পোস্টগুলি
জুবাইদা বিনতে জাফর
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম নারী উদ্যোক্তা জুবাইদা বিনতে জাফর পঞ্চমবারের মতো হজ্বে যাচ্ছেন। তিনি লক্ষ্য করলেন যে, মানুষজন পানির সঙ্কটে ভুগছে। তিনি দেখতে পেলেন যমযম কূপের পানি মানুষজন অনেক বেশি সংগ্রহ করার ফলে পানির লেয়ার নিচে নেমে গেছে। কূপটি খনন করতে হবে। জুবাইদা বিনতে জাফরের স্বামী ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের বিখ্যাত খলিফা হারুন-অর-রশীদ। সেই হিশেবে জুবাইদার প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিলো অনেক বেশি। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা মোকাবিলায় তিনি কোনো উদ্যোগ নিলে সেটা বাস্তবায়ন করা তাঁর জন্য বেশ সহজসাধ্য। যমযম কূপ খনন, আরাফাতে একটি কূপ খনন করতে তিনি ২ মিলিয়ন দিনার ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেন। আরবের মানুষ পানি সঙ্কটে ভুগছে। এই সঙ্কট উত্তরণের কূপ খননই অন্যতম সমাধান। কিন্তু, ইঞ্জিনিয়াররা তাঁকে একটু সতর্ক হতে বললো। পানি সঙ্কট নিরসনে এতো টাকা ব্যয় করার কী দরকার? তিনি ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শের জবাবে বললেন, “কোদালের একটি আঘাতের জন্য যদি ১ দিনার প্রয়োজন হয়, তবুও আমি চাই কূপ খনন করো।” ধরে নিন ১ দিনার মানে ৪০০০ টাকা। জুবাইদা বিনতে জাফরের কূপ খনন করার ব্যাপারে এতোটাই দৃঢ় সংকল্প ছিলো যে, তিনি কূপ খনন করতে কোদালের এক আঘাতের ...
অমুসলিম মনীষীদের দৃষ্টিতে বিশ্বনবী সা:
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
আকায়ে নামদার তাজেদারে মদিনা আহমদ মুস্তফা মুহাম্মদ মুস্তফা হজরত মুহাম্মাদ সা: রবিউল আউয়াল মাসেই পৃথিবীতে আগমন করেন, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে। তার সম্পর্কে অমুসলিম মনীষী ও দার্শনিকরা যে মন্তব্য করেছেন কিছুটা নিম্নে উল্লেখ করা হলো : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর সম্পর্কে বলেন : ‘যিনি বিশ্বের মহত্তমদের মধ্যে অন্যতম, সেই পবিত্র পয়গম্বর হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর উদ্দেশে আমি আমার অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি। মানুষের ইতিহাসে এক নতুন সম্ভবনাময় জীবনশক্তির সঞ্চার করেছিলেন হজরত মুহাম্মাদ সা:। পয়গম্বর এনেছিলেন নিখাদ, শুদ্ধ ধর্মাচরণের আদর্শ। সর্বান্তকরণে প্রার্থনা করি, পবিত্র পয়গম্বরের প্রদর্শিত পথ যারা অনুসরণ করেছেন, আধুনিক ভারতবর্ষের সুসভ্য ইতিহাস রচনা করে তারা যেন জীবন সম্পর্কে তাদের গভীর শ্রদ্ধা এবং পয়গম্বরের প্রদত্ত শিক্ষাকে যথাযথভাবে মর্যাদা দেন। তারা যেন এমনভাবে ইতিহাসকে গড়ে তোলেন, যাতে আমাদের জাতীয় জীবনে শান্তি ও পারস্পরিক শুভেচ্ছার বাতাবরণটি অটুট থেকে যায়।’ জগৎগুরু মুহাম্মাদ সা: (দ্বিতীয় খণ্ড) বইয়ের উল্লিখিত তথ্যমতে হজরত মুহাম্মদ সা: সম্পর্কে বিভিন্ন অমুসলিম...
প্রতিদিন কুরআন পড়ার অভ্যাস
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
আল্লাহর প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা না থাকলে, প্রতিদিন কুরআন পড়ার অভ্যাসটা ঠিক রাখা যায় না। ইমাম সুফিয়ান সাওরি (রাহ.) কোনোদিন মাত্রাতিরিক্ত ব্যস্ততায় আটকে গেলে, অন্তত কুরআন খুলে চোখ বুলিয়ে নিতেন। এটি না করলে তাঁর ভালো লাগতো না। পূর্বসূরি নেককার ব্যক্তিরা এমনই ছিলেন। . আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মানুষের মধ্য হতে আল্লাহর কিছু বিশেষ লোক রয়েছে।’’ তাঁকে বলা হলো, ‘আল্লাহর সেই বিশেষ লোকগুলো কারা?’ উত্তরে তিনি বলেন, কুরআনওয়ালারাই (কুরআন বুঝে পাঠকারী ও সে অনুযায়ী আমলকারী) হলো আল্লাহর বিশেষ লোক।” [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১২২৭৯; আলবানি, সহিহুল জামি’: ২১৬৫; হাদিসটি সহিহ] . জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এই কুরআন (কিয়ামতে) সুপারিশকারী; তার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (কুরআন) সত্যায়নকারী প্রতিবাদী। যে ব্যক্তি তাকে সামনে রাখবে, সেই ব্যক্তিকে সে পথ দেখিয়ে জান্নাতে নিয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি তাকে পেছনে রাখবে, সেই ব্যক্তিকে সে জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করবে।” [ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ১২৪; আলবানি, সহিহ...
আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাঃ) - প্রথম অংশ
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
রহমতের নবী (সাঃ) ঘুমিয়ে আছেন। ঘুমঘোরে স্বপ্নে আসলেন এক ফেরেশতা যার হাতে আছে এক খন্ড রেশমী রুমাল। রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন কি এটা। ফেরেশতা বললেন আপনি সরিয়ে দেখেন। তিনি সরিয়ে ফেলেই দেখলেন। এ তো এক ছোট্ট বালিকার মুখবায়ব। চেনা চেনা লাগছে... এ তো তাঁর প্রিয় আবু বকর (রাঃ) এর কন্যা আয়েশা (রাঃ)। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আমাকে কেন দেখানো হচ্ছে , ফেরেশতা জবাব দিলেন ইনিই সে সৌভাগ্যবতী যিনি এ জীবনে এবং পরজীবনেও আপনার স্ত্রী হবেন। আয়েশা (রাঃ) হয়ে উঠবেন প্রিয়দের মাঝেও প্রিয়তমা এবং ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিবে বিরহব্যথা। রাসুল (সাঃ) ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং ভাবনায় পড়ে গেলে তিনি কি অলীক স্বপ্ন দেখলেন নাকি ওহীর সত্যাদর্শন। এক ছোট্ট বালিকা যাকে কিনা তাঁর মা উম্মে রুমান ঘরেই রাখতে পারেনা সারাদিন হইহই করে বেড়ায়। কিছুদিন আগেও তিনি দেখেছন তাঁর বান্ধবিদের সাথে পুতুল খেলতে। আর সেই বালিকাই ভালোবাসা দিয়ে বিরহব্যথা ভুলিয়ে দেবে। এই বয়সী একটা মেয়ে ভালোবাসার অর্থ বা কি বুঝবে! এভাবে তিনি তিন দিন একই স্বপ্ন দেখলেন। এখন রাসুল (সাঃ) এর মনে কোনো দ্বিধা নেই কোনো শঙ্কা নেই। তিনি বুক পেতে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা পয়গাম ...
দুনিয়ার বিপদ-আপদ
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
দুনিয়ার বিপদ-আপদ আখিরাতের জন্য কামাইস্বরূপ। আল্লাহ কখনও তাঁর প্রিয় বান্দাকে দুনিয়াতে শাস্তি দিয়ে দেন, যাতে আখিরাতে তার শাস্তি মওকুফ করতে পারেন। . আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার কল্যাণ চান, তখন তিনি তাকে দ্রুত দুনিয়াতে শাস্তি দিয়ে দেন। আর, যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার অকল্যাণ চান, তখন তিনি তাকে (শাস্তিদানে) বিরত থাকেন। পরিশেষে কিয়ামতের দিন তাকে পুরোপুরি শাস্তি দেবেন।’’ [মুসলিম, আস-সহিহ: ২৩৯৬] . সুতরাং, বিপদ-আপদ আসলে কখনই বলবেন না, ‘সবসময় শুধু আমিই কেনো? অন্যদের কেনো বিপদ আসে না?’ . কারণ হতে পারে আপনার এমন কোনো কাজ আছে, যেটি আল্লাহ্ খুব পছন্দ করেছেন। তাই, তিনি চান আপনি আখিরাতে নিরাপদ থাকুন। সেজন্য দুনিয়াতেই আপনাকে মুসিবত, অসুস্থতা ইত্যাদির মাধ্যমে ঝালিয়ে নেন; গুনাহ মাফ করিয়ে নেন। ফলে আপনি আখিরাতে ভালো একটি অবস্থানে থাকবেন। কখনও বিপদ আসে পরীক্ষা হিসেবে। আল্লাহ দেখতে চান, বান্দা বিপদে কেমন আচরণ করে, কীভাবে বিপদকে মোকাবেলা করে। সে কি আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে নাকি বেসামাল হয়ে পড়ে। . সবার ক্ষেত্রে আল্লাহ একই কাজ করেন ...
রুমাইসা (রা:)-স্বামীর ইসলাম গ্রহণ ছিলো যে নারীর মোহরানা
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
স্বামীর ইসলাম গ্রহণ ছিলো যে নারীর মোহরানা রুমাইসা বিনতে মিলহান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর দশ বছরের ছেলেকে সাথে নিয়ে বসতেন আর বলতেন, ‘বলো বাবা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। ছেলে মায়ের সাথে সাথে কালিমার সাক্ষ্য দিতো। ছেলেকে এভাবে ‘কানপড়া’ দেওয়া বাবার পছন্দ না। তিনি মা’কে সাফ জানিয়ে দিলেন- আমার ছেলেকে এভাবে নষ্ট করো না। কিন্তু রুমাইসা (রা:) ছেলেকে কালিমা শেখানোর পাশাপাশি স্বামীকেও ইসলামের দাওয়াত দিতেন। স্বামী ইসলামের দাওয়াত তো গ্রহণ করতেন না, উল্টো ইসলামের দাওয়াত শুনলে ক্ষেপে যেতেন। শেষমেশ বউয়ের উপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পথিমধ্যে তার শত্রু তাকে হত্যা করে ফেলে। স্বামী মারা যাবার পর রুমাইসা (রা:) সিদ্ধান্ত নেন, তিনি আর বিয়ে করবেন না। ছেলেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। তবে ছেলে যদি চায়, তাহলে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন। কিছুদিন পর তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন যায়িদ ইবনে সাহিল নামে মদীনার এক ধনকুবের। তার আরেক নাম ছিলো আবু তালহা। একে তো তিনি ছিলেন ধনী, তারউপর সাহসী। তখনকার সময়ে পাত্র নির্বাচনে সাহসিকতা প্রাথমিক বিবেচনায় নেওয়া হতো। যায়িদ ইবনে সাহিলের মদীনায় একটি সুন্দর বাড়িও ছিলো।...