অতঃপর তা শুকনো খড়কুটায় পরিণত হয়
নতুন প্রকাশিত খুতবাটির মূল বক্তব্য
---------------------------------------------- আল্লাহ তায়ালা সূরা কাহাফের ৪৫ নং আয়াতে বলেনঃ وَ اضۡرِبۡ لَهُمۡ مَّثَلَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا كَمَآءٍ اَنۡزَلۡنٰهُ مِنَ السَّمَآءِ فَاخۡتَلَطَ بِهٖ نَبَاتُ الۡاَرۡضِ فَاَصۡبَحَ هَشِیۡمًا تَذۡرُوۡهُ الرِّیٰحُ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ مُّقۡتَدِرًا--"তাদের কাছে দুনিয়ার এ জীবনের দৃষ্টান্ত পেশ কর : তা হল পানির মত যা তিনি আকাশ হতে বর্ষণ করেন, যা দিয়ে যমীনে গাছ-গাছড়া ঘন হয়ে উদগত হয়, অতঃপর তা শুকনো খড়কুটায় পরিণত হয় যাকে বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায়। আল্লাহ হলেন সকল বিষয়ে শক্তিমান।" কুরআনে আল্লাহ কেন আমাদেরকে এতো বেশি পানি নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন? পানির উপমা কেন এতো বেশি বার দেওয়া হয়েছে? কারণ, পানি এক স্থানে আবদ্ধ থাকে না। পানি অন্য জিনিসের সাথে মিশে। পানি প্রতিনিয়ত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাচ্ছে এবং পরিবর্তিত হচ্ছে। যদি পানিকে এক স্থানে আটকে রাখার চেষ্টা করেন, এটা নষ্ট হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আল্লাহ আমাদের জীবনটাকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে, জীবনে শুধু একটার পর একটা পরিবর্তন আসতে থাকে। তো, আপনাদের মধ্যে যারা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন, অন্তরে গ্রামের স্মৃতিগুলো ভেসে উঠে। গ্রামটাকে খুব মিস করেন। কেন আমি আবারো গ্রামের জীবনে ফিরে যেতে পারি না? কেন আমি আগের চাকরিটা ফেরত পাই না? কেন আমাকে ওখানে স্থানান্তরিত হতে হবে? কেন এতবার বাসা পরিবর্তন করতে হয়? কেন কেন কেন? আমি পরিবর্তন পছন্দ করি না। আর আল্লাহ বলছেন আমি তোমাদের জীবনকে সাজিয়েছি পরিবর্তনের পর পরিবর্তন দিয়ে। আকাশ থেকে পানি এসে যে ফল সৃষ্টি করে, ধীরে ধীরে সেই ফলের কী হয়? এর পানিগুলো আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়। অবশেষে এর মৃত্যু হয়। অতএব, এ জীবনে আমরা যে অভিজ্ঞতাগুলো অর্জন করি, হোক সেটা ভালো অভিজ্ঞতা অথবা খারাপ, কোনো কিছুই আসলে স্থায়ী নয়। কঠিন সময়ও স্থায়ী নয় আবার সহজ সময়ও স্থায়ী নয়। আর এর সবকিছুই আল্লাহর আদেশ। আচ্ছা, যদি সবকিছুই অস্থায়ী হয়, তাহলে কোন জিনিসটা স্থায়ী। যদি ভালো মন্দ সবকিছুই একদিন সময়ের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়, তাহলে এমন কোনো জিনিস কি নেই যা চিরকাল রয়ে যাবে? এ বিষয়ে একটু পরে আসছি। মানুষ ভুলে যায় যে, সবকিছুর শুরু হলো পানি। আকাশ থেকে বৃষ্টির পানি নেমে আসে, সেই পানি দিয়ে গাছ গাছালির জন্ম হয়। কিছুকাল সেগুলো সবুজ শ্যামল থাকে, ফুল ফসল দিয়ে জগৎবাসীর উপকার করে। অতঃপর সেগুলো খড় কুটায় পরিণত হয়। একইভাবে একদিন আমি আপনিও শুধু এক ফোঁটা পানি ছিলাম। অতঃপর অনেকগুলো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে, ভালো মন্দ এবং কিছু উত্থান পতন দিয়ে জীবনের গল্পটা এগিয়ে যেতে থাকে। অবশেষে একদিন আমরাও শুকিয়ে যাবো এবং মাটির সাথে মিশে যাবো। তো, আমাদের শুরুটা হলো পানি দিয়ে। আর সবশেষে আমরা মাটির সাথে মিশে যাবো। এছাড়া যা কিছুর অভিজ্ঞতা আমরা অর্জন করছি--কষ্টের সময় অথবা ভালো সময়-- এগুলো একসময় অতীত হয়ে যাবে। কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। কারো কারো জীবনে খারাপ কিছু ঘটে, এরপর সে শুধু এটা নিয়েই চিন্তা করতে থাকে। এটার মধ্যেই আটকে যায়। হ্যাঁ, আপনার জীবনে খারাপ কিছু ঘটেছে তাই বলে আপনি অতীতে আটকে যেতে পারেন না। আপনাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। নতুবা আপনি নিজেকে পঁচিয়ে ফেলছেন। কারণ, আটকে রাখলে কী হয়? পঁচে যায়। ফুলটা একসময় শুকিয়ে যাবে। কিন্তু চমৎকার একটি ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন কি? যে ফুলগুলো গাছের ঢালে শুকিয়ে যায়, ঠিক পরের বছরই কিন্তু সেখানে নতুন ফুলের জন্ম হয়। আর এভাবেই আল্লাহ আমাদের জীবনকে সাজিয়েছেন। কিছু একটা যদি আপনার জীবন থেকে হারিয়ে যায়, আল্লাহ অন্য কিছু দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করে দিবেন। একটা ভালো জিনিস যদি দুর্বল হতে থাকে, অন্য একটার তখন উদয় হতে থাকে। অন্য স্থান থেকে, অন্য রূপে। এ প্রকৃতিতেই আল্লাহ জীবন তৈরী করেছেন। আচ্ছা, এখন ঐ প্রশ্নটাতে ফিরে আসি। তাহলে এমন কোনো জিনিস কি নেই যা স্থায়ী, যার প্রভাব অন্তকাল ধরে টিকে থাকবে? এর উত্তরে আল্লাহ বলেছেন--وَ الۡبٰقِیٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَیۡرٌ عِنۡدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَّ خَیۡرٌ اَمَلًا -- আর স্থায়ী সৎকাজ তোমার রবের নিকট প্রতিদানে উত্তম এবং প্রত্যাশাতেও উত্তম। (সূরা কাহ্ফ, আয়াত ৪৬) যে ভালো ভালো আমলগুলো আপনি করেন, আল্লাহর ইবাদাত এবং আল্লাহর সৃষ্টির উপকার, এগুলোর প্রতিদান চিরকাল রয়ে যাবে। এমনকি ছোটো খাটো নেক আমলগুলোর সওয়াবও টিকে থাকবে অনন্তকাল। -- নোমান আলী খানের আলোচনা অবলম্বনে
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন