পোস্টগুলি

সেই সব গৃহ

ছবি
  সূরা নূরের ৩৬ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন— "সেই সব গৃহ, যাকে মর্যাদায় সমুন্নত করতে এবং যাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলোতে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা হয় সকাল ও সন্ধ্যায় (বার বার)।" অনেক আলেমের মতে, এই আয়াতে ঘর দ্বারা শুধু মসজিদ বোঝানো হয়েছে। কিন্তু অন্য আলেমরা বলেন— না, শুধু মসজিদ নয় সাধারণ ঘর-বাড়িও এর অন্তর্ভুক্ত। ঘর দ্বারা এখানে মসজিদ যেমন বোঝায় তেমনি মুমিনদের ঘর-বাড়িও বোঝায়। সেই সমস্ত ঘর যেগুলো আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে উন্নত মর্যাদা লাভ করে..... জানেন? আমরা কি করতে পারি যেন আমাদের বাসাগুলোও এমন উন্নত মর্যাদা লাভে সক্ষম হয়? এটা খুবই সহজ। বাসায় প্রবেশের দোয়া শিখুন, বের হওয়ার দোয়া শিখুন, বাথরুমে প্রবেশের এবং বাথরুম থেকে বের হওয়ার দোয়া শিখুন, পোশাক পরিবর্তন করার দোয়া শিখুন। আল্লাহর নাম উচ্চারণ করার জন্য অজুহাত খুঁজতে থাকুন। প্রতিটি সুযোগে তাঁর তাসবীহ পাঠ করুন। আল্লাহর রাসূল (স) এর উপর দরূদ পাঠ করুন। বলুন, আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মদ। সব সময় সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে থাকুন। আপনার জিহ্বাকে এগুলো পাঠে অভ্যস্ত করে তুলুন। ...

'ফ্রি মিক্সিং' সমাজ ব্যবস্থা

ছবি
  আজকে মেয়েদের বিবাহ সমস্যা, যৌতুক প্রথা, নারী নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, মেয়ে হাইজ্যাক এ সমস্তের মূলে রয়েছে 'ফ্রি মিক্সিং' সমাজ ব্যবস্থা। নিহার বানু হত্যা, শেফালী হত্যা, রীনা হত্যা, আরও অসংখ্য নারী হত্যা, এ সমস্ত হত্যার মূলে ফ্রি মিক্সিংয়ের পাশাপাশি সহশিক্ষা ব্যবস্থাকেও দায়ী করা যেতে পারে। ছেলেদের বখাটেপনা, উচ্ছৃঙ্খলতা, শিক্ষকের অবাধ্যতা, পড়ালেখায় বিমুখতা ইত্যাদি সবকিছুর মূলে রয়েছে সহশিক্ষা এবং নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও পর্দাহীনতা। ফ্রি মিক্সিং সমাজে মেয়েরা ছেলেদের কাছে সহজলভ্য হয়ে যায়। তখন সেখানে যদি শিক্ষা ক্ষেত্রে বা পরিবারে নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ছেলেমেয়েরা বিয়ে অর্থহীন ভাবতে শুরু করে। তখন ছেলেরা দায়িত্বপূর্ণ বিয়েতে অবহেলা প্রকাশ করে এবং দায়িত্বহীন ব্যভিচারের সুযোগ পায়। তখন যদি একান্ত বিয়ে করতেই হয় তাহলে মেয়ের পক্ষ কি দেবে তা নিয়ে দর কষাকষি শুরু হয়ে যায়। তারপর মা বাবা বহু কষ্ট করে যদিও বা কোনো রকমে যৌতুকের ব্যবস্থা করে মেয়ে বিয়ে দেন, কিন্তু তারপরও ফ্রি মিক্সিং সমাজে ছেলেরা বিভিন্ন অশালীন কর্মকাণ্ডের সংস্পর্শে এসে ঘরের স্ত্রী নায়িকার মতো সুন্দরী নয় বলে তার প্র...

|| নিজেকে ভালোবাসুন এবং ক্ষমা করে দিন ||

ছবি
  || নিজেকে ভালোবাসুন এবং ক্ষমা করে দিন || আমরা আমাদের অতীত জীবনের দিকে তাকালে এতো বেশি ভুল এতো বেশী পাপ দেখতে পাই যে, নিজেকে ভালোবাসা অসম্ভব হয়ে পড়ে। নিজেকে ভালোবাসতে পারা যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা হয়তো অনুভব করতে পারছি না। এটি আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি। যে সিদ্ধান্তটি আপনার জীবনের অন্য সব সিদ্ধান্তকে কোন না কোন ভাবে প্রভাবিত করবে তা হলো সর্বান্তকরণে নিজেকে গ্রহণ করে নেয়ার সিদ্ধান্ত। এটি সরাসরি আপনার সম্পর্কগুলোকে প্রভাবিত করে, আপনার চাকরি, আপনার অবসর সময়, আপনার ভবিষ্যৎ তথা সমগ্র জীবনকে। আপনি যদি নিজেকে ভালোবাসতে না পারেন তাহলে অন্যদের কাছ থেকে ভালোবাসা পাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়বে। নিজের মূল্য বুঝতে হলে এবং আত্মবিশ্বাস গড়তে হলে সচেতনতা এবং ভালোবাসার সাথে নিজের দিকে লক্ষ্য করতে হবে। গ্রহণযোগ্যতা এবং ভালোবাসা নিজের ভেতর থেকেই আসতে হবে। আরেকটা বিষয় মনে রাখুন, নিজেকে গ্রহণ করে নেয়া এবং ভালোবাসা এটা একবারেই করে ফেলার মত বিষয় না, এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। তাই নিচে বর্ণিত এই কয়েকটি কাজ দিয়ে আজ থেকেই শুরু করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ। ১। এই মুহূর্তে জীবনের যে পর্যায়ে আ...

রাতে ঘুমানোর আগে সুরা আল–মুলক পড়ুন

ছবি
  আল–কোরআনে সুরা আল–মুলক নামের একটি স্বতন্ত্র সুরা আছে। এটি ৬৭ নম্বর সুরা। এ সুরা পাঠের সীমাহীন ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোরআনে এমন একটি সুরা আছে, যার মধ্যে ৩০টি আয়াত রয়েছে, যা তার পাঠকারী ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে এবং তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর সেটি হলো “তাবারাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলকু (সুরা মুলক)।’” (সুনানে আত-তিরমিজি ২৮৯১)। প্রতি রাতে (রাতের যেকোনো সময়) সুরা মুলক তিলাওয়াত করা গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাত। আত-তিরমিজি শরিফের ২৮৯২ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘আলিফ লাম মিম তানজিলুল কিতাব’ (সুরা আস-সাজদা) ও ‘তাবারাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলকু’ (সুরা মুলক) তিলাওয়াত না করে কোনো দিন ঘুমাতেন না। তবে এর মানে এই নয় যে সুরাটি দিনে পড়া যাবে না। এটি যেকোনো সময় পড়া যাবে, তবে রাতের বিশেষ জিকির হিসেবে এ সুরা পড়া উত্তম। সুরাটি নামাজের সঙ্গে পড়াও উত্তম। মুখস্থ না থাকলে দেখে দেখে অর্থ বুঝে পড়লে বিশেষ সওয়াব পাওয়া যায়। সুরাটির নামকরণের মধ্যেই এর বিষয়বস্তু ও মর্মার্থ সুস্পষ্ট হয়েছে। আরবি ‘মুলক’ মানে ‘সার্বভৌমত্ব’। আসমান ও জমিনে সার্বভৌমত্বের একমাত্র মালিক যে আল্লাহ, তা এ সুরায় স্...

ইসলামে পবিত্রতার গুরুত্ব ও ফজিলত

ছবি
  ইসলামে পবিত্রতার গুরুত্ব ও ফজিলত আল্লাহ তাআলা পবিত্র। তিনি সব আবিলতা ও পঙ্কিলতামুক্ত। তাঁর পবিত্র নামগুলোর অন্যতম হচ্ছে ‘সুব্বুহুন’ (পবিত্রতম), ‘কুদ্দুসুন’ (অতি পবিত্র ও মহা পবিত্রকারী)। আল্লাহ চান মানবের পূতপবিত্র জীবনযাপন। তিনি বলেন, ‘হে নবী পরিবার! আল্লাহ তো শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।’ (সুরা-৩৩ আহজাব, আয়াত: ৩৩)। তিনি আরও বলেন, ‘বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান।’ (সুরা-৫ মায়িদা, আয়াত: ৬)। ইসলামের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো পবিত্রতা। পবিত্রতা মানে জীবনব্যাপী পবিত্রতা। বিশ্বাসের পবিত্রতা, কর্মের পবিত্রতা, শারীরিক পবিত্রতা, মানসিক পবিত্রতা, আর্থিক পবিত্রতা, বাহ্যিক পবিত্রতা, অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা; ভাষা তথা বাক্য ও শব্দের পবিত্রতা, রুচির পবিত্রতা, দৃষ্টি ও দৃষ্টিভঙ্গির পবিত্রতা এবং পরিবেশ–প্রতিবেশের পবিত্রতা। শ্রবণে পবিত্রতা, দর্শনে পবিত্রতা ও চিন্তায় পবিত্রতা পবিত্র জীবনযাপনের পূর্বশর্ত ও সহায়ক বটে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ।’ অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম, মিশকাত, পৃষ্ঠা: ৩৮)। ইসলা...

*কেমন_হবে_বিচার_দিবস-?*

ছবি
  *কেমন_হবে_বিচার_দিবস-?* ❓ ১। "সেদিন সকলে একত্রিত হবে।" __[সূরা আনআম-২২] ২। "দুনিয়ার জমিন হবে রুটির ন্যায়।" _____[মিশকাত-৫২৯৮] ৩। "মানুষ নগ্নপদ, নগ্নদেহ ও খতনাবিহীন সমবেত হবে।" ____[বুখারি, মুসলিম] ৪। "কেউ কারোর প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার অবকাশ পাবে না।" ___[মিশকাত-৫৩০২] ৬। "প্রতি হাজারে ৯৯৯ জন লোক জাহান্নামী বলে ঘোষিত হবে।" ___[বুখারি-৪৭৪১] ৭। "ঐদিন মানুষ ঘর্মাক্ত হবে, এমনকি ঘাম তাদের কান পর্যন্ত পৌছাবে।" __________[বুখারি] ৮। "সূর্যকে অতি নিকটে আনা হবে এবং মানুষের আ'মল অনুপাতে ঘামের মধ্যে ডুবে থাকবে।" ____[বুখারি, মুসলিম] ৯। "দুনিয়াতে যারা আল্লাহ্'র জন্য সিজদাহ্ করে নাই কিংবা লোক দেখানোর জন্য সিজদাহ্ করেছে তারা সেদিন আল্লাহ্-কে সিজদাহ্ দিতে পারবে না।" ___[সূরা কালাম-৪২, ৪৩] ১০। "মু'মিনদের হিসাব হবে মুখো-মুখি।" ___[মিশকাত] ১১। "যার হিসাব পুংখানুপুংখ যাচাই করে হবে, সে ধ্বংস হবে।" ________[মিশকাত-৫৩১৫] ১২। "ঐদিন মানুষের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে।...

আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাঃ) - দশম (শেষ অংশ)

ছবি
দুই বছর পর । রাসুল (সাঃ)-পরবর্তী খলিফা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু মৃত্যুশয্যায় শায়িত। আবু বকরের অন্তিম সময় ঘনিয়ে আসছে। তিনি মেয়ের দিকে একবার তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম কী বারে ইন্তেকাল করেছিলেন? আয়েশা উত্তর দিলেন, সােমবারে।' ‘আজ কী বার?" আজ সােমবার।' আবু বকর ওপরের দিকে নিঃসীম শূন্যতায় তাকিয়ে হৃদয়ের ব্যক্ততা প্রকাশ করে বললেন, 'আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, এ রাতের পর যেন আরেকটি রাত আমার জীবনে না আসে। আয়েশা (রাঃ) এর হৃদয়টা বেদনায় মােচড় দিয়ে উঠল। আয়েশা (রাঃ) এর চোখ জলে ভরে গেল। আবু বকর (রাঃ) মেয়েকে কাঁদতে নিষেধ করলেন। তিনি আয়েশা৷ (রাঃ) কাছে আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'রাসুল (সাঃ) কে কয়টি কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল? আয়েশা (রাঃ) বিমূর্ত মুখে জবাব দিলেন, 'আমরা তাঁকে তিনটি কাপড় দিয়ে কাফন দিয়েছিলাম। এগুলাে সাহুলিয়া ছিল। তবে এর মাঝে তার মাথার রুমাল ও জুব্বা অন্তর্ভুক্ত নয়।' আবু বকর (রাঃ) নিজের পরনের কাপড়ের দিকে ইশারা করে বললেন, “আমাকে আমার পরনের কাপড় দিয়েই কাফন দিয়ে। এটাতে জাফরানের সামান্য দাগ আছে, ...