পোস্টগুলি

যিনি ছিলেন ৫ শহীদ সাহাবির স্ত্রী

  আতিকা বিনতে জায়েদ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের এক অনন্য ও বিদুষী সাহাবি। রূপ-সৌন্দর্য, ধার্মিকতা, প্রজ্ঞা, সাহিত্যবোধ ও বুদ্ধিমত্তার এমন সমন্বয় তৎকালীন সমাজে খুব কমই দেখা যেত। তৎকালীন আরবে প্রাঞ্জলভাষী ‘কবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল। পাশাপাশি একজন একনিষ্ঠ ‘মসজিদপ্রেমী’ নারী হিসেবেও তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। আনুমানিক ৬০০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কোরাইশ বংশের বনু আদি গোত্রে তাঁর জন্ম। (ইবনে সাদ, আত–তাবাকাত আল–কুবরা, ৮/২৩০, দার ছাদের, বৈরুত) তিনি ইসলামের প্রারম্ভিক যুগেই ইমান আনেন এবং মদিনায় হিজরতের গৌরব অর্জন করেন। ইসলামি সমাজে বিধবা নারীদের পুনর্বাসন ও সম্মানজনক পুনর্বিবাহের যে সহজ ও কুসংস্কারমুক্ত আবহ ছিল, আতিকার জীবন তার এক উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত। পারিবারিক ঐতিহ্য ও বংশমর্যাদা আতিকার পিতা জায়েদ ইবনে আমর এবং মাতা উম্মে কুরজ সাফিয়া বিনতে আল-হাদরামি। তাঁর পিতা জাহেলি যুগেই পৌত্তলিকতা বর্জন করে একত্ববাদী (হানিফ) ছিলেন এবং নবী ইব্রাহিমের বিশুদ্ধ তাওহিদের ওপর অবিচল ছিলেন। কোরাইশদের উদ্দেশ্য করে তিনি প্রকাশ্যে বলতেন, ‘আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্যে একমাত্র আমিই ইব্রাহিমের সত্য ধর্মে প্রত...

বন্ধুত্ব: ইহকালে, পরকালে

  প্রযুক্তি এখন আমাদের যোগাযোগকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু সব সম্পর্ককে গভীর করতে পারেনি। ভার্চ্যুয়াল ফ্রেন্ডশিপ বেড়েছে, অথচ অনেকের জীবনেই কমে গেছে সত্যিকারের বন্ধুত্বের মায়া আর উষ্ণতা। একজন সত্যিকারের বন্ধুর সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো, সে আমাদের ভালো চায়। শুধু দুনিয়ার সাফল্য নয়, সে আমাদের আখেরাতের সফলতাও কামনা করে। আমাদের ভুল দেখলে নীরব থাকে না। ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে। এমন বন্ধু নিঃসন্দেহে আল্লাহর দেওয়া এক অমূল্য নেয়ামত। বন্ধুই যখন পরিচয় একজন বন্ধু শুধু আমাদের অবসর সময়ের সঙ্গী নয়; সে আমাদের চিন্তা, চরিত্র, অভ্যাস, সিদ্ধান্ত এবং ইমানের ওপরও গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না, আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসগুলো কীভাবে বদলে যাচ্ছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ করে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৩৩) প্রখ্যাত তাবেয়ি আলকামা (রহ.) বলেছেন, ‘এমন ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন, যার সাহচর্যে আপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়; আপনি ভুল করলে সে সংশোধন করে এবং বিপদের দিনে আপনার পাশে দাঁড়ায়।’বন্ধুত...

হৃদয়ে প্রশান্তি পেতে নবীজির শেখানো ৩টি দোয়া

  প্রকৃত সুখ ও প্রশান্তির মূল উৎস হলেন মহান আল্লাহ, যিনি সকল কল্যাণের আধার। আধুনিক মনস্তত্ত্ব স্বীকার করে যে ইতিবাচক চিন্তা ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন মানুষকে সুখী হতে সাহায্য করে। ইসলামে এই দুটি বিষয়কে অত্যন্ত চমৎকারভাবে দৈনন্দিন জিকির ও দোয়ার মধ্যে সমন্বিত করা হয়েছে। মহানবীর শেখানো তিনটি কালজয়ী জিকির ও দোয়া নিয়ে আলোচনা করা হলো, যা আমাদের মনকে এক অদ্ভুত মানসিক প্রশান্তি ও প্রশান্তিময় সুখে ভরিয়ে দেবে। ১. প্রথম দোয়া: আল্লাহর প্রতি নিখাদ সন্তুষ্টি সত্যিকারের সুখ শুধু আখেরাতে স্রষ্টার সঙ্গে মিলনেই সম্ভব। তবে এই দুনিয়াতেও আত্মাকে শান্ত রাখার সুন্দর একটি জিকির মহানবী (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন। বলেছেন, যেকোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি সকালে ও সন্ধ্যায় নিচের দোয়াটি পড়ে, তবে কেয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করা মহান আল্লাহর জন্য এক সুনিশ্চিত ওয়াদা হয়ে যায়। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৮৭০)উচ্চারণ: রাযীতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়া বিল-ইসলামি দ্বীনান, ওয়া বি-মুহাম্মাদিন নাবিয়্যান। অর্থ: আমি সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহকে আমার প্রতিপালক, ইসলামকে আমার ধর্ম এবং মুহাম্মদকে আমার নবী হিসেবে গ্রহণ করেছি। প্রতিদিন এই বাক্যট...

মুমিন কি দুনিয়াবিমুখ থাকতে পারে

  মানবজীবনের অন্যতম প্রধান ভ্রান্তি হলো দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যকার সূক্ষ্ম ভারসাম্য অনুধাবন করতে না পারা। বস্তুজগৎকে জীবনের একমাত্র কিংবা মূল লক্ষ্য বানিয়ে ফেলা মূলত মানুষের আত্মার নৈতিক পরাজয়। বস্তুকে ব্যবহারের উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু তাকে হৃদয়ের মণিকোঠায় বা মোহে স্থান দেওয়া যাবে না। আর এটিই হলো ইসলামে ‘জুহদ’ বা বস্তু-অনাসক্তির মূল শিক্ষা। দুনিয়াবিমুখতার প্রকৃত অর্থ সাধারণ অর্থে ‘জুহদ’ বলতে অনেকে সংসার ত্যাগ করা, বৈরাগী হওয়া, কর্মবিমুখ জীবন যাপন করা কিংবা দারিদ্র্যকে আলিঙ্গন করা মনে করেন; যা একেবারেই ভুল ধারণা। ইসলামে জুহদ হলো অন্তরকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহ থেকে মুক্ত রাখা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হালাল বস্তুকে হারাম করা কিংবা সম্পদ বিনষ্ট করার নাম দুনিয়াবিমুখতা নয়; বরং দুনিয়াবিমুখতা হলো, আল্লাহর দরবারে যা আছে, তার তুলনায় তোমার নিজের হাতে থাকা সম্পদের ওপর বেশি নির্ভরশীল না হওয়া।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৪০) পার্থিব জীবনের নশ্বর বাস্তবতা পবিত্র কোরআনে দুনিয়া ছেড়ে দিতে বলা হয়নি; বরং তার অস্থায়ী রূপ তুলে ধরে মানুষকে আত্মপ্রবঞ্চনা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। আল্লাহ–তাআলা এর এক স্...

শিশুর কোরআন শিক্ষা শুরু করার উপযুক্ত বয়স কোনটি

  শিশুরা কথা শেখার আগেই আজকাল ডিজিটাল স্ক্রিনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই কোরআন শেখার সঠিক বয়স নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ইসলামি শিক্ষাবিদ ও শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, সব শিশুর জন্য কোনো একক বা নির্দিষ্ট বয়স নেই। সাধারণত ৪ থেকে ৬ বছর বয়সকে প্রাতিষ্ঠানিক বা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোরআন পড়া শেখানোর উপযুক্ত সময় হিসেবে ধরা হয়—যখন একটি শিশু নির্দিষ্ট কিছু সময় স্থির হয়ে বসতে পারে, আকার-আকৃতি চিনতে পারে এবং শিক্ষক যা বলছেন তা অনুকরণ করে বলতে পারে। তবে শিশুর সঙ্গে কোরআনের আত্মিক মেলবন্ধন শুরু হতে পারে এই বয়সের বহু আগেই; আবার কেউ যদি আরও কিছুটা পরে শুরু করে, তাতেও সাফল্যের কোনো ঘাটতি হয় না। আসল বিষয় হলো, শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের স্তর বুঝে তাকে কোরআনের পথ দেখানো।  শিশুদের বিভিন্ন বয়সে কোরআন শিক্ষার সেরা উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো। জন্ম থেকে ৩ বছর: অনুভব করার বয়স শিশুর কোরআনের সঙ্গে পরিচয় শুরু হয় তার শ্রবণশক্তি বিকশিত হওয়ার মুহূর্ত থেকেই। গর্ভকালীন সময়ে মায়ের কোরআন তেলাওয়াত শ্রবণ শিশুমনস্তাত্ত্বে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশু কথা বলতে শেখার বহু আগেই তার চারপাশের ভাষা, সুর ও ধ্বনি শোষণ করতে থাকে। ঘ...

