আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাঃ) - চতুর্থ অংশ
অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে রাসুল সাঃ এবং আবু বকর (রাঃ) মদিনায় পৌঁছালেন এবং তার মাস তিনেক পর আয়েশা (রাঃ) সহ তাদের পুরো পরিবারকে মদিনায় নিয়ে আসা হলো। মদিনা নগরীতে অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে গেলো। শাওয়াল মাস চলছে। এতদিনে মসজিদে নববি নির্মাণের কাজ তত দিনে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে জিবরাইল আলায়হিস সালাম একদিন রাসুল (সাঃ) কে বললেন, 'আয়েশা (রাঃ) তাে আপনার স্ত্রী, তাঁকে সসম্মানে ঘরে তুলুন। তখন আয়েশা (রাঃ) বয়স ৯ বছর। বিয়ের আড়াই বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। জিবরাইল (আঃ) যেদিন আয়েশাকে ঘরে তােলার কথা বলার পরের দিনের কথা। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলের কাছে এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল(সাঃ)! আপনি আপনার স্ত্রীকে ঘরে তুলে নিচ্ছেন না কেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম খানিকটা বিব্রত বােধ করলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেই বললেন, 'আমি মােহরের ব্যাপারে ভাবছি। এ মুহূর্তে মােহর পরিশােধের সামর্থ্য আমার নেই।' রাসুল (সাঃ) এর এমন কথায় আবু বকর মােটেও অবাক হলেন না, বরং তিনি মনে মনে খুশি হলেন। রাসুল (সাঃ) কাছে যে এ মুহূর্তে মােহর আদায় করার অর্থ নেই, সেটা তিনি খুব ভালাে করেই জানেন। তিনি রাসুল (সাঃ) এরর সামনে মােহর বাবদ ৫০০ দিরহাম (বারাে উকিয়া এক নশ সমপরিমাণ) পেশ করলেন। রাসুল (সাঃ) আনন্দের সাথে আবু বকরের এ ভালােবাসা গ্রহণ করলেন এবং দিরহামগুলাে পাঠিয়ে দিলেন বাগদত্তা স্ত্রী আয়েশা(রাঃ) এর কাছে। বিয়ের জন্য যখন আর কোনাে ধরনের বাধা রইল না, তখন আবু বকর (রাঃ) আরেকটি কাজ সমাধা করার প্রতি মনােযােগী হলেন। তিনি মসজিদে নববির কাছে নিজের পরিবারের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করার উদ্যোগ নিলেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি আয়েশা (রাঃ) এর জন্যও মসজিদের উত্তর দরজা লাগােয়া একটি ছােট ঘর তৈরির বন্দোবস্ত শুরু করলেন। যেন রাসুল (সাঃ) আয়েশা (রাঃ) এর সঙ্গে তার একান্ত সময়গুলাে এখানে কাটাতে পারেন। বিয়ের ছোট-খাটো আনুষ্ঠানিকতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু আয়েশা (রাঃ) বাড়িতে নেয়। উম্মে রুমান আয়েশা (রাঃ) কে সখিদের সাথে দোলনায় দোল খেতে দেখে ডেকে নিয়ে আসলেন এবং হাত-মুখ ধুইয়ে পরিপাটি করে অনুষ্ঠানে নিয়ে আসলেন। সেখানে আনসারি মহিলারা উপস্থিত ছিলেন তারা আয়েশা (রাঃ) কে, তােমার আগমন কল্যাণময় হােক, বলে স্বাগতম জানালেন। কিন্তু আয়েশা (রাঃ) কিছু বুঝতে পারছিলেন না। একটু পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন আয়েশা (রাঃ) বুঝতে পারলেন যে আজকে তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান সাদাসিধে আলাদা কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি বিয়ে উপলক্ষে। শুধু রাসুল (সাঃ) এর বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে—এ খবর শুনে বাজরাজ গােত্রের নেতা সাদ ইবনে উবাদাহ এক পেয়ালা দুধ আর সামান্য কিছু খাবার নিয়ে হাজির হলেন। ওই দুধটুকু দিয়েই বর-বধূর শুভ বন্ধন সূচিত হলাে। আল্লাহর রাসুল (সাঃ) পেয়ালাটি হাতে নিয়ে সামান্য দুধ পান করে আয়েশার (রাঃ) এর দিকে বাড়িয়ে দিলেন। আয়েশা (রাঃ) লজ্জায় রাসুলের হাত থেকে দুধের পেয়ালা নিতে চাচ্ছিলেন না। কেননা তিনি আজ শুধুই রাসুল না, অন্য এক পবিত্র অটুট বন্ধনে বাধা দুজন। বান্ধবীর কথায় আয়েশা (রাঃ)যেন কিছুটা সাহস পেয়ে। রাসুল (সাঃ) এর হাত থেকে দুধের পেয়ালাটি নিয়ে মুখে তুললেন এক চুমুক পান করেই আয়েশা (রাঃ) পেয়ালাটি নিচে নামিয়ে রাখলেন। এই সাদাসিদে অনুষ্ঠান শেষে আয়েশা (রাঃ) কে নব্য মসজিদের সাথে লাগানো নির্মিত প্রাসাদে রেখে আসা হলো। এত্ত সাধারন ভাবেই শুরু হলো সর্বশ্রেষ্ট মানুষের প্রেমময়ী সংসার জীবন। আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাঃ) - চতুর্থ অংশ || উম্মুল মুমিনিন || জান্নাতুন নেসা তারিন
source-md rehad sarker/youtube
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন