যে দশটি উপায়ে আমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা হয়

 


যে দশটি উপায়ে আমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (১ম পর্ব)

— ড. ইয়াসির ক্বাদী আজকে আমরা আকর্ষণীয় একটি তালিকা নিয়ে কথা বলবো যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (র) সংকলন করেছেন। আর এই তালিকাটি হলো, যে সকল সম্ভাব্য উপায়ে আমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়া হতে পারে। আমরা জানি, সাধারণ নিয়ম হলো কুরআনে পরিষ্কার করে বলে দেয়া হয়েছে কেউ কোনো মন্দ কাজ করলে তাকে সে কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে। তাহলে, কোনো ব্যক্তি একটি মন্দ কাজ করলে তার ঐ কাজের জন্য একটি শাস্তি নির্ধারিত হয়ে যায়। কিন্তু এই শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অনেকগুলো উপায় রেখেছেন। কিছু কিছু উপায় আমাদের হাতে আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা অন্য মানুষদের অনুমতি দিবেন আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার। তো, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (র) কুরআন হাদিস থেকে এরকম দশটি উপায় খুঁজে বের করেছেন যার মাধ্যমে আমরা আমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে নিতে পারি; চূড়ান্ত শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পূর্বে। অবশ্যই চূড়ান্ত শাস্তি হলো দোজখের আগুন। আমরা আল্লাহর আশ্রয় চাই। আমরা ঐ শাস্তি ভোগ করতে চাই না। এ উপায়গুলোর মাঝে কিছু কিছু উপায় অন্য উপায়গুলোর চেয়ে উত্তম। সবগুলো একরকম নয়। আমরা আলোচনা করতে গিয়ে বুঝতে পারবো। কিছু উপায় আমাদের হাতে আর কিছু আমাদের হাতে নয়। এই উপায়গুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে, জানা থাকলে আমাদের বেশ উপকার হবে। ইনশা আল্লাহু তায়ালা। কারণ, যেটাই আমাদের পক্ষে করা সম্ভব আমরা তা সবচে বেশি পরিমাণে করতে চাই। তাহলে তাড়াতাড়ি বলছি। দশটি বিষয়ের তালিকা তো। আমাদেরকে একটু দ্রুত শেষ করতে হবে। প্রথম দুইটি হলো...আমাদের সবার এ দুইটা জানা থাকার কথা। তাওবা এবং ইস্তেগফার। এক নাম্বার: তাওবা। দুই নাম্বার: ইস্তেগফার। এখন, তাওবা এবং ইস্তেগফারকে একত্রেও রাখা যায়। কিন্তু, বাস্তবে তারা ভিন্ন এই সেন্সে যে, তাওবা ইস্তেগফারের চেয়ে বিস্তৃত। তাওবা হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট ফিরে আসা আর ইস্তেগফার হলো আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া। তাহলে তাওবা বিস্তৃত। আপনি আল্লাহর দিকে ফিরে আসেন ক্ষমা চেয়ে। অন্তরে অনুশোচনা অনুভব করা তাওবা। হায়রে! কেন আমি অমুক পাপটি করলাম--এমন অনুতাপ অনুভব করা হলো তাওবার মূল। আর ইস্তেগফার হলো আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া। তাওবা ও ইস্তেগফারের উপকারিতা নিয়ে এবং তাওবা করার নিয়ম নিয়ে অসংখ্য খুৎবায়, বক্তব্য বিবৃতিতে আলোচনা করা হয়েছে। আপনারা সবাই জানেন, আমাদের রাসূল (স) বলেছেন- "যে সত্যিকার অর্থে তাওবা করে তার জন্যে ব্যাপারটা এমন যেন সে পাপটি কোনোদিন করেই-নি।" তিনি আরও বলেছেন- "আমি আল্লাহর নিকট দৈনিক একশবারের বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করি।" সুতরাং, এক এবং দুই নাম্বার হলো তাওবা এবং ইস্তেগফার। আর এগুলো হলো প্রধান উপায়, সবচে গুরুত্বপূর্ণ উপায় ও সবচে কার্যকরী উপায়। বাকিগুলো এই দুইটার মত কার্যকরী নয়। আরেকটা ব্যাপার হলো এ দুইটা আমাদের হাতে। তাওবা এবং ইস্তেগফার আমরা করি। এর কার্যকরীতার ব্যাপারে গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। যেমন, আল্লাহ কুরআনে বলেছেন- "ইন্নাল্লাহ ইয়াগফিরুজ জুনুওবা জামিয়া।" অর্থাৎ- আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দিবেন। যদি আপনার তাওবা সঠিক হয়, আপনার পাপগুলো মাফ হয়ে গেছে। তাহলে আবারো বলছি, এক এবং দুই নাম্বার হলো তাওবা এবং ইস্তেগফার। তিন নাম্বার...আর কোন ব্যাপার আমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়। অর্থাৎ, যার কারণে আমাদের পাপগুলো মুছে যায়। আল্লাহ বলেন- اِنَّ الۡحَسَنٰتِ یُذۡهِبۡنَ السَّیِّاٰتِ - “নিশ্চয়ই ভালকাজ মন্দকাজকে মিটিয়ে দেয়।” (11:114) অতএব, ঘনঘন পুণ্যের কাজ করতে থাকলে এবং বারবার করতে থাকলে বিশেষ করে সে কাজগুলো যেগুলোর কথা রাসূলুল্লাহ (স) উল্লেখ করেছেন। তোমরা যদি এগুলো নিয়মিত কর, কাজগুলোর মাঝের সময়গুলোতে যে পাপগুলো করা হয় তা দূর করে দেয়া হবে। তো, তিনি বলেছেন তোমরা তোমাদের পাপের আগুনে জ্বলছ। তারপর যখন নামাজ পড়ো তখন এগুলো ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়। এরপর আবার তোমরা পাপের আগুনে জ্বলতে থাকো, পাপের আগুনে জ্বলতে থাকো, অতঃপর সালাত আদায় করলে এগুলো পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সবগুলো নিয়ে এভাবে বললেন। একটি বিখ্যাত হাদিসে তিনি সাহাবাদের জিজ্ঞেস করলেন- "তোমরা ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে কী মনে কর যে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে?" তাঁরা বুঝতে পারেননি উনি আসলে কিসের প্রতি ইঙ্গিত করছেন। তাঁরা জবাব দিলেন- ঐ ব্যক্তি তো সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে। তিনি বললেন- এটা হলো নামাজের উদাহরণ। সুতরাং, পুণ্যের কাজ পাপ কাজকে বিদূরিত করে দেয়। অবশ্যই, আরেকটি প্রসিদ্ধ ঘটনায় এক ব্যক্তি প্রচণ্ড অনুতপ্ত হয়ে রাসূলুল্লাহ (স) এর কাছে এলেন এবং বললেন- "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এক মহিলার সাথে মজা করছিলাম এবং তাকে চুমু দিয়ে ফেলেছি। তাই, এখন আমার উপর শরীয়তের শাস্তি প্রয়োগ করুন।" রাসূলুল্লাহ (স) চুপ করে থাকলেন। এরপর তাঁরা সবাই মিলে একত্রে নামাজ পড়লেন। নামাজ শেষে তিনি ঐ ব্যক্তিকে বললেন- তুমি কি আমাদের সাথে জামাতে নামাজ পড়ো নি? তুমি কি মসজিদে হেঁটে আসো নি? অজু করো নি? তুমি তো এগুলো সবই করেছ তাই না? লোকটি বলল- হ্যাঁ করেছি। তিনি বললেন- "নিশ্চয়ই ভালো কাজ মন্দ কাজকে দূর করে দেয়।" এটাই তোমার তাওবা। তুমি এখানে এসেছ, অনুতপ্ত হয়েছ, তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করেছ। এখন তুমি নামাজ ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট ভালো ভালো কাজগুলো করেছ। সুতরাং, ভালো কাজ নিজেই মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়। বিশেষ করে যে কাজগুলো পাপরাশি ক্ষমা করার সাথে জড়িত। উদাহরণস্বরূপঃ এক রামাদান থেকে আরেক রামাদান, এই দুই রামাদানের ভেতরে যত পাপ করা হয় তার জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। এক হজ্জ থেকে আরেক হজ্জ, এক উমরা থেকে আরেক উমরা সকল পাপ ক্ষমা করে দিবে। অজু করলে পাপ ঝরে যায়। এভাবে যে কোনো ভালো কাজ। তাই, যখনি আমাদের দ্বারা কোনো পাপের কাজ সংঘটিত হয়ে যাবে এরপর সাথে সাথেই কোনো একটি পুণ্যের কাজ করতে হবে। এটা ছিল তৃতীয় পয়েন্ট।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বই Pdf Download

নেক আমলে অবিচল রাখবে যে ১০ আয়াত

কে ছিলেন ইমাম আল-মাওয়ার্দি