কুরানের কিছু সুরার মূলবিষয়বস্তু

কুরানের কিছু সুরার  মূলবিষয়বস্তু
আল ফাতাহ মামুন
পাটকদের প্রতি অনুরোধ সময় করে পুরো সুরা অবশ্যই পড়বেন

৬৭. সূরা মূলক : ১-৩০

এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৩০। রুকু সংখ্যা ২।
প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ৩০ নম্বর আয়াত। আল্লাহর মহত্ব ও বড়ত্ব এবং জীবন-মরণ সৃষ্টির উদ্দেশ্য বলে সূরা শুরু করা হয়েছে। তারপর আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুন্যের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যারা এসব দেখেও অস্বীকার করে তাদের কঠোর হুশিয়ার করা হয়েছে। শেষের দিকে বড় একটা অংশ আল্লাহ তায়ালা তার সৃষ্টির বিভিন্ন উপাদানের উপমা দিয়ে মানুষকে ইমানের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন।
৬৮. সূরা কলম : ১-৫২
এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৫০। রুকু সংখ্যা ২।
প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ৫২ নম্বর আয়াত। সূরা শুরু হয়েছে রাসুলের (সা.) মহত্ব ও বড়ত্ব উল্লেখ করে। আল্লাহ তায়ালা নবীজী (সা.)কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নসিহত করে পাপীদের সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। কীভাবে পাপীদের পরীক্ষা করা হয়- একটি ঘটনার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।
শেষের রুকুতে আল্লাহভিরু মোত্তাকিদের প্রতিদান কী তা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মোত্তাকির জীবনযাপনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
৬৯. সূরা হাক্কাহ : ১-৫২
এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৫০। রুকু সংখ্যা ২।
প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ৫২ নম্বর আয়াত। সূরার শুরুতে কেয়ামাতের ইঙ্গিত দিয়ে পূর্ববর্তী পাপী সম্প্রদায়ের হঠকারতিা ও ধ্বংসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে পাপীদের জন্য কেয়ামত ও পরকালীন জীবন কত ভয়াবহ। আর যারা আল্লাহ বিশ্বাসী তাদের নেই কোন ভয় ও চিন্তা। শেষের দিকে কোরআনের মাহাত্ব্য ও মর্যাদা বলে সূরা শেষ করা হয়েছে।
৭০. সূরা মা’আরিজ : ১-৪৪
এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৪৪। রুকু সংখ্যা ২।
প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ৪৪ নম্বর আয়াত। কেয়ামতের দিন কী হবে? কেমন হবে- এ বর্ণনা দিয়ে সূরা শুরু হয়েছে। কেয়ামতের ভয়াবহতা থেকে শুধুমাত্র আল্লাহভিরুরাই নাজাত পাবে এ কথাও বলা হয়েছে। শেষের রুকুতে বলা হয়েছ সত্য অস্বীকারকারীদের অবস্থা। আর নবীজী (সা.) ও মোমিনদের উদ্দেশ্যে সংক্ষেপে নসিহত করে সূরা শেষ করা হয়েছে।
৭১. সূরা নূহ : ১-২৮
এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ২৮। রুকু সংখ্যা ২।
প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ২৮ নম্বর আয়াত। পুরো সূরাটিই হজরত নূহ (আ.) এর দাওয়াতী কার্যক্রমের বর্ণনা দিয়ে সাজানো হয়েছে। তার দাওয়াতের জবাবে পাপীষ্ঠ উম্মত কত নির্মমতা দেখিয়েছে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সহজবোধ্য অথচ গম্ভীর ভাষায়। অবশেষে তার উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা ভয়াবহ বন্যা দিয়ে ধ্বংস করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় করে রেখেছেন।
৭২. সূরা জিন : ১-২৮
এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ২৮। রুকু সংখ্যা ২।
প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ২৮ নম্বর আয়াত। সূরা শুরু হয়েছে জিনদের ইমান আনার ঘটনা দিয়ে। জিনদের বিষয়ে আরো কিছু আলোচনা করা হয়েছে এ সূরায়। শেষের দিকে উপদেশ ও নসিহতের মাধ্যমে সূরার সমাপ্তি ঘটানো হয়েছে।
৭৩. সূরা মুজাম্মিল : ১-২০
এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ২০। রুকু সংখ্যা ২।
প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ২০ নম্বর আয়াত। রাসুল (সা.)কে বিশেষ নসিহত করা হয়েছে এ সূরায়। দাওয়াতি কাজ ও আত্মোন্নয়নে এ সব নসিহত একজন দায়ীর জন্য আবশ্যকীয় কর্তব্য। তাহাজ্জুদের বিধান বলে সূরা শেষ করা হয়েছে।
৭৪. সূরা মুদ্দাসসির : ১-৫৬
এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৫৬। রুকু সংখ্যা ২।
প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ৫৬ নম্বর আয়াত। শুরুতে নবীজী (সা.)কে দাওয়াত ইলাল্লাহর কাজের জন্য সজাগ ও সতর্ক করা হয়েছে। প্রাথমিক প্রস্তুতির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তারপর এক ব্যক্তি সম্পর্ক আলোচনা করা হয়েছে, যে জেনে বুঝে কোরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। শেষ রুকুতে আল্লাহ তায়ালা তার সৃষ্টি নিদর্শনের দিকে তাকিয়ে গবেষণা করতে বলেছেন। ইমান আনার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
৭৫. সূরা কিয়ামাহ : ১-৪০
এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৪০। রুকু সংখ্যা ২।
প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ৪০ নম্বর আয়াত। সূরা শুরু হয়েছে কেয়ামতের আলোচনা দিয়ে। তারপর রাসুল (সা.)কে কিছু নসিহত করা হয়েছে। তারপর মানুষের দুনিয়া প্রীতির কথা বলে আফসোসের সুর তুলেছে। এটা যে মানুষের জন্য মঙ্গলজনক নয় সে যুক্তি দিয়েই সূরা শেষ করা হয়েছে।
৭৬. সূরা দাহর : ১-৩১
এ সূরা নাজিল হয়েছে পবিত্র মদীনায়। আয়াত সংখ্যা ৩১। রুকু সংখ্যা ২।
প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ৩১ নম্বর আয়াত। সূরা শুরু হয়েছে মানুষের অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আসার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে। তারপর জান্নাতের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে বিস্তারিতভাবে। শেষ রুকুতে কোরআনের মর্যাদা ও মাহাত্ব্য বর্ণনা করা হয়েছে।
৭৭. সূরা মুরসালাত : ১-৫০
এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৫০। রুকু সংখ্যা ২। এ সূরা তেলাওয়াতের মাধ্যমেই শেষ হবে আজকের সালাতুত তারাবি।
প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু, ১ থেকে ৫০ নম্বর আয়াত। কেয়ামতের আলোচনা দিয়ে সূরা শুরু করার পর যারা অবিশ্বাসী তাদের জন্য বিভিন্ন যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে তারা এ কিতাব ও ওই দিনের ওপর বিশ্বাস আনে। শেষের দিকে আল্লাহবিশ্বাসীসীদের প্রশংসনীয় আলোচনা করে আবার অবিশ্বাসীদের আলোচনার মাধ্যমে সূরা সমাপ্ত করা হয়েছে।

source--https://www.jugantor.com/islam-life

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বই Pdf Download

নেক আমলে অবিচল রাখবে যে ১০ আয়াত

কে ছিলেন ইমাম আল-মাওয়ার্দি