পোস্টগুলি

মানবজীবনের সফলতা

ছবি
  মানবজীবন পরীক্ষাক্ষেত্র। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘মহামহিমান্বিত তিনি, সর্বময় কর্তৃত্ব যার করায়ত্ত; তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, যাতে পরীক্ষা করবেন তোমাদের, কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।’ (সুরা-৬৭ মুলক, আয়াত: ১-২) জীবনের পরীক্ষার বিভিন্ন পর্যায় ও ধরন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কোরআন মজিদে বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের কিছু ভয়, ক্ষুধা, সম্পদহানি, প্রাণহানি ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। আপনি শুভ সংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের, যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে, “আমরা তো আল্লাহরই এবং নিশ্চিতভাবে তার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।” এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হয়, আর এরাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৫-১৫৭) আল–কোরআনে বিবৃত হয়েছে, ‘আলিফ লাম মিম! এই সেই মহাগ্রন্থ, যাতে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই, এটি মুত্তাকিনদের জন্য পথপ্রদর্শক। যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে, সালাত কায়েম করে, আমি তাদের যে রিজিক-দৌলত দিয়েছি, তা হতে ব্যয় করে। আর...

অনর্থক কথাবার্তা ও অপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম

ছবি
  মৌনতা বা নীরবতা আল্লাহর মূল ভাষা। মৌনতা জ্ঞানীদের অলংকার। মৌনতা সাধারণের জন্য নিরাপত্তা। নীরবতা পরিশ্রমবিহীন ইবাদত। হজরত সোলায়মান (আ.) বলেছেন, ‘কথা বলাটা যদি রুপা সমতুল্য হয়, তবে চুপ থাকাটা সোনা সমতুল্য।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের বা মুসলমানের সৌন্দর্য হলো তার অনর্থক কথাবার্তা ও অপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম পরিহার করা।’ (তিরমিজি) পরিবারে ও সমাজে অশান্তি–হানাহানি-মারামারি ও হিংসা-বিদ্বেষের কারণগুলোর অন্যতম হলো অনর্থক কথাবার্তা ও অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়ানো। অনিয়ন্ত্রিত ও লাগামহীন কথাবার্তা ঝগড়াঝাঁটির মূল কারণ। জীবনে যারা অনর্থক কথাবার্তা ও কাজ থেকে বিরত থাকতে পেরেছে, তারা ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.), ইমাম দারেমি (রহ.) ও ইমাম বায়হাকি (রহ.) সূত্রে বর্ণিত আছে, হজরত রাসুলে আকরাম (সা.) বলেন, ‘যে চুপ থাকে, সে নাজাত পায়।’ (তিরমিজি: ২৪৮৫) হজরত উমর (রা.) বলেন, ‘চুপ থাকার কারণে আমি কখনো লজ্জায় পড়িনি। তবে কথা বলার কারণে আমি অনেকবার লজ্জিত হয়েছি।’ হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে নিরাপদ থাকতে চায়, তার চুপ থাকাটা ...

খিজির (আ.)–এর সঙ্গী ‎মুসা (আ.)

ছবি
  হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-র বরাতে এই হাদিসটির বর্ণনা আছে। তিনি নবী (সা.)-এর কাছে নিচের ঘটনাটি শুনেছেন। একবার মুসা (আ.) বনি ইসরাইলের এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী? তিনি বললেন, আমি। মুসা (আ.)-এর এ উত্তরে আল্লাহ তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা তিনি জ্ঞানের উৎস হিসেবে আল্লাহ্‌র কথা বলেননি। আল্লাহ্ মুসা (আ.)–কে বললেন, দুই নদীর সংযোগস্থলে আমার এক বান্দা আছে। সে তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। মুসা (আ.) আরজ করলেন, হে আমার রব! তাঁর কাছে পৌঁছাতে কে আমাকে সাহায্য করবে? আল্লাহ্ বললেন, তুমি একটি মাছ ধরে একো থলির মধ্যে রাখো। যেখানে গিয়ে তুমি মাছটা হারিয়ে ফেলবে, সেখানেই তিনি আছেন। মুসা (আ.) একটি মাছ ধরে থলির মধ্যে ভরে রাখলেন। এর পর তিনি ও তাঁর সঙ্গী ইউশা ইবনে নুন যেতে যেতে একটি পাথরের কাছে পৌঁছে সেখানে মাথা রেখে বিশ্রাম বসলেন। মুসা (আ.) ঘুমিয়ে পড়লেন। মাছটি নড়াচড়া করতে করতে থলি হতে বেরিয়ে নদীতে নেমে গেল। আল্লাহ্ মাছটির চলার পথে পানির গতি স্তব্ধ করে দিলেন। মাছটির চলার পথ সুড়ঙ্গের মতো হয়ে গেল। নবী‎ (সা.) হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বললেন, এভাবে সুড়ঙ...

মানুষ ও প্রকৃতির রাজা মিষ্টভাষী হজরত দাউদ (আ.)

ছবি
  হজরত দাউদ (আ.) নবী ও বাদশাহ ছিলেন। কোরআনের অনেকগুলো সুরায় দাউদ (আ.)–এর কথা উল্লেখ আছে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত দাউদ (আ.) ছিলেন আল্লাহভক্ত সাধক এবং লৌহবর্ম নির্মাণের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনকারী স্বনির্ভর নবী। লোহা তাঁর হাতে নমনীয় হয়ে যেত। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল অসম্ভব মিষ্টি। তাঁর পাঠ শুনে সবাই মুগ্ধ হতো। পাহাড়, তরুলতা, পশুপাখি এরাও তাঁর সঙ্গে উপাসনায় যোগ দিত। আল্লাহ পাহাড়-পর্বত ও পক্ষীকুলকে তাঁর প্রভাবাধীন করে দিয়েছিলেন। সুরা বাকারায় আছে, দাউদ (আ.) জালুতকে হত্যা করেন। এ সুরায় আল্লাহ্‌র তাঁকে কর্তৃত্ব ও হিকমত দানের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ দাউদ (আ.)–কে বিপুল শক্তি ও ক্ষমতা দিয়েছিলেন। যুবক বয়স থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও বীর। খুব অল্প বয়সেই তিনি তালুতের নেতৃত্বে পরিচালিত যুদ্ধে কুখ্যাত যুদ্ধবাজ জালুতকে হত্যা করেছিলেন। কোরআনে মহান আল্লাহ সে ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। কোরআনে আছে, ‘সুতরাং তখন তারা আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাদের পরাজিত করল। দাউদ জালুতকে বধ করল ও আল্লাহ তাকে কর্তৃত্ব ও হিকমত দান করলেন এবং যা তিনি ইচ্ছা করলেন, তা তাকে শিক্ষা দিলেন। আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্য দল দিয়ে দমন না করতেন, ...

হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও সারার ঘটনা

ছবি
  হজরত আবু হুরাইরাহ (রা.)-র বরাতে এই হাদিসটির বর্ণনা আছে। তিনি নবী (সা.)-এর কাছে নিচের ঘটনাটি শুনেছেন।  হজরত ইব্রাহিম (আ.) সারাকে সঙ্গে নিয়ে হিজরত করে একটি জনপদে প্রবেশ করলেন। সেখানে এক অত্যাচারী শাসক ছিল। শাসককে বলা হলো, ইব্রাহিম (নামে এক ব্যক্তি) এক নারীকে নিয়ে (আমাদের এখানে) প্রবেশ করেছে।’ শাসকটি তখন তার কাছে লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘হে ইব্রাহিম, তোমার সঙ্গে এ নারীটি কে?’ তিনি বললেন, ‘আমার বোন।’ তারপর তিনি সারার কাছে ফিরে এসে বললেন, ‘তুমি আমার কথা মিথ্যা মনে কোরো না। আমি তাদের বলেছি যে তুমি আমার বোন। আল্লাহর শপথ! দুনিয়াতে (এখন) তুমি আর আমি ছাড়া আর কেউ মুমিন নেই। সুতরাং আমি আর তুমি দ্বীনি ভাই–বোন।’ এরপর ইব্রাহিম (আ.) (বাদশাহর নির্দেশে) সারাকে বাদশাহর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। বাদশাহ তাঁর দিকে এগিয়ে এল। সারা ওজু করে নামাজ আদায়ে দাঁড়িয়ে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমিও তোমার আর তোমার রাসুলের ওপর ইমান এনেছি। আমার স্বামী ছাড়া সবার থেকে আমার সতীত্ব রক্ষা করেছি। তুমি এই বিধর্মীকে দিয়ে আমার সতীত্ব হরণ করিয়ো না।’ বাদশাহ বেহুঁশ হয়ে পড়ে মাটিতে পায়ের আঘাত করতে লাগল। সারা বললেন, ‘হে আল্লাহ! লোকটি ...

অকালমৃত শিশুরা হবে নাজাতের উপায়

ছবি
  হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-এর বরাতে একটি সুন্দর হাদিস পাওয়া যায়। নবী (সা.) বলেছেন, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! গর্ভপাত হওয়া সন্তানের মা তাতে সওয়াব আশা করলে ওই সন্তান নিজের নাভিরজ্জু তাঁকে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬০৯) প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই যারা মারা গেছে, অর্থাৎ যারা অকালমৃত, শেষ বিচারের দিন বাবা–মায়ের সুপারিশের জন্য সেসব শিশুরাও থাকবে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, বিচার দিবসে আল্লাহ এসব শিশুদের বলবেন: তোমরা সবাই জান্নাতে প্রবেশ করো। তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু আমাদের মা–বাবা আমাদের সঙ্গে আসবেন। আল্লাহ বলবেন এসব শিশুরা কেন দ্বিধাগ্রস্ত, কেন তারা জান্নাতে যেতে দ্বিধা করছে? তখন এসব শিশুরা মা–বাবাকেও তাদের সঙ্গে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবদার করবে। তখন আল্লাহ বলবেন, তাদের মা–বাবাকেও জান্নাতে নাও। এই সাফায়াত সেসব মা–বাবার জন্য, যাঁরা তাঁদের শিশুসন্তান মারা যাওয়ার পরও ধৈর্যধারণ করেছেন। অনিচ্ছাকৃত গর্ভপাত হওয়া ভ্রূণের জন্যও তা প্রযোজ্য। যাঁরা ভ্রূণ বা শিশুসন্তানের মৃত্যুর কঠিন পরীক্ষা এবং কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, আল্লাহ তাঁদের সবার কষ্টকে সহজ ...

ফেরেশতা ও তিন লোকের কাহিনি

ছবি
  হজরত আবু হুরাইরাহ (রা.)-এর বরাতে এ হাদিসটির বর্ণনা আছে। তিনি নবী (সা.)-এর কাছে নিচের ঘটনাটি শুনেছেন। বনি ইসরাইল সম্প্রদায়ের তিনজন লোক ছিলেন। একজন কুষ্ঠরোগী, একজন টাক মাথা ও একজন অন্ধ। আল্লাহ এই তিনজনকে পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন। তিনি তাঁদের কাছে একজন ফেরেশতা পাঠালেন। প্রথমে কুষ্ঠরোগীর কাছে ফেরেশতা এসে বললেন, তোমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় জিনিস কোনটি? সে বলল, ‘উত্তম গায়ের রং আর ভালো ত্বক। আমার শরীরের এই রোগ যেন নিরাময় হয়ে যায়। এর কারণে লোকেরা আমাকে ঘৃণা করে।’ ফেরেশতা তখন তাঁর শরীরে হাত বোলালেন। তাঁর রোগ সেরে গেল। তাঁর গায়ে সুন্দর রং দেওয়া হলো। ফেরেশতা এবার তাঁকে প্রশ্ন করলেন, তোমার কাছে প্রিয় জিনিস কোনটি? সে বলল, উট। (বর্ণনাকারী ইসহাকের ভিন্নমত আছে। তাঁর বর্ণনায় কুষ্ঠরোগী বা টেকো মানুষ দুজনের একজন বলেছিল উট, অন্য একজন বলেছিল গাভি। তখন তাঁকে গর্ভবতী মাদি উট দিয়ে ফেরেশতা বললেন, আল্লাহ তোমাকে এতে বরকত দিন। এরপর ফেরেশতা টাক মাথাওয়ালা মানুষটির কাছে এসে প্রশ্ন করলেন, তোমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় জিনিস কী? সে বলল, ‘সুন্দর চুল। আমার এই ব্যাধি যেন সেরে যায়।’ ফেরেশতা তাঁর শরীরে হাত বোলালে তাঁ...