তাওবা করো এবং নিজেকে ঠিক করো

 আমি চাই না কেউ অনুশোচনায় দগ্ধ এক জীবন যাপন করুক। আল্লাহ আমাদেরকে এ ধর্ম এ জন্য দান করেননি যে, আমরা অতীতের ভুল নিয়েই পড়ে থাকবো। কুরআনের অন্যতম মহান একটি লক্ষ্য হলো...আল্লাহ বলেন— اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَذِکۡرٰی لِمَنۡ کَانَ لَهٗ قَلۡبٌ اَوۡ اَلۡقَی السَّمۡعَ وَ هُوَ شَهِیۡدٌ - নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার রয়েছে অন্তর অথবা যে নিবিষ্টচিত্তে শ্রবণ করে। (৫০:৩৭) তাই হৃদয় সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়, সবচেয়ে বিস্তীর্ণ উত্তর, আপনার হৃদয়ের অনুভূতি কেমন হওয়া উচিত—তা কুরআনে আছে।

কুরআনের মতে—কেউ যদি সমগ্র জীবন পাপ-পঙ্কিলতায় কাটিয়ে দেয়, বিস্মৃতিতে কাটিয়ে দেয়, ভুল-ত্রুটিতে কাটিয়ে দেয়, উপেক্ষায় কাটিয়ে দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি...আল্লাহ কি বলেছেন যে, এখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাকি জীবনটা তোমাকে অতীত জীবনের অনুশোচনায় জ্বলে পুড়ে কাটাতে হবে? কুরআন কি কখনো এমনটি বলেছে? আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির অন্তঃকরণের সুরক্ষায় বেশি সংরক্ষণশীল সৃষ্টির নিজের চেয়েও। আমি নিজের অন্তরের প্রতি যতটা যত্নশীল আল্লাহ আমার অন্তরের প্রতি তার চেয়েও বেশি যত্নশীল। এটা তো বুঝেন, তাই না? এখন, আল্লাহ যদি আমার অতীতের কেয়ারলেস আচরণ এবং ভুলগুলো নিয়ে আমাকে লজ্জা না দিয়ে থাকেন, আমাকে অনুতপ্ত না করেন...তিনি শুধু চান একটি জিনিস। কী সেটা? তাওবা করো এবং নিজেকে ঠিক করো। নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নাও। এখন থেকে আর ঐ ভুলগুলো করো না। কিন্তু এরপরেও তুমি হয়তো আবারো কোনো ভুল করে ফেলতে পারো। যদি এমনটি হয় তখন কী করবে? আবার তাওবা করবে এবং নিজেকে ঠিক করে নিবে। যদি এটা করতে পারো তাহলে তোমাকে কিসের বোঝা আর বহন করে বেড়াতে হবে না? লজ্জা বা অপরাধবোধের বোঝা। তোমাকে অনুশোচনায় দগ্ধ এক জীবন যাপন করতে হবে না। —নোমান আলী খান ---------------------***-------------------- পাপ করে ফেলার পর প্রচন্ড অনুশোচনায় জর্জরিত হয়ে কারো কি আল্লাহর কাছে শাস্তি চাওয়া উচিত? আকরাম নদভী: যে আল্লাহ আপনাকে শাস্তি দিতে পারেন তিনি আপনাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন। তো আমি বুঝিনা কেন আপনি শাস্তি চাইবেন। কেন এই সহজ ব্যাপারটা বোঝেন না? জাস্ট আল্লাহকে বলুন, হে আল্লাহ! আমার একটি খারাপ অভ্যাস আছে। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করুন। এবং আমাকে রক্ষা করুন। যদি আবারো ঘটে, আবারো আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। তিনি কখনো ক্ষমা করতে করতে ক্লান্ত হন না। আপনি হয়তো ক্ষমা চাইতে চাইতে ক্লান্ত হয়ে যেতে পারেন, কিন্তু তিনি কখনো ক্লান্ত হন না। আপনি যদি মিলিয়ন টাইমও ক্ষমা চান তিনি আপনাকে মিলিয়ন টাইমও ক্ষমা করে দিতে পারেন। আমাদের সময়ে নোংরামি মানুষের আঙ্গুলের আগায়। অনেকের জন্য এটা থেকে বাঁচা এত সহজ নয়। মানুষ এই ফাঁদে বারবার পা দিয়ে ফেলতে পারে। এর জন্য সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো: নিজেকে গালি দেয়া নয়, অথবা নিজের জন্য শাস্তি কামনা করা নয়। বরং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো, নিজেকে দিয়ে জোর করে নামাজ পড়ানো। নিজের উপর জোর খাটিয়ে নামাজ পড়ুন। মসজিদে যান। পাপ হয়ে গেলে কিছু টাকা দান করে দিন। যতবার পাপ হবে ততবারই দান করুন। কোরআন পড়ুন। কোরআন পড়ায় প্রচুর সময় ব্যয় করুন। তৃতীয় যে জিনিস আমি বলব, ভালো মানুষদের সঙ্গে থাকুন। ইসলামি শিক্ষা বা ইসলামি আলোচনার অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দিন। সৎ মানুষদের সঙ্গ খুবই উপকারী। এটা আপনার চিন্তা ভাবনাকে পরিশুদ্ধ করে দিবে। আমি মানুষকে বলি আমি অত পাপ করি না। এইজন্য না যে আমি খুবই ধার্মিক ব্যক্তি। বরং আমার আসলে পাপ করার সময়ই নাই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পুরোটা সময় আমার শিক্ষা দানে ব্যয় হয়। বাসায় যাওয়ার পর আমি এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়ি যে, অনুমান করা সম্ভব না। কেউ যদি এতটা ক্লান্ত থাকে, তখন পাপ করার মত শক্তি পাবে? সে তো সহজেই ঘুমিয়ে পড়বে। আর ঘুম থেকে ওঠার পরও আমি ক্লান্ত থাকি। এরপর একটু ব্যায়াম করে ক্লাসে চলে আসি। যে জীবন আমি নিজের জন্য পছন্দ করেছি, এটা এতই ব্যস্ত এক জীবন যে অন্য কিছু করার সুযোগ নাই এখানে। তাই নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলুন। অনেক বেশি ব্যস্ত। যদি সুযোগ থাকে শিক্ষা দানে সময় ব্যয় করুন। দান সদকার কোন কাজে অংশ নিতে পারেন। তো এসব করার মানে এই না যে, আপনি কোন পাপ করবেন না। সকল মানুষ পাপ করে। কিন্তু এই কাজগুলো কী করবে? এই ভালো কাজগুলোর কারণে আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। আল্লাহ বলেছন মানুষ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকলে আল্লাহ তাদের শাস্তি দেন না। তাই প্রতিনিয়ত ক্ষমা চান। কখনোই ক্ষমা চাওয়া বন্ধ করবেন না। আল্লাহ জানেন আমরা এখন খুবই দুর্বল একটি সময় আছি। সমাজ দুর্বল মানুষ দুর্বল। তাই আমরা পাপের ফাঁদে পড়ে যাব। তাই হতাশ হয়ে পড়বেন না। আপনার পক্ষে এখনো জান্নাতে যাওয়া সম্ভব।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বই Pdf Download

নেক আমলে অবিচল রাখবে যে ১০ আয়াত

কে ছিলেন ইমাম আল-মাওয়ার্দি