পোস্টগুলি

নিজের জন্য যা পছন্দনীয়, ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করা ঈমানের অংশ

ছবি
নিজের জন্য যা পছন্দনীয়, ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করা ঈমানের অংশ মূসা ’ দ্দাদ  ( রহঃ )  ও   হুসাইন   আল   মু ' আল্লিম  ( রহঃ )  আনাস  ( রাঃ )  থেকে   বর্ণিত ,  রাসুলুল্লাহ   সাল্লাল্লাহু   আলাইহি ওয়াসাল্লাম   ইরশাদ   করেনঃ   তোমাদের   কেউ   প্রকৃত   মু ’ মিন   হবে   না ,  যতক্ষণ   না   সে   তার   ভাইয়ের   জন্য   তা - ই পছন্দ   করবে ,  যা   নিজের   জন্য   পছন্দ   করে। খাবার খাওয়ানো ইসলামী গুন   অমর   ইবনু   খালিদ  ( রহঃ )  আবদুল্লাহ   ইবনু   আমর  ( রাঃ )  থেকে   বর্ণনা   করেন ,  এক   ব্যাক্তি   রাসুলুল্লাহ   সাল্লাল্লাহু আলাইহি   ওয়াসাল্লাম   কে   জিজ্ঞাসা   করল ,  ইসলামের   কোন   কাজটি   উত্তম ?  তিনি   বললেন ,  তুমি   খাবার   খাওয়াবে ও   পরিচিত   অপরিচিত ...

মুসলমানদের প্রথম কিবলা ‘আল–কুদস’

ছবি
মুসলমানদের প্রথম কিবলা ‘আল–কুদস’ শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী আল-কুদস বলতে বোঝায় ফিলিস্তিনের জেরুজালেম পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত পবিত্র মসজিদ। যা মাসজিদুল আকসা বা ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ নামে পরিচিত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণের চল্লিশ বছর পর তাঁর ছেলে হজরত ইসহাক (আ.)-এর সন্তান হজরত ইয়াকুব (আ.) ফিলিস্তিনের জেরুজালেম নামক স্থানে ‘আল-আকসা’ মসজিদটি নির্মাণ করেন। অতঃপর তাঁর ছেলে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর বংশধর হজরত দাউদ (আ.)-এর সন্তান হজরত সুলাইমান (আ.) তা পুনর্নির্মাণ করেন। তিনি রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জেরুজালেম নগর প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে ‘কাবা’ কিবলা থাকলেও মসজিদুল আকসা বা ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ স্থাপনের পর এটি কিবলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ওহি লাভ ও নবুয়ত প্রকাশের সময় ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ই কিবলা ছিল। নবীজি (সা.) মদিনায় হিজরতের প্রায় দেড় বছর পর এই কিবলা পরিবর্তন হয়ে পুনরায় ‘কাবা’ কিবলা হিসেবে নির্ধারিত হয়। মদিনা শরিফে দুই কিবলার মসজিদও রয়েছে। ঐতিহাসিক এই ঘটনাকে ‘তাহবিলে কিবলা’ বা কিবলা পরিবর্তন বলা হয় (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৪২-১৫১)। এই থেকেই ইসলামের দ্বিতীয় কিবলা বায়তুল...

সদকাতুল ফিতর কী ও কেন?

ছবি
সদকাতুল ফিতর কী ও কেন? শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী ফিতরা বা সদকাতুল ফিতর হলো সেই নির্ধারিত সদকা, যা ঈদের নামাজের আগে প্রদান করতে হয়। একে জাকাতুল ফিতরও বলা হয়। ঈদের দিন সকালবেলায় যিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বাহান্ন ভরি রুপা বা সমমূল্যের ব্যবসাপণ্যের) মালিক থাকবেন, তাঁর নিজের ও পরিবারের ছোট–বড় সবার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা তাঁর প্রতি ওয়াজিব। রুপার হিসাবে বর্তমান বাজারমূল্যে এটি ৫০ হাজার টাকা প্রায়। যাঁরা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন, তাঁদের জন্যও ফিতরা আদায় করা সুন্নত ও নফল ইবাদত। একে অন্যের ফিতরা আদায় করতে পারবেন। সুবিধার জন্য রমজানেও ফিতরা আদায় করা যায়। যাঁদের জাকাত দেওয়া যায়, তাঁদের ফিতরাও দেওয়া যায়। ফিতরা নির্ধারিত খাদ্যসামগ্রী বা তার মূল্যে টাকায়ও আদায় করা যায় এবং অন্য কোনো বস্তু কিনেও দেওয়া যায়। পিতা, মাতা ও ঊর্ধ্বতন এবং ছেলে, মেয়ে ও অধঃস্তন এবং যার ভরণপোষণের দায়িত্ব রয়েছে (যেমন স্ত্রী), তাঁদের ওয়াজিব ফিতরা ও জাকাত প্রদান করা যায় না। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা, নবী (সা.)–এর জমানায় আমরা সদকাতুল ফিতর দিতাম এক সা (সাড়ে তিন কেজি প্রায়) খ...

২৫তম তারাবিতে যা পড়া হবে আজ

ছবি
২৫তম তারাবিতে যা পড়া হবে আজ আল ফাতাহ মামুন আজ ২৫তম তারাবিতে সূরা মুজাদালাহ থেকে শুরু করে সূরা সুরা তাহরিম পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৮তম পারা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের মূলবিষয়বস্তু তুলে ধরা হল। এ পারার সব সূরাই নাজিল হয়েছে মদীনায়। ৫৮. সূরা মুজাদালাহ : ১-২২ সূরা মুজাদালাহ নাজিল হয়েছে মদীনায়। এর আয়াত সংখ্যা ২২ এবং রুকু সংখ্যা ৩। প্রথম থেকে তৃতীয় তথা শেষ রুকু, ১ থেকে ২২ নম্বর আয়াত। সূরা শুরু হয়েছে জিহারের বিধান ও ভয়াবহতা বর্ণনা করে। এরপর মুনাফিকদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে এবং মোমিনদের জন্য মজলিসের আদব বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা শেষ হয়েছে আখেরাতে বিশ্বাসীদের উচ্ছসিত প্রশংসা করে। ৫৯. সূরা হাশর : ১-২৪ ২৪ আয়াত বিশিষ্ট সূরা হাশরের রুকু সংখ্যা ৩। পূর্বের সূরার মত এ সূরাও পবিত্র মদীনা নগরীতে নাজিল হয়েছে। প্রথম থেকে তৃতীয় তথা শেষ রুকু, ১ থেকে ২৪ নম্বর আয়াত। সত্য অস্বীকারকারীদের পরিণতি দুনিয়া ও আখেরাতে কত কঠিন তা বলে শুরু হয়েছে এ সূরা। সূরার বড় অংশে সমরনীতির আলোচনা রয়েছে। সূরা শেষ হয়েছে মোমিনদের উদ্দেশ্যে উপদেশ বাণী দিয়ে। ৬০. সূরা মু...

রমজানের শিক্ষা মানবিক, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা

ছবি
রমজানের শিক্ষা মানবিক, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী মানুষের মানবিক গুণাবলি বিকাশে সহায়ক রমজান। রোজা পালনের মাধ্যমে ধনীরা গরিবের দুঃখ বুঝবে; ক্ষুৎপিপাসার জ্বালা অনুভব করবে। বুঝতে পারবে অসহায় নিরন্ন মানুষের ও খাদ্যের সম্মান। মর্যাদা দিতে শিখবে ক্ষুধার্ত মানুষকে। উপলব্ধি করবে, কেন অন্নহীন গরিব মানুষ একমুঠো খাবারের জন্য অন্যের দ্বারে হাত পাতে। অনুধাবন করবে দুস্থ–গরিব লোকেরা ধনী হওয়ার লোভে নয়, সম্পদের নেশায় নয়, ভোগবিলাসের মোহে নয়, শুধুই জীবন বাঁচানোর তাগিদে সবার অগোচরে দৃষ্টির আড়াল হলে সামান্য বাসি–ঝুটা খাবারের প্রতি হাত বাড়ায়। কেন গরিব মা তাঁকে খেতে দিলে নিজে না খেয়ে আঁচলে বেঁধে নেয় তাঁর অভুক্ত সন্তানের জন্য। অনুভব করে ক্ষুধায় কাতর মানুষ কেন তার আত্মসম্মান বিসর্জন দেয়, মর্যাদা ভুলে যায়, মান–ইজ্জত বিকিয়ে দেয় খাবারের জন্য। তাদেরকে ঘৃণা ও উপেক্ষা নয়, তাদের জন্য ভালোবাসা ও সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। এটুকু অনুভূতি জাগ্রত হওয়াই রোজা ও রমজানের বড় শিক্ষা। জাকাত একটি ফরজ ইবাদত। জাকাত করুণার দান নয়, দয়া–দাক্ষিণ্যও নয়। এটি বঞ্চিতদের পাওনা অধিকার। আল্লাহ তাআলা কোরআন করি...

পরহেজগারি অর্জন, অসদগুণ বর্জন

ছবি
পরহেজগারি অর্জন, অসদগুণ বর্জন সৈয়্যেদ নূরে আখতার হোসাইন রাব্বুল আলামিন সিয়াম সাধনায় পরহেজগারি অর্জনের কথা বলেছেন। পরহেজগারি অর্জনের সঙ্গে সদগুণ অর্জন এবং পাপ কাজ বর্জনের বিষয় সম্পৃক্ত রয়েছে। সিয়াম সাধনায় সায়েম জীবনভর আল্লাহর পছন্দের কাজ করেন। মন্দ কাজ এড়িয়ে চলেন। আল্লাহর অপছন্দের কাজ- মিথ্যা কথা বলা, হারাম খাওয়া, হিংসাবিদ্বেষ, লোভলালসা, অহংকার, পরনিন্দা, লোক দেখানো ইবাদত, দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা, কৃপণতা, কামুকতা, ভালোকে মন্দ ও মন্দকে ভালো মনে করা। এসব দোষ ছেড়ে অর্জন করতে হবে সদগুণ, যেমন- মন্দ কাজ, বেহুদা কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকা, আল্লাহর দানে তুষ্ট থাকা, সত্যের ওপর দৃঢ় থাকা, স্বার্থপরতা ত্যাগ করা, পরোপকার করার প্রতি যত্নবান হতে হবে। সে ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলিম, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। গালমন্দকারীর ইবাদত-বন্দেগি কোনো কাজে আসবে না। যার মধ্যে লজ্জা ও শিষ্টাচারিতা নেই, সে প্রকৃত মুসলমান নয়। অপবাদকারী ও নিন্দুকের জন্য বেহেশতের দরজা বন্ধ থাকবে। যে মানুষের প্রতি দয়া দেখায়, আল্লাহও তার প্রতি দয়ালু। যে অভাবগ্রস্তের উপকার করে, আল্লাহ এ জগতে ও পরজগতে তার উপ...

যে কারণে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী ‘লাইলাতুল কদর’

ছবি
যে কারণে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী ‘লাইলাতুল কদর’ এহসান বিন মুজাহির লাইলাতুল কদর মহিমান্বিত একটি রজনী। লাইলাতুল কদরের অন্য নাম শবে কদর। কদরের রাতে অজস্র ধারায় আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। এ রাতে এত অধিকসংখ্যক রহমতের ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন যে, সকাল না হওয়া পর্যন্ত এক অনন্য শান্তি বিরাজ করে পৃথিবীতে। মহান আল্লাহর ভাষায়-লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য অপরিসীম। কোরআনুল কারীমে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি একে নাযিল করেছি শবে কদরে। শবে কদর সম্পর্কে আপনি কি জানেন? শবে কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা আল কাদর : ১-৫)। কদর নামকরণের কারণ :  যেহেতু এ রজনী অত্যন্ত মহিমান্বিত ও সম্মানিত তাই এ রজনীকে লাইলাতুল কদর বলা হয়ে থাকে। আবার এ রাত্রে যেহেতু পরবর্তী এক বৎসরের অবধারিত বিধিলিপি ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয় সে কারণেও এ রজনীকে কদরের রজনী বলা হয়। সূরা কদর অবতীর্ণ হওয়ার পটভূমি :  ইবনে আবি হাতেম (র...