সূরা আল লাইলের ৫ এবং ৬ নাম্বার আয়াতে

 


সূরা আল লাইলের ৫ এবং ৬ নাম্বার আয়াতে খুবই চমৎকারভাবে কুরআন বিশ্বের জন্য কোন ধরণের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আশা করে তা তুলে ধরা হয়েছে। "ফা আম্মা মান আ'তা, ওয়াততাকা, ওয়াসদ্দাকা বিল হুস্না।" এখানে তিনটি বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে।

১। আ'তা (اَعۡطٰی) - যে দান করে। ২। ওয়াততাকা (وَ اتَّقٰی ۙ) - যে সচেতন থাকে, আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকে এবং সতর্ক থাকে। ৩। ওয়াসদ্দাকা বিল হুস্না (وَ صَدَّقَ بِالۡحُسۡنٰی) - এবং চূড়ান্ত সত্যকে গ্রহণ করে নেয়। যে সবচেয়ে সুন্দর জিনিসের মধ্যে সত্যকে গ্রহণ করে নিয়েছে। এটা বুঝা একটু কঠিন। পরে এটা ব্যাখ্যা করছি। আ'তা মানে দানশীল হওয়া। দান করা। আপনার পক্ষে যত বেশি সম্ভব দান করা। আল্লাহ যখন বলেছেন اَعۡطٰی (আ'তা) তিনি উল্লেখ করেননি আপনি কী দান করেন? তিনি শুধু বলেছেন আপনি মানুষকে দিতে পছন্দ করেন। মানুষকে শুধু দিয়ে যান। যদি কাউকে সময় দেয়ার সুযোগ থাকে, মুচকি হাসি দেওয়ার সুযোগ থাকে, টাকা-পয়সা, যে কোনো সাহায্য, উপদেশ যা কিছুই আপনার পক্ষে দেওয়া সম্ভব আপনি শুধু দিয়ে যান (a giving person)। এ শব্দটি মানব জাতির প্রতি আমাদের সদগুণের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। মূলত মানবতার প্রতি উদারতা দেখানোর অর্থ হলো তাদের কিছু দান করা। মাতাপিতা সন্তানকে ভালোবাসা দান করে। শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের ধৈর্য দান করে। দানশীল কেউ গরিবদের সাদাকা দান করে। একজন এক্সপার্ট কাউকে উপদেশ দান করা বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সময় ব্যয় করা। পুরোটাই হলো দেওয়া নিয়ে। আল্লাহ সূরা হাদিদে যেমন বলেন- وَ اَنۡفِقُوۡا مِمَّا جَعَلَکُمۡ مُّسۡتَخۡلَفِیۡنَ فِیۡهِ - যা কিছুর উপর আমি তোমাদের সক্ষমতা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো। যা কিছু তোমাদের মাঝে রেখে দিয়েছি। তোমাদের কারো কারো মাঝে রেখে দিয়েছি দক্ষতা, কাউকে দিয়েছি শক্তি, কাউকে দিয়েছি অর্থ বিত্ত, কাউকে দিয়েছি প্রজ্ঞা। আল্লাহ আপনাকে যা কিছুই দান করেছেন আপনি তা থেকে আল্লাহকে কিছু ফেরত প্রদান করুন। সবটা নিজের কাছে রেখে দিবেন না। সবসময় কিছু না কিছু দিতে থাকবেন। আল্লাহ এক শব্দের মাধ্যমে বর্ণনা করে দিলেন ভালো মানুষদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো তারা অন্যদের দিয়ে যায়। এটা গেলো একদিক। এরপর তিনি বলেন- ওয়াততাকা। - নোমান আলী খান

এরপর আল্লাহ বলেন- ওয়াততাকা। যে সচেতন। আপনারা তো জানেন, যখন আমরা তাক্বওয়া শব্দটি উচ্চারণ করি এর দ্বারা বুঝাই নিজেকে রক্ষা করা, সতর্ক থাকা, সাবধান থাকা। তখন আমরা আসলে কার সাথে আমাদের সম্পর্কের কথা বলছি? আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার সাথে। তাহলে প্রথম আইটেম ছিল আপনি মানুষের প্রতি উদার। আর দ্বিতীয় আইটেম হলো আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক ভালো। বুঝতে পারছেন ব্যাপারটা কত সুন্দর? কিভাবে উভয় দিক তুলে ধরা হলো। মাত্র দুই শব্দের মাধ্যমে। আ'তা এবং ওয়াততাকা। হুকুকুল ইবাদ (বান্দার হক) আ'তা আর হুকুকুল্লাহ (আল্লাহর হক) ওয়াততাকা। মাত্র দুইটি শব্দ ব্যাপক একটি চিত্র ধারণ করে ফেললো। এখন, বুঝতে চেষ্টা করুন। কেন এই দুইটি বিষয় একসাথে থাকতে হবে? দুনিয়াতে এমন অনেক মানুষের সন্ধান পাবেন যারা মানবতার জন্য জীবন উৎসর্গ করে দেয়, তারা উদার, কর্মক্ষেত্রে সৎ, সবার সাথে উত্তম আচরণ করে। আপনার অফিসের কলিগদের মাঝে হয়তো হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ অর্থাৎ অন্য ধর্মের এমন কাউকে পাবেন যিনি মানুষ হিসেবে অত্যন্ত ভালো। তার দারুণ দারুণ সব যোগ্যতা রয়েছে। তার মাঝে আছে اَعۡطٰی এর কোয়ালিটি। উদারতার গুণ। কিন্তু তার মাঝে যা নেই তা কী? ওয়াততাকা। এখন আমরা শিখছি, এমন বহু মানুষকে দেখা যায় যাদের প্রথম গুণটি আছে কিন্তু দ্বিতীয়টি নেই। আবার অনেকের প্রথম দুইটি আছে কিন্তু তৃতীয়টি নেই। আপনার যদি তিনটি যোগ্যতার সবগুলো থাকে তাহলে আপনার আছে চূড়ান্ত ভালো গুণ(ultimate good)। কারণ পরে আল্লাহ বলেন, فَسَنُیَسِّرُهٗ لِلۡیُسۡرٰی - "আমি তার জন্য সহজ পথে চলা সহজ করে দেব। " আমি চূড়ান্ত ভালোদের এটা দান করবো। অতএব, ভালোর বিভিন্ন লেভেল আছে। এক লেভেলের ভালো হলো শুধু মানবতার জন্য কাজ করা। আরেক লেভেলের ভালো হলো- সে যে শুধু মানুষকে দিয়ে যায় তাই নয়, একই সময়ে সে আল্লাহর ব্যাপারেও সচেতন থাকে। সে শুধু মানবতার প্রতি ভালো আচরণ করে না, সে আল্লাহর অধিকারগুলো আদায়েও সচেতন থাকে। যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন। এটা হলো ওয়াততাকা। এরপর আছে তৃতীয় আইটেম যা এ দুইটিকে একত্রে সিলযুক্ত করে দেয়। আর তা হলো- ওয়া সদ্দাকা বিল হুসনা। - নোমান আলী খান

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বই Pdf Download

নেক আমলে অবিচল রাখবে যে ১০ আয়াত

কে ছিলেন ইমাম আল-মাওয়ার্দি