পোস্টগুলি

নভেম্বর, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে মহানবী (সা.) যে ৩ শর্ত বলেছেন

  বিয়ে মানবজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী একটি সিদ্ধান্ত। একটি সঠিক সিদ্ধান্ত যেমন জীবনকে বেহেশতি শান্তিতে ভরিয়ে দিতে পারে, তেমনি একটি ভুল নির্বাচন পুরো জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।  বর্তমান সমাজে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাহ্যিক সৌন্দর্য, অর্থসম্পদ বা সামাজিক প্রতিপত্তিকেই মূল মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ইসলামে একটি টেকসই ও প্রশান্তিময় দাম্পত্য জীবনের জন্য মহানবী (সা.) সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বাস্তবমুখী কিছু মাপকাঠি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ১. ধর্মীয় মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নবীজির সবচেয়ে বড় এবং প্রথম শর্ত হলো তার ধার্মিকতা। রূপ, সম্পদ বা বংশমর্যাদা মানুষের সাময়িক অহংকারের বস্তু হতে পারে, কিন্তু এগুলো কখনোই দাম্পত্য জীবনে স্থায়ী শান্তি দিতে পারে না।মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘চারটি বিষয় দেখে কোনো নারীকে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার ধার্মিকতা। সুতরাং তুমি ধার্মিক নারীকে লাভ করে বিজয়ী হও, (অন্যথায়) তোমার হাত ধুলোমলিন হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৯০) অর্থাৎ, অন্যান্য গুণাবলি থাকলেও ধার্মিকতা না থাকলে সেই ব...

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল নিউজ: মুমিনের ৬ করণীয়

  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কন্টেন্ট (আধেয়) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের চিন্তা-চেতনা ও কাজকর্মে প্রভাব ফেলছে—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। ভাইরাল কোনো সংবাদ, ছবি বা ভিডিও এবং তা নিয়ে বিতর্ক এখন নিত্যদিনের ঘটনা। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া কোনো কন্টেন্টের প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, একজন মুমিনের জন্য তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়। ভার্চুয়াল মাধ্যমে মিথ্যার পরিণতি  এ যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু শেয়ার করা মানে অন্যের কথা প্রচার করা। স্ট্যাটাস দেওয়া মানে জনসমক্ষে নিজের মত জানানো। কারও পোস্ট বা ছবিতে মন্তব্য করা আর বাস্তবে কারও সম্পর্কে মন্তব্য করা একই কথা। ফলে কথা বলা, দেখা ও প্রচার করা নিয়ে কোরআন-হাদিসে যে নির্দেশনা আছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রেও তা-ই প্রযোজ্য। বরং বাস্তব জীবনের মিথ্যার চেয়ে অনলাইনে এই জগতের মিথ্যা বেশি ক্ষতিকর। কারণ তা অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং দীর্ঘদিন থেকে যায়। মহানবী (সা.) স্বপ্নে এক ব্যক্তির শাস্তি দেখেছিলেন, যার মিথ্যা মানুষ বহন করে নিয়ে যেত এবং তা দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ত। কেয়ামত পর্যন্ত তাকে এই শাস্তি দেওয়া হবে। (সহিহ বুখ...

ইসলামি আইনে ঘুষ খাওয়ার শাস্তি কী

  ঘুষ শুধু একটি অনৈতিক কাজ বা সামাজিক অপরাধই নয়, এটি ইসলামের দৃষ্টিতে মহাপাপ। অনেকেই জানতে চান, এই অপরাধের জন্য ইসলামি আইনে সুনির্দিষ্ট কোনো শাস্তি রয়েছে কি না। ইসলামি আইনের পরিভাষায় ঘুষ খাওয়ার সুনির্দিষ্ট শাস্তি এবং এর আইনি বিধান আলোচনা করা হলো। ঘুষের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি ইসলামে ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়কেই অভিশপ্ত বলা হয়েছে। মহানবী (সা.) কঠোর ভাষায় এই অপরাধের নিন্দা জানিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৮০) অপর একটি হাদিসে বলা হয়েছে, ‘ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ই দোজখে যাবে।’ (আল-মুজামুল আওসাত, তবারানি, হাদিস: ৩৮৯৯) অবৈধভাবে মানুষের সম্পদ গ্রাস করার নিন্দা জানিয়ে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ কোরো না...।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮) ঘুষ কী ধরনের অপরাধের অন্তর্ভুক্ত ইসলামি দণ্ডবিধির পরিভাষায় ঘুষ এমন একটি অপরাধ, যার জন্য কোরআন বা হাদিসে কোনো নির্দিষ্ট বা অপরিবর্তনযোগ্য শাস্তির (যেমন—চুরির জন্য হাত কাটা বা ব্যভিচারের জন্য চাবুক) পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। তাই ঘুষ খাওয়া ‘হদ’ অপরাধের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি ‘তাজির’ বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ...

কুকুর পোষা পাপ আর বিড়াল পোষা কি সুন্নত

  প্রাণী পালন নিয়ে একটি কথা খুব প্রচলিত—‘কুকুর পোষা পাপ, আর বিড়াল পোষা সুন্নত’। সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা এতটাই বদ্ধমূল যে অনেকেই কুকুরকে ঘৃণার চোখে দেখেন, আবার বিড়ালকে পরম আদরে ঘরে স্থান দেন। ইসলাম মূলত সব সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার ধর্ম। প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট কিছু ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা রয়েছে। প্রচলিত এই কথার ভিত্তি এবং কুকুর ও বিড়াল পালনের প্রকৃত ইসলামি বিধান কী, তা বিশ্লেষণ করা হলো। শখ করে কুকুর পোষার বিধান বিনা প্রয়োজনে শুধু শখ করে বা আভিজাত্য প্রকাশ করতে ঘরের ভেতর কুকুর পোষা ইসলামে নিষিদ্ধ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে কুকুর বা প্রাণী ও মানুষের ছবি থাকে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২২৫) হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদিপশু পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পোষে, তার আমল থেকে প্রতিদিন দুই ‘কিরাত’ পরিমাণ পুণ্য কমে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৭৫) মূলত কুকুরের লালা অপবিত্র এবং এর থেকে বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকির কারণে ইসলাম একে মানুষের বাসস্থানে রাখতে নিরুৎসাহিত করেছে। প্রয়োজনে কুকুর পোষা কি পাপ কুকুর পোষা মানেই প...

বিসমিল্লাহর বরকত: হাদিসের ৪ ঘটনা

  দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে বিসমিল্লাহ বলার শিক্ষা দিয়েছেন রাসুল (সা.)। হাদিসে এর বরকত ও উপকারিতা বোঝাতে কয়েকটি ঘটনাও বর্ণিত হয়েছে। এসব ঘটনা আমাদের শেখায়, আল্লাহ–তাআলার নাম স্মরণ করে কাজ শুরু করা মুমিনের জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘটনা চারটি হলো— শয়তানও তার সঙ্গে খাবার খাচ্ছিল। যখন সে আল্লাহ–তাআলার নাম স্মরণ করল, শয়তান তার পেটের ভেতরে যা ছিল, সব বমি করে বের করে দিয়েছে। ১. বিসমিল্লাহ বলার পর শয়তানের বমি এক ব্যক্তি খাবার খাচ্ছিলেন। খাবারের শুরুতে তিনি বিসমিল্লাহ বলেননি। খাবারের শেষ লোকমা মুখে দেওয়ার সময় বললেন, ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু।’ অর্থ: ‘খাবারের শুরু ও শেষ আল্লাহর নামে।’ এ দোয়া শুনে রাসুল (সা.) হেসে উঠলেন। এরপর বললেন, শয়তানও তার সঙ্গে খাবার খাচ্ছিল। যখন সে আল্লাহ–তাআলার নাম স্মরণ করল, শয়তান তার পেটের ভেতরে যা ছিল, সব বমি করে বের করে দিয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৭৬৮) খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার আমল সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসুল (সা.) ওমর ইবনে আবু সালামা (রা.)–কে বলেছিলেন, ‘হে বৎস! আল্লাহর নাম নাও, ডান হাতে খাও এবং তোমার সামনে থেকে খাও।’ (সহ...

রোগের সংক্রমণে মৃত্যু হলে দায় কার, ইসলামি আইনে শাস্তি কী

  একজন ব্যক্তি জানতেন যে তিনি একটি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত। তা সত্ত্বেও তিনি সাধারণ দিনের মতো কর্মস্থলে গেলেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা করলেন। কয়েক দিন পর তাঁর এক সহকর্মী একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন। প্রশ্ন হলো, এই মৃত্যুর দায় কি ওই অসচেতন ব্যক্তির ওপর বর্তাবে? ইসলামের দৃষ্টিতে একে কি ‘অপরাধমূলক অবহেলাজনিত মৃত্যু’ বা ‘ভুলবশত হত্যা’ বলা যাবে? নাকি শুধুই একটি দুর্ঘটনামূলক ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব? সবচেয়ে বড় কথা, সংক্রামিত ব্যক্তি থেকেই যে ভাইরাসের উৎপত্তি এবং তার ফলেই যে মৃত্যু ঘটেছে, তা আদালতে শতভাগ নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করার উপায় কী? প্রথম দৃষ্টিতে ঘটনাটিকে একটি সাধারণ অপরাধমূলক কাঠামোর মতো মনে হলেও, স্রেফ সন্দেহ থেকে অপরাধ প্রমাণের আইনি চত্বরে পৌঁছানোর পথটি জটিল। কারণ সংক্রামক ব্যাধি কোনো উপসর্গহীন ব্যক্তির থেকেও ছড়াতে পারে, আক্রান্ত ব্যক্তির একাধিক উৎস থেকে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকে, আবার পুরোপুরি সতর্ক থাকার পরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর কারণে আইনি বা ইসলামি দায় নির্ধারণ করতে হলে চিকিৎসাবিজ্ঞান, ইসলামি ফিকহ এবং বিচার বিভাগীয় প্র...

কোরআন থেকে রোগ নিরাময়ের সূত্র

  জীবন ও জগতের প্রতিটি বাঁকে মানুষ রোগ-ব্যাধি, দুঃখ-কষ্ট বা নানাবিধ আধ্যাত্মিক সংকটের সম্মুখীন হয়। এই সংকট থেকে উত্তরণে ইসলাম কেবল পার্থিব চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেয়নি; বরং আধ্যাত্মিক ও ঐশ্বরিক আরোগ্যের এক অনন্য পদ্ধতি শিখিয়েছে, যাকে বলা হয় ‘রুক্ইয়া’। এটি মূলত মহান আল্লাহর কালাম এবং তাঁর শিখিয়ে দেওয়া দোয়ার মাধ্যমে আরোগ্য ও নিরাপত্তা লাভের এক বৈধ মাধ্যম। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও গবেষক আলি সাল্লাবি লিখেছেন, রুক্‌ইয়া হলো মুমিনের জন্য এক শক্তিশালী ঢাল, যা তাঁকে জাদুটোনা, বদনজর এবং নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি থেকে সুরক্ষা দান করে। (আলি সাল্লাবি, আল-ইমান বিল্লাহ , ১/১৭২, মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ, বৈরুত, ২০১০) রুক্‌ইয়া কী আভিধানিক অর্থে ‘রুক্‌ইয়া’ শব্দের অর্থ হলো ঝাড়ফুঁক করা বা মন্ত্রপুত করা। পরিভাষায়, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য দ্বারা কোনো রোগের চিকিৎসা বা অমঙ্গল থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করাকেই রুক্‌ইয়া বলা হয়। ইমাম ইবনুল আসিরের মতে, রুক্‌ইয়া হলো সেই আশ্রয় প্রার্থনা বা সুরক্ষা কবচ, যার মাধ্যমে জ্বরাক্রান্ত, মৃগীরোগী বা অন্যান্য বিপদগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা করা হয়। (ইবনুল আসির,...

ইসলামে ব্যয়ে ভারসাম্য ও মিতব্যয়িতার গুরুত্ব

  ইসলাম মানবজীবনের সব ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ বিধান দিয়েছে। শক্তি-সামর্থ্য, অর্থ-সম্পদ ও সময়-সুযোগ; যা কিছু আমরা ব্যয় করি, বিনিয়োগ করি বা কাজে লাগাই, সেসব ক্ষেত্রেই মিতব্যয়িতা ও মধ্যপন্থা অবলম্বন দুনিয়ার শান্তি ও পরকালে মুক্তির জন্য অপরিহার্য। কোনো কিছুতেই বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন অনুমোদিত নয়।  মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়িতা মুমিনের গুণ। মুসলিমরা কৃপণতা ও অপব্যয় থেকে মুক্ত থাকবেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আত্মীয়স্বজনকে তার হক দিয়ে দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। আর কিছুতেই অপব্যয় কোরো না। নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। তুমি একেবারে ব্যয়কুণ্ঠ হয়ো না এবং একেবারে মুক্তহস্তও হয়ো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে।’ (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ২৬-২৯) আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘এমনিভাবে আমি তোমাদের মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠা করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষ্যদাতা হতে পারো।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৪৩) অপচয়ের বিষয়ে আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তোমরা পানাহার করো; কিন্তু অপচয় কোরো না। তিনি (আল্লাহ) অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা-৭ আরাফ, আয়াত: ৩১) যে ব্যক্তি অর্থ ব্যয়ে পরিমিতিবোধের চর্চা করবেন, ...

ঘরে বসে ইসলাম শিক্ষা: কী পড়বেন, কীভাবে পড়বেন

  প্রাতিষ্ঠানিক মাদ্রাসায় গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা করার সুযোগ সবার থাকে না। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে একজন মানুষ চাইলেই ঘরে বসে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রামাণ্য গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে গভীর ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন না। নিজের ধর্ম ও জীবন পরিচালনার জন্য যতটুকু জ্ঞান অর্জন করা ওয়াজিব, সঠিক পদ্ধতিতে চেষ্টা করলে তা ঘরে বসেই অর্জন করা অসম্ভব নয়। তবে একটা নির্ভরযোগ্য, দক্ষ ও খোদাভীরু আলেমের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে হবে। ঘরে বসে ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের জন্য একটি রূপরেখা তুলে ধরা হলো। প্রথম ধাপ: সহিহ-শুদ্ধ কোরআন পাঠ ঘরে বসে কোরআন শিক্ষার যাত্রাটি শুধু পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর মর্মার্থ অনুধাবনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। কী পড়বেন: তেলাওয়াত ও তাজবিদ: শুরুতেই কায়দা বা তাজবিদের কোনো নির্ভরযোগ্য বই নিয়ে কোনো দক্ষ কারির সহায়তায় বা অডিও-ভিডিও অ্যাপের মাধ্যমে হরফের মাখরাজ ও সিফাত ঠিক করে নিতে হবে। অনুবাদ: পড়ার জন্য প্রামাণ্য ও সহজবোধ্য অনুবাদ নির্বাচন করতে হবে। তাফসির: কোরআনের আয়াতের প্রেক্ষাপট বুঝতে সংক্ষিপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তাফসির পড়া যেতে পারে। আধুনিক যুগের সহজবোধ্য কোনো তাফসির গ্রন্থ। নামাজ ও...

গায়ে পা লাগলে ‘সালাম’ করা: প্রথা নাকি বিধান

  একটি বহুল প্রচলিত দৃশ্য হলো—চলাফেরার সময় অসাবধানতাবশত কারও গায়ে বা পায়ে পা লেগে গেলে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে নিজের হাত বুকে বা কপালে ঠেকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন; যাকে ‘সালাম’ বা ‘সেলাম’ বলা হয়। অনেকে আবার যার গায়ে পা লেগেছে, তাঁর শরীর ছুঁয়ে নিজের হাতে চুমু খান। লোকসমাজে এটিকে শিষ্টাচারের অন্যতম অংশ মনে করা হলেও, ইসলামে কি গায়ে পা লাগলে সালাম করার বা এ ধরনের শারীরিক ভঙ্গি করার কোনো বিধান রয়েছে? বিশ্লেষণ করা হলো। ইসলামে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান ইসলামে বড়দের সম্মান করা ও ছোটদের স্নেহ করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মহানবী (সা.) বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান ও অধিকার চেনে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯১৯) তাই কারও গায়ে পা লাগলে লজ্জিত হওয়া বা বিনয় প্রকাশ করা মূলত ইসলামি শিষ্টাচার ও সুন্দর চরিত্রের আলামত। তবে এই সম্মান প্রদর্শনের রূপরেখা কেমন হবে, তা জানা জরুরি। সালামের প্রকৃত উদ্দেশ্য ইসলামে ‘সালাম’ (আসসালামু আলাইকুম) শুধু একটি শব্দ নয়, বরং এটি একটি পবিত্র দোয়া ও অভিবাদন, ...