পোস্টগুলি

পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতা

ছবি
  ও বিশ্বাসীরা! মন দিয়ে শোনো, এ পৃথিবী কোনোদিনও তোমাদের বেহেশত হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু বেহেশত আমাদের অপেক্ষায় আছে, এ জ্ঞান, দুনিয়ার এ কষ্টকর ভ্রমণটাকে করে তোলে অনেক বেশি সহনীয় এবং পুরস্কারযোগ্য। কারণ যেহেতু সকল পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতাই ক্ষণস্থায়ী, প্রতিটি মুহূর্তও এক একটি সুযোগ। আর আপনি জানেন, যদি এ সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেন, আপনার সকল সংগ্রামের শেষে, সকল পরীক্ষা এবং ভুগানির সমাপ্তিতে, সকল ভালোবাসা আর প্রিয়জন হারানোর বেদনার শেষে, আপনার চিরন্তন বাসস্থানটি আপনার প্রতীক্ষায় আছে। যা নির্মিত হয়েছে আপনার নেক আমলগুলোর মাধ্যমে আর সজ্জিত হয়েছে আপনার দোয়ার মাধ্যমে। একটি রত্ন-নির্মিত মুকুট, একবার একটি আয়াত তিলাওয়াত করার কারণে। স্বচ্ছ কাঁচ নির্মিত বাড়ি যার দ্বীপ্তি ছড়িয়ে পড়ছে দিগন্ত জুড়ে, এমন এক আত্মার জন্য যে পাপ ছেড়ে দিয়েছিলো। সবুজ পান্নার স্কন্ধযুক্ত এবং স্বর্ণের ডাল পালাযুক্ত গাছ, শুধু সহজে উচ্চারিত একটি জিকিরের জন্যে। আরো আছে আশীর্বাদপুষ্ট এমন মানুষদের সাহচর্য যাদের আপনি নিজেই পছন্দ করবেন, যারা আপনার মতোই সংগ্রাম করে গিয়েছিলো; এবং অতীত প্রজন্ম থেকেও যাদের আপনি অনুসরণ করেছিলেন, যারা আপ...

আল্লাহ খুশি হন তওবা করলে

ছবি
  একজন মানুষ আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন: কিভাবে আল্লাহ এটাকে ঘটতে দিচ্ছেন? ওরা নির্বিচারে অবিচার করে যাচ্ছে! অন্যায় ভাবে সবকিছু করছে! তবুও আল্লাহ এটাকে থামাচ্ছেন না কেন? তিনি তাদেরকে এটা ঘটাতে দিচ্ছেন কেন? কখনো কখনো কিছু পরীক্ষা হয় খুবই কঠিন, অন্যান্য পরীক্ষার তুলনায়.... আর এই পরীক্ষা, চূড়ান্ত কঠিন পরীক্ষা বলেই এর নাম ফিতনা। একজন দুর্বল ঈমানদারের কি হতে পারে যখন সে এই কঠিন পরীক্ষায় পড়ে? আল্লাহ এমনটা করছেন কেন! তিনি কি আমাকে শাস্তি দিচ্ছেন! আমি তো কোন অন্যায় করিনি! আপনি ভয়ানক কিছু ভুল করে ফেললেন, আপনি একটা বিশাল তালগোল পাকিয়ে দিলেন। আপনি ভেবে ফেললেন এই ফিতনাটা আল্লাহর তরফ থেকে। এটা একটা ফিতনা। জাস্ট, আল্লাহ এটা থামাচ্ছেন না কেন! এখন যে প্রশ্নটা উঠে আসে: যদি আমরা চাই যে আল্লাহ এই বিষয়টাতে ইন্টারভেন করুন, আল্লাহ এই বিষয়টাতে হস্তক্ষেপ করুন... তাহলে কি আল্লাহর উচিত হবে না, আমাদের সেই সমস্ত কাজকর্মেও হস্তক্ষেপ করা যে কাজকর্মগুলো আমরাও আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে করি? মুসলিম উম্মাহর উপর নেমে আসা এই বিশাল বড়, ভয়ানক ফিতনায় আমরা যেন কনফিউসড হয়ে না যাই, সেজন্যই নোমান খান অস্ট্রেলিয়ার মেলবো...

অপরাধবোধ

ছবি
  আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা মানুষের অন্তরে যত ধরণের মানবীয় আবেগ অনুভূতি দিয়েছেন যেমন— রাগ, ভয়, উদ্বেগ, অপরাধবোধ ইত্যাদি ইত্যাদি; এই সবগুলো অনুভূতি আমাদেরকে আরো উত্তম মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। এমনকি নেতিবাচক অনুভূতিরও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে। যদি ভয়ের অনুভূতি না থাকতো তাহলে আমরা পরকালের ভয়টা উপলব্ধি করতে পারতাম না। যদি দুঃখের অনুভূতি না থাকতো তাহলে আমরা অন্য মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারতাম না এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতাম না। অপরাধবোধ খুবই শক্তিশালী একটি অনুভূতি। অনেক সৈন্য অপরাধবোধের কারণে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে ফেলে। যেমন, অনেকে অন্য দেশে যুদ্ধ করতে গিয়ে বিভিন্ন ঘৃণ্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে নিজ দেশে ফিরে অপরাধবোধের কারণে ভেতরে ভেতরে জ্বলতে থাকে। কোনো একসময় এই জ্বালা আর সহ্য করতে না পেরে গুলি করে আত্মহত্যা করে বা মাদক দ্রব্যের মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে রাখে। মূসা (আ) ভুলক্রমে একজনকে খুন করে ফেলেন। তখন তিনি কেমন অনুভব করছিলেন? তিনি নিজেকে খুব অপরাধী মনে করেন। এখন, এই অপরাধবোধ আপনাকে উত্তম মানুষে রূপান্তরিত করার কথা। কিভাবে? একটি উদহারণ দিচ্ছি। ধরুন, দুইজন ছ...

প্রকাশ্য বা গোপন কোন অশ্লীলতা

ছবি
  আমাদের মালিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের আদেশ করছেন--وَ لَا تَقۡرَبُوا الۡفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَ مَا بَطَنَ- "আর তোমরা প্রকাশ্য বা গোপন কোন অশ্লীলতার কাছেও যেও না।" (৬:১৫১) আমাদের রব আমাদের আরও আদেশ করছেন--وَ لَا تَقۡرَبُوا الزِّنٰۤی اِنَّهٗ کَانَ فَاحِشَۃً ؕ وَ سَآءَ سَبِیۡلًا - "আর যিনা-ব্যভিচারের কাছেও যেও না, তা হচ্ছে অশ্লীল কাজ আর অতি জঘন্য পথ।" (১৭:৩২) যদি আল্লাহকে ভয় করেন এবং তাঁকে ভালবাসেন, যদি তাঁর ক্ষমা এবং করুণা চান, যদি জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চান এবং জান্নাত চান এগুলো মেনে চলুন। প্রতিবার অশ্লীল কিছু দেখার ইচ্ছে করলে এই দুইটি আয়াতের কথা মনে করুন এবং নিজেকে থামিয়ে দিন। এই আদেশগুলো মেনে চলুন। এগুলো অমান্য করলে দ্বীনের পথে কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারবেন না। আমরা সিরাত থেকে জানি একেবারে প্রথম দিকের নতুন মুসলমানদের জন্যেও তিনি জিনা-ব্যভিচার নিষিদ্ধ করেন। সকল বিজ্ঞানীরা জানে এই মহাবিশ্বের যে কোনো বাস্তবতা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুবই সীমিত। অধিকাংশ জিনিস আমরা জানি না। এই বিষয়ে বিশ্বাসীরা এবং অবিশ্বাসীরা একমত যে, কিছু কিছু বিষয় আমরা জানি ক...

যাইনাব বিনতে জাহাস (রা)

ছবি
  উম্মাহাতুল মু'মিনিনদের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন যাইনাব বিনতে জাহাস (রা)। তিনি সবসময় গরিব-দুখীদের যত্ন নিতেন। এমনকি তার উপাধি হয়ে পড়ে "উম্মুল মাসাকিন" বা মিসকিনদের মা। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁর স্ত্রীদের বলেছিলেন, "তোমাদের মাঝে যার হাত সবচেয়ে বেশি লম্বা সে-ই সবার আগে মারা যাবে।" উনি এর দ্বারা বুঝিয়েছেন যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। পরে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পরে তাঁর স্ত্রীদের মাঝে সবার আগে যাইনাব (রা) মারা যান। উনি কেমন বিস্ময়কর দানশীল ছিলেন তার একটি উদাহরণ দিচ্ছি। হযরত ওমর (রা) এর শাসনকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীরা সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রীয় ভাতা পেতেন। এর পরিমাণ ছিল বছরে ১২ হাজার দিরহাম! সে সময়ে এটি ছিল বিশাল অংকের অর্থ। এমন অর্থ পাওয়া ছিল রীতিমত সৌভাগ্যের ব্যাপার। তো, যাইনাবকে ১২ হাজার দিরহাম প্রদান করা হয়। তার সামনে এগুলো ঢেলে দেওয়া হয়। স্বর্ণ মুদ্রার বিশাল এক স্তূপ! এটা দেখে তিনি বলতে লাগলেন-- "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। সুবহানাল্লাহিল আজিম। আল্লাহ আমাদের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন...

ইসলামে কারাবন্দীর যত অধিকার

ছবি
  ইসলাম কারাবন্দীদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার কথা বলে। যুগে যুগে ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞগণ ফিকহের কিতাবসমূহে এসব বিধান লিখে গেছেন। ইসলামের সোনালি যুগে মুসলিম শাসকগণ তা বাস্তবায়নও করেছেন। মানুষের সম্মান, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় গৃহীত এসব যুগপৎ বিধান সমকালীন বিশ্বের কাছেও ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। বন্দীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধে এবং কারাগারে তাদের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে ইসলামের নির্দেশনা সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরা হলো— বন্দীদের যেসব শাস্তি দেওয়া যাবে না কারাগারে বন্দীদের কোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার বৈধতা দেয় না ইসলাম। ফকিহগণ এ বিষয়ে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছেন। যথা— » বন্দীর অঙ্গ বিকৃত করে শাস্তি দেওয়া যাবে না। বন্দীর কোনো অঙ্গ ভেঙে ফেলা, কেটে ফেলা, ছিঁড়ে ফেলা, উপড়ে ফেলা, জখম করা ইত্যাদি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘অঙ্গ বিকৃত কোরো না।’ (মুসলিম: ১৩৫৭) » এমন কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না, যাতে বন্দীর সম্মানহানি হয় বা শারীরিক-মানসিক ক্ষতি হয়। যেমন—বন্দীর মুখে আঘাত করা যাবে না, ঘাড়ে বেড়ি পরানো যাবে না এবং মাটিতে শুইয়ে পেটানো যাবে না। এসব পদ্ধতিতে ...

স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার আগে সংযম

ছবি
  হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর নাম হয়তো আমরা অনেকেই শুনে থাকবেন। তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর ছেলে। পিতার মতো তিনিও ছিলেন ইসলামের একজন প্রসিদ্ধ সাহাবি। একবার আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর ঝগড়া বেধে যায়। তাঁরা একজন আরেকজনকে দোষারোপ করতে থাকেন এবং একে অপরের দোষগুলো প্রকাশ করে দিতে থাকেন। একপর্যায়ে রাগের মাথায় আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঘর ছেড়ে বের হয়ে যান। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেবেন। এভাবে ঝগড়া করে একসঙ্গে থাকার চেয়ে আলাদা হয়ে যাওয়াই শ্রেয়। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তাঁর কোরআনের একটি আয়াত মনে পড়ে গেল। আয়াতটি সুরা নিসার ১৯ নম্বর আয়াত, ‘আর তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করো। আর যদি তাদের অপছন্দ করো, হতে পারে তোমরা এমন কিছুকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য অনেক কল্যাণ রেখেছেন।’ আয়াতটিতে আল্লাহ-তাআলা তাঁর বান্দাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপদেশ দিয়েছেন। মানুষের স্বভাব হলো শুধু নেতিবাচক জিনিসগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া। অথচ আল্লাহ তাআলা সবার ভেতরই কিছু না কিছু ইতিবাচক দিক রেখেছেন। কেউ যখন নেতিবাচক দিকগুলোকে প...