পোস্টগুলি

প্রথম মুসলিম নার্স, ইসলামের নবী যাকে যোদ্ধার সমান মর্যাদা দিয়েছিলেন

  সপ্তম শতকে প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিক কেমন ছিল - তা নিয়ে বিস্তারিত জানা যায় না। সেই সময়ে মসজিদে নববীর আঙ্গিনায় মাটির দেওয়াল, খেজুর গাছের গুঁড়ি ও পাতা দিয়ে তৈরি এক সাধারণ তাঁবুতে অসুস্থদের শুশ্রূষা দিচ্ছেন একজন নারী। আহতদের ক্ষত ধুয়ে পরিষ্কার করা থেকে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেয়া - সবই করছেন তিনি। রোগীদের সাথে তিনি এমন মমতাময়ী আচরণ করতেন যে তার সেবা কেবল চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত না, বরং অসুস্থ ব্যক্তির মধ্যে উৎসাহ ও আশার সঞ্চার করতো। ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে নার্সিংয়ের স্থপতি রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়া বা আসলামিয়া। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী প্রথম নারীদেরও একজন। রুফাইদা আল-ইসলামিয়াকে নিয়ে গবেষণা করেছেন মুস্তাফা এম. বৌদ্রাক, মুতলাক বি. আল-মুতাইরি, ফাতিমা এস. আল-সুলামী এবং হিশাম এম. আল-ফায়াদ। তাদের গবেষণার তথ্য বলছে, খাজরাজ গোত্রের বনু আসলাম শাখার সদস্য রুফাইদা, ইয়াসরিব শহরে ৫৯৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ইয়াসরিব, ইসলামের নবী মক্কা থেকে হিজরত করার পর যা মদিনা আল-নবী বা মদিনা নামে পরিচিতি পায়। 'প্রথম মুসলিম নার্স এবং ইসলামি শিক্ষার পথিকৃৎ রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়ার মূল্যায...

কোরআনে যেভাবে নামাজের কথা বলা হয়েছে

  পবিত্র কোরআনের পরতে পরতে নামাজের গুরুত্ব, মর্যাদা এবং ত্যাগকারীদের পরিণাম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। অন্য সকল ইবাদত যেমন—জাকাত, রোজা বা হজ নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে ফরজ হয়, কিন্তু নামাজ কোনো অবস্থাতেই ত্যাগ করার সুযোগ নেই। শারীরিক অসুস্থতা বা প্রতিকূল পরিবেশেও সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  নামাজের মর্যাদা সম্পর্কে কোরআন কোরআনের দৃষ্টিতে নামাজ মুমিনের জন্য এক বড় অবলম্বন। যেকোনো বিপদ বা সংকটে ধৈর্যের পাশাপাশি নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো; আর নামাজ অবশ্যই কঠিন, কিন্তু বিনয়ীদের জন্য নয়।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৫) ইমাম ইবনে কাসির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, বিপদ-আপদ মোকাবিলায় ধৈর্য ও নামাজই হলো সবচেয়ে উত্তম হাতিয়ার। মহানবী (সা.) কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। ( তাফসির আল-কুরআনিল আজিম,  ১/২৫০, দারু তাইয়িবাহ, রিয়াদ, ১৯৯৯) নামাজ মানুষের অন্তরকে নরম করে, অহংকার দূর করে এবং পাপাচার থেকে দূরে রাখে। নামাজ কায়েমের নির্দেশ পবিত্র কোরআনে বহ...

সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় ইসলামের ৫ মূলনীতি

  সমাজে যখন ভয়ভীতি জেঁকে বসে এবং মানুষের মধ্যে আস্থার অভাব দেখা দেয়, তখন অর্থনৈতিক বা সাংস্কৃতিক উন্নতি থমকে যেতে বাধ্য। বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তাকে কেবল রাষ্ট্রীয় আইন বা অর্থনৈতিক বিমার ফ্রেমে দেখা হলেও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে এটি আরও গভীর ও ব্যাপক। ইসলাম মনে করে, নাগরিকের জানমাল, ইজ্জত ও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হলো সামাজিক নিরাপত্তার মূল লক্ষ্য। নিরাপত্তার আধুনিক ধারণা সামাজিক নিরাপত্তার আধুনিক ধারণাটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় উনবিংশ শতাব্দীতে। ১৮৮০-এর দশকে জার্মান চ্যান্সেলর অটো ফন বিসমার্ক শ্রমিকদের জন্য সামাজিক বিমা চালু করেন। পরে ১৯৩৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট সামাজিক নিরাপত্তা আইন পাস করেন। তবে ইসলাম এই আধুনিক কাঠামোর অনেক আগেই একটি মানবিক ও কার্যকর নিরাপত্তা মডেল পেশ করেছে। ইসলামের এই মডেলে কেবল আইন নয়, বরং নৈতিকতা ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতাকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে। আত্মিক প্রশান্তিই পূর্বশর্ত ইসলামি দর্শনে নিরাপত্তার শুরু হয় মানুষের ভেতর থেকে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই কেবল চিত্ত প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাআদ, আয়াত: ২৮) একজন মানুষ...

পরকালে শয়তানের দায়মুক্তি আর অনুসারীদের আক্ষেপ

  মানুষের চিরশত্রু ইবলিস শয়তান। দুনিয়ার জীবনে সে মানুষকে নানা কৌশলে প্রলোভন দেখায় এবং পাপে লিপ্ত করে। কিন্তু পরকালের কঠিন সময়ে এই ইবলিসই তার অনুসারীদের সঙ্গে যে আচরণ করবে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে সেই চরম সত্যটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা থেকে বর্তমান সময়ের মানুষের জন্য অনেক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। হাশরের ময়দানে চরম ক্ষোভ দুনিয়াতে যারা শয়তানের প্রলোভনে পড়ে পথভ্রষ্ট হয়, পরকালে তাদের অবস্থা হবে অত্যন্ত করুণ। সেদিন তারা নিজেদের পথভ্রষ্টকারীদের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়বে। পবিত্র কোরআনে সেই দৃশ্যটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে: ‘কাফেররা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক, যেসব জিন ও মানুষ আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদের আমাদের দেখিয়ে দিন; আমরা তাদের আমাদের পায়ের নিচে রাখব, যাতে তারা চরম লাঞ্ছিত হয়।’ (সুরা ফুসসিলাত, আয়াত: ২৯)এই আয়াতে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের মনের তীব্র আক্রোশ ফুটে উঠেছে। তারা চাইবে তাদের সেই তথাকথিত নেতাদের—চাই তারা জিন হোক বা মানুষ—পায়ের নিচে পিষ্ট করতে। তারা মনে করবে, এদের কারণেই আজ তাদের এই দুরবস্থা। তাফসিরে ওয়াসিত -এ বলা হয়েছে, তারা সেদিন তাদের ওপর চরম ঘৃণা ও রাগে পা দিয়ে মাড়...

শাওয়ালের ছয় রোজা: অল্প আমলে সারা বছরের সওয়াব

  রমজান শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু ইবাদত ও সওয়াব অর্জনের সেই দরজা এখনো বন্ধ হয়নি। আল্লাহ-তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য রমজানের পরও শাওয়াল মাসে একটি বিশেষ সুযোগ রেখে দিয়েছেন। সুযোগটি শুধু একটি আমল নয়; বরং মুমিনের জন্য ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ সুযোগের মূল্য অপরিসীম এবং এর প্রতিদান দীর্ঘস্থায়ী। কী সেই সুযোগ শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখাই হচ্ছে বিশেষ সেই সুযোগ। এই ছয়টি রোজা মূলত রমজানের প্রশিক্ষণকে ধরে রাখারই একটি বাস্তব প্রয়োগ। যারা রমজানে নিজেদের গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে ইবাদতে অভ্যস্ত করেছেন, তাঁদের জন্য এটি সেই ধারাকে অব্যাহত রাখার সহজ পথ। ফজিলত ও হিসাব আমরা কি চাইলেই সারাবছর রোজা রাখতে পারব? মনে হয় না। কাজটা বেশ কঠিন। কিন্তু মাত্র ছয় দিন রোজা রাখার ফলেই আমরা সেই কঠিন কাজটির সওয়াব পেতে পারি ইনশাআল্লাহ। শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখলে কীভাবে তা এক বছর রোজা রাখার সমান হতে পারে? এ প্রসঙ্গে কোরআনের এই আয়াতের দিকে লক্ষ করা যায়: ‘যে ব্যক্তি একটি নেক আমল করল, তার জন্য থাকবে দশ গুণ প্রতিদান।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৬০) শাওয়াল মাসের নফল রোজার প্রতিদান প্রকৃতপক্ষেই অপরিসীম। রাসুলুল্ল...

বুবুর লাম্বুক’ আর বর্ণিল রমজান বাজারের দেশে

  মালয়েশিয়ার রমজান এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার নাম। এখানকার ইফতারের আয়োজন থেকে শুরু করে তারাবির আমেজ—সবকিছুতেই রয়েছে মালয় সংস্কৃতির নিজস্ব ছাপ। বিশেষ করে আধুনিক মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের আকাশচুম্বী ভবনের নিচে যখন ঐতিহ্যবাহী ‘রমজান বাজার’ বসে, তখন এক অন্যরকম দৃশ্য তৈরি হয়। ভালোবাসার এক বাটি খিচুড়ি মালয়েশিয়ার রমজানের সমার্থক নাম হলো ‘বুবুর লাম্বুক’। এটি মূলত চাল, গরুর মাংস (বা চিংড়ি), নারকেলের দুধ এবং প্রচুর মশলা দিয়ে তৈরি এক ধরণের ঘন খিচুড়ি বা স্যুপ। কুয়ালালামপুরের বিখ্যাত কাম্পুং বারু মসজিদে প্রতিদিন বড় বড় ডেকচিতে এই খিচুড়ি রান্না করা হয়। আসরের পর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ এই খাবার সংগ্রহ করেন। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।  অনেকে বাড়িতেও এটি তৈরি করে প্রতিবেশী ও পথচারীদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। রমজান বাজার আসরের নামাজের পর মালয়েশিয়ার রাজপথগুলোতে বসে শত শত ‘বাজার রামাদান’ (Pasar Ramadan)। এখানে পাওয়া যায় ঐতিহ্যবাহী লেমাং—যা বাঁশের নলের ভেতর কলাপাতায় মোড়ানো চাল ও নারকেলের দুধ দিয়ে রান্না করা হয়। এছাড়া আছে মুর্তাবাক এবং বিখ্যাত মিষ্টি পুতু পিরিং।...

বরকত ও বৈচিত্র্যে সুবাসিত শামের রমজান

  সিরীয়দের কাছে রমজান হলো বরকতের মাস। দামেস্কের সরু গলি থেকে শুরু করে উত্তর সিরিয়ার প্রান্তিক জনপদ—সবখানেই এই মাসের আলাদা এক সুবাস পাওয়া যায়। ইসলামের ইতিহাসে এই ভূখণ্ড ‘শাম’ নামে পরিচিত। যদিও সময় এখন প্রতিকূল, তবুও সিরীয় সংস্কৃতিতে রমজানের জৌলুস আজও টিকে আছে তাদের দস্তরখানে, আতিথেয়তায় এবং প্রতিবেশীর সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়ার চিরায়ত অভ্যাসে। পাতে পাতে বৈচিত্র্য  সিরিয়ার ইফতারের টেবিলকে বলা হয় ‘সুফরা’। একটি আদর্শ সিরীয় ইফতারে খাবারের বৈচিত্র্য চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মতো। ইফতার শুরু হয় মূলত খেজুর এবং এক বাটি ‘শোরবা’ বা স্যুপ দিয়ে। এরপর আসে সিরিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সালাদ ‘ফাত্তুশ’। ভাজা রুটির কুচি, পুদিনা পাতা, সুমাক মশলা আর ডালিমের রস দিয়ে তৈরি এই সালাদ ছাড়া সিরীয়দের ইফতার যেন অসম্পূর্ণ। প্রধান খাবারের মধ্যে থাকে ‘কিববেহ’—যা মাংস এবং গুঁড়ো গম (বুরগুল) দিয়ে তৈরি এক বিশেষ পদ। এছাড়া আছে ‘মাহশি’, যা মূলত আঙুর পাতা বা বাঁধাকপির ভেতরে চাল ও মাংসের পুর দিয়ে তৈরি করা হয়।  সিরীয়দের প্রিয় আরেকটি পদ হলো ‘ফাত্তাহ’। দই, সেদ্ধ ছোলা এবং মুচমুচে রুটির সংমিশ্রণে তৈরি এই খাব...