পোস্টগুলি

লাইলাতুল কদর: ভেজা চোখে মোনাজাতে কাটুক রাত

ছবি
লাইলাতুল কদর: ভেজা চোখে মোনাজাতে কাটুক রাত তানজিল আমির রমজানের ২৭তম রাত শবেকদরের অন্যতম সম্ভাব্য ক্ষণ। যদিও লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোনও তারিখ নেই। তবে রাসুলুল্লাহর (সা.) বিভিন্ন হাদিস থেকে এ রাতটির মর্যাদার কথা বোঝা যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা শবেকদরকে রমজানের ৯ রাত বাকি থাকতে অথবা সাত রাত বাকি থাকতে অথবা পাঁচ রাত বাকি থাকতে অথবা তিন রাত বাকি থাকতে অথবা রমজানের শেষ রাতে (অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ রমজানের রাতে) তালাশ করবে। (তিরমিজি)। ২১ রমজান থেকে নিয়ে ২৯ রমজান পর্যন্ত বেজোড় যে কোন রাতেই শবে কদর হতে পারে। শবেকদরের সম্ভাব্য রাতগুলোর মধ্যে আর মাত্র দু’টি রাত আমাদের হাতে রয়েছে। আজ রমজানের ২৭তম রাতে হাজার বছরের চেয়ে দামি সৌভাগ্যের সময়টুকু অর্জনে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। আল্লাহতায়ালা শবেকদরকে এত মর্যাদাবান করেছেন যে, এর সঠিক মূল্যায়ন মানুষের বোধ-বুদ্ধির বাইরে। আল্লাহ নিজেই এ বিষয়ে রাসুলকে (সা.) জিজ্ঞেস করছেন,‘আপনি কি জানেন, লাইলাতুল কদর কী?’ আল্লাহতায়ালা কোরআন নাযিলের মাধ্যমে এ রাতে মানবজাতিকে এক অভাবনীয় উপহার দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সে ঘোষণা দিয়েছেন এভাব...

সিয়ামের আয়নায় দেখি কতটা পরিশুদ্ধ হয়েছি

ছবি
সিয়ামের আয়নায় দেখি কতটা পরিশুদ্ধ হয়েছি তোফায়েল গাজালি হে সায়েম! আত্মার চোখ মেলে তাকান। সিয়ামের আয়নার সামনে দাঁড়ান। নিজের চেহারা দেখুন। জিজ্ঞেস করুন নিজেকে- আপনি কতটা সংযমী হতে পেরেছেন। হতে পেরেছেন কতটা দানশীল। সহনশীলতার চাদর কতটা জড়াতে পেরেছেন নিজের গায়ে। আপনার অন্তর আত্মা আল্লাহর ভয়ে এখন কি কেঁপে ওঠে প্রায়? আপনি যদি এখনও আল্লাহকে ভয় না পান তা হলে আপনার জন্যই আল্লাহর রাসূলের সেই হাদিসখানি যথার্থ- ‘অনেক রোজাদার আছেন যাদের ভাগ্যে ক্ষুৎপিপাসা ছাড়া আর কিছুই জোটে না, অনেকে সারা রাত যাপন করেন; কিন্তু তা রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কিছুই হয় না।’ (মুসলিম)। আর আপনি যদি তাকওয়া অর্জন করে থাকেন। হয়ে থাকেন মুত্তাকি। তাহলে শুনে রাখুন মাবুদের খোশ খবরি- ‘রোজা আমার জন্য আর রোজার বিনিময় আমি নিজেই’। (বোখারি শরিফ) আজ মাহে রমজানুল মোবারকের সাতাইশ তারিখ। আর মাত্র দু-তিন দিন পর রমজান বিদায় নেবে। কিন্তু সিয়াম সাধনা শেষ হবে না রমজানের পরও। বরং রমজানের পর থেকে শুরু হবে আরও দীর্ঘকালীন সিয়াম। বলা যেতে পারে শাওয়ালের প্রথম তারিখ থেকে দিনব্যাপী নয়, সাবর্ক্ষণিক সিয়াম শুরু হবে। রমজান মাসে প্রতিদিন সুবহে সা...

শবেকদরে রাসুল (সা.) যে দোয়া পড়তে বলেছেন

ছবি
শবেকদরে রাসুল (সা.) যে দোয়া পড়তে বলেছেন রমজানের ২৭তম রাত সাধারণভাবে লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত হিসেবে পরিচিত। লাইলাতুল কদর অর্থ সম্মানের রাত। ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ রাতটি কাটিয়ে থাকেন। শবেবরাত বা শবেকদরে অনেকে এ রাতের আমল নিয়ে সন্দিহান থাকেন। বাজারে প্রচলিত মানহীন বিভিন্ন বইয়ে শবেকদরের আমল নামে অনেক আমল প্রচলিত রয়েছে। এসব বইয়ে বিভিন্ন নামাজ বা আমলের কথা লেখা রয়েছে। জানার কথা হল শবেকদরের নির্ধারিত কোনো আমল বা নামাজ কোরআন-হাদিসে বর্ণিত নেই। অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে এত রাকাত নামাজ আদায় করতে হবে, এমন আমল করতে হবে নির্দিষ্টভাবে এমন কোনো আমলের কথা উল্লেখ নেই। এ রাতের মূল আমল হল নিজের গুনাহখাতা আল্লাহ থেকে মাফ করিয়ে নেয়া। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি বলে দিন যদি আমি জানতে পারি যে, শবেকদর কোন রাতে হবে, তাতে আমি কী বলব? রাসুল (সা.) বললেন- তুমি বলবে,  ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আননি।’  (অর্থ) হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাস। অতএব, আমাকে ক্ষমা করো। (তিরমিজি)। দ...

যেসব সূরা পড়ে শেষ হবে খতমে তারাবি

ছবি
যেসব সূরা পড়ে শেষ হবে খতমে তারাবি আজ ২৭তম তারাবি। সূরা নাবা থেকে শুরু করে সূরা নাস পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ৩০তম পারা। আজকের তারাবির মাধ্যমেই শেষ হবে কাঙ্ক্ষিত খতম তারাবির। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের মূলবিষয়বস্তু তুলে ধরা হল। ৭৮. সূরা নাবা : ১-৪০ সূরা নাবা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৪০। রুকু সংখ্যা ২। প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ৪০ নম্বর আয়াত। কেয়ামতের বিষয় নিয়ে অবিশ্বাসীরা তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত, কিন্তু কেয়ামত হবেই। তখন সবাই সত্য জানতে পারবে। সেদিন অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব। আর বিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে চিরসুখের আবাস জান্নাত। সেদিন কাফেররা লজ্জা-ভয় ও অপমানে চাইবে মাটি যেন তাদেরকে গ্রাস করে নেয়- তারপরও যেন বিচারের সম্মুখীন হওয়া থেকে তারা বেচে যায়। ৭৯. সূরা নাজিআত : ১-৪৬ সূরা নাজিআত নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৪৬। রুকু সংখ্যা ২। প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ৪৬ নম্বর আয়াত। কেয়ামত নিয়ে যতই বিতর্ক হোক না কেন, খুব ভালো করে জেনে রাখো- কেয়ামত হবেই। সে দিন অনেক হৃদয় ভয়-বিহ্বল হয়ে থাকবে। মুসা ও ফেরাউনের ঘটনা এখানে ঈষৎ বিস...

আল্লাহর জিকিরে রোজাদারের প্রশান্তি

ছবি
আল্লাহর জিকিরে রোজাদারের প্রশান্তি ফেরদৌস ফয়সাল দেহকে সজীব ও প্রাণবন্ত রাখার জন্য যেমন খাবার বা আহারের প্রয়োজন, তেমনি কলব বা রুহকে জীবিত রাখার জন্যও খাবারের প্রয়োজন হয়; আর রুহ বা কলবের সেই খাবার হলো আল্লাহর জিকির করা। তাই আল্লাহর স্মরণ বা জিকিরের মাধ্যমে তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা প্রত্যেক রোজাদার মানুষের ইমানি দায়িত্ব। ইরশাদ হয়েছে, ‘সুতরাং তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫২)। একবার একজন সাহাবি আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাকে এমন একটা জিনিস শিক্ষা দিন, যার ওপর আমি রীতিমতো আমল করতে পারি।’ নবী করিম (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর জিকিরে তোমার জিহ্বা যেন সব সময় তরতাজা থাকে।’ হজরত আবু দারদা (রা.) বলেন, ‘যাদের জিহ্বা আল্লাহর জিকিরে তরতাজা থাকবে, তারা হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি জিনিসের মরিচা পরিষ্কার করার যন্ত্র আছে আর অন্তরের মরিচা পরিষ্কার করার যন্ত্র হলো আল্লাহর জিকির করা’ (বায়হাকি)। প্রকৃত জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে দাঁড়ানো বা বসা অবস...

কুরানের কিছু সুরার মূলবিষয়বস্তু

ছবি
কুরানের কিছু সুরার  মূলবিষয়বস্তু আল ফাতাহ মামুন পাটকদের প্রতি অনুরোধ সময় করে পুরো সুরা অবশ্যই পড়বেন ৬৭. সূরা মূলক : ১-৩০ এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৩০। রুকু সংখ্যা ২। প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ৩০ নম্বর আয়াত। আল্লাহর মহত্ব ও বড়ত্ব এবং জীবন-মরণ সৃষ্টির উদ্দেশ্য বলে সূরা শুরু করা হয়েছে। তারপর আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুন্যের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যারা এসব দেখেও অস্বীকার করে তাদের কঠোর হুশিয়ার করা হয়েছে। শেষের দিকে বড় একটা অংশ আল্লাহ তায়ালা তার সৃষ্টির বিভিন্ন উপাদানের উপমা দিয়ে মানুষকে ইমানের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। ৬৮. সূরা কলম : ১-৫২ এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৫০। রুকু সংখ্যা ২। প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ৫২ নম্বর আয়াত। সূরা শুরু হয়েছে রাসুলের (সা.) মহত্ব ও বড়ত্ব উল্লেখ করে। আল্লাহ তায়ালা নবীজী (সা.)কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নসিহত করে পাপীদের সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। কীভাবে পাপীদের পরীক্ষা করা হয়- একটি ঘটনার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। শেষের রুকুতে আল্লাহভিরু মোত্তাকিদের প্রতিদান কী তা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মোত্তাকির জীবনযাপনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ৬৯. ...

আয়কর দিলে জাকাত দিতে হবে কি?

ছবি
আয়কর দিলে জাকাত দিতে হবে কি? আহনাফ আবদুল কাদির জাকাত ইসলামী শরিয়তের একটি গুরুত্বপুর্ণ পরিভাষা। এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি। রাসুল (স.) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু করার এক বছর পর থেকেই দ্বিতীয় হিজরিতে জাকাত ব্যবস্থা চালু হয়েছে। অদ্যাবধি ধর্মপ্রাণ সামর্থ্যবান মুসলিম জনগোষ্ঠী নির্দিষ্ট হারে জাকাত দিয়ে আসছে। বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশেই রাষ্ট্রীয়ভাবে জাকাত উত্তোলনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে অনেক আধুনিক রাষ্ট্রেই জনগণ কর্তৃক সরকারকে আয়কর দিতে হয়। এর মধ্যে কেউ কেউ আবার আয়করকে জাকাতের বিকল্প হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। কারও কারও ধারণা বর্তমানে যেহেতু আয়কর দিতে হচ্ছে, তাই জাকাত দেয়া ততটা বাধ্যতামূলক নয়। অথচ প্রকৃতপক্ষে জাকাত ও আয়কর একই বিষয়বস্তু নয়। দুটির মধ্যে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। তাই আয়কর দিলে জাকাত দিতে হবে কিনা কিংবা আয়কর দিলে জাকাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে কিনা? এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আগে আমাদের জানতে হবে জাকাত ও আয়কর কি? জাকাত:  আরবি এই শব্দটির বাংলায় দুটি পরিভাষা রয়েছে। এর একটি হচ্ছে- বৃদ্ধি, অন্যটি পরিশুদ্ধকরণ। পরিভাষায়, ‘ধন-...