পোস্টগুলি

ভালো কথার জাদুকরি ৬ সুফল

  ভালো কথা বলতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন কথা বলা বোঝায়, যা শুনে সে প্রশান্তি ও আনন্দ লাভ করে এবং যার মাধ্যমে তার অন্তরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যে কথা সমাজে সুফল বয়ে আনে, অশান্তি দূর করে এবং কল্যাণের পথ প্রশস্ত ও অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করে, সেটাই ভালো কথা। ইসলামে ভালো কথাকে ‘কালিমাতুত তাইয়্যিবাহ’ বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ ভালো কথা বা সুন্দর কথা বলার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘আর মানুষের সঙ্গে সুন্দর কথা বলো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮৩) ভালো কথার জাদুকরি সুফল সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে এবং একটি সুখ–সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে পারস্পরিক ভালো কথা ও মধুর ভাষা প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। তাই কোরআন ও হাদিসে বিভিন্নভাবে ভালো কথার প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে পরকালীন সওয়াবের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ১. দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ: ভালো কথার সুফল সমাজজীবনে ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদি। মহান আল্লাহ একটি উপমা দিয়ে বলেছেন, ‘ভালো কথার দৃষ্টান্ত হলো ভালো গাছ, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা-প্রশাখা আকাশে বিস্তৃত, যা তার প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে সর্বদা ফল দিয়ে থাকে।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২৪-...

সংক্রামক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে যে দোয়া পড়তে হয়

  বর্তমান যুগে ভাইরাসজনিত নানা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ইসলামি জীবনদর্শনে রোগব্যাধি বা প্রাদুর্ভাবকে শুধু এক দৈহিক যন্ত্রণা হিসেবে দেখা হয় না; বরং একে মানবজীবনের ভঙ্গুরতা, মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষিতা এবং প্রাত্যহিক অসচেতনতা থেকে জাগ্রত হওয়ার এক আত্মিক স্মারক হিসেবে গণ্য করা হয়। রোগব্যাধি ও মহামারির বিস্তার ঘটলে একদিকে যেমন চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ রয়েছে, অন্যদিকে বিশ্বজাহানের মালিক প্রতিপালকের দরবারে আত্মিক সুরক্ষাকবচ বা দোয়ার মাধ্যমে আশ্রয় চাওয়ার বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মারাত্মক ব্যাধি থেকে সুরক্ষার দোয়া মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতকে শারীরিক অসুস্থতা, ছোঁয়াচে রোগ এবং জটিল ব্যাধি থেকে বেঁচে থাকার জন্য সর্বজনীন দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বলেন, নবীজি  নিয়মিত এই বিশেষ দোয়াটি পাঠ করতেন: উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুজামি, ওয়া মিন সায়্যিইল আসক্বাম। অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে শ্বেতরোগ, উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ এবং সব ধরনের কঠিন ও মারাত্মক ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৫৪) ‘সায়্যিইল আ...

মহানবীর কূটনৈতিক সাফল্য

  হিজরির নবম বছরে আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিদলগুলোর ধারাবাহিক আগমন তাঁর নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইসলামের ইতিহাসে এ বছর পরিচিতি পেয়েছে ‘আমুল উফুদ’ বা প্রতিনিধিদলের বছর নামে। এ সময় মদিনায় আসা প্রতিনিধিদের সবার উদ্দেশ্য এক ছিল না। কেউ এসেছিলেন ইসলাম সম্পর্কে জানতে, কেউ আনুগত্যের অঙ্গীকার করতে, কেউ নিজেদের গোত্রের অবস্থান জানাতে, আবার কেউ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে। রাসুল (সা.) প্রত্যেকের সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী কথা বলেছেন। কোথাও যুক্তি দিয়ে, কোথাও আন্তরিক অভ্যর্থনায়, কোথাও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। প্রতিনিধিদলে কবি ও বক্তা ছিলেন। আরব সমাজে কবিতা ছিল সামাজিক প্রভাব বিস্তারের প্রধান মাধ্যম। তাই তাঁরা নিজেদের গোত্রের মর্যাদা ও গৌরব তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। নবম হিজরিতে কেন এত প্রতিনিধি মক্কা বিজয়ের আগে আরবের অনেক গোত্র ইসলাম গ্রহণের প্রশ্নে সতর্ক অবস্থানে ছিল। কোরাইশ ছিল আরবের প্রভাবশালী গোত্রগুলোর একটি। তাদের সঙ্গে রাসুলের সংঘাতের পরিণতি কী হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ছিল অনেকে। অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয় এবং পরবর্তী ঘটনাপ...

আগুনে পুড়ে মৃত্যু: নবীজি যে সুসংবাদ দিয়েছেন

  আগুনের লেলিহান শিখা যখন মানুষের শরীর গ্রাস করে, তখন তার স্বজনদের অসহায় আর্তনাদ, বাঁচার আকুতি আর মুহূর্তের মধ্যে নিভে যাওয়া একটি জীবনের গল্প আমাদের ভীষণভাবে নাড়া দেয়। এমন মৃত্যুতে শোকের ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু নবীজি (সা.) এমন কিছু মানুষের জন্য শহিদ হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন, যাঁদের মৃত্যু বাহ্যিকভাবে বেদনাদায়ক হলেও আল্লাহর কাছে তাঁদের মর্যাদা হতে পারে অত্যন্ত সম্মানজনক। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ছাড়াও সাত শ্রেণির শহীদ রয়েছেন। মহামারিতে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, প্লুরিসিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, পেটের রোগে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ এবং গর্ভাবস্থায় মৃত্যুবরণকারী নারী শহীদ।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩১১১) হাদিসটি আমাদের সামনে মৃত্যুর এক ভিন্ন তাৎপর্য তুলে ধরে। মানুষের দৃষ্টিতে কোনো মৃত্যু যতই মর্মান্তিক হোক, আল্লাহর রহমত ও প্রতিদানের বিবেচনায় তা অসম্মানজনক হওয়ার কোনো কারণ নেই। যে মানুষটি আগুনের ভয়াবহতায় দগ্ধ হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন, তাঁর স্বজনদের জন্য এই হাদ...

বিপদের তীব্রতায় মৃত্যু কামনা: কী বলে ইসলাম

  বিপদের ঢেউ যখন ক্রমাগত আছড়ে পড়ে জীবন তীরে, তখন অনেকেই সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুর কামনা করে। মনের অজান্তে অস্ফুট স্বরে বলে ওঠে কেউ, ‘এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই ভালো।’ তবে মুমিনের পথচলা অন্য সবার মতো নয়। সে বিশ্বাস করে, দুনিয়ার কোনো কিছুই দৃশ্যমান কারণ দ্বারা পরিচালিত হয় না। এর পেছনে রয়েছে সর্বজ্ঞ ও পরম প্রজ্ঞাবান রবের সিদ্ধান্ত। রাসুল (সা.) তার জীবদ্দশায় ৭ সন্তানের ৬ জনকেই হারিয়েছেন, একই বছর প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) ও চাচা আবু তালিবের মৃত্যুতে গভীর শোক পেয়েছেন, তায়েফে রক্তাক্ত হয়েছেন। তারপরও তিনি প্রতিটি বিপদকে বানিয়েছেন আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার উপলক্ষ্য। দুনিয়া পরীক্ষার হল আল্লাহ–তাআলা পৃথিবীকে জান্নাত বানাননি, বানিয়েছেন পরীক্ষার হল। এখানে প্রাপ্তির মতো অপ্রাপ্তিও থাকবে, হাসির মতো কান্নাও থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, ধনসম্পদ, জীবন ও ফল–ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করব। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৫) বিপদ আল্লাহর পরীক্ষারই অংশ। তাই বিপদ আসা মানেই আল্লাহ বান্দাকে পরিত্যাগ করেছেন, এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। অনেক সময...

তরুণ প্রজন্ম কেন ধর্ম থেকে দূরে সরছে, সমাধান কী

  একটি মুসলিম পরিবারে নতুন শিশুর জন্ম হলো। জন্মের আগেই তাকে ঘিরে সব জাগতিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু উৎসব-উদযাপনের রঙিন আমেজে পরিবারের নামাজ কাজা হয়ে যায়, সুন্নত মোতাবেক আকিকা বা তাহনিকের মতো আমলগুলো রয়ে যায় উপেক্ষিত। দশ বছর পার হওয়ার পর মা-বাবা সন্তানকে হঠাৎ হঠাৎ নামাজ আদায়ের তাগিদ দেন, অথচ নিজেরা নিয়মিত নামাজ পড়েন না কিংবা অজুর সঠিক পদ্ধতিও জানেন না। সন্তানকে তড়িঘড়ি করে কোরআন পাঠ শেখানো হয়, কিন্তু সে জানে না কোরআনে কী আছে। আর জীবন ও জগতের সৃষ্টি নিয়ে কিশোর মনে জেগে ওঠা কৌতূহলী প্রশ্নগুলোকে ধমক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। উল্টো ক্লাসের পড়াশোনা ও পরীক্ষায় ভালো ফলাফল পাওয়ার প্রতিযোগিতাকেই করা হয় জীবনের একমাত্র অগ্রাধিকার। বিশ বছর পর সেই সন্তান যখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পা রাখে এবং পরিবার থেকে দূরে মুক্ত পরিবেশে বাস করতে শুরু করে, তখন সে এক সম্পূর্ণ নতুন সংস্কৃতির মুখোমুখি হয়। চারপাশে যখন অবাধ মেলামেশা, পার্টি, মদ ও ভোগবাদী জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক ও আধুনিক বলে গণ্য করা হয়, তখন ইমানের দুর্বল ভিত্তি নিয়ে বড় হওয়া তরুণটির জন্য হালাল-হারাম মেনে চলা কিংবা নামা...

কোরআন বুঝতে ইমাম গাজালির ৫ রহস্য

  পবিত্র কোরআন পাঠের ফজিলত ও মর্যাদা অপরিসীম। মহানবী (সা.) বলেছেন, তোমরা কোরআন পাঠ করো, কারণ কেয়ামতের দিন তা পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আগমন করবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৪) কোরআন পাঠের ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত বাহ্যিক নিয়মকানুন—যেমন অজু করা, শুদ্ধভাবে তাজবিদ মেনে উচ্চারণ করা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর বেশি জোর দিয়ে থাকি। তবে কোরআনের মূল সুধা ও অন্তর্নিহিত অর্থ অনুধাবনের জন্য হৃদয়ের অনুভূতির প্রয়োজন রয়েছে।  কালজয়ী ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম আবু হামিদ গাজালি তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থে কোরআন অনুধাবনের তেমনই ৫ গোপন রহস্য তুলে ধরেছেন। (আল-গাজালি, কিতাবুল আরবাইন ফি উসুলিদ ধর্ম, ১/৬৪, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০৩) পবিত্র অজুর পানি যেমন শরীরের বাহ্যিক অপবিত্রতা দূর করে, তেমনি অন্তরের কলুষতা দূর না হলে কোরআনের গভীর অর্থ মানুষের কাছে উন্মোচিত হয় না। ১. বক্তার অসীম মহত্ত্ব কোরআন পাঠ শুরুর প্রথম রহস্যটি হলো বাণীর মহান বক্তা অর্থাৎ আল্লাহর অসীম মহত্ত্ব হৃদয়ে ধারণ করা। পাঠকারীকে শুরুতেই স্মরণ করতে হবে যে তিনি যা পাঠ করছেন তা কোনো সাধারণ মানুষের কথা নয়; বরং তা আসমান, জমিন, আরশ, ফেরেশতা, মানবজাতি,...