আমাদের রূহ সম্পর্কে খুবই ইন্টারেস্টিং একটি তথ্য
আমাদের রূহ সম্পর্কে খুবই ইন্টারেস্টিং একটি তথ্য
--------------- * -------------------- আমাদের সবাইকে একই সময়ে সৃষ্টি করা হয়েছিল। সবাইকে। আর আমাদেরকে কোনরকম আধ্যাত্মিক ICUতে রাখা হয়নি। আমরা জাগ্রতই ছিলাম। আমরা সবাই জেগেই ছিলাম। সচেতন ছিলাম। আমাদের আল্লাহ্র সাথে সরাসরি কথোপকথন হতো। সবারই আল্লাহ্র সাথে সরাসরি কথা হতো। একভাবে দেখলে, আমরা যেই শরীরে আছি তা এক ধরণের খোলস। এক অস্থায়ী আবাস দেয়া হয়েছে আমাদের। কিন্তু বাস্তবিক আমাদের অনেক আগেই বানানো হয়েছিল। যখন আল্লাহ ঘোষণাটি দিয়েছিলেন, তিনি রুহ সৃষ্টি করেছেন, আর সব রুহ একত্রে সহাবস্থান করছিল, সবাই, একই সময়ে। আর এখানে একটি মজার ব্যাপার হলো- এমন হওয়াটা জরুরি না যে আপনি নিজের ভাইয়ের পাশেই ছিলেন কিংবা মা, বাবা বা আত্মীয়ের পাশে। আল্লাহ বিভিন্ন রুহগুলোকে একত্রে রেখেছিলেন। নবীজির ভাষায়, “الأَرْوَاحُ جُنُودٌ مُجَنَّدَةٌ - আরওয়াহু জুনুওদুম মুজান্নাদা”। রূহগুলো হলো একত্রে সংগৃহীত সৈন্য (Souls are troops collected together)। তাদের দলগুলো গুচ্ছভাবে ছিল। এমন কি কখনো হয়েছে আপনার সাথে, যে আগে কখনও দেখেননি এমন কারও সাথে দেখা হল, যে আপনার ভাষায়ও কথা বলে না, কিন্তু আপনি তার প্রতি তীব্র আকর্ষন আর পরিচিত বোধ করেন। যেমন, “মনে হয় আপনাকে চিনি! আপনার সাথে সম্পর্ক আছে মনে হচ্ছে কেন?” অন্যদিকে আপনার নিজের পরিবারেই কারও ক্ষেত্রে ভাবেন, “আপনি আমার আত্মীয় হোন কীভাবে! বুঝতেই পারি না! কীভাবে সম্ভব!” তাই না? তো কিছু আত্মা, কিছু রুহ, তাদের কাছাকাছি রাখা হয়েছিল। তাদের পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক প্রদান করা হয়েছিল। তারা যখন একে অপরকে এই পৃথিবীতে দেখে, তখন পরস্পরের প্রতি টান অনুভব করে। তারা ভালো বন্ধু হয়ে যায়। একে অপরকে তারা বুঝতে পারে, কখনো কখনো কিছু বলা ছাড়াই! আবার কিছু রুহ, তারা ছিল একে অন্যে থেকে বহু দূর। আর এ ধরণের মানুষগুলো হয়তো দুজনেই ভালো, তবে একে অপরকে সহ্যই করতে পারে না। তারা একে অপরের সান্নিধ্যে থাকতেই পারে না। যেন চুম্বকের বিপরীত মেরু, বিকর্ষণ করে শুধু। - নোমান আলী খান ------------------------------- শায়েখ ইয়াসি কাদিও এ ব্যাপারটা বারযাখ সিরিজের প্রথম পর্বে আলোচনা করেছেন। উনার আলোচনাটুকুও নিম্নে তুলে ধরা হল- একটি হাদিস রয়েছে, কোনো কোনো চিন্তাবিদ এটাকে বারযাখ-পূর্ব সময়কাল বলে ব্যাখ্যা করেছেন। আর এটা বুখারী শরীফের হাদিস। এই হাদিসে রাসূল (স) বলেছেন, اَلْأَرْوَاحُ جُنُوْدٌ مُجَنَّدَةْ - আল-আরওয়াহু জুনুদুন মুজান্নাদাহ। আল-আরওয়াহু জুনুদুন মুজান্নাদাহ। অর্থাৎ রূহগুলো হোলো সারিবদ্ধ সেনাবাহিনীর মতো, فَمَا تَعَارَفَ مِنْهَا ائْتَلَفَ وَمَا تَنَاكَرَ مِنْهَا اخْتَلَفَ - ফামা তা’আরাফ মিনহাআতালাফ ওয়ামা তানাকারা মিনহাখতালাফ, অর্থাৎ রূহগুলো, যারা একে অপরকে জানে। তা’আরাফা অর্থ একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়া। مَا تَعَارَفَ مِنْهَا - মা তা’আরাফা মিনহা। রূহগুলো যারা একে অপরকে চিনে ফেলে, যেই রূহগুলোর একে অপরের সাথে পরিচয় হয়ে যায়, তারা বন্ধুতে পরিণত হয়। وَمَا تَنَاكَرَ مِنْهَا - ওয়ামা তানাকারা মিনহা, আর যেই রূহগুলো মাঝে অমিল রয়েছে, তারা একসাথে চলতে পারে না, তাদের মাঝে মতবিরোধ দেখা দেয়। এটা এমন একটা হাদিস যা উপলব্ধি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা আমাদের করা উচিৎ, কারণ এটা গভীর তাৎপর্যপূর্ণ একটি হাদিস। এবং চিন্তাবিদগণ এটাকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ এই মত দিয়েছেন যে, এই হাদিসটিকে শুধু এই পৃথিবীর প্রেক্ষিতেই বুঝার চেষ্টা করা যায়, পৃথিবীর আগের অবস্থার প্রেক্ষিতে নয়। পৃথিবীতে কিছু রূহ অন্য রূহের সাথে সামঞ্জস্য খুঁজে পায়। আর যখন কোনো রূহ অন্য রূহের সাথে মিল দেখতে পায়, দুটি দেহও সামঞ্জস্য খুঁজে পায় এবং তারা বন্ধু হয়ে যায়। আবার কিছু রূহ অন্য রূহকে পছন্দ করে না। যখন তা ঘটে, তারা বন্ধু হয় না, বরং শত্রুতে পরিণত হয়। এটা যুক্তিসঙ্গতে একটা ব্যাখ্যা। তবে, বেশ কিছু সংখ্যক চিন্তাবিদ, এর মধ্যে ইবনে হাযাম রয়েছেন, তাঁর আগে আল-খাত্তাবীও এটা উল্লেখ করেছেন, ইবনে হাজারও এই সম্পর্কে কিছুটা আলোচনা করেছেন; তারা এর থেকেও গভীরে চলে গিয়েছেন। এটা গভীর তাৎপর্যপূর্ণ, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাঁরা বলেছেন যে, সম্ভবত এই জগতে আসার আগে, যখন রূহগুলো সব একসাথে ছিলো, কিছু রূহ অন্য রূহের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে গিয়েছিলো। আর যখন তারা একে অপরকে এই পৃথিবীতে খুঁজে পায়, স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তারা এই পৃথিবীতেও বন্ধুতে পরিণত হয়। কারণ তারা আগেও বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলো। আর কিছু রূহ সেই জগতে বৈরীতাপূর্ণ অবস্থায় ছিলো। তাই এই পৃথিবীতেও যখন তারা একে অপরকে দেখতে পায়, তাদের সম্পর্ক হয় শত্রুতাপূর্ণ। ঠিক আছে ? আল্লাহ ভালো জানেন। এটা ইবনে হাযামের ব্যাখ্যা। হাদিসের ভাষার বিবেচনায় এই ব্যখ্যাটিও করা সম্ভব। হাদিসটি হলো, اَلْأَرْوَاحُ جُنُوْدٌ مُجَنَّدَةْ فَمَا تَعَارَفَ مِنْهَا ائْتَلَفَ وَمَا تَنَاكَرَ مِنْهَا اخْتَلَفَ - আল-আরওয়াহু জুনুদুম মুজান্নাদা, ফামা তা’আরাফ মিনহাআতালাফ ওয়ামা তানাকারা মিনহাখতালাফ। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। কিছু কিছু সাহাবীও এই মত পোষণ করেছিলেন বলে মনে হয়। কারণ এই হাদিসটির একটি ধরন মুসনাদ আবু-ইয়া’লা-তে (مُسْنَدْ أَبُوْ يَعْلَىْ) এভাবে এসেছে যে, রাসূল (স)-এর মৃত্যুর পর আয়েশা (রা)-র জীবদ্দশায়, মক্কায় এক নারী ছিলো যাকে আমরা কৌতুক-শিল্পী বলতে পারি। সে সবসময় হাস্যরস করতো, বাস্তব ঘটনার মাঝেই কৌতুক সৃষ্টি করতো। সে এর জন্য সুপরিচিত ছিলো, সবসময় কৌতুক করা, মজা করা, এই ধরণের ব্যক্তিত্ত্ব। যখন সে মক্কা থেকে মদিনায় আসলো, যে নারীর সাথে তার সবচেয়ে ভালো বন্ধুত্ব হয়েছিলো, সে-ও মদিনাতে একই কাজ করতো। সেও মদিনাতে সর্বদা হাস্যরস এবং কৌতুক করার জন্য সুপরিচিত ছিলো। তো যখন এই খবর আয়েশার কাছে পৌঁছুলো, তিনি বললেন, “আমার প্রিয়তম সত্য কথা বলেছেন - صَدَقَ حِبِّيْ - সদাক্বা হিব্বি।” ‘আমার প্রিয়তম’ অর্থাৎ রাসূল (স) সত্য বলেছেন। তারপর তিনি এই হাদিসটি বর্ণনা করেন। তো সেই প্রেক্ষাপটটি কি ? এই দুইজন একে অপরকে চিনতো না। কিন্তু যখনই তাদের সাক্ষাত হোলো, তারা সবচেয়ে ভালো বন্ধুতে পরিণত হলো। এটা কিভাবে ঘটলো ? দৈহিক সাক্ষাত ঘটার আগে তাদের রূহের মাঝে একটা সংযোগ ছিলো। আর সেজন্যই যখন তাদের প্রথম সাক্ষাত ঘটে তারা ভালো বন্ধুতে পরিণত হয়। আর সুবহানাল্লাহ, আমাকে এটা বলতেই হবে, আল্লাহর শপথ, এটা অত্যন্ত বিস্ময়কর একটা ব্যাপার যে, কখনো কখনো কারো সাথে আপনার প্রথমবারের মতো সাক্ষাত হয়, আর পনের-বিশ মিনিটের কথোপকথনে আপনি বুঝতে পারেন যে, এই মানুষটির ব্যক্তিত্ব আমার সাথে বেশ ভালো মিলবে। এই ভাইটির সাথে আমার সম্পর্ক ভালো হবে। অথবা বোনেরাও বুঝতে পারেন যে, এই বোনটির সাথে আমার বেশ ভালো বন্ধুত্ব হবে। আর কখনো কখনো কারো সাথে আপনার দশ-বারো বার সাক্ষাত হয়, আর আপনি বলেন, “হ্যাঁ, সে মোটামুটি ভালো” “আস-সালামু ‘আলাইকুম” “ওয়ালাইকুমুস সালাম”, এটুকুই যথেষ্ট। তাৎক্ষণিক আপনি কিভাবে বুঝতে পারেন ? এই হাদিস বলছে যে, এমন কিছু রয়েছে যা আমাদের উপলব্ধির ঊর্ধে। আর তা হলো জন্মের আগে রূহের মধ্যকার সম্পর্ক।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন