পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সামাজিক মাধ্যমে অন্যের সম্মানহানি করার পরিণতি

  মানবসভ্যতা ও সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্বের মূল মাপকাঠি হলো মানুষের পারস্পরিক আচরণ। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সমাজ জীবনে মানুষের সঙ্গে কীরূপ আচরণ করা হচ্ছে, তা ইসলামের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। একাধিক হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কেয়ামতের ময়দানে একজন মুমিনের আমলনামায় সবচেয়ে ভারী বস্তু হবে তার সুন্দর চরিত্র। রাসুল (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন মুমিনের মিজানে সুন্দর চরিত্রের চেয়ে অধিক ভারী আর কোনো কিছু হবে না। আর আল্লাহ তাআলা অশ্লীল ও কটুভাষীকে চরম অপছন্দ করেন।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৯৯; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২০০২) ইসলাম সুন্দর চরিত্রকে কেবল একটি নৈতিক গুণ হিসেবেই দেখেনি, বরং একে উচ্চতর ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। একজন ব্যক্তি তার স্বভাবজাত নম্রতা ও আচরণের মাধ্যমে সেই স্তরে পৌঁছাতে পারেন, যেখানে একজন নিয়মিত রোজা পালনকারী ও তাহাজ্জুদ আদায়কারী ব্যক্তি পৌঁছান। (মুস্তাদরাকে হাকিম, ১/১২৮, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০২) সামাজিক মাধ্যমে অন্যের সম্মানহানি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অন্যের সম্মানহানি করার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছদ্মনাম ব্যবহার করে আলেম-ওল...

সাওদা বিনতে জামআ: ত্যাগ ও প্রজ্ঞার দৃষ্টান্ত

  সাওদা বিনতে জামআ (রা.) ছিলেন আল্লাহর রাসুলের একজন সম্মানিত স্ত্রী। ইসলামের প্রাথমিক যুগে তিনি শুধু নবীজির ঘরের সদস্যই ছিলেন না, বরং তাঁর জীবন, চরিত্র ও আচরণের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ স্থাপন করেছিলেন। তাঁর জীবনে যেমন ছিল দুঃখ ও সংগ্রাম, তেমনি ছিল হাসি, কৌতুক, আত্মত্যাগ ও গভীর বুদ্ধিমত্তার দীপ্ত প্রকাশ। হজরত সাওদা (রা.) জন্মগ্রহণ করেন আনুমানিক ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর পিতার নাম জামআ ইবনে কায়স এবং মায়ের নাম শাম্মুস বিনতে কায়স। কোরাইশ বংশীয় একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর দুই ভাই ছিলেন—মালেক ইবনে জামআ ও আবদ ইবনে জামআ। মালেক (রা.) ইসলামের প্রথম যুগেই ইমান আনয়ন করেন এবং আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় হিজরতে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে আবদ ইবনে জামআ প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ না করলেও পরে মুসলমান হন এবং নিজের পূর্ববর্তী আচরণের জন্য অনুতপ্ত হন। সাওদা (রা.) আনন্দের সঙ্গে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং পিতার সম্মতিও এতে যুক্ত হয়। নবুয়তের দশম বছরে, রমজান মাসে, রাসুলের সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়। নবীজির সঙ্গে বিবাহের পূর্বে সাওদা বিবাহিত ছিলেন তাঁর চাচাতো ভাই সাকরান ইবনে আমর (রা.)–এর সঙ্...

ধৈর্যের সংস্কৃতি কেন হারিয়ে গেলো

ছবি
  একটি সুন্দর সমাজ গঠনে একে অপরের প্রতি দয়া, সম্মান ও সহনশীলতা অপরিহার্য। অন্যের দোষ খোঁজা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো ইসলামি সংস্কৃতির পরিপন্থী। ইসলামের শিক্ষা হলো—নিজে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং অন্য কেউ কষ্ট দিলে তা ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা। আমরা যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই নীতি অনুসরণ করি, তবেই সমাজে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসবে। অনেক সময় দেখা যায় মানুষ নিয়মিত নামাজ পড়ে, রোজা রাখে কিন্তু প্রতিবেশীর সঙ্গে তার আচরণ অত্যন্ত রূঢ়। আল্লাহর রাসুলের সামনে একবার এক নারীর কথা উল্লেখ করা হলো, যে প্রচুর নামাজ, রোজা ও সাদাকাহ করত কিন্তু জিহ্বা দিয়ে প্রতিবেশীদের কষ্ট দিত। নবীজি (সা.) সাফ জানিয়ে দিলেন, “সে দোজখী।” আবার আরেক নারীর কথা বলা হলো যে কেবল ফরজ ইবাদতগুলোই পালন করত কিন্তু কাউকে কষ্ট দিত না; নবীজি (সা.) বললেন, “সে বেহেশতি।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৯৬৭৫)এই ঘটনাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, সামাজিক নৈতিকতা ও মানুষের অধিকার (হাক্কুল ইবাদ) রক্ষা করা ইবাদতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলাম কেবল অন্যকে কষ্ট দিতে নিষ...

