পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ভারসাম্যপূর্ণ ইবাদতই ইসলামের কাম্য

ছবি
  অনেক সময় ধর্মচর্চাকে আমরা কেবল অতিরিক্ত নামাজ, রোজা ও তেলাওয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলি। কিন্তু ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে ইবাদত মানে কেবল আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক নয়; বরং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করাও ইবাদতেরই অংশ। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)–এর জীবনের এই ঘটনা সেই ভারসাম্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আবদুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক, আত্মসংযমী ও ইবাদতপ্রবণ সাহাবি। তাঁর পিতা আমর ইবনুল আস ছিলেন একজন অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান ও বাস্তবমুখী মানুষ। রাজনীতি, কূটনীতি ও সামরিক ক্ষেত্রে তাঁর বিচক্ষণতা ছিল সর্বজনবিদিত। পুত্রের অতিমাত্রার ইবাদতপ্রবণতা তিনি যে হালকাভাবে নেননি, তা এই ঘটনাতেই স্পষ্ট। ছেলেকে বিয়ে দিয়ে আলাদা ঘর করে দেওয়ার পর তিনি দেখতে গেলেন, সংসার কেমন চলছে। সেখানে তিনি যে বাস্তব চিত্রটি উপলব্ধি করলেন, তা বাহ্যিক প্রশংসার আড়ালে এক গভীর সমস্যার ইঙ্গিত বহন করছিল। পুত্রবধূ মুখে সরাসরি কোনো অভিযোগ করেননি। কিন্তু তিনি যে ভাষায় স্বামীর প্রশংসা করলেন—সারারাত নামাজে থাকা, সারাদিন রোজা রাখা—তা একজন অভিজ্ঞ মানুষের কা...

আস সাবিকুনাস সাবিকুন

ছবি
  শেষ বিচারের দিন ঈমানদাররা দলে দলে পুলসিরাত পাড়ি দিবে। সূরা ওয়াকিয়াতে যেমন এসেছে, আস সাবিকুনাস সাবিকুন, অর্থাৎ ঈমান আমলে দুনিয়াতে যারা অগ্রসর ছিল তারা সবার আগে পার হবে। এই দলে থাকবেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সবচেয়ে ধার্মিক সাহাবাগণ এবং وَ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡهُمۡ بِاِحۡسَانٍ -- আর যারা তাদেরকে যাবতীয় সৎকর্মে অনুসরণ করেছে। (৯:১০০) এমনকি পুলসিরাত পাড়ি দেওয়ার এই ক্রমধারাও একজন মানুষের ঈমান আমলের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। ও আমার প্রিয় মুসলিম ভাই এবং বোনেরা, আমরা এই বিষয়গুলো সমগ্র জীবন ধরে বার বার শিখি। আমি আশা করি এই তথ্যগুলো আমাদের জীবনের উপরে প্রভাব ফেলবে। কারণ, আমরা সবার শেষে পুলসিরাত পাড়ি দিতে চাই না। আমরা হামাগুড়ি দিতে পার হতে চাই না। পায়ের আঙ্গুল থেকে একটু আলো বের হলে একটু আগাই, এরপর আবার আলো নিভে গেলে থেমে যাই। এরপর আবার একটু আলো বের হলে আরেকটু আগাই...আপনি কি এভাবে পার হতে চান? স্পষ্টতই না। আমরা প্রথম দলগুলোতে থাকতে চাই, যারা দ্রুত গতিতে পার হয়ে যাবে। তাহলে কেন নামাজগুলো ঠিকভাবে আদায় করছি না? ভোরে ঘুম থেকে উঠে কেন ফজরটা মসজিদে পড়ার চেষ্টা করি না? ন...

তাদের কাছে দুনিয়ার এ জীবনের দৃষ্টান্ত

ছবি
  আল্লাহ তায়ালা সূরা কাহাফের ৪৫ নং আয়াতে বলেনঃ وَ اضۡرِبۡ لَهُمۡ مَّثَلَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا كَمَآءٍ اَنۡزَلۡنٰهُ مِنَ السَّمَآءِ فَاخۡتَلَطَ بِهٖ نَبَاتُ الۡاَرۡضِ فَاَصۡبَحَ هَشِیۡمًا تَذۡرُوۡهُ الرِّیٰحُ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ مُّقۡتَدِرًا--"তাদের কাছে দুনিয়ার এ জীবনের দৃষ্টান্ত পেশ কর : তা হল পানির মত যা তিনি আকাশ হতে বর্ষণ করেন, যা দিয়ে যমীনে গাছ-গাছড়া ঘন হয়ে উদগত হয়, অতঃপর তা শুকনো খড়কুটায় পরিণত হয় যাকে বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায়। আল্লাহ হলেন সকল বিষয়ে শক্তিমান।" কুরআনে আল্লাহ কেন আমাদেরকে এতো বেশি পানি নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন? পানির উপমা কেন এতো বেশি বার দেওয়া হয়েছে? কারণ, পানি এক স্থানে আবদ্ধ থাকে না। পানি অন্য জিনিসের সাথে মিশে। পানি প্রতিনিয়ত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাচ্ছে এবং পরিবর্তিত হচ্ছে। যদি পানিকে এক স্থানে আটকে রাখার চেষ্টা করেন, এটা নষ্ট হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আল্লাহ আমাদের জীবনটাকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে, জীবনে শুধু একটার পর একটা পরিবর্তন আসতে থাকে। তো, আপনাদের মধ্যে যারা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন, অন্তরে গ্রামের স্মৃতিগুলো ভেসে উঠে। গ্র...

টেক্সট বুক এবং ওয়ার্ক বুক

ছবি
  কুরআনে দুইটি বইয়ের কথা বার বার সম্পর্কযুক্ত করা হয়েছে। প্রথম বইটি হলো আল কুরআন, যা জিব্রাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর অবতীর্ণ করেন। এছাড়া আছে আরেকটি বই। আমাদের জীবন এগিয়ে চলার সাথে সাথে আমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি বই লিখা হচ্ছে। আমার আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি উচ্চারিত শব্দ, প্রতিটি লেনদেন, প্রতিটি কর্ম সেই বইয়ে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। ছোট বড় কোনো কিছুই সেই বইয়ে লিপিবদ্ধ হওয়া থেকে বাদ পড়ছে না। সে বইটি হলো আমাদের আমলনামা। আর শেষ বিচারের দিন বইটা আমাদেরকে দেওয়া হবে। সেদিন মূল পয়েন্ট হবে--তোমার বইটি আমার দেওয়া বইয়ের সাথে কতটুকু সঙ্গতিপূর্ণ? কুরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেছ কি? আমি চাই, আপনারা এটাকে এভাবে চিন্তা করুন। টেক্সট বুক এবং ওয়ার্ক বুক। যারা শিক্ষকতায় পেশায় আছেন আপনারা এর সাথে পরিচিত। যদি আপনি টেক্স বুকটা ভালোভাবে পড়েন তবেই কেবল ওয়ার্ক বুকে ভালো করতে পারবেন। টেক্সট বুক হলো কুরআন। আর ওয়ার্ক বুক আমাদের দুই কাঁধে। কিরামান কাতেবীন সম্মানজনক ফেরেশতারা আমাদের ওয়ার্ক বইটি প্রতিনিয়ত লিখে চলছেন। এই দুইটি বই ...

‘আসমাউল হুসনা’র মাধ্যমে প্রার্থনা করার ৫ প্রভাব

ছবি
  আসমাউল হুসনা কেবল নিরানব্বইটি নাম নয়, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য এক বিশাল রহমত। এই নামগুলোর ছায়াতলে দাঁড়ালে একজন মানুষ বুঝতে পারে সে একা নয়; তার একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন যিনি সর্বশক্তিমান, পরম দয়ালু এবং বিচারক। এই জ্ঞান মানুষকে দুনিয়ার লোভে অন্ধ হতে বাধা দেয় এবং আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহে উৎসাহিত করে। আল্লাহর নাম নিয়ে দোয়া করার কথা হাদিসে বলা হয়েছে। তাঁর নামসমূহ নিয়ে প্রার্থনা করার অন্তত ৫টি প্রভাব রয়েছে। ১. প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থনা আসমাউল হুসনার মাধ্যমে দোয়ার অন্যতম বড় সৌন্দর্য হলো প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আল্লাহকে ডাকা। একে ইসলামি পরিভাষায় ‘উপযুক্ত নামের উসিলায়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যখন কোনো বান্দা তার নির্দিষ্ট অভাবের কথা মাথায় রেখে আল্লাহর সংশ্লিষ্ট গুণবাচক নাম ধরে ডাকে, তখন সেই দোয়ার মধ্যে এক বিশেষ একাগ্রতা তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যখন গুনাহর বোঝায় ভারাক্রান্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তখন সে যদি বলে, ‘ইয়া গাফুর (হে পরম ক্ষমাশীল), আমাকে ক্ষমা করো’—তখন তার হৃদয়ে আল্লাহর ক্ষমাগুণের প্রতি এক গভীর আস্থা তৈরি হয়। ঠিক তেমনি জীবিকার...

দোয়া কবুলের কিছু শর্ত ও আদব

ছবি
  মোবাইল সিমের একটি ছোট অফার নিলেও সেখানে থাকে নানা শর্ত। ‘শর্ত প্রযোজ্য’—এই ছোট্ট বাক্যটি আমাদের চোখে পরিচিত। অথচ আমাদের প্রতিপালক আমাদের এমন অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন, যার জন্য কোনো বিল, কোনো শর্ত, কোনো মূল্য তিনি চাননি। আল্লাহর দয়া এমন সর্বজনীন—যারা তাঁর আনুগত্য করে না, তাঁর অবাধ্য হয়ে জীবন চালায়, তাদের জন্যও এই দয়া কমে যায় না। তা সত্ত্বেও রবের কিছু কিছু বিশেষ অনুগ্রহ আছে, যা আমরা শুধুই দোয়ার মাধ্যমেই চাই। এই বিশেষ প্রার্থনার জন্য অবশ্যই কিছু আদব ও শর্ত আছে। এই শর্তগুলো যত ভালোভাবে পালন করা হবে, দোয়া কবুলের সম্ভাবনাও ততটাই বেড়ে যাবে। নিচে দোয়া কবুলের সেই গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও আদবগুলো তুলে ধরা হলো: যখন প্রার্থনা করবে, তখন শুধু আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে এবং যখন সাহায্য চাইবে, তখন শুধু আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবে। সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২,৫১৬ ১. একমাত্র আল্লাহর কাছেই দোয়া করা যে বিষয় মানুষের সাধ্যের বাইরে, সেটা আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে চাওয়া যাবে না। সব বিষয়ে তাওয়াক্কুল করতে হবে একমাত্র রবের ওপর। রাসুল (সা.) ইবনে আব্বাস (রা.)–কে বলেছেন, ‘যখন প্রার্থনা করবে, তখন শুধু আল্লাহ...

মক্কায় নবীজির আগমনের ঘোষণা কতটা প্রাচীন

ছবি
  প্রিয় পাঠক, ‘মক্কা নবীজি আসবেন’ এটি ছিল একটি সুসংবাদ। কখনো কি ভেবেছেন এটি কতটা প্রাচীন ঘোষণা? আসুন আমরা সেটা খুঁজে দেখি। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, আমি আমার সূচনা বলে দিচ্ছি, আমার পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া, ইসা (আ.)-এর সুসংবাদ এবং আমার মা স্বপ্নে দেখেছিলেন যে তার থেকে একটি আলো বের হল, যে আলোতে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ, ৫/২৬২; ফাতহুর রাব্বানি, ২০/১৮১-১৮৯) জননীর স্বপ্ন মানে তিনি গর্ভাবস্থায় স্বপ্নে তার পেট থেকে একটি নুর বের হয়ে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকোজ্জ্বল করতে দেখেছেন। ইসা (আ.)-এর সুসংবাদের অর্থ: পবিত্র কোরআনের বাণী, ‘এক নবীর সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, তার নাম আহমাদ।’ (সুরা সাফ, আয়াত: ৬)ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়ার অর্থ মক্কা উপত্যকায় বসতি স্থাপন করা ইসমাইল (আ.)-এর বংশধরদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রেরণের দোয়া, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আর আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে এক রাসুল পাঠান, যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের কাছে তেলাওয়াত করবেন; তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পরিশ...

ধর্ম অবমাননা

ছবি
  সম্প্রতি আমাদের দেশে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যে ধরনের গণপিটুনি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শায়খ ড. ইয়াসির কাদি তার বিভিন্ন লেকচারে এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যা বর্তমান সময়ে আমাদের প্রত্যেকের বোঝা জরুরি। আলোচনাটি এই বিষয়গুলির উপর: • ধর্ম অবমাননা প্রমাণের কঠোর শর্তাবলী (নিয়ত ও স্পষ্টতা) • ইসলামে বিচার ও শাস্তির বিধান রাষ্ট্রের হাতে, ব্যক্তির হাতে নয় • নবীজির (সা.) ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতার দৃষ্টান্ত • যুলুমের ভয়াবহ পরিণতি • আমাদের কাজ ও পশ্চিমা বিশ্বে এর প্রভাব • আমাদের সচেতনতা ও সীরাহর অনুসরণ ১. ধর্ম অবমাননা প্রমাণের কঠোর শর্তাবলী (নিয়ত ও স্পষ্টতা): ইসলামী আইন অনুযায়ী কাউকে 'ধর্ম অবমাননাকারী' বা 'মুরতাদ' ঘোষণা করা কোনো সাধারণ মানুষের কাজ নয়। শায়খ কাযী বলেন, অবমাননা হতে হবে সুস্পষ্ট (Explicit) এবং দ্ব্যর্থহীন (Unambiguous)। • নিয়ত (Niyyah): অনেক সময় মানুষের কথায় অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে, অথবা কেউ না বুঝে কিছু বলতে পারে। যদি তার নিয়ত অবমাননা করা না হয়, তবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। • শরীয়া আইন অনুযায়ী, যতক্ষণ না কোনো ...

উম্মে সালামা (রা.): অনন্য সাহসী

ছবি
  ইসলাম আগমনের প্রথম দিকেই ইসলাম গ্রহণ করে নিয়েছিলেন উম্মে সালামা (রা.)। ইসলামের সত্যতা ও অনিবার্যতা বুঝে নিতে সামান্য সময়ক্ষেপণ হয়নি তাঁর। এটা নিঃসন্দেহে উম্মে সালামার বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা ও তাঁর অসীম সাহসিকতার পরিচায়ক। কারণ, তিনি যেই সময়ে ইসলাম কবুল করেছেন, সেই সময়কার অবস্থা যে মোটেও মুসলমানদের অনুকূলে ছিল না, প্রত্যহ তাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছিল সমূহ বিপদের, সেটা তাঁর অজানা ছিল না। তবু সত্য গ্রহণে যে তিনি পিছপা হননি এবং কালবিলম্ব করেননি বাহ্যত সেই অগ্নিমাল্য বরণ করে নিতে, এটাই প্রমাণ করে, তিনি আপস করবার মানুষ ছিলেন না! ইসলাম সত্য। রাসুল সত্য। সত্য তাঁর আনীত মহান দ্বীন। সুতরাং তা কবুলে ও তার বিস্তারে ভয় কিসের—এমনই ছিল উম্মে সালামার মানসিকতা! এবং বাস্তবিক অর্থেও ইসলাম কবুলের পর থেকেই তাঁর সাহস ও মানসিক শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়ে গেছেন তিনি আমৃত্যু। বাস্তবিক অর্থেও ইসলাম কবুলের পর থেকেই তাঁর সাহস ও মানসিক শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়ে গেছেন তিনি আমৃত্যু। আবিসিনিয়ার প্রথম হিজরত, দ্বিতীয় হিজরত, একা মদিনার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়া এবং শতেক বাধাবিপত্তি ডিঙিয়ে মদিনা অবধি পৌঁছা—এর সবই ছিল দ্বীন ও সত্যের ...

আল্লাহর কোন নামের কী মহিমা

ছবি
  মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ করা ইবাদতের মূল নির্যাস। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহর রয়েছে চমৎকার সব নাম, তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।” (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৮০) আল্লাহর প্রতিটি নাম তাঁর একেকটি বিশেষ গুণের বহিঃপ্রকাশ। এই নামগুলো সঠিকভাবে বুঝতে পারলে একজন মানুষের সঙ্গে তাঁর রবের সম্পর্ক কেবল ভয়ের নয়, বরং গভীর ভালোবাসা ও অসীম নির্ভরতার হয়ে ওঠে। মহান সত্তার মৌলিক ও গুণবাচক নামসমূহ আল্লাহ:  এটি মহান রবের সত্তাগত নাম, যা অন্য কারো জন্য ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই এবং আসমান-জমিনের সবকিছু তাঁরই অনুগত। ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, এটি এমন এক নাম যা সব গুণের আধার। ( আল-মাকসাদুল আসনা , পৃষ্ঠা: ৬০, মাকতাবাতুল জান্দি, কায়রো, ১৯৬৮) আর-রাহমান  ও আর-রাহিম:  উভয় নামই আল্লাহর অসীম রহমত বা দয়াকে নির্দেশ করে। ‘রহমান’ দ্বারা বোঝায় তাঁর দয়া সত্তাগতভাবে পূর্ণ, আর ‘রাহিম’ দ্বারা বোঝায় তাঁর সেই দয়া সৃষ্টির ওপর বর্ষিত হয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা আল্লাহকে ‘আল্লাহ’ নামে ডাকো অথবা ‘রাহমান’ নামে ডাকো, যে নামেই ডাকো না কেন, সব সুন্দর নাম তাঁরই।” (সুরা ইসরা, আয়াত: ...