পরহেজগারি অর্জন, অসদগুণ বর্জন
পরহেজগারি অর্জন, অসদগুণ বর্জন
সৈয়্যেদ নূরে আখতার হোসাইন
রাব্বুল আলামিন সিয়াম সাধনায় পরহেজগারি অর্জনের কথা বলেছেন। পরহেজগারি অর্জনের সঙ্গে সদগুণ অর্জন এবং পাপ কাজ বর্জনের বিষয় সম্পৃক্ত রয়েছে। সিয়াম সাধনায় সায়েম জীবনভর আল্লাহর পছন্দের কাজ করেন। মন্দ কাজ এড়িয়ে চলেন।
আল্লাহর অপছন্দের কাজ- মিথ্যা কথা বলা, হারাম খাওয়া, হিংসাবিদ্বেষ, লোভলালসা, অহংকার, পরনিন্দা, লোক দেখানো ইবাদত, দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা, কৃপণতা, কামুকতা, ভালোকে মন্দ ও মন্দকে ভালো মনে করা। এসব দোষ ছেড়ে অর্জন করতে হবে সদগুণ, যেমন- মন্দ কাজ, বেহুদা কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকা, আল্লাহর দানে তুষ্ট থাকা, সত্যের ওপর দৃঢ় থাকা, স্বার্থপরতা ত্যাগ করা, পরোপকার করার প্রতি যত্নবান হতে হবে।
সে ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলিম, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। গালমন্দকারীর ইবাদত-বন্দেগি কোনো কাজে আসবে না। যার মধ্যে লজ্জা ও শিষ্টাচারিতা নেই, সে প্রকৃত মুসলমান নয়। অপবাদকারী ও নিন্দুকের জন্য বেহেশতের দরজা বন্ধ থাকবে। যে মানুষের প্রতি দয়া দেখায়, আল্লাহও তার প্রতি দয়ালু। যে অভাবগ্রস্তের উপকার করে, আল্লাহ এ জগতে ও পরজগতে তার উপকার করবেন। যার মনে আল্লাহর ভয় রয়েছে, সে জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহর হুকুম মোতাবেক করার চেষ্টা করে। হারাম-হালালের পার্থক্য করে এবং কোন কাজ করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আর কোন কাজ করলে তিনি অসন্তুষ্ট হন, এ খেয়াল রাখে।
যার তাকওয়া নেই এবং আল্লাহর হুকুম পালন করে না, সে রাসূল (সা.)-এর জামাতভুক্ত হবে না। তাই আন্তরিকতার সঙ্গে সিয়াম পালনের মাধ্যমে পরহেজগারি অর্জনের পথে অগ্রসর হওয়া জরুরি। হজরত বড় পীর আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) বলেছেন, তুমি পরহেজগারি অবলম্বন কর। না হয় তোমার প্রতি এমনিভাবে ধ্বংস আসবে যে ধ্বংস থেকে নাজাত পাবে না।
সিয়ামের পুরস্কার সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, সিয়াম আমার ইবাদত, আমি এর পুরস্কার দেব। সিয়ামের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সদগুণ অর্জনের জন্য কোরআন-হাদিসের বাণী ও ধর্মীয় গ্রন্থ পড়তে হবে এবং সৎলোকের সাহচর্য লাভ করতে হবে। আল্লাহ আমাদের পরহেজগারি অর্জনের তৌফিক দিন। লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ
source -jugantor news paper

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন