পোস্টগুলি
আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাঃ) - ষষ্ঠ অংশ
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
বিয়ে হয়ে আসার কিছুদিন পরে, একদিন সাহস করে রাসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করে ফেললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! সত্যি করে বলুন তাে, আপনি আমাকে কতটা ভালােবাসেন! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম একটু চিন্তা করে বললেন, তােমার এবং আমার মধ্যে ভালােবাসার বন্ধনটা এমন শক্ত, যেমন একটা রশির মধ্যে সুতাগুলাে শক্তভাবে জড়িয়ে থাকে, একই বাঁধনে আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা থাকে।' রাসুল (সাঃ) এর জবাব শুনে আয়েশা (রাঃ) খুশি হলেন। এর পর থেকে প্রায়ই তিনি রাসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করতেন, 'হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) ! আপনার ভালােবাসার বন্ধনের কী অবস্থা! আগের মতােই আছে, নাকি ঢিল হয়ে গেছে! রাসুল (সাঃ) আয়েশা (রাঃ) এর দুষ্টুমির জবাবে বলতেন, 'ভালােবাসার সে বাঁধন আগের মতােই দৃঢ় আছে। বাঁধনে কোনাে দুর্বলতা বা পরিবর্তন আসেনি। আয়েশা (রাঃ) পিতা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন রাসুল (সাঃ) এর ঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। রাসুল (সাঃ)এর সামনে মেয়ের এমন উঁচু গলার কথা শুনে তিনি থমকে দাঁড়ালেন। আজ পর্যন্ত তিনি রাসুল (সাঃ) এর সামনে উঁচু গলায় কথা বলা তাে দূরের কথা, তাঁর কোনাে কথার দ্বিমত পর্যন্ত করেননি। আর তার এইটুকুন মেয়ে আয়ে...
রাসূল সা: প্রদত্ত প্রথম জুমার খুতবা
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
রাসূল সা: প্রদত্ত প্রথম জুমার খুতবা মুহাম্মদ মিযানুর রহমান রাসূলুল্লাহ সা: প্রথম জুমার খুতবা প্রদান করেন মসজিদুল কুবায়। হিজরতের প্রাক্কালে মক্কা থেকে মদিনায় আসার সময় কুবায় সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার এই চার দিন অবস্থান করেন। কুবার অধিবাসীদের জন্য তাদের মসজিদ নির্মাণ করেন। জুমার দিন তিনি কুবা থেকে বের হন। বনি সালেম বিন আওফ গোত্রের কাছে আসতেই জুমার নামাজের সময় হয়ে গেল। সেখানকার উপত্যকায় অবস্থিত মসজিদেই তিনি জুমার নামাজ পড়লেন। এটি ছিল মসজিদে নববী নির্মাণ করার আগের জুমা আদায় এবং খুতবা প্রদান। ইতিহাসে এটাই প্রথম জুমার খুতবা হিসেবে পরিচিত। প্রথম খুতবা : বিখ্যাত সিরাত গবেষক ইবনে ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: সর্বপ্রথম যে খুতবাটি দিয়েছিলেন তা আমার কাছে আবু সালাম বিন আবদুর রাহমানের সূত্রে পৌঁছেছে। তিনি মুসলমানদের সামনে দাঁড়িয়ে সর্বপ্রথম আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তাঁর গুণাগুণ বর্ণনা করে বললেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের মুক্তির জন্য আমল করো। আল্লাহর শপথ! তোমরা তখন অবশ্যই (পরকালের উদ্দেশে আমল করার গুরুত্ব সম্পর্কে) জানতে পারবে যখন তোমাদের কেউ (শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার আওয়াজ শুনে) বেহুঁশ হয়ে...
💚সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম💚
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
💚সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম💚 লেখাটা আমি বার বার পড়ি যখনই পড়ি তখনই রাসূল (সাঃ) কে অনেক কাছে অনুভব করি।লেখার সৌন্দর্য্যরে কারণে উনার কাল্পনিক ভাবে উনাকে সাজাতে পারি আর রাসূল (সাঃ) সুন্নাহ অনুসরণের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে মন চায়। (সুবহানাল্লাহ) আল্লাহ সহজ করুন🤲 রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাঝারি আকৃতির ছিলেন। তিনি বেঁটে ছিলেন না, আবার অতিরিক্ত লম্বাও ছিলেন ন। তাঁর কাঁধ প্রশস্ত, মাথা বড়, হাত-পায়ের আঙ্গুলগুলো পৌরুষ প্রকাশক ও শক্ত এবং মুখ বড় ছিল। তাঁর চক্ষু ছিল আকর্ষণীয়ভাবে বড় এবং ফাড়া। তাঁর শরীরের রং ছিল ফরসা, সুন্দর কিছুটা লালচে মিশ্রিত সাদা। তাঁর চেহারা মোবারক ছিল পূর্ণিমার চাঁদের মত সুন্দর ও মনেমুগ্ধকর। . তাঁর মাথা ভরা কাল চুল ছিল। তাঁর চুল বেশী কোঁকড়ান বা একবারে সোজা ছিল না, সামান্য কোঁকড়ান ছিল। তাঁর সুবিন্যস্ত চুল সাধারণত তাঁর কান পর্যন্ত লম্বা নেমে আসত। তিনি হজ্জ-ওমরা ছাড়া কখনো মাথা মুণ্ডন করতেন না। ইন্তেকালের পূর্বেও তার চুল ও দাড়ি কাল ছিল। সামান্য ১৫/২০টি চুল সাদা হয়েছিল। . তিনি দৃঢ় পায়ে বড় বড় পদক্ষেপে দ্রুত হাঁটতেন, এমনভাবে যে তাকে দেখে মনে হত তিনি ঢালু যমিনের উঁচু থেকে নীচুত...
ইসলামের সৌন্দর্য (তৃতীয় পর্ব)
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে মোজার উৎকট গন্ধ পেলে কেমন লাগবে? সিজদাহ দিতে গিয়ে সামনের জনের মোজার গন্ধে মনে হবে পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসছে। শীতকালে এটা বেশি হয়। এটাকে অন্যভাবে দেখলে বলা যায়- একজন নামাজী আরেকজন নামাজীকে কষ্ট দিচ্ছে। কিভাবে কষ্ট দিচ্ছে? দুর্গন্ধ দিয়ে। সবাই নামাজ পড়তে আসছে, আল্লাহর ইবাদাত করতে আসছে। আল্লাহর ইবাদাতের মতো মহান কাজ করতে গিয়ে মানুষকে একটু কষ্ট দেওয়া হবে, তা আর এমন কী? কাঁচা পেয়াজ আর রসুন চিবিয়ে খেলে মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। এগুলো খেয়ে মসজিদে গেলে থমথম পরিবেশে দুর্গন্ধ আরেকজনের নাকে যায়, আরেকজন নামাজী এতে বিরক্ত হতে পারে। নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পেঁয়াজ ও রসুনের ব্যাপারে বলেন: “কেউ এসব দুর্গন্ধযুক্ত উদ্ভিদ খেলে সে যেনো আমার মসজিদের নিকট না আসে। কেননা মানুষ যেসব জিনিসে কষ্ট পায়, ফেরেশতাগণও সেসব জিনিসে কষ্ট পায়।” [সহীহ মুসলিম: ১১৩৯] পেঁয়াজ-রসুন খাবার পর মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয় বলে নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুব শক্তভাবে বললেন এগুলো খেয়ে কেউ যেনো মসজিদে না যায়! কারণ কী? কারণ, মানুষের কষ্ট হবে বলে। ইসলাম এমনটা সমর্থন করে না যে- ‘আমি ইচ্ছেম...
আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাঃ) - চতুর্থ অংশ
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে রাসুল সাঃ এবং আবু বকর (রাঃ) মদিনায় পৌঁছালেন এবং তার মাস তিনেক পর আয়েশা (রাঃ) সহ তাদের পুরো পরিবারকে মদিনায় নিয়ে আসা হলো। মদিনা নগরীতে অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে গেলো। শাওয়াল মাস চলছে। এতদিনে মসজিদে নববি নির্মাণের কাজ তত দিনে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে জিবরাইল আলায়হিস সালাম একদিন রাসুল (সাঃ) কে বললেন, 'আয়েশা (রাঃ) তাে আপনার স্ত্রী, তাঁকে সসম্মানে ঘরে তুলুন। তখন আয়েশা (রাঃ) বয়স ৯ বছর। বিয়ের আড়াই বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। জিবরাইল (আঃ) যেদিন আয়েশাকে ঘরে তােলার কথা বলার পরের দিনের কথা। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলের কাছে এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল(সাঃ)! আপনি আপনার স্ত্রীকে ঘরে তুলে নিচ্ছেন না কেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম খানিকটা বিব্রত বােধ করলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেই বললেন, 'আমি মােহরের ব্যাপারে ভাবছি। এ মুহূর্তে মােহর পরিশােধের সামর্থ্য আমার নেই।' রাসুল (সাঃ) এর এমন কথায় আবু বকর মােটেও অবাক হলেন না, বরং তিনি মনে মনে খুশি হলেন। রাসুল (সাঃ) কাছে যে এ মুহূর্তে মােহর আদায় করার অর্থ নেই, সেটা তিনি খুব ভালাে করেই জানেন। তিনি রাসুল (সাঃ...
মুসলিম রাষ্ট্রে নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মুসলিম রাষ্ট্রে নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভালোবেসে কুল মখলুকাত সৃষ্টি করেছেন। জিন, ইনসান বানিয়েছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। মানুষকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে। মানুষ সামাজিক জীব, এই সমাজে সৎ ও যোগ্য লোকেরা নেতৃত্ব দেবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি যাবুরে (কিতাবে) উপদেশাত্মক লিপিবদ্ধ করেছি—নিশ্চয়ই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে আমার সৎকর্মশীল সুযোগ্য বান্দাগণ। (সুরা-২১ আম্বিয়া, আয়াত: ১০৫)। তাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে কীভাবে শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠা করবেন, তা-ও বর্ণিত হয়েছে আল্লাহর কালামে। ‘আমি তাদের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দিলে তারা সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, জাকাত প্রদান করবে, সৎ কাজে আদেশ করবে ও মন্দ কাজে বাধা দেবে; সকল কাজের পরিণাম ফল আল্লাহরই এখতিয়ারে।’ (সুরা-২২ হজ, আয়াত: ৪১)। মানবজাতির দুনিয়ায় শান্তি ও পরকালে মুক্তির জন্য আল্লাহ তাআলা শত পুস্তিকা ও চারটি গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি মহাগ্রন্থ ‘কোরআন কারিম’। আল্লাহর বাণী প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অসংখ্য নবী, রাসুল পাঠিয়েছেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব সর্বশ...