পোস্টগুলি

আয়েশা (রা.)-এর ঘর ও সংসার

  নবীজির পারিবারিক জীবন, বিশেষ করে তাঁর ঘরসংসার ও আয়েশা (রা.)–এর সঙ্গে কাটানো দিনগুলো ছিল অতুলনীয় সরলতা, সংযম ও আত্মিক প্রাচুর্যে ভরপুর। বাহ্যিক জৌলুস বা আরাম-আয়েশ সেখানে কোনো গুরুত্ব পায়নি; বরং সেই ঘরগুলো হয়ে উঠেছিল তাওহিদ, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য পাঠশালা। এই জীবনের প্রতিটি দৃশ্য আমাদের সামনে নবীজির আদর্শ মানবিকতা ও আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভরতার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। নবিপত্নীদের জন্য কোনো আলিশান প্রাসাদ নির্মিত হয়নি। বনু নাজ্জার এলাকায়, মসজিদে নববির আশপাশে ছোট ছোট কয়েকটি কামরা ছিল তাঁদের বসবাসের স্থান। এসব কামরার একটি ছিল হজরত আয়েশার। ঘরটির আয়তন ছিল মাত্র ছয়–সাত হাত। দেয়াল মাটির তৈরি, ছাদ খেজুরগাছের ডাল দিয়ে বানানো, এতটাই নিচু যে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যেত। সেই ঘরটির দরজা খুললেই যেন মসজিদে নববি—মসজিদটাই হয়ে উঠেছিল ঘরের বারান্দার মতো। নবীজি (সা.) যখন মসজিদে ইতিকাফ করতেন, তখন অনেক সময় মাথা বাড়িয়ে দিলে আয়েশা (রা.) তা আঁচড়ে দিতেন। আবার মসজিদে অবস্থানকালে নবীজির কোনো প্রয়োজন হলে ঘর থেকেই তা পৌঁছে দেওয়া হতো। ঘর ও মসজিদের এই নিবিড় সংযোগ নবীজির জীবনে ইবাদত ও পারিবারিক জীবনের স...

আয়েশা আল-হুররা: স্পেনের দুঃসাহসী নৌযোদ্ধা

  তাঁর আসল নাম লাল্লা আয়েশা বিনতে আলী ইবনে রশিদ আল-আলমি। তাঁর বাবার নাম আলী ইবনে রশিদ এবং মায়ের নাম লাল্লা জোহরা ফার্নান্দেজ। ১৪৮৫ থেকে ১৪৯০ সালের মাঝামাঝি গ্রানাডায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৪৯২ সালে স্পেনের রাজ্য আরাগনের রাজা ফার্দিনান্দ ও কাস্তেইয়ের রানি ইসাবেলার হাতে গ্রানাডার পতন ঘটে। ফলে তাঁর পরিবার স্পেন থেকে মরক্কো চলে আসে। স্পেন ত্যাগ করার সময় আয়েশা ছিলেন নিতান্ত শিশু। আয়েশার বাবা আলী ইবনে রশিদ ছিলেন গ্রানাডার প্রভাবশালী রশিদ বংশের প্রধান পুরুষ। গোত্রপতিই বলা চলে। এ কারণে স্পেনে মুসলিম বিতাড়ন শুরু হলে তিনি পরিবার ও বংশীয় লোকজন নিয়ে গ্রানাডা থেকে মরক্কোর তানজিয়ারে চলে আসেন। তানজিয়ারের উপকূলবর্তী এলাকা শেফশাউনে নতুন করে গড়ে তোলেন গোত্রীয় আবাস। স্বামীর মৃত্যু আয়েশার জন্য সম্ভাবনার নতুন এক দুয়ার খুলে দেয়। যোগ্য কোনো উত্তরাধিকার না থাকায় তিনি নিজেকে তিতওয়ানের প্রশাসক ঘোষণা করেন। স্পেন থেকে আরও যেসব মুসলিম পালিয়ে আসতেন, তাঁদেরও জায়গা হতো আলী ইবনে রশিদের আশ্রয়কেন্দ্রে। এভাবে কিছুদিনের মধ্যে শেফশাউন পরিণত হয় নতুন এক শহরে। নতুন আবাস নতুন আবাসে বাবা আলী ইবনে রশিদ সন্তানদের শিক্ষাদীক্ষ...

প্রথম মুসলিম নৌ-যোদ্ধা নারী

  খ্যাতিমান সাহাবি আনাস ইবনে মালিকের (রা.) খালার নাম ছিল উম্মু হারাম বিনতে মিলহান (রা.)। তিনি দুধপানের দিক থেকে রাসুলের(সা.) ও খালা ছিলেন। তার স্বামী ছিলেন উবাদা ইবনে -সামিত (রা.)। মদিনায় হিজরতের সময় প্রায় দুই সপ্তাহ রাসুল (সা.) কুবায় অবস্থান করেন। সেই সময় তিনি সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, মসজিদে কুবা। এই মসজিদের পাশে ছিল উম্মু হারাম বিনতে মিলহানের বাড়ি। রাসুল (সা.) প্রতি শনিবার মসজিদুল কুবাতে যেতেন। কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো বাহনে চড়ে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১,১৯৩) কুবায় গেলে প্রায়ই উম্মু হারামের বাড়িতে তিনি বেড়াতে যেতেন এবং দুপুরে বিশ্রাম নিতেন। একদিন তেমন করেই তিনি সে-বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। উম্মু হারাম রাসুল(সা.)কে খাবার খাওয়ান। খাওয়ার পর তিনি বিশ্রাম নেন, উম্মু হারাম রাসুলের মাথার উকুন বাছতে থাকেন। এক সময় রাসুলুল্লাহ(সা.) ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ তিনি হাসতে হাসতে ঘুম থেকে ওঠেন। উম্মু হারাম বেশ অবাক হন, জানতে চান, ‘আল্লাহর রাসুল(সা.) , আপনার হাসির কারণ কী?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) জানালেন, তিনি স্বপ্ন দেখেছেন। বললেন, ‘আমার উম্মতের কিছু লোককে যুদ্ধরত অবস্থায় আমার সামনে পেশ করা হলো। তারা এ সমুদ্রের...

সাহসী সাহাবি হজরত যুবাইর (রা.)

  খন্দকের যুদ্ধের সময়ের কথা। মদিনার ইহুদি গোত্র বনু কুরাইজা মুসলমানদের  সঙ্গে সম্পাদিত মৈত্রী চুক্তি ভেঙে ফেলে। রাসুল (সা.) তাঁদের অবস্থা জানতে গুপ্তচর হিসেবে কাউকে পাঠাতে চাইলেন। সাহাবাদের উদ্দেশ্য করে তিনি তিনবার জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে তাদের সংবাদ নিয়ে আসতে পারবে? প্রত্যেকবারই যুবাইর (রা.) বললেন, আমি! ইয়া রাসুলুল্লাহ! রাসুল (সা.) যুবাইর (রা.)-এর উদ্দীপনায় সংকট হয়ে বলেছিলেন, প্রত্যেক নবীরই একজন ঘনিষ্ঠ অনুসারী থাকে। যুবাইর আমার অনুসারী। মক্কায় একবার এই গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে অবিশ্বাসীরা রাসুল (সা.)–কে বন্দী অথবা হত্যা করেছে। খবরটি শোনামাত্র একটি বালক ক্ষিপ্ত হয়ে তলোয়ার হাতে বেরিয়ে পড়ল। ঘটনাটির সত্য–অসত্য নিশ্চিত হওয়ার জন্য সে হাজির হলো রাসুল (সা.) এর দরবারে। রাসুল (সা.) তাঁকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে? সে উত্তর দিল, আমি শুনেছি আপনি বন্দী অথবা নিহত হয়েছেন। তাই আমি প্রতিশোধ ...

জানাজার নামাজের নিয়ম ও ফজিলত

  কোনো মুসলিম মারা গেলে মাগফিরাতের জন্য মরদেহ সামনে নিয়ে বিশেষ নিয়মে যে দোয়া করা হয়, তার নাম জানাজার নামাজ। ‘জানাজা’ শব্দের অর্থ মরদেহ। জানাজার নামাজ আদায় করা ফরজে কেফায়া। ফরজে কেফায়া হলো দু-একজন আদায় করলে মহল্লার সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। আর কেউ আদায় না করলে সবাই গুনাহগার হয়। জানাজার নামাজ শুধু পুরুষদের জন্য আবশ্যক। নারীদের জন্য এতে অংশগ্রহণ করার বিধান নেই। পবিত্রতা ছাড়া জানাজার নামাজ পড়া যায় না। জানাজার নামাজের নিয়ম প্রথম তাকবিরের পর সানা, দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ পড়া। তারপর তৃতীয় তাকবিরের পর দোয়া পড়বেন। এরপর চতুর্থ তাকবির দিয়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। সংক্ষেপে জানাজার নামাজের নিয়ম হলো মৃত ব্যক্তিকে সামনে রেখে তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য সবাই একত্র হয়ে দাঁড়াবেন। চারবার ‘আল্লাহু আকবার’ তাকবির বলবেন। জানাজার নামাজের নিয়ত মনে মনে এ নিয়ত করবেন, ‘আমি জানাজার ফরজে কেফায়া নামাজ চার তাকবিরসহ এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে আদায়ের নিয়ত করছি।’ এরপর কান পর্যন্ত হাত ওঠাবে এবং তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবর) বলতে হবে। এরপর সানা পড়তে হবে— উচ্চারণ: ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদ...

হারুত-মারুত কারা

  হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার নাম। নবী সোলায়মান (আ.)–এর সময়ে ওই দুই ফেরেশতা বাবেল শহরে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। হারুত–মারুত কিছু লোককে জাদু শিখিয়েছিলেন। শেখানোর শর্ত ছিল, সেই জাদু কারও ওপর প্রয়োগ করা যাবে না। জাদুবিদ্যা যে আসলে মন্দ, সবাইকে এটা শেখানোর জন্যই তাঁরা এসেছিলেন। নবীরা মুজিজা দেখান। মুজিজা জাদু নয়। কোরআনে সুরা বাকারায় আছে ‘আর সোলায়মানের রাজত্বে শয়তানেরা যা আওড়াত তারা (সাবাবাসীরা) তা মেনে চলত। সোলায়মান অবিশ্বাস করেনি, বরং শয়তানেরাই অবিশ্বাস করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত (সেই) জাদু যা বাবেল শহরের দুই ফেরেশতা হারুত ও মারুতের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল । তাই ‘আমরা তো (তোমাদের জন্য) ফিতনা (পরীক্ষাস্বরূপ)। তোমরা অবিশ্বাস কোরো না’—এই না বলে তারা কোনো মানুষকে শিক্ষা দিত না। এ-দুজনের কাছ থেকে তারা এখন বিষয় শিক্ষা করত, যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত, তবু আল্লাহর নির্দেশ ছড়া কারও কোনো ক্ষতি তারা করতে পারত না। তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, আর কোনো উপকারে আসত না। আর তারা ভালো করেই জানত যে যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোনো অংশ নেই । আর যদি তারা জানত, তারা যার বিনিম...

যেভাবে সালাম এল

  সালাম কোথা থেকে এল? প্রথম সালাম কে দিয়েছিলেন? বুখারির ৩,৩২৬ নম্বর হাদিস থেকে এর উত্তর জানা যায়। আবু হুরায়রা (রা.)–র বরাতে হাদিসটি পাওয়া যায়। নবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ আদম (আ.)-কে বানালেন। এরপর বললেন, ‘যাও, ওই ফেরেশতাদের সালাম দাও। তারপর তারা তোমাকে যে অভিবাদন করে তা ভালো করে শোনো। এটিই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের অভিবাদন। তারপর আদম (আ.) বললেন, আসসালামু আলাইকুম। উত্তরে ফিরিশতারা বললেন, আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ। ফেরেশতারা অতিরিক্ত করে বললেন, ওয়া রাহমাতুল্লাহ (আর আল্লাহ তোমাদের দয়াও করুন) বাড়িয়ে দিলেন।আমরা সালাম দিয়ে থাকি। সালামে বলা হয়, আসসালামু আলাইকুম। এর মানে, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এর উত্তরে বলা হয়, ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এর মানে, আপনার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক। সালামের মাধ্যমে পরস্পরের শান্তি চাওয়া হয়।