পোস্টগুলি

মুসলমানের জীবন অতীতের আফসোসে বন্দী থাকার নয়

ছবি
  জীবনের পথচলায় আমরা প্রায়ই অতীতের ছায়ায় আটকে পড়ি। ভুল, ক্ষতি বা হারানো সুযোগের জন্য আফসোসে হৃদয় ভারী হয়ে ওঠে। বর্তমানে অসন্তোষ আর ভবিষ্যতের ভয় আমাদের শান্তি কেড়ে নেয়। কিন্তু মুসলিমের জীবন এই আফসোসের শৃঙ্খলে বন্দী থাকার নয়। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে অতীতকে ছেড়ে দিয়ে বর্তমানকে আল্লাহর কদরে গ্রহণ করতে হবে এবং ভবিষ্যৎকে তাঁর রহমতের ওপর সমর্পণ করতে হবে। কোনো বিপদ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া আসে না। যে আল্লাহর ওপর ইমান আনে, তিনি তার হৃদয়কে পথ দেখান। আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ। সুরা তাগাবুন, আয়াত: ১১ এ লেখায় আমরা দেখব কীভাবে ইমানের শক্তি আমাদের অতীতের বন্ধন থেকে মুক্ত করে, হৃদয়ে শান্তি নিয়ে আসে। অতীতের আফসোস: মানসিক অশান্তির কারণ জীবনের কোনো না কোনো মুহূর্তে আমরা অতীতের দিকে তাকাই। একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হারানো সম্পর্ক বা উপেক্ষিত সুযোগ—এগুলো হৃদয়ে কাঁটার মতো বেঁধে। মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আমরা সেই কষ্টের স্মৃতি চিবিয়ে চলি। ‘যদি তখন এটা করতাম!’ বা ‘যদি সেটা ছেড়ে দিতাম!’—এই কথাগুলো মনে ঘুরপাক খায়। এক প্রাচীন কবি বলেছিলেন, “আমার জানা নেই ‘যদি’ কোথায়?—এই ‘যদি’ আম...

ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় মুসলিম নারীর করণীয়

ছবি
  ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি ভয়, ঘৃণা বা বৈষম্যমূলক মনোভাব, বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা। বিশেষ করে মুসলিম নারীরা, যাঁরা হিজাব বা ধর্মীয় পোশাকের কারণে সহজেই চিহ্নিত হন, প্রায়ই আক্রমণের শিকার হন। তাই ভেবে দেখা দরকার, একজন মুসলিম নারী ইসলামোফোবিক আক্রমণের মুখে কী করতে পারেন? মনে রাখতে হবে, কোরআনে (সুরা আহযাব আয়াত: ৫৯) হিজাবের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে মুসলিম নারীরা সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে চলাফেরা করতে পারেন। সম্ভব হলে জনবহুল স্থানে চলে যাওয়া বা কাছাকাছি নিরাপত্তা কর্মীদের সাহায্য নেওয়া উচিত। তাৎক্ষণিক সেবা পাওয়ার জন্য হটলাইন রয়েছে, ৯৯৯ নম্বরে কল করা যেতে পারে। ইসলামোফোবিক আক্রমণের মুখে করণীয় ইসলামোফোবিক আক্রমণ মৌখিক, শারীরিক বা মানসিক হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত রাখার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে: ১. শান্ত ও ধৈর্য ধরা:  কোরআন মুসলিমদের ধৈর্য ও সংযমের নির্দেশ দেয়। সুরা বাকারাহ (আয়াত: ১৫৩) বলে, ‘হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ আক্রমণের মু...

হীনমন্যতা যেভাবে মুসলিম উম্মাহর ক্ষতি করছে

ছবি
  ইসলামের ইতিহাসে মুসলিমদের বিশ্বমানের নেতৃত্বের উদাহরণ রয়েছে অসংখ্য। মুসলিমরা একসময় সমৃদ্ধ সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং চিকিৎসা, গণিত, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও আইনশাস্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের আবিষ্কার ও উদ্ভাবন আধুনিক সমাজের ভিত গড়ে দিয়েছে। কিন্তু আজকের মুসলিম বিশ্বে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই নেতৃত্বের অভাব প্রকট। উম্মাহর মধ্যে একটি গুরুতর হীনমন্যতা বাড়ছে। ব্যক্তি হিসেবে আমরা অমুসলিমদের তুলনায় নিজেদের হীন মনে করি, প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা মূলধারার করপোরেশনের তুলনায় নিজেদের দুর্বল ভাবি এবং উম্মাহ হিসেবে আমরা অন্য জাতিগুলোর তুলনায় নিজেরা পিছিয়ে আছি বলে ধারণা করি। কেন এমন হচ্ছে এবং কী এর সমাধান? হীনমন্যতা হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে অপর্যাপ্ত বা অযোগ্য মনে করেন—যুক্তিসংগত বিচারের ভিত্তিতে নয়, বরং আবেগের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কারণে। হীনমন্যতার প্রভাব হীনমন্যতা হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে অপর্যাপ্ত বা অযোগ্য মনে করেন—যুক্তিসংগত বিচারের ভিত্তিতে নয়, বরং আবেগের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কারণে। এর ফলে আমরা অন্যদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা ...

কোন জিনিসটা স্থায়ী

ছবি
  আল্লাহ তায়ালা সূরা কাহাফের ৪৫ নং আয়াতে বলেনঃ وَ اضۡرِبۡ لَهُمۡ مَّثَلَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا كَمَآءٍ اَنۡزَلۡنٰهُ مِنَ السَّمَآءِ فَاخۡتَلَطَ بِهٖ نَبَاتُ الۡاَرۡضِ فَاَصۡبَحَ هَشِیۡمًا تَذۡرُوۡهُ الرِّیٰحُ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ مُّقۡتَدِرًا--"তাদের কাছে দুনিয়ার এ জীবনের দৃষ্টান্ত পেশ কর : তা হল পানির মত যা তিনি আকাশ হতে বর্ষণ করেন, যা দিয়ে যমীনে গাছ-গাছড়া ঘন হয়ে উদগত হয়, অতঃপর তা শুকনো খড়কুটায় পরিণত হয় যাকে বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায়। আল্লাহ হলেন সকল বিষয়ে শক্তিমান।" কুরআনে আল্লাহ কেন আমাদেরকে এতো বেশি পানি নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন? পানির উপমা কেন এতো বেশি বার দেওয়া হয়েছে? কারণ, পানি এক স্থানে আবদ্ধ থাকে না। পানি অন্য জিনিসের সাথে মিশে। পানি প্রতিনিয়ত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাচ্ছে এবং পরিবর্তিত হচ্ছে। যদি পানিকে এক স্থানে আটকে রাখার চেষ্টা করেন, এটা নষ্ট হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আল্লাহ আমাদের জীবনটাকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে, জীবনে শুধু একটার পর একটা পরিবর্তন আসতে থাকে। তো, আপনাদের মধ্যে যারা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন, অন্তরে গ্রামের স্মৃতিগুলো ভেসে উঠে। গ্র...

পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া

ছবি
  ইসলামে খাদ্য গ্রহণ কেবল দৈহিক চাহিদা পূরণের বিষয় নয়; এটি ইবাদত ও তাকওয়ার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। একজন মুসলমান কী খাবে, কীভাবে খাবে—এমনকি সেই খাদ্য প্রস্তুতের প্রক্রিয়াও ইসলামি শরিয়তের অধীন। পশু জবাই করার নিয়ম এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোরআন ও হাদিসে পশু জবাইয়ের পদ্ধতি সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে, যাতে মানবিকতা, পবিত্রতা ও আল্লাহভীতির সমন্বয় ঘটে। পশু জবাই কেন নিয়মবদ্ধ কোরআন ঘোষণা করেছে, “তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা হয়েছে।” (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৩) এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়, জবাইয়ের পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর জন্য না হয়, তবে সেই খাদ্য হালাল নয়। তাই পশু জবাই কেবল ছুরি চালানোর কাজ নয়; এটি একটি ইবাদতসম আচরণ। পশু জবাইয়ের মৌলিক শর্ত ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী পশু জবাই সহিহ হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ হওয়া জরুরি। প্রথমত, জবাইকারী মুসলমান অথবা আহলে কিতাব হতে হবে। কারণ কোরআনে আহলে কিতাবের জবাই করা খাদ্য হালাল বলা হয়েছে। (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৫) দ্বিতীয়ত, জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা আবশ্যক। ইচ্...

হিংসার ‘নজর’ যখন সফলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়

ছবি
  ক্যালেন্ডার, কাজের রুটিন কিংবা ডিজিটাল সিস্টেম—আধুনিক সময়ে কর্মদক্ষতা বলতে গেলে এসব বিষয় আমাদের মাথায় আসে। কিন্তু জীবনের সব সমীকরণ কি কেবল বাহ্যিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে? কখনো কি এমন হয়েছে যে সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ কাজের গতি থমকে গেছে কিংবা কোনো ব্যাখ্যাতীত কারণে আপনার দীর্ঘদিনের মনোবল ভেঙে পড়েছে? কর্মক্ষমতার এই জাগতিক আলোচনার ভিড়ে আমরা অনেক সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক দিক এড়িয়ে যাই। সেটি হলো ‘কুনজর’ বা বদনজর ও ‘হিংসা’। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব কীভাবে এই অদৃশ্য শক্তিগুলো আমাদের পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং এর থেকে বাঁচার উপায় কী। হিংসা হলো একটি অন্ধকার অনুভূতি। এটি কেবল প্রশংসা নয়; বরং হিংসুক মনে মনে চায় আপনার নিয়ামতটি ছিনিয়ে নেওয়া হোক বা আপনি ক্ষতির শিকার হন। একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অদৃশ্য বাধা অনেক বছর আগের একটি ঘটনা। আমি তখন স্থানীয় একটি মসজিদে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করার ক্লাসে যেতাম। আল্লাহর রহমতে আমার মুখস্থ করার গতি ছিল বেশ ভালো। একদিন ক্লাসের এক সহপাঠীর সঙ্গে দেখা হলো। সে আমার অগ্রগতির কথা জানতে চাইল। আমি যখন তাকে জানালাম যে আমি কতটুকু ...

ইসলামে বয়স্কদের জন্য দুটি বিশেষ উপহার

ছবি
  জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষ যেন এক অদ্ভুত অনুভূতির মধ্য দিয়ে যায়। বয়স্করা প্রায়ই তাদের যৌবনের দিনগুলোর কথা মনে করে, যেন একজন প্রবাসী নিজের জন্মভূমির জন্য হাহাকার করে। তারা অতীতের গল্প বলতে ভালোবাসে। কেউ তার পছন্দের সেরা কবিতা আবৃত্তি করে। তাদের মন পড়ে থাকে অতীতের স্মৃতিতে, কারণ বর্তমান তাদের কাছে উদাসীন, আর ভবিষ্যৎ মনে হয় কুয়াশায় ঢাকা, মৃত্যুর ছায়ায় ম্লান। শরীর দুর্বল হয়, রোগ-ব্যাধি এসে ভর করে, আর জীবনের বাকি দিনগুলো যেন গুটিয়ে আসে। এই সময়ে তারা শান্তি খোঁজে, মানুষের সঙ্গ আর উষ্ণ সম্পর্কের আশ্রয় চায়। এটাই বৃদ্ধ বয়স। শেষ বয়সে মানুষ একটু শান্তি ও জীবনের অর্থ খোঁজে। ইসলাম তাদের উভয় জগতে শান্তির প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সম্মান ও যত্নের ব্যবস্থা করতে বলে। বিশ্বে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধি আমাদের পৃথিবী এখন এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জনসংখ্যার একটি বড় অংশ বয়স্ক হয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা এখন ৭০০ মিলিয়নেরও বেশি। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ২০০০ মিলিয়নে পৌঁছাবে, যা বিশ্বের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ। এমনকি ...