সাহাবি হিন্দের হিজরত: মাতৃভূমি ত্যাগের বেদনাকাব্য
হিজরতের আদেশ চলে এসেছে। মক্কার মুসলমানরা ভেতরে-ভেতরে প্রস্তুত হচ্ছেন স্বদেশ ত্যাগ করার জন্য। কিন্তু দেশ ছেড়ে যাওয়া তো সহজ কাজ নয়। যে দেশের আবহাওয়া ও আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা, শৈশব-কৈশোর পার হয়েছে যে দেশের জমিনে হেঁটে ও দৌড়ে, তা ছেড়ে অচেনা কোনো বিদেশ-বিভুঁইয়ে যাত্রার যে কী যন্ত্রণা, তা শুধু ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন। এক. স্বদেশ ত্যাগের কথা ভেবে মন ভেঙে যায় হিন্দের। তার পুরো নাম হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়া আল-মাখজুমিয়া। তিনি ছিলেন মক্কার অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের আবু উমাইয়া সুহাইলের দুলালি। জীবনভর কাটিয়েছেন চরম রাজকীয় আয়েশের মধ্যে। দুঃখ বা অভাব কী জিনিস, তা তিনি জানতেন না। দাস-দাসীর পরিবেষ্টনে বড় হওয়া এই নারী না চাইতেই হাতের কাছে হাজির পেয়েছেন সুখের তাবৎ আয়োজন। বাবার বাড়ি ছেড়ে যখন স্বামী আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আসাদের ঘরে এলেন, সেখানেও দেখা পেলেন রাশি রাশি সুখ ও ঐশ্বর্যের। পরনে থাকত সারাক্ষণ দামি রেশমের পোশাক, হাতে-কানে-গলায় বাহারি অলংকার। নিত্যনতুন প্রসাধনীতে রাঙিয়ে রাখতেন চিবুক ও ওষ্ঠাধর। রাজকুমারীর মতো জীবন কাটাতেন হিন্দ। স্বামী আবদুল্লাহর গভীর আদর, সোহাগ ও ভালোবাসায় যেন এক স্বপ্নরাজ্যে বিচরণ করতেন...