আস সাবিকুনাস সাবিকুন


 শেষ বিচারের দিন ঈমানদাররা দলে দলে পুলসিরাত পাড়ি দিবে। সূরা ওয়াকিয়াতে যেমন এসেছে, আস সাবিকুনাস সাবিকুন, অর্থাৎ ঈমান আমলে দুনিয়াতে যারা অগ্রসর ছিল তারা সবার আগে পার হবে। এই দলে থাকবেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সবচেয়ে ধার্মিক সাহাবাগণ এবং وَ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡهُمۡ بِاِحۡسَانٍ -- আর যারা তাদেরকে যাবতীয় সৎকর্মে অনুসরণ করেছে। (৯:১০০)

এমনকি পুলসিরাত পাড়ি দেওয়ার এই ক্রমধারাও একজন মানুষের ঈমান আমলের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। ও আমার প্রিয় মুসলিম ভাই এবং বোনেরা, আমরা এই বিষয়গুলো সমগ্র জীবন ধরে বার বার শিখি। আমি আশা করি এই তথ্যগুলো আমাদের জীবনের উপরে প্রভাব ফেলবে। কারণ, আমরা সবার শেষে পুলসিরাত পাড়ি দিতে চাই না। আমরা হামাগুড়ি দিতে পার হতে চাই না। পায়ের আঙ্গুল থেকে একটু আলো বের হলে একটু আগাই, এরপর আবার আলো নিভে গেলে থেমে যাই। এরপর আবার একটু আলো বের হলে আরেকটু আগাই...আপনি কি এভাবে পার হতে চান? স্পষ্টতই না। আমরা প্রথম দলগুলোতে থাকতে চাই, যারা দ্রুত গতিতে পার হয়ে যাবে। তাহলে কেন নামাজগুলো ঠিকভাবে আদায় করছি না? ভোরে ঘুম থেকে উঠে কেন ফজরটা মসজিদে পড়ার চেষ্টা করি না? নামাজ শেষে কেন একটু বসে জিকির আজকারগুলো করি না? কেন আমরা সুন্দর করে ওযু করি না? যেনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের চিনতে পারেন। আর যে ব্যক্তি এগুলো তার সমগ্র জীবন ধরে অবিরতভাবে করে যেতে পারে, ইনশাআল্লাহু তায়ালা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার ঐ বান্দার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন না, যে তাঁর দিকে দৈনিক পাঁচবার মুখ ফিরায়। যে ব্যক্তি এই নিয়তে করবে—আমি চাই শেষ বিচারের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেন আমাকে চিনতে পারেন, আমি দ্রুত গতিতে পুলসিরাত পার হতে চাই— তাহলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে সাহায্য না করাটা অসম্ভব। কারণ, আল্লাহ হলেন আর-হামুর রাহিমিন, (দয়াবানদের মাঝে সবচেয়ে দয়াবান) আল্লাহ হলেন কারিম (উদার), মানুষ চাইলে আল্লাহ দান করেন। "নিশ্চয় আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলুম করেন না। আর কোন পূণ্য কাজ হলে আল্লাহ সেটাকে বহুগুণ বর্ধিত করেন এবং আল্লাহ তার কাছ থেকে মহাপুরস্কার প্রদান করেন।" (৪ঃ৪০) আল্লাহর একটি নাম হলো "শাকুর" অর্থাৎ যিনি চরম গুণগ্রাহী। আল্লাহ আমাদের প্রতিটি ভালো কাজের কদর করেন। কিয়ামতের দিন মানুষ শুধু তাদের মন্দ কাজ দেখে অবাক হবে না, তারা তাদের ভালো কাজগুলো দেখেও অবাক হয়ে যাবে— ইয়া আল্লাহ! আমার এই সামান্য সৎ কাজটাও আপনি লিখে রেখেছেন! তাই, কোনো সৎ কাজকেই ছোটো মনে করবেন না। আপনার পক্ষে যে ভালো কাজই করা সম্ভব, করুন। এবং আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়ার আশা রাখুন। পুলসিরাত হলো চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম, তরবারির চেয়ে ধারালো এক সেতু। পুলসিরাত বিশাল আকারের কোনো সেতু নয়। এটা পার হওয়ার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর দয়া। সুপারসনিক স্পিডে বা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলেই কেবল কোনো ধরণের আঘাত ছাড়া পার হওয়া যাবে। এমনকি সেদিন ফেরেশতারাও এই সেতু দেখে অবাক হয়ে বলবে, হে আল্লাহ! কার পক্ষে এই সিরাত পার হওয়া সম্ভব হবে? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলবেন, মান শি'তু মিন খালকি। আমার সৃষ্টি থেকে আমি যাদের বাছাই করবো কেবল তারাই এটি পার হতে পারবে। তখন ফেরেশতারা বলবে, আপনি যেভাবে উপাসনা পাওয়ার যোগ্য হে আল্লাহ! আমরা সেভাবে আপনার উপাসনা করিনি। তাই, প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদাত করতে থাকুন এবং তাঁর ক্ষমা এবং দয়া পাওয়ার আশা রাখুন। -- শায়েখ ইয়াসির কাদির আলোচনা অবলম্বনে

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দিরিলিসের আরতুগ্রুলের সকল পর্ব কিভাবে দেখবেন?

নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বই Pdf Download