পোস্টগুলি

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

ছবি
যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কোরআন ও হাদিসে এর গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরতের পর প্রতি বছর কোরবানি করেছেন। তিনি কখনও কোরবানি পরিত্যাগ করেননি; বরং কোরবানি পরিত্যাগকারীদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোরবানি করল না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।’ কোরবানির ফজিলতের ব্যাপারে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হজরত যায়েদ ইবনে আকরাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম নবী করিম (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করেন, কোরবানি কী? নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, কোরবানি হলো তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.) -এর সুন্নত। এতে আমাদের সওয়াব কী? নবী করিম (সা.) বলেন, ‘কোরবানির পশুর প্রত্যেকটি পশমের বদলায় একটি করে সওয়াব রয়েছে। ভেড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ভেড়ার প্রত্যেকটি পশমের বদলায়ও একটি করে সওয়াব রয়েছে।’ -মুসনাদে আহমাদ হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোরবানির দিন কোরবানির চেয়ে উত্তম আমল আর নেই। কিয়ামতের দিন কোরবানির পশুকে শিং, পশম ও খু...

মিথ্যা রটনা ও মানব হত্যার ভয়ংকর পরিণতি

ছবি
মিথ্যা রটনা ও মানব হত্যার ভয়ংকর পরিণতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী সত্যতা ইমান ও ইসলাম সত্যতা ও সততা ইসলামের মূল চালিকা শক্তি। মুমিন বা মুসলিম হলো সত্যের অনুসারী। জীবনের সব ক্ষেত্রে, সর্বাবস্থায় সত্যের অনুসরণ করাই হলো ইমান ও ইসলাম। আল্লাহ তাআলা কোরআন কারিমে বলেন, ‘তুমি বলো: সত্য এসেছে, মিথ্যা অপসৃত হয়েছে; নিশ্চয় মিথ্যা দূরীভূত হবেই’ (১৭: ৮১)। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরও বলেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে সংমিশ্রণ করো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না’ (২: ৪২)। সংবাদ যাচাই জরুরি সঠিক তথ্য বা সংবাদ জ্ঞানের উৎস। তাই কোনো বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ, ভুল তথ্যের ওপর নেওয়া সিদ্ধান্তও ভুল হবে এবং এর পরিণতি দুনিয়া ও আখিরাতে ভয়াবহ হবে। এ বিষয়ে মুমিনদের সতর্ক করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! যদি তোমাদের কাছে কোনো ফাসিক ব্যক্তি কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তখন তোমরা তা যাচাই-বাছাই করো (তথ্যানুসন্ধান ও সঠিক সূত্র সন্ধান করো), না হলে তোমরা (এ অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে) অজ্ঞতাবশত কারও প্রতি আক্রমণ করে বসবে (যা যথাযথ নয়), ফলে তোমরা পরে তোমাদের স্বীয় কর্মের জন্য লজ্জিত ...

১৭ শ্রেনীর মুসলমান জান্নাতে যাবে না

১৭ শ্রেনীর মুসলমান জান্নাতে যাবে না ১. হারামপথে কামাই করে যে ব্যক্তি দেহ গঠন করেছে ২. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ৩. যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় ৪. মা বাবার অবাধ্য সন্তান ৫. অশ্লীল ভাষা ব্যবহারকারী ৬. সে সমস্ত শাসক যারা অধীনস্তদেরকে ধোঁকা দেয় ৭. অন্যের সম্পদ যে আত্যসাৎ কারী ৮. উপকার করে যে ব্যক্তি খোঁটা দেয় ৯. চোগলখোর ব্যক্তি ১০. অন্যের পিতাকে যে নিজের পিতা হিসেবে পরিচয় দেয় ১১. অহংকারী ব্যক্তি ১২. রাসূলুল্লাহ (সা) এর কথাকে যে প্রাধান্য দেয় না ১৩. ওই মহিলা যে কথায় কথায় স্বামীর কাছে তালাক চায় ১৪. দুনিয়ার উদ্দেশ্যে যে ইলম অর্জন করে ১৫. যে ব্যক্তি মাথায় কালো কলপ ব্যবহার করে ১৬. রিয়াকারী ব্যক্তি ১৭. ওয়ারিশকে বঞ্চিত করে যে ব্যক্তি

সংকট উত্তরণে প্রয়োজন তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধি

ছবি
সংকট উত্তরণে প্রয়োজন তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী ইসলাম পরিপূর্ণ জীবনবিধান। আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস, প্রিয় নবীজি (সা.)–এর সর্বোত্তম আদর্শ অনুসরণ ও জীবনে সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়ন এবং স্বীয় কৃতকর্মের জন্য পরকালে জবাবদিহি, পুরস্কারের আশা ও শাস্তির ভয়, সর্বোপরি মানবকল্যাণ ও সৃষ্টির উদ্দেশ্য সাধনই ইসলামের মূল শিক্ষা। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘পাপাচারী যখন পাপাচারে লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকে না; তার ইমান তার থেকে আলাদা হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে তওবা করে অনুতপ্ত হয়’ (বুখারি, তিরমিজি, মুসলিম ও ইবনে মাজাহ)। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুরা ফাতিহায় মানুষকে হেদায়াতের প্রার্থনা শিখিয়েছেন, ‘ইহদিনাছ ছিরাতল মুছতাকিম’, অর্থাৎ ‘আমাদের সঠিক সরল পথ দেখান’ (সুরা-১ ফাতিহা, আয়াত: ৪)। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এই কোরআন মুত্তাকিদের জন্য হেদায়াত সঠিক–সরল পথনির্দেশ’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২)। তাকওয়া অর্থ আল্লাহর ভয়। যাঁর মধ্যে আল্লাহর ভয় আছে, তিনি মুত্তাকি বা পরহেজগার। মুত্তাকির অপরিহার্য ৫টি বৈশিষ্ট্য হলো, ‘গায়েব বা অদৃশ্যে বিশ্বাস, সালাত কায়েম বা নামাজ প্রতিষ্ঠা, ...

আল কোরআন

ছবি

আল হাদিস

ছবি

ইসলাম মানবতার ধর্ম

ছবি
ইসলাম মানবতার ধর্ম মেহেদি হাসান সাকিফ ইসলাম পৃথিবীর একমাত্র মানবতার কল্যাণকামী শ্রেষ্ঠ ধর্ম। পৃথিবীতে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে মানবতার কল্যাণ সাধন করাকে এতোটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত মানবজাতির কল্যাণের জন্যে তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। ( সুরা আল ইমরান ১১০)। অভুক্তদের কষ্টের ভাগীদার হতে মহান আল্লাহ রমজানের সিয়াম ফরজ করেছেন। দুঃখীর কষ্ট লাগবে যাকাত ফরজ ও সাদাকাতুল ফিতরের বিধান ওয়াজিব করেছেন। আল্লাহ বলেন,যারা নিজেদের ধন সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে রয়েছে ১০০ শস্যদানা। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। আর আল্লাহ সর্বব্যাপী প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (সুরা বাকারা-২৬১)। আল্লাহ আরও বলেন, আর তাদের ধন–সম্পদে রয়েছে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতের হক। ( সুরা যারিয়াত -১৯)। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন দয়া ও মহানুভবতার মূর্ত প্রতীক। ষষ্ঠ হিজরিতে খায়বার বিজিত হয়। নবম হিজরিতে যখন আরব উপদ্বীপ মুসলিমদের অনুগত। চারদিক হতে যখন বিপুল সম্পদ প্রেরিত হয় সবই তিনি অকাতরে বিলি...