দুনিয়ার বিপদ-আপদ
দুনিয়ার বিপদ-আপদ আখিরাতের জন্য কামাইস্বরূপ। আল্লাহ কখনও তাঁর প্রিয় বান্দাকে দুনিয়াতে শাস্তি দিয়ে দেন, যাতে আখিরাতে তার শাস্তি মওকুফ করতে পারেন।. আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার কল্যাণ চান, তখন তিনি তাকে দ্রুত দুনিয়াতে শাস্তি দিয়ে দেন। আর, যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার অকল্যাণ চান, তখন তিনি তাকে (শাস্তিদানে) বিরত থাকেন। পরিশেষে কিয়ামতের দিন তাকে পুরোপুরি শাস্তি দেবেন।’’ [মুসলিম, আস-সহিহ: ২৩৯৬] . সুতরাং, বিপদ-আপদ আসলে কখনই বলবেন না, ‘সবসময় শুধু আমিই কেনো? অন্যদের কেনো বিপদ আসে না?’ . কারণ হতে পারে আপনার এমন কোনো কাজ আছে, যেটি আল্লাহ্ খুব পছন্দ করেছেন। তাই, তিনি চান আপনি আখিরাতে নিরাপদ থাকুন। সেজন্য দুনিয়াতেই আপনাকে মুসিবত, অসুস্থতা ইত্যাদির মাধ্যমে ঝালিয়ে নেন; গুনাহ মাফ করিয়ে নেন। ফলে আপনি আখিরাতে ভালো একটি অবস্থানে থাকবেন। কখনও বিপদ আসে পরীক্ষা হিসেবে। আল্লাহ দেখতে চান, বান্দা বিপদে কেমন আচরণ করে, কীভাবে বিপদকে মোকাবেলা করে। সে কি আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে নাকি বেসামাল হয়ে পড়ে। . সবার ক্ষেত্রে আল্লাহ একই কাজ করেন না। তিনি কাউকে সরাসরি ক্ষমা করে দেন, কাউকে অসুস্থতার মাধ্যমে, কাউকে মুসিবতের মাধ্যমে আবার কাউকে বিশেষ নেক আমলের উসিলায় ক্ষমা করে দেন। সুতরাং স্বাচ্ছন্দ্য এবং কষ্ট সর্বদা আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখুন। . রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “হে আবু বকর, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন; তুমি কি অসুস্থ হও না? তুমি কি কষ্ট পাও না? তুমি কি দুঃখ-দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হও না? মুসিবত তোমাকে কি পিষ্ট করে না?’’ আবু বকর বলেন, ‘অবশ্যই।’ তখন নবিজি বললেন, ‘‘এগুলো তোমাদের (গুনাহের) প্রায়শ্চিত্ত।” [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৭০; হাদিসটি সহিহ] . আবু বকর (রা.)-ও দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত ছিলেন না, সুবহানাল্লাহ। . রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘মুমিন নারী-পুরুষের নিজ জীবনে, তাদের সন্তানাদির জীবনে ও মাল-সম্পদে সর্বদা বিপদাপদ লেগেই থাকে। অতঃপর সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে এমন অবস্থায় যে, তার কোনো পাপই থাকে না।’’ [তিরমিযি, আস-সুনান: ২৩২০; হাদিসটি সহিহ]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন