পোস্টগুলি

নবীজি (সা.) কীভাবে কম সময়ে এত বেশি কাজ করেছেন

  রাত ১২টা। চোখে ঘুম নেই। কম্পিউটার তখনো খোলা। অফিসের কাজ করেই যাচ্ছেন। কখন শেষ হবে, তা জানেন না। প্রচুর কাজ জমে আছে। ডেডলাইন মাথার ওপর। বাচ্চাটা কখন ঘুমিয়ে পড়েছে, খেয়ালই করেননি। স্ত্রীর সঙ্গে আজ সারা দিন ভালো করে দুটি কথাও হয়নি। অথচ কাজ তবু শেষ হচ্ছে না। সপ্তাহের পর সপ্তাহ এভাবেই যাচ্ছে। অফিস, মিটিং, টার্গেট। বাসায় ফিরে ক্লান্ত শরীর, খিটখিটে মেজাজ। পরিবারকে সময় দেওয়ার কথা ভাবলেই মনে হয়, সময় কোথায়? কর্মজীবন আর ব্যক্তিগত জীবনের মাঝে সমন্বয় করতে পারছেন না। সমাধান কী? কেউ কম সময় কাজ করেও ক্লান্ত হয়ে পড়েন, কারণ, কাজটি তিনি পছন্দ করছেন না। ফলে কাজটি তাঁর কাছে বোঝা বলে মনে হয়। সুতরাং প্রশ্ন হলো কাজটি আপনি মন থেকে করছেন কি না। বিজ্ঞান কী বলছে গবেষণায় দেখা গেছে, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে ও মানসিক প্রশান্তি হারায়। যাঁরা কাজের সময় ও পরিবারের সময়ের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন রাখতে পারেন, তাঁদের মানসিক সুস্থতা তুলনামূলক অনেক ভালো থাকে। (ক্রেইনার, জি ই, ২০০৬, জার্নাল অব অর্গানাইজেশনাল বিহেভিয়ার, ২৭/৪, জন উইলি অ্যান্ড সন্স) সাম্প্...

দোয়া কি শুধু আরবিতেই করতে হবে

  বহু সাধারণ মুসলিমের মনে প্রায়শই দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয় যে আল্লাহর কাছে নিভৃতে ফরিয়াদ করার জন্য কি আরবি জানা বাধ্যতামূলক? যে ব্যক্তি আরবি ভাষার অর্থ বোঝে না, সে যদি মুখস্থ কিছু আরবি শব্দ উচ্চারণ করে, তবে কি তার অন্তরের আসল আকুতি প্রকাশ পায়? মাতৃভাষায় নিজের ব্যথা, অশ্রু ও অনুভূতি প্রকাশ করে আল্লাহর কাছে চাইলে কি সেই দোয়া কবুল হবে? আবার নামাজের ভেতর রুকু, সিজদা বা শেষ বৈঠকে মাতৃভাষায় দোয়া করার ফিকহি সীমারেখাই–বা কী? মানুষের ভাষার বৈচিত্র্য স্বয়ং আল্লাহর অন্যতম বড় কুদরতি নিদর্শন। তিনি ঘোষণা করেন, “আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য; নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।” (সুরা রুম, আয়াত: ২২) নামাজ ও সাধারণ দোয়ার পার্থক্য এই মাসআলাটি সঠিকভাবে বোঝার মূল চাবিকাঠি হলো ‘নামাজ’ এবং ‘সাধারণ দোয়া’র পার্থক্য স্পষ্ট করা। নামাজ হলো একটি সুনির্দিষ্ট ইবাদত। মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে আদায় করতে দেখেছ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩১) নামাজের কিরাত, রুকু, সিজদা ও তাশাহুদে পঠিত শব্দাবলি আসম...

