পোস্টগুলি

সম্পন্ন মানবের শুভাগমনে ইসলামের পূর্ণতা

ছবি
  সম্পন্ন মানবের শুভাগমনে ইসলামের পূর্ণতা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী আল্লাহ তাআলা ভালোবেসে সৃষ্টি করলেন বিশ্ব-নিখিল। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে দেখতে চান ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তাই নিজের ভালোবাসার প্রতিবিম্ব হিসেবে পাঠালেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মানবজাতির সর্বোত্তম আদর্শ আখেরি নবী ও সর্বশেষ রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে, যিনি ইনসানে কামিল বা পরিপূর্ণ মানব। মানবীয় অবয়বে আল্লাহর গুণাবলির সমাহার ঘটেছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে। তাঁর শুভাগমনে ইসলামের পরিপূর্ণতা ঘটেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর রং! আর আল্লাহর রং অপেক্ষা অধিকতর সুন্দর রং কী হতে পারে? আমরা তাঁরই ইবাদতকারী অনুগত বান্দা।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৩৮)। প্রকৃতির ধর্ম, মানবধর্ম, ভালোবাসা ও প্রেমের ধর্ম। মহান আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামের পূর্ণতা দানের জন্যই মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাব। কোরআনের ভাষায়, ‘তিনি তাঁহার রাসুলকে পথনির্দেশ ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন অপর সকল ধর্মের ওপর উহাকে জয়যুক্ত করার জন্য। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, তাঁহার সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে...

ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়...

ছবি
ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায় ... সালেহ ফুয়াদ সময়টা মূর্খতার। সময়টা হিংস্রতার। শুকনো অতৃপ্ত মরুভূমি রক্তের জন্য উতলা। পশুকে পানি পান করাতে গিয়ে সৃষ্ট কাজিয়ার সূত্রে বছরের পর বছর ধরে লড়াই চলছে অবিরাম। ধনী আর নির্ধনের বিরোধ চরমে। কালো আর ধলোর শ্রেণি–তফাত মাত্রাহীন। আরব আর অনারবের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে অহেতুক আভিজাত্যের বড়াই। মানুষের মূল্য খুব অল্প। দাসত্বের শৃঙ্খলে পেঁচিয়ে অর্থবিত্তে অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর ওপর সারা বিশ্বে চলছে অসহ্য নির্যাতন। আরবরা এক হাতে শিল্পের চর্চা করছে, অন্য হাতে করছে নারীর অপমান। এতটাই অপমান, কোনো পিতা কন্যাসন্তানের দায় নিতে চান না কোনোভাবে। এরপরও কন্যাশিশুর জন্ম হলে তাকে গর্তে ফেলে জীবন্ত দাফন করছেন খোদ জন্মদাতা। তাই যুগটা কাব্যমুশায়েরার জন্য উৎকৃষ্ট হলেও সভ্য দুনিয়া সেই সময়টার নাম দিয়েছে জাহেলি যুগ বা আইয়ামে জাহেলিয়া। হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জন্ম এই সময়েই। এরপরের ইতিহাস সবার জানা। কেমন পাল্টে গেল দুনিয়া। ঘুচে গেল আরব-অনারব বিরোধ। শ্রেণি-বর্ণের তফাত থাকল না। নারীর সম্মান ফিরল আবার। মানুষে মানুষে ভালোবাসা আবারও জমে উঠল। হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর নাম জপে বহু পাপি...

সম্পন্ন মানবের শুভাগমনে ইসলামের পূর্ণতা

ছবি
  সম্পন্ন মানবের শুভাগমনে ইসলামের পূর্ণতা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী আল্লাহ তাআলা ভালোবেসে সৃষ্টি করলেন বিশ্ব-নিখিল। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে দেখতে চান ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তাই নিজের ভালোবাসার প্রতিবিম্ব হিসেবে পাঠালেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মানবজাতির সর্বোত্তম আদর্শ আখেরি নবী ও সর্বশেষ রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে, যিনি ইনসানে কামিল বা পরিপূর্ণ মানব। মানবীয় অবয়বে আল্লাহর গুণাবলির সমাহার ঘটেছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে। তাঁর শুভাগমনে ইসলামের পরিপূর্ণতা ঘটেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর রং! আর আল্লাহর রং অপেক্ষা অধিকতর সুন্দর রং কী হতে পারে? আমরা তাঁরই ইবাদতকারী অনুগত বান্দা।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৩৮)। প্রকৃতির ধর্ম, মানবধর্ম, ভালোবাসা ও প্রেমের ধর্ম। মহান আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামের পূর্ণতা দানের জন্যই মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাব। কোরআনের ভাষায়, ‘তিনি তাঁহার রাসুলকে পথনির্দেশ ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন অপর সকল ধর্মের ওপর উহাকে জয়যুক্ত করার জন্য। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, তাঁহার সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে...

উম্মাতি, উম্মাতিঃ আমার উম্মত, আমার উম্মত

ছবি
  উম্মাতি, উম্মাতিঃ আমার উম্মত, আমার উম্মত --------------- * --------------- * ----------------- এই উম্মতের জন্য রাসূল (স) এর ছিল অগাধ ভালবাসা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন ঃ لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ "তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল।" عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ “তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ।” حَرِيصٌ عَلَيْكُم তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী। হারিস শব্দটি সন্তানের প্রতি পিতা মাতার ভালবাসা প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। তিনি তোমাদের ভালোর জন্য বেশ আগ্রহী। بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়। আল্লাহ রাসূল (স) এর জন্য এমন দুটি শব্দ ব্যবহার করেছেন যার শুরুতে আলিফ লাম যুক্ত করে আল্লাহর দুটি নাম প্রকাশ করা হয়। আর-রাউফ , আর-রাহিম। আলিফ লাম কেটে দিয়ে মানুষের জন্য শব্দ দুটি ব্যবহার করা যাবে। সুতরাং আর-রাউফ এবং আর-রাহিম রাসুল (স) কে রাউফ এবং রাহিম বলে বর্ণনা করেছেন। কাদের প্রতি তিনি রাউফ এবং রাহিম ? মুমিনদের প্রতি। বিশ্বাসীদের প্রতি তিনি রাউফ। রাউফ শব্দের অর্থ হলো চরম স্নেহশীল, রাহিম হলো সাধারণ দয়া। রাউফ হলো বিশেষ ধরণের ...

সূরা আসর এর মূলভাব

ছবি
  ●|● সূরা আসর এর মূলভাব ●|● আপনি পানিতে ডুবে যাচ্ছেন। আপনার জ্ঞান হারিয়ে যায় যায় অবস্থা। আপনার কি মনে হয়? এরকম একটা অবস্থায় আপনার হাতে কি বাঁচার জন্য অনেক সময় আছে? আপনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পানির গভীরে তলিয়ে যাচ্ছেন, এর মানে আপনার হাতে কিন্তু মোটেও সময় নেই! সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। আরবীতে এভাবে সময় শেষ হয়ে আসাকে বুঝানোর জন্য 'আসর' শব্দটি ব্যবহার করা হয়। 'আসর' এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে সময়, যেটা শেষ হয়ে আসছে। দিনের শেষ সময়, যখন দিন শেষ হয়ে আসে, তখনই আসর নামাজ এর ওয়াক্ত হয়। ‘আসর’ শব্দের উংপত্তি হচ্ছে ‘অসির’ শব্দটি থেকে। এর মানে হচ্ছে চিপে রস বের করা -- ‘সময়’ যেটা হাতের ফাঁক দিয়ে চলে যাচ্ছে। আমরা ভেজা কাপড় শুকাতে দেয়ার আগে দুইহাত দিয়ে মুচড়িয়ে যেভাবে পানি বের করি, আসর শব্দটি এধরনের ভাব বোঝাতেই ব্যবহার করা হয়। তারমানে এখানে আল্লাহ এমন একটা মুহুর্তের কথা বর্ণনা করছেন যখন আপনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পানিতে ডুবে যাচ্ছেন এবং আপনার সময় শেষ হয়ে আসছে। এমন অবস্থায় বেঁচে থাকতে হলে আপনাকে সর্বপ্রথম কোন কাজটা করতে হবে? বেঁচে থাকার আশা করতে হলে কোন জিনিসটা আপ...

ধন-সম্পদ

ছবি
আল্লাহ এই দুনিয়াতে সবাইকে জীবন যাপনের উপকরণ দিয়েছেন। এই উপকরণ দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি কাউকে অন্যদের চেয়ে বেশি দিয়েছেন। আর কাকে কতটুকু দিবেন তিনিই সেটা ভালো জানেন। কিন্তু সবাইকে একটি কমন আদেশ দেয়া হয়েছে - সবাইকে নিজ নিজ পরিবেশ পরিস্থিতিতে থেকে আল্লাহর ইবাদাত করতে হবে। কেউ হয়তো ৬০ বছর বয়স পেয়েছেন আবার কেউ হয়তো আরো কম বা বেশি। এই ৬০ বা ৮০ বছর বয়স আপনার নিজের কোনো অর্জন নয়, আপনার অর্জন হলো এই সময়ে আপনি আল্লাহর জন্য কী করেছেন, সেটা। একইভাবে মানুষ নিজের পরিবেশ, উপায় উপকরণ নিয়ে গর্ব করে। এটা আসলে আপনার অর্জন নয়, আল্লাহ আপনাকে এসব দান করেছেন। আল্লাহ মানুষকে যে পরিবেশ পরিস্থিতি এবং উপায় উপকরণ দান করেছেন তার মূল উদ্দেশ্য হলো, এসব ব্যবহার করে আল্লাহর ইবাদাত করা। এখন যে অন্যদের চেয়ে উত্তম পরিবেশ এবং উপায় উপকরণ পেয়েছে তার কাছ থেকে বেশি ইবাদাত আশা করা হয়। এখন ভালো পরিবেশ পাওয়ার পরেও যদি আল্লাহর ইবাদাত না করেন তাহলে এই ভালো পরিবেশই আপনার বিরুদ্ধে প্রমান হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। 'তুমি শান্তিপূর্ণ জীবন পেয়েছো, নিরাপত্তা পেয়েছো, আমি তোমার জীবন জীবিকার সকল উপায় উপকরণের ব্যবস্থা...

বাহ্যিক বেশভূষা

ছবি
  আমরা কারো বাহ্যিক বেশভূষা দিয়ে কখনও একজনকে বিচার করতে পারিনা। অন্তত ইসলামে না। একটা উদাহরণ দিই। দু'জন লোক দৌড়িয়ে আসর নামাযের দ্বিতীয় রাকাহ্‌ কোনমতে ধরল। দু'জনের মধ্যে একজনের উপর আল্লাহ অসন্তুষ্ট হতে পারেন আর একজনের সাওয়াব হতে পারে। কেন? প্রথম জনের, সে বিগত কয়েক বছর যাবত প্রথম কাতারের মুসল্লি। ঐদিন অনেকটা ইচ্ছা করেই দেরী করে আসল। তার যে ঈমানের অবস্থা আর আল্লাহ তার জন্য যেভাবে ভাল কাজগুলো সহজ করে দিয়েছেন সেই তুলনায় সে আশানুরূপ কাজ করেনি। তাই আল্লাহর দৃষ্টিতে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরী করে আসার জন্য সে গুনাহগার হতে পারে। অপরজন, সে অনেক বছর পর নামায পড়তে আসল। ভাল কথা, ভাল লেকচার শুনার সুযোগ তার কমই হয়েছে জীবনে। ইসলামিক পরিবেশে বেড়ে উঠার সুযোগ হয়নি। কোন একটি ঘটনার কারণে সে সিদ্ধান্ত নিলো নামায শুরু করবে। তাই নামাযে নিয়মিত হতে একটু হিমশিম খাচ্ছে। এইজন্য তার সাওয়াব হতে পারে। ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলাই জানেন। এখন আমার আপনার ঐ দু'জন কে দেখে বুঝার উপায় আছে কার সাওয়াব হল কার গুনাহ হল? একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার গুলো আল্লাহ তায়ালা জানেন। ব্যাপার গুলো আপেক্ষিক। শেষ ...