“তাওবাতান নাসূহা” বা বিশুদ্ধ তাওবা


 “তাওবাতান নাসূহা” বা বিশুদ্ধ তাওবা: মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, তাওবাতান নাসূহা (খাঁটি ও সত্যিকারের তাওবা)।” (সুরা আত-তাহরীমঃ আয়াত নং-৮)

(১) আল-হাসান রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “বিশুদ্ধ তাওবা হলো এই যে, যেমন গুনাহর প্রতি ভালবাসা ও আকর্ষণ ছিল ঐ রকমই গুনাহর প্রতি অন্তরে ঘৃণা জন্মে যাওয়া। যখন ঐ গুনাহর কথা স্মরণ হয় তখন ক্ষমা প্রার্থনা করা। যখন কোন বান্দা তাওবা করার জন্যে দৃঢ় সংকল্প করে নেয় এবং তাওবার উপর অটল থাকে তখন আল্লাহ তা'আলা তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন।” (২) কাতাদা রহি'মাহুল্লাহ বলেছেন, “নাসূহা অর্থ খাটি ও আন্তরিক তাওবা।” (৩) নুমান ইবনু বশীর আমীরুল মুমিনীন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আ’নহুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তাওবাতান নাসূহা কী?” জবাবে তিনি বলেছিলেন, “মানুষ কোনো অন্যায় করার পর এমনভাবে তাওবা করবে যাতে সেই অন্যায়ের আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।” (৪) পূর্বযুগীয় আলেমগণ বলেছেন, “খাঁটি ও বিশুদ্ধ তাওবা এই যে, গুনাহ হয়ে যাওয়ার পরই তাওবা করবে ও লজ্জিত হবে এবং আগামীতে ঐ পাপকার্য আর না করার দৃঢ় সংকল্প করবে। আর যদি গুনাহতে কারো হক থাকে তবে চতুর্থ শর্ত এই যে, ঐ হক নিয়মিতভাবে আদায় করবে।” (৫) হযরত উবাই ইবনে কা’ব রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বলেন, “কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সময় এই উম্মতের শেষের লোকেরা কি কাজ করবে তা আমাদেরকে বলে দেওয়া হয়েছে। একটি এই যে, মানুষ তার স্ত্রী বা দাসীর গুহ্যদ্বারে সঙ্গম করবে। অথচ এটা আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল হারাম করেছেন। আর এ কাজে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম অসন্তুষ্ট হন। অনুরূপভাবে পুরুষের সাথে পুরুষ কুকর্মে লিপ্ত হবে। যা হারাম এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লামের অসন্তুষ্টির কারণ। এ লোকদের নামাযও আল্লাহর নিকট কবূল হয় না। যে পর্যন্ত না তারা তাওবা করে বিশুদ্ধ তাওবা।” তখন হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাদিয়াল্লাহু আ'নহুকে জিজ্ঞেস করা হলো, “বিশুদ্ধ তাওবা কি?” উত্তরে তিনি বললেনঃ “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে এই প্রশ্নই করেছিলাম। তিনি জবাবে বলেছিলেন, “ভুলক্রমে গুনাহ হয়ে গেছে, অতঃপর তার উপর লজ্জিত হওয়া, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, তারপর ঐ গুনাহর দিকে আর ঝুঁকে না পড়া।” এই হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম রহি’মাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো অপরাধী যদি (উপরিউক্তভাবে) তাওবা করে তাহলে তাকে এমনভাবে মাফ করে দেয়া হয় তার আর কোনো গুনাহ্ অবশিষ্ট থাকে না।” উৎসঃ তাফসীর ইবনে কাসীর।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বই Pdf Download

নেক আমলে অবিচল রাখবে যে ১০ আয়াত

কে ছিলেন ইমাম আল-মাওয়ার্দি