পোস্টগুলি

হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম একটি রাত শবে কদর

ছবি
হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম একটি রাত শবে কদর শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী কোরআন নাজিলের মাস রমজান মাস, কোরআন নাজিলের রাত শবে কদর। এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কা মোকাররমের জাবালে রহমত তথা হেরা পর্বতের গুহায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের সরদার হজরত জিবরাইল (আ.)–এর মাধ্যমে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রতি মহাগ্রন্থ আল–কোরআনুল করিম অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রমজান মাস! যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানবের দিশারিরূপে ও হিদায়েতের সুস্পষ্ট নিদর্শন।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মাহাত্ম্যপূর্ণ রজনীতে। আপনি কি জানেন মহিমাময় রাত্রি কী? মহিমান্বিত নিশি সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেয়। সে রাত্রিতে ফেরেশতাগণ রুহুল কুদস হজরত জিবরাইল (আ.) সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষা উদয় পর্যন্ত।’ (সুরা-৯৭ কদর, আয়াত: ১-৫)। আরবিতে ‘লাইলাতুল কদর’–এর ফারসি হলো শবে কদর। অর্থ সম্মানিত মর্যাদাপূর্ণ ও মহিমান্বিত, সম্ভাবনাময়, ভাগ্যনির্ধারণী রজনী। কোরআন মাজিদ সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ ...

রমজানে 'ইহতিসাব' বা আত্মমূল্যায়ন

ছবি
রমজানে 'ইহতিসাব' বা আত্মমূল্যায়ন শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী রমজান হলো তাকওয়ার জন্য, তাকওয়ার মূল কথা হলো নিয়ন্ত্রিত সুশৃঙ্খল জীবন। রমজান শেষে আমাদের দেখা দরকার আমরা রমজানের লক্ষ্য কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি। আমাদের সিয়াম সাধনা কতখানি সার্থক হয়েছে। রমজানে আমরা এক মাস রোজা পালন করলাম, বাকি এগারো মাস রোজার আদর্শে চলতে পারব কি না। আমার বাকি জীবন নামাজের আদলে পরিচালিত করতে পারব কি না। রমজানে আমরা তারাবিহসহ বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন করি। কোরআনের নির্দেশ আমার ব্যক্তিজীবন, পরিবার ও সমাজে বাস্তবায়ন করতে পারছি কি না; সত্যতা, পবিত্রতা ও প্রেমিকতা কতটুকু অর্জন করেছি? প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমার হিসাব নেওয়ার আগে নিজের হিসাব নিজে করে রাখো।’ (বুখারি ও মুসলিম)। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের হিসাব নিকটে এসে গেছে, তবু তারা উদাসীনতায় মুখ ফিরিয়ে আছে।’ (সুরা-২১ আম্বিয়া, আয়াত: ১)। কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘তোমার হিসাবকিতাব পাঠ করো; আজ তোমার হিসাবের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট।’ (সুরা-১৭ বনি ইসরাইল, আয়াত: ১৪)।  পবিত্র রমজানের ফজিলতসংক্রান্ত তিনটি হাদিসে এর সুফলপ্রাপ্তির জন্য ‘ইমা...

