গাউসুল আ'যম, দস্তগীরঃ

 


গাউসুল আ'যম, দস্তগীরঃ বাংলাদেশে সূফী মতবাদের অনুসারীরা দুই ভাগে বিভক্তঃ দেওবন্দী গ্রুপ এবং বেরেলুবী গ্রুপ।

এমন সূফীরা তাদের বুজুর্গদেরকে গাউস, কুতুব, আবদাল, দস্তগীর, মাযযুব ইত্যাদি শিরকী উপাধি নামে ডাকে। যেমন, আব্দুল কাদির জিলানি গাউসুল আযম ছিলেন; অমুক ওলী জংগলের কুতুব; দস্তগীর নূরুউদ্দিন ইত্যাদি। (১) গাউস মানে যার কাছে আশ্রয় বা সাহায্য প্রার্থনা করা হয়। আর আ'যম মানে মহান বা সবচেয়ে বড়। সুতরাং গাউসুল আ'যম অর্থ হচ্ছে, সবচেয়ে বড় বা মহান উদ্ধারকারী বা সাহায্যকারী। আল্লাহ সম্পর্কে ন্যুনতম ঈমান যার আছে, সেই ব্যক্তি একবাক্যে একমত হবে যে, আমাদের বিপদের সময় উদ্ধারকারী বা সাহায্যকারী হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ তাআ'লা। কেননা তিনি হচ্ছেন, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সুতরাং এতে কোন সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে গাউসুল আ'যম বলা একপ্রকার শিরক। (২) অনুরূপভাবে, দস্ত মানে হাত, গীর মানে ডুবন্ত। দস্তগীর অর্থ হচ্ছে, বিপদে হাবুডুবু খাওয়া ব্যক্তিকে যিনি হাত ধরে উদ্ধার করেন। সূফী মতবাদে বিশ্বাসী লোকেরা বিপদে পড়লে তাদের অলি আওলিয়াদেরকে ডাকে, বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য। এমন শিরকী আক্বীদায় বিশ্বাসী লোকেরা আব্দুল কাদের জিলানী, মইনুদ্দিন চিশতী ইত্যাদি এমন বুজুর্গদেরকে গাউস, কুতুব বা দস্তগীর নামে উপাধি দিয়ে এই নামে তাদের কাছে সাহায্য চায়। অথচ, এটা ডাহা শিরক। এই শিরক করলে মানুষের ঈমান নষ্ট হয়ে সে কাফির হয়ে যায়। গায়রুল্লাহর কাছে দুয়া করার বিধানঃ অনেক সূফীরা “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করো” এইভাবে না দুয়া করে গায়রুল্লাহর কাছে দুয়া করে আর বলে, “হে গাউসুল আযম! হে চিশতী! ইয়া জিলানী! তুমি আমাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করো।” আবার অনেক শীয়ারা বিপদে পড়ে আল্লাহকে না ডেকে “ইয়া আলী মাদাদ” (হে আলী! তুমি আমাকে সাহায্য করো) বলে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আ’নহুর কাছে সাহায্য চায়। এইভাবে আল্লাহকে না ডেকে কোন নবী, রাসুল, সাহাবী, ওলী, পীর, বুজুর্গ কিংবা আল্লাহর কোন নেক বান্দার কাছে দুয়া করাকে তারা উত্তম মনে করে এবং এইভাবে অলী আওলিয়াদের কাছে দুয়া করলে তা দ্রুত কবুল হয় বলে মনে করে। এটা শিরকে আকবার বা বড় শিরক, যার কারণে কোন ব্যক্তির ঈমান নষ্ট হয়ে সে মুশরিক হয়ে যায়। ক্বুরআন, সুন্নাহ এবং সম্মানিত আলেমদের ফতোয়া অনুযায়ীঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দুয়া করে সেই ব্যক্তি কাফের। (১) আল্লাহ তাআ’লা এরশাদ করেছেন, “তুমি আল্লাহ ছাড়া এমন কোন সত্ত্বাকে আহবান করোনা, যে তোমার কোন উপকার করতে পারবে না এবং ক্ষতিও করতে পারবে না। যদি তুমি এমন কারো তাহলে নিশ্চয়ই তুমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোন বিপদে ফেলেন, তাহলে একমাত্র তিনি ছাড়া আর কেউ তা থেকে তোমাকে উদ্ধার করতে পারবে না।” সুরা ইউনুসঃ ১০৬-১০৭। (২) আল্লাহ তাআ’লা অন্য এক আয়াতে এরশাদ করেছেন, “তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ছাড়া এমন কোন সত্ত্বাকে ডাকে যেই সত্ত্বা কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিতে পারবে না।” সুরা আহকাফঃ ৫। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন, “যেই ব্যক্তি আলী রাদিয়াল্লাহু আ’নহুর কাছে দুয়া করে সেই ব্যক্তি কাফির, যেই ব্যক্তি তার কুফুরীর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে সে-ও কুফুরী করলো।” আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহঃ ২/২৯১-২৯২।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বই Pdf Download

নেক আমলে অবিচল রাখবে যে ১০ আয়াত

কে ছিলেন ইমাম আল-মাওয়ার্দি