জাহেলি আভিজাত্য নির্মূল করতে কোরআনের ৭ সমাধান

  যেকোনো সমাজে অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলা কেবল আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে না, বরং সমাজের স্থিতিশীলতা ও সংহতিকে সমূলে বিনাশ করে। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন সমাজের বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরাও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। এই ভয়াবহতার কারণেই পবিত্র কোরআন ফেতনাকে হত্যার চেয়েও জঘন্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বলা হয়েছে, “ফেতনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হত্যা অপেক্ষা অধিকতর মারাত্মক।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯১) “এবং ফেতনা হত্যা অপেক্ষা বড় অপরাধ।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৭) ফিতনার এই ভয়াবহতা কেবল সাময়িক ক্ষতির কারণে নয়, বরং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং সমাজ বিধ্বংসী ফলাফলের কারণে। আর এই ফিতনার অন্যতম প্রধান উৎস হলো ‘জাহেলি আসাবিয়্যাত’ বা অন্ধ গোত্রীয় আভিজাত্য ও সাম্প্রদায়িকতা। বংশমর্যাদা, বর্ণবাদ কিংবা উগ্র জাতীয়তাবাদের এই বিষবাষ্প যখন সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, তখন পারস্পরিক ঘৃণা, নিন্দা এবং সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। যখন একটি জাতি তার শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হিসেবে বংশ বা বর্ণকে বাদ দিয়ে ‘তাকওয়া’ বা নৈতিকতাকে গ্রহণ করে, তখন সেখানে সাম্প্রদায়িক ফেতনার কোনো স্থান থাকে না। কোরআনের সমাধান পবিত্র কোরআন এই সমস্যার এক আমূল ও বৈপ্লবিক চি...

ইসলামি সভ্যতার বিকাশে পারস্য সাহিত্যের অবদান

  ইসলামি সভ্যতা একটি বহুজাতিক ও বহুভাষিক সভ্যতা। আরব উপদ্বীপে ইসলামের আবির্ভাবের পর এ সভ্যতা ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতিকে আত্মস্থ করে বিস্তার লাভ করে। এ বিকাশের প্রক্রিয়ায় আরবদের পাশাপাশি আজম (অনারব) জাতিগুলোর, বিশেষ করে পারসিক জাতির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্বীকৃত। ফারসি ভাষায় রচিত পারস্য সাহিত্য ইসলামি সভ্যতার চিন্তাধারা, আখলাক, স্পিরিচুয়ালিটি এবং সাংস্কৃতিক রুচিকে গভীরতা ও বহুমাত্রিকতা দান করেছে। এটি সাহিত্যিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি ইসলামের সর্বজনীন বার্তাকে বিভিন্ন সংস্কৃতির মাধ্যমে প্রকাশ ও সমৃদ্ধ করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। ঐতিহাসিক পটভূমি সপ্তম শতাব্দীতে মুসলিম বাহিনী পারস্য অঞ্চল জয় করলে প্রাচীন সাসানীয় সভ্যতার জ্ঞানভান্ডার, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে মিলিত হয়। প্রথমদিকে আরবি ভাষাই ধর্ম, রাষ্ট্র ও জ্ঞানচর্চার প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু আব্বাসীয় খিলাফতের যুগে (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) পারস্য অঞ্চলের আলেম, কবি ও বুদ্ধিজীবীরা ইসলামি সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন।চতুর্দশ শতাব্দীর মহান ই...

ইসলামি দিনারের উদ্ভব এবং ইতিহাসের প্রথম মুদ্রাযুদ্ধ

  আরব অঞ্চলে মুদ্রা ব্যবহারের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ এবং তা একাধিক পর্যায়ে বিকশিত হয়েছে। শুরু হয়েছিল বিনিময় প্রথা থেকে। পরে ধাতু ও কাগজের মুদ্রার মাধ্যমে তা বিকশিত হয়। ইসলামের আগমনের পর, মুদ্রা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লব ঘটে, যা নতুন আরবি-ইসলামি পরিচয়, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হয়ে ওঠে। মক্কা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। তখনকার বাইজান্টাইন ও পারস্য সভ্যতার মতো বহু রাষ্ট্র ও সভ্যতার সঙ্গে শহরটি যোগাযোগ স্থাপন করেছিল। এই যোগাযোগের কারণে আরবরা প্রথমে পারস্য ও বাইজান্টাইন মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন করতে শুরু করে। পরে আরবরা তাদের নিজেদের প্রাথমিক মুদ্রা তৈরি করে। আবদুল হক আল-আইফা তাঁর  ইসলামি ইতিহাসে মুদ্রার উন্নয়ন  গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, প্রথম দিকে যে-সকল আরব রাষ্ট্র নিজেদের মুদ্রা তৈরি করেছিল, তারা হলো, সাবা ও হাদরামাউত (ইয়েমেন) এবং নাবাতীয় রাজ্য (জর্দান)। আরবরা প্রথমে পারস্য ও বাইজান্টাইন মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন করতে শুরু করে। পরে আরবরা তাদের নিজেদের প্রাথমিক মুদ্রা তৈরি করে। ইসলামের প্রথম যুগে মুদ্রা বাইজান্টাইন ও পারস্য তখন দুই বৃহত্তম সাম্রাজ্য। ...

ইউরোপের মাটিতে ইসলামের শিকড় সন্ধান

ছবি
  ইউরোপীয় মানসে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রায়ই ‘আগন্তুক’ বা ‘বহিরাগত’ হিসেবে দেখা হয়। সমসাময়িক রাজনৈতিক বয়ানে মুসলিমদের উপস্থিতি কেবল অভিবাসন, নিরাপত্তাঝুঁকি কিংবা সাংস্কৃতিক সংঘাতের চশমায় বিচার করা হয়। কিন্তু সাংবাদিক ও ভ্রমণলেখক তারিক হুসাইন তাঁর নতুন বই ‘মুসলিম ইউরোপ’-এ এই প্রতিষ্ঠিত ধারণাকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর গবেষণা ও ভ্রমণের সারকথা হলো: ইসলাম ইউরোপের জন্য কোনো ভিনদেশি সংস্কৃতি নয়, বরং এটি ইউরোপীয় ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য ও সুপ্রাচীন অংশ। বিস্মৃত ইতিহাসের পুনরুদ্ধার তারিক হোসেনের এ বই মূলত একটি ‘রিকভারি’ বা পুনরুদ্ধারের কাজ। তিনি সাইপ্রাস, সিসিলি, মাল্টা, পর্তুগাল ও স্পেনের মতো অঞ্চলগুলো ভ্রমণ করেছেন, যেখানে কয়েক শ বছর ধরে মুসলিমরা কেবল বসবাসই করেনি, বরং সেখানকার সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর ভাষায়, ইউরোপে মুসলিমদের ইতিহাস কেবল অভিবাসনের ইতিহাস নয়, বরং এটি টিকে থাকার ইতিহাস।বইটিতে তারিক কিছু বিস্ময়কর তথ্যের ওপর আলোকপাত করেছেন: সাইপ্রাস:  এখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর খালা (উম্মে হারাম বিনতে মিলহান) সমাহিত আছেন। এটি প্রম...

ইসলামের আলোকে নেতৃত্বের গুণাবলি

  ইসলাম একমাত্র আল্লাহর মনোনীত ও গ্রহণযোগ্য পরিপূর্ণ জীবনবিধান। ইসলামি বিধিবিধানের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করাই দুনিয়ার শান্তি ও পরকালে মুক্তির একমাত্র পথ। মানুষ সামাজিক জীব; সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে প্রয়োজন হয় নেতৃত্ব। যোগ্য নেতৃত্বের জন্য রয়েছে কিছু মহৎ গুণ। জীবনে সফল ব্যক্তিই নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই সফল নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজন বিশ্বাস, সৎকর্ম, কল্যাণকামিতা ও সহিষ্ণুতা। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘সময়ের শপথ! নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা নয়, যারা বিশ্বাস করে, সৎকর্ম করে, একে অন্যকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং ধৈর্যধারণে পরামর্শ দেয়।’ (সুরা-১০৩ আসর, আয়াত: ১-৩) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতৃত্বের উদাহরণ, ইনসানে কামিল, সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সত্যতা, পবিত্রতা ও প্রেমিকতা এবং বিশ্বাস, আশা ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ ছিল তাঁর জীবন। নেতা হবেন স্নেহশীল ও দয়ালু। প্রিয় নবী (সা.)–এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন এমন রাসুল, তোমাদের দুঃখকষ্ট তাঁর পক্ষে দুঃসহ, তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, বিশ্বাসীদের প্রতি স্নেহশীল, দয়ালু।’...

খাদিজার প্রতি নবীজির ভালোবাসা

  ইসলামের ইতিহাসে হজরত খাদিজাতুল কুবরা এমন এক নাম, যাঁর সঙ্গে আল্লাহর রাসুলের সম্পর্ক কেবল স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল ভালোবাসা, আস্থা, আত্মত্যাগ, সহযোগিতা ও ইমানি দৃঢ়তার এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত। নবীজির জীবনে খাদিজা (রা.) ছিলেন প্রথম স্ত্রী, প্রথম বিশ্বাসী, প্রথম সহযোদ্ধা ও সর্বাধিক নির্ভরতার আশ্রয়। তাঁর প্রতি রাসুলের ভালোবাসা ছিল গভীর, স্থায়ী ও মৃত্যুর পরও অমলিন। খাদিজার জীবদ্দশায় রাসুল (সা.) আর কোনো বিয়ে করেননি। এটি তাঁর প্রতি নবীজির ভালোবাসা ও সম্মানের এক উজ্জ্বল প্রমাণ। সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতায় বহুবিবাহ তখন স্বাভাবিক হলেও খাদিজার উপস্থিতিতে নবীজি (সা.) তাঁর হৃদয়ের ভালোবাসা অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করেননি। আয়েশা নিজেই বলেছেন, রাসুলের অন্য কোনো স্ত্রীর প্রতি তাঁর এমন ঈর্ষা ছিল না, যেমনটি ছিল খাদিজার প্রতি। কারণ, নবীজির মুখে বারবার খাদিজার প্রশংসা শুনে মনে হতো, তিনি যেন এখনো তাঁদের জীবনে উপস্থিত। এই একনিষ্ঠতা প্রমাণ করে—খাদিজা (রা.) কেবল স্ত্রী নন; বরং রাসুলের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ১১/১৫৭) খাদিজার ইন্তেকালের পরও নবীজির স্মৃতিত...

নবুয়তের যুগে প্রেম: মুগিস ও বারিরার অমর উপাখ্যান

  নবুয়তের পবিত্র ছায়াতলে এমন এক অমর প্রেমের আখ্যান পাওয়া যায়, যা আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছে আবেগ, অধিকার ও মানবিক মর্যাদার এক ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা। এটি সাহাবি মুগিস ও বারিরার (রা.) গল্প। এই কাহিনি কেবল বিরহের নয়, বরং এটি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মহানুভবতা এবং মানুষের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও অধিকারের প্রতি তাঁর অগাধ সম্মানের এক অনন্য দলিল। দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির স্বপ্ন এ কাহিনির প্রধান চরিত্র হজরত বারিরা (রা.)। তিনি ছিলেন একজন দাসী। ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি ছিলেন অত্যন্ত রূপবতী ও তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী। (ইবনে হাজার আসকালানি,  ফাতহুল বারি শারহু সহিহিল বুখারি , ৯/৪০৭, দারুল মারিফা, বৈরুত, ১৩৭৯ হিজরি) কোনো দাসী যখন স্বাধীন হয়ে যান এবং তাঁর স্বামী তখনো দাসের শৃঙ্খলে থাকেন, তখন সেই নারীর অধিকার তৈরি হয় তাঁর বিবাহ টিকিয়ে রাখার অথবা বিচ্ছেদ ঘটানোর। বারিরা তাঁর মালিকের কাছ থেকে মুক্তি লাভের জন্য ‘মুকাতাবা’ বা নির্দিষ্ট কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের চুক্তি করেন। তিনি ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে প্রথম এমন নারী, যিনি নিজের স্বাধীনতার জন্য নিজে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। নিজের মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে তিনি আয়েশা (রা...