পোস্টগুলি

সূরাতুল হাক্কায় প্রথম আয়াত ,একটি শব্দ "আল-হাক্কাহ"

ছবি
  আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সূরাতুল হাক্কায়, সূরাটি শুরু করেন খুবই অদ্ভুত এক প্রশ্ন দিয়ে। বস্তুতঃ এটি একটি বিবৃতি। প্রথম আয়াত শুধু একটি শব্দ "আল-হাক্কাহ"। যার কয়েকটি অর্থ আছে। কিন্তু খুব সহজে অর্থটাকে এভাবে ভাবতে পারেন-- রিয়্যালিটি বা বাস্তবতা। আল্লাহ বলেছেন, বাস্তবতা। "মালহাক্কাহ।" বাস্তবতা কী? "ওয়া মা আদরা-কামাল হাক্কাহ।" আর কীসে তোমাকে জানাবে যে বাস্তবতা কী জিনিস। সেই প্রশ্নটি করার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ এই সূরাতে দাবী করছেন যে, অধিকাংশ মানুষ বাস্তবতায় বাস করে না। অধিকাংশ মানুষ তাদের নিজস্ব ভার্সন নিয়ে উপস্থিত হয়-- কোনটা বাস্তব এবং কোনটা গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটাই ঠিক করে দেয় তাদের যাপিত জীবনটি কেমন হবে। তাই, আল্লাহ এই সূরায় প্রত্যেকটি মানুষকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন, তারা যেন একটু পেছনে সরে গিয়ে আবারো "বাস্তবতা" নিয়ে একটু চিন্তা করে। আমরা সকালে জেগে উঠি। নিজেদের চেতনা পুনরায় ফিরে পাই। তৎক্ষণাৎ খুবই বাস্তব কিছু কাজ আমাদের সামনে পড়ে থাকে। আছে চাকরি, আছে পরিবার, আছে দায়-দায়িত্ব। এখন আরও আছে সেহরি। এভাবে বিভিন্ন কাজ-কর্মে আমরা প্রত্যহ জড়িয়ে পড়ি। দৈনন্দিন ক...

কোরবানির ইতিহাস এবং কোরআনের শিক্ষা

ছবি
  কোরবানির ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। কোরআন থেকেই হজরত আদম (আ.) দুই ছেলে হাবিল–কাবিলের ঘটনার সূত্রে আমরা পৃথিবীর প্রথম কোরবানির খবর জানতে পারি। হাবিল–কাবিলের ঘটনায় দেখা যায়, আকাশ থেকে আগুনের ঝলক নেমে এসে হাবিলের জবাই করা কোরবানি পশুটি আল্লাহ গ্রহণ করেছিলেন। অন্যদিকে কাবিলের কোরবানিটি প্রত্যাখ্যাত হয়। কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত তুমি তাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে দাও, যখন তারা উভয়ে কোরবানি করেছিল, তখন একজনের কোরবানি কবুল হলো এবং অন্যজনের কোরবানি কবুল হলো না। তাদের একজন বলল, আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব। অপরজন বলল, আল্লাহ তো সংযমীদের কোরবানিই কবুল করে থাকেন।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ২৭) সব জাতির মধ্যেই ছিল কোরবানির বিধান। কোরআনে আল্লাহ বলছেন ‘আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য (কোরবানির) নিয়ম করে দিয়েছি যাতে আমি তাদের জীবনের উপকরণ হিসেবে যেসব গবাদিপশু নিয়েছি সেগুলো জবাই করার সময় তারা আল্লাহর নাম নেয়। তোমাদের উপাস্য তো একমাত্র আল্লাহ্। সুতরাং তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ করো ও সুসংবাদ দাও বিনীতদের, যাদের হৃদয় আল্লাহর নাম করা হলে ভয়ে কাঁপে, যারা তাদের বিপদ- আপদে ধৈর্য ধরে ও ...

আল্লাহর কাছে কারো মূল্য

ছবি
  আমাদের সমাজে একজন মানুষের দাম নির্ধারিত হয় টাকার মূল্যে। যে যত বেশি টাকা আয় করে সমাজে তার তত বেশি দাম। আমাদের কোনো ধারণাই নেই যে, আল্লাহর কাছে কারো মূল্য কিভাবে নির্ধারিত হয়। আপনার সত্যিকারের মূল্য নির্ধারিত হয় আপনি কতটুকু জান্নাত অর্জন করতে পেরেছেন তার উপর। জান্নাতের চেয়ে উত্তম কিছুর অস্তিত্ত্ব নেই। জান্নাতের চেয়ে উত্তম কোনো পুরস্কারের অস্তিত্ত্ব নেই। এ জন্য মদিনার নতুন মুসলমানেরা যখন মক্কায় এসে রাসূলুল্লাহ (স) কে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অর্থাৎ আকাবার শপথের পর, তাঁরা জিজ্ঞেস করেছিলেন তাদের পুরস্কার কী হবে? এ সাহায্যের বিনিময়ে তারা কী পাবে? উত্তরে রাসূল (স) বলেছিলেন, জান্নাত। জান্নাত তোমাদের পুরস্কার। তিনি তাদের বলেননি, যদি তোমরা আমাকে সাহায্য করো তাহলে আমরা এক সাথে পারস্য এবং রোমান সাম্রাজ্য জয় করবো। ফলে তোমরা প্রত্যেকে বিশাল ধনী হয়ে যাবে। না। তিনি এমনটি বলেননি। তিনি বলেছিলেন, তোমাদের পুরস্কার হলো জান্নাত। এমনকি কুরআনেও আল্লাহর পথে সংগ্রাম করার পুরস্কার হিসেবে প্রথমে জান্নাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দুনিয়ার বিজয়ের কথা সেকেন্ডারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুনিয়ার...

প্রতিটি শব্দের ঢেউ আছে

ছবি
   অনেক সময় আমরা বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়ি আর এসব কাজের দীর্ঘ মেয়াদি ফল নিয়ে চিন্তা করি না। আল্লাহ তায়ালা সূরা আলে ইমরানের ১৮২ নাম্বার আয়াতে বলেন - ذَٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ - "এ হল তারই প্রতিফল যা তোমরা ইতিপূর্বে নিজের হাতে পাঠিয়েছ।" এই আয়াত আমাদেরকে যে দৃষ্টিতে পৃথিবী দেখা শেখাচ্ছে তা হলো: প্রতিটি শব্দ যে আমি উচ্চারণ করি, আমার করা প্রতিটি কাজ, আমার প্রতিটি অভিজ্ঞতা, যা কিছু আমি খরচ করি, যা কিছু আমি উপভোগ করি, যে মজা আমি এখন উপভোগ করি, যে মজা থেকে আমি এখন বিরত থাকি - এই সবকিছুর ভবিষ্যতে ফলাফল আছে। সবকিছুর। একটি উদাহরণ দিচ্ছি। যদি ছোট্ট একটি ইটের টুকরা নিয়ে পানিতে নিক্ষেপ করেন, কী হয়? পানিতে ছোট ছোট ঢেউ দেখা যায়। প্রতিটি নুড়ি পাথরের ঢেউ আছে, প্রতিটি শব্দের ঢেউ আছে, প্রতিটি দয়ার ঢেউ আছে, প্রতিটি অপমানকর কথার ঢেউ আছে, প্রতিটি মূর্খতার ঢেউ আছে, প্রতিটি পাপের ঢেউ আছে, প্রতিটি ভালো কাজের ঢেউ আছে। আমাদের করা প্রতিটি কাজের ঢেউ আছে। আল্লাহ তায়ালা সূরা ইয়াসিনে বলেছেন - " ওয়া নাকতুবু মা কাদ্দামু ওয়া আ-সারাহুম" - আমি লিখে রাখছি তারা যা ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করে...

আল্লাহ মুসলিমদের সাথে কীভাবে ডিল করেন

ছবি
   আল্লাহ মুসলিমদের সাথে কীভাবে ডিল করেন তা একেবারেই সুস্পষ্ট। ব্যাপারটা বুঝতে আপনাদের একটু পেছনে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের আগের উম্মাহ ছিল বনী ইসরাইল। বনী ইসরাইলের সাথে আমাদের অনেক মিল রয়েছে। বনী ইসরাইলের প্রধান রাসূল ছিলেন মূসা আলাইহিস সালাম। কুরআনে সর্বাধিক উল্লেখিত রাসূল। আল্লাহ কুরআনে মূসা আলাইহিস সালামের নাম এতবার উল্লেখ করেছেন কার জন্য? ইসরাইলীদের জন্য নাকি আমাদের জন্য? আমাদের জন্য। আল্লাহ ইসরাইলীদের সম্পর্কে আমাদের জানাচ্ছেন, وَ لَقَدۡ اٰتَیۡنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ الۡکِتٰبَ وَ الۡحُکۡمَ وَ النُّبُوَّۃَ وَ رَزَقۡنٰهُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ وَ فَضَّلۡنٰهُمۡ عَلَی الۡعٰلَمِیۡنَ -- আমি বানী ইসরাঈলকে কিতাব, রাজত্ব ও নবুওয়াত দিয়েছিলাম আর তাদেরকে দিয়েছিলাম উত্তম রিযক, আর তাদেরকে বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম। (৪৫:১৬) কিন্তু তারা আল্লাহর অবাধ্য হলো। আর আল্লাহর নবীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলো। তারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করলো বহু সংখ্যক বার। আল্লাহ তায়ালা বলেন- لُعِنَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡۢ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ عَلٰی لِسَانِ دَاوٗدَ وَ عِیۡسَی ابۡنِ مَرۡیَمَ ؕ ...

সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যা আরোপকারীদের

ছবি
  সুরা মুরসালাত পবিত্র কোরআনের ৭৭তম সুরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এতে ২ রুকু ও ৫০ আয়াত। মুরসালাত অর্থ হলো প্রেরিত। এই সুরায় মুরসালাত বলতে ওই ফেরেশতাদের বোঝানো হয়েছে, আল্লাহ যাদের বিশ্ব পরিচালনা ও শরিয়াহ–সংক্রান্ত বিষয় দিয়ে প্রেরণ করেন।  ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর মায়ের বরাতে বর্ণনা করেছেন যে তাঁর মা নবী (সা.)-কে মাগরিবের নামাজে সুরা মুরসালাত পড়তে শুনেছেন। (মিশকাত, হাদিস: ৮৩২) এ সুরার বিষয় কিয়ামত অবশ্যম্ভাবিতা। সুরা আর রাহমানে যেমন প্রতিটি নিয়ামতের উল্লেখের পর ‘অতঃপর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?’ আয়াতটি ফিরে ফিরে এসেছে, এই সুরাতেও তেমনি ‘সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যা আরোপকারীদের জন্য’ কথাটি ১০ বার এসেছে।এ সুরার শুরুতে আল্লাহ চারবার বায়ুর শপথ এবং পঞ্চমবার ফেরেশতাদের শপথ করে বলেন, ‘শপথ (সেই বায়ুর, যাদের) একের পর এক আলতো করে ছেড়ে দেওয়া হয়, যারা ঝড়ের বেগে ধেয়ে যায়! শপথ তাদের, যারা উড়িয়ে নিয়ে যায় ও ছড়িয়ে ছিন্নভিন্ন করে, তারপর পাঠায় এক অনুশাসন! যাতে ওজর–আপত্তির অবকাশ না থাকে ও তোমরা সতর্ক হও। তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা আসবেই। যখন তারার আলো যাব...

‘বাকারা’ পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সুরা

ছবি
  বাকারা অর্থ গাভি। এই সুরার এক স্থানে গাভি নিয়ে একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। সুরাটি পবিত্র মদিনায় অবতীর্ণ হয়। এতে ৪০ রুকু, ২৮৬ আয়াত আছে। সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত ‘আয়াতুল কুরসি’ নামে পরিচিত। এটি কোরআন শরিফের প্রসিদ্ধ আয়াত। পুরো আয়াতে আল্লাহর একত্ববাদ, মর্যাদা ও গুণের বর্ণনা থাকায় আল্লাহ–তাআলা এ আয়াতের মধ্যে অনেক ফজিলত রেখেছেন। এ সুরার শেষ দুটি আয়াতের (২৮৫-২৮৬) রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্য। সুরা বাকারাকে মোটাদাগে ৯ ভাগে ভাগ করা যায়। ১ম ভাগ: ইমান থাকা, না থাকা। (আয়াত ১-২০) ২য় ভাগ: সৃষ্টি ও জ্ঞান। (আয়াত ২১-৩৯) ৩য় ভাগ: বনি ইসরাইল জাতির প্রতি প্রেরিত আইনকানুন। (আয়াত ৪০-১০৩) ৪র্থ ভাগ: ইবরাহিম (আ.)–এর ওপর পরীক্ষা ও তাঁর জাতি। (আয়াত ১০৪-১৪১) ৫ম ভাগ: নামাজের দিক পরিবর্তন। (আয়াত ১৪২-১৫২) ৬ষ্ঠ ভাগ: মুসলিম জাতির ওপর পরীক্ষা। (আয়াত ১৫৩-১৭৭) ৭ম ভাগ: মুসলিম জাতির প্রতি প্রেরিত আইনকানুন। (আয়াত ১৭৮-২৫৩) ৮ম ভাগ: সৃষ্টি ও জ্ঞান। (আয়াত ২৫৪-২৮৪) ৯ম ভাগ: ইমান থাকা, না থাকা। (আয়াত ২৮৫-২৮৬) ১ম ভাগ: ইমান থাকা, না থাকা শুরুর দিকে আল্লাহ কোরআন শরিফকে হেদায়াত ও সঠিক দিকনির্দেশনা হিসেবে মানব জাতির সামনে ...