পোস্টগুলি

সূরা মূলক

ছবি
  ❖ কোন সুরাটি তার তেলাওয়াতকারীকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য আল্লাহর সাথে ঝগড়া করবে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হবেঃ সূরা মূলক। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা হচ্ছে, “ঝগড়া” শব্দটি আমি প্রশ্নে লিখেছি বলে, অনেকই আমাকে গালি গালাজ করেছেন। অথচ এই “ঝগড়া” শব্দটিই হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। আসলে জারা গালি গালাজ করেছেন, তারা তাদের অজ্ঞতা এবং আবেগের কারনেই এমনটি করেছেন। ইসলামকে কখনোই আবেগ দিয়ে নয় বরং জেনে বুঝে পড়া লিখা করে, মানা উচিত। আর তাদের এটাও জেনে রাখা উচিত যে, গালি গালাজ করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ ক্ষমা করুক। আমিন। হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; " কোরআন শরীফে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে না দেয়া পর্যন্ত তার জন্য সুপারিশ করতেই থাকবে। সূরাটি হলো تبارك الذي بيده الملك.-- ‪ #‎তাবারাকাল্লাযী‬ বি ইয়াদিহিল মূলক অর্থাৎ ‪ #‎সূরা‬ মূলক… (আবু দাউদ-১৪০২, তিরমিজি-২৮৯১, ইবনে মাজাহ-৩৭৮৬, মুসনাদে আহমদ-২/২৯৯)‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬ অ...

মানুষের ‘ক্বালব’ বা আত্মার পবিত্রতা

ছবি
  মানুষের ‘ক্বালব’ বা আত্মার পবিত্রতা সবচাইতে দামী এবং গুরুত্বপূর্ণ জিনিসঃ (১) মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তি সফলতা অর্জন করবে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে।” সুরা আল-আ’লাঃ ১৪। আয়াতের তাফসীরঃ যে ব্যক্তি নিজের আত্মাকে নোংরা আচরণ থেকে এবং অন্তরকে শিরক ও পাপাচারের পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করে (নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তি সফলতা অর্জন করবে।) তাফসীর আহসানুল বায়ান। (২) সুরা আশ-শামসের প্রথম দশটি আয়াতে এই একই বাণী আল্লাহ তাআ’লা একাধারে তাঁর আটটি বৃহৎ সৃষ্টি এবং তিনবার তাঁর নিজ সত্ত্বার ক্বসম করার পর পুনরায় উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, “শপথ সূর্যের এবং তার (দিনের প্রথম ভাগের) কিরণের। শপথ চন্দ্রের, যখন তা সূর্যের পর আবির্ভূত হয়। শপথ দিনের, যখন তা সূর্যকে প্রকাশ করে। শপথ রাতের, যখন সে সূর্যকে ঢেকে নেয়। শপথ আকাশের এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন তাঁর। শপথ জমিনের এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন তাঁর। শপথ নফস (প্রাণের) এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন তাঁর। তারপর তাকে (নফসকে) তার সৎকাজের এবং তার অসৎ-কাজের জ্ঞান দান করেছেন। সেই ব্যক্তি সফলকাম হয়েছে; যে নিজের আত্মাকে পবিত্র করেছে। সেই ব্যক্তি ব্যর্থ হয়েছে; যে নিজের ...

মুমিনদের জীবন ও ধন-সম্পদ

ছবি
  জান্নাত যেহেতু একটি বাস্তব জায়গা তাই এটি কেবল বাস্তব প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। যোগ্যতা কখনোই হঠাৎ করে আসে না। ভালোর যে যোগ্যতাগুলো আপনার জন্য জান্নাত নিশ্চিত করবে তা কখনো স্বপ্নযোগে পাওয়া যাবে না। এর জন্য প্রচেষ্টার দরকার, বুদ্ধিমান প্রচেষ্টা। বুদ্ধিমান প্রচেষ্টা মানে আপনি ভালোভাবে শিখবেন এবং জানবেন কোন কোন কাজগুলো আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তারপর সে অনুযায়ী নিয়মিত কাজ করে যাবেন। এভাবেই আপনি জান্নাতে যাওয়ার যোগ্যতাগুলো অর্জন করতে পারবেন। তাহলে, জান্নাত অর্জন করা যাবে শুধু বাস্তব যোগ্যতার মাধ্যমে আর বাস্তব যোগ্যতা কখনো এমনি এমনি কারো মাঝে তৈরী হয় না। বাস্তব যোগ্যতা মূলত বুদ্ধিমান প্রচেষ্টার ফল। এখান থেকে আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, জান্নাত কখনো কোনো স্কলার, আল্লাহ ওয়ালা মানুষ বা পীর-আউলিয়ার সাথে সম্পর্কের মাধ্যমেও অর্জন করা যাবে না। এটা সম্পূর্ণরূপে আপনার প্রচেষ্টার বা আমলের উপর নির্ভরশীল। তাই আপনার যদি কোনো স্কলার বা পীরের সাথে সম্পর্ক থাকে সেই সম্পর্ক আপনাকে জান্নাতে পৌঁছে দিবে না। জান্নাত নির্ভর করে আপনার নিজের প্রচেষ্টা এবং আমলের উপর।...

বিতরের সালাতে পড়ার জন্য দুয়া কুনুত

ছবি
  বিতরের সালাতে পড়ার জন্য দুয়া কুনুতঃ (১) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় নাতি হাসান ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আ’নহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বিতরের দুয়া কুনুত পাঠ করার জন্য আমাকে কিছু ক্বালিমাহ্ শিক্ষা দিয়েছেন। সেই ক্বালিমাগুলো হচ্ছেঃ «اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ؛ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ، إِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ، [وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ]، تَبارَكْتَ رَبَّنا وَتَعَالَيْتَ». উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া ‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়াবা-রিক লী ফীমা আ‘ত্বাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা ফাইন্নাকা তাক্ব‌্দ্বী ওয়ালা ইউক্ব্‌দ্বা ‘আলাইকা। ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মাও ওয়া-লাইতা, [ওয়ালা ইয়া‘ইয্যু মান ‘আ-দাইতা।] তাবা-রক্‌তা রব্বানা ওয়া তা‘আ-লাইতা। অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে হেদায়াত করেছেন, তাদের মধ্যে আমাকেও হিদায়াত দ...

ঈমানের পরীক্ষা

ছবি
  বিপদ ও কষ্টের সময় ‘সবর’ বা ধৈর্য ধারণ করা, সুখ-শান্তির সময় আল্লাহর ‘শুকরিয়া’ আদায় করা এবং প্রকাশ্য ও গোপনে অর্থাৎ, সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআ’লাকে ভয় করে চলা হচ্ছে দুনিয়া এবং আখিরাতে চূড়ান্ত সফলতা অর্জনের মূল চাবিকাঠি। এ সম্পর্কে ক্বুরআনে অনেক আয়াত এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। => আল-ক্বুরআনের “সর্বোত্তম কাহিনী” সমৃদ্ধ সুরা ইউসুফের শেষের দিকে যখন হযরত ইউসুফ আ’লাইহি সালামকে তাঁর ভাইয়েরা এতো ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসঘাতকতার পরেও যখন তাঁকে মিশরের রাজ দরবারে উচ্চ মর্যাদায় আসীন দেখতে পেলো এবং তাঁকে চিনতে পারলো, তখন হযরত ইউসুফ আ’লাইহি সালাম আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর এই নিয়ামত প্রাপ্তির কি কারণ তা উল্লেখ করেছিলেন। হযরত ইউসুফ আ’লাইহি সালামের পরবর্তী সমস্ত মানুষের জন্য তা অমূল্য উপদেশ বাণী হিসেবে মহান আল্লাহ আল-ক্বুরআনে তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ওয়াহী করে আমাদের সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, قَالُوٓاْ أَءِنَّكَ لَأَنتَ يُوسُفُۖ قَالَ أَنَا۠ يُوسُفُ وَهَٰذَآ أَخِيۖ قَدۡ مَنَّ ٱللَّهُ عَلَيۡنَآۖ إِنَّهُۥ مَن يَ...

“তাওবাতান নাসূহা” বা বিশুদ্ধ তাওবা

ছবি
  “তাওবাতান নাসূহা” বা বিশুদ্ধ তাওবা: মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, তাওবাতান নাসূহা (খাঁটি ও সত্যিকারের তাওবা)।” (সুরা আত-তাহরীমঃ আয়াত নং-৮) (১) আল-হাসান রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “বিশুদ্ধ তাওবা হলো এই যে, যেমন গুনাহর প্রতি ভালবাসা ও আকর্ষণ ছিল ঐ রকমই গুনাহর প্রতি অন্তরে ঘৃণা জন্মে যাওয়া। যখন ঐ গুনাহর কথা স্মরণ হয় তখন ক্ষমা প্রার্থনা করা। যখন কোন বান্দা তাওবা করার জন্যে দৃঢ় সংকল্প করে নেয় এবং তাওবার উপর অটল থাকে তখন আল্লাহ তা'আলা তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন।” (২) কাতাদা রহি'মাহুল্লাহ বলেছেন, “নাসূহা অর্থ খাটি ও আন্তরিক তাওবা।” (৩) নুমান ইবনু বশীর আমীরুল মুমিনীন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আ’নহুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তাওবাতান নাসূহা কী?” জবাবে তিনি বলেছিলেন, “মানুষ কোনো অন্যায় করার পর এমনভাবে তাওবা করবে যাতে সেই অন্যায়ের আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।” (৪) পূর্বযুগীয় আলেমগণ বলেছেন, “খাঁটি ও বিশুদ্ধ তাওবা এই যে, গুনাহ হয়ে যাওয়ার পরই তাওবা করবে ও লজ্জিত হবে এবং আগামীতে ঐ পাপকার্য আর না করার দৃঢ় সংকল্প করবে। আর যদি গুনাহতে কারো হক থ...

কেয়ামতের ছোট ও বড় আলামতসমূহ

ছবি
  কেয়ামতের ছোট ও বড় আলামতসমূহঃ কেয়ামতের পূর্বে কেয়ামতের নিকটবর্তিতার প্রমাণস্বরূপ যে আলামতগুলো প্রকাশ পাবে সেগুলোকে ছোট আলামত ও বড় আলামত এই পরিভাষাতে আখ্যায়িত করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছোট আলামতগুলো কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার অনেক আগেই প্রকাশিতহবে। এর মধ্যে কোন কোন আলামত ইতিমধ্যেই প্রকাশ পেয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে। কোন কোন আলামত নিঃশেষ হয়ে আবার পুনঃপ্রকাশ পাচ্ছে। কিছু আলামত প্রকাশিত হয়েছে এবং অব্যাহতভাবে প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছে। আর কিছু আলামত এখনো প্রকাশ পায়নি। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদ অনুযায়ী সেগুলো অচিরেই প্রকাশ পাবে। কেয়ামতের বড় বড় আলামতগুলো হচ্ছে অনেক বড় বড় বিষয়। এগুলোর প্রকাশ পাওয়া প্রমাণ করবে যে, কেয়ামত অতি নিকটে; কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার সামান্য কিছু সময় বাকী আছে। আর কেয়ামতের ছোট ছোট আলামতের সংখ্যা অনেক। এ বিষয়ে অনেক সহিহ হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে। এখানে আমরা সম্পূর্ণ হাদিস উল্লেখ না করে হাদিসগুলোর শুধু প্রাসঙ্গিক অংশটুকু উল্লেখ করব। কারণ হাদিসগুলো উল্লেখ করতে গেলে লিখাটির কলেবর অনেক বড় হয়ে যাবে। যিনি আরো বেশি জানতে চান তিনি এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থাবলী পড়তে পারেন। যেমন- শাইখ উমর সুল...