মৃত্যুর পরের জীবনে সফরের জন্য ‘পাথেয়’
আপনার মৃত্যুর পরের জীবনে সফরের জন্য ‘পাথেয়’ সংগ্রহ করেছেন তো? আলী রাদিয়াল্লাহু আ’নহু যখন কবর যিয়ারত করতে যেতেন তখন তিনি বলতেন,“হে কবরের বাসিন্দারা! তোমাদের স্ত্রীরা পুনরায় বিবাহ করে নিয়েছে। তোমাদের অর্থ-সম্পদ লোকেরা ভাগ করে নিয়েছে। তোমাদের বাড়ি-ঘরে এখন অন্য লোকেরা বসবাস করছে। তোমাদের ছেলে-মেয়েরা কাজে নেমে পড়েছে। এই হচ্ছে আমাদের এই পাশের (দুনিয়ার) খবর, আমরা যদি তোমাদের ঐ পাশের কি খবর জানতে পারতাম!” অতঃপর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বলেন, “আল্লাহর কসম! তোমরা যদি আমাদের সাথে কথা বলতে তাহলে বলতে, وَتَزَوَّدُواْ فَإِنَّ خَيۡرَ ٱلزَّادِ ٱلتَّقۡوَىٰۖ উচ্চারণঃ ওয়া তাযাওয়্যাদু ফা ইন্না খয়রায-যাদিত-তাক্বওয়া। অর্থঃ “আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর, নিশ্চয় সবচাইতে উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাক্বওয়া।” সুরা আল-বাক্বারাহঃ ১৯৭। উৎসঃ হা’ফিয ইবনে আসাকির রহি’মাহুল্লাহ তারিখ দিমাশকঃ ২৭/৩৯৪-এ এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ব্যাখ্যাঃ (১) কোন সফরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার সময় সফরে আসা-যাওয়া এবং উদ্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করার সময়ে চলার জন্য গৃহ থেকেই সংগে করে নেওয়া পূঁজিকে ‘পাথেয়’ বলা হয়। (২) কিছু মানুষ হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার সময় পাথেয় না নিয়েই বাড়ি থেকে বের হত আর বলতো, “আমাদের আল্লাহর উপর ভরসা আছে।” (অতঃপর তারা রাস্তায় চলার জন্য লোকের কাছে ভিক্ষা করতো।) (৩) মহান আল্লাহ এমন লোকদের ‘তাওয়াক্কুল’ বা আল্লাহর উপর ভরসা করার এই অর্থকে ভ্রান্ত প্রমাণ করে হজ্জের সফরে সঙ্গে পাথেয় নেওয়ার আদেশ দিয়ে বলেন, “আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর।” (৪) আমাদের জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সময়টুকু হচ্ছে সাময়িক পরীক্ষার স্থান। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরকালের উদ্দেশ্যে আমাদের এক মহা সফর শুরু হবে। কবরের সওয়াল জওয়াব, ইসরাফীল আ’লাইহিস সালামের দ্বিতীয় শিংগার ফুঁ দানের মাধ্যমে সবার পুনরুত্থান, হাশরের ময়দানে সমবেত হওয়া, বিচার বা হিসাব গ্রহণ, পুল সিরাত অতিক্রম করা হচ্ছে আখেরাতের কতগুলো স্টেশান। এরপর নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত ঠিকানা; জান্নাত অথবা জাহান্নাম। মৃত্যুর পর আখেরাতের উদ্দেশ্যে অনন্ত এই সফরের জন্য একজন মানুষ দুনিয়াতে সর্বোত্তম যে পাথেয় বা পূঁজি সংগ্রহ করতে পারে তা হচ্ছে তাক্বওয়া (আল্লাহভীতি, সংযমশীলতা বা পরহেযগারীতা)। এই কথার ঘোষণা দিয়ে উক্ত আয়াতের শেষাংশে মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় সবচাইতে উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাক্বওয়া।”
(৫) তাক্বওয়া অর্থ কি এর ব্যখ্যা অনেক ব্যাপক। সংক্ষেপে, আল্লাহ যা পছন্দ করেন সেই কাজ করা এবং আল্লাহ যা ঘৃণা করেন সেই কাজ ত্যাগ করার নাম হচ্ছে তাক্বওয়া। যেমন সকল কাজে ইখলাস বজায় রাখা, নামায কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, ইলম অর্জন করা, পিতা-মাতার আদেশ ও নিষেধ মেনে চলা, মানুষের সাথে ভালো আচরণ করা, অবৈধ নারী সংগ, হারাম উপার্জন, খারাপ বন্ধু থেকে বেঁচে থাকা, অনর্থক ও উপকার বিহীন গল্প কথা ও কাজ বর্জন করা এমন প্রত্যেক নেকীর কাজ করা এবং গুনাহর কাজ বর্জন করার নাম হচ্ছে তাক্বওয়া। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পরিপূর্ণ তাক্বওয়া অর্জন করার তৌফিক দাণ করুক। আমীন।
❖ কোন দুই রাকাত নামায দুনিয়া এবং উহার মধ্যস্থিত সকল বস্তুর চাইতেও উত্তম? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হবেঃ ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত নামায। এ বিষয়ে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে যে, আয়েশা রা. হতে বর্ণিত আছে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ফযরের দু’রাকাত (সুন্নত) দুনিয়া এবং তার মধ্যেযা কিছু রয়েছে এসবের চেয়ে উত্তম।(মুসলিম – ১/২৫১)

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন