পোস্টগুলি

মানব জীবনে দোয়ার প্রভাব

ছবি
মানব জীবনে দোয়ার প্রভাব শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী *********************************************** প্রতিটি বৈধ কাজের জন্য সুন্নত দোয়া রয়েছে। সেগুলো পড়ে ওই কাজগুলো করলে কাজে যেমন বরকত ও সফলতা আসে, তেমনি সওয়াবও লাভ হয়। আল্লাহ তাআলার কাছে কোনো কিছু একাগ্রতার সঙ্গে চাইলে তা কবুল হয়ে থাকে। নিজের জন্য দোয়া নিজেই করা উত্তম। নফল নামাজ পড়ে, কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করে, দান-সদকা-খয়রাত অথবা কোনো নেক আমল করে ইখলাসের সঙ্গে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করলে তা ব্যর্থ হয় না। কোরআন মজিদে পূর্ববর্তী অনেক নবী-রাসুলের জীবনকথা বর্ণিত হয়েছে, প্রসঙ্গক্রমে জীবনের নানা ঘটনায় নানা সংকটে তাঁদের দোয়া ও মোনাজাতের বিশেষ বর্ণনা উল্লিখিত হয়েছে। মানুষের বিপদ-আপদ ও বিভিন্ন সমস্যায় আল্লাহ পাকের সাহায্য কামনা করতে আল্লাহ পাক নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন। ‘আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই সাহায্য চাই’ কথাটি কোরআন কারিমে সূরা ফাতিহার চতুর্থ আয়াতের মাধ্যমে তিনিই আমাদের শিখিয়েছেন। রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দোয়া ইবাদতের মগজ। তিনি আরও বলেছেন, দোয়াই ইবাদত। (বুখারি ও মুসলিম)। হজরত আবু হ...

ইসলামে পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা

ছবি
ইসলামে পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা ***************************************************************** শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী ****************************** মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষকে তাঁর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, বিশেষ উপলক্ষে তাকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। তারও আগে পৃথিবীকে মানব বসবাসের উপযোগী করে তৈরি করেছেন। মানব জাতির সব চাহিদা পূরণের যাবতীয় আয়োজন করে তিনি যে উপযুক্ত প্রতিবেশ সাজিয়েছেন, তা হলো আমাদের প্রকৃতি। পরিবেশ বলতে আমরা বুঝি আমাদের চারপাশের অবস্থা। এই পরিমণ্ডলে রয়েছে গাছপালা, নদ-নদী, ফুল-ফল, পশু-পাখিসহ নানান আয়োজন। এগুলো নৈসর্গিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ। এ ছাড়া মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে খোদার দান প্রকৃতির মধ্যে যে ইতিবাচক কল্যাণকর পরিবর্তন সৃষ্টি করে, তা হলো সামাজিক পরিবেশ। যেমন: রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, কলকারখানা ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে, সামাজিক পরিবেশ বিনির্মাণে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যা প্রকৃতিতে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। সে হিসেবে মানুষের চলাফেরা, আচার-ব্যবহার, আখলাক-চরিত্র, রুচিবোধ, মননশীলতা—সবকিছু শ...

ইসলাম ও আত্মিক উন্নতি

ছবি
ইসলাম ও আত্মিক উন্নতি ****************************************** শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী ****************************** মানুষ আত্মার নাম; দেহ তার বাহন। ব্যক্তি হলো গুণাবলিসহ সত্তার নাম। তাই আত্মিক উন্নতি ব্যতীত মানুষ অন্য প্রাণীর তুল্য। আত্মিক বা আধ্যাত্মিক মানে হলো আত্মসম্পর্কিত, আত্মার সঙ্গে যোগ আছে যার। উন্নতি তথা ইতিবাচক পরিবর্তন বা মনোজাগতিক ইতিবাচক পরিবর্তন। আচরণে (কর্মে) অভীষ্ট ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নয়ন সাধনের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তথ্য প্রদান বা জ্ঞান দান করাকে শিক্ষা বলে। খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর এক প্রশ্নের জবাবে হজরত উবায় ইবনে কাআব (রা.) বলেন, ‘ইলম হলো তিনটি বিষয়—আয়াতে মুহকামাহ (কোরআন), প্রতিষ্ঠিত সুন্নত (হাদিস) ও ন্যায় বিধান (ফিকহ)।’ (তিরমিজি)। ন্যায় হলো যা ন্যায্য, যার যা পাওনা বা অধিকার, তা প্রতিষ্ঠা করা ও আদায় তথা প্রদান করা। আমরা শিক্ষিত কাকে বলি? হজরত উমর (রা.)-এর এ প্রশ্নের উত্তরে হজরত উবায় ইবনে কাআব (রা.) বলেন, ‘(শিক্ষিত তিনি) যিনি শিক্ষানুযায়ী কর্ম করেন (অর্থাৎ শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষাও থাকে)।’ (সহিহ তিরমিজি ও সুনানে আবু দাউদ)। আত্মিক উন্নতির জন্য প্রয়োজ...

শিরকের পরই বড় অপরাধ মানব হত্যা

ছবি
শিরকের পরই বড় অপরাধ মানব হত্যা ***************************************************************** শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী ***************************** মানব ইতিহাসে প্রথম সংঘটিত অপরাধ হলো মানব হত্যা। এটি শিরকের পরেই ‘কবিরা গোনাহ’ বা সবচেয়ে বড় অপরাধ। আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-এর দ্বিতীয় পুত্র কাবিল প্রথম আপন বড় ভাই হজরত হাবিল (র.)-কে অন্যায়ভাবে হত্যা করে। এ প্রসঙ্গটি কোরআন মজিদে এভাবে এসেছে—‘আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত তুমি তাহাদিগকে যথাযথভাবে শোনাও। যখন তারা উভয়ে কোরবানি করেছিল, তখন একজনের কোরবানি কবুল হলো এবং অন্যজনের কবুল হলো না। সে বলল, “আমি তোমাকে হত্যা করবই।” অপরজন বলল, “অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকিদের কোরবানি কবুল করেন। আমাকে হত্যা করার জন্য তুমি হাত তুললেও তোমাকে হত্যা করার জন্য আমি হাত তুলব না। আমি তো জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি। তুমি আমার ও তোমার পাপের ভার বহন করো এবং অগ্নিবাসী হও, ইহাই আমি চাই এবং ইহা জালিমদের কর্মফল।” অতঃপর তার চিত্ত ভ্রাতৃহত্যায় তাকে উত্তেজিত করল। ফলে সে তাকে হত্যা করল; তাই সে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হলো। অতঃপর আল্লাহ এক কাক পাঠালেন,...

বিভিন্ন নফল নামাজের পরিচয় ও ফজিলত

ছবি
বিভিন্ন নফল নামাজের পরিচয় ও ফজিলত ************************************************************************ শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী ***************************** নফল  নামাজের পরিচয় ও প্রকারভেদ দৈনিক পাঁচ ওয়াক্তে সতেরো রাকাত ফরজ নামাজ, তিন রাকাত ওয়াজিব বিতির নামাজ, চার ওয়াক্তে বারো রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজ, দুই ওয়াক্তে আট রাকাত সুন্নতে জায়েদা নামাজ ছাড়া অন্যান্য নামাজ হলো নফল নামাজ। নফল নামাজের মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত হলো নির্ধারিত নফল নামাজ; যথা: তাহাজ্জুদ নামাজ, ইশরাক নামাজ, চাশত নামাজ, জাওয়াল নামাজ, আউওয়াবিন নামাজ। এ ছাড়া রয়েছে আরও কিছু অনির্ধারিত নফল নামাজ। ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ ছাড়া বাকি সব নামাজকেই নফল নামাজ বলা হয়। (কিতাবুস সালাত)। নফল  নামাজের নিষিদ্ধ সময় সূর্যোদয়ের সময় সব নামাজ নিষিদ্ধ, সূর্য মাথার ওপর স্থির থাকা অবস্থায় নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমি, সূর্যাস্তের সময় চলমান আসর ব্যতীত অন্য কোনো নামাজ বৈধ নয়। এ ছাড়া ফজর নামাজের ওয়াক্ত হলে তখন থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসর ওয়াক্তে ফরজ নামাজ পড়া হলে তখন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো ধরনের নফল নামাজ পড়া নিষেধ। এই পাঁচ...

নারীদের হজ প্রস্তুতি

ছবি
নারীদের হজ প্রস্তুতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী ***************************** সাম্য, মৈত্রী ও মানবতার ধর্ম ইসলাম। প্রকৃতির ধর্ম ইসলাম। নারী-পুরুষ, শিশু–বালক, কিশোর–তরুণ, যুবা–প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ সবার জন্য ইসলামের বিধান প্রযোজ্য। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী করণীয় নির্দিষ্ট রয়েছে। মানবজাতির প্রায় অর্ধেক অংশ নারী। ইসলামি বিধানে নারীদের ইবাদতের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি ব্যর্থ করি না কোনো আমলকারীর কর্ম, হোক সে পুরুষ বা নারী।’ (সুরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৫)। পবিত্র কোরআনে আরও রয়েছে, ‘যে সৎকর্ম করবে সে পুরুষ বা নারী যদি সে বিশ্বাসী হয়, তবে আমি তাকে উত্তম জীবন দান করব।’ (সুরা-১৬ নাহল, আয়াত: ৯৭)। আল্লাহ তাআলা কোরআন কারিমে আরও বলেন, ‘আর যে সৎকর্ম করবে সে পুরুষ বা নারী যদি সে বিশ্বাসী হয়, তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সুরা-৪০ মুমিন, আয়াত: ৪০)। নারী ও পুরুষ উভয়ে সৃষ্টিতে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তাদের আমল ও বিধানেও রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য। প্রতিটি কাজ সুনিপুণ ও সুচারুরূপে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন পূর্বপ্রস্তুতি। সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য হজ জীবনে একবার ...

দাওয়াত, তাবলিগ ও বিশ্ব ইজতেমা

ছবি
দাওয়াত, তাবলিগ ও বিশ্ব ইজতেমা ********************************************************** শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী ***************************** দাওয়াত মানে আহ্বান, তাবলিগ অর্থ পৌঁছানো। ইসলামের অনুপম আদর্শের প্রতি মানুষকে ডাকাই হলো দাওয়াত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ডাকো তোমাদের রবের পথে, হিকমত (প্রজ্ঞা ও কৌশল) এবং সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে।’ (সুরা: ১৬ নাহল, আয়াত: ১২৫)। ইতাসলামের সহজ, সরল ও যৌক্তিক বিষয়গুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই হলো বলিগ। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত (বাণী) হলেও পৌঁছে দাও।’ (মুসলিম)। বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সা.)–এর সর্বশেষ কথা ছিল, ‘তোমরা যারা উপস্থিত রয়েছ তারা অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দাও।’ (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে কাসির)। দাওয়াত তাবলিগের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো সৎকাজে আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দিবে, অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহকে বিশ্বাস করবে।’ (সুরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত: ১১০)। তাই...