প্রতিদিন কুরআন পড়ার অভ্যাস
আল্লাহর প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা না থাকলে, প্রতিদিন কুরআন পড়ার অভ্যাসটা ঠিক রাখা যায় না। ইমাম সুফিয়ান সাওরি (রাহ.) কোনোদিন মাত্রাতিরিক্ত ব্যস্ততায় আটকে গেলে, অন্তত কুরআন খুলে চোখ বুলিয়ে নিতেন। এটি না করলে তাঁর ভালো লাগতো না। পূর্বসূরি নেককার ব্যক্তিরা এমনই ছিলেন।. আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মানুষের মধ্য হতে আল্লাহর কিছু বিশেষ লোক রয়েছে।’’ তাঁকে বলা হলো, ‘আল্লাহর সেই বিশেষ লোকগুলো কারা?’ উত্তরে তিনি বলেন, কুরআনওয়ালারাই (কুরআন বুঝে পাঠকারী ও সে অনুযায়ী আমলকারী) হলো আল্লাহর বিশেষ লোক।” [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১২২৭৯; আলবানি, সহিহুল জামি’: ২১৬৫; হাদিসটি সহিহ] . জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এই কুরআন (কিয়ামতে) সুপারিশকারী; তার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (কুরআন) সত্যায়নকারী প্রতিবাদী। যে ব্যক্তি তাকে সামনে রাখবে, সেই ব্যক্তিকে সে পথ দেখিয়ে জান্নাতে নিয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি তাকে পেছনে রাখবে, সেই ব্যক্তিকে সে জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করবে।” [ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ১২৪; আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৪২৩; হাদিসটি সহিহ]
*************************************************************************************
নবিজিকে আল্লাহ তা‘আলা এত মর্যাদা দিয়েছেন যে, স্বপ্নের মাঝেও শয়তান তাঁর আকৃতি ধারণ করতে পারে না।
.
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখলো, সে (প্রকৃতপক্ষে) আমাকেই দেখলো। কারণ, শয়তানের আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।’’ [মুসলিম, আস-সহিহ: ৫৮১৬]
.
তবে, শয়তান মিথ্যা বলে অন্যভাবে ধোঁকা দিতে পারে। যেমন: যে নবিজির সুরত ধরতে না পেরে অন্য কোনো সুদর্শন ব্যক্তির সুরত ধরে দাবি করতে পারে যে, সে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এভাবে সে বিভ্রান্ত করতে পারে। এর সমাধান হিসেবে আলিমগণ বলেছেন—কেউ যদি নবিজিকে স্বপ্নে দেখে, তাহলে সে হাদিসে বর্ণিত নবিজির অবয়বের সাথে মিলিয়ে নেবে। যদি সে হাদিসের বর্ণনা এবং স্বপ্নে দেখা চেহারার মাঝে মিল পায়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই সে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছে।
.
আলি (রা.)-এর সন্তান হাসান (রা.) দেখতে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো ছিলেন।
.
আসিম ইবনু কুলাইব বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন: আমি (নবিজির চাচাতো ভাই) ইবনু আব্বাস (রা.)-কে বলেছি, ‘আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখেছি।’ তিনি বললেন, ‘আমার কাছে তার বর্ণনা দাও।’ তিনি বললেন, ‘আমি (নবিজির নাতি) হাসান ইবনু আলির উল্লেখ করলাম এবং বললাম যে, তিনি তাঁর মতো দেখতে।’ ইবনু আব্বাস (রা.) বললেন, ‘তুমি অবশ্যই তাকে দেখেছো।’ [ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি: ১২/৩৮৩, ৩৮৪]
.
নবিজিকে স্বপ্নে দেখা সাধারণভাবে সৌভাগ্যের আলামত। আল্লাহ আমাদেরকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নযোগে দেখার তাওফিক দান করুন।
collected
.
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন