পোস্টগুলি

যে ৭ কারণে মানুষ হেদায়েত থেকে বঞ্চিত হয়

  হেদায়েত আল্লাহ–তাআলার মহান নেয়ামত, যা মানুষকে সত্যের দিকে পরিচালিত করে। তবে কিছু নৈতিক ও আত্মিক ব্যাধি এ পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এসব প্রতিবন্ধকতার কথা স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে। হেদায়েত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কয়েকটি প্রধান কারণ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো। ১. হিংসা ও অহংকার হিংসা-অহংকার হেদায়েত লাভের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আল্লাহ কোনো অহংকারীকে হেদায়েত দান করেন না। কোরাইশ নেতাদের হেদায়েত না পাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এই হিংসা এবং সত্যের প্রতি বিদ্বেষ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘পৃথিবীতে যারা অন্যায়ভাবে অহংকার করে আমি তাদের আমার নিদর্শনসমূহ থেকে বিমুখ রাখব। তারা আমার সব রকম নিদর্শন দেখলেও তাতে ইমান আনবে না। তারা হেদায়েতের সরল পথ দেখলেও সে পথ গ্রহণ করবে না। কিন্তু ভ্রষ্টতার পথ দেখলে সেটা গ্রহণ করবে। এটা এ কারণে, তারা আমার নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তারা এ থেকে উদাসীন।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৪৬) হিংসা-অহংকার হেদায়েত লাভের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আল্লাহ কোনো অহংকারীকে হেদায়েত দান করেন না। ২. নেতৃত্ব বা পদমর্যাদার লোভ নেতৃত্ব বা পদমর্যাদার লোভ হেদায়েত লাভের প...

‘সিক্স প্যাক’: পেশির মোহে নষ্ট যখন আল্লাহর আমানত

  জিম–সংস্কৃতির গ্ল্যামারের আড়ালে একটা মারাত্মক হুজুগ তৈরি হয়েছে, তা হলো, স্বল্প সময়ে নাটকীয়ভাবে পেশিবহুল শরীর বানানোর তাড়না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে গড়া অবয়ব প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় পড়ে হাজার হাজার তরুণ এখন অ্যানাবলিক স্টেরয়েড আর ক্ষতিকর হরমোন বুস্টারের দিকে ঝুঁকছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এর ফলে লিভার নষ্ট, কিডনি বিকল, বন্ধ্যত্ব, আকস্মিক হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এটাকে স্রেফ একটা স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা বোঝা যায় না। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে স্টেরয়েড–সংস্কৃতি আসলে একটা বিশ্বাসঘাতকতা নয়, এটা একই সঙ্গে তিনটা ভিন্ন স্তরে আমানত ভাঙে। নিচে সেই তিনটা স্তর দেখানো হলো। মানুষের শরীর তার নিজস্ব সম্পত্তি নয়, এটা আল্লাহর দেওয়া একটা আমানত। শরীরকে কৃত্রিম রাসায়নিক দিয়ে জোর করে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বিকৃত করার চেষ্টা সরাসরি এই আমানতের খেয়ানত। প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা: শরীরের প্রতি ইসলামে মানুষের শরীর তার নিজস্ব সম্পত্তি নয়, এটা আল্লাহর দেওয়া একটা আমানত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।’ (সুরা ত্বিন, আয়াত: ৪) এ...

দাড়ি কেন রাখতে বলে ইসলাম

  ইসলামে দাড়ি রাখা একটি আবশ্যকীয় বিধান, যা একজন মুসলিমের পরিচয় বহন করে। আধুনিক যুগে অনেকে একে ঐচ্ছিক বা গুরুত্বহীন মনে করলেও, কোরআন ও হাদিসের আলোকে দাড়ি রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। দাড়ি রাখা নবীদের সুন্নত দাড়ি রাখা শুধু নবীজির সুন্নত নয়, বরং এটি পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদেরও রীতি ছিল। পবিত্র কোরআনে নবী হারুনের দাড়ির কথা রয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর ভাই নবী মুসাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘হে আমার সহোদর, আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরো না।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ৯৪) এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, দাড়ি নবীদের একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য ছিল। হাদিসে দাড়ি রাখার নির্দেশ দাড়ি রাখার ব্যাপারে পবিত্র হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। নবীজি (সা.) নিজে দাড়ি রাখতেন এবং উম্মতকে দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মোচ কাটো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও (লম্বা করো), আর অগ্নিপূজকদের বিপরীত আচরণ করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬০) দাড়ি রাখার বিধান দাড়ি ইসলামের শিআর ও পরিচয়চিহ্ন। যেহেতু এটি সব নবীর পবিত্র রীতি ছিল, তাই একে ‘সুন্নত’ও বলা হয়। তবে এটি সাধারণ ঐচ্ছিক সুন্নতের মতো নয়, বরং ‘স...

জয়নাব বিনতে কামাল: এক চিরকুমারী হাদিস বিশারদ

  আজ থেকে প্রায় আটশত বছর আগের কথা। যখন ছিল না উড়োজাহাজ, দ্রুতগামী কোনো যানবাহন কিংবা আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা। তা সত্ত্বেও কেবল একজন নারীর কাছে হাদিস শিক্ষার ব্যাকুলতায় হাজারো মানুষ মাইলের পর মাইল দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে আসতেন। তিনি ছিলেন জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অনন্য পাণ্ডিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জয়নাব বিনতে কামাল। দ্বাদশ শতাব্দীতে দামেস্কের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী নারী মুহাদ্দিসা বা হাদিস পণ্ডিত ছিলেন তিনি। অসাধারণ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সমকালে তাঁকে ‘মুসনিদাতুশ শাম’ বলা হতো। অর্থাৎ তিনি ছিলেন তৎকালীন বৃহত্তর শাম বা সিরিয়া অঞ্চলের ধর্মীয় শিক্ষাদীক্ষার প্রধানতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ইতিহাসে এক ‘চিরকুমারী মুহাদ্দিসা’ হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিকদের মতে, বিবাহিত জীবনের ব্যস্ততায় যেন ওহি ও সুন্নাহর জ্ঞানার্জনে বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য তিনি আজীবন অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি ইতিহাসে এক ‘চিরকুমারী মুহাদ্দিসা’ হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিকদের মতে, বিবাহিত জীবনের ব্যস্ততায় যেন জ্ঞানার্জনে ব্যাঘাত না ঘটে, তাই তিনি আজীবন অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। স...

সময় ব্যবস্থাপনায় মুমিনের ৩ কৌশল

  একজন সাধারণ মানুষের জন্য এটা জাগতিক উন্নতির একটা সোপান হতে পারে, কিন্তু একজন মুমিনের জীবনে সময়ের হিসাব সরাসরি পারলৌকিক জবাবদিহির সঙ্গে জড়িত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সময়ের কসম খেয়ে মানুষের প্রতিটি মুহূর্তের মূল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। সময় ব্যবস্থাপনা মানে দৈনন্দিন কর্মঘণ্টাকে সুপরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে কম সময়ে বেশি কাজ করার একটা দক্ষতা। আজ এমন কিছু অভ্যাসের কথা বলা হলো, যা দিয়ে একজন মুমিন তাঁর সময়কে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারেন। ১. যা আপনার নয়, তাকে ‘না’ বলা সামাজিক লৌকিকতা বা দ্বিধার কারণে আমরা প্রায়ই এমন সব দায়িত্ব ঘাড়ে তুলে নিই, যা আমাদের সময়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। নবীজি (সা.) এখানে একটা মূলনীতি দিয়েছেন, ‘একজন মানুষের ইসলামের সৌন্দর্যের একটা অংশ হলো, যা তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তা থেকে দূরে থাকা।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৮) এই হাদিস মূলত অহেতুক কথাবার্তা ও কাজে জড়িয়ে পড়া নিয়ে, কিন্তু এর ভেতরের নীতিটি সময়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নিজের সঙ্গে সম্পর্কহীন বা অপ্রয়োজনীয় দায়িত্বে বিনয়ের সঙ্গে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে শেখাটা সময় রক্ষার একটা গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। ...

ফিতরাতি জ্ঞানতত্ত্ব: প্রকৃতিকে জানার সমন্বিত পদ্ধতি

  কায়েনাত সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান কেবল তথ্য-সংগ্রহ, পরিমাপ কিংবা বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে না। প্রকৃতি এমন এক বাস্তবতা, যার একটি অংশ পরিমাপযোগ্য, আরেকটি অংশ অভিজ্ঞতালব্ধ; একটি অংশ বিশ্লেষণাত্মক, আরেকটি অংশ সম্পর্কমূলক; একটি অংশ দৃশ্যমান বিন্যাসে প্রকাশিত, আরেকটি অংশ তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্যে নিহিত। ফলে প্রকৃতিকে জানা মানে নিছক অভিজ্ঞতা হাসিল ও তথ্য জানা নয়। এটি জ্ঞানের প্রকৃতি, সীমা ও পদ্ধতি সম্পর্কে একটি মৌলিক দার্শনিক অনুসন্ধান। আধুনিক জ্ঞানব্যবস্থা প্রকৃতিকে জানার ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ দূরত্বকে জ্ঞানের জরুরি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে। জ্ঞান অর্জনের জন্য পর্যবেক্ষককে পর্যবেক্ষণের বিষয় থেকে আলাদা থাকতে হবে, এই ধারণা আধুনিক বৈজ্ঞানিক তরিকার কেন্দ্রে অবস্থান করে। এখানে প্রকৃতি এক ‘অবজেক্ট অব ইনকুয়ারি’; আর মানুষ ‘সাবজেক্ট অব নলেজ’ । এখানে জ্ঞান উৎপাদনের জন্য বিষয়কে বিশ্লেষণযোগ্য এককে ভাঙা হয়, তার উপাদানসমূহ পরিমাপ করা হয়, তার কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়, আর সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি ব্যাখ্যামূলক কাঠামো নির্মিত হয়। একটি নদীকে সত্যিকার অর্থে জানা মানে তার সভ্যতাগ...

যেভাবে অনিবার্য যুদ্ধ থেকে বাঁচল মক্কাবাসী

  নবীজির ৩৫ বছরের একটি ঘটনা মক্কায় তোলপাড় তোলে। সে বছর মক্কায় ভয়াবহ এক বন্যা হয়। সেই বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কাবাঘরের দেয়াল। সেকালে কাবাঘরের ওপরে কোনো ছাদ ছিল না। এর উচ্চতা ছিল আবার মাত্র ৯ হাত। খোলা ছাদের সুযোগে কাবাঘরে উৎসর্গিত মানতকারীদের স্বর্ণালংকার প্রায়ই চুরি হয়ে যেত। ফলে কাবাঘর সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিল ভীষণভাবে। আল্লাহর ঘর পুনর্নির্মাণের পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে কোরাইশের নেতারা নির্ধারণ করল এক অবাক করা নীতি। কাবাঘরের সংস্কারকাজে কোনো অবৈধ অর্থ ব্যবহার করা হবে না। বেশ্যাবৃত্তির অর্থ, সুদের অর্থ, ডাকাতির অর্থ নির্মাণকাজে দান করা যাবে না। আল্লাহর ঘরের নির্মাণকাজে ব্যবহার হবে আল্লাহর পথের হালাল অর্থ। কাবাঘর ভাঙতে গিয়ে কোরাইশের নেতারা দ্বিধায় পড়ে গেল। কে করবে পয়লা আঘাত? যদি ঐশ্বরিক কোনো আজাব নেমে আসে আঘাতকারীর ওপর! লোকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে নিল নেতাদের সিদ্ধান্ত। আল্লাহর ঘরের সম্মান এতটাই দখল করে রেখেছিল অন্ধকার যুগের সেই অজ্ঞ মানুষগুলোর হৃদয়। শুধু এটুকুই নয়, যেকোনো স্থাপনা পুনর্নির্মাণের আগে অনিবার্যভাবেই তা ভাঙতে হয়। কাবাঘর ভাঙতে গিয়ে কোরাইশের নেতারা দ্বিধায় পড়ে গেল...