পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতা

 


ও বিশ্বাসীরা! মন দিয়ে শোনো, এ পৃথিবী কোনোদিনও তোমাদের বেহেশত হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু বেহেশত আমাদের অপেক্ষায় আছে, এ জ্ঞান, দুনিয়ার এ কষ্টকর ভ্রমণটাকে করে তোলে অনেক বেশি সহনীয় এবং পুরস্কারযোগ্য।

কারণ যেহেতু সকল পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতাই ক্ষণস্থায়ী, প্রতিটি মুহূর্তও এক একটি সুযোগ। আর আপনি জানেন, যদি এ সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেন, আপনার সকল সংগ্রামের শেষে, সকল পরীক্ষা এবং ভুগানির সমাপ্তিতে, সকল ভালোবাসা আর প্রিয়জন হারানোর বেদনার শেষে, আপনার চিরন্তন বাসস্থানটি আপনার প্রতীক্ষায় আছে। যা নির্মিত হয়েছে আপনার নেক আমলগুলোর মাধ্যমে আর সজ্জিত হয়েছে আপনার দোয়ার মাধ্যমে। একটি রত্ন-নির্মিত মুকুট, একবার একটি আয়াত তিলাওয়াত করার কারণে। স্বচ্ছ কাঁচ নির্মিত বাড়ি যার দ্বীপ্তি ছড়িয়ে পড়ছে দিগন্ত জুড়ে, এমন এক আত্মার জন্য যে পাপ ছেড়ে দিয়েছিলো। সবুজ পান্নার স্কন্ধযুক্ত এবং স্বর্ণের ডাল পালাযুক্ত গাছ, শুধু সহজে উচ্চারিত একটি জিকিরের জন্যে। আরো আছে আশীর্বাদপুষ্ট এমন মানুষদের সাহচর্য যাদের আপনি নিজেই পছন্দ করবেন, যারা আপনার মতোই সংগ্রাম করে গিয়েছিলো; এবং অতীত প্রজন্ম থেকেও যাদের আপনি অনুসরণ করেছিলেন, যারা আপনাকে সংগ্রাম করা শিখিয়েছিলো। আপনার প্রতিটি কম্পিত শ্বাস, অশান্তির প্রতিটি সেকেন্ড এবং প্রতিটি ত্যাগ তিতীক্ষা সবকিছুরই হিসেবে রাখা হচ্ছে। অকল্পনীয় সব দৃষ্টিনন্দন স্থান এবং সহায় সম্পদ দিয়ে যার প্রতিদান দেওয়া হবে। আরও থাকবে সর্বোচ্চ সত্তার সাহচর্য। আপনার চিরন্তন বাড়িটি নির্মাণ করুন। আপনার চিরন্তন বাড়িটি সজ্জিত করুন। আপনার চিরন্তন বাড়িটির আশা করুন। স্বাগতম আপনার চিরন্তন বাড়িতে। - ড. ওমর সুলেইমান

আর দেরী করো না। নিজের অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনতে এবং তার নিকট আত্মসমর্পন করতে আর বিলম্ব করো না। وَأَنِيبُوٓا إِلٰى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ "তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ কর।" (৩৯ঃ৫৪) আমাদের দ্বীনের সৌন্দর্যটা দেখুন! কেউ যদি খুৎবাতে বসে বসে সিদ্ধান্ত নেয় যে সে আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আসবে, সে এখনো কিন্তু কিছুই করেনি! সে কিন্তু এখনো তার জীবনধারা সম্পর্কিত কিছুই বদলায়নি, সে এখনো তার আয়ের উৎস নিয়েও কিছু করেনি, কিংবা তার আচরণেও পরিবর্তন আসেনি। সে শুধু অন্তরে নিয়ত করেছে যে সে ভিন্ন মানুষ হয়ে যাবে। আর সে বের হয়ে যাবার সময়, কিংবা সে তার পরিবারের সাথে দেখা করার আগেই তার মরার সময় এসে গেল এবং সে মারা গেল। সে ক্ষমা পেয়ে যাবে! সে আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে এসেছিল! এটাই যথেষ্ট। সুবহানআল্লাহ! আমি একজন লোককে চিনতাম নিউইয়র্কের এক মসজিদে, বেশ বড় মসজিদ। ম্যানহাটনের 96th Street. সেখানকার সবচাইতে বড় মসজিদ। আর এটার সামনেই বিশাল বড় একটি এপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স। সেখানে এক হিন্দু লোক বাস করতেন। মসজিদটাও সেখানে যুগ যুগ যাবত ছিল। তিনি প্রতিদিন সেদিক দিয়ে যেতেন আর শুনতে পেতেন। কারণ তারা মাইকে আযান দিতো। তো তিনি আযান শুনতেন, সবসময় সেটা শুনতে পেতেন। ছিয়ানব্বই বছর বয়স! মসজিদে এসে বললেন, আমি মুসলিম হতে প্রস্তুত। ছিয়ানব্বই বছর বয়স! শাহাদাহ পাঠ করলেন। দুইদিন পর মারা গেলেন। ছিয়ানব্বই বছরের শিরক! ছিয়ানব্বই বছরের গাফলাহ। এরপর তিনি আল্লাহ্‌র কাছে ফিরে এলেন, সেটাই যথেষ্ট হয়ে গেলো! সব পাপ মুছে ফেলা হলো! সকল মন্দ কাজকে ভালো কাজে পরিণত করে ফেলা হলো তার জন্যে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এটাই আল্লাহ্‌র দয়া। কারও প্রতি এটাই আল্লাহ্‌র ভালোবাসা। চলে যাবার পূর্বেই আল্লাহ তাদেরকে ফিরে আসতে দেন। وَأَنِيبُوٓا إِلٰى رَبِّكُمْ — তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও। এটা শুধু অমুসলিমদের প্রতিই আহ্বান নয়। আমাদের জন্যেও। আমাদেরও আল্লাহ্‌র কাছে ফিরতে হবে। এমন মনে করবেন না যে আমি শুধু খুব আধুনিকতাবাদী লিবারেলদের উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলছি, এখানকার ধার্মিকদের উদ্দেশ্যে বলছি না। হিজাবসহ বোন কিংবা দাঁড়িওয়ালা সেই ভাইটির উদ্দেশ্যে না। না না না! সবার উদ্দেশ্যেই বলছি! আল্লাহ কিন্তু বিচার দিবসে আমাদের চেহারা দেখবেন না। আল্লাহ দেখবেন আমাদের অন্তরে কি আছে। আমাদের দেখতে, কিছু করতে বেশী ধার্মিক ধার্মিক মনে হয় তার মানে এই নয় যে আমরা অন্যের চাইতে ভালো অবস্থানে আছি। শুধু আল্লাহ্‌ই জানেন কে প্রকৃত ধার্মিক আর কে প্রকৃত ধার্মিক নয়। —নোমান আলী খান

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বই Pdf Download

কে ছিলেন ইমাম আল-মাওয়ার্দি

নেক আমলে অবিচল রাখবে যে ১০ আয়াত