পোস্টগুলি

যাদের বয়স চল্লিশ

ছবি
  যাদের বয়স চল্লিশ -------------------------- সূরা আহকাফে এসেছে- وَ بَلَغَ اَرۡبَعِیۡنَ سَنَۃً - "এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়..." (৪৬:১৫) চল্লিশ বছর বয়স পরিপক্ক হওয়ার বয়স। এটা আপনার জীবনের একেবারে মাঝখানের বয়স। এ বয়স নিয়ে আধুনিক সমাজে আমরা একটা পরিভাষা ব্যবহার করি— "মিড লাইফ ক্রাইসিস বা মধ্য বয়সের সঙ্কট"। কারণ, নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে আপনি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। তাই, তারা এটাকে একটা সঙ্কট মনে করে। কিন্তু ইসলামের ক্ষেত্রে— এ বয়সে উপনীত হওয়ার পর আপনি উপলব্ধি করতে পারেন, আমার জীবনের অর্ধেকটা সময় ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। অতীতের দিকে তাকিয়ে আমার কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। এখন, নিজের ভবিষ্যতের দিকে না তাকিয়ে আমার ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। ঠিক এ ব্যাপারটাই আলোচ্য আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে। উক্ত ব্যক্তি তখন বলে- رَبِّ اَوۡزِعۡنِیۡۤ اَنۡ اَشۡکُرَ نِعۡمَتَکَ الَّتِیۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَیَّ وَ عَلٰی وَالِدَیَّ - "হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে আর আমার পিতা-মাতাকে যে নেয়ামত দান করেছেন তজ্জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার শক্তি আমাকে দান করুন..." (সূরা আহকাফ, সূরা নাম্বার ৪৬, আয়াত ন...

ইসলামের উদ্দেশ্য ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি

ছবি
  ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি ইসলামের উদ্দেশ্য। ইসলামি জীবনাদর্শ বিশ্বের সব মানুষের জন্য। ইসলামের লক্ষ্য হলো মানবসমাজে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও মানবাধিকার সংরক্ষণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব, তারা ইবাদত করুক এই (কাবা) গৃহের মালিকের, যিনি তাদের ক্ষুধায় অন্ন দেন এবং শঙ্কা হতে নিরাপত্তা দেন।’ (সুরা-১০৬ কুরাইশ, আয়াত: ৩-৪) ‘শপথ ত্বীনের! শপথ জয়তুনের! শপথ এই নিরাপদ নগরীর।’ (সুরা-৯৫ ত্বীন, আয়াত: ১-৩) মানুষের জানমাল ও ইজ্জত-আবরুর হেফাজত করার নাম ইসলাম। ইমান বা বিশ্বাস ইসলামি আদর্শ ও জীবনব্যবস্থার ভিত্তি। মানুষের কাছে সত্য ও মিথ্যার, ন্যায় ও অন্যায়ের, হিদায়াত ও গোমরাহির বিষয়টি সুস্পষ্টরূপে তুলে ধরা ছিল নবী-রাসুলদের দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘দ্বীন সম্পর্কে জোরজবরদস্তি নেই, সত্যের পথ ভ্রান্ত হতে সুস্পষ্ট হয়েছে। যে তাগুতকে অস্বীকার করবে, আল্লাহে ইমান আনবে, সে এমন এক মজবুত হাতল ধরবে, যা কখনো ভাঙবে না। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২৫৬) অশান্তি সৃষ্টি করা ইসলাম সমর্থন করে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের পর তোমর...

সুরা আলায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ছবি
  সুরা আলা পবিত্র কোরআনের ৮৭তম সুরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। ১ রুকু, ১৯ আয়াত। সুরার শুরুতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি, সংগঠন ও নিয়ন্ত্রণ করে পথ দেখিয়েছেন। রাসুল (সা.) কখনো তাঁর আদেশ ভুলে যাবেন না। আল্লাহর অসীম জ্ঞানের কথা উল্লেখ করে মানুষকে সৎ উপদেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহকে যে ভয় করে, সে মহানবীর (সা.) উপদেশ গ্রহণ করবে এবং পরকালে সফল হবে। সুরার ১ থেকে ৫ আয়াতে আল্লাহ সৃজনশীলতার কথা বলা হয়েছে। তিনি সংগঠন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মানবজাতিকে পথ দেখিয়েছেন। সমগ্র মানবজাতির প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ও অবদানের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ৬ থেকে ৯ আয়াতে আল্লাহ নবী মুহাম্মদ (সা.) এর উপর তাঁর অবদান ও উপদেশের কথা বলেছেন। ১০ থেকে ১৫ নম্বর আয়াতে সব মানুষের প্রতি দেওয়া আল্লাহর উপদেশ মান্য ও অমান্য করার ফলাফল দুনিয়া ও আখিরাতে কী হবে, তা বর্ণনা করা হয়েছে। ১৬ থেকে ১৭ আয়াতে আল্লাহ উপদেশ দিয়েছেন। দুনিয়াকে আখিরাতের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই এই অমান্যতা। সবশেষে আল্লাহ বলেছেন, তাঁর এই উপদেশ মানুষের জন্য চিরন্তন। অন্যান্য জাতির প্রতিও একই উপদেশ।সুরা আল...

দোষ কার?

ছবি
  আল্লাহ আপনাকে সবধরণের উপকরণ সরবরাহ করেছেন যেন হেদায়েত পেতে পারেন। এই জীবনটা ব্যবহার করে যেন চিরস্থায়ী জান্নাত অর্জন করতে পারেন। কিন্তু, আপনি কী করলেন? ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ভোগবিলাসের মাঝেই নিজেকে ডুবিয়ে রাখলেন। আপনার কাছে আছে কুরআন, আপনার কাছে আছে রাসূলের শিক্ষা। আপনাকে দেওয়া হয়েছে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, অন্তঃকরণ এবং বিবেক বুদ্ধি। আপনি ইচ্ছে করলে সবচেয়ে সেরা মানুষ হতে পারতেন। কিন্তু খারাপ হওয়াটাকেই নিজের জন্য পছন্দ করলেন। দোষ কার? আল্লাহ কাউকে ঘৃণা করেন না। নিজের অন্যায়ের জন্য আল্লাহকে দোষ দিবেন না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আপনাকে চান্স্ দিয়েছেন। আপনার হেদায়েত পাওয়াটাকে তিনি দারুন ভালোবাসেন। জীবনটা তো একটি উপহার। কারণ, এ জীবনে তাঁর কথামত চললে আপনার জন্য আছে অকল্পনীয় চিরসুখের জান্নাত। পাবেন চিরস্থায়ী জীবন। ভোগ বিলাস এবং আনন্দ ফুর্তি করতে পারবেন চিরকাল। আরো আছে মহাবিশ্বের মালিকের চিরকালীন সন্তুষ্টি। তিনি কোনোদিন জান্নাতবাসীদের উপর অসন্তুষ্ট হবেন না। পৃথিবীর গাছপালা, পশুপাখির তো জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু মানুষের আছে। তাই, এ মহা সুযোগটাকে কাজে লাগান। আমাদের তিনি...

অস্থায়ী ধার্মিকতা ফলপ্রদ নয়

ছবি
  অস্থায়ী ধার্মিকতা ফলপ্রদ নয় —ইয়াসির কাদি কুরআন থেকে আজকের শিক্ষাটি হলো সূরা হূদের একটি আয়াত— فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ - ফাসতাক্বিম কামা উমিরতা। “দৃঢ়ভাবে লেগে থাকো এবং দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলো যেভাবে তোমাকে আদেশ করা হয়েছে”। ফাসতাক্বিম। (اِسْتِقَامَةْ) ইসতিক্বমাতের ইসলামী ধারণাটি সংরক্ষিত আছে সূরা ফাতিহায় যা আমরা প্রতিদিন কমপক্ষে ১৭ বার পাঠ করি, যেখানে আমরা বলি— اهْدِنَا الصِّرٰطَ الْمُسْتَقِيمَ - ইহদিনাস সিরাতাল-মুসতাক্বিম। ফাসতাক্বিম শব্দটিও একই ধারণা প্রকাশ করে—(اِسْتِقَامَةْ) ইসতিক্বমাহ। দৃঢ় থাকা, অটল থাকা, দৃঢ়পদে এগিয়ে চলা, আশা ছেড়ে না দেয়া। আর অবিচল থাকার এই ধারণাটি, ইসতিক্বমাতের এই ধারণাটি, এটি কুরআনের নিরবচ্ছিন্ন একটি থীম। বারবার আলোচিত মৌলিক ধারণাগুলোর একটি। এখানে আমি আপনাদেরকে সূরা হূদ থেকে উদ্ধৃতি দিলাম। কিন্তু এ বিষয়ে আমি আরো অর্ধডজন আয়াতের উদ্ধৃতি দিতে পারবো।  উদাহরণস্বরূপ, মহান আল্লাহ বলেছেন, شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰ أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَ...

তাওবা এবং নিজের সংশোধন

ছবি
  তাওবা এবং নিজের সংশোধন ------------------------------------- পৃথিবীতে এমন কোনো পাপ নেই যা ক্ষমারযোগ্য নয়। পৃথিবীতে কৃত সকল পাপ ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য। এ ক্ষমা পাওয়ার জন্য আপনাকে তাওবা করতে হবে। সূরা আলে ইমরানে আল্লাহ তায়ালা বলেন- "আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করতে চাইবে কক্ষনো তার সেই দ্বীন কবূল করা হবে না এবং আখেরাতে সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ কীরূপে সেই সম্প্রদায়কে সুপথ দেখাবেন যারা ঈমান আনার পর, এ রসূলকে সত্য বলে স্বীকার করার পর এবং তাদের নিকট সুস্পষ্ট দলীল আসার পর কুফরী করে? বস্তুতঃ আল্লাহ যালিম কওমকে পথ দেখান না। এরাই তারা যাদের প্রতিফল এই যে, তাদের প্রতি আল্লাহর, ফেরেশতাদের এবং সমুদয় মানবের অভিসম্পাত। তারা ওতেই চিরকাল থাকবে, তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে বিরামও দেয়া হবে না।" তাহলে দেখা যাচ্ছে এদের উপর আল্লাহ দারুণ অসন্তুষ্ট। এদের অপরাধ ছোটো কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু এখন ঠিক এর পরের আয়াতটি খেয়াল করুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এমনকি এদেরকেও বাঁচার একটি পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন- "কিন্তু তারা ছাড়া যারা এরপর...

কেয়ামত সম্পর্কে জানা যায় সুরা ওয়াকিয়ায়

ছবি
  সুরা ওয়াকিয়ায় বলা হয়েছে কিয়ামতের দিন মানুষের বিভিন্ন অবস্থা ও অবস্থানের কথা। বলা হয়েছে যে কিয়ামতের দিন পৃথিবী প্রকম্পিত হবে এবং পাহাড় ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। শেষ বিচারের দিন মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত হবে—১. আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তরা, ২. ডান হাতের সঙ্গীরা, এবং ৩. বাম হাতের সঙ্গীরা। হজরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.)–এর দেওয়া বর্ণনা আছে যে, ‘প্রতি রাতে যে সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করে, দারিদ্র্য কখনো তাকে স্পর্শ করবে না।’ এ জন্য এই সুরাটিকে সুরা গনি বা ধন লাভের সুরা-ও বলা হয়। সুরা ওয়াকিয়ায় আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা ভাগ হয়ে যাবে তিন ভাগে। তখন ডান হাতের সঙ্গীরা? কী হবে ডান হাতের সঙ্গীদের? আর বাম হাতের সঙ্গীরা? কী হবে বাম হাতের সঙ্গীদের? আর যারা আগে যাবে তারা তো আগেই থাকবে ।’ কিয়ামতে মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত হবে: সৌভাগ্যবান, দুর্ভাগা, ভালো কাজে অগ্রগামীরা। ভালো কাজে অগ্রগামী কারা? তারা পাবে অনন্ত পুরস্কার। তারা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত। সৌভাগ্যবান লোকদের থাকবে পুরস্কার। সৌভাগ্যবান লোক হবে কারা? দুর্ভাগা লোক হবে কারা? দুর্ভাগাদের পরকালীন কঠিন শাস্তির বিবরণ। পুনরুত্থানের পক্ষে অকাট্য যুক্তি। কো...