আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাঃ) - প্রথম অংশ
রহমতের নবী (সাঃ) ঘুমিয়ে আছেন। ঘুমঘোরে স্বপ্নে আসলেন এক ফেরেশতা যার হাতে আছে এক খন্ড রেশমী রুমাল। রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন কি এটা। ফেরেশতা বললেন আপনি সরিয়ে দেখেন। তিনি সরিয়ে ফেলেই দেখলেন। এ তো এক ছোট্ট বালিকার মুখবায়ব। চেনা চেনা লাগছে... এ তো তাঁর প্রিয় আবু বকর (রাঃ) এর কন্যা আয়েশা (রাঃ)। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আমাকে কেন দেখানো হচ্ছে , ফেরেশতা জবাব দিলেন ইনিই সে সৌভাগ্যবতী যিনি এ জীবনে এবং পরজীবনেও আপনার স্ত্রী হবেন। আয়েশা (রাঃ) হয়ে উঠবেন প্রিয়দের মাঝেও প্রিয়তমা এবং ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিবে বিরহব্যথা। রাসুল (সাঃ) ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং ভাবনায় পড়ে গেলে তিনি কি অলীক স্বপ্ন দেখলেন নাকি ওহীর সত্যাদর্শন। এক ছোট্ট বালিকা যাকে কিনা তাঁর মা উম্মে রুমান ঘরেই রাখতে পারেনা সারাদিন হইহই করে বেড়ায়। কিছুদিন আগেও তিনি দেখেছন তাঁর বান্ধবিদের সাথে পুতুল খেলতে। আর সেই বালিকাই ভালোবাসা দিয়ে বিরহব্যথা ভুলিয়ে দেবে। এই বয়সী একটা মেয়ে ভালোবাসার অর্থ বা কি বুঝবে! এভাবে তিনি তিন দিন একই স্বপ্ন দেখলেন। এখন রাসুল (সাঃ) এর মনে কোনো দ্বিধা নেই কোনো শঙ্কা নেই। তিনি বুক পেতে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা পয়গাম মেনে নিলেন। যে প্রেমকাহিনী শত-সহস্র বছর ধরে প্রতিটা মানুষকে শেখাবে ভালোবাসার প্রথম ও শেষ সবক। যে ভালবাসা দিয়ে রচিত হবে অনাগত লাখো দম্পত্তির প্রেমজীবন। খাদিজা (রাঃ) চলে যাবার পর রাসুল (সাঃ) প্রিয় বন্ধু আবু বকরের (রাঃ) বাসায় যান একাকিত্ব কাটাতে। রাসুল (সাঃ) বাড়ির আঙিনায় এসেই দেখলেন আয়েশা (রাঃ) তাঁর বান্ধবীদের নিয়ে পুতুল খেলছেন। কোনাে দিকে তাঁর কোনাে মনােযােগ নেই। একমাত্র মনােযােগ পুতুলের দিকে। তাকে এভাবে খেলতে দেখে রাসুল (সাঃ) এর মনে খানিকটা কৌতূহল হলাে। তিনি এগিয়ে এলেন ছােট্ট আয়েশা (রাঃ) দিকে। তাঁর কাছে এসে বললেন, কী করাে আয়েশা (রাঃ)? তােমার হাতে ওটা কী? আয়েশা (রা) তাে আয়েশাই, শিশুর মতােই তার উত্তর, 'এটা তাে ঘােড়া।' রাসুল(সাঃ) অবাক হওয়ার ভান করে বললেন, 'আচ্ছা, কিন্তু তােমার ঘােড়ার যে পাখা আছে দেখছি। ঘােড়ার পাখা হয় বুঝি? আয়েশা (রাঃ) ও ছেড়ে কথা বললেন না। বুদ্ধিমতী আর প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছয় বছর বয়সী আয়েশা (রাঃ) সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, 'কেন থাকবে না? আল্লাহর নবি সুলায়মান (আ.)-এর ঘােড়ার তাে পাখা ছিল।' তাঁর এমন জবাব শুনে রাসুল (সাঃ) দারুণভাবে হেসে উঠলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা পরবর্তী সময়ে বর্ণনা করেন, সেদিন আমার কথায় রাসুল (সাঃ) এমনভাবে হাসছিলেন যে, আমি তার মুখের উজ্জ্বল মাড়ি পর্যন্ত দেখতে পেয়েছিলাম।' রাসুল (সাঃ) আয়েশা (রাঃ) এর দুরন্ত মেধা আর প্রখর স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে আগে থেকেই জানতেন। কিন্তু আজকের ঘটনাটি যেন তার মনে নতুন করে দাগ কেটে গেল। তিনি আয়েশা (রাঃ) এর দিকে তাকিয়ে ভাবলেন-এ কারণেই কি আল্লাহ এই মেয়েকে আমার সহধর্মিণী হিসেবে নির্বাচন করেছেন? তাঁর প্রতিভা আর স্মৃতিশক্তির মাঝেই কি নিহিত আছে আমার উম্মতের ভবিষ্যৎ কোনাে অন্তর্নিহিত সফলতা? বস্তুত পরবর্তী জীবনে সেটাই হয়েছিল। সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাতজন সাহাবির মধ্যে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা অন্যতম। তিনি এককভাবে প্রায় ২ হাজার ২১০টি হাদিস বর্ণনা করেন। রাসুল (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর তিনি যখন কোনাে মাসআলার ব্যাপারে মতামত পেশ করতেন, তখন সমগ্র মুসলিম সালতানাতে তার বিরুদ্ধাচরণ করার সাহস কেউ পেত না। হজরত আবু হুরায়রা, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস, আবু সায়িদ খুদরি, আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মতাে বিজ্ঞ সাহাবিগণও তাঁর রায়কে বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নিতেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কাছে সকলেই ছিলেন নতজানু। একজন উম্মুল মুমিনিন হওয়ার পাশাপাশি তিনি হয়ে উঠেছিলেন সে সময়কার বিজ্ঞ ধর্মবেত্তা। আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাঃ) - প্রথম অংশ
source-md rehad sarker/youtube
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন