নারীদেরকে ৮টি জান্নাতেরই গ্যারান্টি

 


❖ হাদিসে কয়টি কাজের বিনিময়ে নারীদেরকে ৮টি জান্নাতেরই গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হবেঃ মাত্র ৪টি কাজ। এ বিষয়ে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মুসলিম রমণী যদিঃ

১। পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, ২। রামাযানের ছিয়াম পালন করে, ৩। নিজের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এবং ৪। স্বামীর আনুগত্য করে, তবে তাকে বলা হবে, জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছে তুমি ভিতরে প্রবেশ কর। (সহীহুল জামেঃ ৬৬০) আনাস বিন মলেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেন, কোন ধরণের রমণী জান্নাতী আমি কি তোমাদেরকে বলে দিব না? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, তোমাদের জান্নাতী রমণীগণ হচ্ছে তারা, যারাঃ ১। স্বামীর প্রতি প্রেম নিবেদনকারীনী এবং ২। অধিক সন্তান প্রসবকারীনী। ৩। তার আনুগত্যের প্রকাশ হচ্ছে, সে রাগান্বিতা হলে বা তার সাথে খারাপ আচরণ করা হলে বা স্বামী তার প্রতি রাগান্বিত হলে, স্বামীর কাছে গিয়ে বলে, এই আমার হাত আপনার হাতে সপে দিলাম, আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমি চোখের পলক ফেলব না। অর্থাৎ আমি কোন আরাম নিব না কোন আনন্দ বিনোদন করব না যতক্ষণ আপনি আমার প্রতি খুশি না হন। (তবরাণী, শয়খ আলবানী হাদিছটিকে সহি বলেন; সিলসিলাঃ ২৮৭) সুবহানাল্লাহ। সুতরাং হে মসুলিম নারী, একটু ভেবে দেখুনতো আপনার মধ্যে উপরুক্ত গুণাবলী বিদ্যমান রয়েছে কি না...? মাত্র এই কয়েকটি কাজের বিনিময়ে আপনাকে জান্নাতে গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে। এরপরেও কি আপনি বলবেন আপনাকে ইসলাম কোন মর্যাদা দেয় নাই? যাইহোক, আল্লাহ সকল মুসলিম নারীকে এই সকল নেক গুণাবলী অর্জন করার তৌফিক দান করুক। আমিন।

**************************************************************************
❖ কোন সুরাটি তার তেলাওয়াতকারীকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য আল্লাহর সাথে ঝগড়া করবে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হবেঃ সূরা মূলক। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা হচ্ছে, “ঝগড়া” শব্দটি আমি প্রশ্নে লিখেছি বলে, অনেকই আমাকে গালি গালাজ করেছেন। অথচ এই “ঝগড়া” শব্দটিই হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। আসলে জারা গালি গালাজ করেছেন, তারা তাদের অজ্ঞতা এবং আবেগের কারনেই এমনটি করেছেন। ইসলামকে কখনোই আবেগ দিয়ে নয় বরং জেনে বুঝে পড়া লিখা করে, মানা উচিত। আর তাদের এটাও জেনে রাখা উচিত যে, গালি গালাজ করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ ক্ষমা করুক। আমিন। হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; " কোরআন শরীফে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে না দেয়া পর্যন্ত তার জন্য সুপারিশ করতেই থাকবে। সূরাটি হলো تبارك الذي بيده الملك.-- ‪#‎তাবারাকাল্লাযী‬ বি ইয়াদিহিল মূলক অর্থাৎ ‪#‎সূরা‬ মূলক… (আবু দাউদ-১৪০২, তিরমিজি-২৮৯১, ইবনে মাজাহ-৩৭৮৬, মুসনাদে আহমদ-২/২৯৯)‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬ অন্য এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন," আমার মন চায় প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে যেনো সূরা মূলক মুখস্ত থাকে। "[বায়হাকীর শুআবুল ইমান-২৫০৭] আর যে ব্যক্তি নিয়মিত সুরা মূলকের আমল করবে সে ‪#‎কবরের‬ আজাব থেকে মুক্তি পাবে। (তিরমিজি-২৮৯০, মুসতাদরাকে হাকেম)‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬ হাদীসে আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো রাতে সুরা মূলক না পড়ে ঘুমাতেন না। (তিরমিজি-২৮৯২, হিসনে হাসিন) হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ” কুরআনে এমন একটি সূরা আছে যাহা আল্লাহর সহিত ঝগড়া করিয়া তাহার পাঠকারীকে জান্নাতে প্রবেশ করাইয়াছে। – তাবারানীর বরাতে তাফসীর ইবনে কাছীর হযরত ইবনে আব্বাস (রা) এক ব্যক্তিকে বলিলেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি হাদীস শুনাইব, যাহা শুনিয়া তুমি খুশি হইবে? উত্তরে সে বলিল, হ্যাঁ শুনান। ইবনে আব্বাস (রা) বলিলেন, তুমি নিজে সূরা মূলক পড়, এবং পরিবারের সকলকে ও প্রতিবেশীকে উহা শিক্ষা দাও।কারণ উহা মুক্তিদানকারী ও ঝগড়াকারী। কিয়ামতের দিন আল্লাহর সহিত ঝগড়া করিয়া উহার পাঠকারীকে সে জাহান্নামের আযাব হইতে রক্ষা করিবে এবং কবরের আযাব হইতে বাঁচাইয়া রাখিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, “আমার একান্ত কামনা যে, এই সূরাটি আমার প্রত্যেক উম্মতের অন্তরে গাঁথিয়া থাকুক।” – তাফসীর ইবনে কাছীর

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বই Pdf Download

নেক আমলে অবিচল রাখবে যে ১০ আয়াত

কে ছিলেন ইমাম আল-মাওয়ার্দি