পোস্টগুলি

জুমার দিন যে ১০ কাজ করা অনুচিত

  জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এ দিনের রয়েছে বিশেষ কিছু ফজিলত ও আমল। একই সঙ্গে কিছু কাজ থেকে বিরত থাকারও নির্দেশনা রয়েছে। জুমার দিনের পবিত্রতা অক্ষুণ্ন রাখতে যেসব কাজ পরিহার করা উচিত, তার কয়েকটি আলোচনা করা হলো। ১. জুমার আজানের পরে বেচাকেনা জুমার আজান দেওয়ার পর দুনিয়াবি ব্যস্ততা ছেড়ে নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে।  আল্লাহ-তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।’ (সুরা জুমুআ, আয়াত: ৯) তাই জুমার আজানের পর নামাজে যাওয়ার পরিবর্তে ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা কেনাবেচায় ব্যস্ত থাকা অনুচিত। ২. খুতবার সময় কথা বলা: জুমার খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং এ সময় নীরব থাকা জরুরি। খুতবা চলাকালে কথা বলা তো নিষেধই, এমনকি কাউকে নীরব থাকতে বলাও অনর্থক কথা হিসেবে গণ্য হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি যদি জুমার দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় তোমার সঙ্গীকে বলো, “চুপ করো”, তবে তুমি অনর্থক কথা বললে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৪) শুধু কথাবার্তাই নয়, মোবাইল দেখা, জায়নামাজ বা পোশাক নিয়ে অযথা নড়াচড়া ক...

‘আমি কে’: সুরা আসরে মুমিনের পরিচয় গড়ার ৪ মূলনীতি

  ঘরের ভেতরে পরিচ্ছন্ন ও বাধ্যগত সন্তান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্যদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা ভিন্ন এক সত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক কিংবা প্রশংসার আশায় সাজানো এক ভার্চ্যুয়াল কৃত্রিম রূপ, আর ধর্মীয় বা সামাজিক অঙ্গনে একটু ভদ্র ও সংশীল হয়ে হাজির হওয়া—এই হলো বর্তমান তরুণ প্রজন্মের নিত্যদিনের বাস্তবতা। বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য একেকটি মুখোশ পরতে পরতে একসময় তরুণদের মনে দানা বাঁধে এক গভীর প্রশ্ন, ‘যখন কেউ আমাকে দেখছে না, তখন আসল আমিটা কে?’ এটি শুধু বয়ঃসন্ধিকালের মামুলি কোনো আবেগীয় অস্থিরতা নয়, বরং আধুনিক সমাজে বেড়ে ওঠা তরুণদের এক গভীর অস্তিত্বসংকট। একের পর এক রূপ বদলানোর এই ক্লান্তিকর প্রক্রিয়ায় নিজের ভেতরের মূল সত্তাটি একসময় হারিয়ে যেতে বসে। যখন জীবনের প্রতিটি অঙ্গন শুধু একটি অভিনয়ে পরিণত হয়, তখন মনের ভেতরে জন্ম নেয় এক চরম ক্লান্তি। মাত্র তিনটি আয়াত এবং সামান্য কয়েকটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই সুরাটিতে রয়েছে মানুষের পরিচয় গঠন ও জীবনের চরম সফলতা অর্জনের এক পরিপূর্ণ পথনকশা। সুরা আসরের পথনকশা কোরআনের অন্যতম ছোট অথচ ভাবগাম্ভীর্যে ভরপুর সুরা হলো সুরা আসর। মাত্র তিনটি আ...

এআই কি দাজ্জাল? প্রযুক্তির নতুন জোয়ারে পুরোনো আতঙ্ক

ছবি
  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অভূতপূর্ব বিপ্লব দেখে ইদানীং অনেকেই সংশয়ে পড়ে প্রশ্ন তুলছেন, এআই-ই কি তবে শেষ জামানার দাজ্জাল? কেউ কেউ ‘এ আই’ মানে ‘এক চোখ’ অর্থও করছেন। যদিও ব্যাকরণ বিচারে এমন অর্থ ভুল। কেননা, তখন ‘অ্যান আই’ হওয়ার কথা। তবে প্রযুক্তির রূপান্তর দেখে তাকে ধর্মীয় ফিতনা বা দাজ্জালের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার এই প্রবণতা মোটেও নতুন কিছু নয়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে যখন টেলিভিশন মানুষের বাসাবাড়িতে পৌঁছাতে শুরু করেছিল, তখনও তৎকালীন সমাজের এক শ্রেণির মানুষ একই ধরনের দাবি তুলেছিল।  তাদের বক্তব্য ছিল, ড্রয়িংরুমে রাখা এক চোখের এই যে কাচের বাক্সে সারা পৃথিবীর ছবি ফুটে উঠছে, এটিই নাকি হাদিসে বর্ণিত ‘এক চোখের দাজ্জাল‘! পরবর্তীকালে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের বিশ্বব্যাপী বিস্তারের সময়েও একই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াতে দেখা গেছে। দাজ্জাল কোনো প্রযুক্তি নয় ইসলামের আলোকে দাজ্জাল কোনো রূপক ধারণা বা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়। মহানবী মহানবী (সা.) দাজ্জালের পরিচয় দিতে গিয়ে তাকে আদম সন্তানের মধ্য থেকেই একজন মানুষ হিসেবে স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন। মহানবী (সা.) দাজ্জালের শারীরিক গঠন, চোখের অবস্থা, মাথার চ...

ইসলামে মানুষ ও মানবতা

  ইসলামের মূল প্রতিপাদ্য হলো মানুষ ও মানবতা। ইসলাম সব মানুষের জন্য সর্বজনীন ধর্ম। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ–তাআলা সম্বোধন করেছেন, ‘হে মানুষ! (নাস)’, ‘হে মানবমণ্ডলী! (ইনসান)’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বনবী ও ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’। তিনি আখেরি নবী ও সর্বশেষ রাসুল। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সব মানুষই তাঁর উম্মত। ইসলাম অর্থ আনুগত্য ও শান্তি, মুসলিম অর্থ অনুগত ও শান্তিকামী লোক। ইমান অর্থ বিশ্বাস স্থাপন ও নিরাপত্তা বিধান, মুমিন অর্থ বিশ্বাসী ও নিরাপত্তা বিধানকারী ব্যক্তি। ‘আমান’ অর্থ নিরাপত্তা, ‘আমানত’ অর্থ বিশ্বস্ততা ও নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত। ‘ধর্ম’-এর আরবি হলো ‘দ্বীন’, ‘দিয়ানাত’ অর্থ নৈতিকতা; ‘দিন’ অর্থ কর্মফল, বিচার, ফলাফল, বিচার ও পরিণতি। ধর্মের মূল কথা নীতিনৈতিকতা, বিশ্বস্ততা ও মানবতা। ধর্মের উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার জীবনে শান্তি এবং পরকালে মুক্তি লাভ। এ জন্য প্রয়োজন মানবীয় সদ্‌গুণাবলির বিকাশ ও প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ। সদ্‌গুণাবলি হলো কৌমার্য, সতীত্ব, শক্তি, সত্য ও বাস্তবসম্মত। মুখ্য সদ্‌গুণাবলি হলো বিমৃষ্যকারিতা (ফলাফল চিন্তা করে কাজ করা), তিতিক্ষা (ধৈর্য), মিতাচার (সংযম) ও ন্যায়বুদ্ধি...

ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ থেকে আত্মোন্নয়নের ৫ শিক্ষা

  সমর কৌশলবিদ ও লেখক রবার্ট গ্রিন তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, মানুষের মানসিক ও আত্মিক রূপান্তরের আসল লড়াইটি ঘরের বাইরে নয়, বরং তার নিজের ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক জগতের ভেতরেই সংঘটিত হয়। (রবার্ট গ্রিন, দ্য ৩৩ স্ট্র্যাটেজিস অব ওয়ার, পৃষ্ঠা ৪২, ভাইকিং প্রেস, নিউইয়র্ক, ২০০৬) মানুষ কখনো আরামদায়ক বা সুবিধাজনক স্থানে বসে নিজের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাতে পারে না; বরং ভয়কে মুখোমুখি করে, অনিশ্চয়তা সামলে এবং পরম সত্তার ওপর অটল আস্থা রেখেই প্রকৃত মানসিক উন্নতি লাভ করে। ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধকে সাধারণত সামরিক কৌশল ও ইসলামি যুদ্ধনীতির এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সামরিক কূটনীতির বাইরের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বদরের যুদ্ধ মানুষের ব্যক্তিগত বিকাশ, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং প্রতিকূলতা জয়ের এক সর্বজনীন শিক্ষালয়। স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি সাড়া দিয়েছিলেন: আমি তোমাদের ধারাবাহিক হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করব। সুরা আনফাল, আয়াত: ৯ ১. সংকটকালে অটল ইমান প্রথম শিক্ষাটি হলো ঘোর সংকটকালেও নিজের নীতি ও ইমানে অটল থাকা। যুদ্ধের মাঠে মুসলিম ও অমুসলি...

নবীজির বাবার কবর কোথায়

  হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “তিনি যখন বনু আদি ইবনে নাজ্জারের দুর্গের দিকে তাকালেন, তা চিনতে পারলেন।” (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১৩৪, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বৈরুত, ১৯৯০) কোন সে দুর্গ? কী কথা নবীজির মনে উঁকি দিয়েছিল সেই দুর্গের দিকে তাকিয়ে? এ পাঠ হয়তো পাঠকের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকা ছোটকালের কোনো স্মৃতির সঙ্গে মিলে যাবে। হয়তো কয়েকটি দৃশ্যপটও হুবহু এক মনে হবে; কিন্তু একটি বিষয় মিলবে না! মিল-অমিল খুঁজতে খুঁজতে পড়তে থাকুন। হাশিম ইবন আসিম আল-আসলামি তাঁর পিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, একবার রাসুল (সা.) তাঁর মা আমিনা বিনতি ওয়াহাবের সঙ্গে ছিলেন। যখন তাঁর বয়স ছয় বছরে উপনীত হলো, তিনি তাঁকে নিয়ে তাঁর মামাদের নিকট বেড়ানোর উদ্দেশ্যে মদিনার বনু আদি ইবনি নাজ্জারের উদ্দেশ্যে বের হন। সঙ্গে ছিলেন উম্মে আইমান (যিনি তাঁকে দুধ খাইয়েছিলেন)। তাঁরা ছিলেন দুটি উটের আরোহী। মা তাঁকে নিয়ে নাবিগার গৃহে অবতরণ করেন এবং তাঁদের নিকট একমাস অবস্থান করেন। রাসুল (সা.) সেই অবস্থানের কিছু স্মৃতি ধরে রেখেছিলেন। যখন তিনি বনু আদি ইবনে নাজ্জারের দুর্গের দিকে তাকালেন, তা তিনি শনাক্ত করতে পারলেন এবং বললেন, ‘আমি এ দুর...

অন্যের অতিথি হলে মুমিন যে ৬ বিষয় মনে রাখেন

  অতিথি ও আতিথেয়তা আমাদের সামাজিক জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ইসলামেও মেহমানদারি ও অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু স্বাগতিকের নয়, একজন মেহমানেরও কিছু নির্দিষ্ট আদব ও দায়িত্ব রয়েছে। অন্যের ঘরে অতিথি হিসেবে গেলে একজন মুমিনের যে বিষয়গুলো বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত, তা জেনে নেওয়া যাক: ১. সালাম দিয়ে প্রবেশ করা কারও বাড়িতে গেলে অতিথির প্রথম সৌজন্য হলো সালাম দেওয়া। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘অতএব, যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে, তখন পরস্পরের প্রতি সালাম করবে।’ (সুরা নূর, আয়াত: ৬১) সালাম কোনো সাধারণ অভিবাদন নয়; এটি একটি ইবাদত এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্বের প্রকাশ। সালাম মানুষের অন্তরে ভালোবাসা ও বিনয় সৃষ্টি করে, পারস্পরিক দূরত্ব কমায় এবং সম্পর্ককে আরও সুন্দর ও সৌহার্দ্যময় করে তোলে। ২. অনুমতি ও সময় নিশ্চিত করা ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে। তাই কারও বাড়িতে যাওয়ার আগে অনুমতি নেওয়া এবং সম্ভব হলে সময় নিশ্চিত করে নেওয়া উত্তম। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কোনো ঘরে প্র...