পোস্টগুলি

একটি আশ্চর্যজনক দুয়া

ছবি
একটি আশ্চর্যজনক দুয়াঃ অনেক “বড় সওয়াব” পাওয়ার জন্যে একটা আমলঃ উম্মুল মু’মিনীন জুওয়াইরিয়া বিনতিল হারিস রাদিয়াল্লাহু আ’নহা থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন সকাল বেলা ফযরের সালাত পড়ার পর তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। তিনি তখন নিজের সালাতের জায়গাযতেই বসা অবস্থায় ছিলেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আবার চাশতের পর ফিরে এলেন। তখনো তিনি জায়নামাযেই বসা অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি তোমাকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম সেই একই অবস্থায় তুমি বসে রয়েছো?” তিনি জবাব দিলেনঃ জি হ্যাঁ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি তোমার এখান থেকে যাওয়ার পর এমন চারটি কালেমা তিনবার পড়েছি, যা তুমি আজ যা কিছু পড়েছো তার সাথে যদি ওজন করা যায় তাহলে তুমি ওজন করতে পার, অর্থাৎ তার সমান হবে। সেই কালেমাগুলো হচ্ছেঃ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ: عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ উচ্চারণঃ সুবহা’নাল্লাহি ওয়া বিহা’মদিহি, আ’দাদা খালক্বিহি, ওয়া রিদ্বা নাফসিহি, ওয়া যিনাত...

যে দশটি উপায়ে আমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা হয়

ছবি
  যে দশটি উপায়ে আমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (১ম পর্ব) — ড. ইয়াসির ক্বাদী আজকে আমরা আকর্ষণীয় একটি তালিকা নিয়ে কথা বলবো যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (র) সংকলন করেছেন। আর এই তালিকাটি হলো, যে সকল সম্ভাব্য উপায়ে আমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়া হতে পারে। আমরা জানি, সাধারণ নিয়ম হলো কুরআনে পরিষ্কার করে বলে দেয়া হয়েছে কেউ কোনো মন্দ কাজ করলে তাকে সে কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে। তাহলে, কোনো ব্যক্তি একটি মন্দ কাজ করলে তার ঐ কাজের জন্য একটি শাস্তি নির্ধারিত হয়ে যায়। কিন্তু এই শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অনেকগুলো উপায় রেখেছেন। কিছু কিছু উপায় আমাদের হাতে আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা অন্য মানুষদের অনুমতি দিবেন আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার। তো, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (র) কুরআন হাদিস থেকে এরকম দশটি উপায় খুঁজে বের করেছেন যার মাধ্যমে আমরা আমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে নিতে পারি; চূড়ান্ত শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পূর্বে। অবশ্যই চূড়ান্ত শাস্তি হলো দোজখের আগুন। আমরা আল্লাহর আশ্রয় চাই। আমরা ঐ শাস্তি ভোগ করতে চাই না। এ উপায়গুলোর মাঝে কিছু কিছু উপায় অন্য...

পাপ করার ইচ্ছা দমন করার জন্য করণীয়

ছবি
  যখন মনের মধ্যে পাপ করার প্রবল ইচ্ছা জাগ্রত হয় তখন তা দমন করার জন্য করণীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যকর উপায়। মানুষ সৃষ্টিগতভাবে পাপ প্রবণ। শয়তান ও কু প্রবৃত্তি তাকে প্রায়ই পাপাচার, অন্যায় ও আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজের দিকে তাড়িত করে। সব মানুষের মধ্যেই এমন পাপের মনোবৃত্তি জাগ্রত হয়। কিন্তু সফল হয় সে ব্যক্তি যে সুযোগ থাকার পরও আল্লাহর আযাবের ভয়ে পাপ ও অন্যায় থেকে আত্ম সংবরণ করে আর হতভাগ্য ও ধ্বংস প্রাপ্ত তো সে ব্যক্তি যে শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে কিংবা কামনা-বাসনার ডাকে সাড়া দিয়ে পাপ-পঙ্কিলতার অন্ধকারে হারিয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যে নিজের আত্মাকে (পাপ-পঙ্কিলতা থেকে) পবিত্র করে সেই সফল হয় আর যে তাকে কলুষিত করে ধ্বংস হয়।" (সূরা শামস: ও ১০)। যা হোক যখন অন্তরে অন্যায় ও পাপকাজের চিন্তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তখন কী করণীয় সে ব্যাপারে কিছু আইডিয়া পেশ করা হল। এগুলো থেকে এক বা একাধিক আইডিয়া কাজে লাগালে আশা করা যায় যে, মহান আল্লাহ পাপ পঙ্কিলতায় ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ। ১। মনে পাপের চিন্তা জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথে ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম’ “বিতাড...

ঈমান ভঙ্গের ১০টি কারণ

ছবি
  আমাদের দেশের অধিকাংশ মুসলিম অযু ভঙ্গের কারণ জানে কিন্তু ঈমান ভঙ্গের কারণ অধিকাংশ মুসলিম জানে না। অনেকে মনে করে, ঈমান আবার ভঙ্গ হয়ে কিভাবে? ঈমান ভঙ্গের দলীল নিম্নরূপঃ আল্লাহ বলেন- مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالإيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ যে কেহ ঈমান আনার পরে আল্লাহর সাথে কুফরী করেছে আর যার অন্তর কুফরীর জন্য উন্মুক্ত রয়েছে তবে তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি কিন্তু তার জন্য নয় যাকে বাধ্য করা হয়েছে আর তার অন্তর ঈমানের উপর অবিচল থাকে। (আন্-নাহল, ১৬/১০৬) উপরের আয়াত প্রমাণ করছে; কেহ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পরও আল্লাহর সাথে কুফরী করার কারণে তার ঈমান ভঙ্গ হয়ে যেতে পারে। ঈমান ভঙ্গের ১০টি কারণ নিম্নরূপঃ ১। শির্ক করাঃ মহান আল্লাহর ইবাদতে অন্যকে শরীক করা অর্থাৎ “মহান আল্লাহর পাওনা তার বান্দাকে দেয়া, স্রষ্টা আর সৃষ্টিকে সমান করে দেয়া্। আল্লাহ বলেন- إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ و...

কল্যাণ লাভ

ছবি
  মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য নিজের খেয়াল-খুশি, ইচ্ছা-আকাংখা বা কামনা-বাসনা বিসর্জন দেওয়া মুমিনদের জন্য সুখ ও সফলতার একটা মাধ্যম। মহান আল্লাহ তাআ’লা ইরশাদ করেন, তোমরা কস্মিণকালেও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় না কর। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, আল্লাহ তা ভালো জানেন। সুরা আলে-ইমরানঃ ৯২। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য কোন কিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে তার চাইতে উত্তম কিছু দ্বারা প্রতিস্থাপন করবেন।” মুসনাদে আহমাদঃ ২২৫৬৫। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এই দুনিয়ার পুরোটাই হচ্ছে ভোগ-বিলাস ও আনন্দ উল্লাসের সামগ্রী। তার মাঝে সবচাইতে উত্তম সম্পদ হচ্ছে নেক ও সৎ কর্মপরায়ণ (উপযুক্ত) স্ত্রী।” সহীহ মুসলিমঃ ১৪৬৭। এজন্যই একজন হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আ'নহু বলেছেন, “ঈমানের পর মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সবচাইতে বড় নেয়ামত হচ্ছে অনুগতা, মিষ্ট ভাষী, কোমল হৃদয়ের মুমিনাহ স্ত্রী। আর ...

মানুষের আত্মা কবজ করার সময়

ছবি
  মানুষের আত্মা যখন কবজ করার সময় হয়, তখন আল্লাহর নির্দেশে আকাশ থেকে মালাকুল মউত বা মৃত্যুর ফেরেশতারা সেই ব্যক্তির নিকটে আসে। নেককার লোকদের জন্যে রহমতের ফেরেশতা আসে, আর পাপাচারী ব্যক্তির জন্যে আজাবের ফেরেশতারা আসেন। আজাবের ফেরেশতাদের ভয়ংকর চেহারা ও রূপ দেখেই কাফের, মুশরেক ও পাপাচারী মুসলমানদের আত্মাটা ভয়ে শরীরের বিভিন্ন অংগ-প্রত্যংগে পালানোর চেষ্টা করে। এমনকি পাপাচারী ব্যক্তির আত্মাটা তার নখের নীচে, পশমের নিচে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করে। মালাকুল মউত পলায়নপর এই আত্মাকে পিটিয়ে পিটিয়ে টেনে বের করে আনার চেষ্টা করেন। বের করার সময় আত্মাটার এমন কষ্ট হয়, যেনো একটা চটের বস্তার মধ্যে দিয়ে একটা লোহার আংটা ঢুকিয়ে দিয়ে টেনে বের করার সময় যেভাবে ছিড়েফুড়ে বের হয়ে আসে, ঐ আত্মাটাও সেইভাবে ছিড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে বের হয়ে আসে। আর এইজন্যই ‘সাখারাতুল মউতের’ সময় পাপী লোকদের এতো কষ্ট হয়। অপরদিকে নেককার বান্দাদের আত্মা মালাকুল মউতের আহবানে সাড়া দিয়ে এতো সহজে বের হয়ে আসে, যেইভাবে একটা পানির পাত্রকে কাত করলে একদম সহজেই পানি বের হয়ে আসে। আর শহীদদের মৃত্যু কষ্ট হয় সবচেয়ে কম। একটা পিপিলীকা কা...

তাকদিরের উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখুন।

ছবি
  সমাধান! ডিপ্রেশান (Depression) এক ধরনের ধোকা! সুতরাং (১) তাকদিরের উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখুন। কেননা, যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, সকল বিষয় লিপিবদ্ধ হয়ে গিয়েছে, আল্লাহ না চাইলে কেউ কারো কোন ক্ষতি করতে পারে না; সে ব্যক্তিকে দুঃশ্চিন্তা কাবু করতে পারে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মতকে এই শিক্ষাই দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ জেনে রাখ, সমস্ত মানুষ যদি তোমার কোন উপকার করতে চায় তবে আল্লাহ্ তোমার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তা ব্যতীত আর কোন উপকার করতে পারবে না। আর যদি সমস্ত মানুষ তোমার কোন অনিষ্ট করতে চায় তবে আল্লাহ্ তোমার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তা ব্যতীত আর কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। কলম তুলে নেয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠা শুকিয়ে গেছে। (তিরমিযীঃ ২৫১৬) অপর হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ মনে রেখো, যা তুমি পেলে না, তা তোমার পাবার ছিল না, আর যা তুমি পেলে তা তুমি না পেয়ে থাকতে না। আরো জেনে রাখো, ধৈর্য্য ধারণের ফলে (আল্লাহর) সাহায্য লাভ করা যায়। কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ আসে। কঠিন অবস্থার পর স্বচ্ছলতা আসে। (ইমাম নববই-কৃত আলআরবাঈন-১৯) সমাধানঃ (২) চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দিন। দুনিয়ার মুসিবত নয়; বরং সব...