ইসলামে সম্পদ বণ্টনের মূলনীতি

ছবি
ইসলামে সম্পদ বণ্টনের মূলনীতি শাহ্ আব্দুল হান্নান ইসলামে সম্পদ বণ্টনের নীতিমালা মহাগ্রন্থ আল কুরআনেই দেয়া আছে। আল কুরআনের সূরা হাশরে বলা হয়েছে, ‘কাই লা ইয়াকুনা দুলাতান বাইনাল আগনিয়ায়ে মিন কুম’ (যেন সম্পদ কেবল ধনীদের মধ্যে আবর্তিত না হয়)। আল্লাহর এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিত হচ্ছে মদিনায় ইহুদি বনি নজির গোত্রের সাথে দ্বন্দ্বের পর তারা মদিনা ত্যাগ করে চলে যায় এবং তাদের পরিত্যক্ত মালসম্পদ ইসলামী রাষ্ট্রের অধিকারভুক্ত হয়। ইসলামের পরিভাষায় এই সম্পদকে ‘ফাই’ বলে অর্থাৎ যে সম্পদ ইসলামী রাষ্ট্র বিনাযুদ্ধে হস্তগত করেছে। বনি নজির থেকে পাওয়া এই ফাই সম্পদ বণ্টনের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, এটা হচ্ছে ‘আল্লাহ তায়ালার জন্য, রাসূলের জন্য, নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের জন্য, ইয়াতিম ও মিসকিনের জন্য এবং সম্বলহীন পথিকদের জন্য; যেন সম্পদ তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তবান কেবল তাদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।’ (সূরা হাশর আয়াত নং ৭)। এখানে লিল্লাহ (আল্লাহর জন্য) বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের সব কাজকর্মের জন্য। এই লিল্লাহ খাত থেকে রাষ্ট্রের যা কিছু করা দরকার তা করতে পারবে। এ আয়াতে ইসলামের বণ্টননীতি স্পষ্টভাবে দেয়া হয়েছে। ইস...

ইসলামী সৌন্দর্যের ব্যাপকতা

ছবি
ইসলামী সৌন্দর্যের ব্যাপকতা সালাহ উদ্দীন বিন নূরী ইসলাম মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক মহান জীবনাদর্শ। এতে রয়েছে মানবজীবনের সব দিকনির্দেশনা। এই নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলে মানবজাতি যে তার কাক্সিক্ষত পথ খুঁজে পাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা ইসলাম এসেছে সর্বময় প্রজ্ঞার অধিকারী মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে। আর তার বাস্তব প্রয়োগ শিখিয়েছেন রাসূলুল্লাহ সা:। এই বিস্ময়কর মহানাদর্শের সৌন্দর্য সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা চিন্তাশীল মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১. অহঙ্কার না করা। অহঙ্কার ইসলামে মহাপাপ। অহঙ্কারী ব্যক্তির ঠিকানা হবে জাহান্নাম। মহানবী সা: বলেছেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণও অহঙ্কার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ ( এ কথা শুনে ) এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, মানুষতো পছন্দ করে যে, তার কাপড়-চোপড় সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, ( তাহলে সেটাও কি অহঙ্কারের মধ্যে গণ্য হবে?) রাসূল বললেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য ভালোবাসেন। অহঙ্কার হচ্ছে, সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা ও মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা। (মুসলিম, ইফা-১৬৭) ২. মিথ্যা কথা বলতে নিষেধ করেছে ইসলাম। মহান আল্লাহ তায়ালা ব...

ইতিকাফের বিধিবিধান

ছবি
ইতিকাফের বিধিবিধান শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী জগতের সব আকর্ষণ থেকে মুক্ত হয়ে, সব মোহ–মায়া ত্যাগ করে, সব বাধা বন্ধন উপেক্ষা করে একান্তভাবে আল্লাহ জাল্লা শানুহুর সন্নিধানে যাওয়ার নাম ইতিকাফ। ‘ইতিকাফ’ অর্থ অবস্থান করা, আবদ্ধ করা, আবদ্ধ হওয়া বা আবদ্ধ রাখা। পরিভাষায় ইতিকাফ হলো ইবাদতের উদ্দেশ্যে ইতিকাফের নিয়তে নিজেকে নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবদ্ধ রাখা। যিনি ইতিকাফ করেন, তাঁকে ‘মুতাকিফ’ বলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো। (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১২৫)। আম্মাজান হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) আজীবন রমাদান মাসের শেষ দশকগুলো ইতিকাফ করেছেন। তাঁর ওফাতের (আগে) পরেও তাঁর বিবিগণ (ঘরে) ইতিকাফ করতেন। (বুখারি ও মুসলিম; আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৪৬, পৃষ্ঠা: ১২৯)। ইতিকাফ একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ইবাদত। রমজানের শেষ দশক তথা ২০ রমজান সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদের চাঁদ তথা শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়া বা ৩০ রমাদান পূর্ণ হয়ে ওই দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইতিকাফ করা সুন্নাতে মু...

হাফেজদের সাহায্যে কিছু করা হবে না?

ছবি
হাফেজদের সাহায্যে কিছু করা হবে না? এম মেসবাহউদ্দিন সরকার মহামারি করোনা ঠেকাতে এবার মসজিদে খতম তারাবিহ বন্ধ আছে। যদিও ৭ মে দুপুর থেকে মসজিদ উন্মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। সে ক্ষেত্রে করোনা প্রতিরোধের সব নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। করোনার ভয়ে তারাবিহর নামাজে মসজিদে মুসল্লির সমাগম খুব একটা হবে না এটাই স্বাভাবিক। এর ফলে হাফেজদের বেকারই থাকতে হচ্ছে। কোনো ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায়ও পড়ছেন না তাঁরা। আবার কোরআনের হাফেজ হওয়ায় কারও কাছে লজ্জায় হাত পাততেও পারছে না। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই চবরম বিপদে পড়েছেন। এমতাবস্থায় হাফেজদের জন্য একটি বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করা উচিত। রমজান মাসে হাফেজরা মসজিদে খতম তারাবিহ পড়ান এবং এর জন্য খুব সামান্যই বেতন পেয়ে থাকেন। বড়জোর ১০,২০, ৩০ হাজার টাকা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও কম, তা-ও আবার শুধুই রমজান মাসের জন্য। সেই টাকা আবার আয় হয় মুসল্লিদের কাছ থেকে। মুসল্লিরা ১০-২০ টাকা ছোট কাঠের বাক্সে রাখেন। মাস শেষে ২৭ রমজান অর্থাৎ লাইলাতুল কদরের রাতে আখেরি মোনাজাতের পর হাফেজ সাহেবদের ওই টাকা দেওয়া হয়। যদিও ইসলামের দৃষ্টিতে কোরআন খতমের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার বি...

পবিত্র রমজানে ঐতিহাসিক বদর বিজয়

ছবি
পবিত্র রমজানে ঐতিহাসিক বদর বিজয় শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী সফলতা ও কল্যাণের মাস রমজান। বিজয়ের মাস রমজান। রমজান মাসেই ইসলামের বড় বড় বিজয় সংঘটিত হয়। এরই অন্যতম হলো ঐতিহাসিক বদরের বিজয়। রমজান মাসের ১৭ তারিখ হিজরতের দ্বিতীয় বছর বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ বছরই প্রথম মুসলমানদের দুটি ঈদ ‘ঈদুল ফিতর’ ও ‘ঈদুল আজহা’র প্রবর্তন হয়। বদরের বিজয়ের ১৩ দিন পর পয়লা শাওয়াল দ্বিতীয় হিজরি বর্ষের দশম মাসের প্রথম তারিখ প্রথম ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ উদ্‌যাপন করা হয় এবং মদিনার সুদখোর মহাজন ইহুদি বনু কাইনুকা সম্প্রদায়কে পরাস্ত করার পর ১০ জিলহজ দ্বিতীয় হিজরি সনের দ্বাদশ মাসের দশম তারিখ প্রথম ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদ পালন করা হয়। মানবতার মুক্তির দূত বিশ্বনবী ও আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর নবুয়ত ও রিসালাতের ঘোষণা প্রকাশিত হয় রমজান মাসেই। রমজান মাসেই নাজিল হয় পবিত্র কোরআন। প্রিয় নবীজি (সা.) সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের দাওয়াত দিয়েছেন অহিংস পন্থায়। তারপরও কুফর শক্তি শান্তির বাণীতে অশান্তি সৃষ্টি করে। প্রায় তিন বছর যাবৎ আল্লাহর হাবিব (সা.)–কে ‘শিআবে আবুতালেব’ নামক স্থানে সপরিবার বন্দী করে রাখে। দাওয়াতি কাজে তায়েফ গমন ...