যে নামাযের জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া

 


❖ কোন চার রাকাত নামায সম্পর্কে রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, উক্ত চার রাকাত নামাযের জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হবেঃ যোহরের ফরযের পূর্বে চার রাকাত সুন্নাত। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা হচ্ছে, মুমিন মুসলমানের জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। এসব ফরজ নামাজের আগে ও পরে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ১০/১২ রাকাআত সুন্নাত নামাজ রয়েছে। এ সুন্নাত নামাজগুলো পড়ার সময় বান্দার জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়। হাদিসে এসেছে-

- হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আস-সায়েব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্য ঢলে পড়ার পর জোহরের (ফরজের) আগে চার রাকাআত নামাজ পড়তেন। তিনি বলেন, এটা এমন একটা সময় যখন আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। আর আমি ভালোবাসি যে এ সময় আমার নেক আমল উঠানো হোক।’ (তিরমিজি) অন্যত্র রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যখন সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়ে, তখন আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। অতপর জোহর নামাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো দরজাই বন্ধ করা হয় না। আর আমি পছন্দ করি যে, এই সময় আমার আমল উঠিয়ে নেয়া হোক।’ জোহরের ফরজ নামাজের আগের ৪ রাকাআত সুন্নাত নামাজকে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুবই গুরুত্ব দিতেন। কখনো কখনো জোহরের আগে তা আদায় করতে না পারলে জোহরের পরে পড়ে নিতেন।

যারা জোহরের ফরজের আগে ৪ রাকাআত নামাজ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরেও ৪ রাকাআত নামাজ আদায় করে তাদের জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি জোহরের আগে ৪ রাকাআত এবং পরে ৪ রাকাআত নামাজের ব্যাপারে যত্নশীল হয়, আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ)

পর্দার সাথে হলেও মহিলারা পারফিউম বা সেন্ট বা সুগন্ধি জাতীয় কোন কিছু ব্যবহার করে বাইরে যেতে পারবে না। কারণ তাতে ফিতনা আছে। মহানবী (সঃ) বলেছেন, “প্রত্যেক চক্ষুই ব্যাভিচারী। আর মহিলা যদি (কোন প্রকার) সুগন্ধি ব্যবহার করে কোন (পুরুষের) মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তবে সে ব্যভিচারিণী (বেশ্যা মেয়ে)।” (আবূ দাঊদ, তিরমিযীঃ ৪৫৪০)

এমন কি মসজিদে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে যেতেও সে সেন্ট ব্যবহার করতে পারবে না। মহানবী (সঃ) বলেন, “আল্লাহ্‌র বান্দীদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করো না, তবে তারা যেন খোশবূ ব্যবহার না করে সাধাসিধাভাবে আসে।” (আহমাদ, আবূ দাঊদঃ ৭৪৫৭) মহানবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন “যে মহিলা সেন্ট ব্যবহার করে মসজিদে যাবে, সে মহিলার গোসল না করা পর্যন্ত কোন নামায কবুল হবে না।” (ইবনে মাজাহঃ ৪০০২) বুঝতেই পারছেন নারীদের জন্য সেন্ট ব্যবহার করে বাহিরে যাওয়া কতটা ভয়ানক পাপ। সুতরাং সাবধান হয়ে যাও হে মুসলিম নারী। আল্লাহ আমাদেরকে সকল প্রকার গুনাহের কাজ পরিত্যাগ করার তৌফিক দান করুক। আমিন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বই Pdf Download

নেক আমলে অবিচল রাখবে যে ১০ আয়াত

কে ছিলেন ইমাম আল-মাওয়ার্দি