পোস্টগুলি

সূরা কুরাইশ নিয়ে কিছু কথা

ছবি
  সূরা কুরাইশ নিয়ে কিছু কথা - নোমান আলী খান সবাইকে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। সুরাতুল কুরাইশ নিয়ে কিছু কথা। সূরা ফিলের পরপরই এই সূরা শুরু হয়। সুরাটি সহজে দুভাবে বিভক্ত করা যায়। খুবই ছোট সূরা এটি। কিন্তু আপনি একে দুভাগে দেখতে পারেন। প্রথম ভাগে আছেঃ আল্লাহ তৎকালীন কুরাইশদের জন্য কি কি করেছিলেন। তিনি কুরাইশদের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য কিছু নির্দিষ্ট জিনিস করেছেন। আর তিনি কী করেছেন? তিনি তাদের জন্য এমন ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যে তারা শীত বা গ্রীষ্মে সবচাইতে সুবিধাজনক সময়ে সফর করতে পারে, অন্যান্য গোত্রের কাছ থেকে কোনরকম ছিনতাই বা ডাকাতির ভয় ছাড়াই। অথচ সে গোত্রগুলো পরিচিতই ছিল ছিনতাই আর ডাকাতির জন্য। কেন? কারণ তারা এই ঘরের জিম্মাদার। তাই আল্লাহ জিজ্ঞেস করছেন, আমি তোমাদের এতো সুযোগ সুবিধা কেন দিলাম? কেন আমি তোমাদেরকে হাতি বাহিনী থেকে রক্ষা করলাম? আগের সূরাতে আছে। কোন কারণে? এর বদলে তোমাদের কি দেয়া উচিত? فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هٰذَا الْبَيْتِ তাদের উচিত এই ঘরের রবের ইবাদত করা। তাদের উচিত এই ঘরের রবের ইবাদতে মগ্ন হয়ে যাওয়া। “তাদের আল্লাহ্‌র ইবাদত করা উচিত” – বলার বদল...

পরিপূর্ণ পর্দা না করা

ছবি
  অনেক মুসলিম নারীই পরিপূর্ণ পর্দা না করার পেছনে একটি অজুহাত পেশ করে থাকেন। আর তা হলোঃ “আসলে আমি যাদের সাথে যে সমাজে চলাফেরা করি, সেখানে আমার বর্তমান ড্রেসআপ বাদ দিয়ে ইসলামিক পোশাক মেনে চলা সম্ভব না।” এই ধরনের অজুহাত মুলত শুধুমাত্র কিছু অধুনা মুসলিম নারীই দিয়ে থাকেন, তারা মূলত হাল ফ্যাশনের জালে বন্ধী। তাই হালফ্যাশনের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে তিনি শুধু মাথায় রংচঙা স্কার্ফ পড়েন; পরিপূর্ণ পর্দার ব্যাপারে মোটেও আন্তরিক নন। তাদের জন্য আমার পরামর্শ হচ্ছেঃ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার মালিক আল্লাহ তা‘আলা। পোশাকের আভিজাত্য, হাল ফ্যাশনের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এগুলো কারও সম্মান ও মর্যাদা নির্ধারণ করতে পারে না। কেবল আল্লাহ ও তাঁর বার্তাবাহক রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং আল্লাহর শারী‘আহর বিধিবিধান মেনে পরিপূর্ণ পর্দার মাধ্যমেই নিজের আত্ম-মর্যাদা ও সম্মান নির্ধারিত হয়। শুনুন এ ব্যাপারে আল্লাহ কী বলছেনঃ “তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি ধার্মিক, আল্লাহর কাছে সে-ই সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী।” (সূরা আল-হুজুরাত: ১৩) কাজেই সেই দিনকে ভয় করুন, যেদিন আজকের কথিত প্রগত...

দু'টি চূড়ান্ত পরিণতির তুলনামূলক বর্ণনা

ছবি
  দু'টি চূড়ান্ত পরিণতির তুলনামূলক বর্ণনা ------------------------ * -------- “জান্নাতের মাটি আর জমীন হচ্ছে জাফরান আর কস্তুরীর। এর ছাদ হচ্ছে আল্লাহর আসন। শিলাখণ্ডগুলো মণিমুক্তোর। দালানগুলো সোনারূপায় তৈরি। গাছের শাখা-প্রশাখাগুলো সোনারূপার। ফলগুলো মাখনের চেয়ে নরম, মধুর চেয়ে মধুর। পাতাগুলো সবচেয়ে কোমল কাপড়ের চেয়েও কোমল। কিছু নদী দুধের। যার স্বাদ কখনো বদলায় না। কিছু শরাবের। যারা পান করবে তাদের তৃপ্তি মিটবে। কিছু নদী পবিত্র মধুর। কিছু নদী সতেজ পানির। যে-ফলমূল তারা চাইবে তা-ই তাদের খাবার। যে-পাখির গোশত তারা খেতে চাইবে তা-ই পাবে। তাদের পানীয় হচ্ছে তাসনীম, সজীবতা উদ্দীপক ও কাাফূর। তাদের পেয়ালাগুলো স্বচ্ছ, সোনারূপার তৈরি। এর ছায়া এত বড় যে, দ্রুতগতির কোনো অশ্বারোহী এক শ বছর ধরে চললেও সেই ছায়া থেকে বের হতে পারবে না। এর বিশালতা এত বেশি যে, জান্নাতের সবচেয়ে নিচু অবস্থানে যে থাকবে তার রাজত্বে যেসব দেওয়াল, ভবন আর বাগান থাকবে সেগুলো পার করতে হাজার বছর লেগে যাবে। এর তাঁবু আর শিবিরগুলো যেন লুকোনো মুক্তো। একেকটা প্রায় ষাট মাইল লম্বা। এর ভবনগুলোতে রুমের উপর রুম। তাদের নিচ দিয়ে নদী বয়ে যায়। এগুলোর উচ্...

ধৈর্যের পুরস্কার জান্নাত

ছবি
  ধৈর্যের পুরস্কার জান্নাত — ড. ইয়াসির ক্বাদী আল্লাহ তাঁর ক্ষমা, জান্নাত এবং জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা পাওয়াকে ধৈর্য ধারণ করার সাথে যুক্ত করেছেন। আমি আবারো বলছি, আল্লাহ তাঁর ক্ষমাকে ধৈর্যের সাথে যুক্ত করেছেন। আল্লাহ কুরআনে বলেন- اِلَّا الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ؕ اُولٰٓئِکَ لَهُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّ اَجۡرٌ کَبِیۡرٌ - "তবে যারা সবর করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।" (১১:১১) তাহলে আল্লাহর ক্ষমা ধৈর্যের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। জান্নাতে প্রবেশ এবং জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা পাওয়াকেও ধৈর্য ধারণের সাথে সম্পর্কযুক্ত করা হয়েছে। আল্লাহ কুরআনে বলেন, جَنّٰتُ عَدۡنٍ یَّدۡخُلُوۡنَهَا وَ مَنۡ صَلَحَ مِنۡ اٰبَآئِهِمۡ وَ اَزۡوَاجِهِمۡ وَ ذُرِّیّٰتِهِمۡ وَ الۡمَلٰٓئِکَۃُ یَدۡخُلُوۡنَ عَلَیۡهِمۡ مِّنۡ کُلِّ بَابٍ ﴿ۚ۲۳ - "স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যাতে তারা এবং তাদের পিতৃপুরুষগণ, তাদের স্ত্রীগণ ও তাদের সন্তানদের মধ্যে যারা সৎ ছিল তারা প্রবেশ করবে। আর ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করবে।" سَلٰمٌ عَلَیۡکُمۡ بِمَا صَبَرۡتُمۡ فَنِعۡمَ عُقۡ...

আল্লাহর ক্ষমা থেকে নিরাশ হবেন না

ছবি
  কথাগুলো সবসময় মনে রাখুন। কখনোই আল্লাহর ক্ষমা থেকে নিরাশ হবেন না। কারণ, আল্লাহর ক্ষমা ছাড়া আমাদের যে আর কোন উপায় নেই। তিনি ছাড়া আমাদের পাপগুলো আর কে ক্ষমা করবে? কোথায় যাব আমরা? --------------------- * ------------------- আল্লাহ পাপ পছন্দ করেন না, কিন্তু পাপ করার পর ধার্মিকদের অন্তর থেকে যে অনুশোচনা আসে আল্লাহ তা পছন্দ করেন। তাই, পাপ করার ইচ্ছে করবেন না। কিন্তু, যখন পাপ হয়ে যায়, একবার যখন তা আপনার অতীত হয়ে যায়— এই পাপের অনুশোচনাকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দিকে প্রত্যাবর্তন করুন। প্রিয় মুসলিম, আল্লাহ যদি আমাদের নিষ্পাপ করে সৃষ্টি করতে চাইতেন তবে আমরা মানুষ হতাম না, আমরা ফেরেশতা হতাম। কিন্তু, আমরা মানুষ। মোটের উপর, প্রকৃতিগত ভাবেই আমরা পাপ প্রবণ। তাই বলে পাপকে আলিঙ্গন করবেন না। সবসময় এর বিরুদ্ধে লড়াই করুন। সবসময় সেগুলো নিয়ে অনুতাপ অনুভব করুন। কিন্তু, কখনোই আল্লাহর দয়ার প্রতি আশা ছেড়ে দিবেন না। সর্বদা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দিকে ফিরে আসুন। জীবনে যাই করেন না কেন, যত বেশি বার করেন না কেন, এমন কি যদি আপনার অভ্যাসগত কোনো পাপও থেকে থাকে— নিজেকে মূল্যহীন এবং অ...

আল্লাহর সাথে সময় কাটানো

ছবি
  আমরা কুরআন এবং হাদিস থেকে শিখেছি যে প্রচুর মানুষ জাহান্নামে যাবে, অগণিত অসংখ্য মানুষ। জাহান্নামে বেশি মানুষ থাকবে জান্নাতের চেয়েও। বস্তুত, অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামে যাবে। কুরআন এবং সুন্নায় এটা উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা সাবার ২০ নাম্বার আয়াতে এসেছে- وَ لَقَدۡ صَدَّقَ عَلَیۡهِمۡ اِبۡلِیۡسُ ظَنَّهٗ فَاتَّبَعُوۡهُ اِلَّا فَرِیۡقًا مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ-”তাদের ব্যাপারে ইবলীস তার ধারণা সত্য প্রমাণিত করল (যে ধারণা ইবলীস আল্লাহর নিকট ব্যক্ত করেছিল যে, অল্প সংখ্যক ব্যতীত সে মানুষদেরকে নিজের বশীভূত করে ছাড়বে)। ফলে মু’মিনদের একটি দল ছাড়া তারা সবাই তার অনুসরণ করল।” আল্লাহ এখানে বলছেন মানব জাতি সম্পর্কে ইবলিশের অনুমান সত্য প্রমাণিত হলো। মানব জাতির সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ইবলিশকে অনুসরণ করল। শুধু ছোট একদল ঈমানদার ছাড়া। ইবলিশের অনুসরণটাই মানব জাতির ডিফল্ট অবস্থা। মানব জাতির সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এই জীবনের চেয়েও বড় একটি লক্ষ্যে কাজ করতে আগ্রহী নয়। বেশির ভাগ মানুষ পশুসুলভ জীবন যাপন করতে পেরেই সন্তুষ্ট। যখন একজন মানুষ পশুর মত জীবন যাপন করে, তখন সে মানুষ একটি পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। কারণ, পশুর তো একটি অজুহাত আছে যে...

মানব জাতির জন্য সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ গুণ আল্লাহর ইবাদাত

ছবি
  সবসময় মনে রাখুন, কুরআন এসেছে মানুষকে আল্লাহর ইবাদাত করা শেখাতে। মানব জাতির জন্য সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ গুণ হলো আল্লাহর ইবাদাত করা। কোনো মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ প্রশংসা হলো সে আল্লাহর একজন ইবাদতকারী। এ জন্য কুরআন রাসূলুল্লাহ (স) এর প্রশংসা করার সময় তাঁকে দাস হিসেবে উল্লেখ করে। اَرَءَیۡتَ الَّذِیۡ یَنۡهٰی - عَبۡدًا اِذَا صَلّٰی - "তুমি কি তাকে (অর্থাৎ আবূ জাহলকে) দেখেছ যে নিষেধ করে, এক দাসকে [অর্থাৎ রসূলুল্লাহ (সা.)-কে] যখন সে নামায আদায় করতে থাকে?" (৯৬:৯-১০) سُبۡحٰنَ الَّذِیۡۤ اَسۡرٰی بِعَبۡدِهٖ لَیۡلًا مِّنَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ اِلَی الۡمَسۡجِدِ الۡاَقۡصَا - "পবিত্র ও মহীয়ান তিনি যিনি তাঁর বান্দাহকে রাতের বেলা ভ্রমণ করিয়েছেন মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত..." (১৭:০১) তো, 'আব্দ' অর্থাৎ বান্দাহ বা দাস হলো কোনো মানুষের শ্রেষ্ঠ প্রশংসা। রাসূলুল্লাহ (স) এর জন্যেও শ্রেষ্ঠ প্রশংসা ছিল তাঁকে আল্লাহর দাস বলা। আমাদের সময়ে এসে আমরা মানুষের জন্য বহু গুণ আবিষ্কার করে ফেলেছি। কোনো ব্যক্তি যদি অমুক অমুক ডিগ্রী অর্জন করে, অমুক চাকরি করে, অমুক পেশায় যোগ দান করে, অনেক...