পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সুখী দাম্পত্য জীবন গড়তে মহানবী (সা.)–এর শেখানো ৪ কৌশল

  দাম্পত্য জীবনের শুরুটা সহজ, কিন্তু সেটাকে বছরের পর বছর সুন্দর রাখা মোটেই সহজ কাজ নয়। এর জন্য লাগে ধৈর্য, আন্তরিকতা, ত্যাগ আর একটু প্রজ্ঞা। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গিয়ে অনেক সময় নিজের অভিমান আর রাগ সংযত করতে হয়। একজন স্বামীর ভূমিকা তখন হয়ে ওঠে কৌশলী আর স্নেহশীল একজন অভিভাবকের মতো। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া না থাকলে সম্পর্ক ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে, কখনো কখনো তা গড়ায় বিচ্ছেদ পর্যন্ত। অথচ কিছু সহজ, প্রতিদিনের অভ্যাস নিয়মিত চর্চা করলে ভালোবাসা আর বিশ্বাস অনেক গভীর হয়ে ওঠে। স্ত্রীর ভুল হলে অপমান নয়, ভালোবাসা দিয়েই তা সংশোধন করা উচিত। তাঁকে অনুভব করাতে হয় যে পৃথিবীতে আপনিই তাঁর সবচেয়ে আপন মানুষ। পরিবারের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খাবারের ব্যবস্থা করাও যত্নেরই অংশ। সব সময় সম্ভব না হলেও মাঝেমধ্যে বিশেষ আয়োজন করা যায়, আর এখানে কার্পণ্য না করাই ভালো। ১. নিজের যত্ন নেওয়া, তাঁর যত্ন নেওয়া স্ত্রীর সামনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি থাকাটা ছোট বিষয় মনে হলেও এর প্রভাব গভীর। সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.) নিজে এ অভ্যাসের কথা বলেছেন, ‘আমি আমার স্ত্রীর জন্য এমনই পরিপাটি থাকতে পছন...

ইসলাম যেভাবে অবসর কাটাতে বলে

  করপোরেট সংস্কৃতির এই যুগে মানুষের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত জিনিসের নাম বোধ হয় ‘মি-টাইম’। সপ্তাহের পাঁচ দিন খাটুনি শেষে আমরা চেয়ে থাকি উইকএন্ডের দিকে। কিন্তু একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ করার মতো, প্রচুর ছুটি আর অবসর কাটানোর অজস্র উপায় থাকা সত্ত্বেও মানুষের ভেতরের ক্লান্তি আর ‘বার্নআউট’ কমছে না। ছুটির দিনেও একটা অদৃশ্য উদ্বেগ পিছু ছাড়ে না। আমরা ‘অবসর’ বলতে যা বুঝি, তার বাহ্যিক চাকচিক্য আর ভেতরের বাস্তবতার মধ্যে একটা বিরাট ফারাক থেকে যায়। ইসলাম এই সময় আর অবসরের ধারণাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখে, অবসর এখানে কোনো বাহ্যিক পরিবেশের নাম নয়, বরং মনের একটা অবস্থা। দুই নেয়ামত: মানুষ যেখানে ধোঁকায় পড়ে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘এমন দুটি নেয়ামত আছে, যার ব্যাপারে বহু মানুষ ধোঁকায় থাকে—সুস্বাস্থ্য আর অবসর সময়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪১২) এই হাদিসে একটি পরিচিত মানসিক প্যাটার্ন ধরা পড়ে। মানুষ যখন সুস্থ থাকে আর হাতে সময় থাকে, তখন মনে করে এই অবস্থা চিরকাল থাকবে, তাই আলসেমিতে সেই সময় নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু হুট করে ব্যস্ততা বা অসুস্থতা এলে তখন আফসোস শুরু হয়। এই ক্ষতি এড়াতেই নবীজি (সা.) জীবনের পাঁচটি অ...

সফর মাস কি অশুভ: ইসলাম কী বলে

  আল্লাহ-তাআলা সময়কে তাঁর অসংখ্য নিদর্শনের একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দিন-রাত, মাস ও বছর—সবই তাঁর সৃষ্টির অংশ। ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো সময় নিজস্বভাবে কল্যাণকর বা অকল্যাণকর নয়; বরং আল্লাহ যে সময়কে ইচ্ছা বরকতময় করেন এবং তাঁর প্রজ্ঞা অনুযায়ী মানুষকে পরীক্ষা করেন। আরবের জাহেলি সমাজেও এমন একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে সফর মাস দুর্ভাগ্যের মাস। ইসলাম আগমনের পর রাসুল (সা.) এসব ভিত্তিহীন বিশ্বাসের অবসান ঘটান এবং মানুষকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার শিক্ষা দেন। সফর মাস সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি সফর হিজরি বর্ষপঞ্জির দ্বিতীয় মাস। মহররমের পরই এর অবস্থান। ইসলামের ইতিহাসে অন্যান্য মাসের মতো এ মাসেরও নিজস্ব ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে সফর মাসে অশুভ বলতে কিছু নেই, আবার এমন বিশেষ কোনো ফজিলতও নেই, যা কোরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। জাহেলি যুগের মানুষ বিভিন্ন সময় ও ঘটনাকে নিজেদের ধারণা অনুযায়ী শুভ-অশুভ হিসেবে ভাগ করে ফেলত। তাদের বিশ্বাস ছিল, সফর মাস এলে বিপদ-আপদ বৃদ্ধি পায়, ব্যাবসা-বাণিজ্যে ক্ষতি হয়, বিয়েশাদি করলে অকল্যাণ হয় এবং কোথাও বের হলে বিপদের মুখোমুখি হতে হয়। সংক্র...

যে ৭ কারণে মানুষ হেদায়েত থেকে বঞ্চিত হয়

  হেদায়েত আল্লাহ–তাআলার মহান নেয়ামত, যা মানুষকে সত্যের দিকে পরিচালিত করে। তবে কিছু নৈতিক ও আত্মিক ব্যাধি এ পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এসব প্রতিবন্ধকতার কথা স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে। হেদায়েত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কয়েকটি প্রধান কারণ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো। ১. হিংসা ও অহংকার হিংসা-অহংকার হেদায়েত লাভের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আল্লাহ কোনো অহংকারীকে হেদায়েত দান করেন না। কোরাইশ নেতাদের হেদায়েত না পাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এই হিংসা এবং সত্যের প্রতি বিদ্বেষ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘পৃথিবীতে যারা অন্যায়ভাবে অহংকার করে আমি তাদের আমার নিদর্শনসমূহ থেকে বিমুখ রাখব। তারা আমার সব রকম নিদর্শন দেখলেও তাতে ইমান আনবে না। তারা হেদায়েতের সরল পথ দেখলেও সে পথ গ্রহণ করবে না। কিন্তু ভ্রষ্টতার পথ দেখলে সেটা গ্রহণ করবে। এটা এ কারণে, তারা আমার নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তারা এ থেকে উদাসীন।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৪৬) হিংসা-অহংকার হেদায়েত লাভের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আল্লাহ কোনো অহংকারীকে হেদায়েত দান করেন না। ২. নেতৃত্ব বা পদমর্যাদার লোভ নেতৃত্ব বা পদমর্যাদার লোভ হেদায়েত লাভের প...

‘সিক্স প্যাক’: পেশির মোহে নষ্ট যখন আল্লাহর আমানত

  জিম–সংস্কৃতির গ্ল্যামারের আড়ালে একটা মারাত্মক হুজুগ তৈরি হয়েছে, তা হলো, স্বল্প সময়ে নাটকীয়ভাবে পেশিবহুল শরীর বানানোর তাড়না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে গড়া অবয়ব প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় পড়ে হাজার হাজার তরুণ এখন অ্যানাবলিক স্টেরয়েড আর ক্ষতিকর হরমোন বুস্টারের দিকে ঝুঁকছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এর ফলে লিভার নষ্ট, কিডনি বিকল, বন্ধ্যত্ব, আকস্মিক হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এটাকে স্রেফ একটা স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা বোঝা যায় না। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে স্টেরয়েড–সংস্কৃতি আসলে একটা বিশ্বাসঘাতকতা নয়, এটা একই সঙ্গে তিনটা ভিন্ন স্তরে আমানত ভাঙে। নিচে সেই তিনটা স্তর দেখানো হলো। মানুষের শরীর তার নিজস্ব সম্পত্তি নয়, এটা আল্লাহর দেওয়া একটা আমানত। শরীরকে কৃত্রিম রাসায়নিক দিয়ে জোর করে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বিকৃত করার চেষ্টা সরাসরি এই আমানতের খেয়ানত। প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা: শরীরের প্রতি ইসলামে মানুষের শরীর তার নিজস্ব সম্পত্তি নয়, এটা আল্লাহর দেওয়া একটা আমানত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।’ (সুরা ত্বিন, আয়াত: ৪) এ...

দাড়ি কেন রাখতে বলে ইসলাম

  ইসলামে দাড়ি রাখা একটি আবশ্যকীয় বিধান, যা একজন মুসলিমের পরিচয় বহন করে। আধুনিক যুগে অনেকে একে ঐচ্ছিক বা গুরুত্বহীন মনে করলেও, কোরআন ও হাদিসের আলোকে দাড়ি রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। দাড়ি রাখা নবীদের সুন্নত দাড়ি রাখা শুধু নবীজির সুন্নত নয়, বরং এটি পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদেরও রীতি ছিল। পবিত্র কোরআনে নবী হারুনের দাড়ির কথা রয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর ভাই নবী মুসাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘হে আমার সহোদর, আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরো না।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ৯৪) এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, দাড়ি নবীদের একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য ছিল। হাদিসে দাড়ি রাখার নির্দেশ দাড়ি রাখার ব্যাপারে পবিত্র হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। নবীজি (সা.) নিজে দাড়ি রাখতেন এবং উম্মতকে দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মোচ কাটো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও (লম্বা করো), আর অগ্নিপূজকদের বিপরীত আচরণ করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬০) দাড়ি রাখার বিধান দাড়ি ইসলামের শিআর ও পরিচয়চিহ্ন। যেহেতু এটি সব নবীর পবিত্র রীতি ছিল, তাই একে ‘সুন্নত’ও বলা হয়। তবে এটি সাধারণ ঐচ্ছিক সুন্নতের মতো নয়, বরং ‘স...

জয়নাব বিনতে কামাল: এক চিরকুমারী হাদিস বিশারদ

  আজ থেকে প্রায় আটশত বছর আগের কথা। যখন ছিল না উড়োজাহাজ, দ্রুতগামী কোনো যানবাহন কিংবা আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা। তা সত্ত্বেও কেবল একজন নারীর কাছে হাদিস শিক্ষার ব্যাকুলতায় হাজারো মানুষ মাইলের পর মাইল দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে আসতেন। তিনি ছিলেন জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অনন্য পাণ্ডিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জয়নাব বিনতে কামাল। দ্বাদশ শতাব্দীতে দামেস্কের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী নারী মুহাদ্দিসা বা হাদিস পণ্ডিত ছিলেন তিনি। অসাধারণ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সমকালে তাঁকে ‘মুসনিদাতুশ শাম’ বলা হতো। অর্থাৎ তিনি ছিলেন তৎকালীন বৃহত্তর শাম বা সিরিয়া অঞ্চলের ধর্মীয় শিক্ষাদীক্ষার প্রধানতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ইতিহাসে এক ‘চিরকুমারী মুহাদ্দিসা’ হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিকদের মতে, বিবাহিত জীবনের ব্যস্ততায় যেন ওহি ও সুন্নাহর জ্ঞানার্জনে বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য তিনি আজীবন অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি ইতিহাসে এক ‘চিরকুমারী মুহাদ্দিসা’ হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিকদের মতে, বিবাহিত জীবনের ব্যস্ততায় যেন জ্ঞানার্জনে ব্যাঘাত না ঘটে, তাই তিনি আজীবন অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। স...

সময় ব্যবস্থাপনায় মুমিনের ৩ কৌশল

  একজন সাধারণ মানুষের জন্য এটা জাগতিক উন্নতির একটা সোপান হতে পারে, কিন্তু একজন মুমিনের জীবনে সময়ের হিসাব সরাসরি পারলৌকিক জবাবদিহির সঙ্গে জড়িত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সময়ের কসম খেয়ে মানুষের প্রতিটি মুহূর্তের মূল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। সময় ব্যবস্থাপনা মানে দৈনন্দিন কর্মঘণ্টাকে সুপরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে কম সময়ে বেশি কাজ করার একটা দক্ষতা। আজ এমন কিছু অভ্যাসের কথা বলা হলো, যা দিয়ে একজন মুমিন তাঁর সময়কে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারেন। ১. যা আপনার নয়, তাকে ‘না’ বলা সামাজিক লৌকিকতা বা দ্বিধার কারণে আমরা প্রায়ই এমন সব দায়িত্ব ঘাড়ে তুলে নিই, যা আমাদের সময়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। নবীজি (সা.) এখানে একটা মূলনীতি দিয়েছেন, ‘একজন মানুষের ইসলামের সৌন্দর্যের একটা অংশ হলো, যা তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তা থেকে দূরে থাকা।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৮) এই হাদিস মূলত অহেতুক কথাবার্তা ও কাজে জড়িয়ে পড়া নিয়ে, কিন্তু এর ভেতরের নীতিটি সময়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নিজের সঙ্গে সম্পর্কহীন বা অপ্রয়োজনীয় দায়িত্বে বিনয়ের সঙ্গে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে শেখাটা সময় রক্ষার একটা গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। ...

ফিতরাতি জ্ঞানতত্ত্ব: প্রকৃতিকে জানার সমন্বিত পদ্ধতি

  কায়েনাত সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান কেবল তথ্য-সংগ্রহ, পরিমাপ কিংবা বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে না। প্রকৃতি এমন এক বাস্তবতা, যার একটি অংশ পরিমাপযোগ্য, আরেকটি অংশ অভিজ্ঞতালব্ধ; একটি অংশ বিশ্লেষণাত্মক, আরেকটি অংশ সম্পর্কমূলক; একটি অংশ দৃশ্যমান বিন্যাসে প্রকাশিত, আরেকটি অংশ তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্যে নিহিত। ফলে প্রকৃতিকে জানা মানে নিছক অভিজ্ঞতা হাসিল ও তথ্য জানা নয়। এটি জ্ঞানের প্রকৃতি, সীমা ও পদ্ধতি সম্পর্কে একটি মৌলিক দার্শনিক অনুসন্ধান। আধুনিক জ্ঞানব্যবস্থা প্রকৃতিকে জানার ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ দূরত্বকে জ্ঞানের জরুরি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে। জ্ঞান অর্জনের জন্য পর্যবেক্ষককে পর্যবেক্ষণের বিষয় থেকে আলাদা থাকতে হবে, এই ধারণা আধুনিক বৈজ্ঞানিক তরিকার কেন্দ্রে অবস্থান করে। এখানে প্রকৃতি এক ‘অবজেক্ট অব ইনকুয়ারি’; আর মানুষ ‘সাবজেক্ট অব নলেজ’ । এখানে জ্ঞান উৎপাদনের জন্য বিষয়কে বিশ্লেষণযোগ্য এককে ভাঙা হয়, তার উপাদানসমূহ পরিমাপ করা হয়, তার কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়, আর সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি ব্যাখ্যামূলক কাঠামো নির্মিত হয়। একটি নদীকে সত্যিকার অর্থে জানা মানে তার সভ্যতাগ...