আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাঃ) - ষষ্ঠ অংশ

 


বিয়ে হয়ে আসার কিছুদিন পরে,

একদিন সাহস করে রাসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করে ফেললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! সত্যি করে বলুন তাে, আপনি আমাকে কতটা ভালােবাসেন! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম একটু চিন্তা করে বললেন, তােমার এবং আমার মধ্যে ভালােবাসার বন্ধনটা এমন শক্ত, যেমন একটা রশির মধ্যে সুতাগুলাে শক্তভাবে জড়িয়ে থাকে, একই বাঁধনে আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা থাকে।' রাসুল (সাঃ) এর জবাব শুনে আয়েশা (রাঃ) খুশি হলেন। এর পর থেকে প্রায়ই তিনি রাসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করতেন, 'হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) ! আপনার ভালােবাসার বন্ধনের কী অবস্থা! আগের মতােই আছে, নাকি ঢিল হয়ে গেছে! রাসুল (সাঃ) আয়েশা (রাঃ) এর দুষ্টুমির জবাবে বলতেন, 'ভালােবাসার সে বাঁধন আগের মতােই দৃঢ় আছে। বাঁধনে কোনাে দুর্বলতা বা পরিবর্তন আসেনি। আয়েশা (রাঃ) পিতা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন রাসুল (সাঃ) এর ঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। রাসুল (সাঃ)এর সামনে মেয়ের এমন উঁচু গলার কথা শুনে তিনি থমকে দাঁড়ালেন। আজ পর্যন্ত তিনি রাসুল (সাঃ) এর সামনে উঁচু গলায় কথা বলা তাে দূরের কথা, তাঁর কোনাে কথার দ্বিমত পর্যন্ত করেননি। আর তার এইটুকুন মেয়ে আয়েশা কিনা রাসুল (সাঃ)এর সামনে রাগ দেখিয়ে কথা বলছে! তিনি ক্রোধান্বিত গিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আয়েশা (রাঃ) গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করলেন কিন্তু তখনি রাসূল (সাঃ) আয়েশা (রাঃ) কে তাঁর পেছনে আড়াল করে নিলেন। রাসুল (সাঃ) শাসন করতে বাধা দেওয়ায় আয়েশা (রাঃ) কে শুধু ধমক দিয়ে আবু বকর (রাঃ) বাইরে চলেন গেলেন। আবু বকর (রাঃ) বের হয়ে যেতেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম পিতার শাসনের ভয়ে ভীত আয়েশা (রাঃ) কে সামনে নিয়ে এলেন। তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন, দেখলে, কীভাবে তােমার আব্বার হাত থেকে তােমাকে রক্ষা করলাম! নয়তাে আজকে মার খেয়ে তুমি মাটিতে শুয়ে পড়তে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা লজ্জারাঙা হাসি দিয়ে রাসুল (সাঃ) এর শােকরিয়া আদায় করলেন। এরপর দুজনই একসঙ্গে হেসে উঠলেন। আয়েশা (রাঃ) এর কাছে আসতেন, নিজেকে স্রেফ আয়েশা (রাঃ) এর একজন বন্ধু হিসেবে। নিজেকে আয়েশা (রাঃ) এর ভালােবাসার সামনে সমর্পণ করে দিতেন । আয়েশা (রাঃ) বলেন, “অনেক সময় গােসল করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম শীতে কাঁপতে থাকতেন। তখন আয়েশা (রাঃ)কে বলতেন তাঁকে একটু উষ্ণতা দেওয়ার জন্য। আয়েশা (রাঃ) তাঁকে নিজের শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে উষ্ণতা দিতেন। আয়েশা (রাঃ) এর ঘরে কম্বল ছিল একটিমাত্র। একটি কম্বলের নিচে দুজন ঘুমাতেন। কখনাে কম্বলের একপাশ আয়েশা (রাঃ) গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে থাকলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম অপর পাশে নামাজ পড়তেন। দিনের বেলা অনেক সময় এটাকে রাসুল (সাঃ) এর শােয়া, বসার গদি বা মেহমানদের জন্যও ব্যবহার করা হতাে। আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাঃ) - ষষ্ঠ অংশ || উম্মুল মুমিনিন || জান্নাতুন নেসা তারিন

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বই Pdf Download

নেক আমলে অবিচল রাখবে যে ১০ আয়াত

কে ছিলেন ইমাম আল-মাওয়ার্দি