পোস্টগুলি

মৃত্যুর পরের জীবনে সফরের জন্য ‘পাথেয়’

ছবি
  আপনার মৃত্যুর পরের জীবনে সফরের জন্য ‘পাথেয়’ সংগ্রহ করেছেন তো? আলী রাদিয়াল্লাহু আ’নহু যখন কবর যিয়ারত করতে যেতেন তখন তিনি বলতেন, “হে কবরের বাসিন্দারা! তোমাদের স্ত্রীরা পুনরায় বিবাহ করে নিয়েছে। তোমাদের অর্থ-সম্পদ লোকেরা ভাগ করে নিয়েছে। তোমাদের বাড়ি-ঘরে এখন অন্য লোকেরা বসবাস করছে। তোমাদের ছেলে-মেয়েরা কাজে নেমে পড়েছে। এই হচ্ছে আমাদের এই পাশের (দুনিয়ার) খবর, আমরা যদি তোমাদের ঐ পাশের কি খবর জানতে পারতাম!” অতঃপর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বলেন, “আল্লাহর কসম! তোমরা যদি আমাদের সাথে কথা বলতে তাহলে বলতে, وَتَزَوَّدُواْ فَإِنَّ خَيۡرَ ٱلزَّادِ ٱلتَّقۡوَىٰۖ উচ্চারণঃ ওয়া তাযাওয়্যাদু ফা ইন্না খয়রায-যাদিত-তাক্বওয়া। অর্থঃ “আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর, নিশ্চয় সবচাইতে উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাক্বওয়া।” সুরা আল-বাক্বারাহঃ ১৯৭। উৎসঃ হা’ফিয ইবনে আসাকির রহি’মাহুল্লাহ তারিখ দিমাশকঃ ২৭/৩৯৪-এ এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ব্যাখ্যাঃ (১) কোন সফরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার সময় সফরে আসা-যাওয়া এবং উদ্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করার সময়ে চলার জন্য গৃহ থেকেই সংগে করে নেওয়া পূঁজিকে ‘পাথেয়’ বলা হয়। (২) কিছু মানুষ হজ্জের উদ্দেশ...

গাউসুল আ'যম, দস্তগীরঃ

ছবি
  গাউসুল আ'যম, দস্তগীরঃ বাংলাদেশে সূফী মতবাদের অনুসারীরা দুই ভাগে বিভক্তঃ দেওবন্দী গ্রুপ এবং বেরেলুবী গ্রুপ। এমন সূফীরা তাদের বুজুর্গদেরকে গাউস, কুতুব, আবদাল, দস্তগীর, মাযযুব ইত্যাদি শিরকী উপাধি নামে ডাকে। যেমন, আব্দুল কাদির জিলানি গাউসুল আযম ছিলেন; অমুক ওলী জংগলের কুতুব; দস্তগীর নূরুউদ্দিন ইত্যাদি। (১) গাউস মানে যার কাছে আশ্রয় বা সাহায্য প্রার্থনা করা হয়। আর আ'যম মানে মহান বা সবচেয়ে বড়। সুতরাং গাউসুল আ'যম অর্থ হচ্ছে, সবচেয়ে বড় বা মহান উদ্ধারকারী বা সাহায্যকারী। আল্লাহ সম্পর্কে ন্যুনতম ঈমান যার আছে, সেই ব্যক্তি একবাক্যে একমত হবে যে, আমাদের বিপদের সময় উদ্ধারকারী বা সাহায্যকারী হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ তাআ'লা। কেননা তিনি হচ্ছেন, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সুতরাং এতে কোন সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে গাউসুল আ'যম বলা একপ্রকার শিরক। (২) অনুরূপভাবে, দস্ত মানে হাত, গীর মানে ডুবন্ত। দস্তগীর অর্থ হচ্ছে, বিপদে হাবুডুবু খাওয়া ব্যক্তিকে যিনি হাত ধরে উদ্ধার করেন। সূফী মতবাদে বিশ্বাসী লোকেরা বিপদে পড়লে তাদের অলি আওলিয়াদেরকে ডাকে, বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য। এমন শিরকী আক্বীদায়...

নারীদেরকে ৮টি জান্নাতেরই গ্যারান্টি

ছবি
  ❖ হাদিসে কয়টি কাজের বিনিময়ে নারীদেরকে ৮টি জান্নাতেরই গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হবেঃ মাত্র ৪টি কাজ। এ বিষয়ে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মুসলিম রমণী যদিঃ ১। পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, ২। রামাযানের ছিয়াম পালন করে, ৩। নিজের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এবং ৪। স্বামীর আনুগত্য করে, তবে তাকে বলা হবে, জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছে তুমি ভিতরে প্রবেশ কর। (সহীহুল জামেঃ ৬৬০) আনাস বিন মলেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেন, কোন ধরণের রমণী জান্নাতী আমি কি তোমাদেরকে বলে দিব না? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, তোমাদের জান্নাতী রমণীগণ হচ্ছে তারা, যারাঃ ১। স্বামীর প্রতি প্রেম নিবেদনকারীনী এবং ২। অধিক সন্তান প্রসবকারীনী। ৩। তার আনুগত্যের প্রকাশ হচ্ছে, সে রাগান্বিতা হলে বা তার সাথে খারাপ আচরণ করা হলে বা স্বামী তার প্রতি রাগান্বিত হলে, স্বামীর কাছে গিয়ে বলে, এই আমার হাত আপনার হাতে সপে দিলাম, আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমি চোখের পলক ফেলব না। অর্থাৎ আমি কোন আরাম নিব না ক...

আত্মার পবিত্রতা

ছবি
  মানুষের ‘ক্বালব’ বা আত্মার পবিত্রতা সবচাইতে দামী এবং গুরুত্বপূর্ণ জিনিসঃ (১) মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তি সফলতা অর্জন করবে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে।” সুরা আল-আ’লাঃ ১৪। আয়াতের তাফসীরঃ যে ব্যক্তি নিজের আত্মাকে নোংরা আচরণ থেকে এবং অন্তরকে শিরক ও পাপাচারের পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করে (নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তি সফলতা অর্জন করবে।) তাফসীর আহসানুল বায়ান। (২) সুরা আশ-শামসের প্রথম দশটি আয়াতে এই একই বাণী আল্লাহ তাআ’লা একাধারে তাঁর আটটি বৃহৎ সৃষ্টি এবং তিনবার তাঁর নিজ সত্ত্বার ক্বসম করার পর পুনরায় উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, “শপথ সূর্যের এবং তার (দিনের প্রথম ভাগের) কিরণের। শপথ চন্দ্রের, যখন তা সূর্যের পর আবির্ভূত হয়। শপথ দিনের, যখন তা সূর্যকে প্রকাশ করে। শপথ রাতের, যখন সে সূর্যকে ঢেকে নেয়। শপথ আকাশের এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন তাঁর। শপথ জমিনের এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন তাঁর। শপথ নফস (প্রাণের) এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন তাঁর। তারপর তাকে (নফসকে) তার সৎকাজের এবং তার অসৎ-কাজের জ্ঞান দান করেছেন। সেই ব্যক্তি সফলকাম হয়েছে; যে নিজের আত্মাকে পবিত্র করেছে। সেই ব্যক্তি ব্যর্থ হয়েছে; যে নিজের ...

দুয়া কুনুত

ছবি
  বিতরের সালাতে পড়ার জন্য দুয়া কুনুতঃ (১) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় নাতি হাসান ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আ’নহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বিতরের দুয়া কুনুত পাঠ করার জন্য আমাকে কিছু ক্বালিমাহ্ শিক্ষা দিয়েছেন। সেই ক্বালিমাগুলো হচ্ছেঃ «اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ؛ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ، إِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ، [وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ]، تَبارَكْتَ رَبَّنا وَتَعَالَيْتَ». উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া ‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়াবা-রিক লী ফীমা আ‘ত্বাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা ফাইন্নাকা তাক্ব‌্দ্বী ওয়ালা ইউক্ব্‌দ্বা ‘আলাইকা। ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মাও ওয়া-লাইতা, [ওয়ালা ইয়া‘ইয্যু মান ‘আ-দাইতা।] তাবা-রক্‌তা রব্বানা ওয়া তা‘আ-লাইতা। অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে হেদায়াত করেছেন, তাদের মধ্যে আমাকেও হিদায়াত দ...

কন্যা সন্তান আল্লাহর রহমত

ছবি
  কন্যা সন্তান আল্লাহর রহমতঃ আল্লাহ তাআলা কাউকে শুধু কন্যা সন্তানই দান করেন। আবার কাউকে পুত্র সন্তান। কাউকে আবার পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন। কাউকে কাউকে আবার কোনো সন্তানই দান করেন না। এ বণ্টন আল্লাহ তাআলার বিশেষ হিকমত ও কল্যাণ-জ্ঞানের ভিত্তিতেই হয়। এদিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা করে দেন বন্ধ্যা। -(সূরা শুরা: ৪৯-৫০) অর্থাৎ তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা তাকে করে দেন বন্ধ্যা। তার না পুত্র সন্তান জন্ম হয়, না কন্যা সন্তান। শত চেষ্টা-তদবির করলেও তার সন্তান হয় না। এ সবই আল্লাহ তাআলার বিশেষ হিকমত ও কল্যাণ-জ্ঞানের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে। যার জন্য তিনি যা উপযোগী মনে করেন তাকে তা দান করেন। তাই আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় সন্তুষ্ট থাকা এবং আল্লাহর সুক্রিয়া আদায় করা। আলহামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল। মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও কিছু মানুষ এমন আছে, যারা মেয়ে সন্তান হওয়া...

রাত এবং ঘুম সংক্রান্ত

ছবি
  রাত এবং ঘুম সংক্রান্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু উপদেশঃ (১) রাতের বেলা কুকুর ও গাধা শয়তান জিনদেরকে দেখতে পেলে চিৎকার-চেঁচামেচি করে। অনেক সময় ইশা বা ফযরের আযান দিলে কুকুরেরা বেশি চিৎকার করা আরম্ভ করে। কারণ, তখন কুকুরেরা আযান শুনে পলায়নরত শয়তান জিনদের দেখতে পায়। যেহেতু রাতের বেলা কুকুর ও গাধা শয়তান দেখলে ডাকে, একারণে রাতের বেলা গাধা ও কুকুরের ডাক শুনলে “আ’উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম” এই দুয়া পড়ে শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হয়। সহীহ মুসলিমঃ ২৭৬৯। (২) নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে উঠবে, সে যেন নাকে পানি দিয়ে তিনবার নাক ঝেড়ে নেয়। কেননা, শয়তান তার নাকের ভেতর রাত্রি যাপন করে।” সহীহ বুখারী ৩২৯৫, সহীহ মুসলিম। (৩) কোন ব্যক্তি সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে ফযরের নামায কাযা করে ফেললে শয়তান তার কানে পেশাব করে দেয়। সহীহ বুখারীঃ ৫৪/৪৯২। (৪) ঘুম থেকে জেগে উঠে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নীচের এই দুয়া পড়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও তাঁর প্রশংসা করতেনঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَم...