পোস্টগুলি

প্রতিদিন ৫০টি সুন্নত পালনের সহজ পদ্ধতি

  প্রতিদিন পাঁচবার নামাজের জন্য আমরা মসজিদে যাই। এ সময় কয়েকটি কাজ নিয়মিত করলে প্রতিবার যাতায়াতেই ১০টি সুন্নত পালন করা যায়। পাঁচ ওয়াক্তে যার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০। এর জন্য বাড়তি কোনো সময়ের প্রয়োজন নেই। দরকার কেবল একটু সদিচ্ছা ও সচেতনতা। মসজিদে প্রবেশের পাঁচটি সুন্নত নিম্নরূপ— ১. বিসমিল্লাহ পড়া: মুমিনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আল্লাহর নামে শুরু করা উচিত। মসজিদে প্রবেশের সময়ও তাই ‘বিসমিল্লাহ’ পড়া সুন্নত আমলের অন্তর্ভুক্ত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আল্লাহর নাম দিয়ে শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৪০) অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যা আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ ও কল্যাণহীন।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১০৩২৮) ২. নবীজির ওপর দরুদ পাঠ: মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তি বিসমিল্লাহর পর রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করবে। আল্লাহর প্রশংসার পর নবীজি (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা দোয়ার অন্যতম আদব। ফাজালা ইবনে উবাইদ (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নামাজের পর দোয়া করছিলেন, রাসুল (সা.) তাকে দোয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দ...

‘সরল পথ’ দেখাতে নবীজির মোহরাঙ্কিত ১০ অসিয়ত

  আমরা ‘সুরা ফাতেহা’র আয়াত দিয়ে প্রার্থনা করি, ‘আল্লাহ আমাদের সরল পথ দেখান’। সেই সরল পথ কোনটি—আল্লাহ তা সুরা আনআমের ১৫১ থেকে ১৫৩ নম্বর আয়াতে বিশদ বলেছেন। যেখানে আল্লাহ–তাআলা মানবজীবনের মৌলিক অনুশাসনগুলো একত্র করে বলে দিয়েছেন এবং তা ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই তিনটি আয়াতের সমাপ্তিতে আল্লাহ–তাআলা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, ‘এসব বিষয়ে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, যেন তোমরা প্রজ্ঞা ও উপদেশ গ্রহণ করো।’ আয়াতের শেষ অংশে নবীজিকে আল্লাহ জানাতে বলেছেন যে ‘এটাই আমার সরল পথ’। নবীজির সিলমোহরকৃত অসিয়তনামা বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এই আয়াতগুলোর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে এক অবিস্মরণীয় উপমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুহাম্মদের এমন অসিয়তনামা দেখতে চায় যার ওপর স্বয়ং তাঁর নিজস্ব সিলমোহর অঙ্কিত রয়েছে, সে যেন সুরা আনআমের এই আয়াতগুলো পাঠ করে।’ এরপর তিনি ১৫১ থেকে ১৫৩ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পাঠ করেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩০৭০) আমরা ‘সুরা ফাতেহা’র আয়াত দিয়ে প্রার্থনা করি, ‘আল্লাহ আমাদের সরল পথ দেখান’। সেই সরল পথ কোনটি—আল্লাহ তা সুরা আনআমের ১৫১ থেকে ১৫৩ নম্বর আয়াতে বিশদ বলেছেন। আরব সংস্কৃতি...

কর্মদক্ষতা অর্জনে ইসলামের ৮ নির্দেশনা

  মানুষের জীবনে প্রতিভা একটি সম্ভাবনা আর দক্ষতা তার বিকশিত রূপ। জন্মগত মেধাকে পরিচর্যা, শিক্ষা, অনুশীলন ও নিষ্ঠার মাধ্যমে ফলপ্রসূ করে তুলতে হয়। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র—প্রতিটি স্তরের অগ্রগতি নির্ভর করে মানুষের কর্মদক্ষতার ওপর। কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনায় কর্মজীবনের এমন একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন পাওয়া যায়, যা মানুষকে কর্মদক্ষ হয়ে উঠতে উদ্বুদ্ধ করে। সেগুলো হলো— ১. দায়িত্বকে আমানত মনে করা দক্ষতার সূচনা হয় দায়িত্ববোধ থেকে। কোনো দায়িত্বকে আমানত হিসেবে গ্রহণ করা হলে তার প্রতি মানুষের আন্তরিকতা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা যেন আমানত তার প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৮) চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসন কিংবা যেকোনো বৈধ পেশায় মানুষের ওপর কিছু দায়িত্ব অর্পিত থাকে, সময়মতো সে দায়িত্বগুলো যথার্থভাবে সম্পাদন করা এবং নিজের অবস্থানের অপব্যবহার না করা আমানত রক্ষার অংশ। শুধু সৎ হলেই সব কাজের উপযুক্ত হওয়া যায় না, আবার অসাধারণ পারদর্শিতা থাকলেও বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকলে সেই যোগ্যতা মানুষের জন্য বিপদ...

হিলফুল ফুজুল: তরুণ মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রথম রাজনৈতিক অংশগ্রহণ

  খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষভাগে চার বছরের রক্তক্ষয়ী ‘হারবুল ফিজার’ থামার পর মক্কার সমাজ এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি হয়। কেন্দ্রীয় সরকার, লিখিত আইন বা স্থায়ী বিচারব্যবস্থা ছাড়া তখনকার মক্কা চলত গোত্রপ্রধানদের অনানুষ্ঠানিক পরিষদ ‘আল-মালা’ আর গোত্রীয় পক্ষপাতিত্বের (আসাবিয়্যাহ) ভরসায়। ফলে কোনো দুর্বল বা বহিরাগত মানুষ প্রভাবশালী কারও হাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রতিকারের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পথ ছিল না। এই শূন্যতা পূরণেই ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে মক্কার কয়েকটি গোত্র মিলে গড়ে তোলে ‘হিলফুল ফুজুল’—ন্যায় ও সদাচারের এক ঐতিহাসিক অঙ্গীকার। বিশ বছর বয়সী তরুণ মুহাম্মদ (সা.) নিজেও এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী জীবনে তিনি বহুবার এই চুক্তির প্রশংসা করেছেন। প্রতারণার শিকার এক বণিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের কেন্দ্র হিসেবে মক্কায় নানা অঞ্চলের বণিকদের সমাগম ঘটত, কিন্তু গোত্রীয় প্রতাপের সামনে বহিরাগতদের পণ্যমূল্য আত্মসাতের ঘটনা অস্বাভাবিক ছিল না। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ইয়েমেনের জুবাইদ গোত্রের এক বণিক মক্কায় পণ্য বিক্রি করেন কোরাইশের বনু সাহম গোত্রের নেতা আস ইবনে ওয়ায়েল আস-সাহম...

আত্মশুদ্ধির জন্য নিভৃত ইবাদত কেন জরুরি

  সমাজে এমন মানুষের অভাব নেই, যাঁরা লোকচক্ষুর সামনে বিপুল প্রভাবশালী ও সফল; কিন্তু নিজের মনের দিকে তাকালে চরম নিঃস্ব ও দেউলিয়া। আবার এমন মানুষও ইতিহাসে বহু ছিলেন, যাঁদের সামাজিক প্রতিপত্তি ছিল না বললেই চলে; অথচ অন্তরের পরিশুদ্ধি ঘটিয়ে তাঁরা পৌঁছে গিয়েছিলেন স্রষ্টার পরম সান্নিধ্যে। কোরআনের দৃষ্টিতে চিরন্তন মুক্তির একমাত্র পথ হলো আত্মশুদ্ধি (তাজকিয়াতুন নাফস)। মানুষের ভেতরটা যখন পরিচ্ছন্ন হয়, তখন তার চিন্তা, ভাষা, মানবিক আচরণ এবং দৈনন্দিন সম্পর্কগুলোও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। আত্মশুদ্ধির ভিত্তি কতটা জরুরি, তা স্পষ্ট হয় নবীজির দায়িত্ব ঘোষণার ধারাক্রমে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “তিনিই সেই সত্তা, যিনি নিরক্ষরদের মধ্য থেকে তাদেরই একজনকে রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতগুলো পাঠ করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেন।” (সুরা জুমুআ, আয়াত: ২) লক্ষণীয়, এই আয়াতে গ্রন্থ ও প্রজ্ঞা শিক্ষার আগেই পরিশুদ্ধ হওয়াকে স্থান দেওয়া হয়েছে। কারণ, পাত্র যদি অপবিত্র থাকে, তবে তাতে রাখা সুধা বিষাক্ত হতে বাধ্য। কেন জরুরি নিভৃত ইবাদত বর্তমান ডিজিটাল সমাজ বাস্তবতায় সবকিছুই প্...

পাথরের মাটি নাকি উর্বর বাগান: আপনার আমল কেমন

  কোরআনে সরাসরি বুদ্ধি খাটানো ও তাদাব্বুর (আপাতচোখে যা দেখা যায় তার গভীরে গিয়ে চিন্তা) করার নির্দেশ তো আছেই, সেই সঙ্গে প্রাণপ্রকৃতিকে উপমা বানিয়ে গভীরভাবে চিন্তাফিকিরের ইশারা দেওয়া হয়েছে। আমরা এমনই কিছু উপমার মধ্য দিয়ে আল্লাহ–তাআলার আয়াতের পর্যালোচনা করব। ১. লোকদেখানো দানের উপমা আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে তোমাদের দানকে নষ্ট করে দিয়ো না; ওই লোকের মতো যে নিজের ধন লোকদেখানোর জন্য ব্যয় করে এবং আল্লাহ ও আখিরাতে ইমান রাখে না। ফলে তার উপমা হলো এমন একটি মসৃণ পাথর, যার ওপর কিছু (আলগা) মাটি থাকে, তারপর প্রবল বৃষ্টি সেটাকে (ধুয়েমুছে) সাফ করে ফেলে। যা তারা উপার্জন করেছে তার কিছুই তারা তাদের কাজে লাগানোর ক্ষমতা রাখে না। আর আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে হেদায়াত করেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৪) একটি অদৃশ্য মানবিক অবস্থাকে আল্লাহ–তাআলা কী চমৎকারভাবে দৃশ্যমান করে তুলেছেন। যারা দান করে আবার সেই দানের কথা বলে বেড়ায়, দানগ্রহীতাকে নানাভাবে কষ্ট দেয়, সময়ে–সময়ে খোঁচা মেরে বলে—আরে, অমুককে কত কিছু দান করলাম। আল্লাহর দরবারে তাদের এই দানের কোনো মূল্য নেই। এই দান মসৃণ পা...

সৎ ব্যবসায়ীদের ৬ পুরস্কার

  ব্যবসা নবী–রাসুলদের পছন্দনীয় কাজ। তাঁরা ব্যবসা করেছেন। আমাদের নবীজিও জীবনের একটি সময় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মানুষের জীবিকা উপার্জনের বৈধ মাধ্যমগুলোর মধ্যে ব্যবসা অন্যতম। ব্যবসায়ে প্রতারণা, মিথ্যা, ধোঁকা, পণ্যের দোষ গোপন করা, মিথ্যা শপথ করা কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো ইসলামের আদর্শ নয়। যে ব্যবসায়ী লেনদেনে সত্য ও ন্যায়ের পথ অবলম্বন করে, তাঁর জন্য রয়েছে ইহকাল ও পরকালের সম্মানজনক প্রতিদান। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য যেসব পুরস্কারের কথা এসেছে, তার কয়েকটি হলো— ১. নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গ লাভ ব্যবসায়ে লাভের আকাঙ্ক্ষা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই লাভের পথে যদি সত্য বিসর্জন দিতে হয়, তবে তা আর কল্যাণের পথ থাকে না। সততা ও বিশ্বস্ততা একজন ব্যবসায়ীকে পরকালের মর্যাদার উচ্চ আসনে পৌঁছে দিতে পারে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী (পরকালে) নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২০৯) ক্রেতাকে ঠকিয়ে অর্জিত অধিক অর্থের চেয়ে হালাল পন্থায় অল্প উপার্জন অনেক বেশি মূল্যবান। তাই ব্যবসার হিসাব শুধু লাভ–ক্ষতির খাতা...