পোস্টগুলি

প্রকাশ্যে প্রথম কোরআন তিলাওয়াত করেন তিনি

  হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)–র আবেগময় কোরআন তিলাওয়াতের প্রশংসা করে রাসুল (সা.) বলেছেন, কোরআর যেভাবে নাজিল হয়েছে, কেউ যদি সে অনুসারে সুন্দরভাবে তা তিলাওয়াত করে আনন্দ পেতে চায়, তাহলে সে যেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর মতো করে কোরআন তিলাওয়াত করে। মহানবী (সা.) হিজরতের আগে মক্কায় মুসলমানদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের অসম্ভব কঠিন এক পরিস্থিতি। তাকে উপেক্ষা করে মক্কার বায়তুল্লাহ প্রাঙ্গণে মহানবী (সা.)–এর সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) প্রকাশ্যে কোরআন তিলাওয়াত করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি কাবা শরিফে মাকামে ইবরাহিমের কাছে দাঁড়িয়ে উচচরবে সুরা আর রহমানের কিছু অংশ তিলাওয়াত করেন। কুরাইশ নেতারা তা শুনে হতবাক হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তারা তাঁর দিকে ছুটে গিয়ে নির্দয়ভাবে তাঁর মুখে আঘাত করতে থাকে। নির্যাতনের পরও তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর শত্রুরা আমার কাছে খুবই তুচ্ছ। আমি আবারও গিয়ে তাদের সামনে কোরআন তিলাওয়াত করব। তিনিই প্রথম মুসলমান যিনি প্রকাশ্যে কোরআন তিলাওয়াত করেছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)–র জন্ম মক্কায়। খুব অল্প বয়সে ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করেন তিনি। ইসলাম গ্রহণের তা...

তাহাজ্জুদের সওয়াব মেলে যে আমলে

  মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ আমল হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক মুসলিমের পক্ষে শেষ রাতে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা সম্ভব হয় না। তাদের জন্য চমৎকার একটি সমাধান রয়েছে, এমন সাতটি আমল রয়েছে, যেগুলো আদায় করলে বা বাস্তবায়ন করলে শেষ রাতে জেগে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় না করেও তাহাজ্জুদ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করা সম্ভব তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার সময় হলো শেষ রাত; রাতের চতুর্থ প্রহর। রাতের চারটি প্রহর সম্পর্কে কবি লিখেছেন, ‘প্রথম প্রহরে সবাই জাগে, দ্বিতীয় প্রহরে ভোগী। তৃতীয় প্রহরে তস্কর (চোর) জাগে, চতুর্থ প্রহরে যোগী (সাধক)।’ আবু হুরায়রা (রা.)–র বর্ণনায় আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ–তাআলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন, কে আছে এমন—যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছে এমন—যে আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দেব। কে আছে এমন—আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (বুখারি, হাদিস: ১,১৪৫)রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনায় আছে যে তিনি বলেন, হে আবদুল্ল...

যে আমলে রিজিক বৃদ্ধি পায়

  আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা যেসব কাজ বা আমলে রিজিকে প্রবৃদ্ধি ঘটে; তার মধ্যে তাকওয়া-পরহেজগারি অবলম্বন করা এবং তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা অন্যতম। আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আর যে আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করবে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেবেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন, যার কল্পনাও সে করতে পারবে না ।’ (সুরা সাদ, আয়াত: ৩৫) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি যথার্থভাবে ভরসা রাখো। তিনি তোমাদের সেভাবে রিজিক দান করবেন, যেভাবে তিনি পাখিদের দান করে থাকেন। পাখিরা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় (খালি পেটে) বাসা থেকে বের হয় এবং সন্ধ্যায় উদর পূর্ণ করে বাসায় ফেরে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২,৩৪৪; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪,১৬৪) তওবা-ইস্তিগফার করা তওবা-ইস্তিগফার করার মাধ্যমে বান্দার রিজিক বাড়ে। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তাদের বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে উন্নতি দান করবেন এবং তোমাদের বাগবাগিচা এবং নদীনালা দান...

বান্দার ডাকে আল্লাহর সাড়া

  আল্লাহ আমাদের দোয়া করতে বলেছেন। যে পাপ করেছি, মাফ পেতে আল্লাহর সামনে মাথা নত করতে হবে, সঙ্গে বুকে আশা রাখতে হবে—আল্লাহ নিশ্চয়ই মাফ করবেন। আল্লাহ বলেছেন, তাঁকে ডাকতে। ডাকলে তিনি সাড়া দেবেন। অন্যায় কাজে সহায়তা পেতে আল্লাহকে ডাকলে তিনি কবুল করবেন না। আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য দোয়া করলে কাজে লাগবে না। যে দোয়ায় ঠোঁট নড়ে, কিন্তু হৃদয়ের স্পর্শ নেই, সেই দোয়া দুর্বল।হজরত আনাস (রা.)–র বর্ণনায় একটি হাদিস আছে। তিনি রাসুল (সা.)–কে বলতে শুনেছেন: আল্লাহ বলেছেন, ‘হে আদম সন্তান! যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে (ক্ষমা) প্রত্যাশা করবে, তুমি যা-ই প্রকাশ হোক না কেন, আমি তা ক্ষমা করে দেব—আর আমি কোনো কিছুর পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গোনাহ্ যদি আকাশ সমান হয়ে যায়, আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তাহলে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। হে আদম সন্তান! যদি তুমি পৃথিবী পরিমাণ গোনাহ্ নিয়ে আমার কাছে আস এবং আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরীক না করে (আখেরাতে) সাক্ষাৎ করো, তাহলে আমি সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করব।’ (তিরমিজি)

যে কারণে রিজিক কমে যায়

  রিজিক নির্ধারিত থাকার পরও কিছু কাজ বা আমলের মাধ্যমে এটি বাড়ানো সম্ভব। আবার কিছু কাজে রিজিক ক্ষতিগ্রস্তও হয়। আল্লাহ–কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি বলো! নিশ্চয় আমার রব যাকে ইচ্ছা তার রিজিক সম্প্রসারিত করে দেন আর যাকে ইচ্ছা তার রিজিক সংকুচিত করে দেন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’ (সুরা সাবা, আয়াত: ৩৬) বেশ কিছু কাজে মানুষের রিজিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় । কাজগুলো হলো: মিথ্যা কসম খাওয়া ও ধোঁকা দেওয়া মিথ্যা কসম খাওয়া এবং মানুষকে ধোঁকা দিলে আয়-উপার্জনের বরকত চলে যায়। আর বরকত চলে যাওয়া মানে রিজিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বেচাকেনা করার সময় তোমরা অধিক কসম করা থেকে সাবধান থেকো। কারণ, মিথ্যা কসমের দ্বারা বিক্রি বেশি হয়, কিন্তু বরকত ধ্বংস হয়ে যায়।’ (মুসলিম, হাদিস: ১,৬০৭) রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘ক্রেতা ও বিক্রেতা যতক্ষণ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করা কিংবা বাতিল করার সুযোগ রয়েছে। যদি তারা সত্য বলে এবং পণ্যের প্রকৃত অবস্থা ব্যক্ত করে, তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে। আর যদি মিথ্যা বলে এবং পণ্যের দোষ গোপন করে, তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত ...

রমজান: দুর্বল বান্দার জন্য আল্লাহর রহমত

  প্রিয় রমজান আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। রমজান শুধু একটি মাস নয়, এটি আল্লাহ–তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য বিশেষ এক সুযোগ। কেউ এই মাসকে স্বাগত জানায় পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে, আবার কেউ আসে অসুস্থ শরীর, ক্লান্ত মন আর অপূর্ণ ইচ্ছা নিয়ে। কিন্তু রমজানের দরজা সবার জন্যই খোলা—সুস্থ ও অসুস্থ, শক্ত ও দুর্বল, প্রস্তুত ও অপ্রস্তুত সবার জন্য। এই লেখা তাঁদের জন্য, যাঁরা চাইছেন কিন্তু পারছেন না, চেষ্টা করছেন কিন্তু পিছিয়ে পড়ছেন। আবার তাঁদের জন্যও, যাঁরা পারছেন—তাঁরা যেন ভুলে না যান যে আল্লাহ–তাআলা বান্দার শুধু আমল নয়, বরং অন্তর দেখেন। ১. সবার প্রস্তুতি এক নয় আমরা জানি সবার প্রস্তুতি কখনো এক হয় না। কেউ অনেক আগেই পরিকল্পনা গুছিয়ে ফেলেছেন, কেউ আবার হয়তো অসুস্থতা, ব্যস্ততা বা সফরের কারণে পিছিয়ে আছেন। এতে অনেকের মনে আফসোস কাজ করে। কিন্তু আল্লাহ–তাআলা কাউকে তাঁর বাস্তবতার বাইরে দাঁড় করিয়ে বিচার করেন না। কোরআনে বলা হয়েছে, “আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।” (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৬) ২. আল্লাহ অন্তরের খবর জানেন আমরা যাঁর ইবাদত করতে চাই, তিনি আমাদের পরিস্থিতি বোঝেন। কে কতটা পারছে আর কে কতটা চ...

মঙ্গোলীয় ঝঞ্ঝা প্রতিরোধ ও ইসলামের ইতিহাসের বাঁকবদল

  ৯১ হিজরির পহেলা রমজানে আন্দালুস বিজয়ের যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, তার প্রায় ৬০০ বছর পর ৭০২ হিজরির ২ রমজানে সিরিয়ার মাটিতে রচিত হয়েছিল আরেক মহাকাব্য। সেদিন মঙ্গোলীয় বাহিনী বা তাতারদের সেই প্রলয়ঙ্করী তুফানকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল মুসলিমরা, যারা ইতিপূর্বে অর্ধেক পৃথিবীকে তাদের ঘোড়ার খুরের নিচে পিষ্ট করেছিল। ‘শাকহাবের যুদ্ধ’ (Battle of Shaqhab) কেবল একটি সামরিক বিজয় ছিল না, বরং এটি ছিল মুসলিম সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার এক চূড়ান্ত লড়াই। মঙ্গোলীয় আগ্রাসন সপ্তম হিজরি শতকে মুসলিম বিশ্ব এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হয়। পূর্ব দিক থেকে আসা মঙ্গোলীয় ঝঞ্ঝা তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে দিয়েছিল আব্বাসীয় খেলাফত ও আইয়ুবীয় সালতানাতকে। যদিও ৬৫৮ হিজরির ২৫ রমজানে ঐতিহাসিক ‘আইন জালুত’ যুদ্ধে সুলতান সাইফউদ্দিন কুতুজের নেতৃত্বে মুসলিমরা বড় বিজয় অর্জন করেছিল, তবুও মঙ্গোলদের সিরিয়া ও মিশর দখলের লালসা কমেনি। (ইমাম জাহাবি,  সিয়ারু আলামিন নুবালা , ২৩/২০০, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১৯৮৫) সুলতান আল-নাসির মুহাম্মদ ইবনে কালাউনের শাসনামলে এই সংকট চূড়ান্ত রূপ নেয়। মঙ্গোল নেতা গাজান খান এক লাখেরও বেশি সেনার এক বিশাল বাহ...