আল্লাহর পথে ব্যয়: একটি বীজের উপমা
আল্লাহর পথে ব্যয়: একটি বীজের উপমা
—নোমান আলী খান ভূমিকা: ------ কুরআনের সূরা বাকারায় আল্লাহ একটি বিখ্যাত উপমা দিয়েছেন। মুসলিম সমাজে তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে এই আয়াতটি বারবার শোনা যায়, তাই অনেকেই এটির সাথে পরিচিত। আল্লাহ বলেছেন — "যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়, আর প্রতিটি শীষে একশটি দানা থাকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।" (২:২৬১) একটি থেকে সাতশো। তারপর আল্লাহ বলছেন, এর উপরেও তিনি যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বাড়িয়ে দেন — অর্থাৎ সাতশো সংখ্যাটিও কেবল একটি শুরু। কিন্তু এই উপমাটি বিচ্ছিন্ন কোনো বক্তব্য নয়। এটি একটি দীর্ঘ ধারাবাহিক আলোচনার অংশ, যার শিকড় কয়েক আয়াত আগে থেকেই শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপট না বুঝলে উপমাটির পূর্ণ শক্তি অনুভব করা সম্ভব নয়। জীবন ও মৃত্যুর থিম — আয়াতুল কুরসি থেকে শুরু: ----------------------------------------------------------------- এই উপমার কয়েক আয়াত আগেই রয়েছে আয়াতুল কুরসি। সেখানে আল্লাহর প্রথম পরিচয় দেওয়া হয়েছে এভাবে — আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম। এখানে আল্লাহর প্রথম গুণবাচক নাম হলো আল-হাই — চিরঞ্জীব, সমস্ত জীবনের উৎস। আর আল-কাইয়্যুম — যিনি সমস্ত জীবনের রক্ষণাবেক্ষণ করেন। এই নামটি মাথায় রাখলে পরের আয়াতগুলোর গভীরতা বোঝা যায়। আয়াতুল কুরসির পরপরই আল্লাহ বলেন, যে কেউ তাগুতকে অস্বীকার করে আল্লাহর উপর ঈমান আনে, সে যেন সমুদ্রে ডুবে যাওয়া একজন মানুষ যে জাহাজের সবচেয়ে শক্তিশালী নোঙর আঁকড়ে ধরেছে — এমন এক শিকল যা কখনো ছিঁড়বে না। তারপর আল্লাহ বলেন, তিনি ঈমানদারদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে টেনে তোলেন। সমুদ্রের গভীরে যত নামা যায়, তত অন্ধকার। সেখান থেকে টেনে তোলা মানে আলোয় ফিরে আসা — আক্ষরিক অর্থেই জীবনে ফিরে আসা। এরপর আসে নমরুদের সাথে ইব্রাহিম (আ)-এর বিতর্ক। ইব্রাহিম (আ) বলেন, আমার রব তিনিই যিনি জীবন দেন ও মৃত্যু দেন। নমরুদ বলে, সেটা তো আমিও করি — সে দুজন বন্দীর একজনকে হত্যা করে, একজনকে ছেড়ে দেয়। ইব্রাহিম (আ) তখন ভিন্ন পথে যান এবং বলেন, তুমি যদি সত্যিই সেই ক্ষমতা রাখো, তাহলে সূর্যকে পশ্চিম থেকে উদিত করো। নমরুদ থ হয়ে যায়। তারপর আসে সেই নবীর কাহিনী যিনি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। শহরটি এতটাই বিধ্বস্ত যে ছাদগুলো ভেঙে পড়েছে এবং দেয়ালগুলো সেই ছাদের উপরেই ধসে পড়েছে। কোনো মানুষ নেই, কোনো জীবনের চিহ্ন নেই। তিনি দেখে বলেন, "কীভাবে আল্লাহ এতে মৃত্যুর পর আবার জীবন দেবেন?" — আর আল্লাহ তৎক্ষণাৎ তাঁকে সেখানেই একশ বছরের জন্য মৃত করে দেন। একশ বছর পর জীবিত করে তাঁর খাবার দেখান— একটুও পুরোনো হয়নি। তারপর তাঁর গাধার হাড়গুলো দেখান — সেগুলো নিজে থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছে এবং মাংসে ঢেকে যাচ্ছে। মৃত্যু উল্টোদিকে হাঁটছে। এরপর আসে ইব্রাহিম (আ)-এর প্রার্থনা — "হে রব, আমাকে দেখান কীভাবে আপনি মৃতকে জীবিত করেন।" আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি বিশ্বাস করো না? তিনি বলেন, অবশ্যই করি, কিন্তু আমার হৃদয়কে প্রশান্তি দিতে চাই। আল্লাহ তখন চারটি পাখি নিয়ে তাদের টুকরো করে বিভিন্ন পাহাড়ে রাখতে বলেন, তারপর ডাকতে বলেন — আর পাখিগুলো ছুটে ফিরে আসে। এই পুরো অংশ জুড়ে একটাই থিম বারবার ঘুরে আসছে — জীবন ও মৃত্যু, এবং আল্লাহর হাতেই সব নিয়ন্ত্রণ। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট — কেন এই মুহূর্তে এই কথা? ------------------------------------------------------------- সূরা বাকারা নাজিল হয় মদিনায় হিজরতের প্রথম দিকে। রাসূল (সা) মূলত মক্কা থেকে হিজরত করে এসেছেন — তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল, কোনোমতে অলৌকিকভাবে বেঁচে মদিনায় পৌঁছেছেন। মুসলিমরা তখন নিঃস্ব, ক্লান্ত, ঘরবাড়ি-সম্পদ হারানো। কিন্তু এই সূরায় আল্লাহ কী বললেন? কিবলা পরিবর্তন করলেন — জেরুজালেম থেকে মক্কার দিকে। মাকামে ইব্রাহিমে নামাজের নির্দেশ দিলেন। হজের কথা বললেন। সাওমের কথা বললেন। প্রতিটি আয়াত যেন একটাই বার্তা দিচ্ছিল — মক্কার কথা ভুলে গিয়ে মদিনায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া তোমাদের লক্ষ্য নয়। লক্ষ্য হলো মক্কা মুক্ত করা। আল্লাহর ঘর কাফেরদের দখলে, সেখানে মূর্তি রয়েছে — সেটা পুনরুদ্ধার করতে হবে। প্রতিদিন পাঁচবার মক্কার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ার অর্থ হলো প্রতিদিন পাঁচবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া — কাজ এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু মক্কা মানে কুরাইশ। আর কুরাইশ মানে সেই সময়ের সবচেয়ে ধনী, সবচেয়ে প্রভাবশালী, সবচেয়ে যুদ্ধ-অভিজ্ঞ শক্তি। তাদের সাথে যুদ্ধ করতে হলে সেনাবাহিনী দরকার, আর সেনাবাহিনীর জন্য দরকার বিশাল অর্থ। ঘোড়া কিনতে হবে, প্রশিক্ষণ দিতে হবে, অস্ত্র বানাতে হবে, রসদ জোগাতে হবে — গোটা একটি সামরিক কমপ্লেক্স। তখন কিছু মানুষের মনে সংশয় জাগলো। "আমরা কুরাইশদের বিরুদ্ধে যাব? আমরা শুধু টাকা নষ্ট করব। কুরাইশদের কাছে কেউ জেতে না। আর শুধু টাকা নয়, প্রাণও যাবে।" এখানে দুটো ভয় — প্রথমটি মৃত্যুর ভয়, দ্বিতীয়টি সম্পদ হারানোর ভয়। মানুষের কাছে এক নাম্বার মূল্যবান জিনিস হলো তার প্রাণ, দ্বিতীয় মূল্যবান হলো তার অর্থ। একজন ডাকাত যদি বলে, "তোমার সব টাকা দাও", কেউ বলে না, "না, তার বদলে আমার জীবন নাও।" সে টাকা দিয়ে দেয়, কারণ প্রাণ বেশি মূল্যবান।আল্লাহ প্রথমে প্রাণের ভয় মোকাবেলা করলেন — জীবন ও মৃত্যুর একের পর এক দৃশ্য দিয়ে বললেন, মৃত্যুকে ভয় পেয়ো না, আল্লাহ তোমাকে পুনরায় জীবন দেবেন। তারপর, সেই ভয় দূর করার পর, এলো দ্বিতীয় ভয়ের মোকাবেলা — সম্পদ ব্যয়ের এই উপমা। যেন আল্লাহ বলছেন — তুমি প্রাণ দিতে প্রস্তুত কিনা সেটা পরীক্ষা করার আগে, দেখি তুমি সম্পদ দিতে প্রস্তুত কিনা। কারণ যে সম্পদই দিতে পারে না, তাকে প্রাণ দেওয়ার কথা বলাটা অর্থহীন। বীজের উপমার গভীরতা: -------------------- --------- এখন বুঝুন এই উপমাটি কতটা সুচিন্তিত। বীজ রোপণ মানে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ। একজন কৃষক বীজ বুনলে সে জানে না বৃষ্টি হবে কিনা, পোকা ধরবে কিনা, অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডায় ফসল মরবে কিনা, পঙ্গপাল আসবে কিনা। সব অনিশ্চিত। তবু সে বীজ বোনে। আর ফসল না উঠলে সে উপোস করে — কারণ কৃষক প্রতি মৌসুমে একবার পারিশ্রমিক পায়, সাপ্তাহিক বা মাসিক নয়। কিন্তু এই উপমায় আল্লাহ নিশ্চয়তা দিচ্ছেন — এই ফসল নষ্ট হবে না। সাধারণ কৃষক ফসল তোলার দিন আনন্দ করে, তার আগে পর্যন্ত সব অনিশ্চয়তা। কিন্তু একজন ইমানদারের উৎসব শুরু হয় বীজ রোপণের মুহূর্তেই, কারণ আল্লাহ গ্যারান্টি দিয়েছেন। একটি বীজ থেকে সাতটি শীষ — এটি অস্বাভাবিক। সাধারণত একটি বীজ থেকে একটি বা বড়জোর দুটি কান্ড গজায়। সাতটি নয়। কুরআনে সাত সংখ্যাটি সাত আসমানের সাথে সম্পর্কিত। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে — এখানে অপার্থিব কিছু একটা ঘটছে, এটা এই পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে। উপমায় আল্লাহ পুরো খামার নয়, একটিমাত্র বীজের কথা বলেছেন। তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে যখন কেউ দশ হাজার দেয় আর আপনার কাছে আছে মাত্র বিশ টাকা, তখন মনে হয় আপনার দান নগণ্য। কিন্তু আল্লাহ সেই একটি বীজের দিকে তাকাচ্ছেন। সেই বিশ টাকা থেকেও সাতশো, তারপর আরও বহুগুণ। আর একটি বীজের পরিণতি কতটা বিশাল হতে পারে তা কল্পনাও করা কঠিন। ধরুন চারশো বছর আগে কোনো মুসলিম পর্যটক দক্ষিণ এশিয়ার কোনো প্রত্যন্ত গ্রামে থেকেছিলেন। সেখানকার এক অমুসলিম যুবকের সাথে খাবার খেয়েছেন, নম্রভাবে আল্লাহর কথা বলেছেন, ব্যবসায়িক সততা দেখিয়েছেন। সেই যুবক মুসলিম হয়ে গেল। তারপর আরও কয়েকজন। তারপর প্রজন্মের পর প্রজন্ম — তাদের বংশধরেরা বিশ্বজুড়ে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছে, হাজারো এতিম পালন করেছে, ইসলামী চিন্তাবিদ হয়েছে, এমন রাষ্ট্রনায়ক তৈরি হয়েছে যারা লক্ষ জীবন বাঁচিয়েছে। সেই পর্যটক মারা গেলেন এই না জেনে যে তিনি কী বিশাল বীজ বপন করে গেছেন। বিচার দিবসে তিনি আল্লাহর সামনে সেই একটি ছোট মুহূর্ত নিয়ে আসবেন — আর আল্লাহ দেখাবেন তা থেকে কী বিশাল ফসল হয়েছে। এটাই "ওয়াল্লাহু ইউদাইফু লিমাই ইয়াশা" — আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। আর এই উপমার সাথে জীবন ও মৃত্যুর থিমের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। আপনি যে কাজটি করেছেন, সেটা আপনার কাছে মৃত — গত হয়ে গেছে, ভুলে গেছেন। কিন্তু সেই কাজটি আসলে একটি বীজের মতো বাড়ছে। ঠিক যেমন আপনি নিজে মৃত্যুর পর আবার জীবিত হবেন, আপনার আমলও জীবিত হয়ে ফিরে আসবে। "ফী সাবীলিল্লাহ" — আল্লাহর পথের প্রকৃত অর্থ: --------------------------------------- --------- আমরা এই বাক্যাংশটি প্রতিটি দাতব্য কাজে ব্যবহার করি। কিন্তু কুরআনে এর একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে। রাসূল (সা)-এর একটি নির্দিষ্ট মিশন ছিল। সেই মিশন ছিল — আল্লাহর বাণীকে সারা পৃথিবীতে পৌঁছে দেওয়া, এবং আল্লাহর ঘরকে সেই উদ্দেশ্যে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, যে উদ্দেশ্যে ইব্রাহিম (আ) এটি নির্মাণ করেছিলেন — যাতে সমগ্র মানবজাতি জানতে পারে আল্লাহ কে। মদিনায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, হিজরত, যুদ্ধ — এগুলো সেই মিশনের ধাপ, মিশন নয়। "ফী সাবীলিল্লাহ" মানে সেই মিশনে অংশগ্রহণ করা। তখনকার মুসলিমরা এটা বুঝতো। যুদ্ধের সম্মুখভাগে থাকুক বা ঘোড়ার জুতা বানাক বা শিশু দেখাশোনা করুক — সবাই জানতো তারা একটি বৃহত্তর মিশনের প্রতিটি ইট। আল্লাহ বলেছেন, তারা যেন সিমেন্টে গাঁথা প্রাচীর — প্রতিটি ইট তার অবস্থান জানে। সেই মিশনের মূলে ছিল আল্লাহর বাণী। মক্কায় কুরআন ছড়িয়ে পড়ছিল — অভিজাত থেকে দরিদ্র, সমাজের প্রতিটি স্তরে। এটাই কুরাইশদের এত ভয় দেখিয়েছিল যে তারা নিজেদের সবচেয়ে পবিত্র নিয়ম ভেঙে মক্কার মাটিতেই মানুষ হত্যায় প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। আজকের মুসলিমদের জন্য শিক্ষা: -------------------------- আমরা মসজিদ বানাই, স্কুল প্রতিষ্ঠা করি, সংকটকালীন সাহায্য করি — এগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলোও ইবাদত। কিন্তু এর পাশাপাশি আমরা যা করছি না, তা হলো আল্লাহর বাণী প্রচারে বিনিয়োগ। অথচ পৃথিবীর বড় শক্তিগুলো বিলিয়ন ডলার খরচ করে তাদের বার্তা বারবার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। চলচ্চিত্র, মিডিয়া, শিক্ষাব্যবস্থা — সর্বত্র তারা তাদের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ তারা জানে, একটি বার্তা যদি বারবার মানুষের কাছে আসে, একসময় সেটাই তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে যায়। খ্রিস্টানরা গির্জা বানানোর চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করে ধর্মপ্রচারে। তারা তাদের বার্তায় বিশ্বাস করে, তাই ছড়িয়ে দেয়। আমরা যে ধর্মে বিশ্বাস করি তার বাণী তো আরও শক্তিশালী। কিন্তু সেই বাণী কি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও পৌঁছাচ্ছে? মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া সন্তান যদি সূরা বাকারায় কী আছে না জানে, যদি নামাজে যা পড়ে তার অর্থ না জানে, তাহলে অমুসলিমদের কাছে এই বাণী পৌঁছাবে কীভাবে? দাওয়াতের ফলাফল না দেখে হতাশ হওয়া উচিত নয়। নূহ (আ) ৯৫০ বছর দাওয়াত দিয়েছেন। রাসূল (সা) মক্কায় তেরো বছর দিয়েছেন, অবস্থা ভালো হওয়ার বদলে আরও খারাপ হয়েছে। কিন্তু তাঁরা থামেননি। কারণ কাজ হলো বীজ বপন করা — কখন অঙ্কুরিত হবে, কতটা বড় হবে, সেটা আল্লাহর দায়িত্ব। আপনি এখন একটি বীজ রোপণ করতে পারেন যা পঞ্চাশ বছর পর অঙ্কুরিত হবে। অথবা দুইশো বছর পর। আপনি জানবেন না। কিন্তু বিচার দিবসে আল্লাহ সেটা দেখাবেন। সেই একটি বীজ থেকে কী বিশাল গাছ হয়েছে, কত মানুষের জীবন বদলেছে — সেটা তখনই জানা যাবে। উপসংহার: --------- আমাদের সব প্রতিষ্ঠান, সব উদ্যোগ — এগুলো প্রতিযোগী নয়, সহযোগী। এজেন্ডা যদি এক হয়, তাহলে প্রতিযোগিতার কোনো অর্থ নেই। আল্লাহ কাফেরদের সম্পর্কে বলেছেন, তারা একে অপরের ওয়ালী — সংকটে পরস্পরের পাশে দাঁড়ায়। আমাদের তো আরও বেশি একে অপরের ওয়ালী হওয়া উচিত, কারণ আমরা একই দ্বীনকে ভালোবাসি। আমরা জানি না আমাদের কোন আমলকে আল্লাহ বিশেষভাবে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন। হয়তো এমন কোনো কাজ, যেটাকে আমরা নগণ্য মনে করেছিলাম, সেটাই আল্লাহর কাছে বিশেষ। তাই প্রতিটি বীজ রোপণ করুন — সৎ নিয়তে, নিষ্ঠার সাথে। বাকিটা আল্লাহর উপর। ওয়াল্লাহু ইউদাইফু লিমাই ইয়াশা — আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বাড়িয়ে দেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন