পোস্টগুলি

প্রতিটি মানুষের জান্নাতুল ফিরদাউস অর্জন করার সুযোগ

ছবি
  আমরা সবাই এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মোহে বিভোর হয়ে পড়ি। কিন্তু শুধু মৃত্যুর বাস্তবতাই আমাদের সবাইকে জাগিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। আপনি সবকিছু অস্বীকার করতে পারেন কিন্তু মৃত্যুকে তো অস্বীকার করতে পারবেন না। যদি কোনো কিছুই আমাদের মন পরিবর্তন না করে, মৃত্যু তো অবশ্যই আমাদের মন পরিবর্তন করবে। যদি কোন কিছুই আমাদের চিন্তা করতে অনুপ্রাণিত না করে, মৃত্যু তো অবশ্যই আমাদের চিন্তা করতে বাধ্য করবে। এই দুনিয়াতে আমরা কেউই চিরকাল বেঁচে থাকবো না। আমরা সবাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট ফেরত যাবো। এই পৃথিবীতে আমাদের অবশিষ্ট সময় এবং দিনগুলো নম্বর দিয়ে নির্ধারিত। প্রতিটি দিন শুধু একবারই আসে। আজকের দিনটি আর কোনোদিন ফেরত পাবো না। প্রতিটি সকালে আমাদের চিন্তা উচিত—আজ আমি আমার পরবর্তী জীবনের জন্য কি কি পাঠাবো। আমার আসল জীবনের জন্য আজ আমি কী বিনিয়োগ করবো। আমরা সবাই জানি, আল্লাহ এই দুনিয়াতে সবাইকে সমান জীবনোপকরণ প্রদান করেননি। আমাদের প্রত্যেককে পৃথক করে সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রত্যেককে পৃথক সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। আমাদের প্রতিভা ভিন্ন, আমাদের দুর্বলতা ভিন্ন, আমাদের শক্তিমত্তা ভিন্ন, আমাদের সম্ভাবন...

আধুনিক দুনিয়ায় যেভাবে ক্ষমতা তৈরি করতে হবে

ছবি
  আধুনিক দুনিয়ায় যেভাবে ক্ষমতা তৈরি করতে হবে || নোমান আলী খান ----------------------------------------------------------- মুসলিমরা একটা সংকটের মধ্যে রয়েছে। এই গত এক বছরে এটা বেশ স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়েছে যে, যদিও আমাদের সংখ্যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার বিশ শতাংশেরও বেশি, গণহত্যা বন্ধের জন্য আমাদের সকলের সম্মিলিত কান্না এবং চিৎকার, বাস্তবিক অর্থে কিছুই করেনি। বাস্তবিক অর্থে এটা কিছুই করেনি। আর আমরা সকলেই জানি যে, যা ঘটছে তার জন্য অমুসলিমরা যখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে, তখনই এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পৃথিবী এটাকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গ্রহণ করা শুরু করেছে এজন্য না যে মুসলিমরা বলছে, “নিরপরাধ বেসামরিক মানুষদের হত্যা করা অনুচিৎ, হাসপাতালগুলোতে বোমা নিক্ষেপ করা অনুচিৎ, স্কুলে বোমা নিক্ষেপ অনুচিৎ, শরণার্থিদের উপর বোমা নিক্ষেপ অনুচিৎ, নিরপরাধ মানুষকে কারাগারে রাখা অনুচিৎ”। এটা এজন্য গুরুত্ব পায় নি যে, মুসলিমরা এটা বলছে, কারণ মুসলিমরা এটা বলে আসছে গত ৭০ বছর ধরে। বরং এটা এজন্য ঘটেছে যে, কোনো এক শ্বেতাঙ্গ তরুণী টিকটকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছে, “আমি বিশ্বাস করতে পারছি না কি ঘটে যাচ...

ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ভোগবিলাসের মাঝে

ছবি
  আল্লাহ আপনাকে সবধরণের উপকরণ সরবরাহ করেছেন যেন হেদায়েত পেতে পারেন। এই জীবনটা ব্যবহার করে যেন চিরস্থায়ী জান্নাত অর্জন করতে পারেন। কিন্তু, আপনি কী করলেন? ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ভোগবিলাসের মাঝেই নিজেকে ডুবিয়ে রাখলেন। আপনার কাছে আছে কুরআন, আপনার কাছে আছে রাসূলের শিক্ষা। আপনাকে দেওয়া হয়েছে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, অন্তঃকরণ এবং বিবেক বুদ্ধি। আপনি ইচ্ছে করলে সবচেয়ে সেরা মানুষ হতে পারতেন। কিন্তু খারাপ হওয়াটাকেই নিজের জন্য পছন্দ করলেন। দোষ কার? আল্লাহ কাউকে ঘৃণা করেন না। নিজের অন্যায়ের জন্য আল্লাহকে দোষ দিবেন না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আপনাকে চান্স্ দিয়েছেন। আপনার হেদায়েত পাওয়াটাকে তিনি দারুন ভালোবাসেন। জীবনটা তো একটি উপহার। কারণ, এ জীবনে তাঁর কথামত চললে আপনার জন্য আছে অকল্পনীয় চিরসুখের জান্নাত। পাবেন চিরস্থায়ী জীবন। ভোগ বিলাস এবং আনন্দ ফুর্তি করতে পারবেন চিরকাল। আরো আছে মহাবিশ্বের মালিকের চিরকালীন সন্তুষ্টি। তিনি কোনোদিন জান্নাতবাসীদের উপর অসন্তুষ্ট হবেন না। পৃথিবীর গাছপালা, পশুপাখির তো জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু মানুষের আছে। তাই, এ মহা সুযোগটাকে কাজে লাগান। আমাদের তিনি...

ভালো মানুষ কারা?

ছবি
  ভালো মানুষ কারা? যারা ধর্মীয় কাজ করে তারা? নাকি যারা নৈতিকভাবে ভালো তারা? চলুন দেখি কুরআন এ বিষয়ে কী বলে— -------------------------------------- ভালো কাজের সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করবে? এই পৃথিবীতে দুই ধরনের ভাল কাজ আছে। এটা একটু মনে রাখবেন। দুই ধরনের ভাল কাজ আছে। নৈতিক ভাল কাজ। আমি প্রতিবেশীর প্রতি ভাল। আমি কর্মক্ষেত্রে সৎ। আমি মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করি। আমি চুরি করি না। আমি মানুষকে ঠকাই না। এগুলো হচ্ছে নৈতিক ভাল কাজ। ঠিক আছে? এরপর আছে ধর্মীয় ভাল কাজ। আমি হজ্জে যাই। আমি যাকাত দেই। আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। আমি রামাদানে রোজা রাখি। এগুলো নৈতিক অর্থে ভালো কাজ না, এগুলো ধর্মীয় অর্থে ভালো কাজ। অনেক সময় মুসলিমরা এবং নন-মুসলিমরা, বিশেষ করে মুসলিমরা, আমরা এই দুটো জিনিসের মধ্যে পার্থক্য করে ফেলি। মুসলিম বিশ্বে আপনি এমন মানুষ খুঁজে পাবেন যারা নৈতিকভাবে ভালো। তারা তাদের পরিবারের সাথে ভালো। তাদের সন্তানদের যত্ন নেয়। তারা তাদের বাড়িতে দায়িত্বশীল। প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো। কর্মক্ষেত্রে তারা সৎ। ভাল মানুষ। কিন্তু তাদের মধ্যে ধর্ম বলতে কিছু নেই। "ভাল হওয়ার জন্য আমার ধর্ম লাগে না"...

বিনয়ের সঙ্গে সমালোচনা নেওয়ার একটি ঘটনা

ছবি
  ইমাম মালেক (রা.) ছিলেন তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞজনদের একজন। তিনিই সেই ইমাম, যিনি চার মাজহাবের একটি ‘মালেকি মাজহাব’ প্রবর্তন করেছিলেন। ফিকহ তথা কোরআনের নিয়মকানুন সম্পর্কে তাঁর এত গভীর জ্ঞান ছিল যে তিনি কোনো বিষয়ে ফতোয়া জারি করতে পারতেন। ইমাম মালেক (রা.) একদিন আসরের পর মসজিদে এলেন। কিছুক্ষণ পরই মাগরিবের আজান দেবে। মসজিদে আসার পর তিনি বসে পড়লেন। মালেকি মাজহাব অনুযায়ী আসরের নামাজের পর মাগরিবের আগ পর্যন্ত কোনো নামাজ পড়ার বিধান নেই। তিনি এটাই বিশ্বাস করেন এবং তাঁর মতে এটাই সঠিক নিয়ম। এদিকে একটি ছোট ছেলে ইমাম মালেক (রা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘আপনি মসজিদে এসেছেন অথচ আদব শেখেননি। মসজিদে আসলে দুই রাকাত নামাজ পড়তে হয়।’ এই বলে সে হাদিসের বই খুলে দেখাতে লাগল। সে বলল, ‘এই দেখুন হাদিস।’ অথচ সে তখনকার সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিসের সঙ্গে কথা বলছিল। ছেলেটির কথা শুনে ইমাম মালেক (রা.) কোনো কথাই বললেন না, তিনি দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে নিলেন। এতক্ষণ মসজিদের সবাই এই কাণ্ড দেখছিল। সবাই জানে মসজিদে এসে মাগরিবের আগে নামাজ পড়া উচিত না, এটি তাদের মাজহাবে নেই। অথচ ইমাম নিজেই নামাজ পড়তে শুরু করেছেন। ইমাম মালেকের অ...

তাহাজ্জুদ নামাজে ওঠার জন্য কয়েকটি কৌশল

ছবি
  তাহাজ্জুদের নামাজ সবচেয়ে বড় নফল ইবাদত। মাত্র দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে শ্রেষ্ঠ হওয়ার মর্যাদা পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে উঠে তার স্ত্রীকে জাগাবে এবং দুজনে দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবে, আল্লাহর দরবারে তারা শ্রেষ্ঠ জিকিরকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।’ এই নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করা যায়। যে ইবাদতকে শয়তান সবচেয়ে ঘৃণা করে, তা হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। শয়তানের কাছ থেকে সতর্ক থাকতে হবে।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে যায় শয়তান তখন তার মাথার কাছে এসে বসে তিনটি গিঁট বাঁধে। প্রতিটি গিঁট বাঁধার সময় একটি কথা বলে. তোমার সামনে আছে দীর্ঘ রাত, তুমি ঘুমাও। যখন বান্দা ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর জিকির করে, তখন একটি গিঁট খুলে যায়। সবশেষে যখন সে নামাজ পড়ে, তখন শেষ গিটটি খুলে যায়।’ তাহাজ্জুদের সময় ঘুম থেকে ওঠার জন্য কিছু বিষয় অনুসরণ করা যেতে পারে প্রথমত, ঘুমানোর আগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়...

চিরস্থায়ী জান্নাত অর্জন

ছবি
  আল্লাহ আপনাকে সবধরণের উপকরণ সরবরাহ করেছেন যেন হেদায়েত পেতে পারেন। এই জীবনটা ব্যবহার করে যেন চিরস্থায়ী জান্নাত অর্জন করতে পারেন। কিন্তু, আপনি কী করলেন? ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ভোগবিলাসের মাঝেই নিজেকে ডুবিয়ে রাখলেন। আপনার কাছে আছে কুরআন, আপনার কাছে আছে রাসূলের শিক্ষা। আপনাকে দেওয়া হয়েছে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, অন্তঃকরণ এবং বিবেক বুদ্ধি। আপনি ইচ্ছে করলে সবচেয়ে সেরা মানুষ হতে পারতেন। কিন্তু খারাপ হওয়াটাকেই নিজের জন্য পছন্দ করলেন। দোষ কার? আল্লাহ কাউকে ঘৃণা করেন না। নিজের অন্যায়ের জন্য আল্লাহকে দোষ দিবেন না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আপনাকে চান্স্ দিয়েছেন। আপনার হেদায়েত পাওয়াটাকে তিনি দারুন ভালোবাসেন। জীবনটা তো একটি উপহার। কারণ, এ জীবনে তাঁর কথামত চললে আপনার জন্য আছে অকল্পনীয় চিরসুখের জান্নাত। পাবেন চিরস্থায়ী জীবন। ভোগ বিলাস এবং আনন্দ ফুর্তি করতে পারবেন চিরকাল। আরো আছে মহাবিশ্বের মালিকের চিরকালীন সন্তুষ্টি। তিনি কোনোদিন জান্নাতবাসীদের উপর অসন্তুষ্ট হবেন না। পৃথিবীর গাছপালা, পশুপাখির তো জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু মানুষের আছে। তাই, এ মহা সুযোগটাকে কাজে লাগান। আমাদের তিনি...