পোস্টগুলি

অন্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা

ছবি
  কিভাবে একজন মুসলিম তার অন্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা দুনিয়ার অন্য সবকিছু থেকে বেশি বাড়াতে পারে? আলহামদুলিল্লাহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসার তীব্রতা ব্যক্তির ঈমানের ওপর নির্ভর করে। ব্যক্তির ঈমান বৃদ্ধি পেলে তাঁর প্রতি ভালোবাসাও বেড়ে যায়। কারণ তাঁর প্রতি ভালোবাসা হচ্ছে- নেককাজ ও আল্লাহ্‌র নৈকট্য। ইসলামী শরিয়তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসা ফরয। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।”[সহিহ বুখারী (১৫) ও সহিহ মুসলিম (৪৪)] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানার মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে: এক: তিনি আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে প্রেরিত। সমস্ত মানুষের কাছে আল্লাহ্‌র দ্বীন বা ধর্ম পৌঁছে দেয়ার জন্য বিশ্ববাসীর মধ্য থেকে আল্লাহ্‌ তাঁকে মনোনীত করেছেন। আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁকে ভালোবাসেন বিধায় ও তাঁর প্রতি রাজি থাকায় তাঁকে নির্বাচিত ক...

৭ ধরণের মানুষের জন্য স্বয়ং ফেরেশতারা দোয়া করেন

ছবি
  ৭ ধরণের মানুষের জন্য স্বয়ং ফেরেশতারা দোয়া করেনঃ আসুন জেনে নেই তারা কারা? ১। ওযূ অবস্থায় ঘুমানো ব্যক্তিঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (ওজূ অবস্থায়) ঘুমায় তার সাথে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকে। অতঃপর সে ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সাথেই আল্লাহতালার সমীপে ফেরেশতাটি প্রার্থনায় বলে থাকে, হে আল্লাহ! তোমার অমুক বান্দাকে ক্ষমা করে দাও, কেননা সে পবিত্রাবস্থায় ঘুমিয়েছিল।" (আল ইহসান ফি তাকরির সহীহ ইবনে হিব্বান ৩/৩২৮-৩২৯) ২। সালাতের জন্য মসজিদে অপেক্ষারত ব্যক্তিঃ আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যখন ওযূ অবস্থায় সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকে সে যেন সালাতেই রত। তার জন্য ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করো, হে আল্লাহ! তুমি তার প্রতি দয়া করো।" (সহীহ মুসলিম ৬১৯) ৩। প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারীঃ বারা' (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, "প্রথম কাতারের নামাযীদেরকে নিশ্চয়ই আল্লাহতালা ক্ষমা করেন ও ফেরে...

যে নামাযের জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া

ছবি
  ❖ কোন চার রাকাত নামায সম্পর্কে রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, উক্ত চার রাকাত নামাযের জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হবেঃ যোহরের ফরযের পূর্বে চার রাকাত সুন্নাত। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা হচ্ছে, মুমিন মুসলমানের জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। এসব ফরজ নামাজের আগে ও পরে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ১০/১২ রাকাআত সুন্নাত নামাজ রয়েছে। এ সুন্নাত নামাজগুলো পড়ার সময় বান্দার জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়। হাদিসে এসেছে- - হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আস-সায়েব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্য ঢলে পড়ার পর জোহরের (ফরজের) আগে চার রাকাআত নামাজ পড়তেন। তিনি বলেন, এটা এমন একটা সময় যখন আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। আর আমি ভালোবাসি যে এ সময় আমার নেক আমল উঠানো হোক।’ (তিরমিজি) অন্যত্র রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যখন সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়ে, তখন আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। অতপর জোহর নামাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো দরজাই বন্ধ করা হয় না। আর আমি পছন্দ করি যে, এই সময় আমার আমল উঠিয়ে ন...

ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর কোনটি?

ছবি
  ❖ ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর কোনটি? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হবেঃ ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পাঠ করা। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা হচ্ছে, ঈমানের শাখাঃ নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, ঈমানের শাখা-প্রশাখা ৭০ এর চেয়ে বেশী, তন্মধ্যে প্রধান শাখা কালিমা ” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”এর সবচেয়ে ছোট শাখা ,রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু (ইট,পাটকেল,কাঁটা,নাপাক ইত্যাদি) সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি প্রধান শাখা (বুখারী ও মুসলিম)। ছহী হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, ঈমানের সমস্ত শাখাগুলো যার মধ্যে পাওয়া যাবে তিনিই পূর্ণ ঈমানদার হবেন। আর যার মধ্যে এক বা একাধিক শাখা থাকবে না, সে পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবেনা। তার ঈমান অপূর্ণ রয়ে যাবে। যার ঈমান আছে –আখেরাতে তিনি হবেন সর্বশ্রেষ্ঠ সফলকাম মানুষ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মহান দৌলত জান্নাতের অধিকারী। একবিন্দু পরিমাণ ঈমান যদিও কারো থাকে,একদিন না একদিন সে জান্নাতে যাবেই। বান্দার উপর সর্ব প্রথম ফরয হল ঈমান আনা। আখেরাতে নাজাত পাওয়ার সর্ব প্রধান এবং সর্বশেষ সম্বল হল ঈমান। কাজেই সকলেরই প্রাণপণে চেষ্টা করা দরকার যাতে ঈমানের একটি শাখাও কারো মধ্যে অনুপস্থিত না থাকে; বরং সবগুলো শাখাই তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে...

নৈকট্য অর্জনের সহজ তিনটি আমল

ছবি
  আল্লাহ তাআ’লার নৈকট্য অর্জনের জন্য অত্যন্ত সহজ তিনটি আমল: মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যে যাকে ভালোবাসে সে তার নৈকট্য অনুসন্ধান করে। মুমিন বান্দারা সবচাইতে বেশি ভালোবাসে মহান আল্লাহকে, যার স্বীকৃতি দিয়ে স্বয়ং আল্লাহ বলেছেনঃ “আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, তারা তাদেরকে ভালবাসে আল্লাহকে ভালবাসার মতোই। পক্ষান্তরে, যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহকে ভালবাসে সবচাইতে বেশি।” সুরা আল-বাক্বারাহঃ ১৬৫। যেকোন নেক আমল করা কিংবা যেকোন পাপ কাজ বর্জন করার মাধ্যমেই আল্লাহর ভালোবাসা ও নৈকট্য লাভ যায়। তবে বান্দার সমস্ত আমলের মাঝে এমন কিছু বিশেষ আমল রয়েছে, যেইগুলো আল্লাহ অত্যন্ত ভালোবাসেন, যার মাধ্যমে সবচাইতে বেশি আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়। এমনই কতগুলো নেক আমলের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো, যেইগুলো আমল করা সহজ কিন্তু যার বিনিময়ে বান্দা সবচাইতে বেশি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। (১) সিজদাঃ সিজদা এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে বান্দা তার শরীর ও মন দিয়ে তার রব্বের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং আনুগত্য প্রকাশ করে। একারণে মহান আল্লাহ ছাড়...

মুসলমান ভাই কিংবা বোনকে সাহায্য করার পুরষ্কার

ছবি
  কোন মুসলমান ভাই কিংবা বোনকে সাহায্য করার পুরষ্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি হাদীস: (১) নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন মিটাবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন মিটাবেন। একইভাবে যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তির বিপদ দূর করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার বিপদ দূর করবেন।” সহীহ বুখারী, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদঃ ৪৮৯৩। (২) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দুনিয়াবী বিপদাপদের মধ্যে একটি বিপদ দূর করে দেয়, আল্লাহ তাআ’লা তার পরকালের বিপদাপদের কোন একটি বিপদ দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে অন্য কারো অভাব দূর করে দেয়, তার দুনিয়া ও আখিরাতের অসুবিধাগুলোকে আল্লাহ তাআ’লা সহজ করে দেবেন। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন মুসলমানের দোষ-ক্রটিকে গোপন রাখে, আল্লাহ তাআ’লা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। যে পর্যন্ত বান্দাহ তার কোন ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকে, সে পর্যন্ত আল্লাহ তাআ’লাও তার সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকেন।” সহীহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযীঃ ১৯৩০, ইবনু মা-জাহঃ ...

ইসলামি দাম্পত্যবিধানে স্বামী-স্ত্রীর দায়িত্ব

ছবি
  প্রথম মানব ও প্রথম নবী হজরত আদম (আ.)–কে সৃষ্টি করার পর তিনি একাকিত্ব অনুভব করলেন। তাঁর অস্থিরতা দূর করার জন্য মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর সঙ্গী হিসেবে আদি মাতা বিবি হাওয়া (আ.)–কে সৃজন করলেন। এখান থেকেই শুরু যুগলবন্দী দাম্পত্যজীবনের। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের মহাপরিকল্পনায় বাবা আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) দুনিয়াতে এলেন। তাঁদের ঔরসজাত সন্তানেরাই পৃথিবী সাজিয়েছে। আর সে সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে এই বিবাহবন্ধন ও দাম্পত্যবিধান। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনিই মহান সত্তা! যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন ও তা হতে তার জোড়া সৃষ্টি করেন; যাতে সে তার নিকট প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা-৭ আরাফ, আয়াত: ১৮৯) মানসিক প্রশান্তি, পারিবারিক সমৃদ্ধি ও সামাজিক সহাবস্থানের জন্য দায়িত্বের বাইরেও নীতিগত কারণে ভালোবাসার প্রতিদানস্বরূপ কিছু কাজ করতে হয়। সমঝোতার ভিত্তিতে একে অন্যের সহযোগী হলে দাম্পত্যজীবন সহজ সুন্দর ও সুখের হয় দাম্পত্যজীবন শরিয়তসিদ্ধ একটি আইনগত সম্পর্ক হলেও এর মূল হলো ভালোবাসা ও মায়া–মমতা। কোরআন মজিদের বর্ণনা, ‘এবং তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য হতে জোড়া সৃষ্...