পোস্টগুলি

তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী।

ছবি
আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে আশাবাদী। আমাদের ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহর প্রতি আশা ধরে রাখা। ঈমানদারদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, أُولَٰئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللهِ - তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আল্লাহর প্রতি আশাবাদী হওয়ার অর্থ হলো, এই আশা করা যে আল্লাহর রহমতের অসীম ব্যাপ্তি আমার উপরেও প্রভাব ফেলবে। ইবনে কাইয়্যেম (র) প্রশ্ন করছেন, "আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম এবং গুণাবলী সম্পর্কে জানার পরেও কেউ কিভাবে আল্লাহর প্রতি নিরাশ হতে পারে?" কেউ যখন জানে যে, আল্লাহ হলেন রহমান, আল্লাহ হলেন রহিম, আল্লাহ হলেন গাফুর, আল্লাহ হলেন গাফফার, আল্লাহ হলেন কারীম, আল্লাহ হলেন মুহসিন— এতো কিছু জানার পরেও কারো পক্ষে কিভাবে সম্ভব আল্লাহর প্রতি আশা হারিয়ে ফেলা। আল্লাহর প্রকৃতি-ই হলো ভালো এবং দয়ালু হওয়া। যখন আমরা আল্লাহর এই সমস্ত গুণাবলীতে বিশ্বাস করবো তখন এমনিতেই আমাদের ভেতরে একটি ইতিবাচক শক্তি জাগ্রত হওয়ার কথা, একটি প্রত্যাশার অনুভূতি জেগে উঠার কথা। আপনি যদি আল্লাহকে জানেন, তাহলে আল্লাহর প্রতি আশাবাদী হবেন। যদি আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নামসমূহ এবং গুণাবলী সম্পর্কে জানেন, ...

শাবান মাসের ফজিলত ও আমল

ছবি
  শাবান মাসের ফজিলত ও আমল হিজরি চান্দ্রবর্ষের অষ্টম মাস হলো ‘শাবান’ মাস। এ মাস বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। হিজরতের দেড় বছর পর পূর্বতন কিবলা ফিলিস্তিনের মসজিদুল আকসা বা ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’-এর পরিবর্তে মক্কা শরিফের মসজিদুল হারাম তথা খানায়ে কাবা তথা কাবা শরিফ কিবলা হিসেবে ঘোষিত ও নির্ধারিত হয় এই শাবান মাসেই। তাই শাবান মাস একদিকে যেমন মুসলিম স্বাতন্ত্র্য ও ইসলামি ঐক্যের মাস, অন্যদিকে তেমনি কাবাকেন্দ্রিক মুসলিম জাতীয়তা ও ভ্রাতৃত্ববোধে উজ্জীবিত হওয়ার মাস। আরবি এ মাসের পূর্ণ নাম হলো ‘আশ শাবানুল মুআজজম’ অর্থ মহান শাবান মাস। রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি নফল ইবাদত করতেন। ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, রজব আল্লাহ তাআলার মাস, শাবান নবীজি (সা.)-এর মাস, রমজান হলো উম্মতের মাস। রজব মাসে ইবাদতের মাধ্যমে মনের ভূমি কর্ষণ করা, শাবান মাসে আরও বেশি ইবাদতের মাধ্যমে মনের জমিতে বীজ বপন করা, রমজান মাসে সর্বাধিক ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সফলতার ফসল ঘরে তোলা হয়। রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠের নির্দেশনাসংবলিত অসাধারণ আয়াতটি এ মাসেই অবতীর্ণ হয়। ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-এর প্...

আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি ও পরকালীন বাস্তবতা

ছবি
  আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি ও পরকালীন বাস্তবতা — নোমান আলী খান আল্লাহ তায়ালা সূরা ইয়াসিনের ৩৬ নাম্বার আয়াতে বলেন— سُبْحٰنَ الَّذِى خَلَقَ الْأَزْوٰجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنۢبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ - "পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি সকল কিছু জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যমীন যা উৎপন্ন করেছে তা থেকে, মানুষের নিজদের মধ্য থেকে এবং সে সব কিছু থেকেও যা তারা জানে না ।" এখানে 'আজওয়াজ' বলতে শুধু জোড়া বুঝায় না। আজওয়াজ বলতে আরো অধিক কিছু বোঝায়— এমন শ্রেণী বা গ্রূপ যারা একে অপরকে পূর্ণ করে। এই অর্থে কুরআনের কয়েক জায়গায় আজওয়াজ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন— সূরা ত্বহার ১৩১ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, مَا مَتَّعْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِنْهُمْ "যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে উপভোগের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি।" সূরা ওয়াকিয়ার ৭ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, وَكُنتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً "এবং তোমরা তিনভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে।" সূরা ইয়াসিন বলছে— আল্লাহ বিভিন্ন জিনিসকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে তৈরী করেছেন। সম্পূর্ণ ইকো সিস্টেম (বাস্তুসংস্থান) একে অপরের পরিপূরক। ...

