মুমিনদের জীবন ও ধন-সম্পদ
জান্নাত যেহেতু একটি বাস্তব জায়গা তাই এটি কেবল বাস্তব প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। যোগ্যতা কখনোই হঠাৎ করে আসে না। ভালোর যে যোগ্যতাগুলো আপনার জন্য জান্নাত নিশ্চিত করবে তা কখনো স্বপ্নযোগে পাওয়া যাবে না। এর জন্য প্রচেষ্টার দরকার, বুদ্ধিমান প্রচেষ্টা। বুদ্ধিমান প্রচেষ্টা মানে আপনি ভালোভাবে শিখবেন এবং জানবেন কোন কোন কাজগুলো আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তারপর সে অনুযায়ী নিয়মিত কাজ করে যাবেন। এভাবেই আপনি জান্নাতে যাওয়ার যোগ্যতাগুলো অর্জন করতে পারবেন। তাহলে, জান্নাত অর্জন করা যাবে শুধু বাস্তব যোগ্যতার মাধ্যমে আর বাস্তব যোগ্যতা কখনো এমনি এমনি কারো মাঝে তৈরী হয় না। বাস্তব যোগ্যতা মূলত বুদ্ধিমান প্রচেষ্টার ফল। এখান থেকে আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, জান্নাত কখনো কোনো স্কলার, আল্লাহ ওয়ালা মানুষ বা পীর-আউলিয়ার সাথে সম্পর্কের মাধ্যমেও অর্জন করা যাবে না। এটা সম্পূর্ণরূপে আপনার প্রচেষ্টার বা আমলের উপর নির্ভরশীল। তাই আপনার যদি কোনো স্কলার বা পীরের সাথে সম্পর্ক থাকে সেই সম্পর্ক আপনাকে জান্নাতে পৌঁছে দিবে না। জান্নাত নির্ভর করে আপনার নিজের প্রচেষ্টা এবং আমলের উপর। ঠিক একইভাবে কোনো ধর্মীয় দল বা গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কও আপনাকে জান্নাতের গ্যারান্টি দিবে না। আপনি যদি বেরেলভী, সালাফি, হানাফী, বা যাই হউন না কেন এর কোনোটাই আপনাকে জান্নাতের গ্যারান্টি দিবে না। কোনো দলের সাথে আপনার একাত্মতা এ ক্ষেত্রে কোনো ম্যাটার করে না। যা এখানে ম্যাটার করে তা হলো - আপনার আমল, আপনার চেষ্টা। একইভাবে কোন মাজার ভ্রমণ করেও জান্নাত পাওয়া যাবে না। জান্নাত এতো সস্তা নয়। জান্নাত পেতে হলে মানুষকে পরীক্ষা দিতে হবে এবং সেসব পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে হবে। এ জন্য সমগ্র কুরআন মানুষের চেষ্টা সাধনা আর ত্যাগ তিতিক্ষার বর্ণনায় ভরপুর। যদি এমনটি না হত, তাহলে কুরআন শুরুতে শুধু এ কথা বলে দিলেই হত যে অমুক অমুক লোকের সাথে সম্পর্ক রাখ, জান্নাত পেয়ে যাবে। কুরআনে জান্নাতের জন্য অনেক উচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন - إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ - "নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জীবন ও ধন-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন।" (9:111) তাই আপনি যদি জান্নাত চান তাহলে আপনি আর আপনার জীবনের মালিক নন। আপনি যদি জান্নাত চান তাহলে আপনি আর আপনার ধন-সম্পদের মালিক নন। এগুলো সবই আল্লাহর মালিকানায়। অর্থাৎ, তাঁর রাসূলের দেখানো পথেই আপনাকে এগুলো ব্যয় করতে হবে। তবেই আপনি জান্নাত লাভ করতে পারবেন। - ড. আকরাম নদভী। - সূরা আল মুরসালাত (১ম পর্বের আলোচনা থেকে)
নামাজ আপনাকে শক্তিশালী করে তুলবে। কখনোই নামাজ ছেড়ে দিবেন না। যদি নামাজের পবিত্র অনুভূতি অন্তরে অনুভব না করেন, তবু পড়ুন। যদি অলসতা লাগে, তবু পড়ুন। যদি ইচ্ছে না করে, তবু পড়ুন। মন যদি অন্য কিছুতে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে, তবু পড়ুন। কারণ, যদি নামাজ ছেড়ে দেন তাহলে আপনি দুর্বল থেকে দুর্বলতর এবং একেবারে দুর্বলতম ব্যক্তিতে পরিণত হলেন। আপনার আর কিছুই নেই, পুরা দেউলিয়া হয়ে গেলেন।
- নোমান আলী খান

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন