পোস্টগুলি

আয়–উপার্জনে বরকত পেতে নবীজির শেখানো ৫ আমল

  পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষই সচ্ছলতা ও রিজিকের সন্ধানে ছুটে বেড়ায়। কিন্তু শুধু প্রচুর অর্থ উপার্জন করলেই জীবনে শান্তি বা ‘বরকত’ আসে না। বরকত হলো অল্প সম্পদেও পর্যাপ্ত কল্যাণ ও প্রশান্তি লাভ করা, যা শুধু আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। মহানবী (সা.) উম্মতকে এমন কিছু আমল শিখিয়েছেন, যা দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলন করলে আয়-উপার্জনে বিশেষ বরকত ও প্রাচুর্য নেমে আসে। আয়-উপার্জনে বরকত লাভের ৫টি পরীক্ষিত আমল আলোচনা করা হলো। যে ব্যক্তি চায় যে তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৬৭ ১. আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা রক্তের সম্পর্ক বা আত্মীয়তার বন্ধন (সিলাতুর রাহিম) অটুট রাখা রিজিক প্রশস্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ব্যস্ততার অজুহাতে আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর না নেওয়া বা সম্পর্ক ছিন্ন করা সম্পদ ও আয়ু থেকে বরকত নষ্ট হওয়ার বড় কারণ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় যে তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৬৭) ২. ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় র...

শয়তান যেভাবে দাম্পত্য জীবনে অশান্তির সূচনা করে

  পবিত্র কোরআনে স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের ‘পোশাক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেহেতু এই পবিত্র বন্ধন আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয়, তাই শয়তানের (ইবলিস) কাছে এটি সবচেয়ে ঘৃণিত। শয়তানের প্রধান লক্ষ্যই হলো যেকোনো উপায়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে একটি পরিবার ভেঙে দেওয়া। দাম্পত্য জীবনে শয়তান যেসব সুকৌশলে অশান্তির সূচনা করে, তা আলোচনা করা হলো। ইবলিস পানির ওপর তার সিংহাসন স্থাপন করে এবং মানুষের মাঝে ফিতনা সৃষ্টির জন্য তার বাহিনীকে পাঠায়... তাদের মধ্যে একজন এসে বলে, আমি অমুক স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ছেড়েছি; তখন ইবলিস তাকে বুকে টেনে নেয় এবং বলে, তুমিই সবচেয়ে ভালো কাজ করেছ। সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮১৩ বিয়েবিচ্ছেদে শয়তানের সর্বোচ্চ আনন্দ শয়তানের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ বা তালাক ঘটাতে পারা। মহানবী (সা.) একটি চমৎকার উপমার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইবলিস পানির ওপর তার সিংহাসন স্থাপন করে এবং মানুষের মাঝে ফিতনা সৃষ্টির জন্য তার বাহিনীকে পাঠায়... তাদের মধ্যে একজন এসে বলে, আমি অমুক স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ছেড়...

প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে খলিফা ওমর (রা.) যে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন

  প্রশাসনিক ভিত্তি যদি কঠোর নীতি, নৈতিকতা ও জবাবদিহির ওপর প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে তা অচিরেই অনিয়ম ও স্বৈরাচারে রূপ নেয়। খলিফা ওমর (রা.) এটি গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্রীয় পদ বা শাসনক্ষমতা কোনো ব্যক্তির জন্য ব্যক্তিগত সম্মান বা ভোগের বিষয় নয়, বরং এটি জনগণের আমানত এবং আল্লাহর দরবারে চূড়ান্ত জবাবদিহিতার এক গুরুদায়িত্ব। পূর্বের ইরাক থেকে শুরু করে পশ্চিমে মিসর পর্যন্ত বিস্তৃত এই সুবিশাল সাম্রাজ্য মদিনায় বসে একা খলিফার পক্ষে এককভাবে পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। ফলে প্রাদেশিক গভর্নর (ওয়ালি) নিয়োগ এবং তাদের ওপর সুদৃঢ় প্রশাসনিক নজরদারি বজায় রাখা হয়ে উঠেছিল তার শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তিনি প্রশাসনিক সংস্কার, আমলাদের ওপর তদারকি এবং জনগণের অভিযোগ সরাসরি শোনার এমন একটি উন্নত কাঠামো দাঁড় করিয়েছিলেন, যা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্যও অনুকরণীয় মডেল। মর্যাদায় নয়, যোগ্যতায় নিয়োগ তাঁর প্রধান কৌশল ছিল প্রশাসনিক কর্মকর্তা নির্বাচনে কঠোর বস্তুনিষ্ঠতা। তিনি ধর্মীয় জ্যেষ্ঠতাকে প্রশাসনিক যোগ্যতার বিকল্প মনে করতেন না। কোনো মানুষ ব্যক্তিগত জীবনে সৎ হতে পারেন, কিন্তু প্রশাস...

বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে মহানবী (সা.) যে ৩ শর্ত বলেছেন

  বিয়ে মানবজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী একটি সিদ্ধান্ত। একটি সঠিক সিদ্ধান্ত যেমন জীবনকে বেহেশতি শান্তিতে ভরিয়ে দিতে পারে, তেমনি একটি ভুল নির্বাচন পুরো জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।  বর্তমান সমাজে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাহ্যিক সৌন্দর্য, অর্থসম্পদ বা সামাজিক প্রতিপত্তিকেই মূল মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ইসলামে একটি টেকসই ও প্রশান্তিময় দাম্পত্য জীবনের জন্য মহানবী (সা.) সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বাস্তবমুখী কিছু মাপকাঠি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ১. ধর্মীয় মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নবীজির সবচেয়ে বড় এবং প্রথম শর্ত হলো তার ধার্মিকতা। রূপ, সম্পদ বা বংশমর্যাদা মানুষের সাময়িক অহংকারের বস্তু হতে পারে, কিন্তু এগুলো কখনোই দাম্পত্য জীবনে স্থায়ী শান্তি দিতে পারে না।মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘চারটি বিষয় দেখে কোনো নারীকে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার ধার্মিকতা। সুতরাং তুমি ধার্মিক নারীকে লাভ করে বিজয়ী হও, (অন্যথায়) তোমার হাত ধুলোমলিন হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৯০) অর্থাৎ, অন্যান্য গুণাবলি থাকলেও ধার্মিকতা না থাকলে সেই ব...

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল নিউজ: মুমিনের ৬ করণীয়

  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কন্টেন্ট (আধেয়) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের চিন্তা-চেতনা ও কাজকর্মে প্রভাব ফেলছে—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। ভাইরাল কোনো সংবাদ, ছবি বা ভিডিও এবং তা নিয়ে বিতর্ক এখন নিত্যদিনের ঘটনা। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া কোনো কন্টেন্টের প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, একজন মুমিনের জন্য তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়। ভার্চুয়াল মাধ্যমে মিথ্যার পরিণতি  এ যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু শেয়ার করা মানে অন্যের কথা প্রচার করা। স্ট্যাটাস দেওয়া মানে জনসমক্ষে নিজের মত জানানো। কারও পোস্ট বা ছবিতে মন্তব্য করা আর বাস্তবে কারও সম্পর্কে মন্তব্য করা একই কথা। ফলে কথা বলা, দেখা ও প্রচার করা নিয়ে কোরআন-হাদিসে যে নির্দেশনা আছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রেও তা-ই প্রযোজ্য। বরং বাস্তব জীবনের মিথ্যার চেয়ে অনলাইনে এই জগতের মিথ্যা বেশি ক্ষতিকর। কারণ তা অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং দীর্ঘদিন থেকে যায়। মহানবী (সা.) স্বপ্নে এক ব্যক্তির শাস্তি দেখেছিলেন, যার মিথ্যা মানুষ বহন করে নিয়ে যেত এবং তা দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ত। কেয়ামত পর্যন্ত তাকে এই শাস্তি দেওয়া হবে। (সহিহ বুখ...

ইসলামি আইনে ঘুষ খাওয়ার শাস্তি কী

  ঘুষ শুধু একটি অনৈতিক কাজ বা সামাজিক অপরাধই নয়, এটি ইসলামের দৃষ্টিতে মহাপাপ। অনেকেই জানতে চান, এই অপরাধের জন্য ইসলামি আইনে সুনির্দিষ্ট কোনো শাস্তি রয়েছে কি না। ইসলামি আইনের পরিভাষায় ঘুষ খাওয়ার সুনির্দিষ্ট শাস্তি এবং এর আইনি বিধান আলোচনা করা হলো। ঘুষের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি ইসলামে ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়কেই অভিশপ্ত বলা হয়েছে। মহানবী (সা.) কঠোর ভাষায় এই অপরাধের নিন্দা জানিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৮০) অপর একটি হাদিসে বলা হয়েছে, ‘ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ই দোজখে যাবে।’ (আল-মুজামুল আওসাত, তবারানি, হাদিস: ৩৮৯৯) অবৈধভাবে মানুষের সম্পদ গ্রাস করার নিন্দা জানিয়ে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ কোরো না...।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮) ঘুষ কী ধরনের অপরাধের অন্তর্ভুক্ত ইসলামি দণ্ডবিধির পরিভাষায় ঘুষ এমন একটি অপরাধ, যার জন্য কোরআন বা হাদিসে কোনো নির্দিষ্ট বা অপরিবর্তনযোগ্য শাস্তির (যেমন—চুরির জন্য হাত কাটা বা ব্যভিচারের জন্য চাবুক) পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। তাই ঘুষ খাওয়া ‘হদ’ অপরাধের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি ‘তাজির’ বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ...

কুকুর পোষা পাপ আর বিড়াল পোষা কি সুন্নত

  প্রাণী পালন নিয়ে একটি কথা খুব প্রচলিত—‘কুকুর পোষা পাপ, আর বিড়াল পোষা সুন্নত’। সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা এতটাই বদ্ধমূল যে অনেকেই কুকুরকে ঘৃণার চোখে দেখেন, আবার বিড়ালকে পরম আদরে ঘরে স্থান দেন। ইসলাম মূলত সব সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার ধর্ম। প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট কিছু ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা রয়েছে। প্রচলিত এই কথার ভিত্তি এবং কুকুর ও বিড়াল পালনের প্রকৃত ইসলামি বিধান কী, তা বিশ্লেষণ করা হলো। শখ করে কুকুর পোষার বিধান বিনা প্রয়োজনে শুধু শখ করে বা আভিজাত্য প্রকাশ করতে ঘরের ভেতর কুকুর পোষা ইসলামে নিষিদ্ধ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে কুকুর বা প্রাণী ও মানুষের ছবি থাকে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২২৫) হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদিপশু পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পোষে, তার আমল থেকে প্রতিদিন দুই ‘কিরাত’ পরিমাণ পুণ্য কমে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৭৫) মূলত কুকুরের লালা অপবিত্র এবং এর থেকে বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকির কারণে ইসলাম একে মানুষের বাসস্থানে রাখতে নিরুৎসাহিত করেছে। প্রয়োজনে কুকুর পোষা কি পাপ কুকুর পোষা মানেই প...