মানুষ কেন গিবত করে

  সামাজিক জীবনে যে পাপগুলো সবচেয়ে সহজে ও নিঃশব্দে বাসা বাঁধে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘গিবত’ বা পরনিন্দা। বন্ধুদের আড্ডা, চায়ের টেবিল কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় হাসির ছলে আমরা প্রায়ই অন্যের অনুপস্থিতিতে তার দোষত্রুটি আলোচনা করি। এই আলোচনা সমাজে এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে যে একে পাপ মনে করার মানসিকতাই যেন আমরা হারিয়ে ফেলছি। আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ বিনোদন মনে করলেও ইসলামি জীবনদর্শনে একে একটি জঘন্য অপরাধ ও আত্মিক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে গিবত বা পরনিন্দাকে নিজের মৃত ভাইয়ের কাঁচা গোশত খাওয়ার মতো বীভৎস অপরাধের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২) মহানবী (সা.) বলেছেন, হে ওই সকল লোক, যারা শুধু মুখেই ইমান এনেছো কিন্তু অন্তর পর্যন্ত বিশ্বাস পৌঁছায়নি, তোমরা মুসলমানদের গিবত কোরো না এবং তাদের গোপন দোষ খুঁজে বের কোরো না; কারণ যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দোষ খোঁজে, আল্লাহ তার দোষ খুঁজে বের করেন, আর আল্লাহ যার দোষ খোঁজেন, তাকে তার ঘরের ভেতরেও অপমানিত করে ছাড়েন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৮০) ইসলামি চিন্তাবিদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসির গবেষণার আলোকে গিবতের রূপ, এর নেপথ্য কারণ, ইসল...

কাউকে উপদেশ দেওয়ার আগে ৮টি কথা মনে রাখুন

  মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং সমাজকে সুন্দর করার অন্যতম সেরা উপায় হলো গঠনমূলক উপদেশ বা ‘নসিহত’ করা। কিন্তু পরামর্শ দেওয়ার কৌশল না জানা থাকলে সেই শুভাকাঙ্ক্ষাই অনেক সময় সম্পর্কে ফাটল ধরায়। উপদেশ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো অপর মানুষকে ভালো হতে সাহায্য করা, তাকে হেয় করা বা অপমান করা নয়। ইসলামে উপদেশ দেওয়া শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি নবীদের সুন্নত এবং একটি বিশেষ শিল্প। পবিত্র কোরআনে ‘নসিহত’ বা উপদেশ দেওয়ার বিষয়টি অন্তত ১৩টি স্থানে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। নবী হুদ (আ.) তাঁর জাতিকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, “আমি আমার প্রতিপালকের বার্তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি এবং আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত উপদেশদাতা।” (সুরা আরাফ, আয়াত: ৬৮) যে ব্যক্তি তার ভাইকে গোপনে সংশোধন করে, সে তাকে উপদেশ দিল; আর যে প্রকাশ্যে সংশোধন করতে যায়, সে তাকে মূলত লজ্জিত ও হেয় করল। ইমাম শাফেয়ি (রহ.) নিজের ভুলত্রুটি মানুষ নিজে সহজে দেখতে পায় না। তাই বিশ্বাসীরা পরস্পরের জন্য আয়নার মতো কাজ করে। মহানবী (সা.) বলেছেন, “এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য আয়নাস্বরূপ।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯১৮) কিন্তু কীভাবে উপদেশ দি...