মিরাজের শিক্ষা স্রষ্টার ইবাদত ও সৃষ্টের সেবা

ছবি
  মিরাজের শিক্ষা স্রষ্টার ইবাদত ও সৃষ্টের সেবা মিরাজ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। ইসলামি পরিভাষায় মিরাজ হলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক সশরীরে স্বজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় হজরত জিবরাইল (আ.) ও হজরত মিকাইল (আ.) সমভিব্যাহারে বোরাক বাহনের মাধ্যমে কাবা শরিফ থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস হয়ে, প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুন্তাহা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিম পর্যন্ত গমন, মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে দিদার লাভ ও জান্নাত–জাহান্নাম পরিদর্শন করে আসা। ‘ইসরা’ অর্থ রাতের সময়ে ভ্রমণ। যেহেতু মিরাজ রাতে হয়েছিল, তাই এটি ইসরা। বিশেষত কাবা শরিফ থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফরকে ইসরা বলা হয়। কোরআন কারিমের বর্ণনা, ‘তিনি পবিত্র যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্র–ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি। যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনিই সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা-১৭ ইসরা-বনি ইসরাইল, আয়াত: ১)। মিরাজ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মুজিজা বা অসাধারণ অলৌকিক ঘটনা। নবুয়তের ১১তম বছরে ২৭ রজব রাতে মিরাজ সং...

মুসলিম ভবিষ্যতের ব্যাপারে সবসময় আশাবাদী।

ছবি
  একজন মুসলিম ভবিষ্যতের ব্যাপারে সবসময় আশাবাদী। — নোমান আলী খান কখনো কখনো আপনার পরিকল্পনা এবং আল্লাহর পরিকল্পনা একই রকম হয়। যেমন- কখনো আপনি ইচ্ছা করলেন কোথাও যাওয়ার আর আল্লাহও আপনাকে সেখানে যাওয়ার সুযোগ করে দিলেন। কোনো একটি কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা করলেন আর আল্লাহও আপনাকে সেই কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ প্রদান করলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন দ্রুত গ্র্যাজুয়েট হওয়ার, আল্লাহ্‌ও আপনাকে দ্রুত গ্র্যাজুয়েট হওয়ার সুযোগ দান করলেন। তাহলে, আপনার প্ল্যান অনুযায়ী কাজগুলো সুসম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ হলো, আপনার প্ল্যান এবং আল্লাহর প্ল্যান একই ছিল। সেই একটি বিষয়ের জন্য। কিন্তু, মাঝে মাঝে আপনার এবং আল্লাহর পরিকল্পনা একই রকম থাকে না। অনেক সময় ভাবছিলেন দশ বছর ধরে এই চাকরিটা করবেন, কিন্তু ছয় মাস পরে আপনাকে ছাটাই করে দেওয়া হলো। অনেক সময় কোনো একটা ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার আবেদন করলেন, আপনার সবকিছুই ছিল সেরা, কিন্তু তবু চান্স পেলেন না। অন্যদিকে, আপনার চেয়ে অনেক কম যোগ্যতাসম্পন্ন বহু ছেলে/মেয়ে চান্স পেয়ে গেল। এমনটা অহরহ ঘটে। অনেক সময় আপনার এবং আল্লাহর পরিকল্পনা একই রকম থাকে না। এই আয়াতগুলো শিক্ষা দিচ্ছে - সবসময় সবকি...

পরিবার ও সমাজে নারীর ভূমিকা

ছবি
  পরিবার ও সমাজে নারীর ভূমিকা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবসভ্যতার গোড়াপত্তন করার নিমিত্তে আদি পিতা হজরত আদম আলাইহিস সালামকে বানালেন। এরপর তাঁর থেকে তৈরি করলেন আদি মাতা হজরত হাওয়া আলাইহিস সালামকে। এটি কোরআনে কারিমে বিবৃত হয়েছে এভাবে, ‘হে মানবমণ্ডলী! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃজন করেছেন এক সত্তা হতে এবং তা হতে বানিয়েছেন তার জোড়া এবং বিস্তৃত করেছেন তাঁদের দুজন থেকে বহু নর ও নারী।’ (সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ১)। মুসলিম জাতির কিবলা মক্কা শরিফের কাবা শরিফ, যা বাইতুল্লাহ শরিফ বা খানায়ে কাবা নামে পরিচিত। এর পুনর্নির্মাণ এবং মক্কা সভ্যতার উদ্ধারের সঙ্গেও সংযুক্ত রয়েছেন একজন মহীয়সী নারী। নবী হজরত ইবরাহিম (আ.)–এর সহধর্মিণী ও শিশু নবী হজরত ইসমাইল (আ.)–এর মাতা হজরত হাজেরা (আ.)–এর অবদান। এ জগতে জান্নাতের নহর ‘জমজম’ কূপের সৃষ্টির সূচনাও তাঁর হাতে। তাঁরই স্মৃতি হজের গুরুত্বপূর্ণ বিধান সাফা-মারওয়া সাঈ করা বা দৌড়ানো, যা কিয়ামত পর্যন্ত সব হাজির জন্য ওয়াজিব। এই ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন আরেকজন নারী হজরত ইবরাহিমপুত্র নবী হজরত ইসহাক (আ.)–এর মাতা বিবি সারা। নবী হজরত মুসা আলাইহিস সালামের প্রাণ বাঁ...

ফজিলতের আয়াত ‘আয়াতুল কুরসি’

ছবি
  ফজিলতের আয়াত ‘আয়াতুল কুরসি’ পবিত্র কোরআন শরিফের দ্বিতীয় সুরা বাকারা। সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত আয়াতুল কুরসি নামে পরিচিত। এটি কোরআন শরিফের প্রসিদ্ধ আয়াত। পুরো আয়াতে আল্লাহর একত্ববাদ, মর্যাদা ও গুণের বর্ণনা থাকার কারণে আল্লাহ তাআলা এ আয়াতের মধ্যে অনেক ফজিলত রেখেছেন। এটি পাঠ করলে অসংখ্য পুণ্য লাভ হয়। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম। লা তা খুজুহু সিনাতু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস সামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশ ফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজনিহি, ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম মিন ইল মিহি ইল্লা বিমা শা আ, ওয়াসিয়া কুরসি ইউহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলি ইয়ুল আজিম। অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত...