক্ষ্য করে বলেছেন, “আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, আর আপনার ধৈর্য তো শুধু আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব। তাদের আচরণে কষ্ট পাবেন না এবং তাদের চক্রান্তের কারণে সংকুচিত বা উদ্বিগ্ন হবেন না।” (সুরা নাহল, আয়াত: ১২৭) ইসলাম আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, “ধৈর্যের চেয়ে বড় ও কল্যাণকর কোনো নেয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪৬৯) নবীজির শেখানো সুন্নাহ অনুসরণ করে কীভাবে কর্মক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করা যায় এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখা যায়, তারই ৫টি কার্যকরী উপায় নিয়ে এই আলোচনা। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে বা কারো রুক্ষ কথায় হঠাৎ রাগ উঠলে সঙ...

যে কাজে বিনষ্ট হয় উপকারের সওয়াব

  ইসলাম মানুষের প্রতি সহযোগিতা ও উপকারকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ গুণ হিসেবে দেখে। একে অপরের সুখে আনন্দিত হওয়া, দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উত্তম মানবিকতার অংশ। তবে এমন কিছু আচরণ আছে, যা এসব উপকারের সৌন্দর্য নষ্ট করে, এমনকি আমলের সওয়াবও বিনষ্ট করে দিতে পারে। এর অন্যতম হলো উপকারের কথা স্মরণ করিয়ে খোঁটা দেওয়া। দান করে খোঁটা দেওয়ার দৃষ্টান্ত উপকার করার প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এখানে মানুষের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা অর্জন কিংবা নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের আকাঙ্ক্ষা ঢুকে পড়লে আমলের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ-তাআলা মুমিনদের সতর্ক করে বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের দান-সদকা নষ্ট করো না খোঁটা ও কষ্টদানের মাধ্যমে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৪) দান করে খোঁটা দেওয়া কিংবা লোকদেখানো দানের দৃষ্টান্ত এমন মসৃণ পাথরের মতো, যার ওপর সামান্য মাটি জমে আছে। দূর থেকে মনে হয়, সেখানে ফসল ফলবে। কিন্তু প্রবল বৃষ্টি নামলেই মাটির আস্তরণ ধুয়ে যায়, উন্মোচিত হয় পাথরের কঠিন ও অনুর্বর রূপ। সেখানে আর কোনো বীজ অঙ্কুরিত হয় না, কোনো ফসলও ফলে না। তেমনি খ...

সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হজরত আলীকে শেখানো নবীজির দোয়া

  জীবনের মোড়ে মোড়ে আমাদের এমন কিছু জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে একটি সঠিক পদক্ষেপ জীবনকে নিয়ে যেতে পারে অনন্য উচ্চতায়, আবার একটি ভুল পদক্ষেপ ডেকে আনতে পারে বিপদ। সিদ্ধান্তের নিতে গিয়ে মানুষের মন প্রায়ই দ্বিধাদ্বন্দ্বে তোলপাড় হয়। কখনো সে মানসিক ক্লান্তিতে ভুগতে শুরু করে। অনেক সময় আমরা ইস্তিখারা করি, অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করি; তা সত্ত্বেও অন্তরে অনিশ্চয়তা থেকে যায়। এমন হলে সৃষ্টিকর্তার ওপর শতভাগ আস্থা রাখার কোনো বিকল্প নেই। কেননা, যেকোনো পদক্ষেপে সঠিক পথপ্রদর্শনের জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য চাওয়া জরুরি। কোরআনে বলা হয়েছে, “যখন তুমি কোনো (সিদ্ধান্তে) সংকল্প গ্রহণ করবে, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর ওপর ভরসাকারীদের ভালোবাসেন।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯) আলীকে শেখানো অমূল্য উপহার নবীজি তাঁর প্রিয় আপন চাচাতো ভাই ও জামাতা আলী ইবনে আবি তালিবকে একটি সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ দোয়া শিখিয়েছিলেন; যা আমাদের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর এবং আমাদের মানসিক দোদুল্যমানতা থেকে মুক্তি পেতে এবং সঠিক পথ খুঁজে নিতে সাহায্য করবে। হজরত আলী (রা.) পরবর্তী সময়ে একজন খ...

জান্নাত পাওয়ার জন্য একটি অমূল্য দোয়া

  পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী ও পরীক্ষাকেন্দ্রের মতো। চূড়ান্ত সাফল্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও চিরসুন্দর জান্নাত লাভ করা। বিশ্বাসীরা প্রতিনিয়ত সৎকাজ করে এবং নানা আমলের মাধ্যমে জান্নাতের পথ খোঁজে। প্রতিটি মুমিনের সুপ্ত স্বপ্ন থাকে জান্নাত। মহানবী (সা.) আমাদের এমন এক চমৎকার ও প্রজ্ঞাপূর্ণ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে উচ্চারণ করলে জান্নাত পাওয়ার পথ সুগম হবে। যার অর্থ ও তাৎপর্য অতি গভীর। এটি মুখে উচ্চারণ করা যেমন সহজ, হৃদয়ে ধারণ করা তেমনি পরম শান্তির। সহজ একটি দোয়া ও মহান ওয়াদা আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বলে, “রজীতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়া বিল-ইসলামি দীনান, ওয়া বি-মুহাম্মাদিন রসূলান”—তার জন্য জান্নাত সুনিশ্চিত হয়ে যায়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫২৯) দোয়ার অর্থ: আমি সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহকে আমার প্রতিপালক, ইসলামকে আমার ধর্ম এবং মুহাম্মদকে আমার রাসুল হিসেবে গ্রহণ করেছি।মাত্র তিনটি ছোট বাক্য। কিন্তু এর পেছনের সুসংবাদটি কত বিশাল। মহানবী (সা.) এই মহামূল্যবান ওয়াদা লাভের জন্য বিপুল ধন-সম্পদ, উচ্চ সামাজিক মর্যাদা কিংবা শারীরিক কঠিন স...