আরবি না জেনেও কোরআনের সঙ্গ পাওয়ার ৭ উপায়

  আল্লাহ কোরআনকে আরবি ভাষায় নাজিল করেছেন। আবার যেকোনো ভাষায় তা বোঝা সহজ করেছেন। এই লেখায় আমরা এমন সাতটি উপায় নিয়ে আলোচনা করব, যার মাধ্যমে আরবি না পড়তে বা না বুঝতে পারলেও কোরআনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যায়। ১. উপযুক্ত অনুবাদ নির্বাচন করুন আপনার মাতৃভাষায় কোরআনের চমৎকার অনুবাদগুলো খুঁজে বের করুন। বিভিন্ন অনুবাদ পড়ে দেখুন কোনটি আপনার কাছে সহজবোধ্য ও হৃদয়গ্রাহী। শব্দ-শব্দ অনুবাদ ব্যবহার করলে কোরআনে বারবার ব্যবহৃত শব্দগুলোর অর্থ মনে রাখা সহজ হবে। একাধিক অনুবাদের তুলনামূলক পাঠ আয়াতের গভীর অর্থ উন্মোচনে সহায়ক। আজকাল ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ভাষার অনুবাদ পাশাপাশি দেখার সুবিধা রয়েছে। ২. কোরআন তিলাওয়াত শুনুন আয়াতের অর্থ না বুঝলেও কোরআনের তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনা আধ্যাত্মিক উপকার বয়ে আনে। কোরআনের তিলাওয়াতের কয়েকটি ফজিলত হলো: শিফা ও রহমত: ‘আমি কোরআন থেকে এমন কিছু নাজিল করি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত...।’ (সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮২) উপদেশ: ‘যার হৃদয় আছে বা যে মনোযোগ দিয়ে শোনে, তার জন্য এতে রয়েছে উপদেশ।’ (সুরা ক্বাফ, আয়াত: ৩৭) রহমত লাভ: ‘যখন কোরআন পড়া হয়, ত...

ইমাম মালেক ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাজহাবের কাহিনি

  তিনি ছিলেন মদিনার আলেম। সম্মান করে তাঁকে বলা হতো হিজরতের শহরের ইমাম। তাঁর বাবা আনাস। তিনি মদিনার ফিকহি ঐতিহ্যের প্রধান রূপকার এবং ইসলামের চার প্রধান মাজহাবের একটি ‘মালেকি মাজহাব’-এর প্রতিষ্ঠাতা। মদিনায় শৈশব ইমাম মালেকের পূর্ণ নাম মালেক ইবনে আনাস ইবনে মালেক ইবনে আবু আমের ইবনে আমর ইবনুল হারিস আল-আসবাহি আল-হিমইয়ারি। কুনিয়াত ‘আবু আবদুল্লাহ’। বংশসূত্রে তিনি ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত হিমইয়ারি গোত্রের সদস্য হলেও তাঁর পূর্বপুরুষেরা বহু আগে থেকেই মদিনায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। জন্মসন নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে সামান্য মতভেদ থাকলেও অধিকাংশের মতে তিনি ৯৩ হিজরি (৭১১-৭১২ খ্রিষ্টাব্দ) খলিফা ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালেকের শাসনামলে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। (ইমাম নববি, তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত, ২/৭৫-৭৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত) তাঁর পারিবারিক পরিমণ্ডলও ছিল ইলমচর্চায় সমৃদ্ধ। দাদা মালেক ইবনে আবু আমের একজন বিশিষ্ট তাবেয়ি ছিলেন, যিনি খলিফা ওমর, ওসমান ও আয়েশা (রা.)-এর মতো শীর্ষ সাহাবিদের থেকে ইলম গ্রহণ করেন এবং খলিফা ওসমানের যুগে কোরআনের প্রামাণ্য মুসহাফ সংকলন কমিটির সদস্যও ছিলেন। তাঁর চাচা নাফে ইবনে ম...

আয়েশা (রা.)–কে কেন ‘আবদুল্লাহর মা’ বলা হয়

  তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে ‘সিদ্দিকা’, ‘উম্মুল মুমিনিন’সহ নানা মর্যাদাপূর্ণ উপাধি জড়িয়ে আছে। এর মধ্যে একটি বিশেষ কুনিয়ত বা উপাধি হলো ‘উম্মে আবদুল্লাহ’ বা আব্দুল্লাহর মা। প্রশ্ন জাগে, আয়েশা সিদ্দিকার তো কোনো সন্তান ছিল না, তাহলে তাঁকে ‘উম্মে আবদুল্লাহ’ বলা হতো কেন? এর উত্তর পাওয়া যায় স্বয়ং আয়েশার বর্ণিত একটি সহিহ হাদিসে। একদিন তিনি নবীজির দরবারে আবেদন করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, (আমি ছাড়া) আমার সব সখীদেরই পরিবারিক নাম (কুনিয়াত) আছে। তখন নবীজি (সা.) বললেন, তুমি তোমার (বোনের) ছেলে আবদুল্লাহর নামে কুনিয়াত গ্রহণ করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৭০) বর্ণনাকারী মুসাদ্দাদ এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এখানে আবদুল্লাহ বলতে আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইরকে বোঝানো হয়েছে। এর পর থেকেই আয়েশার কুনিয়াত হয়ে যায় উম্মে আবদুল্লাহ। কুনিয়াতের প্রতি আয়েশার আগ্রহ ঘটনাটির সূচনাও বেশ হৃদয়গ্রাহী। তিনি দেখলেন, তাঁর সতীনদের প্রত্যেকেরই একটি করে কুনিয়াত রয়েছে। তাঁরও ইচ্ছা হলো, নিজের এমন একটি সুন্দর পরিচয় থাকুক। তাই তিনি রাসুলের কাছে বিষয়টি তুলে ধরলেন। এতে বোঝা যায়, কুনিয়াত আরব সমাজে শুধু নামের বিকল্প কোন...

সুরা কাহাফ থেকে বন্ধুর পথে অবিচলতার শিক্ষা

  বাঁচার কোনো প্রত্যক্ষ দৃশ্যমান পথ যখন খোলা থাকে না, তখন মানুষের সামনে শুধু একটিই ক্ষীণ অবলম্বন অবশিষ্ট থাকে—নিজের বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করে পরম করুণাময়ের এক অদৃশ্য রহমতের আশ্রয়ে নিজেকে সঁপে দেওয়া। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল সুদূর অতীতে কয়েক ইমানদার যুবকের জীবনে; পার্থিব নিরাপত্তার কোনো সাজসরঞ্জাম ছাড়াই যাঁদের একমাত্র আশ্রয় হয়েছিল একটি অন্ধকার পাহাড়ের গুহা।  কোরআনের চিরন্তন উপাখ্যান ‘আসহাবে কাহাফ’ মানবজাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তের এক শাশ্বত মনস্তাত্ত্বিক পাঠ—কীভাবে নিরেট তাওয়াক্কুল ও অবিচলতা প্রতিকূলতম পরিস্থিতিকেও স্বর্গীয় শান্তিতে রূপান্তর করতে পারে। পার্থিব অনিশ্চয়তায় রহমতের আশ্রয় সুরা কাহাফের সেই তরুণদের ঘটনাটি শুরু হয়েছিল অত্যাচারী বাদশাহ থেকে নিজেদের ইমান রক্ষার তাগিদে। এই যুবকরা নিজেদের রাজকীয় বৈভবের মোহ ত্যাগ করে গুহার পথ বেছে নিয়েছিলেন। কোরআনে তাঁদের কথোপকথন বিধৃত হয়েছে এভাবে, “আর যখন তোমরা তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহ ছাড়া যাদের উপাসনা করে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হলে, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করো। তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য তাঁর রহমত প্রশস্ত করে দেবেন এবং তোমাদের জন্য তোমা...

ঘুমের আগে অজু: প্রশান্তির পথে এক ছোট্ট আমল

  রাত গভীর হয়েছে। সারা দিনের ব্যস্ততা শেষে আপনি এবার বিছানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দিনের ক্লান্তি শরীরজুড়ে, নানা চিন্তা মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে। কাজের চাপ, সংসারের ভাবনা, ভবিষ্যতের উদ্বেগ কিংবা অকারণ কিছু অস্থিরতা—সব মিলিয়ে মনটাও যেন ক্লান্ত। এমন সময় বিছানায় যাওয়ার আগে নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন, অজু করেছেন তো? প্রশ্নটি শুনে হয়তো কেউ একটু অবাক হতে পারেন। অজু তো সাধারণত নামাজের জন্য করা হয়, কোরআন মাজিদ স্পর্শ করার জন্য করা হয়। কিন্তু এখন তো নামাজ পড়তে যাচ্ছেন না, কোরআনও পড়ছেন না; শুধু ঘুমাতে যাচ্ছেন। তাহলে আবার অজু করার প্রয়োজন কী? প্রয়োজন আছে। বরং ঘুমের মতো একটি দৈনন্দিন কাজও যখন একজন মুমিন সুন্নাহর আলোকে সম্পন্ন করেন, তখন সেটি নিছক ঘুম থাকে না; সেটিও হয়ে ওঠে ইবাদতের অংশ। অজু শুধু শরীরের কিছু অঙ্গ ধুয়ে নেওয়ার নাম নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আত্মিক পরিচ্ছন্নতা ও মানসিক প্রশান্তিরও এক গভীর অনুভূতি। দিনের ক্লান্তি যখন আপনাকে অবসন্ন করে ফেলে, মন যখন নানা চিন্তায় ভারী হয়ে ওঠে, তখন অজুর শীতল পানি মুখে, হাতে ও শরীরে স্পর্শ করলে একধরনের স্বস্তি অনুভূত হয়। মনে হয়, দিনের জমে থাকা ক্লান্তির ওপর ...